মির্জাগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অকৃষ্ট করছে শিক্ষার্থীদের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রত্যন্ত এলাকার ১১৮ নম্বর মধ্য দক্ষিণ কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। রানিপুর-দেউলী-কলাগাছিয়া-কাউনিয়া সড়কের মধ্যে ভাগে অবস্থান এ বিদ্যালটি।

বিদ্যালয়টিতে নানা রঙে সেজেছে। দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে দেশ-প্রকৃতিসহ নানা চিত্র। শুধু এ বিদ্যালয়টি নয় উপজেলার বেশিরভাগ বিদ্যালয়ই নতুন সাজে সেজেছে। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন ছোটবেলা থেকেই শিল্পমনা মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে ও জানবে দেশ-প্রকৃতি সম্পর্কে, তেমনি শিশুমনে শ্রেণিপাঠ সহজবোধ্য হচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন শিক্ষানুরাগীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়গুলোর প্রবেশ মুখ থেকে দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে বাংলা-ইংরেজি বর্ণ ও বিভিন্ন দিবসের তারিখ। শ্রেণিকক্ষ ও ভবনের চারপাশে ফলমূল, দেশ-প্রকৃতি, কার্টুনসহ নানা মনীষীদের ছবি ও বাণী। লেখা আছে শিক্ষামূলক নানা নীতিবাক্য। দৃষ্টিনন্দন শ্রেণিকক্ষগুলো কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শিশু শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে সরকারি অর্থায়নে স্কুল সুসজ্জিত করা ও শিশুবান্ধব শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। ১৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এরই মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও সব শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ শেষ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ উপজেলার সব বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষ সুসজ্জিত করা হবে।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে রঙিন চিত্রে। বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে শিশুদের ওজন ও উচ্চতা মাপার যন্ত্র। বয়সের সঙ্গে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও ওজন ঠিক আছে কী না তা পরীক্ষা করে দেখেন শিক্ষকরা। এতে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পায় এবং ঝরে পড়ার হার কমে যায়। দৃষ্টিনন্দন করে নিজেই সাজিয়ে অন্যদের উৎসাহী করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হচ্ছে ও প্রতিনিয়ত তারা স্কুলে আসছে। এ প্রেক্ষিতে উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই সুসজ্জিত হচ্ছে। শিশুরা আনন্দের সঙ্গে স্কুলে আসে। তারা বিদ্যালয়ে এসে আনন্দের সঙ্গে পাঠ নিতে পারছে। অতীতের চেয়ে এখন শিক্ষার মান অনেক ভালো।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজুর হক বলেন, উপজেলার প্রাক-প্রাথমিকের ২০-২৫টি স্কুল সুসজ্জিত করায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ শিশুবান্ধব হয়েছে। রঙিন ছবি, মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করায় শিশুদের জানার পরিধি বাড়ছে। সরকারিভাবে প্রাপ্ত বরাদ্দ দ্বারা বিদ্যালয়গুলোকে স্মার্ট ও দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। বিদ্যালয়গুলোকে দৃষ্টিনন্দন করতে দেওয়ালে নানা রঙের ছবি ও কার্টুন আঁকা হয়েছে। যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়মুখী হয়। স্কুলগুলো হয়ে উঠেছে শিশুদের জন্য আনন্দমুখর।




নাব্য সংকটে রাঙ্গাবালীর ‘গহীনখালী’ খাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরে অবস্থিত ছোটবাইশদিয়া ও রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া জনগুরুত্বপূর্ণ গহীনখালী খালটি এক সময়ে তীব্র খরস্রোতা ছিল। সুপ্রশস্ত এ খালটির গভীরতাও ছিল অনেক। তখন এ খালের মধ্যে দিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করত যাত্রীবাহী বড় লঞ্চ। আজকাল বড় লঞ্চ তো দূরের কথা, ছোট ট্রলারই যেতে পারে না। ভাটার সময় জেগে ওঠে খালের তলদেশ। হেঁটে পার হওয়া যায় এপার-ওপার। দিনদিন পলি জমে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে খালটি নিজস্ব রূপরেখা হারাতে বসেছে।

এলাকাবাসীর দাবি অচিরেই খালটি খনন করা হোক। ফিরিয়ে আনা হোক আগের সেই বড় লঞ্চ চলার মতো অবস্থা। ‘গহীনখালী’ খালের নাব্য সংকটের প্রভাব নানাভাবে পড়ছে উপজেলায় জীবনধারায়, ব্যবসা-বাণিজ্যে। ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহনে ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। নাব্য সংকটের ফলে ব্যাহত হচ্ছে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল। রাঙ্গাবালী উপজেলা খাদ্যগুদামের খাদ্যশস্য পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমে দারছিড়া নদী আর পূর্বে বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর সঙ্গে গিয়ে মিলিত হয়েছে খালটি। দেড় যুগ আগেও ঢাকা-রাঙ্গাবালী নৌরুটে এমভি সালাউদ্দিন, এমভি বেলায়েত ও গ্লোরী অব শ্রীনগর নামের যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করত। খালের দুই পাশে ম্যানগ্রোভ বনায়নের সৃষ্টি হয়ে খালের প্রস্থ কমে যাওয়ার ফলে পলি জমে খালের নাব্য সৃষ্টি হয়। এরপরে কয়েক বছর ছোট লঞ্চ চলাচল করলেও সেগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যায়। এখানকার ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা নেওয়ার পাশাপাশি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মালামাল পরিবহনের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভরা জোয়ারের অপেক্ষা করতে হয় বড় নদীতে।

বাহেরচর বাজার ব্যবসায়ী সোহেল বলেন, ‘আমাদের উপজেলাটি চারদিকে নদী আর সাগর বেষ্টিত হওয়ায় সারা দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন। উপজেলার মানুষের চলাচল নৌপথ-নির্ভরশীল। রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাহেরচর বাজার। মালামাল পরিবহনের জন্য জোয়ার-ভাটার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়।

রাঙ্গাবালী খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতি অর্থবছরে রাঙ্গাবালী উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক ট্রন খাদ্যশস্য সরবরাহ করা হয়ে থাকে। খালটির নাব্য সংকট দেখা দেওয়ায় শুকনো মৌসুমে পণ্যবাহী জাহাজ আসা ও যাওয়ার ক্ষেত্রে ভীষণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
তিনি আরো বলেন, দ্রুত খালটি পুনঃখনন করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘খালটি যদি জনগুরুত্বপূর্ণ হয় তাহলে অবশ্যই খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। সেক্ষেত্রে খালটি খনন করার জন্য আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলব।’

পাটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী বলেন, ‘৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদীখাল এবং জলাশয় পুনখনন প্রকেল্পর আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে গহীনখালী খালটি পুনখননের প্রস্তাব রয়েছে।




পটুয়াখালী, দুমকি উপজেলা উন্নয়নের একজন রুপকার শ্রদ্ধেয় এম কেরামত আলী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জনাব এম কেরামত আলী একজন কিংবদন্তি একজন মহানায়ক একজন আদর্শ ও সাদামনের মানুষ ছিলেন।

তার সম্পর্কে অজানা কিছু মূল্যবান তথ্য :

জনাব এম. কেরামত আলী পটুয়াখালী জেলাধীন দুমকি উপজেলার দুমকি গ্রামে ০১ জানুয়ারী ১৯২৬ খ্রীস্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতার নাম মরহুম আইজ উদ্দিন মৃধা, মাতার নাম মরহুমা আপতুন নেছা খাতুন।

শিক্ষাজীবন :

অত্যন্ত মেধাবী ও সৃজনর্ধমী মননশীলতার অধিকারী মোহাম্মদ কেরামত আলী ছাত্রজীবনে ক্লাশে প্রথম স্থান লাভ করতেন। বরিশাল জিলা স্কুলে অধ্যায়নকালে তিনি শিষ্টাচারের জন্য “রানীগুপ্ত র্স্বনপদক” এবং ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় বাংলায় পথম স্থান অধিকারের জন্য “যোগেশচন্দ্র” পদক লাভ করেন। তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সমগ্র বাংলা ও আসামের মুসলমান ছাত্রদের মধ্যে ৫টি লেটারসহ প্রথম স্থান অধিকার করেন।

কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। চাকুরী জীবনে তিনি অস্ট্রেলিয়া ও লাহরে উচ্চতর প্রশাসনিক প্রশিক্ষণ লাভ করেন। তিনি ওয়াশিংটন, মস্কো, টোকিও ও টগোতে বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘ আয়োজিত সেমিনার এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন কোর্সে অংশ গ্রহন করেন। তিনি বিশ্বব্যাংকের ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট থেকে ফেলোশীপ লাভ করেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় প্রশিক্ষন কোর্সে তিনি প্রথম পুরস্কার লাভ করেন।

চাকুরী জীবন :

১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্থানের প্রথম ব্যাচের সি এস পি অফিসার হিসাবে চাকুরীতে যোগদান করেন।
চাকুরী জীবনে তিনি জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার, মন্ত্রনালয়ের সচিব, রাষ্ট্রপতির মূখ্য সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ
প্রশাসনিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি সিভিল সার্ভিসের সবোর্চ্চপদ মন্ত্রীপরিষদ সচিব হিসাবে নিযুক্ত হন। চাকুরী থেকে অবসর গ্রহনের পর তিনি বার্মা ও
ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্টদূত হিসাবে
দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবন :

ছাত্র জীবনে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি না করলেও প্রগতিশীল রাজনৈতিক মতবাদ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। কলকাতায় অধ্যায়নকালে
তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের মুসলিম ছাত্রাবাস “জিন্নাহ হল” এর নির্বাচিত জি এস ছিলেন।
১৯৯১ সালে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি যথাক্রমে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রনালয়, ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

সমাজসেবা ও উন্নয়ন কর্মকান্ড:

তিনি ১৯৬৯ সালে ১ জানুয়ারী পটুয়াখালী মহকুমাকে জেলায় উন্নীত করেন, বরিশাল শের- ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বরিশাল ক্যাডেট কলেজ স্থাপন, বরিশাল বিমান বন্দর, ফরিদপুর-বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক, খেপুপাড়া রাডার স্টেশন, পটুয়াখালীতে বাংলাদেশ টেলিভিশন রিলে স্টেশন, পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল, লঞ্চঘাট, পুলিশ লাইন ,পটুয়াখালী সার্কিট হাউজ,সোনালী ব্যাংক ভবন ও পটুয়াখালী কালেক্টরেট ভবন স্থাপন করেন। দুমকীতে কৃষি কলেজ (বর্তমানে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) , জনতা কলেজ, দুমকি নাসিমা কেরামত আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দুমকী আপতুননেছা খাতুন বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ,দুমকী আপতুননেছা খাতুন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুমকী রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুমকী ইসলামিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা, টি এন্ড টি, সাব-পোস্ট অফিস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা পরিষদ ডাক বাংলো, মডেল পাঠাগার এবং দুমকি থানা কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠায় তার অবদান রয়েছে । তিনি শিক্ষানূরাগী, প্রশাসক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে সকলের প্রিয়পাত্র ছিলেন।

মোহাম্মদ কেরামত আলী স্যার ৪ জুন ২০০৪ খ্রীস্টাব্দে পরলোক গমন করেন। মৃত্যুকালে ২ ছেলে, ২ মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।




বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন : শেখ মুজিব ছাড়াও বিশ্বে যে ক্ষমতাবানদের ভাস্কর্য ভাঙা হয়েছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার এবং জুতোর মালা পরিয়ে দেওয়ার দৃশ্য দেখেছে গোটা বিশ্ব। তবে বাংলাদেশে যে চিত্র দেখা গিয়েছে তা বিরল নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সেই সমস্ত ব্যক্তিত্বদের ভাস্কর্য বা মূর্তিকে এভাবে নিশানা করা হয়েছে যাদের কোনো এক যুগে সেখানকার মানুষ অত্যন্ত সম্মান করতেন বা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন।

কিন্তু ক্ষমতার পালাবদলের পর মানুষজনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে তাদের ভাস্কর্য বা মূর্তির ওপরে।

ইউক্রেনে ভূলুণ্ঠিত লেনিনের মূর্তি

২০১৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনের খারকিভে প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী ভ্লাদিমির লেনিনের একটা মূর্তি হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে মাটিতে ফেলে দেয়। এই পুরো কাজটা করতে তাদের সময় লেগেছিল প্রায় চার ঘণ্টা। ১৯৬৩ সালে তৈরি হয়েছিল এই মূর্তি যার নকশা করেছিলেন আলেকজান্ডার সিডোরেঙ্কো।

লেনিনের মূর্তি ভেঙে ভূলুণ্ঠিত করে দেওয়ার পর সেখানে জড়ো হওয়া জনতা মূর্তির টুকরোগুলো স্মারক হিসেবে সংগ্রহ করতে শুরু করে। সেখানে ইউক্রেনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপরই শুরু হয়ে যায় দেশজুড়ে লেনিনের মূর্তি ভাঙার প্রক্রিয়া।

ইথিওপিয়ায় একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি

লেনিনের ভাস্কর্যের অনুরূপ পরিণতি দেখা গিয়েছে ইথিওপিয়ায়। সেখানকার রাজধানী আদিস আবাবার পৌরসভার একটা গ্যারেজে রুশ নেতা লেনিনের একটা মূর্তি রয়েছে। পিঠের ওপর ভর করে পড়ে আছে সেই মূর্তি। তার চারপাশে অসংখ্য মাকড়সার জাল আর পেট্রোলের খালি করা পিপে। খুব কম মানুষই সেই মূর্তি দেখতে আসেন। আর যারা আসেন তাদের সেখানে উপস্থিত কর্মীরা লেনিনকে ‘না জাগানোর’ জন্য সতর্ক করেন।

প্রসঙ্গত, লেনিনের এই মূর্তি শুধু বড়ই নয়, ভারীও। সেটা টেনে নামাতে গিয়ে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছিল। দড়ি বেঁধে এই মূর্তিকে সরানো সম্ভব হয়নি। এই মূর্তিকে তার জায়গা থেকে সরানোর জন্য যন্ত্রের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল।

১৯৮৯ সালের নভেম্বরে বার্লিন প্রাচীর পতনের পর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এই একই দৃশ্য দেখা গিয়েছে। বারেবারে ভেঙে ফেলা হয়েছে লেনিনের মূর্তি। ঠিক একই চিত্র দেখা গিয়েছিল আলবেনিয়ায়। সেখানে ৪০ বছর ধরে ওই দেশ শাসন করা এনভার হোক্সার বেশ কয়েকটা মূর্তিও ভেঙে ফেলা হয়।

ফেলিক্স জেরনস্কির মূর্তি সরিয়ে ফেলা

১৯৯১ সালে রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভকে উৎখাতের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর মস্কোর লুবিয়াঙ্কা স্কয়ারে সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রথম গুপ্ত পুলিশ সংস্থা ‘চেকা’র প্রতিষ্ঠাতা ফেলিক্স জেরনস্কির মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়। কমিটি অফ স্টেট সিকিউরিটি যার রুশ ভাষায় সংক্ষিপ্তকরণ ‘কেজিবি’, সেই সংস্থার বিরুদ্ধে হাজার হাজার মানুষকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়।

১৯৯১ সালের ২২ আগস্টের সন্ধ্যায় হাজার হাজার মানুষ লুবিয়াঙ্কা স্কয়ারে অবস্থিত কেজিবি ভবনের সামনে জড়ো হয়। তারা জেরনস্কির মূর্তির গায়ে লিখে দেন ‘খুনি’। সেখানে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা মূর্তির উপরে উঠে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মূর্তিকে ট্রাকের সঙ্গে বেঁধে টান দিয়ে উপড়ে ফেলা। কিন্তু পার্শ্ববর্তী লুবিয়ানকা মেট্রো স্টেশনের ইমারতের পক্ষে তা ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় মস্কো সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি চেয়ারম্যান সের্গেই স্টানকেভিচ উপস্থিত জনতাকে জানান তিনি নিজেই মূর্তিটি অপসারণে নেতৃত্ব দেবেন। এরপর ক্রেনের সাহায্যে সেখান থেকে ওই মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়। সেই মূর্তির স্থান হয় ‘ফলেন মনুমেন্ট পার্কে’।

তৃতীয় জর্জের লোহার মূর্তি ভেঙে বুলেট

আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় নিউইয়র্কে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় জর্জের একটা লোহার মূর্তিও ভেঙে ফেলা হয়েছিল। স্বাধীনতার জন্য লড়াইয়ে সামিল আমেরিকানরা এই মূর্তিকে ব্রিটিশ অত্যাচারের প্রতীক হিসাবে বিবেচনা করতেন। এই মূর্তি শুধুমাত্র ভেঙে ফেলাই হয়নি তারপর সেটা গলিয়ে ৪২০০০ বুলেটও বানানো হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে সেই বুলেটই ব্যবহার করা হয়েছিল ব্রিটিশ সৈন্যদের বিরুদ্ধে।

ব্রিটেনের অনুগত কিছু ব্যক্তি অবশ্য ভেঙে ফেলা সেই মূর্তির কিছু অংশ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। মূর্তির ভাঙা অংশ তাদের মাটিতে পুঁতে ফেলেন। আজও খননকার্যের সময় সেই মূর্তির কিছু অংশ বেরিয়ে আসে।

মুসোলিনির মূর্তিরও একই পরিণতি

১৯৪৫ সালে ইতালির স্বৈরশাসক মুসোলিনির পতন হয়। সেই সময় তার মূর্তিরও একই পরিণতি দেখা গিয়েছিল। তার ক্ষমতাচ্যুতির পর তার কিছু সমর্থক এবং তার বান্ধবী ক্লারা পিটাচিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একটা ভ্যানে করে তাদের মৃতদেহ মিলানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটা খুঁটি থেকে উল্টো করে ঝুলিয়ে রাখা হয় তাদের দেহগুলো। এরপর শুরু হয় মুসোলিনির মূর্তি ভাঙার প্রক্রিয়া। স্বৈরাচারের প্রতীক হিসাবে বিবেচিত হওয়া সমস্ত স্মারক, ভবন এবং মূর্তি ভেঙে দেওয়া হয়। বেশ কয়েক মাস ধরে চলেছিল এই একই প্রক্রিয়া।

মুসোলিনির মূর্তিরও একই পরিণতি দেখা যায়।

সরানো হয় পঞ্চম জর্জের মূর্তি

১৯৪৭ সালে ভারত যখন স্বাধীন হয়, তখন দিল্লির অনেক জায়গায় ব্রিটিশ শাসনের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্তা ব্যক্তিদের মূর্তি ছিল। এই মূর্তিগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটা যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছিল এবং কিছু স্থানান্তরিত করা হয় দিল্লিতে। উত্তর দিল্লির করোনেশন পার্কে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল সেই মূর্তিগুলো। যে কয়টা মূর্তি সরিয়ে ফেলা হয়েছিল তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে পঞ্চম জর্জের মূর্তি। ৭০ ফুট উঁচু ছিল এই মূর্তি।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত কিন্তু ব্রিটিশ রাজা পঞ্চম জর্জের মূর্তি তার পুরানো জায়গাতেই ছিল। কিন্তু পরে বিবেচনা করে স্থির করা হয়, দিল্লির এমন এক বিশিষ্ট স্থানে এই মূর্তি থাকার কোনও যুক্তি নেই। তাই তা সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পঞ্চম জর্জের মূর্তি ধ্বংস করা হয়নি বরং রাখা হয়েছিল ঠিক সেই স্থানে যেখানে ১৯১১ সালে তিনি দিল্লি দরবারে গিয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইন্ডিয়া গেটের কাছে যেখানে পঞ্চম জর্জের মূর্তি আগে রাখা ছিল, সেখানেই ২০২২ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি বসানো হয়।




দেশে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের প্রাণহানি




ছাদে ড্রাগন ফল চাষ

লাইফস্টাইল ডেস্ক : ড্রাগন ফল মূলত আমেরিকার প্রসিদ্ধ একটি ফল যা বর্তমানে আমাদের দেশেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আমাদের দেশে সর্বপ্রথম ২০০৭ সালে থাইল্যান্ড, ফ্লোরিডা ও ভিয়েতনাম থেকে এই ফলের বিভিন্ন জাত আনা হয়। নরম শাঁস ও মিষ্ট গন্ধ যুক্ত গোলাপি বর্ণের এই ফল খেতে অনেক সুস্বাদু আর তার সাথে এই ফল ভিটামিন সি, মিনারেল পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এবং ফাইবারের উৎকৃষ্ট উৎস।

 

 




ফ্যাটি লিভার থেকে বাঁচতে যেসব খাবার খাবেন




আল-জাজিরার প্রতিবেদন : বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বিভ্রান্তিকর খবর প্রচার, ‘আতংক ছড়াচ্ছে’ ভারতের গণমাধ্যম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তার দেশত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের কয়েকটি গণমাধ্যম বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার খবর প্রচার শুরু করে।

সেসব খবরে বলা হয়, ‘ইসলামপন্থি নানা বাহিনী’ সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ভারতের বেশকিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও ‘আতঙ্ক ছড়ানো’ বিভিন্ন ভিডিও, ছবি ও সংবাদ প্রকাশ পেতে শুরু করে।

সম্প্রতি টাইমস গ্রুপের মালিকানাধীন মিরর নাও–এর ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ কর হয়। যেটির শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা? উত্তেজিত জনতার গণহত্যা, হত্যা’। ওই ভিডিওতে সহিংসতা এবং চারটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চিত্র দেখানো হয়। তবে আগুন দেওয়া চারটি বাড়ির মধ্যে দুটির মালিক আবার মুসলিম।

এ বিষয়ে আল–জাজিরার খবরে দাবি করে বলা হয়েছে, ভিডিওটির শিরোনাম পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর। ওই সব ঘটনায় কোনো ধরনের গণহত্যা হয়নি। কোনো রকম প্রমাণ না দিয়েই চ্যানেলটির ওই ভিডিওতে আরও কিছু দাবি করা হয়। যেমন- ‘উত্তেজিত জনতা ২৪ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে দিয়েছে’, ‘হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন সংখ্যালঘুরা’। আসলে ভিডিওতে যে চারটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, তার একটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।

স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখা হয়েছে দাবি করে আল–জাজিরা বলেছে, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশত্যাগের দিন দুজন হিন্দু নিহত হয়েছেন। তাদের একজন পুলিশ সদস্য এবং অপরজন হাসিনার দল আওয়ামী লীগের এক কর্মী।

এদিকে ভারতের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এ ধরনের দাবিও করা হয়, ‘শিগগিরই বাংলাদেশ থেকে এক কোটির বেশি শরণার্থী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করবে।’

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা শুভেন্দু অধিকারীর বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া এ ধরনের একটি খবর প্রকাশ করে।

ভারতের সরকার ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা এএনআই ভারতের একজন ছাত্রনেতার বরাত দিয়ে বলেছে, প্রতিবেশি দেশের এই গণ–আন্দোলন ‘বাংলাদেশের শত্রুদের সাজানো চক্রান্ত’।

টাইমস অব ইন্ডিয়ায় এ বিষয়টি আরও স্পস্টভাবে তুলে ধরে বলা হয়, ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে’ এ আন্দোলন করেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমে এ ধরনের খবর পরিবেশন নিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ-উর-রহমান আল–জাজিরাকে বলেন, ওই সংবাদগুলো মূলত ‘ইসলামভীতির দৃষ্টিকোণ’ থেকে পরিবেশন করা হয়েছে।

এ রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন একসময় গণ–আন্দোলনে পরিণত হয়। বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওই আন্দোলনে যোগ দেন। কিন্তু ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো কোথাও না কোথাও পুরো বিষয়টিকে তাদের ‘ইসলামভীতির চোখ’ দিয়ে ব্যাখ্যা করছে।’

এদিকে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর ভারতের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সেই খবর প্রকাশ করে বলা হয়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) বাংলাদেশের এ বিক্ষোভে উসকানি দিয়েছে। কারণ তারা চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং তাদের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসুক এবং দেশটি একটি ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত হোক।

এমনকি কয়েকটি গণমাধ্যমে ভারত সরকারকে সম্ভাব্য শরণার্থী সংকট মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতেও পরামর্শ দেওয়া হয়। দাবি করে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে হিন্দুদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে।

দ্য ইকোনমিক টাইমস–এর কূটনীতিবিষয়ক সম্পাদক দীপাঞ্জন আর চৌধুরী তার এক্স হ্যান্ডলে এক পোস্টে লেখেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় হওয়াটা না সে দেশের জন্য ভালো হবে, না ভারতের জন্য। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত সীমান্তে সন্ত্রাসকে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে…।’

গুজরাটের টেলিভিশন স্টেশন চ্যানেল টিভি-নাইন বাংলাদেশের গণবিক্ষোভকে ‘অভ্যুত্থান’ বলেছে। সামাজিক মাধ্যম এক্স–এ তাদের ১০ লাখের বেশি অনুসারী রয়েছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেছে, ‘বাংলাদেশে এ অভ্যুত্থানের পেছনে কি আইএসআই? সহিংস হামলার পেছনে কি জামায়াতে ইসলামী?’

তবে বাংলাদেশের আন্দোলন নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো যেভাবে খবর প্রকাশ করেছে, তা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছে আল–জাজিরা।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের দিন (৫ আগস্ট) রাতে দেশটির ৬৪ জেলার মধ্যে প্রায় ২০টি জেলায় হিন্দুদের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট হয়েছে।

যেসব জেলায় এ হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে, আল–জাজিরার প্রতিনিধিরা সেসব জেলার কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারে যে, ‘ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে নয়, বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই ওই সব বাড়িতে হামলা ও লুটের ঘটনা ঘটেছে।’

অন্যদিকে শেখ হাসিনার পতনের পর তার ছেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতীয় বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এবং গুজব ছড়িয়ে চলেছেন বলে মনে করেন মোস্তাফিজুর। তিনি বলেন, তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হওয়ার দাবি করছেন। বলছেন আইএসআই এর পেছনে রয়েছে।




কর্মচাঞ্চল্য ফিরছে পটুয়াখালীতে – স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি ঘিরে ও শেখ হাসিনার পদ এবং দেশত্যাগ পরবর্তী সহিংস ঘটনার পর স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসতে শুরু করেছে পটুয়াখালী । স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন। প্রয়োজনে মানুষ ঘরের বাইরে যাচ্ছেন। রাস্তায় মানুষ ও যানবাহনের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ফুটপাতের দোকানগুলোও খুলে গেছে। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকতে দেখা গেছে। গ্রাম-গঞ্জের মানুষ প্রয়োজনে শহরে আসছেন। স্বাভাবিকভাবে নিজেদের কাজ করতে পারছেন সবাই।

তবে সড়কের মোড়ে নেই চিরচেনা ট্রাফিক পুলিশ, নেই পুলিশের টহল গাড়ি। শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাই ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে। সকাল থেকে সড়কের মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায় তাদের।

এদিকে, সচল রয়েছে পায়রা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। বর্হিনঙ্গর ও অভ্যন্তরীণ জেটিতে চলেছে পণ্য খালাস কার্যক্রম। বন্দরের নিরাপত্তায় ৪৮ জন নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী, ৫০ জন আনসার সদস্য, ৪২ জন নৌ-বাহিনীর সদস্য কাজ করছে।

পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, আজ (গতকাল) বন্দরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে এমভি এন্টি গনি ফোর্স নামে একটি জাহাজ ভিড়বে। জুলাই মাসে পায়রা বন্দরে এসেছে ১২টি জাহাজ।




বরিশালের পরিত্যক্ত প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি হচ্ছে বিদেশে

বরিশাল অফিস :: বরিশালে পথে ঘাটে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল আয়ের পথ দেখিয়েছে দরিদ্রদের। এতে টনকে টন বর্জ্য থেকে রক্ষা পাচ্ছে পরিবেশ। আর পরিত্যক্ত প্লাস্টিক প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি হচ্ছে বিভিন্ন দেশেও। ময়লা আবর্জনার স্তূপ থেকে সংগ্রহ করা পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল বাছাই করে রিসাইক্লিংয়ের জন্য প্রস্তুত করছেন নারী শ্রমিকরা। এসব বোতল পরিষ্কার করে কাটিং মেশিনের মাধ্যমে টুকরো করে পাঠানো হয় ঢাকাতে।

সেখানে এসব টুকরো করা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হয় নতুন প্লাস্টিক পণ্য। আর প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করেই চলছে নারীদের সংসার। বরিশাল নগরীতে প্লাস্টিক রিসাইক্লিংয়ের মাত্র দুটি কারখানা থাকলেও পদ্মা সেতু চালু হবার পর তা বেড়ে এখন দাঁড়িয়েছে ৭টিতে। কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে বেকার নারী-পুরুষের।

নারী শ্রমিকরা বলেন, ‘আগে সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হতো। তবে এখন প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানায় কাজ করে মাসে ৬ থেকে ১০ হাজারের বেশি বেতন পাই। আর সেই বেতন দিয়েই সুখে চলছে সংসার। ছেলে-মেয়েদেরও করাতে পারছি লেখাপড়া। শুধু তাই নয় প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা কাজ করে তাদের জীবন পাল্টে দিয়েছে। নারীরা প্রতিদিনই কাজে আসেন। করছেন আয়। ঈদে পাচ্ছে বোনাসও।

বরিশাল নগরীর ৫নং ওয়ার্ডের পলাশপুর ঘেরের পাড় এলাকায় অবস্থিত প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করা নারী শ্রমিকরা বলেন, নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। স্বামীয় আয়ের পাশাপাশি আমরাও এখন আয় করতে পারি। প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানায় আমাদের চাকরি হইছে। প্রতি মাসে বেতন পাই। আর কি চাই জীবনে।

প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করা পুরুষ শ্রমিক বলেন, রিসাইক্লিং করা এসব প্লাস্টিকের টুকরো থেকে নতুন পণ্য তৈরির পাশাপাশি বিদেশে করা হচ্ছে রফতানি।

পলাশপুর এলাকার প্লাস্টিক কারখানা মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, পরিত্যক্ত বিভিন্ন প্লাস্টিক সামগ্রী সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত শেষে ঢাকায় বিক্রি করছেন তারা। আর এই প্লাস্টিকের টুকরো থেকে নতুন পণ্য তৈরির পাশাপাশি বিদেশেও হচ্ছে রফতানি। দেশের আয়ও বাড়ছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, পুরো বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন ধরনের নতুন নতুন উগ্যোক্তা তৈরি হচ্ছে। সেখানের নারী পুরুষের কর্মসংস্থান বাড়ছে। যারা নতুন উগ্যোক্তা রয়েছে তাদের সব সময় সহযোগীতার জন্য জেলা প্রশাসক পাশে রয়েছে। প্রতি বছর বরিশাল নগরীর ৭টি কারখানা থেকে প্রায় দুই হাজার মেট্রিক টন কাটা প্লাস্টিকের বোতল রাজধানীতে পাঠানো হয়।