শীতের পোশাক আলমারিতে তোলার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন




অপরূপ দৃষ্টিনন্দন বরগুনার বেতাগী মডেল মসজিদ !

বরিশাল অফিস :: বরগুনার বেতাগী উপজেলার দেড়লাখ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এখন দ্বিতল অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বেতাগী মডেল মসজিদ। গত বছরের ১৭ এপ্রিল গণভবন প্রান্ত থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দৃষ্টিনন্দন ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ উদ্বোধনের ৭ মাস ১৬ দিন পরর গত ১ ডিসেম্বর মসজিদটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নামাজ শুরু হয়েছে।

বেতাগী পৌরসভার প্রানকেন্দ্রে উপজেলা পরিষদ অফিস সংলগ্ন এলাকায় নান্দনিক এই মসজিদের নির্মাণ করা হয়েছে।

জানা যায়, ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অত্যাধুনিক এই মডেল মসজিদে থাকছে এক সাথে ৮ হাজার মানুষের নামাজ পড়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক অজুর স্থান, লাইব্রেরি ও গবেষণা কেন্দ্র। আরও থাকছে শিশু শিক্ষা, হজযাত্রীদের নিবন্ধনকেন্দ্র ও ইমামদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। এছাড়াও মসজিদের আন্ডারগ্রাউন্ডে রয়েছে বিশাল পার্কিং ব্যবস্থা।

ধর্মনুরাগীদের পাশাপাশি এই মসজিদ নির্মাণে আনন্দিত ও উৎসাহিত সর্বস্তরের মানুষ। এমনই একাধিক ব্যক্তি বলেন, এই রকম একটি মসজিদ এখানে নির্মিত হবে এটা ভাবাও যায়নি।

তবে অত্যাধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন এতো সুন্দর মসজিদ তৈরির আনন্দে বুকটা ভরে আসছে।
মসজিদের সন্মূখভাগেই রয়েছে দৃষ্টিনন্দন উপজেলা পরিষদ পুকুর। সন্ধ্যার পরে বিদ্যুতের আলোকসজ্জায় মসজিদের প্রতিচ্ছবি যখন পুকুরের পানিতে ভেসে ওঠে তখন এক অপরূপ দৃশ্যে ধর্মপ্রাণ মুসলিম ভক্তদের মনে আনন্দে ভরে ওঠে। মডেল মসজিদে নামাজ পড়তে আসা আব্দুস সোবাহান বলেন,’মসজিদের রাতের অপরূপ দৃশ্য মানুষ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যকে আরো আকৃষ্ট করেছে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী ইউপি চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান খান বলেন, ২০২০ সালে উপজেলা পরিষদের জমিতে এ মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে যথা সময় কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ বলেন, সরকারি অর্থায়নে এ মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর এটা একটি অনন্য ও সাহসী উদ্যোগ। যা যুগ যুগ ধরে মানুষের মাঝে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।




পুরনো সম্পর্ক নতুন করবেন যেভাবে




জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ১৭টি আমল

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে দ্রুত ছুটে যাও এবং বেচাকেনা বন্ধ করো। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা উপলব্ধি করতে পার’ (সুরা জুমুআ, আয়াত : ৯)।

রাসুল (সা.) বলেন, ‘দিবসগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো জুমার দিন এবং তা আল্লাহর কাছে অধিক সম্মানিত’ (ইবনে মাজাহ : ১০৮৪)।

হাদিসে জুমার দিনের ১৭টি সুন্নাত পাওয়া উল্লেখ করা হয়েছে। নিম্নে তা তুলে ধরা হলো—
১. গোসল করা, (বুখারি)।
২. মিসওয়াক করা, (ইবনে মাজাহ : ১০৯৮)।
৩. উত্তম পোশাক পরিধান করা, (ইবনে মাজাহ : ১০৯৭,)।
৪. সুগন্ধি ব্যবহার করা, (বুখারি : ৮৮০)।
৫. মসজিদে প্রবেশের পর অন্য মুসল্লিদের ফাঁক করে বা গায়ের ওপর দিয়ে টপকে সামনের দিকে না যাওয়া, (বুখারি : ৯১০)।
৬. কাউকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসার চেষ্টা না করা, (বুখারি : ৯১১)।
৭. সালাতের জন্য কোনো একটা জায়গাকে নির্দিষ্ট করে না রাখা, যেখানে যখন জায়গা পাওয়া যাবে, সেখানেই সালাত আদায় করা, (আবু দাউদ : ৮৬২)।
৮. নির্ধারিত নামাজ আদায় করা। এমনকি ফরজ সালাতের আগে ও পরে দুই-চার রাকাত করে নফল সালাত আদায় করা, (বুখারি : ৯৩০)।
৯. গায়ে তেল ব্যবহার করা, (বুখারি : ৮৮৩)।
১০. হেঁটে মসজিদে গমন করা, (মুসলিম : ১৪০০)।
১১. মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেঁয়াজ, রসুন না খাওয়া ও ধূমপান না করা (বুখারি : ৮৫৩)।
১২. ঘুমের ভাব বা তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বসার জায়গা পরিবর্তন করে বসা, (আবু দাউদ : ১১১৯)।
১৩. ইমামের খুতবা দেওয়া অবস্থায় দুই হাঁটু উঠিয়ে না বসা, (আবু দাউদ : ১১১০, ইবনে মাজাহ : ১১৩৪)।
১৪. খুতবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা, (আবু দাউদ : ১১০৮)।
১৫. এতটুকু জোরে আওয়াজ করে কোনো কিছু না পড়া বা তিলাওয়াত না করা, যাতে অন্যের সালাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে (আবু দাউদ : ১৩৩২)।
১৬. ইমামের খুতবার জন্য বের হওয়া থেকে সালাত শেষ করা পর্যন্ত নীরবতা অবলম্বন করা। তবে কেউ কথা বলতে দেখলে তাকে চুপ করতে বা বারণ করতেও হাদিসে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে (আবু দাউদ : ১১১২)।
১৭. বেশি বেশি প্রার্থনা (দুআ) করা, (বুখারি : ৯৩৫)।




গামছা বিক্রিতার ছেলে মেডিকেলে সুযোগ পাওয়া জেলা প্রশাসকের সহায়তা

 

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার রমজান খান সাব্বিরকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি ফি বাবদ ২৫ হাজার টাকা ও বই প্রদান করেন বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার ( ২২ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪ টায় সাব্বিরের হাতে এ আর্থিক সহায়তা ও মেডিকেলের বই তুলে দেওয়া হয়।

এ সময় জেলা প্রশাসক মহোদয় বলেন, “রমজান খান সাব্বির একজন অদম্য মেধাবী ছাত্র। কোনো প্রতিকূলতাই তাকে দমিয়ে রাখতে পারে নি। অর্থাভাবে মেডিক্যালে ভর্তি হতে না পারার বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার সাথে সাথে জেলা প্রশাসন থেকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এছাড়াও ভবিষ্যতে তার মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন সময়ে সহায়তার প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসন সবসময় পাশে থাকবে। সাব্বির আমাদের সমাজের জন্য একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও হার না মেনে কঠোর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছে। সাব্বিরের মত যেসব মেধাবী ছাত্রছাত্রী অর্থের অভাবে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারছে না, তারা জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করলে সহায়তা প্রদান করা হবে”।

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের দমোদরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ খানের ছেলে সাব্বির। তার বাবা একজন কৃষি শ্রমিক। এছাড়াও ভ্রাম্যমাণভাবে গামছা বিক্রি করে চার সদস্যের সংসার চালান তিনি। তার মেধাবী ছেলে সাব্বির মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়।
যেখানে সংসারের খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে ছেলেকে ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবারটি।

রমজান খান সাব্বির বলেন, মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রাইভেট পড়ার মতো কোনো সুযোগ ছিল না। পরীক্ষার কোনো বইও কিনতে পারিনি। বোনের উপহার পাওয়া ডিজিটাল শুমারির ট্যাব দিয়ে অনলাইন ও ইউটিউব থেকে দেখে পড়াশুনা করেই ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি।

সাব্বিরের বাবা ফিরোজ খান বলেন, সাব্বির পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। কীভাবে ছেলেকে ভর্তি করব আর পড়ালেখার খরচ চালাবো এটা নিয়েও চিন্তায় ছিলাম। ডিসি স্যার আমার ছেলের পড়ার পথ সহজ করে দিয়েছেন, ওনার প্রতি কৃতজ্ঞতা।




রক্তস্বল্পতা থেকে বাঁচতে যা খাবেন




শিক্ষককে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে এখনও উত্তপ্ত পবিপ্রবি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে শিক্ষকদের অবস্থান ধর্মঘট ও ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চলছে। অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

এদিকে তদন্ত কমিটিকে বলা হচ্ছে তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে।

পুষ্টি ও বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক নজরুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে রোববার সকাল থেকেই ক্যাম্পাসের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাথীরা। ভবনে তালা দিয়ে বিভিন্ন শ্লোগানে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তারা।

অন্যদিকে একই দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন শিক্ষকরা। ঘটনার নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বিবৃতি দেন তারা।
এমন পরিস্থিতিতে দুপুর দেড়টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সাথে বৈঠকে বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য।

পরে তিনি জানান, তদন্ত কমিটি গঠনসহ অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এরপরই আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। তবে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া না হলে তিনদিন পর আবারো আন্দোলন শুরুর হঁশিয়ারি দেন তারা।

এর আগে শনিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা শামসুল হকের হাতে লাঞ্ছিত হন পুষ্টি ও বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষক নজরুল ইসলাম।




মাইগ্রেন দূরে রাখার জাদুকরী টিপস




আত্মরক্ষায় কারাতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন পটুয়াখালীর মেয়েরা

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীতে কলেজ পড়ুয়া নারী শিক্ষাথীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আত্মরক্ষামূলক কারাতে প্রশিক্ষণ চলছে। জেলায় প্রথমবারের মতো কলেজ পর্যায়ের মেয়েদের কারাতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ।

এ প্রশিক্ষণের মাধ্যেমে নারীরা আত্মবিশ্বাসী ও সাহসীকতার সাথে পথ চলতে পারবে। প্রথবারের মতো পটুয়াখালী সরকারী মহিলা কলেজ পড়ুয়া নারী শিক্ষাথীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এমন আত্মরক্ষামূলক কারাতে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। এ প্রশিক্ষণে ৫০ জন নারী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।

রাস্তাঘাটে নারীর চলাচল এখনও শতভাগ নিরাপদ নয়। ছিনতাই-বখাটেদের উৎপাতের বাজে অভিজ্ঞতা প্রায় প্রতিটি তরুণ শিক্ষার্থীদের। অপমান হজম না করে প্রতিবাদী হতে আত্মরক্ষার প্রয়োজনে এ প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। মেয়েদের এমন সাহসী করে গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে মার্শাল আর্ট বা কারাতে। চলার পথে নিজের আত্মরক্ষা সুনিশ্চিত করে মনোবল ও মনোযোগ বাড়িয়ে তুলতে দিন দিন কারাতে শেখায় নারীদের অংশগ্রহণ করাচ্ছে বলেও জানান এই শিক্ষার্থীরা।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, নারীরাও এগিয়ে যাচ্ছে। নারীদের নিরাপত্তার জন্য নারীদেরকে প্রস্তুত করতে হবে। এ জন্য অভিভাবক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রথম পর্যায়ে এ প্রশিক্ষণে ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করছে। সামনে আরও বাড়বে।

শিক্ষার্থীরা জানান, নারীদের নিরাপত্তার জন্য নারীদেরকে প্রস্তুত করতে হবে। এ জন্য মেয়েদের নিরাপত্তার জন্য এ কারাতে প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
প্রথবারের মতো পটুয়াখালী সরকারী মহিলা কলেজে কারাতে চর্চা শুরু হয়েছে। শুধু আত্মরক্ষায়ই নয়, কারাতে শিখলে মানুষের সামগ্রিক জীবনধারা বদলে যাওয়ার সঙ্গে বাড়ে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা। বিচিত্র কলাকৌশলের এই ক্রীড়া নারীকে আত্মবিশ্বাসী ও সাহসী করে গড়ে তোলে।




বরিশালে মন্টু ভাইয়ের অনন্য স্বাদের চা

 বরিশাল অফিস :: ‘সন্ধ্যার পর মন টানে মন্টু ভাইয়ের দোকানে। এই দোকানের এক কাপ চা পান না করলে মনটা কেমন লাগে! চায়ের স্বাদ দীর্ঘসময় মুখে লেগে থাকে।’ বরিশাল নগরের সিঅ্যান্ডবি সড়কের পাশে টংঘরে মন্টু খানের চায়ের কথা এভাবেই বর্ণনা দিচ্ছিলেন মেহেদী হাসান নামে নগরের রূপাতলীর এক যুবক।

মেহেদী প্রায় প্রতিদিনই এখানে চা পান করতে আসেন। শুধু তিনি একা নন, বন্ধুদেরও সঙ্গে নিয়ে আসেন। চা পান করতে করতে আড্ডা দেন।

সম্প্রতি সিঅ্যান্ডবি সড়কের উপজেলা পরিষদের সামনে মন্টু খানের চায়ের দোকানে গিয়ে দেখা গেল, অনেক তরুণ-তরুণী বেঞ্চে বসে চা পান করছেন। সামনে অনেকগুলো মোটরসাইকেল সারবদ্ধভাবে দাঁড় করানো। মন্টু একের পর এক চা তৈরি করছেন আর তুলে দিচ্ছেন ক্রেতাদের হাতে।

মন্টু খানের চায়ের এত চাহিদা কেন, সে প্রশ্ন রাখতেই চায়ের মগে লম্বা চামচ দিয়ে ঘুটতে ঘুটতে মন্টু হাসলেন। এক কাপ চা এগিয়ে দিয়ে বললেন, ‘একটু চুমুক দেন। হ্যোরপরই উত্তর পাইয়্যা যাইবেন।’ কাপ থেকে গরম চায়ের ধুয়া উড়ছে। চুমুক দিতেই বোঝা গেল, কেন এই চা পান করতে দূরদূরান্ত থেকে এখানে ক্রেতারা আসেন। দুধ জ্বালাতে জ্বালাতে গাঢ় হয়ে যাওয়ায় চিনি ছাড়াই মিষ্টি স্বাদ পাওয়া গেল।

মন্টু বললেন, ‘এই যে ডেকচিতে ঘন দুধ দেখেন, এতে কোনো কিছু মিলাই না। সব গরুর খাঁটি দুধ। ব্যবসা একটু কম করি, কিন্তু জিনিসটা ভালা দিই। মানুষ আমারে বিশ্বাস করে, চায়ে ভিন্ন স্বাদ পায়। এই জন্য সবাই আসে।’

এখানে দুই ধরনের দুধ চা পাওয়া যায়। গাঢ় দুধের চা ও স্পেশাল মালাই চা। গাঢ় দুধের অর্ধেক মগ চায়ের দাম ৩০ টাকা, পুরো মগ ৫০ টাকা। আর স্পেশাল মালাই চা এক কাপ ১০০ টাকা। মালাই চায়ের বিশেষত্ব সম্পর্কে মন্টু খান বলেন, ‘দুধ জ্বালানোর পর প্রথম যে সর পড়ে, সেটা তুলে রাখি। এরপর সেই সর মিশিয়ে তৈরি হয় মালাই চা। ফলে এই চায়ের স্বাদটা অন্য রকম।’

মন্টু খানের বয়স এখন ৫১ বছর। বাড়ি উপজেলা পরিষদের সামনের গলিতে। এখানেই বাবা-চাচাদের পৈতৃক বাড়ি। তাঁর তিন ছেলে। বড় ছেলে এইচএসসি পাস করেছে। মেজ ছেলে ভোকেশনালে একাদশ শ্রেণিতে এবং ছোট ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। স্ত্রী মমতাজ সংসার সামলান আর মন্টু দোকান।

মন্টু যখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র, পড়াশোনা ছেড়ে লেগে যান বাবার চায়ের দোকানের কাজে। বাবাকে সহায়তা করেন। এরপর থিতু হন এই ব্যবসায়। বিয়ের পর সংসার বড় হয়, চায়ের দোকানের আয়ে সংসার চলছিল না। তখন সিদ্ধান্ত নেন, ব্যবসার ধরন পাল্টাতে হবে। সেই অনুযায়ী মন্টু শুরু করেন বিশেষ ধরনের চা বানানো। এখন প্রতিদিন ৩০ কেজি দুধের চা বিক্রি করেন। এতে দোকানভাড়া, সব ব্যয় মিটিয়ে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা রোজগার হয়।

বিএম কলেজের শিক্ষার্থী নাইমা সুলতানা, তনুশ্রী দত্তসহ কয়েকজন বসে চা পান করছিলেন। নাঈমা বললেন, ‘আমরা বান্ধবীরা মিলে প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসি মন্টু ভাইয়ের চা পান করতে। না হলে মনে হয়, কী যেন একটা মিস করেছি। চায়ের স্বাদ অনন্য।’ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজু রাজ বলছিলেন, ‘মন্টু ভাইয়ের মালাই চায়ের স্বাদ অতুলনীয়।’