পটুয়াখালীর বাউফলের চরাঞ্চলে আবাদ হচ্ছে শসা

বরিশাল অফিস:: পটুয়াখালীর বাউফলের চরাঞ্চলে প্রায় ৩২ হেক্টর জমিতে শসা আবাদ হয়েছে। এ বছর উৎপাদনও ভালো হয়েছে। এসব শসা পাইকারদের হাত ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। ক্ষেতে প্রতি কেজি শসা পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা দরে। আর উপজেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে শসা ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বেড়েছে অন্যান্য শাকসবজির দামও। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের চর কালাইয়া, শৌলার চর, চর ফেডারেশন, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের রায়সাহেব, চর মিয়াজান, চর ব্যারেট, ধানদীর চর ও ধুলিয়া ইউনিয়নের চর বাসুদেব পাশাসহ উপজলোর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩২ হেক্টর জমিতে এ বছর শসার আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া শসা চাষের অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে।

সরেজমিনে চর শৌলা এলাকায় দেখা যায়, পাইকারি বিক্রির জন্য ক্ষেত থেকে শসা তুলে বস্তায় ভরা হচ্ছে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা এসব শসা কিনে নিয়ে যাবেন। ট্রাকে করে এসব শসা দেশের বিভিন্ন মোকামে চলে যাবে বলে জানান কৃষকরা।

মো. জাহাঙ্গীর মাঝি নামে এক কৃষক জানান, প্রায় দুই একর জমিতে শসা আবাদ করেছেন। এ বছর ফলনও ভালো হয়েছে। শসা আবাদে তার খরচ হয়েছে প্রায় চার লাখ টাকা। রমজানের আগে তিনি প্রায় ৪০০ মণ শসা বিক্রি করেছেন। তখন ১৫-২০ টাকা দরে শসা বিক্রি করলেও রমজানের শুরুতে প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা দরে। কয়েক দিনে প্রায় ১২০ মণ শসা বিক্রি করেছেন। ঢাকা বরিশাল থেকে বিভিন্ন পাইকার এসে শসা নিয়ে যান।

হাসেম মিয়া নামে আরেকজন জানান, রমজানের আগে দাম কম থাকলেও শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চাহিদা বেড়েছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা ক্ষেত থেকে শসা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। শসা বিক্রিতে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না।

সম্প্রতি উপজেলার বড় কাঁচাবাজার কালাইয়া বন্দর ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শসা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা দরে। যা রমজান শুরুর আগে ছিল ২৫-৩০ টাকা। দুই দিনের ব্যবধানে শসার দাম দুই-তিনগুণ বেড়ে গেছে। আর দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তাদের পাইকারি কেনা বেশি, তাই খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে।

মো. শুভ নামে এক বিক্রেতা জানান, রোজার আগে শসার পাইকারি দাম ছিল ১৫-২০ টাকা। রোজা শুরুর পর থেকে ৫০-৫৫ টাকা হয়ে গেছে। যার কারণে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।

বাজার ঘুরে আরও দেখা যায়, কেজিপ্রতি বিভিন্ন সবজি ও তরকারির দামও বেড়েছে। ৩০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, ৪০ টাকার করলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা, ৩০ টাকার গাজর বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। তবে টমেটো ও মিষ্টি কুমড়ার দাম কিছুটা সহনীয় রয়েছে। ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে টমেটো ও মিষ্টি কুমড়া। রাতারাতি সবজি ও তরকারির দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। এর জন্য প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে দায়ী করছেন তারা।

আনোয়ার হাওলাদার নামে এক ক্রেতা বলেন, রোজার আগে শসার কেজি ছিল ২৫ টাকা। সেই শসা এখন ৮০ টাকা। শসা তো আমাদের দেশে উৎপাদন হয়। এমনকি বাউফলেই প্রচুর শসা উৎপাদন হয়। তাহলে রাতারাতি দাম কীভাবে বাড়ল, কারা বাড়াল? প্রশাসনের বাজার মনিটরিং না থাকায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়েছে। প্রশাসনের উচিত নিয়মিত বাজার মনিটারিং করা।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বশির গাজী বলেন, ‘অতিরিক্ত দামে সবজি বিক্রি করা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।




ভোলার গ্রামীণ জনপদে নীরবে সৌন্দর্য বিলাচ্ছে ‘ভাঁটফুল’

বরিশাল অফিস::  ভোলার লালমোহন উপজেলার গ্রামীণ জনপদের মেঠোপথের দুই পাশে থোকায় থোকায় ফুটে রয়েছে ভাঁটফুল। অনেকটা নীরবেই নিজের সৌন্দর্য বিলিয়ে যাচ্ছে ফুলটি। স্নিগ্ধ শোভায় সুরভিত ভাঁটফুলের রূপে আকৃষ্ট হয়ে আসছে অনেক পাখি-পতঙ্গ। গ্রামীণ জনপদের মেঠোপথের দুই ধারে ফুটে থাকা নয়নাভিরাম ভাঁটফুলের শুভ্রতায় পুলকিত হয়ে উঠছে প্রকৃতিপ্রেমীদের মন।

অযত্নে নিজ থেকেই সৃষ্টি হয়ে লালমোহন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঁটফুলের সুবাস ও সৌন্দর্য মাতিয়ে রাখে প্রকৃতি। এই ফুল গ্রামবাংলার অতিপরিচিত একটি বুনো ফুল। এই বুনো ফুলটি এখন ভোলার লালমোহন উপজেলার গ্রামগঞ্জের গ্রামীণ জনপদের পথের দুই পাশে, ঝোপঝাড়ে ও পতিত জমিতে দৃষ্টি কাড়া রূপে খুবই অপরূপভাবে ফুটে আছে। রাতের আঁধারেও ভাঁটফুলের মধুগন্ধ ভেসে বেড়ায় চারিদিকে।

লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সাবিকুন নাহার ফারিহা ও বুশরা আকতার বলেন, ফুলগুলো দেখতে খুবই সুন্দর। কারও যত্ন ছাড়াই মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে এ ফুল। এ ফুল দেখলে মনে হয় কেউ যেন তোড়ায় তোড়ায় ফুলগুলোকে সাজিয়ে রেখেছে। সবচেয়ে বিষ্ময়কর বিষয় হচ্ছে- এই ফুল চাষ না করেই আমরা এর নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করছি।

 

জানা যায়, ভাঁটফুল (Clerondendron viscosum) ছোট আকৃতির নরম শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট ঝোপজাতীয় গুল্মশ্রেণির বহুবর্ষজীবী সপুষ্পক উদ্ভিদ। বসন্তের সময়েই এই ফুলটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ফুলটি জন্মগতভাবেই নানা কারুকাজে পরিপূর্ণ। ভাঁটফুলের পুংকেশর, পাপড়ি, পাতা ও কাণ্ড যেন নিখুঁতভাবে সাজানো। ফুলের পুংকেশরই ফুলটির প্রধান সৌন্দর্য। সাদা রঙের এ ফুলে আছে পাঁচটি পাপড়ি। প্রতিটি ফুলের অভ্যন্তরে বেগুনি রঙের ঢেউ ফুলটিকে করে তুলেছে ভীষণ আকর্ষণীয়।

লালমোহন করিমুন্নেসা-হাফিজ মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান লিপু বলেন, ছোটবেলা থেকেই আমরা রাস্তার ধারে এই ফুল ফুটে থাকতে দেখে আসছি। যা সত্যিই অপরূপ সুন্দর। কোনো রকমের পরিচর্যা ছাড়াই এই ফুল তার সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করছে মানুষজনকে। এই ভাঁটফুল গ্রামগঞ্জের মানুষের কাছে অতিপরিচিত। এই ফুলকে দেখলেই বোঝা যায়, কোনো রকমের যত্ন ছাড়াও নিজের মতো করে নিজেকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করা যায়।

লালমোহন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ দুলাল জানান, ভাঁটফুল অযত্নে বেড়ে উঠে। তবে এর রূপ নয়নাভিরাম। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অহরহ এই ফুলের দেখা মিলছে। ভাঁটফুলের সৌন্দর্যে মুহূর্তেই মন জুড়িয়ে যায়। তবে যারা ফুল ও উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করেন, গ্রামীণ এ ফুলের সৌন্দর্য ও উপকারিতা সম্পর্কে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ জন্য তারা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশা করছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভাঁটফুল একটি গুল্ম জাতীয় শোভা বর্ধণকারী ঔষধি উদ্ভিদ। এ ভাঁটফুল গ্রামগঞ্জের শোভা বর্ধণ করে। এছাড়া মৌমাছিরা এই ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে। নিজ থেকে জন্ম হলেও এই ভাঁটফুল গাছে কৃমিনাশক, ডায়রিয়া ও চর্ম রোগের ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। তাই সবার প্রতি আহ্বান থাকবে; অবহেলা না করে এই গাছের প্রতি যত্ন নেয়া ও সংরক্ষণ করা দরকার। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এর উপকারিতা সর্ম্পকে মানুষজনকে বিস্তারিত জানানো হবে।




পটুয়াখালীতে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপন উপলক্ষে পটুয়াখালীতে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৬ মার্চ) বেলা ১১ টায় জেলা প্রশাসন ও শিশু একাডেমীর আয়োজনে শিশু একাডেমী মিলনায়তনে চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও বঙ্গবন্ধু বিষয়ক সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

ক খ গ তিনটি বিভাগে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

রোববার বেলা সাড়ে ১১ টায় ডিসি স্কয়ারে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হবে।




সেহরির জন্য যেসব খাবার ক্ষতিকর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সেহরির জন্য কোন খাবারগুলো ক্ষতিকর তা জানা জরুরি। কারণ সঠিক খাদ্য নির্বাচন করতে না পারলে তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। রোজায় সুস্থতা ধরে রাখা জরুরি। যে কারণে সাহরির খাবারের প্রতি খেয়াল রাখা গুরুত্বপূর্ণ। ইফতার ও সেহরিতে কী খাচ্ছেন অথবা খাচ্ছেন না তার ওপর অনেকটাই নির্ভর করে পুরো রমজানজুড়ে আপনি কেমন থাকবেন। কিছু খাবার আছে যেগুলো সেহরির জন্য ক্ষতিকর। চলুন জেনে নেওয়া যাক-



সড়কের পাশে ‘ইফতার খানা’ প্রতিদিন বাড়ছে রোজাদারদের উপস্থিতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালী শহরের প্রানকেন্দ্র ঝাউতলায় প্রতিদিন আসরের নামাজের পর পরই একদল সেচ্ছাসেবকরা জড়ো হচ্ছেন।

ফোর লেনের প্রশস্ত ওয়াকওয়েতে পলিথিন সিটি(ট্রিপল) বিছিয়ে একে সেখানে দুই সারি করে রাখা হচ্ছে প্লেট, গ্নাস এবং পানির বোতল। একে একে ইফতারীর জন্য সেই প্লেটেরেইরই রাখা হয় ১০ পদের খাবার ঠিক যেন কোন বাড়িতে দাওয়াত করা মেহমা দের জন্য খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। কিন্তু না এগুলো প্রস্তুত হচ্ছে পথচারী ও অসহায় মানুষের ইফতারের জন্য। প্রতিদিন এভাবে কয়েকশ মানুষকে বিনা মূল্য ইফতারের আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রথম রমজান থেকেই শুরু হওয়া এই ইফতার কার্যক্রমের নাম দেয়া হয়েছে ইফতার খানা। পটুয়াখালী জেলার সেচ্ছাসেবী সংগঠন পটুয়াখালী বাসী এই এফতারের আয়োজন করছে। জেলার বিত্তবানদের সহযোগীতায় চলছে এই কার্যক্রম, যা চলছে শেষ রমজান পর্যন্ত। ইফতার করার পাশাপাশি এখানেই ওজু এবং জামাতে নামাজ পরারও ব্যবস্থা করেছে সেচ্ছাসেবী সংগঠনটি। জামাতে নামাজ আদায় করার জন্য রয়েছেন একজন ইমাম।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘পটুয়াখালী বাসী’র সভাপতি মাহমুদ হাসান রায়হান বলেন, গত বছরেও আমরা এই ইফতার কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। গত বছর আমাদের কিছু টাকা বেচে গিয়েছিল সেই টাকা দিয়ে এ বছর প্রথম রোজায় ইফকতার কার্যক্রম শুরু করি। আমাদের এখানে মোট ১০ আইটেম এর খাবার দিয়ে থাকি এর মদ্যে আছে বুট, মুড়ি, পিয়াজু, জিলাপি, আলুর চপ, পেয়ারা, খেজুর, কলা, সরবত এবং মিনারেল ওয়াটার এর পানি।

এক জন মানুষকে ইফতার করাতে ৯০ টাকা করে খরচ হচ্ছে। প্রথম দিনে ৫০ জন দিয়ে ইফতার খানা শুরু করলেও বর্তমানে ১০০ জনকে ইফতার করানো হচ্ছে। সহযোগীতা এবং চাহিদা বৃদ্ধি পেলে সংখ্যা বড়ানো হবে। এছাড়া আগামী ৬ রমজান পর্যন্ত আমাদের অর্থের সংস্থান হয়েছে। বিত্তবানরা সহযোগীতার আশ্বাস দিয়েছেন, আশা করছি শেষ রমজান পর্যন্ত আমাদের এই নইফতার খানার কার্যক্রম চালাতে পারবো। ইতিমধ্যে আগামী ৬ রোজা পর্যন্ত ইফতারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হয়েছে,পাশপাশি অনেকেই প্রতিশ্রæতি দিয়েছে সহযোগীতা করার।’

শুক্রবার বিকিলে ঝাউতলা এলাকায় গিয়ে দেখা যায় সড়কের পাশে সারি সাড়ি অটোরিকশা,ভ্যান সহ সাইকেল স্টান্ড করে রাখা হয়েছে। সকলেই ইফতার খানার মেহমান হয়ে ইফতার করছেন। সেখানেই কথা হয় অটোরিকশা চালক আলম গাজীর সাথে। তিনি বলেন, ‘কোন হোটেলে ইফতার করতে গেলে কমপক্ষে ১শ টাকা খরচ হয়। সারা দিন যা আয় করি তাতে ঠিক মতো সংশারের খরচই চালাইতে পারি না। হের পর যদি একলা মানুষ ইফতার করতে ১শ টাহা খরচ করি তয় পোলা পানেরে খাওয়ামু কি? পহেলা রমজান হইতে এই হানে ইফতার করি। রাস্তার পাশেই অটো রাখতে পারি, চোহের সামনে থাহে, চুরি হওয়ার ভয় নাই। হেরপর নামাজটাও এহানে পরতে পারি। আর যে ভাইরা ইফতার আয়োজন করে হেগো ব্যবহার ও অনেক ভালো। মানষেরে (মানুষ) বোলাইয়া বোলাইয় (ডেকে ডেকে) ইফতার করায়।

এদিকে বিগত বছরগুলোর মত এ বছর ও পটুয়াখালী পৌরসভার পক্ষ থেকে এই ইফতার কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করছে পটুয়াখালী পৌরসভা। পৌরসভার পক্ষ থেকে মুসুল্লিদের ওজু করার জন্য বেশ কিছু পানির ট্যাপ স্থাপন করে দেয়া হয়েছে। পাশপাশি বসানো হয়েছে অস্থায়ি ডাস্টবিন।

পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আমি সহ আমার যত শুভাকাঙ্খি আছে সকলকেই বলেছি এখানে নিয়মিত ইফতার কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগীতা প্রদানের জন্য। গত বছরও আমি বেশ কয়েকদিন ইফতারের ব্যবস্থা করেছি, এ বছরও সার্বিক সহযোগীতা করবো। যেদিন কোন ডোনার থাকবে না সেদিন আমার পক্ষ থেকে ইফতারের অয়োজন করা হবে। আমার বন্ধু জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, তিনিও এই কার্যক্রমে সহযোগীতা করছেন। পাশপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেহেতু ইফতার পার্টি আয়োজন না করার বিষয়ে অনুৎসাহিত করেছেন সে কারনে অসহায় মানুষদের নিয়েই এবার ইফতার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

 




শিশু আবদুল্লাহকে বাঁচাতে সাহায্য প্রয়োজন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর বাউফলে শিশু আবদুল্লাহ (৭) জন্ম থেকেই হৃদরোগসহ নানা রোগে আক্রান্ত। তার হৃৎপিণ্ডে ছিদ্রসহ ব্লাড সার্কুলেশনের ডান পাশের শিরা বা পাশের শিরার সঙ্গে যুক্ত। এরই মধ্যে তার হাত-পায়ের নখ নীল রং ধারণ করেছে। ওজন মাত্র ১১ কেজি। সামান্য হাঁটা চলা বা খেলাধুলা করলেই হাঁপিয়ে ওঠে, শ্বাসকষ্ট হয়।

 

ভারতের প্রখ্যাত চিকিৎসক দেবী শেঠিসহ তার চিকিৎসা করেছেন।

আবদুল্লাহর বাবা আলী আক্কাস পটুয়াখালী শহরের আলাউদ্দিন শিশু পার্ক এলাকায় ছোট খেলনার দোকান দিয়ে সংসার চালান। মা মুসলিমা বেগম গৃহিণী। তাদের বাড়ি উপজেলার নওমালা গ্রামে। দুই সন্তানের মধ্যে আবদুল্লাহ বড়।

দরিদ্র পরিবারটি সম্বল হারিয়ে কয়েক লাখ টাকা দিয়ে এ পর্যন্ত আবদুল্লাহর চিকিৎসা করালেও এখন আর করাতে পারছে না।

চিকিৎসকরা বলেছেন, তার চিকিৎসায় আরও ৬ লাখ টাকা দরকার। কিন্তু এত টাকার জোগাড় না থাকায় মৃত্যুর দিকে এগোচ্ছে শিশুটি।

আবদুল্লাহকে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন বাউফল ইউএনও বশির গাজী ও পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল।

সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা—মো. আলী আক্কাস, ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, পটুয়াখালী শাখা, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর: ০১৪৪১২২০০০২১৭০৯
(বিকাশ ও নগদ) ০১৮৪২৭৯৯৯৭৯




বিশ্বের সবচেয়ে ছোট মসজিদ বরিশালের চরমোনাই

বরিশাল অফিস :: পর্তুগীজ আমলের রহস্যে ঘেরা এই ছোট্ট মসজিদটি দেখে বিস্মিত হন অনেকেই। গা ছমছম করে প্রথম দেখায়। বরিশালের চরমোনাইয়ের হোগলারচর গ্রামের স্থানীয়দের দাবি, কম হলেও ৪ থেকে পাঁচশ বছরের পুরানো মসজিদ এটি। আয়তনে দেশের তো বটেই, পৃথিবীর অন্য কোথাও এতো ছোট মসজিদ নেই বলে দাবি এলাকাবাসীর। মসজিদটি দেখতে প্রায় প্রতিদিন ভিড় করেন দর্শনার্থী।

মুসুল্লীরা জানান, এটি একটি গায়েবী মসজিদ। কেউ কেউ এটিকে আবার একটি কানা মসজিদ বলেও আখ্যায়িত করেন। একত্রে তিন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচজন ব্যক্তি নামাজ আদায় করতে পারেন এই পাঞ্জেগানা মসজিদটিতে। এর প্রবেশের দরজার উচ্চতা মাত্র সাড়ে তিন ফুট। দু’পাশে রয়েছো ছোট দুটি জানালা। এই মসজিদটিতে একটি গম্বুজ রয়েছে। ইতিহাস সম্পর্কে কারোরি কোন সঠিক ধারনা নেই। সকলেই মুখ কথায় শুনেছেন গায়েবী ভাবেই এই মসজিদটি স্থাপিত হয়েছে। বটগাছ সাদৃশ একটি গাছ দিয়ে আবৃত রয়েছে পুরো মসজিদটি। লতায় প্যাচানো গাছটির নাম দেওয়া হয়ছে লাহর গাছ। যার পাতার মধ্যেও রয়েছে ভিন্নতা। অদ্ভুত এই গাছের পাতাও বিরল প্রজাতির। গাছটি এমন ভাবে মসজিদটিকে ঘিরে রেখেছে। যাতে বাহির থেকে মসজিদটির কোন অংশই বুঝার উপায় নেই।

মসজিদ, গাছ, এবং এখানকার পুকুর নিয়ে স্থানীয়দের আছে নানা বিশ্বাস, মতবাদ। কেউই এই মসজিদের উপরে গাছের ডালা ভাঙা তো দূরে থাক, একটি পাতাও ভুলক্রমে ছেড়েন না। গাছ থেকে যে পাতা ঝড়ে পরে তা পরেই থাকে। জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারও করেনা কেউ। তাদের বিশ্বাস, কেউ যদি এই গাছের ডাল ভাঙে, কিংবা পাতা ছিঁড়েন তবে তার বিপদ হবেই হবে। মাত্র বছর পাঁচেক আগেও এই গাছের ডাল কাটায় স্থানীয় আরেক মসজিদের ইমাম পঙ্গু হয়েছেন অলৌকিক ভাবে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের।

স্থানীয়রা কেউ কেউ বলছেন, এই মসজিদটির দেখভাল করছেন জ্বীন-পরীরা!! অনেকেই আবার গভীর রাতে সাদা পোষাকে এই মসজীদে নামাজ আদায় করতেও দেখেছেন বলেও দাবি তাদের।

মসজিদের সামনে একটি দানবাক্স রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তরা এই দানবাক্সে দান করে থাকেন।

কেবল মুসলিমরাই নন, বিশ্বাস করে আসেন অন্য ধর্মালম্বীরাও। প্রতি তিন মাস অন্তর খোলা হয় মসজিদের দানবাক্স!! প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণ ও খিচুড়ি খাওয়ানো হয় গরীবদের। মসজিদটি ইতিহাস সংরক্ষণের পাশাপাশি এর অবয়ব ঠিক রেখে উন্নয়নের দাবি এলাকাবাসীর।

মসজিদটি বরিশাল শহর থেকে সড়ক পথে বেলতলা খেয়াঘাট হয়ে চরমোনাইয়ে চরহোগলা গ্রামে যাবার পথ ৮ কিলোমাটার। এছাড়াও শহরের রুপাতলী হয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছুয়ে ভোলা সড়ক ঘুরে চরমোনায়ের এই গ্রামে সরাসরি যাতায়াত করা যায়।




ঝালকাঠির হাতে ভাজা মুড়ির চাহিদা দেশ-বিদেশে

বরিশাল অফিস :: রমজানকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মুড়ি ব্যবসায়ীরা। উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের তিমিরকাঠি গ্রাম বিখ্যাত মুড়ির গ্রাম নামে পরিচিত। ইতোমধ্যে বেড়েছে মুড়ি তৈরির ব্যস্ততা।

এ গ্রামের মুড়ির কদর রয়েছে সারাদেশেই। রমজানের আগেই মুড়ি ভেজে পাইকারদের হাতে তুলে দিচ্ছেন এখানকার মুড়ি কারিগররা।

নলছিটির মুড়ি পল্লী তিমিরকাঠি গ্রামে প্রায় শতভাগ পরিবারই মুড়ি ভাজা ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। মুড়ি ভাজাকে আদি পেশা হিসেবে ধরে রেখেছেন এ গ্রামের বসিন্দরা। সারাবছর এ কাজ করেই তাদের সংসার চলে। বিশেষ করে রমজান মাস এলেই তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। রমজানের আগেভাগেই মুড়ি ভেজে মজুত রেখে বাড়তি আয় করেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি পরিবারই মুড়ি ভাজায় ব্যস্ত। হাতে ভাজা এ মুড়ি দক্ষিণাঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে সারাদেশে চলে যায়।

মুড়ি ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন মণকে মণ মুড়ি এ গ্রাম থেকে পাইকার ও আড়তদাররা নিয়ে যান। ইউরিয়া সারের ব্যবহারবিহীন হাতেভাজা এ মুড়ি স্বাদে অতুলনীয়। তাই প্রতিদিন মানুষের কাছে এ মুড়ি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাজারে অনেক সাদা ও প্যাকেটজাত মুড়ি থাকলেও তিমিরকাঠি গ্রামের হাতেভাজা মুড়ির কদর বেশি।

স্থানীয় পাইকাররা জানান, যেসব মুড়ি দেখতে ধবধবে সাদা তা মেশিনে রাসায়নিক কেমিক্যাল ব্যবহার ও ইউরিয়া সার দিয়ে তৈরি করা হয়। এসব মুড়ি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হওয়ায় সর্বস্তরের মানুষের কাছে হাতেভাজা মুড়ির চাহিদা রয়েছে।

 

মেসার্স মা এন্টারপ্রাইজ নামে মুড়ির আড়তের মালিক মো. গিয়াস উদ্দিন খাঁন জানান, এক সময় দেশের অন্য দশটা গ্রামের মতোই এ গ্রামের লোকেরা নিজেদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় মুড়ি ভাজতেন। ১৯৮৫ সালে পার্শ্ববর্তী গ্রাম জুরকাঠির বাসিন্দা আমজেদ নামের এক ব্যক্তি মুড়ি ভেজে তা বাজারে বিক্রি করতে শুরু করেন। তার দেখাদেখি তিমিরকাঠীর কয়েকটি পরিবার তাদের সংসারের আয় বাড়াতে মুড়ি ভেজে বিক্রি করতে শুরু করেন। এভাবে শুরু হয় মুড়ি ব্যবসায় প্রতিযোগিতা। এক পর্যায় গ্রামের পরিবারগুলো মুড়ি ভেঙেই তাদের সংসার চালাতে শুরু করে।

স্থানীয় মুড়ির কারিগর দেলোয়ার হোসেন ও মোসা. খাদিজা বেগম জানান, মুড়ির জন্য উপযোগী বিশেষ তিনটি প্রজাতির ধান থেকে মুড়ি উৎপাদন ভালো হয়। দপদপিয়া ইউনিয়নে মোটা নাখুচী ও সাদা মোটা নামের তিন প্রজাতির ধানের ব্যাপক চাষাবাদ ও ফলন হয়। পূর্বে একমাত্র বউড়ি ধানের মুড়ির প্রচলন থাকলেও এখন তার চেয়ে সরস ধান হিসেবে নাখুচী ধানের মুড়ির কদর বেড়েছে।

এছাড়াও দিনাজপুর থেকে ভারতের নলটি চাল ক্রয় করে তিমিরকাঠীর মানুষ মুড়ি তৈরি করেন। বাণিজ্যিকভাবে মুড়ি ভাজার সাথে তিন যুগ ধরে এ গ্রামের পরিবারগুলো জড়িত।

জানা গেছে, দৈনিক গড়ে ১০০ কেজি মুড়ি ভাজতে পারলে খরচ বাদ দিয়ে ৭ শত থেকে ৮ শত টাকা লাভ হয়। তবে নিজেরা ধান কিনে সিদ্ধ করে শুকিয়ে মুড়ি ভেজে শহরে নিয়ে বিক্রি করলে দ্বিগুণ লাভ হয়। তাই স্বল্প পুঁজির মানুষ রমজান মাসে কমপক্ষে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।

স্থানীয় আড়তদাররা এ গ্রাম থেকে মুড়ি সংগ্রহ করে দক্ষিণাঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, কাউখালী, পটুয়াখালী, মির্জাগঞ্জ, মহিপুর, কুয়াকাটা, গোপালগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠান।

ঝালকাঠি বিসিকের ভারপ্রাপ্ত উপব্যবস্থাপক এইচ এম ফাইজুর রহমান বলেন, মুড়ি কারিগররা বিসিক থেকে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারবে। তারা আমাদের কাছে আসলেই হয়।




পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১ টাকায় ৭ পদের ইফতারি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১ টাকায় ৭ পদের ইফতারি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য মাত্র এক টাকায় সাত পদের ইফতারি দিচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’।

সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ইফতারি দিচ্ছেন।

মঙ্গলবার প্রথম রমজান থেকে শুরু হওয়া এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি চলবে পুরো রমজানজুড়ে। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জন রোজাদারের মধ্যে এ ইফতারি বিতরণ করা হচ্ছে।

কলাপাড়া শহরের দিন মজুর আবুল হোসেন জানান, মাত্র এক টাকায় ইফতার পেয়ে আমরা ভীষণ খুশি। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে চাল-ডাল কেনাই দুরূহ। সেখানে ইফতারি কিনে খাওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়। এ সংগঠনের লোকজন নামমাত্র মূল্যে খাবার দেওয়ায় আমরা কিছুটা হলেও তৃপ্তিসহ ইফতার করতে পারছি।

শহরের অটো রিকশা চালক বাবুল মিয়া বলেন, রমজান মাসের শুরু থেকে সব কিছুর দাম আরও বেড়েছে। দোকান থেকে ইফতারি কিনে খেতে একজনের কমপক্ষে ৫০-৬০ টাকা লাগে। এক টাকায় সাত পদের ইফতারি পেয়ে আনন্দ লাগছে।

সংগঠনের সদস্যরা জানান, সংগঠনের সদস্যরা নিজেরা চাঁদা তুলে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রথম রমজান থেকে ইফতারি বিতরণ করছি। তারা একেক দিন একেক মহল্লায় ঘুরে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন। এক টাকার প্যাকেজে রয়েছে ছোলা, মুড়ি, খেজুর, পিয়াজু, চপ, বেগুনি ও আপেল।

‘আমরা কলাপাড়াবাসী’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব জানান, এক টাকা আসলে মূল বিষয় না। মানুষ যাতে এটাকে ত্রাণ বা দান মনে না করে সেজন্য আমরা এক টাকা নিচ্ছি। করোনা কালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ২০২০ সালের রমজান মাসে এটি শুরু করেছিলাম। সেই থেকে এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এর মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আমাদের এ উদ্যোগে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসতে পারেন।




রোজা কি মস্তিষ্ক ও মানসিক রোগের উপশম করে?

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : পবিত্র রোজার মাসে ব্রেইন তথা মানসিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের অভিভাবকরা রোজা নিয়ে প্রায়ই কিছু প্রশ্ন করেন যেমন- রোজা কি মানসিক রোগীর উপসর্গকে বাড়িয়ে দিবে? বা রোজায় মানসিক রোগীরা তাদের ওষুধ বা ইনজেকশন কিভাবে নেবেন?

প্রকৃতপক্ষে রোজা বা Intermittent Fasting মানসিক রোগীদের জন্য উপকারী। রোজা মানসিক রোগীদের আবেগ (Emotion) নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে এবং মনোযোগ (Concentration) ও মেমোরি (Memory) সুগঠিত রাখে।

রোজার সময় দেহে যে কিটোন উৎপন্ন হয়- এর মধ্যে বিএইচবি (BHB- Beta hydroxybutyrate) বিষন্নতা রোগ প্রতিকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ব্রেইনের জটিল রোগ উপশমে রোজা

রোজার সময় দেহ বা ব্রেইন গ্লুকোজের পরিবর্তে শরীরের ক্ষতিকর চর্বিকে শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করে ফলে উৎপন্ন হয় কিটোন বডি। পজিট্রন ইমিশন টোমোগ্রাফিক (PET Scan) করে দেখা গেছে রোজা বা ফাস্টিংয়ে ব্রেইন সেল অন্যান্য সময়ের তুলনায় প্রায় ৭-৮ গুণ বেশি কিটোন বডি ব্যবহার করে থাকে।

রোজার ফলে উৎপন্ন কিটোন বটি অটিজম (Autism), এলজিমার্স  (Alzheimer’s), এডিএইচডি (ADHD), মৃগীরোগ (Epilepsy), পারকিনসন্স ডিজিজ (Perkinsons disease) এবং ডিমেনশিয়া (Dementia) রোগীদের জন্যে উপকারী। ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরির (TBI) পর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা রোজা ব্রেইন কোষের গঠনের জন্য উপকারী।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা রোজা মৃগি রোগের জন্য উপকারী। দুরারোধ্য মৃগি রোগে (Treatment Resistant Epilepsy) আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় ফাস্টিং একটি কার্যকরী পদ্ধতি হিসেবে কিছু কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে।

ব্রেইন স্ট্রোক এবং হৃদরোগে রোজা
চিকিৎসা গবেষণায় বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় কারন ব্রেইন স্ট্রোক (Ischemic stroke); কিন্তু রোজা  ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। স্থুলতা কমিয়ে রোজা ব্রেইন স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমিয়ে আনে।

রোজায় ব্রেইনের নিউরোপ্লাসটিসিতে প্রক্রিয়া  (Neroplasticity) অধিকতর সক্রিয় হয় এবং এর মাধ্যমে ব্রেইনের কোষগুলোর মধ্যে নতুন নতুন সংযোগ স্থাপন হয়, ব্রেইন কোষ নতুনভাবে বিন্যস্ত হয়।

গবেষণা মতে, হার্ট রেইট বা হৃদ স্পন্দন ও ব্লাড প্রেশার কমানোর মাধ্যমে রোজা হৃদরোগের জটিলতা অনেকাংশে কমিয়ে দেয়।

রোজায় (Intermitten Fasting) শরীরের অটোফ্যাগী (Autophagy) প্রক্রিয়া অধিকতর সচল হয় এবং এর মাধ্যমে শরীর থেকে পুরোনো, অকেজো কোষ দেহ থেকে বের হয়ে যায়। এ অটোফ্যাগী প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার জন্য সম্প্রতি একজন জাপানি বিজ্ঞানী নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন। রোজার মাধ্যমে শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর চর্বি কমে শরীরের স্থুলতা হ্রাস পায়। ক্লান্তি বোধ কমে আসে।

মানসিক রোগের ওষুধ এবং রোজা:

মানসিক রোগের ওষুধ একবেলা কিংবা দুইবেলা হওয়ার জন্য ওষুধ সেবনে রোজাদারদের জন্যে কোন সমস্যা হয় না। ওষুধ একবেলা হলে ইফতারের পর আর দুইবেলা হলে ইফতার এবং সাহরির সময়ে সেবন করা যায়।

ব্রেইন বা মানসিক রোগ সিজোফ্রেনিয়ার জন্য অনেক সময় সাইকিয়াট্রিস্টরা ব্রেইনের ইঞ্জেকশন নিতে পরামর্শ দেন কারণ এটি সহজলভ্য- সাধারণত প্রতি সপ্তাহে বা মাসে প্রতি একবার দিলেই হয়। এতে রোগীকে বা তাদের স্বজনকে আলাদা কোনো দুশ্চিন্তা পোহাতে হয় না।

ইসলাম ও রোজা

রোজা মুসলমানদের একটি ফরজ বিধান। আল্লাহতায়ালা সুরা বাকারায় ১৮৩ নাম্বার আয়াতে বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগারিতা (তাকওয়া) অর্জন করতে পার।’

আরেকটি আয়াতে বলেন, ‘কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে যেন এ মাসের রোজা রাখে’। (সূরা বাকারা: ১৮৫)।

রোজা ও প্রিয় নবী (সা.):

রাসূল সাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম সপ্তাহে দুই দিন সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করতেন।

আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার আল্লাহর কাছে বান্দার আমল পেশ করা হয়। আর আমি পছন্দ করি, আমার আমল এমন সময় পেশ করা হোক, যখন আমি রোজাদার’। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ৭৪৭)

আসুন সিয়াম পালনের মাধ্যমে দেহ ও মনে সুস্থতার পাশাপাশি আমরা আজীবন সব ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার আমল করি, মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি।

লেখক: ডা. সাঈদ এনাম, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।