চর বিজয়ে বনায়ন করছে বন বিভাগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

বঙ্গোপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা দ্বীপ ‘চর বিজয়’। চারদিকে অথই জলরাশি, আর শুধু ধু ধু বালু। সারা দিন চেনা-অচেনা পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে এ দ্বীপ। সৈকতে অগণিত লাল কাঁকড়া ঘুরে বেড়ায়। এই চরে এখনো কোনো জনবসতি গড়ে ওঠেনি। চরটিতে ঝাউ ও ম্যানগ্রোভ বনায়নের কাজ শুরু করেছে বন বিভাগ। পশুপাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলার জন্য পুরো চরটিতে বনায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বন বিভাগের।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, পটুয়াখালীর কুয়াকাটার বন বিভাগের জাতীয় উদ্যান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে ১৪ কিলোমিটার দূরে গভীর সাগরে জেগে ওঠা মনোমুগ্ধকর এক দ্বীপ চর ‘বিজয়’। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এই চরটির দেখা পাওয়ায় এই নামকরণ করা হয়। প্রায় ২ হাজার ৫৭৩ একর আয়তনের এই দ্বীপের আকৃতি কিছুটা ডিমের মতো। বর্ষার ছয় মাস পানিতে চর বিজয়ের অর্ধেক এলাকা ডুবে থাকে। আবার শীতের মৌসুমে ধু ধু বালুচর। জনবসতিহীন দ্বীপজুড়েই লাল কাঁকড়া ও নানা প্রজাতির পরিযায়ী পাখির অভয়াশ্রম।

কুয়াকাটায় বন বিভাগের তিন হাজার একরের জাতীয় উদ্যান ভাঙনের কবলে পড়লেও সাগর বুকে নতুন করে জেগে ওঠা চর বিজয় টিকে আছে। একে নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা নিতে শুরু করে বন বিভাগ। এরই মধ্যে তারা ঝাউ, কেওড়া ও চরের কর্দমাক্ত এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল সৃষ্টির লক্ষ্যে গাছের চারা রোপণ শুরু করেছে।

মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বন বিভাগ চর বিজয়ে ৮০ হেক্টর ঝাউবাগান ও ২০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান করেছে। পর্যায়ক্রমে চর বিজয় ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের আওতায় আনা হবে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট সংগঠন কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির বলেন, ‘প্রতিদিনই পর্যটকেরা ট্রলার-স্পিডবোটে চর বিজয় দেখতে যাচ্ছেন। তবে বনায়ন শুরু হয়েছে। বনের ছায়ায় অনেক সময় ধরে থাকতে পারবেন পর্যটকেরা। পর্যটকদেরও আগমন বাড়বে। আমরা মনে করি এই চরটি হবে দেশের “দ্বিতীয় সেন্ট মার্টিন”।’

উপকূলীয় বন বিভাগ পটুয়াখালীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, গাছপালা থাকলে চরটি থাকবে। পর্যটকেরাও পরিবেশ উপভোগ করতে পারবেন। পশুপাখির অভয়ারণ্য গড়ে উঠবে। বনায়নের মাধ্যমে চর বিজয়কে আরও আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলা হবে।

আরো পড়ুন : দুমকিতে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বিষ দিয়ে ‘কালোমাথা কাস্তেচরা’ মেরে ফেলার অভিযোগ




সুন্দরবনে গাছের প্রজাতি নির্ণয়ে জরিপ শুরু

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বিশ্ব ঐতিহ্য ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও সংখ্যা নির্ণয়ে শুরু হয়েছে জরিপ। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় এই গাছ জরিপের কাজ। এ কাজ আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করবে বন বিভাগ।

সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই ম্যানগ্রোভ বনের ৪ হাজার ১৪২ দশমিক ৬ বর্গকিলোমিটারের স্থলভাগে কত প্রজাতির ও কি পরিমাণ গাছপালা রয়েছে তা জানতে এই জরিপ চালানো হচ্ছে। বন বিভাগের তথ্যমতে ১৯০৩ সালের গবেষণায় সুন্দরবনে সুন্দরী, গেওয়া, গরান, পশুর, কাঁকড়া, কেওড়া, ধুন্দল, বাইন, খলসি, আমুর, সিংড়াসহ ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড ছিল। ১৯৮৫ সালের জরিপে সুন্দরবনে অরণ্য ও গুল্ম প্রজাতির সংখ্যা কমে তা দাঁড়ায় ৬৬ প্রজাতিতে। ১৯৯৭ সালের জরিপে সুন্দরবনে মাত্র ৪৮ প্রজাতির উদ্ভিদ ছিল। এরপর ২০১৪-১৫ সালের সর্বশেষ জরিপে সুন্দরবনে গাছের প্রজাতির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮৪টিতে। এর মধ্যে ৫৪ প্রজাতির গাছ, ২৮ প্রজাতির লতাপাতা, ১৩ প্রজাতির গাছড়া, ২২ প্রজাতির গুল্ম, ১৩ প্রজাতির ফার্ন, ১২ প্রজাতির অর্কিড, ৩ প্রজাতির পরজীবী উদ্ভিদ, ২ প্রজাতির পাম, ২৮ প্রজাতির ঘাস ও ৯ প্রজাতির ছত্রাক উদ্ভিদ রয়েছে সুন্দরবনে। বর্তমানে সুন্দরবনে এসব উদ্ভিদের মধ্যে ৭০ শতাংশই হচ্ছে সুন্দরী, গেওয়া ও গরান গাছ।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম বলেন, বাংলাদেশের সমগ্র সুন্দরবনের স্থলভাগে কত প্রজাতির ও কি পরিমাণ গাছপালা রয়েছে তা জানতে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে এই বনভূমির গাছ জরিপের কাজ। বন বিভাগের বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আগামী তিন মাসের মধ্যে এই জরিপ কাজ শেষ করবে।

 




১৭৫ ফুট দীর্ঘ কাঠের সেতু, দুইপারের দুর্ভোগ লাঘব

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : আমলাভাঙা খালের দুপাশে দুই গ্রাম। দক্ষিণপাশে দক্ষিণ কাজির হাওলা, আর উত্তরপাশে পশ্চিম নেতা গ্রাম। এই দুইপারের মানুষের যোগাযোগ মাধ্যম ছিল একটি বাঁশের সাঁকো। নড়বড়ে সেই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হতো। সাঁকো পার হতে গিয়ে স্কুলপড়ুয়া শিশু কিংবা বয়োবৃদ্ধদের খালে পড়ে যাওয়ার দুর্ঘটনাও ঘটত প্রায়ই।

অবশেষে সেই দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওই দুই গ্রামের মানুষের পারাপারের জন্য একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

বুধবার বিকালে নির্মিত সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় থেকেই সেতু দিয়ে লোকজন চলাচল শুরু হয়।

তাদের মধ্যে বই-খাতা নিয়ে সেতু পার হচ্ছিলেন পশ্চিম নেতা গ্রামের আব্দুল্লাহ। সে রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

আব্দুল্লাহ বলেন, সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে আমি একবার পা পিছলে খালে পড়ে গিয়েছিলাম। এরপর থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে কলেজে যেতাম। এখন এই সেতু হওয়ায় মাত্র ১৫ মিনিটে কলেজে যেতে পারব। আমাদের কষ্ট দূর হয়েছে। আশা করি- এখানে একটি পাকা সেতু হবে। তাহলে স্থায়ীভাবে আমাদের কষ্ট দূর হবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ১৭৫ ফুট দৈর্ঘ্য এবং সাড়ে ৪ ফুট প্রস্থের কাঠের এ সেতুটি আকর্ষণীয় করতে লাল-সাদা রঙে সাজানো হয়েছে। সেতুর মাঝপ্রান্তে একটি টং দোকান স্থাপন করা হয়েছে।

দৃষ্টিনন্দন এ সেতু দেখতে আসা দর্শনার্থী সাইদ বলেন, পথচারী কিংবা দর্শনার্থীরা এখানে চা-কফি, চিপস-চানাচুর ও বিস্কুট খেতে পারবেন। খালের মাঝখানের টং দোকানে বসে এক কাপ চা-কফি খাওয়া সত্যিই উপভোগের। এই দোকানটির কারণে অনেক মানুষ এ সেতুটি দেখতে আসবেন।

জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদের উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ১৫ জন শ্রমিক ২৩ দিন ধরে সেতুটির নির্মাণকাজ করেন। এতে ব্যয় হয় মোট ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২ লাখ ৮০ হাজার সরকারি এবং ৮৭ হাজার টাকা উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত তহবিলের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, দুইপারের অসংখ্য মানুষের যাতায়াত এখানে। সেটি বিবেচনায় এখানে কাঠের অবকাঠামোর সেতু করে দেওয়া হয়েছে। কংক্রিটের সেতু যাতে করে দেওয়া যায়-আমরা সেই ব্যবস্থা করব।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, একটি খাল দুইটি গ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছে দীর্ঘদিন। দুইপারে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীসহ দুইটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের জন্য সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমরা দৃষ্টিনন্দন একটি কাঠের সেতুটি করে দিয়েছি। এর মাধ্যমে দুইপারের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, সেতুটির মাধ্যমে পশ্চিম নেতা গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। বিনামূল্যে সেতুর মাঝখানের টং দোকানটি তাকে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।




শিক্ষা সবার জন্য নমুনা!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : আমেনা ছয় সন্তানের জননী। শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ না পেলেও ছেলে-মেয়েদেরকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল। গ্রামে স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েদেরকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। তিন ছেলে আর তিন মেয়ে নিরক্ষর। বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালী। রাঙ্গাবালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কাশেম চরের বাসিন্দা আমেনা বেগম। স্বামী আজাদ জেলে। সাগরের মোহনায় জাল ফেলে যা পান, তা দিয়েই চলে সংসার। চরে স্কুল না থাকায় আমেনা সন্তানকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। মেয়ে আইরিন, আলভী ও মনিকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে রাফিক গার্মেন্টসে চাকরি করে। ছেলে শাকিল ও শাহিন বাবার সাথে মাছ ধরায় ব্যস্ত। ‘লেখাপড়া শিখতে পারি নাই, সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর আশা ছিল।’ স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে না পারায় আক্ষেপ।

ওই চরের বসবাসকারী সব পরিবারেই এই আক্ষেপ রয়েছে। চরে ৬০০ লোকের বাস থাকলেও প্রাথমিক বিদ্যালয় বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। ছেলেমেয়েরা নিরক্ষর।

চরের বাসিন্দা রফিক সরদার জানান, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। গ্রামে স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েকে শিক্ষার সুযোগ দিতে পারেননি। ছেলেরা তার সাথে নদীতে মাছ ধরে আয়ে সহযোগিতা করছে।

রেজাউল হাওলাদারের তিন ছেলে। এদের মধ্যে দুই ছেলেকে শিক্ষিত করতে না পারলেও ছোট ছেলে দ্বীন ইসলামকে অন্য চরের প্রাইমারি স্কুলে পাঠাচ্ছেন। এখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। নদী পার হয়েই পাঁচ কিলোমিটার দূরের স্কুলটিতে যেতে হয় ইসলামকে। তাই নিয়মিত যেতে পারে না। বর্ষা মৌসুম এলে খেয়া চলাচল বন্ধ থাকায় বছরের প্রায় ছয় মাস স্কুলে যাওয়া হয় না দ্বীন ইসলামের। রেজাউলেরও আক্ষেপ চরে স্কুল থাকলে সব ছেলে-মেয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পেত। তিনি জানান, সরকারের প্রকল্পের মাধ্যমে রঙিন টিনের ঘর পেয়েছেন। কিন্তু সন্তানদের লেখাপড়া শিখানোর স্বপ্ন রঙিন হয়নি।

গ্রামের বাসিন্দা নূর হোসেন জানান, এই চরে প্রায় ৭০০ লোকের বসবাস। ৬০ পরিবারকে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের রঙিন টিনের ঘর দেয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘর পেয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। ‘এই চরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হলে সন্তানকে লেখাপড়া শেখাতে পারতাম।’ এই চরের দু’চারজন শিশু অন্য চরে লেখাপড়া করছে। তারা না ফেরা পর্যন্ত দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। তিনি বলেন, এই চরের শতাধিক স্কুলে গমনোপযোগী শিশু রয়েছে। অবিলম্বে এই চরে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ বলেন, ‘চর কাশেম বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। অফিস থেকে তথ্য পাঠানো হয়েছে। নতুন স্কুল করার ব্যাপারে সরকারের বিধিমালা আছে। পর্যায়ক্রমে কাজটি সম্পন্ন হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন জানান, ‘আমরা উপজেলা থেকে ওই চরে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। উপজেলা থেকে চরটি বিচ্ছিন্ন থাকায় শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সর্বশেষ আপডেট জানাব।’




রাসুল (সা.) কেমন খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : সতেজ বা তরতাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করা সুন্নত। তরতাজা খেজুর না পেলে শুকনা খেজুর দ্বারা ইফতার করবে। কিন্তু ইফতারিতে খেজুর অবশ্যই রাখতে হবে। কেননা এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নত এবং রোজাদারের জন্য অত্যন্ত উপকারী খাবার।

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) তরতাজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। না পেলে শুকনা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। তাও না পেলে তিনি এক অঞ্জলী পানি দ্বারা ইফতার করতেন। (আবু দাউদ, হাদিস : ২৩৫৮; তিরমিজি, হাদিস : ৬৯৬)। খেজুর পবিত্র খাবার।
সালমান বিন আমির (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ ইফতার করলে সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। সে খেজুর না পেলে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কারণ তা পবিত্র। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৬৯৯) 

খেজুর ইসলামী খাদ্য-সংস্কৃতির অংশ হওয়ার পাশাপাশি এর আছে স্বাস্থ্য উপকারিতা।

খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরকে ডিটক্সিফাই করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। 

শরীরে আয়রনের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে খেজুর। একই সঙ্গে খেজুরের মিষ্টতা চিনির বিকল্প হিসেবে কাজ করে। খেজুরে আছে পটাসিয়াম, যা হৃদ্‌রোগ প্রতিরোধ করে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুর শরীরের খারাপ ধরনের কোলেস্টেরল কমায় (এলডিএল) এবং ভালো কোলেস্টেরলের (এইচডিএল) পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

খেজুরে থাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। এই আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে। শরীরে রক্তাল্পতা দেখা দিলে বা হিমোগ্লোবিনের কমতি হলে খেজুর খাওয়া শুরু করুন। এর ফলে শরীরে আয়রনের মাত্রা বজায় থাকবে। হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক হবে এবং রক্তের কোষ উৎপন্ন হবে।

খেজুরে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যাবশ্যক। যেমন—বি১, বি২, বি৩ ও বি৫। এ ছাড়া ভিটামিন এ১, সিসহ নানা ভিটামিনের পাওয়ার হাউস বলা যেতে পারে খেজুরকে।

নিয়মিত খেজুর খাওয়ার মাধ্যমে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো যায়। খেজুরের নানা উপাদান শরীরে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ প্রতিহত করতে পারে। খেজুর হাড়ের স্বাস্থ্য উন্নত করে। ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে সহায়তা করে। আর খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, যা হাড়কে মজবুত করে। সেই সঙ্গে মাড়ির স্বাস্থ্যও সুরক্ষিত রাখে।

সূত্র : ফার্মইজি ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট




ভোলায় বিস্তীর্ণ মাঠে সূর্যমুখীর হাসি

বরিশাল অফিস:: ভোলার লালমোহন উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে হাসছে সূর্যমুখী ফুল। এই সূর্যমুখীকে কেন্দ্র করে স্বপ্ন বুনছেন উপজেলার কৃষকরা। প্রতি বছরই এ উপজেলায় বৃদ্ধি পাচ্ছে সূর্যমুখীর আবাদ। গত বছরের চেয়ে এ বছরও বেড়েছে সূর্যমুখীর চাষ। চলতি বছর লালমোহন উপজেলার ১৭৫ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। যেখানে গত বছর এই উপজেলায় ১৬২ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছিল। চলতি বছর লালমোহনে কাবেরী, হাইসান-৩৩, আরডিএস-২৭৫ এবং বারি সূর্যমুখী-২সহ বেশ কয়েকটি জাতের সূর্যমুখীর চাষ করেছেন কৃষকরা।

লালমোহন উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের পাঙাশিয়া গ্রামের চাষি মো. হারুন বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী এ বছর প্রথমবারের মতো ১৬০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। বর্তমানে ক্ষেতে ফসল অনেক ভালো দেখা যাচ্ছে। এ ফসল সংগ্রহ করা পর্যন্ত ৫০ হাজার থেকে ৫৫ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ বছর ক্ষেত থেকে লক্ষাধিক টাকার ফসল সংগ্রহ করতে পারবো।

উপজেলার লালমোহন ইউনিয়নের মুন্সির হাওলা গ্রামের সূর্যমুখী চাষি মো. ইসমাইল মাল জানান, গত বছর ১৮০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। ওই বছর প্রায় অর্ধলাখ টাকা লাভ হয়েছে। যার জন্য এ বছর জমি বাড়িয়েছি। চলতি বছর ২২০ শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। ফসল সংগ্রহ করা পর্যন্ত এ চাষাবাদে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। তবে আবহাওয়া ভালো থাকলে এ বছর প্রায় দেড় লাখ টাকার ফসল সংগ্রহ করতে পারবো।

লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের প্যায়ারী মোহন গ্রামের চাষি পুরঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, গত বছর একশত শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। ওই বছর ফলন ভালো হওয়ায় চলতি বছর দুইশত শতাংশ জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। এ বছর চাষাবাদে অন্তত ৬২ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। তবে ক্ষেত থেকে এ বছর এক লাখ ৩০ হাজার টাকার ফসল সংগ্রহ করতে পারবো। সূর্যমুখী চাষের পর থেকে নিজেদের রান্নায় এই তেলই ব্যবহার করছি। পারিবারিক চাহিদার পর অতিরিক্ত থাকা তেল বাজারে বিক্রি করি।

উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, এসব চাষিদের কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। তবে চাষে কৃষকদের নিজস্ব খরচ রয়েছে- জমি প্রস্তুত, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিকদের মজুরি। এ উপজেলার চাষিরা আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে তাদের ফসল সংগ্রহ করতে পারবেন। চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি সূর্যমুখীর চাষ করেছেন পশ্চিম চরউমেদ, লর্ডহার্ডিঞ্জ ও লালমোহন ইউনিয়নের কৃষকরা।

জানা যায়, দেশে পরিচিত একটি তেল জাতীয় ফসল হচ্ছে সূর্যমূখী। সূর্যমুখী এক ধরনের একবর্ষী ফুল গাছ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ফুলের বাণিজ্যিক চাষ হয়ে থাকে। এ গাছ প্রায় ৩ মিটার (৯.৮ ফুট) লম্বা হয়ে থাকে, ফুলের ব্যাস ৩০ সেন্টিমিটার (১২ ইঞ্চি) পর্যন্ত হয়। এই ফুল দেখতে কিছুটা সূর্যের মতো এবং সূর্যের দিকে মুখ করে থাকায় এর নামকরণ করা হয় ‘সূর্যমুখী’। সূর্যমুখী তেলে রয়েছে অনেক উপকারিতা। সূর্যমুখী তেল অন্যান্য রান্নার তেলের থেকে ভালো। এ তেল হৃদরোগীদের জন্য বেশ স্বাস্থ্যকর। এতে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুবই কম থাকে। এছাড়া সূর্যমুখী তেলে ভিটামিন এ-ডি-ই রয়েছে।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু হাসনাইন বলেন, কৃষি অফিসের নানামুখী পদক্ষেপের কারণে এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা সূর্যমুখী চাষের দিকে ঝুঁকছেন। প্রতি বছরই লালমোহনে সূর্যমুখীর আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকদের ক্ষেতে ফলনও ভালো দেখা যাচ্ছে। আমাদের কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। আবহাওয়া ভালো থাকলে চাষিরা ভালো ফলন পাওয়ার পাশাপাশি তাদের ফসলের ন্যায্য মূল্য পেয়ে অধিক লাভবান হবেন বলে আশা করছি।

এ কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, সূর্যমুখী তেলের পুষ্টিগুণ যেমন বেশি তেমনি অন্যান্য তেলের তুলনায় এটি অধিক স্বাস্থ্যসস্মত। অধিক হারে এর চাষ বৃদ্ধি করা গেলে পুষ্টি চাহিদা অনেকাংশে পূরণ হবে এবং ভোজ্য তেলের জন্য বিদেশ নির্ভরতা কমে যাবে । এছাড়া আগামীতে কেউ যদি নতুন করে সূর্যমুখী চাষে আগ্রহী হয় তাহলে আমরা সব সময় তাদের পাশে থাকবো।




লক্ষ্মীপ্যাঁচা উদ্ধারের পর অবমুক্ত

বরিশাল অফিস:: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় একটি লক্ষ্মীপ্যাঁচা উদ্ধারের পর অবমুক্ত করেছে এনিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্যরা।

সোমবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমীরাবাদ গ্রাম থেকে আবুল বাশার (৫৫) নামের এক ব্যক্তি এ প্যাঁচাটি উদ্ধার করেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে লক্ষ্মীপ্যাঁচাটি ওই এলাকায় অবমুক্ত করা হয়।

লম্বা পাখনা, ফ্যাকাশে ও হৃদয় আকৃতি মুখের গড়ন এবং বর্গাকৃতির লেজ বিশিষ্ট এ লক্ষ্মীপ্যাঁচাটির বৈজ্ঞানিক নাম টয়টো আলবা। ২ কেজি ওজনের এ প্রাণিটি এক ধরনের পেঁচা প্রজাতির পাখি। এধরনের পেঁচা দিনে চোখে দেখতে পায় না বলে জানায় এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর সদস্যরা।

আবুল বাশার বলেন, সন্ধ্যায় এ লক্ষ্মীপ্যাঁচাটি আমার এক প্রতিবেশীর জালে আটকা পড়ে। আমি প্যাঁচাটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসি। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্যদের উপস্থিতিতে প্যাঁচাটি অবমুক্ত করি। এখন আগের মতো আর লক্ষ্মীপ্যাঁচা সচরাচর দেখা মেলে না। আর এ প্রজাতির প্যাঁচা এর আগে আমি আর এই এলাকায় লক্ষ করিনি।

এনিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার সদস্য বায়জিদ মুন্সী বলেন, এটি জালে আটকে কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে শরীরের কোথাও আঘাত লক্ষ করা যায়নি। নিশাচর হওয়ায় রাতেই আমরা প্যাঁচাটি অবমুক্ত করেছি। আমরা এনিমেল লাভার অফ পটুয়াখালী স্বেচ্ছাসেবী প্রাণিকল্যাণ ও পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্যরা মূলত বন্যপ্রাণি নিয়ে কাজ করি। আমরা এর আগেও বেশ কিছু বন্যপ্রাণি উদ্ধার করে অবমুক্ত করেছি। তবে এই প্রথম লক্ষ্মীপ্যাঁচা উদ্ধারের পর অবমুক্ত করলাম।

কলাপাড়া উপজেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুল হক মনি বলেন, লক্ষ্মীপ্যাঁচা উদ্ধারের খবর শুনেছি। এনিমেল লাভার্স অফ পটুয়াখালীর সদস্যরা এই প্যাঁচাটি উদ্ধার করে উন্মুক্ত করেছে। আমরা বন বিভাগ সব সময় তাদেরকে সহযোগিতা করি।




কেজিতে তরমুজ বিক্রি হয় জানে না চাষি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

ঢাকা শহরে তরমুজের কেজি ৭০-৮০ টাকা। রমজানে চাহিদা থাকায় দাম অনেকটা বাড়তি। তবে প্রান্তিক কৃষকের অনেকে জানেনই না, তরমুজ কেজি দরে বিক্রি হয়। তারা পিস হিসেবে বিক্রি করেন। এরপর যতবার তরমুজ হাত বদল হয় ততবারই দাম বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ভোক্তার কাছে এসে ঠেকে কেজিতে। যার দাম কৃষকের কাছে অকল্পনীয়।

দেশে তরমুজ চাষে সুনাম রয়েছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার। দেশের বাজারে সরবরাহকৃত তরমুজের বড় একটি অংশ আসে এই এক উপজেলা থেকে। উপজেলার প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে তরমুজ চাষ, ব্যবসা, বহনের সঙ্গে জড়িত।

উপজেলার কয়েকজন প্রান্তিক তরমুজ চাষিরা জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকাকে তরমুজ কেজিতে বিক্রি হয়—এ সম্পর্কে তাদের কোনো ধারণা নেই। তারা শুরু থেকেই তরমুজ পিস হিসেবে বেচা-কেনা করে আসছেন। ঢাকায় তরমুজের কেজি কত সে সম্পর্কে কেউ কেউ সংবাদ মাধ্যম থেকে জানলেও অনেকের অজানা।

তরমুজ চাষিরা জানিয়েছেন, দুইভাবে তরমুজ বিক্রি করেন তারা। প্রথমত ক্ষেত চুক্তি, এতে পুরো ক্ষেতের তরমুজ অনুমান করে একসঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের কাছে। এতে মূল চাষির ব্যয়ের সঙ্গে লাভ ধরে দাম নির্ধারণ করে তারা। বিক্রির পর ব্যবসায়ীরা তাদের সময়-সুযোগ অনুযায়ী ক্ষেত থেকে তরমুজ নিয়ে যান।
দ্বিতীয়ত, ক্ষেত থেকে তরমুজ কেটে শ হিসেবে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। এ ক্ষেত্রে ওজন ও আকার অনুযায়ী ক্যটাগরি নির্ধারণ করা হয়।

তরমুজ চাষি শাখাওয়াত, সিরাজসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আনুমানিক পাঁচ কেজি ওজনের একটি তরমুজ তারা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেন। এদিকে ঢাকায় ৮০ টাকা কেজি হলে তরমুজটির দাম হয় ৪০০ টাকা। মধ্যসত্বভোগী ব্যবসায়ীরাই এই লাভ করছেন। প্রান্তিক চাষিরা সামান্য লাভেই তরমুজ বিক্রি করছেন।
তাদের দাবি, শহরে দাম এতো বেশি হলে তরমুজের বাজারে বিরুপ প্রতিক্রীয়া হবে। যার প্রভাব পড়বে ক্ষেতের তরমুজে। ভোক্তা তরমুজ কেনা বন্ধ বা কমিয়ে দিলে মাঠে অবিক্রিত তরমুজ নষ্ট হবে বলে ধারণা তাদের। অথবা লসে বিক্রি করতে হবে চাষিদের।

উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৭ থেকে ১০ কেজির একটি তরমুজ পিস হিসেবে সর্বোচ্চ ২৭০ টাকা দরে বিক্রি করছেন চাষিরা। আর ছোট তরমুজ (পাঁচ কেজির নিচে) ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে চাষিদের কাছ থেকে কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে কিনছেন ব্যবসায়ীরা।
রাঙ্গাবালী থেকে তরমুজ ট্রলারে নেওয়া হয় গলাচিপা উপজেলায়। এতে প্রতি পিস তরমুজে খরচ হয় পাঁচ টাকা। সেখান থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় নেওয়া হয় তরমুজ।

আড়ৎদার, ব্যবসায়ী, ট্রাকচালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একটি বড় ট্রাকে বড় সাইজের (৭-১০ কেজি) ২৫০০ পিসের মতো তরমুজ ধরে। আর তরমুজ মাঝারি ও ছোট মিলে তিন থেক সাড়ে তিন হাজার তরমুজ নেওয়া যায়। এতে ট্রাক প্রতি খরচ হয় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এতে গড়ে তরমুজ প্রতি প্রায় ১০০ টাকা খরচ হয় বলে জানিয়েছেন তারা।

ট্রাকচালক ইমরান শেখ বলেন, ‘আমাদের তেল এবং টোল খরচেই চলে যায় টাকা। এর বাইরেও টুকটাক খরচ আছে। পথে বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে টাকা তোলা হয়। সব মিলিয়ে মালিকের তেমন কিছু থাকে না।

কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এই মৌসুমে রাঙ্গাবালী উপজেলায় ইতোমধ্যে পাঁচ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে তরমুজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে আট হাজার হেক্টর জমি। লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং অনুকূলে পরিবেশ থাকলে সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার তরমুজ উৎপাদনের আশা ব্যক্ত করেছিল কৃষি বিভাগ। তবে পোকার আক্রমন এবং রোগের কারণে প্রায় ৩৫ হেক্টরের মত তরমুজের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেক্ষেত্রে উৎপাদন ও আবাদ কম হওয়ায় ৩৫০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে ধারণা।
উপজেলার কাউখালী এলাকায় প্রায় ১৩ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ করেছেন ছোট বাইশদিয়ার চাষি মিথেল হাওলাদার। শুরুতেই জমি সমস্যায় তার প্রায় ৩ হেক্টর জমির গাছ মরে গেছে। সব সমস্যার পরেও যা ফলন হয়েছে তাতেও লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

মিথেল হাওলাদার বলেন, ‘তরমুজ চাষে কখনও কপাল খোলে কখনও পথে বসতে হয়। তবুও আমরা থেমে থাকি না। এবার উৎপাদন খরচ অনেক বেশি তবুও লাভের আশায় আছি। কিন্তু শুনেছি ঢাকায় তরমুজ কেজি হিসেবে বিক্রি হয়, দামও অনেক। তরমুজকে যদি মানুষের সাধ্যের বাইরে নিয়ে যায় ব্যবসায়ীরা তবে এর ওপর থেকে ভোক্তা মুখ ফিরিয়ে নেবে। এতে বড় ক্ষতি হবে আমাদের। মাঠের তরমুজ নিয়ে পথে বসতে হবে আমাদের।’

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রাঙ্গাবালীতে আসা আড়ৎদার ও তাদের প্রতিনিধিদের দাবি, তারা ঠিক দামে বিক্রি করলেও কারসাজি হয় খুচরা বাজারে। এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২৫-৩০ টন তরমুজ হয়ে থাকে। কৃষকরা তরমুজ পিস হিসাবে বা সমগ্র ক্ষেতের তরমুজ একত্রে বিক্রি করে দেয়। সেক্ষেত্রে দেখা যায় প্রতি কেজি তরমুজের দাম ২০-৩০ টাকা পর্যন্ত সর্বোচ্চ দাম কৃষক পায়। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা পিস হিসেবে ক্রয়কৃত তরমুজ ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে থাকে। এর চাপ পড়ে ভোক্তাদের ওপর।’




পটুয়াখালীতে বোনের মেয়ে নিয়ে উধাও স্বামী, প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে অসহায় রাবেয়া

বরিশাল অফিস::  তিন মাসের শিশু সামিয়া এবং নয় বছরের প্রতিবন্ধী মেয়ে লামিয়া এখনো বুঝেনা মায়ের চোখের পানির ভাষা। মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার নেই এই শিশু দুটির। ওরা এখনো জানে না তাদের বাবা ইউনুস সরদার (৩১) ওদের ফেলে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করে পালিয়েছেন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পরিবারটি। দুই সন্তান নিয়ে রাবেয়া আক্তারের মানবেতর জীবন কাটছে। সন্তানের ক্ষুধার যন্ত্রণা, সামাজিক বঞ্চনা এবং স্বামীর নেওয়া ঋণের কারণে রাবেয়া এখন কোনো কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছেন না।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার খাজুরা গ্রামে পরিবারটির বসবাস। ২০১৩ সালে পারিবারিকভাবে রাবেয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় ইউনুসের। তাদের ঘরে ৯ বছরের প্রতিবন্ধী একটি মেয়ে ও তিন মাসের আরও একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় দিশাহারা এ পরিবারটি।

জানা যায়, ইউনুস ও ওই স্কুল পড়ুয়া ছাত্রীর পরিবার একই এলাকায় পাশাপাশি বসবাস করতেন। সেই সুবাদে দুই পরিবারের মধ্যে যাতায়াত থাকায় মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ইউনুসের। টিকটকে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হতো বলেও জানায় তাদের পরিবার। সবশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারি এনজিও থেকে লোন নিয়ে ওই মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যান ইউনুস।

পরবর্তীতে উভয় পরিবার জানতে পারে যে, তারা বিয়ে করেছেন। কিন্তু কোথায় আছেন সেই হদিস মেলেনি এখনো। ওই শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ে। আর ইউনুস সম্পর্কে তার খালু হয়।

এদিকে ইউনুসের এমন কাণ্ডে দুর্বিষহ জীবন হয়ে উঠেছে রাবেয়ার। কারণ তার স্বামী পেশায় জেলে। তাই একদিন রোজগার বন্ধ থাকলে না খেয়ে থাকতে হতো তাদের। এখন স্বামী চলে যাওয়ায় দুই সন্তান নিয়ে একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন রাবেয়া।

এ বিষয় রাবেয়া  বলেন, আমার এক মেয়ের বয়স নয় বছর সে প্রতিবন্ধী এবং আরেকজনের বয়স মাত্র ৩ মাস। এই অবস্থায় আমাদের রেখে আমার স্বামী আমার বোনের মেয়েকে নিয়ে চলে গেছে।এরমধ্যে যাওয়ার আগে আবার এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে গেছে। এখন এনজিওর লোকেরা প্রতিদিন আসে টাকার জন্য। আমি এখন কীভাবে টাকা পরিষদ করব। এদিকে আমার সন্তানদের খাবারের জন্য ঘরে পানি ছাড়া কিছুই নেই। আমার ছোট ভাই দিনমজুরির কাজ করে। গত এক মাস যাবত তার টাকায় কোনোমতে খেয়ে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকতে হয়। কখনো আশপাশের লোকজন কিছু খাবার দেয়। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে এখনো বেচে আছি।
ইউনুস

স্থানীয় বাসিন্দা মো. জয়নাল হাওলাদার  বলেন, এই পরিবারের একমাত্র আয়ের ব্যক্তি ছিল ইউনুস। তিনি এইভাবে পালিয়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পরেছে তারা। একেবারে খারাপ অবস্থায় দিন কাটছে তাদের। আমাদের অনুরোধ দেশের যে প্রান্তে ইউনুসকে দেখবেন ধরিয়ে দেবেন।

পালিয়ে যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর মা  বলেন, আমার মেয়ে দাদাবাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে খোঁজ করে জানতে পারি সে আমার বোনের স্বামীর সঙ্গে পালিয়েছে। এরপর আমরা থানায় জানাই। পুলিশ এসে উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। আমরা এর আগে পরে কিছুই জানতাম না।

মহিপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, আমাদের কাছে মৌখিকভাবে তারা বিষয়টি জানিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে তারা মামলা কিংবা অভিযোগ করতে রাজি নয়, নিজেরাই খোঁজাখুঁজি করছে। তবে লিখিত অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ভাঙন আতঙ্কে আগুনমুখা নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : আগুনমুখা নদীর ভাটা জোয়ারের পানির তোরে দীর্ঘ দিন ধরে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নটি ভাঙন কবলিত।

নদীভাঙনে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের তিনের একাংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অব্যাহত ভাঙন হতে বিচ্ছিন্ন এ চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন রক্ষায় কার্যত কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান নেই। তার পরেও ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে আগুনমুখা নদী হতে প্রভাবশালী চক্রের অব্যাহত অবৈধ বালু উত্তোলন। নদীর যে অংশে সারি সারি ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়, সে পথ ধরে প্রতিনিয়ত উচ্চপদস্ত কর্মকর্তার পদচারণ রয়েছে। তবুও যেন দেখেও দেখছেন না ওই চক্রের কর্মকাণ্ড। এখনই বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে যেকোনো সময় শুরু হতে পারে ভাঙন।

উপজেলা ভূমি অফিস জানায়, রাঙ্গাবালীর ডিগ্রি নদীতে নতুন বালু মহাল ঘোষণা করা হবে। এটি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বালু মহাল নেই। নতুন প্রস্তাবনার মধ্যে আগুনমুখা নদী পড়েনি।

জানা গেছে, পটুয়াখালী জেলাধীন গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার মধ্যে প্রবহমান আগুনমুখা নদীতে প্রায় দেড় মাস ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর পেছনে কাজ করছে প্রভাবশালী একটি চক্র। সকালে রাঙ্গাবালীর অংশে তো রাতে গালাচিপার অংশে বালু উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ব্যবহৃত হয় ৫-৮টা ড্রেজার মেশিন।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি এক দিন গিয়েছিলাম। যেয়ে দেখছি রাঙ্গাবালীর সীমানায়। ইউএনও রাঙ্গাবালীকে বলেছি। জানতে পারলাম রাতে নাকি আমার এখানে বসে। অভিযানে যাব। যদি পাই, শাস্তি পেয়ে যাবে।’

স্থানীয়রা বলেছেন, দিন রাত মিলিয়ে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। এর ফলে কৃষি জমি ও নদী ভাঙনের মাত্রা আরো বেড়ে যাবে। এ ছাড়াও নদীর যে অংশে বালু তোলা হচ্ছে সেখানেও দীর্ঘ একটি চর জেগেছে। যেখানে বন বিভাগের ম্যানগ্রোভ নতুন বাগান করা হয়েছে। অবৈধ এ বালু সিন্ডিকেট বন্ধ করা না হলে আমরা উভয়ই ক্ষতির মধ্যে পড়ব। কিন্তু উপকৃত হচ্ছে অসাধু কিছু প্রভাবশালী মানুষ।

রাঙ্গাবালী রেঞ্জ কর্মকর্তা অমিতাভ বসু বলেন, বালু উত্তোলন করলে বাগানের ক্ষতি হবে। কিন্তু বালু উত্তোলনে আমরা বাধা দিতে পারব না। এ বিষয়ে ইউএনও স্যারকে জানাব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি, অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিজানুর রহমান বলেন, আমরা ব্যবস্থা নিবো।