ট্রাম্পের অভিষেক ভাষণ: ‘আমেরিকার স্বর্ণযুগের সূচনা’

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর অভিষেক ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া অভিষেক ভাষণে বলেছেন, “আজ থেকে আমেরিকার স্বর্ণযুগের শুরু।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমেরিকান জনগণ কথা বলেছে, অসম্ভবকে সম্ভব করাই আমার কাজ।”

ভাষণে দৃঢ় প্রত্যয়

অভিষেক ভাষণে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের জয় কেউ রুখতে পারবে না। আমরা ব্যর্থ হব না।”

মঙ্গল অভিযানের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “মার্কিন মহাকাশচারীরাই প্রথম মঙ্গলের মাটিতে পা দেবেন। এটি হবে নতুন ইতিহাসের সূচনা।”

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর অভিষেক ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর অভিষেক ভাষণ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

শপথে ঐতিহ্যের প্রতিফলন

ডোনাল্ড ট্রাম্প দুটি বাইবেলে হাত রেখে শপথ নেন। একটি তার মায়ের দেওয়া বাইবেল, আরেকটি ঐতিহাসিক লিংকন বাইবেল। স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প বাইবেল দুটি ধরে রেখেছিলেন।

ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে ক্লিনটন, বুশ ও ওবামা
ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে ক্লিনটন, বুশ ও ওবামা

ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের সাক্ষী প্রাক্তন প্রেসিডেন্টরা

ট্রাম্পের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিল ক্লিনটন, জর্জ ডব্লিউ বুশ ও বারাক ওবামা। তবে মিশেল ওবামা অনুপস্থিত ছিলেন। ক্যাপিটল হিলের এই অনুষ্ঠানে করপোরেট ও রাজনৈতিক জগতের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে বাইডেনের অভ্যর্থনা
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে বাইডেনের অভ্যর্থনা

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের প্রবেশ

নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সময় বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাকে স্বাগত জানান। ট্রাম্পের সঙ্গে ছিলেন তার স্ত্রী মেলানিয়া। এই ঐতিহ্যবাহী অভ্যর্থনা ‘টি মিটিং’-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।

মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে হোয়াইট হাউসে যান ট্রাম্প
মোটর শোভাযাত্রা নিয়ে হোয়াইট হাউসে যান ট্রাম্প

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে আঞ্চলিক ভাষায় কনটেন্ট বানিয়ে ভাইরাল সাদ্দাম মাল

ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক জগতের প্রতি আগ্রহী সাদ্দাম মাল আজ দেশব্যাপী পরিচিত একটি কনটেন্ট ক্রিয়েটর। তার জন্ম পটুয়াখালীর কুয়াকাটার হোসেনপাড়া এলাকায়, যা এখন দেশের অনেকের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। বর্তমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক এবং ইউটিউবের মাধ্যমে সাদ্দাম মাল তার অভিনয় এবং কনটেন্ট তৈরি করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। বিশেষত, তার অভিনীত আঞ্চলিক ভাষার কনটেন্টগুলো প্রায়ই ভাইরাল হয়ে চলে আসে।

শৈশব থেকেই সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া সাদ্দাম মাল একসময় স্থানীয় কুয়াকাটা শিল্পী গোষ্ঠীতে যোগ দেন। সেখান থেকে শুরু হয় তার অভিনয়ের যাত্রা। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে অভিনয়ের প্রতি অদ্ভুত এক আকর্ষণ ছিল, যা তাকে স্থানীয় সাংস্কৃতিক মঞ্চে নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে প্রেরণা দিয়েছে। পরে, ২০০০ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি জাতীয় পর্যায়েও তার অভিনয়ের দক্ষতা প্রমাণ করেন, বিশেষ করে “নকশী কাথাঁর মাঠ” নাটকে তার দারুণ ভূমিকা ছিল।

আঞ্চলিক ভাষায় কনটেন্টের মাধ্যমে সাফল্য :: তবে সাদ্দাম মালের জীবনে বড় পরিবর্তন আসে কোভিড-১৯ মহামারীর সময়ে। তার ভাতিজা আবু বকর, ছোট ভাইরা এবং আরও কয়েকজন স্থানীয় যুবক মিলে সাদ্দাম মালকে পরামর্শ দেন আঞ্চলিক ভাষায় কনটেন্ট তৈরি করতে। সাদ্দামের ভাষায়, “এটা ছিল সোনালী সুযোগ, যেখানে নিজের ভাষা, নিজস্ব সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেলাম।” কুয়াকাটায় শুটিং শুরু হওয়া কনটেন্টগুলো প্রথমে স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করে, কিন্তু পরে ধীরে ধীরে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে থাকে।

বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় তৈরি এসব কনটেন্ট ফেসবুক ও ইউটিউবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সাদ্দাম মাল তার কনটেন্টে এমনভাবে অভিনয় করেন যে, দর্শকরা নিজেকে তার চরিত্রে দেখতে পায়। তার বিশেষ কনটেন্ট “ক্রিমিনাল জামাই” দর্শকদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যেখানে তিনি মোতালেব নামক চরিত্রে অভিনয় করেন। তার এই চরিত্রটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, সেই নামেই তাকে পরিচিতি লাভ করতে হয়।

শো-বিজে সাদ্দাম মালের যাত্রা :: তবে কনটেন্ট তৈরি করেই থেমে যাননি সাদ্দাম মাল। কনটেন্টের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে তাকে অভিনয় করার সুযোগও আসে। তিনি শাকিব খানের অভিনীত “রাজকুমার” সিনেমায় অভিনয় করেছেন, পাশাপাশি “নিথর কোলাহল”, “ভাইরাল ভাই”, “রসের হাঁড়ি বাড়াবাড়ি”, “হাউজ হাজবেন্ড ও ফাউল”, “জার্নি টু বরিশাল”, “লাল বাইসাইকেল”, “জাগরণী”, “ডিম”, “রোদ বৃষ্টির গল্প”, “ইলিশের গন্ধ”, “মেঘনার আকাশ” সহ একাধিক নাটকে অভিনয় করেছেন। তার অভিনয়ের প্রতিভা এবং কনটেন্ট নির্মাণের দক্ষতার কারণে সাদ্দাম মাল এখন একজন প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা।

সাদ্দাম মাল শুধু অভিনেতা নন, তিনি একজন দক্ষ কনটেন্ট নির্মাতা। কনটেন্ট তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি তার নিজের হাতে। চিত্রগ্রহণ, গল্প লেখা, শুটিং লোকেশন নির্বাচন — এসবের প্রতিটিতে তার রয়েছে বিশদ মনোযোগ। তার কনটেন্ট টিমের সদস্যরা, যেমন তার ভাতিজা এস.এম আলমাস, ছোট ভাই সাগর, আরিফ, আবু বকর, এবং আরও অনেক সহযাত্রী মিলেই এসব কাজ সম্পন্ন হয়। বিশেষত, তার ভাগিনা আলমাস, যিনি চেয়ারম্যান চরিত্রে অভিনয় করেন, সাদ্দাম মালের সঙ্গে কাজ করার এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা লাভ করেন।

সাদ্দাম মালের কাছে তার দর্শকদের প্রতি এক ধরনের কৃতজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমার এই যাত্রা সম্ভব হয়েছে আমার দর্শকদের ভালোবাসায়। তাদের ভালোবাসা আমাকে সাফল্যের পথ দেখিয়েছে।” এখন তিনি আরও নতুন প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে চান। তার পরিকল্পনা হল, আরও বেশি ভালো কনটেন্ট তৈরি করা, যাতে মানুষ আরও বেশি উপকৃত হতে পারে। এছাড়া, তিনি নিজ অঞ্চলে, কুয়াকাটায় আরও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তুলতে চান এবং তার কর্মজীবনকে সামনের দিকে আরও বিস্তৃত করতে চান।

এখন সাদ্দাম মাল কনটেন্ট নির্মাণকে তার পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি নিজের এবং তার সহকর্মীদের ভালোভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। বর্তমানে সাদ্দাম মাল তার পরিবার, সহকর্মী এবং টিমের সদস্যদের সঙ্গে মিলে প্রতিটি কাজের মধ্য দিয়ে তার পেশাগত লক্ষ্য পূরণ করছেন। তার মতে, “এই কাজই আমার জীবনের মুল অনুপ্রেরণা। আমি চাই আমার কাজের মাধ্যমে দেশের মানুষের মাঝে প্রভাব ফেলতে এবং ভালো কিছু উপহার দিতে।”

অবশ্যই, সাদ্দাম মাল চান তার এই কাজের মাধ্যমে দেশবাসীর হৃদয়ে স্থান করে নিতে এবং একদিন একজন ভালো কৃষক হয়ে মাটি ও মানুষের মাঝে মিশে থাকতে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পর্যটকের স্বর্গ: ভোলার তারুয়া ও চরাঞ্চলে অতিথি পাখির মেলা

সুদূর সাইবেরিয়া থেকে শীতের আগমনে অতিথি পাখিদের কলতানে ভরে উঠেছে ভোলার তারুয়া সৈকতসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল। কুকরি-মুকরি, চর পাতিলা, ঢালচর এবং পর্যটনভূমি তারুয়াসহ ছোটবড় চরগুলো যেন সবুজাভ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। মনোমুগ্ধকর এ দৃশ্য দেখতে এখন পর্যটকদের ভিড়।

জানা গেছে, এসব এলাকায় অতিথি পাখির উপস্থিতি প্রকৃতিকে নতুন এক রূপে সাজিয়েছে। ছোট-বড় পানকৌড়ি, সোনাজিরিয়া, কালোলেজ জৌরালি, গাঙ্গচিলসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ঝাঁক উড়ে বেড়ায় তারুয়াসহ চরাঞ্চলজুড়ে।

পর্যটকদের নজর কাড়ে পাখির আনাগোনা::

পর্যটক রফিকুল ইসলাম বলেন, “তারুয়ায় পাখিদের কিচিরমিচির আওয়াজ মন ছুঁয়ে যায়। এখানে আসলে সত্যি পাখিদের দেশে বসবাস করার অনুভূতি হয়।” অপর এক স্থানীয় বাসিন্দা আবু মিয়া জানান, “পাখিদের উড়াউড়ি এবং খাবার সংগ্রহের দৃশ্য চরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে।”

অবহেলায় পরিযায়ী পাখিদের নিরাপত্তা ::

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু শিকারি বিষটোপ মিশিয়ে পাখি শিকার করছে, যা পরিযায়ী পাখিদের জন্য বড় হুমকি। এর ফলে গত দুই দশকে পাখির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।

প্রশাসনের উদ্যোগ ::

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান জানিয়েছেন, যেকোনো ধরনের পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরিফুল হক জানান, আটটি রেঞ্জের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পাখি শিকার বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

শীতকালীন অতিথি পাখিদের আগমনে ভোলার এই চরাঞ্চল যেন প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। পাখিদের ডানা মেলে উড়ে চলার দৃশ্য উপভোগ করতে এখনই যেতে পারেন এই প্রকৃতির রাজ্যে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




কাঠালিয়ার ছৈলার চর: প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি পর্যটন কেন্দ্র

ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার বিষখালী নদীর তীরে অবস্থিত ছৈলার চর বর্তমানে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই চরটি এখন পর্যটকদের কাছে এক স্বপ্নের গন্তব্যস্থল। জায়গাটি ধীরে ধীরে বিকশিত হয়ে উঠছে, যেখানে রয়েছে ডিসি ইকোপার্ক, বিশ্রামাগার, শিশুদের জন্য চিত্ত বিনোদন ব্যবস্থা এবং একটি নয়নাভিরাম লেক।

বছরের পর বছর ধরে পর্যটকরা এখানে ভিড় করছেন, এবং এলাকাবাসীও সরকারের কাছ থেকে আরও উন্নয়ন প্রত্যাশা করছে। ছৈলার চরের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য এবং পরিবেশের কারণে এখানে বেড়াতে আসা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ছৈলার চরটি প্রায় এক যুগ আগে জেগে উঠেছিল, শুরুতে মাত্র ৪১ একর জমির ওপর এর বিকাশ শুরু হয়, কিন্তু বর্তমানে এটি ৬১ একর জমিতে পরিণত হয়েছে। চরটি ছৈলা গাছের কারণে জনপ্রিয়, যা একটি লবণ সহিষ্ণু গাছ এবং প্রকৃতিগতভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে জন্মায়। এই গাছটি ঝড় এবং জলোচ্ছ্বাসের প্রতিরোধক হিসেবে পরিচিত এবং এর ফল কাঁচা, পাকা বা রান্না করা অবস্থায় খাওয়া যায়। চরটির পরিবেশে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি যেমন শালিক, ডাহুক এবং বক বাস করে, যা পর্যটকদের আরও আকর্ষিত করে।

ছৈলার চর পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ এবং মনোরম স্থান হিসেবে বিবেচিত। এখানে কোনো হিংস্র প্রাণী নেই, এবং সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে ভ্রমণকারীরা এখানে আসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। শীত মৌসুমে বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এখানে পিকনিক করতে আসেন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে আরও অনেকেই এখানে আসেন।

২০১৫ সালে ছৈলার চরকে সরকারিভাবে পর্যটন স্পট হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এখানে বেশ কিছু স্থাপনা তৈরি হয়েছে। ডিসি ইকোপার্ক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রেস্ট হাউজ এবং শিশুদের বিনোদনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। তবে, স্থানীয়দের দাবি, ছৈলার চরকে আরও উন্নত এবং আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পর্যটন করপোরেশনের সহযোগিতা প্রয়োজন।

কিভাবে যাবেন ::
ঝালকাঠি জেলা শহর থেকে কাঠালিয়া উপজেলায় যেতে হবে ৩৫ কিলোমিটার পথ। সেখান থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার পরেই ছৈলার চর পৌঁছানো যাবে। সড়ক ও নৌ পথে সহজে পৌঁছানো সম্ভব, এবং প্রতিদিনই শত শত মানুষ এখানে আসছে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

পর্যটকদের অভিজ্ঞতা
এখানে বেড়াতে আসা নুরনবী তালুকদার বলেন, “ছৈলার চর এখন আমাদের কাছে একটি ‘সুন্দরবন’। এখানে মৌচাক, ছৈলার বাগান এবং নদীর শান্ত পরিবেশ সত্যিই মনোমুগ্ধকর।” শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম জানান, “এটা সত্যিই অসাধারণ। নদী এবং বনের সৌন্দর্য একসাথে উপভোগ করা যায়। এখানে হিংস্র প্রাণী নেই, তাই পর্যটকদের জন্য এটি এক নিরাপদ জায়গা।”

ছৈলার চর শুধু একটি পর্যটন স্থান নয়, এটি একটি প্রাকৃতিক বিপ্লব। এখানে প্রতিদিন নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, এবং এলাকাবাসীও এর উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। ছৈলার চরকে পর্যটন করপোরেশনের আওতায় নিয়ে গেলে, এটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে না পারলেও জীবন দিয়ে দেশকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করেছেন রাহুল

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের পাটুলি বালুর মাঠ এলাকার সন্তান আয়মান হোসেন রাহুল (২২) জীবন দিয়ে দেশের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাহুল, সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ঢাকা যান ছয় মাস আগে। রামপুরা এলাকায় একটি জুতার দোকানে কাজ নেন। তবে, তার জীবনের গল্পটা অন্যরকম, তিনি দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করার জন্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

১৮ জুলাই, ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন রাহুল। সেখানে টিআরশেল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২২ জুলাই তাকে বাজিতপুরের জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন পর তাকে বাড়ি আনা হয়, তবে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে, ৮ আগস্ট নরসিংদী সদর এলাকায় রাহুল মৃত্যুবরণ করেন।

রাহুলের পিতা, ট্রলার চালক মো. মিজান (৪৫) এবং মা, গৃহিণী রুমা আক্তার (৩৭)। রাহুলের একটি ছোট পরিবার রয়েছে, ছোট ভাই মো. রাতুল (১৭), ছোট বোন রুবাইয়া (১৪), এবং সবার ছোট বোন সুরাইয়া (৬)। রাহুলের অবর্তমানে পরিবারে গভীর শোক ছড়িয়ে পড়েছে। তার মা, কান্না জড়ানো কণ্ঠে জানান, “আমার ছেলে ছিল খুব ভালো, দেশ ও পরিবারের জন্য কাজ করছিল। তিনি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকারী অনুদান পাওয়া যায়নি।”

রাহুলের মা আরও জানান, তিনি হত্যার বিচার চান এবং সরকারকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। রাহুলের দাদি, লালবানু বলেন, “আমার নাতি কোনোদিন খারাপ কাজ করেনি, কিন্তু তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।”

রাহুলের আত্মত্যাগ শহিদদের তালিকায় স্থান পেয়ে, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাহুলের মৃত্যু দেশের জন্য একটি বড় ক্ষতি, তবে তার আত্মত্যাগ দেশবাসীর মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়ে যাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আগুন লাগলেই সর্তক করবে বরিশালের ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরারনের ‘অগ্নি’ ডিভাইস

অফিস, আদালত, শিল্প-কারখানা কিংবা বাসা-বাড়িতে আগুন লাগলে মানুষের মতো করে আশপাশের লোকজনকে বাংলা ও ইংরেজী ভাষায় ডেকে সতর্ক করার পাশাপাশি এ্যালার্ম বাজিয়ে সতর্ক করে দিবে ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরান সরদারের উদ্ভাবিত ‘অগ্নি’ নামের ডিভাইস। অগ্নি ডিভাইসটির প্রধান কাজ হলো বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত, শিল্প-কারখানার গ্যাস লাইন থেকে গ্যাস লিকেজ হলে এটি গ্যাস সনাক্ত করে সেকেন্ডের মধ্যে অটোমেটিক গ্যাস লাইন এবং বাসার গ্যাস সিলিন্ডার বন্ধ করে দিবে। পাশাপাশি রেড সিগন্যাল দিবে এবং এ্যালার্ম বাজিয়ে আশপাশের লোকজনকে সতর্ক করবে। এছাড়া, গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার আগেই এটি গ্যাস বাসার বাহিরে বের করে দিবে। সেখানে যদি আগুন লাগে বা অগ্নিকান্ডের দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে ‘অগ্নি’ ডিভাইসটি সেকেন্ডের মধ্যে আশপাশের লোকজনকে সতর্ক করে দিবে।

এমনই একটি কার্যকরী ডিভাইস উদ্ভাবন করেছেন  আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা গ্রামের ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরান সরদার। সরকারি গৈলা মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করা ইরান সরদার বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবটিক্স নিয়ে পড়াশোনা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত অগ্নিকাণ্ড দুর্ঘটনা ঘটছে যা একটি ভয়াবহ দূর্যোগে রূপ নিয়েছে। গ্যাস লাইন লিকেজ এবং মানুষের অসাবধানতা এর প্রধান কারণ। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ‘অগ্নি’ ডিভাইসটি উদ্ভাবন করা হয়েছে।”

ইরান সরদার আরও জানান, “সর্বশেষ বাংলাদেশের সচিবালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর আমি এই ডিভাইসের উদ্ভাবনে মনোনিবেশ করি এবং সফলভাবে এটি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছি। এর জন্য মোট খরচ হয়েছে মাত্র পাঁচ টাকা।” তিনি আশা করছেন, সরকারি কিংবা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সহায়তা পেলে ‘অগ্নি’ ডিভাইসটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারজাত করা সম্ভব হবে এবং দেশের বড় বড় অগ্নিকাণ্ড থেকে মানুষ এবং সম্পত্তি রক্ষা করা যাবে।

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারিহা তানজিন বলেন, “বাংলাদেশে অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা বেড়েছে। ক্ষুদে বিজ্ঞানী ইরান সরদারের উদ্ভাবিত ‘অগ্নি’ ডিভাইসটি একটি সময়োপযোগী উদ্ভাবন। এটি দেশে অগ্নি দুর্ঘটনা কমাতে এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।”

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, ২০২৩ সালে সারাদেশে ২৭ হাজার ৬২৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে প্রায় ৭৯২ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এসব দুর্ঘটনা থেকে সুরক্ষা দিতে ইরান সরদারের ‘অগ্নি’ ডিভাইসটি বেশ সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পর্যটন সুবিধা বাড়ালে বদলে যাবে দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনার ঢালচরের দক্ষিণে অবস্থিত তারুয়া দ্বীপ, বঙ্গোপসাগরের কোলে প্রায় চার দশক আগে জেগে ওঠা এক ছোট্ট দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এ দ্বীপটি যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সৃষ্টি। সবুজ বনভূমি, সোনালি সৈকত, বালুর ঝলকানি এবং লাল কাঁকড়ার বিচরণ, এসব মিলিয়ে তারুয়া দ্বীপটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রকৃতির এক অনন্য উপহার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক প্রচার ও পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত হলে, এই দ্বীপটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে।

তারুয়া দ্বীপে পৌঁছাতে হলে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার সড়কপথ এবং ১৫ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিতে হয়। দ্বীপের পথে যাত্রায় ক্লান্তি দূর হয়ে যায় সাগরের গর্জন ও চারপাশে বিস্তৃত নীল জলরাশি দেখে। প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ তারুয়া সৈকতের একপাশে বঙ্গোপসাগর আর অন্যপাশে ম্যানগ্রোভ বনে ঘেরা বিশাল চারণভূমি। দ্বীপে নানা প্রজাতির প্রাণী বসবাস করছে, যেমন হরিণ, বন্য মহিষ, বানর এবং লাল কাঁকড়া। প্রকৃতির নিখাদ নির্জনতা এবং মোহনীয় দৃশ্য দেখে যেকোনো দর্শক সজীব হয়ে ওঠে, যেন প্রকৃতি নিজ হাতে সব কিছু সাজিয়েছে।

তারুয়া দ্বীপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। সকালের সোনালি আভায় সাগরের বুক থেকে যখন সূর্য উঁকি দেয়, তখন এক অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি হয়, যা দর্শকদের মনমুগ্ধ করে। আবার সন্ধ্যায়, যখন পশ্চিম আকাশ রক্তিম আভায় রাঙা হয়ে ওঠে, তখন দর্শকদের অনুভূতি এক নতুন মাত্রায় পৌঁছে যায়।

প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠে তারুয়া দ্বীপ। স্থানীয়রা যখন মাছ ধরতে আসতেন, তখন তাদের জালে শত শত “তারুয়া” মাছ উঠে আসত, যার কারণে দ্বীপটির নামকরণ করা হয়েছে তারুয়া। এই দ্বীপটি জীববৈচিত্র্যের এক অপূর্ব ক্ষেত্র, যেখানে নানা প্রজাতির বৃক্ষরাজি, হরিণ, কাঠবিড়ালী, বন ষাড়, এবং শীতকালীন অতিথি পাখির বসবাস।

বর্তমানে দ্বীপে স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠেনি, তবে গত কয়েক বছরে পর্যটকদের আগমন বেড়েছে। তারুয়া দ্বীপের পর্যটন সম্ভাবনা অত্যন্ত বিশাল। ওয়াটার অ্যাডভেঞ্চার, ক্যাম্পিং সুবিধা এবং পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট গড়ে তুললে, এটি কক্সবাজার কিংবা কুয়াকাটার মতো আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সরাসরি সড়কপথ ও সি-ট্রাক পরিষেবা চালু হলে পর্যটকদের জন্য এটি আরো সহজতর হবে।

ভোলার বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আরিফুল হক বেলাল জানান, তারুয়া বিচের সৌন্দর্য এবং পাখির অভয়ারণ্য রক্ষায় পর্যটকদের সচেতন থাকতে হবে। বন ও পরিবেশের ক্ষতি না হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ক্যাম্পিং করা উচিত। ম্যানগ্রোভ বনে পরিযায়ী পাখির আগমন শুরু হয়েছে, তাই ফায়ারিং ও আতশবাজি ফোটানো নিষিদ্ধ। পরিবেশের ক্ষতি রোধ করতে বন বিভাগের পক্ষ থেকে টহল জোরদার করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লবঙ্গ কেন খাবেন? কিভাবে খাবেন?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: লবঙ্গ আমাদের রান্নাঘরের পরিচিত একটি মশলা। এটা খাবারে স্বাদ ও ঝাঁজ এনে দেয়। তবে রান্নার বাইরেও লবঙ্গের রয়েছে অসাধারণ ভেষজ গুণ। সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত লবঙ্গের উপকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

লবঙ্গে রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন কে, ও প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ। ম্যাঙ্গানিজ মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং হাড় শক্ত রাখতে সাহায্য করে।

লবঙ্গে ইউজেনল নামে একটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আছে। এটা শরীরের ফ্রি র‌্যাডিক্যালস কমায়।

ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ক্যান্সারসহ সব ধরনের রোগের বিরুদ্ধে একটা সুরক্ষা বলয় তৈরি করে লবঙ্গের ইউজেনল।
লবঙ্গে নাইজেরিসিন নামে একটা উপাদান আছে। এটা ইনসুলিন উৎপাদন করতে সক্ষম।

ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে নাইজেরিসিন কার্যকর ভূমিকা রাখে।
লবঙ্গের আছে অ্যান্টি-ব্যাকটিরিয়াল গুণ। দাঁত, মাড়ি ব্যাথ্যা দ্রুত উপশম করে লবঙ্গ। সাইনাসের সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে লবঙ্গ। লবঙ্গ তেলও দাঁতের ব্যথা উপশমে কার্যকর।

লবঙ্গ পাকস্থলীর সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এটা গ্যাসট্রিক মিউকাস উৎপাদনে সাহায্য করে। পেপটিক আলসার প্রতিরোধে গ্যাসট্রিক মিউকাস বিশেষভাবে কার্যকরী। এছাড়া লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে এবং অস্টিয়োপোরোসিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে।

কীভাবে লবঙ্গ ব্যবহার করবেন?

সর্দি-কাশিতে লবঙ্গ দিয়ে চা পান করতে পারেন। এ ছাড়া গরম পানিতে লবঙ্গ ফুটিয়ে পান করতে পারেন। কাঁচা লবঙ্গ চিবিয়ে বা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যায়।

সতর্কতা
ডায়াটিশিয়ানদের মতে, অতিরিক্ত লবঙ্গ খাওয়া বিপজ্জনক। এটা রক্ত পাতলা করে, ফরে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। হাইপোগ্লাইসিমিয়া বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। লবঙ্গ বা এর তেলে অনেকর অ্যালার্জি হতে পারে।

লবঙ্গ শুধু রান্নার মশলা নয়, এটি রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে কার্যকর একটি প্রাকৃতিক ওষুধ। তবে লবঙ্গের ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োগ করা উচিত।




হোয়াটসঅ্যাপেও চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সুযোগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: এখন থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা সরাসরি ওপেনএআইয়ের চ্যাটবট চ্যাটজিপিটির সেবা নিতে পারবেন l

বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) থেকেই এ সুবিধা চালু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে, প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট।

হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের জন্য কেবল ফোনের কনট্যাক্টসে ১ (৮০০) চ্যাটজিপিটি বা ১ (৮০০) ২৪২-৮৪৮৭ নম্বরটি সংযুক্ত করতে হবে। এরপর মেটার জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ থেকে সরাসরি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলা যাবে।

তবে এ ফিচারে শুধুমাত্র চ্যাটজিপিটির টেক্সট ইনপুট সুবিধা পাওয়া যাবে। উন্নত ভয়েস মোড কিংবা ভিজুয়াল ইনপুট ফিচার এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে, চ্যাটজিপিটির জিরো ওয়ান মিনি মডেলের সব সুবিধা এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে।

অ্যাকাউন্ট ছাড়াই যেখানে চ্যাটজিপিটির চ্যাটবট রয়েছে, সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ থেকেও এটি ব্যবহার করা যাবে। ওপেনএআই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের প্রমাণীকরণের নতুন উপায় নিয়ে কাজ করছে। তবে ফিচারটি সবার জন্য কবে থেকে উন্মুক্ত হবে, সে বিষয়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কোনও সময় উল্লেখ করা হয়নি।

এনগ্যাজেট আরও জানিয়েছে, শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি চ্যাটজিপিটি হটলাইন চালু করেছে ওপেনএআই। ওই নম্বরটিও ১ (৮০০) চ্যাটজিপিটি। এটি স্মার্টফোন কিংবা পুরোনো ফ্লিপ ফোনেও ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।

ওপেনএআইয়ের চিফ প্রোডাক্ট অফিসার কেভিন ওয়েইল জানিয়েছেন, ‘আমরা ওপেনএআইকে সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছি মাত্র।’ সম্প্রতি ‘১২ ডেইজ অফ ওপেনএআই’ লাইভস্ট্রিম চলাকালে এ মন্তব্য করেন তিনি।

ওয়েইল আরও জানান, প্রতিষ্ঠানটির হ্যাক উইক আয়োজন থেকেই এ ফিচারগুলো তৈরি হয়েছে। চ্যাটজিপিটির এ নতুন সুবিধা প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




পর্যটক বাড়লেও চর কুকরি-মুকরিতে নেই কাঙ্খিত সুযোগ সুবিধা

ভোলার চর কুকরি-মুকরি তাড়ুয়ার দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিন দিন পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সাগরের নির্মল বাতাস, সবুজ বন এবং অতিথি পাখির কলকাকলি পর্যটকদের হৃদয়ে নতুন আনন্দের ঝিলিক তৈরি করছে। তবে, প্রতিবছর পর্যটক আসার সংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু তবুও এখানকার কাঙ্খিত সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি পায়নি। বিশেষত, যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতা এবং অন্যান্য সুবিধার অভাবে পর্যটকরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন।

চর কুকরি-মুকরির তাড়ুয়ার দ্বীপ প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। এখানে প্রবাহিত সরু খাল, ঘন বন, এবং সাগরের কোল ঘেঁষে থাকা ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তাড়ুয়া সৈকত প্রকৃতির প্রেমীদের জন্য এক অপূর্ব স্থান। এ অঞ্চলের বন্যপ্রাণী যেমন চিত্রাহরিণ, বন মোরগ, এবং অতিথি পাখি পর্যটকদের আকর্ষণ করছে। এখানকার মনোরম পরিবেশ প্রকৃতির খোঁজে আসা হাজারো পর্যটককে মুগ্ধ করছে।

তবে, পর্যটকদের সংখ্যা বাড়লেও, এই দ্বীপে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা অপ্রতুল, যা পর্যটকদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে। তবুও স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ আশ্বাস দিয়েছে, তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এরই মধ্যে ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি কুকরি-মুকরীতে ইকো-পার্ক স্থাপন করা হয়, যা পর্যটনের জন্য নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে।

পর্যটকরা এখানে সাগরের নোনা জলে গা ভেজানোর পাশাপাশি খেলা-ধুলার মধ্যে তাদের সময় কাটান। তাবু খাটিয়ে রাত কাটানোর জন্য এখানে রয়েছে ৭তলা উঁচু ওয়াচ টাওয়ার, যা পর্যটকদের বন ও নদীর দৃশ্য দেখার সুযোগ দেয়। পর্যটকরা এখানকার সবুজ প্রকৃতিতে হারিয়ে যেতে চান, কিন্তু পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অভাবে তাদের কিছুটা হতাশা দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা থেকে সপরিবারে ঘুরতে আসা সোহেল চৌধুরি বলেন, “কুকরি-মুকরি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা, এখানে কৃত্রিম কিছু নেই, তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হলে আরও বেশি পর্যটক আসবে।”

পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চর কুকরি-মুকরি তাড়ুয়ার দ্বীপের সম্ভাবনা অপরিসীম, তবে এই অঞ্চলের আরো উন্নয়ন প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যে সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম