ভেবেচিন্তেই হচ্ছে কুয়াকাটা বিমানবন্দর

অনেক কিছু ভেবেচিন্তেই কুয়াকাটা বিমানবন্দর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

প্রাথমিকভাবে স্থান নির্বাচন সৈকত থেকে ২২ কিমি. দূরে কলাপাড়া ও আমতলীতে শুধু পর্যটনকেন্দ্রিক না করে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে রানওয়ের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা।

নামে কুয়াকাটা বিমানবন্দর হলেও প্রাথমিকভাবে এর স্থান নির্বাচন হয়েছে সৈকত থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও বরগুনার আমতলী উপজেলার ৩ হাজার একর জমিতে এটি নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ইতোমধ্যে বিমানবন্দরের জন্য সম্ভাব্য ওই স্থান পরিদর্শন করেছে বেবিচকের বিশেষ টিম। কেবল পর্যটন নির্ভর বন্দর পরিচালনা লাভজনক হবে না বিবেচনায় সৈকত থেকে এতটা দূরে এটি করার পক্ষে তারা। সেক্ষেত্রে কুয়াকাটার পাশাপাশি দক্ষিণ উপকূলের উদীয়মান শিল্প এলাকার কেন্দ্রে হবে এর অবস্থান। ফলে বন্দর লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি রানওয়ের সুবিধা পাবে সবাই।

১৯৯৮ সালে পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। এরপর থেকেই মূলত সেখানে শুরু হয় সরকারি পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর কম সময়ে যাতায়াতের সুবাদে প্রতিদিনই হাজার হাজার পর্যটক যাচ্ছেন কুয়াকাটায়। ছুটির দিনে সেখানে থাকা ২শ’র মতো হোটেল-মোটেল ছাপিয়ে সৈকতেও রাত কাটাতে হয় অনেককে। সৈকতভিত্তিক পর্যটন জমে ওঠার পাশাপাশি কুয়াকাটা সংলগ্ন কলাপাড়ায় পায়রা সমুদ্রবন্দর ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ গড়ে ওঠে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। বর্তমানে কেবল কলাপাড়ায়ই রয়েছে ৩টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। পার্শ্ববর্তী বরগুনার তালতলীতে রয়েছে একটি। প্রস্তাবিত পটুয়াখালী ইপিজেডের অবস্থানও এগুলোর বেশ কাছে। পদ্মা সেতুকেন্দ্রিক নয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসাবে সেখানে গড়ে উঠছে আরও নানা শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ক্রমবর্ধমান এই পর্যটন ও শিল্প এলাকায় একটি বিমানবন্দর স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ওঠে আলোচনা।

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে গত বছরের ১১ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায়ও আলোচিত হয় বিষয়টি। সেখান থেকে কুয়াকাটায় বিমানবন্দর স্থাপন বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয় নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরে। অধিদপ্তর এই বিষয়ে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে বললে তারা চিঠি দেয় বেবিচককে। পুরো বিষয়ে ধারণা পেতে ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বেবিচক। সংস্থার পরিচালক (প্রশাসন) জহিরুল ইসলামকে করা হয় এর প্রধান। ১৭ ফেব্রুয়ারি কমিটির সদস্যরা আসেন কলাপাড়ায়। পরিদর্শন করেন বিমানবন্দর নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান। যার অবস্থান কলাপাড়া ও আমতলী উপজেলায়। দুই উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৪টি গ্রামকে পছন্দ করেন তারা।

কমিটির প্রধান জহিরুল ইসলাম বলেন, বিমানবন্দর তো ছোটখাটো কোনো বিষয় নয়। আমাদের প্রস্তাবনায় এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ধরা হয়েছে যথাক্রমে ৬ ও ২ কিলোমিটার। এজন্য দরকার হবে ৩ হাজার একর জমি। যে জায়গাটি আমরা দেখেছি সেখানে এই জমির সংস্থান করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি খুব একটা নিতে হবে না। আলোচ্য স্থানে সরকারের বিপুল আয়তনের জমি রয়েছে। ঘরবাড়িসহ তেমন কোনো স্থাপনাও ভাঙা পড়বে না। বিপুল আয়তনের এই জমি যদি কিনতে না হয় তাহলে সরকারের ব্যয় অনেক কমে যাবে।

পরিদর্শন দলের সঙ্গে থাকা কলাপাড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, কলাপাড়া ও আমতলীর সীমান্তবর্তী চাকামইয়া এবং নীলগঞ্জ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এই বিমানবন্দর নির্মাণের চিন্তা করছে বেবিচক। স্থানীয় পরিস্থিতি বিবেচনায় এটাই সঠিক। চাকামইয়া ইউনিয়নটি কলাপাড়ার সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন। এর দৈর্ঘ্য ১৫ কিলোমিটারের বেশি। বিশাল এলাকা হলেও ভোটার সংখ্যা মাত্র ১৪ হাজার। জনবসতি কম হওয়ার পাশাপাশি এখানে সরকারের বিপুল আয়তনের খাস জমি রয়েছে। যতদূর জানি পার্শ্ববর্তী আমতলী উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নেরও প্রায় একই অবস্থা। এর বিপরীতে কুয়াকাটায় এত বিপুল আয়তনের খাস জমি যেমন নেই তেমনি পর্যটন কেন্দ্র হওয়ায় সেখানে জমির দামও অনেক বেশি। কুয়াকাটায় করতে গেলে এই বিমানবন্দর নির্মাণ ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

কলাপাড়া ও তালতলী মিলিয়ে বিমানবন্দর স্থাপনের প্রস্তাবে কুয়াকাটার সাধারণ মানুষের মধ্যে খানিকটা অসন্তোষ দেখা দিলেও তার উত্তর দিয়েছেন সেখানকার সংসদ-সদস্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।
তিনি বলেন, কুয়াকাটায় যে ২শর মতো হোটেল-মোটেল রয়েছে তার মাত্র ২৮ ভাগ আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন। এসব হোটেলের গ্রাহকরাই প্রধানত হবে বিমানের যাত্রী। তাও কেবল ছুটি আর পর্যটন মৌসুমের দিনগুলোয়। এই স্বল্পসংখ্যক যাত্রী দিয়ে বিমানবন্দর চলবে না। প্রকারান্তরে কলাপাড়ার চাকামইয়ায় বিমানবন্দর হলে সেটা কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি পুরো শিল্পাঞ্চলকে সংযুক্ত করবে। চাকামইয়া থেকে কুয়াকাটা যেতে সময় লাগে ২০-২৫ মিনিট। এর আশপাশেই অবস্থান পায়রা সমুদ্রবন্দর ও তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ পুরো শিল্প এলাকার। প্রস্তাবিত পটুয়াখালী ইপিজেড আর বরগুনা জেলাও কাছে হবে। সেক্ষেত্রে পায়রা বন্দরের পণ্য কার্গো বিমানে পরিবহণসহ শিল্প এলাকার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের যাতায়াত মিলে টিকে যাবে বিমানবন্দর। এজন্যই কলাপাড়ার চাকামইয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

পরিচয় না প্রকাশের শর্তে বেবিচকের এক কর্মকর্তা বলেন, স্থান নির্বাচনসহ প্রাথমিক পর্যায়ের কাজগুলো সম্পন্নের সঙ্গে সঙ্গে কুয়াকাটাকেন্দ্রিক বিমানবন্দর স্থাপনে দেড় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে রয়েছে। সেখানে এবং একনেকে এটি অনুমোদন পেলে আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ শুরু করা যাবে বিমানবন্দরের কাজ। কেবল কুয়াকাটা কিংবা উপকূলীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল নয়, ভবিষ্যতের অনেক কিছু মাথায় নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। সমুদ্র সীমান্তের নিরাপত্তা প্রশ্নে ভবিষ্যতে এখানে এয়ার ফোর্সের বেইজও হতে পারে। এসব বিবেচনায় নিয়ে এগোচ্ছি আমরা।

বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান বলেন, পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে কুয়াকাটার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাসহ ওই এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক যে হাব তৈরি হচ্ছে তাতে সেখানে বিমানবন্দর প্রয়োজন। সেই বিষয়টিতেই গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। স্থান নির্বাচনসহ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে ৮ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তাদের দেওয়া রিপোর্ট আর অর্থ সংকুলান হলেই পরবর্তী ধাপের কাজ শুরু করব আমরা।

 




পটুয়াখালী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক লাঞ্ছনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি  :

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. সামসুল হককে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষকেরা ১৫ দিন পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে আজ সোমবার সকাল থেকে ক্লাস ও পরীক্ষার কার্যক্রম চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আমরা আন্দোলন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি এবং আজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা একাডেমি কার্যক্রমে যথারীতি অংশ নিয়েছেন।’

শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনাটি তদন্তে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে ২২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্ত প্রতিবেদনে শিক্ষকের সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার অসদাচরণের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। এরপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিল।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক জেহাদ পারভেজ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান মিয়া স্বাক্ষরিত জরুরি নোটিশে সব প্রতিনিধিকে ডিন ও কোর্স টিচারদের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্লাস পরীক্ষা শুরু করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা মো. সামসুল হক শিক্ষক কর্মকর্তাদের কৃষি কুঞ্জের ডাইনিং কক্ষে পোস্ট-হারভেস্ট টেকনোলজি অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিক লাঞ্ছনা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হন শিক্ষার্থীরা। বিচার চেয়ে আন্দোলন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে লাগাতার ক্লাস বর্জনসহ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শুরু করে শিক্ষক সমিতি। শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত সামসুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করল।




ইভিএম দিয়ে ভোট কারচুপি করা সম্ভব নয়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) আহসান হাবিব খান বলেছেন, ইভিএম দিয়ে কোনো ধরনের ভোট কারচুপি করা সম্ভব নয়। এর বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ নেই। ব্যালটে কিন্তু একজন অনেক ভোট দিতে পারেন। ব্যালট বাক্স লুট হলে সব লুট হয়ে যায়। ইভিএমে কিন্তু তা সম্ভব না।

রোববার রাতে পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচন উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

আহসান হাবিব খান বলেন, পৌরসভা নির্বাচন থেকে শুরু করে সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত ইভিএম খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছি। ইভিএমে ভোট হওয়ায় ভোটারকে কেন্দ্রে যেতেই হবে। আঙুলের ছাপ মেলাতে হবে। তারপরও ইভিএম নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা কী কারণে আমি নিজেও বুঝি না। ইভিএম নিয়ে কারিগরি যত বিশেষজ্ঞ রয়েছেন তারা সকলেই ইভিএম খুলে দেখেছেন। তারপরও ইভিএম নিয়ে সন্দেহ কেন থাকবে তা আমার বোধগম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ইভিএম দিয়ে কোনো ধরনের কারচুপি করা সম্ভব নয়। আমরা যে ৬০০ নির্বাচন ইভিএমে সম্পন্ন করেছি তাতে কোনো প্রার্থী বা ভোটার কেউ বলেনি ইভিএম ভুল করেছে। এর বিরুদ্ধে কারও অভিযোগ নেই। ব্যালটে কিন্তু একজন অনেক ভোট দিতে পারেন। ব্যালট বাক্স লুট হলে সব লুট হয়ে যায়। ইভিএমে কিন্তু তা সম্ভব না।

তিনি আরো বলেন, ইভিএম না থাকলে দুশ্চিন্তার কারণ ছিল। ইভিএম রয়েছে বিধায় দুশ্চিন্তা নেই। ইভিএম হচ্ছে স্বচ্ছতার প্রতীক। নির্বাচন চলাকালে ইভিএমে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




ডায়াবেটিস রোগীরা যে কারণে বেগুন খাবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ডায়াবেটিসের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায় সহজেই। এজন্য শরীরচর্চার পাশাপাশি সঠিক খাদ্যাভ্যাস জরুরি।

বিভিন্ন ধরনের খাবার আছে যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। এ কারণে ডায়েট থেকে বাদ দিতে অনেক খাবার। বিশেষ করে প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার ও মিষ্টি খাবার একেবারেই এড়িয়ে যেতে হয়।

একইভাবে অনেক ধরনের খাবার আছে যা খেতে মানা নেই ডায়াবেটিস রোগীদের। তেমনই এক সবজি হলো বেগুন। রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে এই সবজি।

শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এটি বিশেষ ভূমিকা রাখে। আবার বেগুন হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। বেগুনে থাকা পটাশিয়াম শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে যা রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কম ক্যালোরি ও কার্বোহাইড্রেটযুক্ত এই সবজিতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি উপাদান আছে। আপনি যদি ডায়াবেটিসের রোগী হন তাহলে আপনার ডায়েটে এই সবজি অবশ্যই যোগ করুন।

এনসিবিআইতে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুসারে, বেগুনে খুব কম গ্লাইসেমিক সূচক আছে। যা রক্তে শর্করাকে বাড়ায় না। এটি একটি স্টার্কবিহীন খাবার। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ১৫। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি উপকারী। কম গ্লাইসেমিক সূচকযুক্ত খাবারগুলো গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ায় না ও ধীরে ধীরে শোষিত হয়।

বেগুনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল ও দ্রবণীয় ফাইবার আছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এতে ক্যালোরি ও চর্বি অনেক কম। এতে নিয়াসিন, ম্যাঙ্গানিজ ও কপারের মতো অল্প সংখ্যক অন্যান্য পুষ্টিও আছে।

বেগুনে ভিটামিন এ ও সি এর মতো উচ্চ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে, যা কোষের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। ক্যালোরি কম হওয়ায় এটি ওজন কমানোর জন্য একটি দুর্দান্ত খাবার।

ফাইবার সমৃদ্ধ এই সবজি কোষ্ঠকাঠিন্যও সারায়। বেগুনে থাকা ফোলেট রক্ত স্বল্পতা দূর করে। এতে উৎপন্ন গ্লাইকোঅ্যালকালয়েড ত্বকের ক্যানসারও প্রতিরোধ করে।

তাই ডায়াবেটিস রোগীরা নিশ্চিন্তে ডায়েটে রাখতে পারেন বেগুনের নানা পদ। তবে অনেকেরই বেগুনে অ্যালার্জি থাকে। তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেগুন খাবেন না।

সূত্র: এনসিবিআই/টাইমস নাউ নিউজ




বাউফলে ধর্ষণের অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর বাউফলে ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে সুজন হাওলাদার (২৪) নামের এক ছাত্রলীগ নেতা ও তার সহযোগী অটোরিকশা চালক রাজিব হাওলাদারকে (২২) আটক করেছে বাউফল থানা পুলিশ। সুজন কাছিপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক। আটককৃত রাজিব একই এলাকার।

রবিবার (৩ মার্চ) দুপুরে বাউফল থানার এসআই মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়ন বাজার থেকে তাদের আটক করে।

ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, কয়েকদিন আগে সুজন ও রাজিব খাবারের সাথে ঘুমের ওষুধ খায়িয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। এ সময় ওই নারীর আপত্তিকর ছবি মোবাইলে ধারণ করে অভিযুক্তরা। এরপর ওই ছবি দেখিয়ে তার সাথে পুনঃরায় শারীরিক সম্পর্ক করতে চায়। এতে রাজি না হওয়ায় ওই আপত্তিকর ছবি তার স্বামীর কাছে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ওই নারী রবিবার (৩ মার্চ) সকালে বাউফল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ওসি শোনীত কুমার গায়েন অভিযুক্তদের আটকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 




ফল খাওয়া সম্পর্কে ৩টি ভুল ধারণা




‘আব্বু আমার খুব বিপদ, আমার জন্য দোয়া কইরো’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বরগুনার নাঈম

এস এল টি তুহিন, বরিশাল :: ছেলেটার স্বপ্ন ছিল পড়ালেখা শেষে চাকরি করে সংসারে সচ্ছলতা ফেরাবে। ডিগ্রিতে ভর্তির টাকা জোগাড় করতে এক মাস আগে ঢাকায় যায়। মার্চে তার ডিগ্রিতে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। গত মঙ্গলবার ঢাকার বেইলি রোডের ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তাকর্মীর কাজ নেয়। তিন দিনের মাথায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই ভবনে আগুন লেগে ছেলে মারা যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বরগুনা সদর উপজেলার গৌরিচন্না গ্রামের নান্টু হাওলাদার। বেইলি রোডের আগুনে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁর ছেলে নাঈম হাওলাদারসহ ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। নাঈম ওই ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি নিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় সর্বশেষ ছেলের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন নান্টু হাওলাদার।

নান্টু হাওলাদার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফোন দিয়ে সে কান্দন লইছে। সে বলে, “আব্বু আমার খুব বিপদ, আমার জন্য দোয়া কইরো। আমার মার্কেটে আগুন লাগছে। আমি ছাদের ওপর আছি। আমার জন্য দোয়া কইরো।” আমি বললাম, লাইন কাটিস না। আমার কথা শোন, ছাদে উঠছো ছাদে থাক। আল্লায় একটা ব্যবস্থা করবেই। ছাদে তো আরও মানুষ আছে। সে বলে, “আমার ফোনে টাকা নাই।” আমি বলি, টাকা না থাকলে তুই ফোন কাইট্যা দে। আমি ফোন ব্যাক করতেছি। আমার সাথে কথা বললে তোর মনে সাহস বাড়বে। কিন্তু ফোনটা কেটে দেওয়ার পর আমি ফোন দিলে আর রিসিভ হয় না। শুধু রিং বাজে।’

 

একপর্যায়ে কেঁদে ফেলেন নান্টু হাওলাদার। তিনি বলেন, ‘পরে টিভিতে খবরে দেখলাম ফায়ার সার্ভিস আইস্যা আগুন নিয়ন্ত্রণ করছে এবং ছাদ থেকে লোকজন নামাইতেছে। তখন আশা নিয়া বসেছিলাম, আমার ছেলেও তো ছাদে আছে। ছাদের সব লোক নামাইছে কিন্তু আমার ছেলেকে তো কোথাও দেখি না। আধা ঘণ্টা পরে দেখি হঠাৎ কইরা দু-তিনজন আমার ছেলেকে ধরে ট্রলিতে শোয়াইয়্যা নিতেছে। তখন আমি চিৎকার মারছি, ওই আমার আব্বুকে নিয়া যায়। আমার আব্বু আর পৃথিবীতে নাই।’

একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা লাকি বেগম। ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনিএকমাত্র ছেলেকে হারিয়ে দিশেহারা মা লাকি বেগম। ছেলের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি


নাঈমের বাবা ভ্যানে সবজি বিক্রি করেন আর মা অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে ও নিজের পড়াশোনার খরচ জোটাতে নাঈম কাচ্চি ভাই রেস্তোরাঁয় কাজ নিয়েছিলেন। ছেলেকে হারিয়ে মা-বাবার আহাজারি থামছে না। নাঈমের বাবা শারীরিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। অভাবের সংসারে সামনের দিনগুলো কীভাবে চলবে, সেই দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।

নান্টু হাওলাদার বলেন, ‘আগুন আমার ছেলেটার স্বপ্ন পুড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমাদের বেঁচে থাকার ইচ্ছাও হারিয়ে গেছে। আমি অসুস্থ। আমাদের দেখাশোনার মতো আর কেউ থাকল না। আশা ছিল, ছেলেটা বড় হয়ে আমাদের দুর্দশা দূর করবে। সেই ছেলেটাই পৃথিবী থেকে চলে গেল। দেনায় জর্জরিত আমরা। ছেলের জন্য যে দোয়া অনুষ্ঠান করব, সে জন্যও অন্যের কাছে হাত পাততে হবে।’

ছেলেকে হারিয়ে বাক্‌রুদ্ধ হয়ে গেছেন নাঈমের মা লাকি বেগম। তিনি ছেলের সঙ্গে সর্বশেষ কথা বলেছেন বৃহস্পতিবার বিকেলে। লাকি বেগম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেলে ছেলেকে কল দিয়া বলি, এ গেদু তুই তো কাইলও একটু কল দিলি না। ও বলে, “মা একটু ব্যস্ত ছিলাম। একটা মার্কেটে কাজ নিছি। তুমি টেনশন করবা না। আমি সাবধানেই আছি। রাইতে ভিডিও কলে কথা বলমু আনে, বলে ফোন কাইট্যা দেছে।” এই পর্যন্ত আমার সোনা বাবার সাথে আমার কথা হয়। এই শেষ কথা ওর সাথে। আমার আব্বায় আর কথা কয় নাই।’

লাকি বেগম বলেন, ‘এই রকম হইবে বুঝলে আমি কইতাম, তুমি ওইখান দিয়া এখনই যাও। আমি যা কইতাম হেইআই আমার ময়নাডা শোনতে। হের আগে যেহানে ছিলা অনেক শান্তিতে ছিলা। ডেইলি দুইফির তিনফির ফোন দিয়া কথা কইছে। কইছে, “মা আমি শান্তিতে আছি। তুমি টেনশন করবা না। তোমার আর কষ্ট করা লাগবে না। আমি আইছি কামাই (কাজ) করতে। তোমাগো আর কষ্ট লাগবে না। যত মানে (লোকে) টাহা পয়সা পায়, সব আমি শোধ করমু।”’ তিনি বলেন, ‘এখন কেডা দেখবে আমাগো। আর জিগাইন্যা মানুও নাই।




রমজানের জন্য একটি সুন্দর পরিকল্পনা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : রাসুলুল্লাহ (স.) দুই মাস আগে থেকেই অর্থাৎ রজব মাস থেকেই রমজানের প্রস্তুতি শুরু করতেন। শাবান মাস আসলে ইবাদতের গতি বাড়িয়ে দিতেন আর বলতেন—‘হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।’ (মেশকাত: ১৩৬৯)।

রমজানের পরিকল্পনা
১. সামাজিক প্রস্তুতি: রমজানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিবেশী ও সমাজের লোকজন একে অন্যের সঙ্গে দেখা হলে রমজানের বিভিন্ন ফজিলত ও ইতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করুন। বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয় স্বজনের সঙ্গেও একই আলোচনা করুন। সেইসঙ্গে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

২. পারিবারিক প্রস্তুতি: একটি পারিবারিক রুটিন তৈরি করুন, যাতে রমজানের ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটে। কারো তেলাওয়াত অশুদ্ধ থাকলে, সেটি ঠিক করে নিতে হবে। অনৈসলামিক টিভি প্রোগ্রাম ও অযথা অনলাইন ব্যবহার থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে হবে। সিরিয়াল দেখার অভ্যাস থাকলে, আজই ডিসের লাইন কেটে দিন।

৩. গৃহিণীর প্রস্তুতি: সেহেরি ও ইফতার ব্যবস্থাপনায় ইসলামিক নির্দেশনার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। একইসঙ্গে ফরজ-নফল নামাজ, তারাবি, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকারের জন্য আগেই একটি রুটিন করে নেওয়া উত্তম। সংযমের মাসে গৃহিণীর উচিত অপব্যয় ও অপচয় রোধ করে তা দান-সদকায় ব্যয় করার ক্ষেত্রে স্বামীকে সহযোগিতা করা। পোষাক-আশাক থেকে শুরু করে যেকোনো কিছুর কেনাকাটা যথাসম্ভব আগে-ভাগেই শেষ করা ভালো।

৪. চাকরিজীবীর প্রস্তুতি: ভালো মানুষ হওয়ার ট্রেনিংয়ের মাস রমজান। চাকরিজীবীরা বিশেষ প্রশিক্ষণ নেওয়ার মোক্ষম সুযোগ পান রমজানে। সেটা হচ্ছে ফাঁকিবাজি ছাড়া অফিস ডিউটির মাধ্যমে মহান মালিক আল্লাহ তাআলার হক যথাযথ আদায়ের প্রশিক্ষণ। আর সেভাবে নিজেকে অভ্যস্ত করতে চর্চা আগে-ভাগে শুরু করা চাই।

৫. ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি: ব্যবসায়ীরা রমজান মাসে কাজে লাগানোর জন্য এখন থেকেই ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দের প্রশিক্ষণ নিন। পণ্য মজুদকরণ, নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া এবং নানা অপকৌশলে মানুষকে ঠকানোর মতো কাজ করে নিশ্চয়ই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কছিন্ন করবেন না একজন মুমিন ব্যবসায়ী। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ৪০ দিন খাদ্য মজুদ রাখল, সে আল্লাহর কাছ থেকে নিঃসম্পর্ক হয়ে গেল, আল্লাহ নিঃসম্পর্ক হয়ে গেলেন তার থেকে।’ (মুসনাদে আহমদ: ৮/৪৮১)

পক্ষান্তরে যারা স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা করল, এ ব্যবসাই হবে তার ইবাদত। তার উপার্জনে বরকত দেবেন মহান আল্লাহ তাআলা। দেবেন অপ্রত্যাশিত রিজিক। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘খাঁটি ব্যবসায়ী রিজিকপ্রাপ্ত হয় আর পণ্য মজুদদকারী অভিশপ্ত হয়।’ (ইবনে মাজাহ: ২/৭২৮)

হাশরের ময়দানেও পুরস্কৃত হবেন হালাল ব্যবসায়ীরা। তাকে প্রদান করা হবে নবীগণের সঙ্গী হওয়ার পরম সৌভাগ্য। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ীদের হাশরে নবীগণ, সিদ্দিকগণ ও শহীদগণের সঙ্গে হাশর হবে।’ (তিরমিজি: ৩/৫১৫)

৬. গুনাহ ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি: বেহুদা কথা/কাজ করার অভ্যাস থাকলে, যেমন অযথাই ফেসবুক চালানো, বান্ধবীদের সঙ্গে আড্ডা, হাসি, ঠাট্টা বা গীবত করা ইত্যাদি বাদ দিয়ে সময়কে আল্লাহর জিকির, কোরআন, হাদিস, ইসলামি সাহিত্য পড়ে কাটানোর অভ্যাস এখন থেকেই তৈরি করা জরুরি।

৭. জ্ঞানার্জনের প্রস্তুতি: নারী-পুরুষ প্রত্যেক মুসলমানের উপরই অন্তত দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান অর্জন ফরজ। সে হিসেবে রমজানের প্রয়োজনীয় মাসায়েল জেনে নেওয়া আবশ্যক। তাই রমজান শুরু হওয়ার আগেই এ বিষয়ে কিছু বই-পুস্তক কিনে নেওয়া যায়, যাতে পরিবারের অন্য সদস্যরাও পড়তে পারেন। এছাড়াও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুরা যেমন- সুরা মুলক, সুরা বাকারার শেষ ২ আয়াত, সুরা কাহাফ, এমনকি ৩০ পারা পুরোটা মুখস্থ করা এখন থেকে শুরু করে দেওয়া যায়।

৮. দান-সদকার প্রস্তুতি: আর্থিক ইবাদতের অপূর্ব সুযোগ রয়েছে রমজানে। এতে বিপুল সওয়াবের ঘোষণা আছে। তাই আত্মীয়-স্বজনের কাছে ইফতারসহ নিত্যপণ্য কিনে পাঠানোর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘কেউ কোনো রোজাদারকে ইফতার করালে সে উক্ত রোজাদারের সমান সওয়াব পাবে। তবে এতে সে রোজাদারের সওয়াব একটুও কমবে না।’ (তিরমিজি: ৩/১৭১)

তাই প্রতিটি মুসলমানের উচিত রমজানকেন্দ্রিক আর্থিক একটা পরিকল্পনা করা। কিছু টাকা জমিয়ে তা দিয়ে অভাবী প্রতিবেশী কিংবা আত্মীয়-স্বজনের ঘরে যেন কিছু ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী পাঠানো যায়। যাদের ওপর জাকাত ফরজ, তাদের আগে থেকেই রমজানকেন্দ্রিক জাকাতের পরিকল্পনা করে নেওয়া উচিত। মা-বোনেরা বা অল্প আয়ের মানুষেরাও নানা উপায়ে দান-সদকা করতে পারেন। যেমন একটি মাটির ব্যাংক বা হাতে তৈরি বক্স গিফট করে, সেখানে টাকা জমিয়ে রমজানে দান করা যায়। আর রমজানে ওমরার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। যারা ওমরা করবেন তারা যথাযথ প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন। মহানবী (স.) বলেছেন, ‘রমজান মাসে একটি ওমরা আদায় করা একটি ফরজ হজ আদায় করার সমান।’ (বুখারি: ৩/২২২)

৯. মুসাফিরের প্রস্তুতি: সফর দ্রুত শেষ করা এবং সফর করার থাকলে যথাসম্ভব সেরে নেওয়া উচিত। এতে রমজানে ইবাদতে বিঘ্নতা থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

১০. নফল নামাজ ও রোজার অনুশীলন: ফরজ নামাজের পাশাপাশি দিন-রাতের বিশেষ সময়গুলোতে নফল নামাজ আদায় করা। নফল নামাজের অভ্যাস গঠনে লম্বা কেরাত এবং লম্বা সেজদার অভ্যাস করা। এছাড়াও প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার এবং আইয়ামে বিজ তথা আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজাসহ অন্যান্য দিন রোজা রেখে রমজানের রোজা রাখার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। তবে, যদি কেউ দুর্বল হওয়ার এবং এতে রমজানে রোজা রাখা কষ্টকর হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে শাবান মাসে রোজা না রাখাই ভালো। সেক্ষেত্রে গত বছরের ভাংতি রোজাগুলোই শুধু রাখুন।

১১. শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি: রমজানে যাদের পরীক্ষা থাকবে অথবা যারা নানা ব্যস্ততার কারণে কোরআন খতম দিতে পারেন না, তারা এখন থেকেই কোরআন খতম শুরু করে দিন এবং প্রতিদিন পড়ুন। রমজানে পড়তে না পারলে এখন কী লাভ-এমনটি ভাবা যাবে না। মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তাআলা সবার মনের খবর জানেন।

১২. কোরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়াত ও অধ্যয়ন: সহিহ-শুদ্ধভাবে কোরআন শেখা এবং মর্মার্থ বুঝে তা অধ্যয়ন রমজান আসার আগেই শুরু করে দিন।

১৩. ইতেকাফের প্রস্তুতি: ইতেকাফের যথাযথ হক আদায়ে পারিবারিক সব প্রস্তুতি রমজানের আগেই সম্পন্ন করে রাখুন। একইসঙ্গে ইতেকাফ বিষয়ক মাসআলা-মাসায়েল জেনে রাখুন।

১৪. শারীরিক প্রস্তুতি: পর্যাপ্ত ইবাদতের জন্য সুস্থ থাকাটা জরুরি। তাই কারো যদি এমন কোনো রোগ থাকে, যা দ্রুত নিরাময়যোগ্য, তারা এখনই চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। এতে রমজানে ইবাদত বন্দেগী সুন্দরভাবে করা যাবে।

১৫. আত্মসমালোচনা: রমজানের প্রস্তুতির জন্য আত্মসমালেচনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের খারাপ অভ্যাসগুলো একটি করে ডায়েরিতে লিখে ফেলা দরকার। যাতে রমজানে এক এক করে সেগুলো বর্জন করা যায়।

এভাবে চিন্তা করুন যে, এটিই আপনার জীবনের শেষ রমজান। জান্নাতলাভের সর্বশেষ সুযোগ। তাই কোনোভাবেই এর একটি সেকেন্ডও নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উপরোল্লিখিত প্রস্তুতিগুলো সম্পন্ন করে রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাত লাভের তাওফিক দান করুন।




ব্যর্থ মানুষের এই ৫ অভ্যাস আপনার নেই তো?




সকালে ঘুম ভাঙতে সহজ কিছু কৌশল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  রাতে যখনই ঘুমাতে যান না কেন, সকালে ঘুম ভেঙে আর উঠতেই মন চায় না এমন অনেকে আছেন। মনে হয়, আরেকটু ঘুমিয়ে থাকি! কিন্তু আমাদের মনের চাওয়া অনুসারে তো সবকিছু ঘটে না। যাপিত জীবনের নানা ব্যস্ততা আমাদের ঘিরে থাকে। তাই না চাইলেও উঠতেই হয়। আর এই ঘুম ভেঙে ওঠাটাই যেন হয়ে ওঠে যুদ্ধজয়ের সমান। কারণ তখন নানাভাবে চেষ্টার পরও অনেক কষ্ট করে উঠতে হয়। আপনিও যদি এমন সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে এখনই সতর্ক হতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, কী করবেন-