নেছারাবাদে নানা সঙ্কটে জাহাজ শিল্প পেশা পাল্টাচ্ছেন শ্রমিকরা

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় জাহাজ শিল্প নানা সঙ্কটে পড়েছে। এই শিল্পওকে ঘিরে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ না পেয়ে এখন পেশা পাল্টাতে শুরু করেছেন। উপজেলাটি মূলত শিল্পসমৃদ্ধ একটি এলাকা। এখানে কৃষিপণ্যের উৎপাদনের পাশাপাশি কাঠ ও জাহাজ শিল্পের ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে। শুধু এই এলাকার মানুষই নন, জাহাজ শিল্পকে ঘিরে উপজেলার বাইরে খুলনা, রাজবাড়ী, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করছেন।

স্টিলের তৈরি লঞ্চ, ট্রলার ও কার্গো তৈরির লক্ষ্যে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর, সোহাগদল, সুটিয়াকাঠি, তারাবুনিয়া, নাওয়ারা, কালীবাড়ি, বরছাকাঠি, ডুবিরহাট ও বালিহারিতে ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক ডকইয়ার্ড গড়ে উঠেছে। জানা গেছে, নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা এসব ডকইয়ার্ডে বিভিন্ন পেশায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কর্মরত আছেন। এদের প্রত্যেকের দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া ওভারটাইম নিয়েও কাজ করেন অনেক শ্রমিক।

আরো জানা গেছে, বর্তমানে নৌযান নির্মাণের পেইন্ট, ঝালাইকাঠি ও রংসহ নানা ধরনের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় নৌযান তৈরির ব্যয়ও বহুগুণ বেড়ে গেছে। আর এ কারণে ডকইয়ার্ডগুলোতে নতুন নৌযান নির্মাণ কমে গেছে। শুধু পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই নয়, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে সড়কপথে পণ্য পরিবহন বেড়ে গেছে। এ কারণে ট্রাকের কাঠামোসহ পরিবহনের নৌযান তৈরি কমে গেছে বলে অনেকে ধারণা করছেন। এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে এ শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকদের আয়-রোজগারের ওপর।

হাওলাদার ডকইয়ার্ডের কন্ট্রাক্টর জাহাঙ্গীর হাওলাদার বলেন, জাহাজ তৈরির জন্য যে পেইন্টসহ অন্যান্য কাঁচামাল ব্যবহার করা হয়, সেগুলোর দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় ইদানীং জাহাজ নির্মাণ বা মেরামতে মালিকদের আগ্রহ কমে গেছে। আগের ৮৫ থেকে ৯৫ হাজার টাকার প্রতি টন পেইন্ট এখন এক লাখ ৩০ হাজার টাকায় কিনতে হয়। শুধু ডকইয়ার্ডেই নয়, এ শিল্পকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ, হার্ডওয়্যার, রং ও যন্ত্রপাতির দোকান গড়ে উঠেছে। সেখানেও বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। তাদের আয়ও কমে গেছে।

ফরাজি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুম ফরাজি জানান, আগে প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার রং বিক্রি হতো। বর্তমানে জাহাজ নির্মাণ কমে যাওয়ায় মাসে ২০ লাখ টাকাও বিক্রি করতে পারি না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাহাজ নির্মাণের এ শিল্পের প্রসারতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তারা আর্থিক সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এলে এ শিল্প থেকে কোটি কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেত। আর এর মাধ্যমে খুলে যেতে পারে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দ্বার।

নেছারাবাদ বিসিক শিল্পনগরীর কর্মকর্তা মোজাহিদুল ইসলাম আসাদ বলেন, প্রায় ৪০ বছর স্থানীয় পর্যায়ের কিছু ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে এই ব্যবসা চালু করেছেন। এর ফলে এখানে বহু লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকার এই সম্ভাবনাকে বিবেচনা করে কিভাবে এর পরিসর আরো বাড়ানো যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত।

এ ব্যাপারে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মনিরুজ্জামান জানান, ব্যবসার পরিধি বাড়ানো ও সরকারি সুযোগ-সুবিধাসহ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা উপজেলা প্রশাসন সবসময় করে আসছে।




দুনিয়ায় মুমিনের জীবন যেমন হবে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দুনিয়া স্থায়ীভাবে বসবাসের জায়গা নয়। এটি মুসাফিরখানাসদৃশ। যেখানে মুসাফিররা আসবে-যাবে, কিন্তু কেউ স্থায়ীভাবে থাকবে না। অথবা পথচারীদের জন্য ক্লান্তি দূরকারী সাময়িক বিশ্রামের জায়গা মাত্র।

বিশ্রাম শেষে তারা আপন গন্তব্যে ছুটে যাবে। এই মর্মে নিম্নোক্ত হাদিস প্রণিধানযোগ্য।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার আমার কাঁধ ধরেন, অতঃপর বলেন, (হে আবদুল্লাহ!) তুমি দুনিয়াতে একজন মুসাফির অথবা একজন পথযাত্রীর মতো অবস্থান করবে। (এই উপদেশ শ্রবণের পর থেকে) ইবনু ওমর (রা.) বলতেন, ‘তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হলে সকালের অপেক্ষা কোরো না (অর্থাৎ সকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকার আশা কোরো না) এবং সকালে উপনীত হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা কোরো না।

মুসাফির বা পথযাত্রী যেমন কোনো জায়গায় স্থায়ী হয় না, সামান্য বিশ্রাম নিয়ে গন্তব্যপানে ছুটে চলে, ঠিক তেমনি দুনিয়ার এই বিশ্রামাগারেও আমরা কিছু সময়ের জন্য অবস্থানের পর আমাদের আসল গন্তব্য আখিরাতে ফিরে যাব। এটাই মহান স্রষ্টার সৃষ্টিবিধি। অন্য বর্ণনায় মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, ইবনে ওমর (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার শরীরের কোনো অংশ ধরে বলেন, দুনিয়ায় এমনভাবে বসবাস করবে যেন তুমি একজন মুসাফির অথবা পথযাত্রী। আর নিজেকে তুমি কবরবাসীদের মধ্যে গণ্য করবে। (ইবনু মাজাহ, হাদিস : ৪২৫৩)

অর্থাৎ তুমি মূলত কবরের বাসিন্দা। দুনিয়ায় তোমাকে পাঠানো হয়েছে সাময়িক সময়ের জন্য। এখন তুমি ভূপৃষ্ঠে আছো, নির্ধারিত সময়ের পরে তোমাকে ভূগর্ভে চলে যেতে হবে। এখন তুমি মানুষ, রুহ বের হয়ে গেলে তুমি হয়ে যাবে ‘লাশ’।

তখন তোমাকে আর কেউ নাম ধরে ডাকবে না বা মানুষ বলেও পরিচয় দেবে না। তখন তোমার একটাই পরিচয় হবে ‘লাশ’।
রাসুলুল্লাহ (সা.) এক দিন একটি খালি চাটাইয়ের ওপর ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুম থেকে উঠলে দেখা গেল তাঁর শরীরে চাটাইয়ের দাগ লেগে গেছে। আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) এ দৃশ্য দেখে রাসুলুল্লাহ (সা.) সমীপে আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল (সা.)! যদি আপনি আমাদের নির্দেশ দিতেন তবে আমরা আপনার জন্য একখানা বিছানা তৈরি করে বিছিয়ে দিতাম। (এ কথা শুনে) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, দুনিয়ার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক? আমার ও দুনিয়ার দৃষ্টান্ত তো হলো একজন ওই আরোহীর মতো, যে একটি গাছের ছায়ায় কিছু সময়ের জন্য বিশ্রাম নেয়, অতঃপর গাছটিকে ছেড়ে চলে যায়। (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৭৭)

অন্য বর্ণনায় আছে, ‘আমার ও দুনিয়ার উদাহরণ হলো কোনো মুসাফির গরমের দিনে চলতে চলতে কোনো একটি বৃক্ষের ছায়াতলে দিনের কিছু সময় বিশ্রাম নিল, তারপর তা ছেড়ে চলে গেল। ’ (মুসনাদ আহমাদ, হাদিস : ২৭৯৬




বিটিভি এখনও ১৮ জুলাইয়ের তান্ডবের ধকল কাটতে পারেনি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) গত ১৮ জুলাই দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের তান্ডবের ধকল কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি দেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ কারণে বিটিভি’র সদর দপ্তর প্রায় ১৯ ঘন্টা তার সম্প্রচার বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল।

বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক মাহাফুজা আকতার জানিয়েছেন, যদিও পরের দিন থেকে বিটিভি তার সম্প্রচার পুনরায় শুরু করেছে, তবে এটি এখনও পুর্ণউদ্যোমে চালু হতে পারেনি। কারণ বসার স্থান ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনে এখনও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

নিরাপত্তা বাহিনী এখন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিভিশন কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, কিন্তু এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখনও সেই তান্ডবলীলার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠতে পারেননি।
বিটিভি ভবনে যে নৈরাজ্য ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে তা বর্ণনাতীত। ১৯৭৫ সালের পর, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান এমন সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেনি। বিটিভির প্রতিটি স্থান অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাট ও বর্বরতার সাক্ষ্য বহন করছে।
কোটা আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই সংগঠন বিটিভির তিনটি প্রধান ফটক ভাঙচুর করে তাদের নৃশংসতার কর্মযজ্ঞ শুরু করে।

বিটিভির মহাপরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বাসসের সাথে আলাপকালে বলেন, ১৮ জুলাই বিকেলে বিটিভি ভবনের প্রধান ফটক ভেঙ্গে বিপুল সংখ্যক দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে।

তিনি বলেন, উত্তেজিত হামলাকারীরা প্রথমে সেখানে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয় এবং পরে বিটিভি ভবনের ভেতরে গিয়ে বিভিন্ন ফ্লোরের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা বিটিভির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনুরোধে কর্ণপাত করেনি।
দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায় রাষ্ট্রের জরুরী এ প্রতিষ্ঠানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এমনকি আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকেও বিটিভি ভবনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।

এরপর জঙ্গি কায়দায় বিটিভি সদর দপ্তর ভবনের ছয় তলা, মুজিব কর্নার ও নিচ তলায় অবস্থিত বিটিভি জাদুঘরে ভাঙচুর চালায় সন্ত্রাসীরা। তারা জাদুঘরে সংরক্ষিত বেশ কয়েকটি ক্যামেরা ভাংচুর ও লুট করে।
বিটিভির ক্যান্টিন ও কম্পিউটার ল্যাব ভাংচুর ও লুটপাট, ১৭টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও আরো নয়টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার অত্যাধুনিক আউটডোর ব্রডকাস্টিং যানবাহনও ভাঙচুর করা হয়।
গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর রামপুরায় সহিংসতা কবলিত রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন পরিদর্শন করেন।
তিনি কোটা-সংস্কার আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত চক্রের হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বিটিভি’র সকল বিভাগ পরিদর্শন করেন।
বিটিভি ভবনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত হন ও অসন্তেুাষ প্রকাশ করেন।
বিটিভি ভবনে ধ্বংসযজ্ঞ দেখে বিটিভি কর্মকর্তারা যখন তাদের অশ্রু সংবরণ করার চেষ্টা করছিলেন তখন প্রধানমন্ত্রীকেও অশ্রুসিক্ত দেখা গেছে।

বিটিভির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিটিভির বিভিন্ন অবকাঠামো, সম্প্রচার সরঞ্জাম, নকশা বিভাগ, অফিস ভবন ও বিভিন্ন কক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ভাঙচুরের ঘটনায়, ১৯৬৪ সাল থেকে সংরক্ষিত অমূল্য প্রাচীন জিনিস দিয়ে সজ্জিত টেলিভিশন জাদুঘর, মুজিব কর্নার, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, অভ্যর্থনা ও ওয়েটিং রুমের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রক (এসি) ও অন্যান্য জিনিসপত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এছাড়াও প্রায় ৪০টি কম্পিউটার, ১০০টি টেলিভিশন সেট এবং কম্পিউটার ল্যাবের আসবাবপত্র, প্রশিক্ষণ কক্ষ ও প্রিভিউ রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লিফট, নেটওয়ার্ক ইকুইপমেন্ট, সিসি ক্যামেরা ও মনিটরিং সেটও ভাংচুর করা হয়।

যানবাহন ভবন ও শেড, ক্যান্টিন ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কক্ষ; একটি সম্প্রচার ওবি ভ্যানসহ ১৭টি গাড়ি ও ২১টি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং নয়টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

এছাড়া অডিটোরিয়াম, লাউঞ্জ, ডিজাইন, মেক-আপ, ওয়ার্কশপ, গ্রাফিক্স রুম, স্টোর/ওয়ারড্রোব রুম ও ২০টি গ্রাফিকস কম্পিউটারও ভাংচুর করা হয়।

নকশার শেড, স্টুডিওর ছাদ, দেয়াল, ভবন ও অবকাঠামো, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রায় ৭০টি এয়ার-কন্ডিশনার (এসি), অফিসিয়াল আসবাবপত্র, পাঁচটি ফটোকপি মেশিন এবং প্রায় ৫০টি অফিসিয়াল কম্পিউটারও ভাংচুর করা হয়েছে।

১০টি কম্পিউটার ওয়ার্কস্টেশন সহ ১০০টি মনিটরিং সেট, বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, সহায়ক যন্ত্রপাতি, রেকর্ডিং ক্যামেরা, আলোক উৎস সামগ্রী ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক ফাইল, নথি, শিল্পীর সম্মানী-সম্পর্কিত খাতা, ব্যাংক বই, ভাউচার এবং অডিট বিল ইত্যাদিও বিনষ্ট করা হয়েছে।




ফজরের নামাজ আদায়কারীর ৮ পুরস্কার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নামাজের মধ্যে যেমন ফজরের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব, তেমনি সময়ের মধ্যে ফজরের সময়ের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।

হাদিসে ফজরের নামাজের বিশেষ তাগিদ রয়েছে। জুনদুব ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকবে। (মুসলিম, হাদিস : ৬৫৭)

অন্য হাদিসে ফজরের নামাজ আদায়কারীকে জান্নাতি মানুষ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবু মুসা আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি দুটি শীতল সময়ে নামাজ আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। ’ (বুখারি ও মুসলিম)

নিম্নে ফজরের নামাজ পড়ার ৮ পুরস্কার…

১. ফজরের নামাজে দাঁড়ানো, সারা রাত দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সমান। ‘যে ব্যক্তি জামাতের সাথে এশার নামাজ আদায় করলো, সে যেন অর্ধেক রাত জেগে নামাজ পড়লো। আর যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে পড়লো, সে যেন পুরো রাত জেগে নামাজ পড়লো। ’ (মুসলিম শরিফ)

২. ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ পড়বে, সে আল্লাহর জিম্মায় থাকবে। ’ (মুসলিম)

৩. ফজরের নামায কেয়ামতের দিন নূর হয়ে দেখা দিবে – ‘যারা রাতের আঁধারে মসজিদের দিকে হেঁটে যায়, তাদেরকে কেয়ামতের দিন পরিপূর্ণ নূর প্রাপ্তির সুসংবাদ দাও। ’ (আবু দাউদ)

৪. সরাসরি জান্নাত প্রাপ্তি – ‘যে ব্যক্তি দুই শীতল (নামাজ) পড়বে, জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর দুই শীতল (নামাজ) হলো ফজর ও আসর। ’ (বুখারী)

৫. রিজিকে বরকত আসবে – আল্লামা ইবনুল কাইয়িম (রহ.) বলেছেন, সকাল বেলার ঘুম ঘরে রিজিক আসতে বাঁধা দেয়। কেননা তখন রিজিক বন্টন করা হয়।

৬. ফজরের নামাজ পড়লে, দুনিয়া আখেরাতের সেরা বস্তু অর্জিত হয়ে যাবে – ‘ফজরের দুই রাকাত নামাজ দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে, সবকিছুর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। ’ (তিরিমিযি)

৭. সরাসরি মহান রাব্বুল আলামীন আল্লাহর দরবারে নিজের নাম আলোচিত হবে – ‘তোমাদের কাছে পালাক্রমে দিনে ও রাতে ফেরেশতারা আসে। তারা আসর ও ফজরের সময় একত্রিত হয়। যারা রাতের কর্তব্যে ছিল তারা ওপরে উঠে যায়। আল্লাহ তো সব জানেন, তবুও ফিরিশতাদেরকে প্রশ্ন করেন, আমার বান্দাদেরকে কেমন রেখে এলে? ফেরেশতারা বলে, আমরা তাদেরকে নামাজরত রেখে এসেছি। যখন গিয়েছিলাম, তখনো তারা নামাজরত ছিল। ’ (বুখারি)

৮. ফজরের নামাজ দিয়ে দিনটা শুরু করলে, পুরো দিনের কার্যক্রমের একটা বরকতম সূচনা হবে। প্রিয়নবী (সা.) বলেছেন- ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্যে, তার সকাল বেলায় বরকত দান করুন। ’ (তিরমিযী)




সাড়া ফেলেছে বরিশালের মোস্তফা কামালের ভাসমান টিলার

বরিশাল অফিস :: অল্প সময়ে ভালোভাবে জমি চাষের জন্য ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের বিকল্প নেই। কৃষিবান্ধব এই যন্ত্র দুটি মাটিতে চলাচল করতে সক্ষম। কিন্তু নদীপ্রধান বরিশাল বিভাগের অনেক জনপদ আছে যেখানে ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলার জমি চাষে অক্ষম। এমনকি আদিম পদ্ধতি গবাদিপশু দিয়েও চাষ করা সম্ভব হয় না। এবার সারা বছর জলমগ্ন এমন জমি আবাদের জন্য ভাসমান টিলার তৈরি করেছে মোস্তফা কামাল। ভাসমান টিলারকে স্থানীয়রা নাও (নৌকা) টিলার বলেও চেনেন।

বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারের ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি গোলাম মোস্তফার তৈরি এই কৃষিযন্ত্র ইতোমধ্যে সুখ্যাতি ছড়িয়েছে বরিশালের বাইরেও। প্রতিবছরই ১০/১২টি নাওটিলার তৈরির অর্ডার পান তিনি।

গোলাম মোস্তফা বলেন, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, পিরোজপুর ও বরিশালের বিভিন্ন এলাকা থেকে আমার বানানো টিলার কিনে নেন। প্রথমদিকে লোহা দিয়ে তৈরি করতাম। তবে এখন ক্রেতা চাহিদা আর বাজারদর বিবেচনায় প্লাস্টিক দিয়েও তৈরি করছি। যে কৃষক দিনে পাঁচ হাজার টাকা খরচ করে জমি আবাদ করতেন তিনি এখন এক থেকে দেড় হাজার টাকায় সমপরিমাণের জমি চাষ করতে পারছেন। ভাসমান টিলার ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করি।

তিনি আরও বলেন, আমি একসময় টিলার চালাতাম। কিন্তু নদী বিধৌত জনপদ হওয়ায় বালুমাটি, পানিতে তলানো জমি হওয়ায় অনেক জমিই চাষাবাদ করতে পারছিলাম না। আমাদের এদিকে এমন এলাকা আছে যেখানে মানুষ নামতেও পারে না আবার ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলার দিয়েও চাষ করা যায় না। অথচ ওই জমিতে ধানের চমৎকার ফলন হয়। অনেককে দেখেছি বর্ষায় পানি থাকায় তাতে ট্রাক্টর বা গরু দিয়ে চাষ করতে না পারায় জমি পতিত ফেলে রেখেছেন। এ নিয়ে অনেকের অনেক আফসোস দেখেছি। আমি চিন্তা করলাম বিকল্প উপায় বের করার।

গোলাম মোস্তফা ২০১৬ সালে নিজের ওয়ার্কশপে পরীক্ষামূলক একটি টিলারের নকশা করেন। নৌকা আকৃতির টিলারটি পানিতে ভেসে থাকতে পারে যেন। এতে কোনো চাকা নেই। টিলারের ইঞ্জিন নৌকার ওপরে আর চাষের লাঙল নিচে। এতে করে পানিতে যখন চলবে তখন নৌকাটির সামনের দিক জেগে যাবে আর ইঞ্জিনসহ পেছনের দিকটা দেবে যাবে। এতে লাঙল মাটি চাষ করবে ভালোভাবে। নকশা অনুসারে তৈরি করে গোপনে নিজের জমিতে চাষ দিয়ে দেখেন উদ্ভাবিত টিলারে চাষ করা যায় কি না?

তিনি বলেন, দেখলাম চমৎকারভাবে ভাসমান টিলারটি জমি চাষ করছে। এর পর জনসম্মুখে নিয়ে আসি। মানুষও দেখে পছন্দ করেন। প্রথম বছর চারটি বিক্রি হয়েছিল। এরপর আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠে। এখন প্রতিবছরই ১০/১২টি করে অর্ডার পাচ্ছি। আনুমানিক ৬০/৭০টি বিক্রি করেছি।

গোলাম মোস্তফার তৈরি ভাসমান টিলারের প্রথম ক্রেতা জাহিদ হোসেন বলেন, সন্ধ্যা নদীর ওপারে উজিরপুরের একটি গ্রামে জমি চাষ করছিলাম। মোস্তফার কাছ থেকে ভাসমান টিলার আনার পর সাত বছরে আমাদের বিলের জমি আর খিল (পতিত) থাকে না। ট্রাক্টরের চেয়ে এই টিলার জমির গভীরতাও তৈরি করে বেশি।

তিনি আরও বলেন, ভাসমান টিলারে চাকা না থাকায় এক স্থান থেকে আরেক স্থানে পানিতে পানিতে নিয়ে যাওয়া যেমন সহজ তেমনি স্বল্প ব্যয় ও পরিশ্রমে বেশি জমি চাষ করা সম্ভব হচ্ছে। শুধু আমরাই না এই টিলার নিয়ে অনেকেই তাদের জমি চাষ করছেন। এক বিঘা জমি চাষ করতে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা খরচ হত। ভাসমান টিলার কেনার পর এখন বিঘাপ্রতি এক থেকে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ বিঘাপ্রতি আমার দুই আড়াই হাজার টাকা সাশ্রয় হয়।

আব্দুর রহিম নামের আরেক কৃষক বলেন, ঝোপ (বালুযুক্ত) মাটিতে গরু বা ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করা যায় না। নৌকা টিলার দিয়ে ভালোভাবে চাষ করা যায়। মোস্তফা এলাকার প্রয়োজন অনুসারে যন্ত্র বানিয়েছেন। যে এলাকায় যেমন যন্ত্র দরকার তা হলে কৃষকদের অনেক উপকার হয়। মোস্তফা কৃষকদের জন্য লোহার লাঙল, নৌকা তৈরি করেছেন। সম্প্রতি নদীতে চলাচল করতে পারে এমন একটি প্লেন তৈরি করেছে।

বিশারকান্দি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নান্না তালুকদার বলেন, মোস্তফা কামালকে আমরা মোস্তফা ফিটার নামেই চিনি। তার নিজের ওয়ার্কশপ আছে। মাঝেমধ্যে অনেক কিছুই তৈরি করে। কয়েক দিন আগে নদীতে চলাচল করতে পারে এমন প্লেন তৈরি করে আলোড়ন ফেলে দেয়। আমি এটি সমর্থন করি, যদি কারও উদ্ভাবনে সাধারণ মানুষের উপকার হয় তার চেয়ে ভালো কাজ আর হতে পারে না।

বানারীপাড়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার অনয় সিংহ বলেন, ভাসমান টিলার তৈরির বিষয়টি আমাদের জানা নেই। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখব, কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানব গোলাম মোস্তফার তৈরি যন্ত্র কৃষি সহায়ক কি না। যদি কৃষি সহায়ক কোনো যন্ত্র উদ্ভাবন করেন অবশ্যই আমাদের পক্ষ থেকে তাকে সহায়তা করা হবে।




জার্মানিতে যাচ্ছে নেছারাবাদের কাঠের নৌকা

নদী বা খালে চলবে না- বসার জন্য তৈরি হচ্ছে সৌখিন নৌকা

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল :: নৌকার জন্য বিখ্যাত বরিশাল বিভাগের পিরোজপুরের নেছারাবাদের আটঘর। সেই আটঘরে তৈরি কাঠের নৌকা এবার সর্বপ্রথম যাবে জার্মানিতে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময়ে নৌকাগুলো হস্তান্তর করা হবে। প্রথম চালানে ১০টি নৌকা যাবে জার্মানিতে।

নেছারাবাদ ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি রাকিব হোসেন বলেন, আটঘর বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা নৌকা তৈরির মিস্ত্রি আজিজুল হক নৌকা তৈরির অর্ডার পেয়েছেন। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি কাঠের নৌকা তৈরিও করেছেন। বাকিগুলোর কাজ দ্ররুতগতিতে এগিয়ে চলছে। রাকিব হোসেন আরও বলেন, দুই মাস আগে জার্মানির নাগরিক এক পর্যটক এসেছিলেন আমাদের এলাকা ঘুওে দেখতে। তিনি আটঘরের কাঠের নৌকা দেখে পছন্দ করেন এবং আজিজুল হকের কাছ থেকে নৌকা তৈরি করে জার্মানিতে
নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

নৌকার কারিগর আজিজুল হক বলেন, আমি ৩০ বছর ধরে ডিঙ্গি ও টালাই নৌকা তৈরি করে আসছি। কয়েকদিন আগে জার্মানির এক লোক এসে ১০টি নৌকার অর্ডার দিয়েছেন। এটাই আমার প্রথম বিদেশে অর্ডার। এর আগে আমাদের এলাকায় নৌকা তৈরির বিদেশ থেকে অর্ডার কেউ পায়নি। প্রতিটি নৌকা তৈরিতে দশ হাজার টাকা চুক্তি হয়েছে।

জার্মান নাগরিক অগ্রিম টাকাও দিয়ে গেছেন। মেহগনি গাছ দিয়ে তার দেখানো ডিজাইন অনুসারে নৌকা তৈরি করা হচ্ছে। জার্মান নাগরিক যা বুঝিয়েছেন এই
নৌকা নিয়ে সেখানকার মার্কেটে দেখাবেন।

বাজারে চললে আরও নৌকা তৈরি কওে নেবেন।
তবে নৌকাগুলো জার্মানির কোনো নদী বা খালে চলবে না। এসব দিয়ে বসার জন্য সৌখিন আসন বানানো হবে। আজিজুল হক আরও বলেন, প্রথম দফায় ১০টি নৌকা যাবে জার্মানিতে। এরপর আরও ২০টি নৌকা বানাতে হবে ভিন্ন ডিজাইনে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জার্মান নাগরিকের পক্ষে নৌকা তৈরির কাজ তদারকি করা ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেল, এখন কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে। এ জন্য আমরা বিস্তারিত জানাতে চাচ্ছিনা। তবে সবগুলো নৌকা পুরোপুরি তৈরির পর বিস্তারিত জানানো হবে।

নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন কারণে নেছারাবাদ উপজেলা সারাদেশেই সমাদৃত। বিশেষ করে আটঘরের নৌকার হাট খুব বিখ্যাত। সেখান থেকে জার্মানিতে নৌকা যাচ্ছে সংবাদটি অত্যন্ত আনন্দের। এতে করে বাংলাদেশের পন্যের বিশ্ববাজার যেমন তৈরি হবে, তেমনি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দুয়ার খুলবে।

ইউএনও আরও বলেন, আমি ওই কারিগরের সাথে কথা বলব। তার যেকোনো সহায়তার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করা হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, আমাদের ঐতিহ্যবাহী নৌকা যেন বিশ্বমানের হতে পারে।

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার আটঘর নৌকার হাট দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাট। এই অঞ্চলের পেয়ারা, লেবু ও আমড়ার বাগান তদারকির জন্য ছোট ছোট নৌকার খুব চাহিদা। এছাড়া জালের মতো খাল থাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম এখনো নৌকা। প্রতি মৌসুমে এই হাটে প্রায় ৩০ কোটি টাকারও বেশি নৌকা বিক্রি হয়ে থাকে।




পর্যটকশূন্য কুয়াকাটা, কর্মহীন প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতা ও কারফিউর কারণে থমকে আছে দেশের পর্যটন শিল্প। পর্যটকদের আনাগোনায় মুখর থাকা কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এখন জনমানবশূন্য। এতে বিপাকে পড়েছেন হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী ও পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা। বছরের অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত পর্যটন মৌসুম ধরা হলেও, পদ্মাসেতু চালুর পর থেকে বছরজুড়েই পর্যটকে মুখর থাকে সমুদ্রকন্যা।

প্রাণোচ্ছ্বল সেই সৈকত এখন পর্যটক শূন্য। কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এমন পরিস্থিতি। পর্যটক না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক।

গত কয়েকদিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকার উপরে। আরও কতদিন এই পরিস্থিতি চলবে, তা নিয়ে শঙ্কায় হোটেল-মোটেল মালিকরা।

পটুয়াখালী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহমেদ বলেছেন, সার্বিক পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

চলমান পরিস্থিতি দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আবার আগমন ঘটবে পর্যটকদের, এমনটাই আশা পর্যটন সংশ্লিষ্টদের।




টার্গেট করে হামাস নেতাদের হত্যার পরিকল্পনা ইসরায়েলের




পটুয়াখালীতে ক্ষতিগ্রস্ত ২০৭ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কারে নেই উদ্যোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঘূর্ণিঝড় রিমালে পটুয়াখালীর দুই শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এসব প্রতিষ্ঠান সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণে নেওয়া হয়নি কোনো উদ্যোগ।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্ধ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি পাঠালেও এখনো মেলেনি বরাদ্দ। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানেই অথবা বিদ্যালয়ের বাইরে জোড়াতালি দিয়ে চালাতে হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।

চলতি বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে পটুয়াখালীসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডবে জেলার ৮৪ হাজার ৫০০ পরিবারের প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সম্পূর্ণ ও আংশিক বিধ্বস্ত হয় প্রায় ৩৮ হাজার ঘরবাড়ি। প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্লাবিত হয় হাজার হাজার পুকুর ও মাছ-কাঁকড়ার ঘেড়। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়ায় দীর্ঘদিন বিদ্যুৎহীন থাকে অনেক এলাকা। চার কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক বিধ্বস্ত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। এরই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জেলার ২০৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ।

ক্ষতিগ্রস্ত এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত কিংবা পুনর্নির্মাণে নেই দৃশ্যমান উদ্যোগ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে স্থাপন প্রকল্পে চাঁদাবাজির অভিযোগ

জেলা শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, জেলার কলাপাড়ায় ৪৯টি, গলাচিপায় ৪২টি, সদর উপজেলায় ৩৪টি, দশমিনায় ২৯টি, বাউফলে ২২টি, মির্জাগঞ্জে ১৬টি, দুমকীতে ৮টি, রাঙ্গাবালীতে ৭টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর উপজেলার চালিতাবুনিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলাপাড়া উপজেলার মেহনাজপুর হাক্কানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়। রিমালের তান্ডবে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো দুমড়ে-মুচড়ে মাটিতে পড়ে যায়। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের উপযোগিতা একদম না থাকায় চালিতাবুনিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০০ শিক্ষার্থীকে পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের সাইক্লোন শেল্টারের নিচে ক্লাস করতে হচ্ছে। কোনো ভবন না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের পাশেই মাঠে চলছে মেনহাজপুর হাক্কানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

চালিতাবুনিয়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবল চন্দ্র শীল ও মেনহাজপুর হাক্কানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফউজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়ের ভবন মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ চেয়ে উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করেছি। কিন্তু এখনো কোনো বরাদ্দ পাইনি।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মজিবুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ২০৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান মেরামতে প্রয়োজন সাড়ে ১৫ কোটি টাকা। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।




রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের গবেষণার তথ্য : সাড়ে পাঁচ বছরে সড়কে প্রাণ ঝরেছে ৫ হাজার ৯১৬ শিক্ষার্থীর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সড়ক দুর্ঘটনায় গত সাড়ে পাঁচ বছরে নিহত হয়েছেন ৫ হাজার ৯১৬ শিক্ষার্থী। এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে তিন জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন সড়কে। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহত: পরিসংখ্যান ও পর্যালোচনা’—শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। মিরসরাই ট্র্যাজেডি দিবসের ১৩তম বার্ষিকী উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ। সংবাদপত্রের প্রতিবেদন ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ওপর ভিত্তি করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন গবেষণাটি করেছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সাল থেকে এ বছরের জুন মাস পর্যন্ত দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ৩৪ হাজার ৪৭৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ১৬ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের প্রায় ৫০ শতাংশই মারা গেছেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। আর আঞ্চলিক সড়কগুলোতেই দুর্ঘটনা ঘটেছে সবচেয়ে বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে ২ হাজার ৬৪১ জন। আর ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৯৭৮ জন।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের গবেষণা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছেন ২ হাজার ৭৮৩ শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় নিহত মোট শিক্ষার্থীর এটি প্রায় অর্ধেক। আর শিক্ষার্থীরা পথচারী হিসেবে যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৫৩৪ জন। যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৭২১ জন। আবার বাইসাইকেল আরোহী হিসেবে নিহত হয়েছেন ৪৯৭ জন। অটোরিকশার চাকায় ওড়না বা পোশাক পেঁচিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮৪ জনের।

গবেষণায় সড়কে শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে আছে ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, অনিরাপদ যানবাহন, নিরাপদে সড়ক ব্যবহার বিষয়ে জ্ঞানের অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকা, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর মানসিকতা, ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা এবং অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি।

প্রতিবেদনে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত অসংখ্য বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘমেয়াদি কোনো টেকসই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যেসব উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে, তা অনেকটা অবৈজ্ঞানিক ও সমন্বয়হীন। দেশের নৈরাজ্যকর সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত টেকসই পরিবহন কৌশল বাস্তবায়ন করতে হবে। সড়ক পরিবহন আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা জরুরি। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, সড়ক পরিবহন খাতের স্বার্থবাদী গোষ্ঠী সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নের পথে প্রধান বাধা। এই গোষ্ঠী নিজেদের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির স্বার্থে সড়কে বিশৃঙ্খলা বজায় রাখে। মাঝেমধ্যে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য কমিটি গঠন ও সুপারিশ তৈরি করা হয়। কিন্তু কোনো সুপারিশই আলোর মুখ দেখে না। মূলত কমিটি গঠন ও সুপারিশ তৈরির মধ্যেই দেশের সড়ক পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ঘুরপাক খাচ্ছে। বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি নেই।

সংবাদ সম্মেলনে সড়কে শিক্ষার্থীদের মৃত্যু প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বছরে একবার ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা, সরকারি উদ্যোগে শিক্ষকদের সড়ক নিরাপত্তামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া, ক্লাস পরীক্ষায় সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রশ্ন থাকা, গণমাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি, অনিরাপদ যানবাহন বন্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশের সড়কে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো ঠেকাতে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা অন্যতম।