স্থাপত্যশৈলীর প্রাচীন নিদর্শন বরিশালের ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: বরিশালের স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম প্রাচীন নিদর্শন ঐতিহ্যবাহী মিয়াবাড়ি মসজিদ । দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদ শুধু বরিশালের নয়, বাংলাদেশের প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম। বরিশাল সদর থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার উত্তর কড়াপুর গ্রামে অবস্থিত দ্বিতল এ মসজিদটি মিয়া বাড়িতে এটি নির্মিত হয় ব্রিটিশ আমলে। মনে করা হয়ে থাকে ১৮শ শতকে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়। এখনো নামাজের জন্য ব্যবহৃত হয় মসজিদটি,বর্তমানে প্রতিনিয়ত ভ্রমণ পিপাসু দূর-দূরান্ত থেকে প্রচুর পর্যটক ঘুরতে আসে মুঘল আমলে নির্মিত বরিশালের এ ঐতিহ্য দেখতে।

ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে তৎকালীন হায়াত মাহামুদ এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদের সাথে দুটি বিশালাকার দীঘিও খনন করেন। যা মসজিদটির সৌন্দর্যকে আরো নয়নাভিরাম করে তুলেছে। মসজিদটি লম্বায় প্রায় ৭০ ফুট এবং প্রস্থে ৪০ ফুট। বলা হয় চুন, সুরকির সঙ্গে মাষকলাই ও চিটাগুড় পচিয়ে এর নির্মাণসামগ্রী তৈরি করা হয়েছিল। এর অন্যতম নির্মাণবৈশিষ্ট্য হলো, ছাদে কোনো ধরনের রড কিংবা লোহার ব্যবহার হয়নি। ইট, সুরকি ও চুনের মিশ্রণ দিয়ে তৈরি ছাদের পুরুত্ব প্রায় এক ফুট । মসজিদটি দ্বিতলবিশিষ্ট ও সম্পূর্ণ কারু কার্যমণ্ডিত। মূল মসজিদের সৌন্দর্য বর্ধন করা হয়েছে দ্বিতীয় তলায়। নিচ তলায় রয়েছে ছয়টি দরজা বিশিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা। যেখানে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য করা হয়েছে থাকার ব্যবস্থা। মসজিদের দ্বিতীয় তলায় রয়েছে তিনটি দরজা।

ছাদের মাঝখানে রয়েছে বড় তিনটি গম্বুজ। মাঝেরটি সবচেয়ে বড়। ভিতরের অংশেও রয়েছে কারুকার্যময় সুন্দর নকশার সমাহার। চারপাশে পিলারের ওপর নির্মিত হয়েছে আটটি বড় মিনার। বড় মিনারগুলোর মাঝে রয়েছে ১২টি ছোট ছোট মিনার। ছোট মিনারগুলোর মাঝের স্থানকে সুন্দর কারুকার্যময় নকশা দ্বারা অলঙ্কৃত করা হয়েছে। মসজিদের দ্বিতীয় তলায় উঠার জন্য প্রশস্ত সিঁড়ি রয়েছে। সিঁড়ির নিচে দুটি বাঁধানো কবর রয়েছে। কিন্তু ওই কবর কাদের সেটা জানেন না এলাকার মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হায়াত মাহমুদ সম্ভবত মালদার খাঁর ছেলে, যিনি চন্দ্রদ্বীপের রাজার সামরিক ফৌজে নিযুক্ত ছিলেন। মাহমুদও চন্দ্রদ্বীপ সামরিক ফৌজে ভর্তি হন। একবার, নিকটবর্তী চাখার এলাকার মীর ও মজুমদার জমিদার খান্দানদ্বয় চন্দ্রদ্বীপের রাজাকে অপহরণ করে। গভীর রাতে রাজাকে আজাদ করে মাহমুদ জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এই কাজের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাজা দুটি তালুক প্রদান করেন মালদার খাঁ এবং হায়াত মাহমুদকে, যা পরবর্তীতে কড়াপুরের মিঞা খান্দান (মাহমুদের বংশধরদের) দ্বারা ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া যায়। বুজুর্গ-উমেদপুর পরগণাও হায়াত মাহমুদের তালুকগুলির মধ্যে একটি ছিল ।

আরও জানা গেছে, দক্ষিণ বাংলার একজন মজবূৎ জমিদার হয়ে উঠলে, ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মাহমুদের মর্যাদার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। মাহমুদ বাংলায় কোম্পানির শাসন মেনে-চলতে এবং বুজুর্গ-উম্পেদপুর পরগণা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করেন। ফলস্বরূপ, ইংরেজ কোম্পানি বরিশালের সমস্ত জলপথ বন্ধ করার নির্দেশ দিলো। মাহমুদকে ডাকাত সরদার হিসাবে এলান করা হয়। কোম্পানির সিপাহীরা ১৭৮৯ খ্রীষ্টাব্দে তাঁকে বন্দী করতে সক্ষম হয় এবং তাঁকে জাহাঙ্গীরনগরের তৎকালীন নায়েব নাজিম ইংরেজপন্থী নুসরত জং-এর কাছে নিয়ে যায়। ১৭৯০ খ্রীষ্টাব্দে নায়েব নাজিম মাহমুদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পরামর্শ দেন। লর্ড কর্নওয়ালিস মাহমুদকে ব্রিটিশ মালয় প্রিন্স অফ ওয়েলস দ্বীপে নির্বাসিত করেন এবং বুজুর্গ-উমেদপুরের জমিদারি কেড়ে নেন। মাহমুদ ১৮০৬ খ্রীষ্টাব্দে আজাদী পান এবং তারপরে শান্ত জীবনযাপন শুরু করেন। কড়াপুরে ৩০ একর জমিতে বাড়ি তৈরি করেন তিনি। মাহমুদকে ১৮০৭ খ্রীষ্টাব্দে মিয়া বাড়ি মসজিদ প্রতিষ্ঠার কৃতিত্ব দেওয়া হয়,যদিও অল্প কয়েকজন দাবি করেছে যে মসজিদটি তাঁর ছেলে মাহমুদ জাহিদ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মাহমুদ জাকির নামে তার আরেকটি ছেলেও ছিল ।

স্থানীয় আবুল কালাম আজাদ নামের এক মসজিদের মুসল্লি চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান, হায়াত মাহমুদ নামে এক ব্যক্তি মিয়াবাড়ি মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা করেন বলে আমরা জানি । মোগল আমলের এ স্থাপনাটি দেখতে অনেক মানুষই ছুটে আসেন। কিন্তু যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম সড়কটি সংস্কার না করায় যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তৎকালীন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে নির্বাসিত হন তিনি। এ সময় তার জমিদারিও কেড়ে নেয়া হয়। দীর্ঘ ১৬ বছর পর দেশে ফিরে তিনি এলাকায় দু’টি দীঘি ও দ্বিতল এই মসজিদটি নির্মাণ করেন।

কড়াপুর মিয়াবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মো: জামাল উদ্দিন চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান, আমি প্রায় ৩৩ বছর ধরে এই মসজিদে ইমামতী করে আছি। আমাদের পূর্বপুরুষ ও মুরুব্বিগণ বলে থাকেন এটি মোগল সম্রাটের সময় এটি নির্মাণ করা হয়েছে। আনুমানিক ৭শত বছরের আগে এটা তৈরি করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানেও মিয়া বাড়ির যে বংশধর তারাই এই মসজিদটি এখনো পরিচালনা করে থাকেন। এই মসজিদটি সিঁড়ির নিচে দুইটি কবর রয়েছে। তবে কেউ জানেন না এ কবর দুটি কাদের। তবে ধারণা করা হচ্ছে যারা এই মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা তাদের স্বামী-স্ত্রীদের দুই জনের এ কবর আবার বলে হয়ে থাকে মাহমুদ হায়াতও মাহমুদ জাহিদ তাদের দুই ভাইয়ের কবর । যারা এই মসজিদটি তৈরি করেছে তারা খুব ভালো মানুষ ছিল সেই সময় তারা মনে করছিল এই মসজিদের দোতলায় উঠতে হলে সিড়ির নিচে তাদের কবর থাকলে অনেক আল্লাহর ওলী বুজুর্গ এখানে পর্দচারণা করার কারণে আল্লাহ তাদের গুনার্হ মাফ করে দিবেন এমন অনুমাণ করে মানুষ । এ মসজিদটিতে এক সাথে ১শত মানুষের অধিক নামাজ আদায় করতে পারে। ২০১৩ সালে এটা কিছু সংস্কার করা হয়েছিল । এখানে প্রতিদিন অনেক মানুষ মসজিদটি দেখতে আসেন ও অনেকেই নামাজ আদায় করেন ।

মসজিদটি দেখতে আসা রাহাত রাব্বি নামের এক দর্শনার্থী চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান,আমার জীবনের প্রথম কোন পুরানো দিনের জিনিস দেখলাম সেটা এত কারুকার্য নকশা করা যা যত দেখি আরো বেশি ভালো লাগে । এখানে এসে জামাতে নামাজ আদায় করলাম বাহিরে গরম থাকলেও মসজিদটির ভিতরে অনেক ঠান্ডা । এটাই আমার কাছে আরো ভালো লাগলো ।

জমিদারী মিয়া বাড়ির বংশধর মো: মিজানুর রহমান চন্দ্রদীপ নিউজকে জানান, ইসলাম প্রচারের জন‌্য পারর্শ দিয়ে এসে মাহমুদ হায়াতও মাহমুদ জাহিদ এই মসজিদ নিমাণ করেছেন তাদেরও পৃর্ব পুরুষ এই জায়গায় এসে বসবাস শুরু করতেন । এখানেই ২ টা বাড়ি আমারা তাদের এই ১৩ তম বংশধর । তারা এই দেশের শাসন করে ছিল ও ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে কিছু নির্যাতিত হয়েছিল। অমিতপুরে তাদের আরও একটি জমিদারি ছিল সেটিও তারা নিয়ে নিয়েছিল দীপান্তরে অনেক মানুষকে তারা যাবজ্জীবন দিয়ে হত্যা করেছিল। আমাদের পূর্বপুরুষ থেকে শুনেছি পরবর্তীতে তাদের এক শাষক মাহমুদ জাহিদ উনার মুক্তির জন্য বাঁশি বাজিয়ে আন্দোলন করা হয়েছিল তখন। তারপর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে এই মিয়া উপাধি এটা ব্রিটিশ রায়াই দিয়েছেন। আমাদের পূর্বের বংশ পুরুষ আসলে আগে ছিল তারা মালদার খান। ব্রিটিশদের দেওয়া নামেই থেকেই মিয়া উপাধি আমাদের বংশধররা ব্যবহার করে আছে। আমার আপন বড় চাচাও আব্দুল মান্নান মিয়াও জমিদারি করেছেন। তারপর শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের সময় জমিদারি প্রথা স্থগিত হয়। আমাদের জমিদারী চলে যায় ।

তিনি জানান, ১৯৯০ সালে আমাদের কিছুটা সমস্যা হয়েছিল তখন আমার বড় চাচা আব্দুল মান্নান মিয়া প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে এটি কিছুটা সংস্কার করেন । তারপর আমার ভাই আবার হাইকোর্টের রিট করে এটি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এনে ২০১৩ সালে আমারা এককভাবে সংস্কার করি । এখানে প্রতিনিয়ত দেশ ‍বিদেশ থেকে হাজাও মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন নিদর্শন দেখতে আসেন বেশ কয়েক বছর আগে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ও ভারতের রাষ্ট্রদূত এই মসজিদটি পরিদর্শন করেছিলেন এছাড়াও দেশের বেশ কয়েকটি দেশের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিরা এখানে এসেছিলেন।




পটুয়াখালীতে মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: 

পটুয়াখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস।

২৬ মার্চ মঙ্গলবার সকালে ডিসি স্কয়ারে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির শুভ সূচনা করা হয়।

সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ও ‍বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে কলেজের কর্মচারীকে পেটানোর অভিযোগ

ভোর ৫ টা ৫৬ মিনিটে কলাপাড়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিব্বুর রহমান মহিব।

এদিকে একই সময় শহীদদের স্মরণে জেলা কেন্দ্রীয় স্মৃতিসৌধ ও জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সসদ্য নাজনিন নাহার লাইজু ও  জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম।
এরপর জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনে নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

 




বেগুন চাষে কৃষকের বাজিমাত ভোলার মফিজ

বরিশাল অফিস:: ভোলার লালমোহন উপজেলায় বেগুন চাষে আশানুরূপ ফলন পেয়ে খুশি মো. মফিজ নামে এক কৃষক। উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের পাঙাশিয়া এলাকায় ১৭৬ শতাংশ জমিতে এ বছর জমি লিজ নিয়ে তৃপ্তি জাতের বেগুন চাষ করেছেন তিনি। বাজারে এ জাতের বেগুনের চাহিদা থাকায় লাভবান হওয়ার স্বপ্ন বেগুন চাষি কৃষক মো. মফিজের। তার ক্ষেতের গাছগুলো এখন বেগুনে পরিপূর্ণ।

বেগুন চাষি মফিজ জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে আমি কৃষি চাষাবাদের সঙ্গে জড়িত। গত কয়েক বছর ধরে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি মৌসুমে বেগুনের চাষ করছি। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর ক্ষেতে ফলন অনেক ভালো হয়েছে। ক্ষেতের গাছগুলোতে বর্তমানে ব্যাপক পরিমাণে বেগুন রয়েছে। গত ১০ দিন আগ থেকে বেগুন তোলা শুরু করেছি। এরইমধ্যে ক্ষেত থেকে তিনবার বেগুন তুলেছি। এসব বেগুন লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন আড়তে পাইকারি বিক্রি করি। বর্তমানে বেগুনের বাজার দর কিছুটা কম। তবুও গড়ে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে আড়তে এসব বেগুন বিক্রি করছি।

তিনি আরো জানান, আগামী দেড় মাসের মতো ক্ষেতে ফলন থাকবে। আশা করছি ক্ষেতের সব ফসল সাড়ে চার লাখ টাকার মতো বিক্রি করতে পারবো। তবে ক্ষেতের সব ফসল বিক্রি করা পর্যন্ত অন্তত সাড়ে তিন লাখ টাকার মতো খরচ হবে। খরচের মধ্যে রয়েছে- জমি লিজ, জমি প্রস্তুত, কীটনাশক ও শ্রমিকসহ অন্যান্য ব্যয়। এ বছর বাজারে বেগুনের দাম কিছুটা কম। দাম আরেকটু বেশি হলে অধিক লাভবান হতে পারতাম। তারপরও ক্ষেতের সব ফসল বিক্রি শেষে যা লাভ হবে তা নিয়েই খুশি থাকবো।

পাঙাশিয়া এলাকার সুমন ও তপন অধিকারী নামে অন্য দুই কৃষক বলেন, আমাদের এলাকায় কৃষকরা বেগুন চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তার মধ্যে সবচেয়ে ভালো ফলন হয়েছে মফিজ মিয়ার। তার ক্ষেতে অনেক ফলন রয়েছে। বাজারে দাম একটু কম হলেও মফিজ মিয়া তার ক্ষেতের বেগুন বিক্রি করে মোটামুটি ভালোই লাভবান হবেন। আগামীতে আমরাও বেগুন চাষের কথা ভাবছি। কারণ ঠিকমতো পরিচর্যা করলে বেগুনের অনেক ভালো ফলন পাওয়া যায়। আর বাজারেও বেগুনের চাহিদা থাকে।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা টুটুল চন্দ্র সাহা জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা প্রত্যেক কৃষকের খোঁজ-খবর রাখার চেষ্টা করি। আমরা চাই কৃষকরা যেন চাষাবাদ করে কোনোভাবে ক্ষতির সম্মুখীন না হন। এছাড়া কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমরা কৃষকদের নতুন বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। এ জন্য তাদের পরামর্শ প্রদানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছি। লালমোহন উপজেলা কৃষি অফিস সব সময় কৃষকদের সফলতার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।




জীবদ্দশায় পাগল, মৃত্যুর পর ঝালকাঠিতে প্রকাশ পায় কেরামতি

বরিশাল অফিস::  পাগলের ছদ্মবেশে পথিক হিসেবে তিন বছর ধরে চলাফেরা করেছেন শেখেরহাট এলাকায়। করুণা করে যে যা খাবার দিয়েছেন তা খেয়েই জীবিকা নির্বাহ করতেন। অবহেলা আর অযত্নে তিনি মারা যান। মারা যাওয়ার পর থেকেই প্রকাশ হতে থাকে তার আধ্যাতিক কেরামতি। ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট বাজার সংলগ্ন মোহাম্মদ আঞ্জির শাহ’র মাজার পরিদর্শনে গিয়ে জানা গেছে এসব তথ্য।

তথ্য প্রদানে সহায়তা করেছেন মাজারের প্রধান খাদেম ও মসজিদের মুয়াজ্জিন ওমর ফারুক। জনশ্রুতি অনুযায়ী তিনি জানান, প্রায় শত বছর আগে পাগল বেশে শেখেরহাট বাজার এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন মোহাম্মদ আঞ্জির শাহ। পাশের একটি স্কুলে রাত্রিযাপন করতেন। দিনে যে যা দিতেন তা খেয়েই তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন।

একদিন ঘুমের মধ্যে তিনি মলত্যাগ করলেন ওই বিদ্যায়লয়ের কক্ষেই। প্রধান শিক্ষক সকালে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতেই মলের দুর্গন্ধ টের পান। তখন পাগল হিসেবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রচন্ড মারধর করেন। নদীতে নামিয়ে গোসলও করান। তখন প্রধান শিক্ষকের মাথা থেকে পা পর্যন্ত তিনবার কড়া দৃষ্টিতে তাকালেও মুখে কোনো কথা বলেননি। পরের দিন আবার ওই স্থানেই তিনি ঘুমান।

প্রতিদিনের মতো ওই প্রধান শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতেই তিনি টের পান প্রচন্ড ময়লার দুর্গন্ধ। ঢুকে দেখলেন শ’ খানেক লোকে মলত্যাগ করছে এমন অবস্থা। শিক্ষক রাগান্বিত হয়ে আবার ঘুমন্ত অবস্থার মানসিক বিকারগ্রস্ত পথিককে নাড়া দেন। ওইদিনেও কোনো সাড়া শব্দ আসেনি। পা ধরে নাড়া দিলে তার সমস্ত শরীর নড়ে ওঠে। সময়টা ছিলো পৌষ মাস। মলযুক্ত দেহ ও আসবাবপত্র প্রতিবেশীদের সহায়তায় বাহিরে রেখে মানুষকে মৃত্যুর খবর দিতে যান তিনি। এসে দেখেন একপশলা বৃষ্টি পড়ে সব কিছু ধুয়ে নিয়ে গেছে। হয়েছে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন। এরপর স্থানীয়ভাবে তাকে দাফনের চেষ্টা।

পুরাতন পারিবারিক গোরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়ে কবর খুঁড়তে গেলে খুন্তির প্রতিটি কোপে উঠে আসে পানি। এতে অবাক হন কবর খোঁড়া লোকজন এবং স্থানীয়রা। সেদিন শেখেরহাটের সাপ্তাহিক বাজারের দিন। তখন শেখেরহাট বাজার থেকে অপরিচিত দুজন ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে ওই পুরাতন কবর সংলগ্ন গাবখান নদীর তীরে সঠি (হঠি) বনের মধ্যে তার দাফনের জন্য অনুরোধ করেন। সেখানে স্বাভাবিকভাবেই কবর খুঁড়ে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।

দাফনের ১৭ দিন পর স্বপ্নে দেখে তার খোঁজে ভারত থেকে এক লোক আসেন। তিনি নিজেকে মোহাম্মদ আঞ্জির শাহ’র ভাই পরিচয় দেন। তাদের বরাত দিয়ে খাদেম ওমর ফারুক জানান, ভারতের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওবন্দ দাওরায়ে হাদীস উত্তীর্ণ মোহাম্মদ আঞ্জির শাহ ছিলেন খোদাভীরু ও নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন। তারা দুই ভাই একই রুমে থাকতেন। একদিন তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে কুরআন তিলাওয়াত করা অবস্থায় মাথা ব্যথার কথা বলে চিৎকার করে বাসা থেকে বের হন। এরপর স্বজনরা তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আর কোনো সন্ধান পাননি।

মারা যাওয়ার পরে স্বপ্নে ঝালকাঠিতে তার দাফন হয়েছে বলে দেখতে পান। সে অনুযায়ী খুঁজতে খুঁজতে খুলনা হয়ে ঝালকাঠি শহরের আড়দ্দারপট্টিস্থ একটি আবাসিক হোটেলে রাত্রি যাপন করেন। আবারো স্বপ্নে দেখা দিয়ে বলেন, তুমি আমাকে পেছনে ফেলে গেছো, গাবখান নদীর তীর ধরে খুঁজতে থাকো ,তাহলেই আমাকে পাবে। খুঁজতে খুঁজতে শেখেরহাট বাজার এলাকায় তার কবরের সন্ধান পান। তখন তিনি এলাকাবাসীকে পরিচয়টি জানান।

পরিচয় জানার পরে স্থানীয় সিদ্দিক নামের একজনকে স্বপ্নে দেখান, তার কবরটা ঢেকে দেওয়ার জন্য। তিনি তিনবার স্বপ্নে দেখে মোকামিয়া পীর সাহেব (হাসনা পাগলা) এর কাছে গেলে তিনি বলেন, আমি তোমাকে স্মরণ করছিলাম, চিঠিও লিখতে চাইছিলাম। তুমি আসছো বেশ ভালোই করছো।

তখন সিদ্দিক তার স্বপ্নের কথা বললে পীরসাহেব হুজুরও স্বপ্নে দেখেছেন বলে স্মরণ করছিলেন। তার কবর ঢাকতে নির্দেশনা দিলে সে অনুযায়ী ঢেউ টিন দিয়ে কবরটি ঢেকে দেন। বিষয়টি শরীয়ত পরিপন্থি বলে স্থানীয় এক আলেম টিন খুলে নিয়ে তার প্রতিষ্ঠিত জুনিয়র মাদরাসায় ব্যবহারের জন্য রাখেন। রাতে হঠাৎ ঝড়ে তার মাদরাসা এবং বাড়িঘর সব ভেঙে তছনছ হয়ে যায়। সকালে ওই আলেমের তিন ছেলেরই ডায়রিয়া হয়। দুজন সঙ্গে সঙ্গেই মারা যান। পরের রাতে তাকে স্বপ্নে দেখানো হয় আমার কবরের টিন যেভাবে ছিল সেভাবেই রাখতে হবে, নয়তো কেউ বাঁচবে না। সকালে আবার সেই টিন দিয়ে ঢেকে দিলে তিনি বিপদ মুক্ত হন। এরপর থেকেই আউলিয়া হিসেবে তার কেরামতি প্রকাশ হতে থাকে।

গাবখান নদীটি আন্তর্জাতিক নৌ-রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একদিন একটি বিদেশি জাহাজ ওই মাজারের পাশ দিয়ে জোরে চালিয়ে যাওয়ায় পানিতে ডুবে যায়। এরপর থেকেই মাজারের পাশ দিয়ে নৌযান চলাচলের সময়ে গতি কমিয়ে ধীরে ধীরে যাওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি হয়।

খাদেম ওমর ফারুক আরো জানান, মাজারের পাশে জামে মসজিদ নির্মাণ, মাজারের ভবন নির্মাণ ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে দুটি বিশ্রামাগার। নদীর সঙ্গে তিনটি সিঁড়ি দিয়ে অজুর ব্যবস্থা রয়েছে। (আঞ্জির শাহ) জীবিত থাকতে কেউই বুঝতে পারেননি, তিনি আল্লাহর ওলি ছিলেন। মারা যাওবার পর ধীরে ধীরে তার পরিচয় প্রকাশ হতে থাকে।




ঝগড়ার সময় শান্ত থাকতে ৫ উপায়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সম্পর্কে ঝগড়া হবেই। আর ঝগড়া হলে কখনো কেউ মিষ্টি করে কথা বলে না। ঝগড়া মানেই উচু গলায় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। কিন্তু রেগে গিয়ে মানুষ যা বলে, তার বেশিরভাগই অর্থহীন। ঝগড়া কখনো সমাধান আনে না। বরং আপনি যদি সত্যিই সমাধান চান তাহলে ঝগড়ার সময় শান্ত থাকতে হবে। এটি মোটেও সহজ নয়। কিন্তু সম্পর্ক ভালো রাখার খাতিরে আপনাকে শান্ত থাকতে হবে। কীভাবে? চলুন জেনে নেওয়া যাক ৫ উপায়-




ভ্যান গাড়িতে বই বিক্রি করছেন বরিশালে মুক্তিযোদ্ধা এনছান আলী

বরিশাল অফিস:: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় ৮৭ বছর বয়সে জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও দেশ গড়ার লক্ষ্যে ভ্যানগাড়িতে ব‌ই নিয়ে ছুটছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এনছান আলী খান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ মুক্তিযুদ্ধ করতে শক্তি ও সাহস অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বিহারিপুর গ্রামে মুক্তিযুদ্ধা এনছান আলী খান ১৯৩৬ সনে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আব্দুল গনি খান ছিলেন পেশায় একজন কৃষক।

এনছান আলী অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কাফিলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করেন। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তান সরকারের পুলিশবাহিনীতে চাকরি করতেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সৈন্যরা বাঙালির উপরে। সেই সময় ১৯৭১ এর রণাঙ্গনে মুক্তিকামী সৈনিক ২ নম্বর সেক্টরে ক্যাপ্টেন হায়দার আলীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এনছান আলী খান। ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে অস্ত্র হাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে।

পুলিশে কর্মরত অবস্থায় সোনারগাঁও, কাচপুর, মুগ্ধাপাড়া, আদমজী জুট মিল সংলগ্ন এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ রক্ষায় ঢাকা সারদা পুলিশ লাইনে জীবনকে বাজি রেখে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।

মুক্তিযোদ্ধা এনছান আলী বর্তমানে বই বিক্রি করছেন ভ্যান গাড়িতে। ঝুপড়ি ঘরে করছেন জীবনযাপন। জীবনের এই ক্রান্তিলগ্নে এসেও ৮৭ বছর বয়সে স্বপ্ন দেখে আগামী দিনগুলোর।

মুক্তিযোদ্ধা এনছান আলী বলেন, আমি ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে এখন ২০ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা পাচ্ছি। সম্মানী ভাতা দিয়ে আমার সংসার চলে যায়। গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে ভ্যান গাড়িতে বই বিক্রি করি মানুষের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও ইসলামী শিক্ষার দিনের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারে, সেজন্য আমি বাকেরগঞ্জ উপজেলা শহর থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নের পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঘুরে ভ্যান গাড়িতে করে বিনা লাভে স্বাধীনতার ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর জীবনীসহ বিভিন্ন রকমের বই বিক্রি করতেছি। এতে করে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ মুহূর্তে এসে নানান রোগে আক্রান্ত হয়ে শরীরের শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। ভ্যান গাড়ি এখন আর যেন চলছে না। দুই পায়ে দেখা দিয়েছে ব্যথা। পাড়া মহল্লায় ভ্যান গাড়ি নিয়ে বই বিক্রি করতে অনেক টা কষ্ট হচ্ছে।

এ মুক্তিযোদ্ধা বলেন, আমি বাড়ি ঘর চাই না। সরকার আমাকে একটি দোকান ঘর দিলে ভ্যান গাড়িতে নয় দোকানে বসে বই বিক্রি করতাম। আমি বরিশাল জেলা প্রশাসকসহ উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছি।




রোজাদারদের কাছে অর্ধেক ভাড়া নেন পিরোজপুরে রিকশাচালক ইউসুফ

বরিশাল অফিস::  পিরোজপুরে রমজান উপলক্ষে অর্ধেক ভাড়ায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছেন রিকশাচালক ইউসুফ। এ ছাড়াও প্রতিদিন এলাকার অসহায় রোজাদার ব্যক্তিদের নিজ উদ্যোগে ইফতারি করান তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ গোটা পিরোজপুরে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

সোমবার সরেজমিনে ইউসুফের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, পিরোজপুর পৌরসভার রায়েরকাঠি গ্রামের সালেক দরানীর ছেলে তিনি। বেশ কয়েক বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে। একমাত্র ছেলে ঢাকায় পোশাক কারখানা কাজ করেন। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন।

ইউসুফ জানান, রমজান মাসে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন পণ্যের দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। এটা জেনে তিনিও সিদ্ধান্ত নেন ২০ রোজা পর্যন্ত রোজাদার যাত্রীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেবেন। এ ছাড়াও তিনি প্রতিদিন ইফতারের আগে দরিদ্র রোজাদার ব্যক্তিদের কাছে ইফতার পৌঁছে দেন।

এর কারণ হিসেবে ইউসুফ বলেন, ‘বিশ্বে বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ চলছে, সেখানে শিশুসহ অনেকে খাবার পাচ্ছে না। আমাদের দেশেও অনেক মানুষ রোজাদার অসহায়, তাই তাদের কথা চিন্তা করেই ২০ রোজা পর্যন্ত হাফ ভাড়া নেব এবং পুরো মাস ধরেই অসহায় কিছু মানুষকে ইফতার করাব ইনশাআল্লাহ।’

তিনি আরও জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে রিকশা চালালেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও কম ভাড়া নেন। কোনো শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের হলে তার কাছে টাকা নেন না তিনি।

নিজের স্বল্প আয় থেকে কীভাবে এটি করছেন, এ প্রসঙ্গ রিকশাচালক ইউসুফ জানান, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত রিকশা চালান। এরপর বাড়িতে বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় ইফতারির পর আবার রাস্তায় বের হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত রিকশা চালান। রমজানের আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা আয় ছিল। রোজা উপলক্ষে ছাড় দেওয়ার পরও আয় কমেনি। কারণ ভাড়া অর্ধেক নেওয়ায় যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে।

রিকশাচালক ইউসুফের প্রসঙ্গে কথা হয় পিরোজপুর শহরের বাসিন্দা গিয়াস আবুর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘শহরে দেখা হলে আমি ইউসুফের রিকশায় চড়ে বাসায় যাই। রমজান উপলক্ষে অর্ধেক ভাড়া সত্যিই প্রশংসনীয়। এমনটা হয়তো অনেকে চিন্তাও করতে পারে না।’

পিরোজপুর জেলা উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি খালিদ আবু  বলেন, ‘ইউসুফকে আমি অনেক বছর ধরে চিনি। রমজানে ওর এই অর্ধেক ভাড়ার বিষয়টি সত্যিই অনেক মহৎ উদ্যোগ। ওর থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত, রমজানে কীভাবে ছাড় দিতে হয়। একজন রিকশাচালকের এমন উদ্যোগ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

পিরোজপুর জেলা শাখায় সুজনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, ‘রিকশাচালক ইউসুফের কাছ থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত। তার এই রমজানে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। পণ্যের দাম বৃদ্ধি, সড়কপথে ভাড়া বৃদ্ধি, গরিব মানুষের ভোগান্তি কমাতে, আমাদের সকলকে ইউসুফের মতো কিছু কিছু উদ্যোগ নেওয়া উচিত।’




চশমায় এআই প্রযুক্তি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি) উৎসবে ‘এয়ার গ্লাস ৩’ উন্মোচন করেছে অপো, যা অ্যাসিস্টেড রিয়েলিটি চশমার নতুন প্রজন্মের প্রটোটাইপ। চশমা দিয়ে কথা বলা, বার্তা পড়া, ছবি তোলা, ভিডিও– সবই করা সম্ভব। স্মার্টফোন দিয়ে অ্যান্ডেসজিপিটি মডেলে প্রবেশ করতে পারবে এয়ার গ্লাস থ্রি, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অভিজ্ঞতা দেবে।

উন্মোচনের আগেই এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে ‘এআই স্মার্টফোন হোয়াইট পেপার’ প্রকাশ করে ব্র্যান্ডটি, যা স্মার্টফোনকে এআই ঘরানার স্মার্টফোনে রূপান্তরের সূচনা করল।

বাইনোকুলার এআর চশমা: ইমেজ, টেক্সট, অডিও-ভিডিও ডেটা বুঝতে চশমাটি চৌকস। যার মাল্টিমোডাল এআই প্রযুক্তি ভয়েস ও ভিজ্যুয়ালের মতো আরও জটিল ইউজার সিনারিওর প্রক্রিয়া করে তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। এটি যোগাযোগে খুলে দেবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। ফিচার ব্যবহারে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে এক্সআর (এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি) সব ডিভাইস। সত্যিকার অর্থে ব্যক্তিগত, দৈনন্দিন স্মার্ট সহকারীর ভূমিকা নিতে হলে প্রয়োজন মানোন্নত কার্যকারিতা ও লাইটওয়েট ডিজাইন। লক্ষ্য পূরণে একেবারে নতুন এয়ার গ্লাস ৩ প্রটোটাইপ চালু করে ব্র্যান্ডটি।

এআই গবেষণা: সুদীর্ঘ সময় ধরে ব্র্যান্ডটি এআই উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে। ব্র্যান্ডটি এখন এআই প্রযুক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির কৌশল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্র্যান্ডটি ফেব্রুয়ারি মাসে এআই সেন্টার উদ্বোধন করে। ব্র্যান্ডের সক্ষমতাকে এআই রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপ করে যথাযথ কাজে লাগানো হবে। সারাবিশ্বে এআই প্রযুক্তির সুবিধা ছড়িয়ে দিতে অত্যাধুনিক এবং গ্রাহকবান্ধব প্রযুক্তি ও অ্যাপ নিয়ে নিয়মিত গবেষণা সচল থাকবে বলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে রেনো-১১ সিরিজ ও ফাইন্ড এনথ্রি সিরিজে এআই সুবিধার জেনারেটিভ এআই ফিচার যুক্ত করা হবে। ভবিষ্যতে ব্র্যান্ডটি ‘জেনারেটিভ এআই’ ফিচারকে বৈশ্বিক বাজারে রেনো সিরিজের নেক্সট জেনারেশন ডিভাইসে যুক্ত করবে। ফলে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্ট, কার্যকর ও সুবিধাজনক জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা পাবে ব্যবহারকারীরা।




শেখ হাসিনা সেনানিবাসে সমরাস্ত্র প্রদর্শনী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পটুয়াখালীর লেবুখালী শেখ হাসিনা সেনানিবাসে সাত দিনব্যাপী সমরাস্ত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে।

রোববার (২৪ মার্চ) সকালে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আবদুল কাইয়ুম মোল্লা। পরে তিনি প্রদর্শনীর স্টলগুলো পরিদর্শন করেন।

মেজর জেনারেল আবদুল কাইয়ুম মোল্লা বলেন, ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস বর্তমানে সেনাবাহিনীকে অস্ত্রেসস্ত্রে আরও আধুনিক করেছে।’

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এমপি। এছাড়া বরিশাল ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, র‍্যাব ৮ এর সিইওসহ সামরিক কর্মকর্তা, পটুয়াখালী ও বরিশাল জেলার অসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: গলাচিপায় কলেজছাত্র জিসান হত্যা ঘটনায় ২ জন আটক

পটুয়াখালীর শেখ হাসিনা সেনানিবাসের এই সমরাস্ত্র প্রদর্শনী চলবে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬ দিন জনসাধারণের জন্য এ প্রদর্শনী উন্মুক্ত থাকবে।

উল্লেখ্য, প্রথমবারের মতো বরিশাল এরিয়ায় এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন আর্মস এবং সার্ভিলেনের কার্যক্রম, মহান মুক্তিযুদ্ধ, শেখ হাসিনা সেনানিবাসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, দেশ ও জাতি গঠনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও সাফল্য এবং সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র প্রদর্শন করা হয়েছে।

 




বাউফলে বাড়ছে অবৈধ অস্ত্র : উপজেলা নির্বাচনে ব্যবহারের আশঙ্কা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : বাউফলে ক্রমেই বাড়ছে অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল ও অন্যান্য অপরাধে ব্যবহার হচ্ছে এসব অবৈধ অস্ত্র। অহরহ ঘটছে অস্ত্র প্রদর্শন, ফাঁকা গুলি ও হতাহতের ঘটনা। এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নেই কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি। ফলে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সম্প্রতি বড় ভাইয়ের অবৈধ অস্ত্রের গুলিতে প্রতিবন্ধী ছোট ভাই নিহত হওয়ার ঘটনায় বাউফলে আবারো আলোচনার শীর্ষে উঠে আসে অবৈধ অস্ত্র।

সূত্র জানায়, গত ৯ মার্চ উপজেলার সূর্যমণি গ্রামের বাবুল সওদাগরের বড় ছেলে পৌর শহরের নবারুণ সার্ভে অ্যান্ড পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র সজীব হোসেন (২২) তার কাছে থাকা অবৈধ পিস্তল নাড়াচাড়া করতে গিয়ে বেড়িয়ে যাওয়া গুলিতে নিহত হন প্রতিবন্ধী ছোট ভাই সাব্বির হোসেন (১৩)। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত সজীবকে আটক করে এবং তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী পিস্তলটি জব্দ করে।

এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে আলোচনার ঝড় উঠে। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার এবং হত্যার অভিযোগে সজীবের নামে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। অবৈধ অস্ত্র মামলার বাদী পুলিশ এবং হত্যা মামলার বাদী অভিযুক্ত সজীবের মা রাশেদা বেগম। দুই মামলায় জেলহাজতে পাঠানো হলে সজীব অবৈধ অস্ত্রের ব্যাপারে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এর বেশি কিছু বলছেন না।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সজীব ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালিয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ জোগান। তার সঙ্গে শহরের একটি সন্ত্রাসীগোষ্ঠীর সম্পর্ক গড়ে উঠে। ওই সন্ত্রাসীরা সজীবকে অবৈধ অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহার করে আসছিলেন।

আরো পড়ুন : দুমকিতে চলাচলের পথে কাঁটাতারের বেড়া, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

চলতি বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগা ইউনিয়নে নৌকার উঠান বৈঠক শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল খান। হামলার সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে সন্ত্রাসীরা অবৈধ শর্টগানের ফাঁকা গুলি ছুড়েছিল। এ ঘটনায় রেজাউল গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

২০১৮ সালে বাউফল সদর ইউনিয়নে এক সভায় স্থানীয় এমপি ও সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের ছেলে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য রায়হান শাকিবকে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে হুমকি দেয়া হয়েছিল।

২০২১ সালে অনুষ্ঠিত নওমালা ইউপি নির্বাচনে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেখা গেছে। ওই সময় অবৈধ অস্ত্রের গুলিতে একজন আহত হয়েছিলেন।

এসব ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও উদ্ধার হয়নি কোনো অস্ত্র। অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও জনমনে উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিরোধের জের, স্থানীয় নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও রাজনৈতিক নেতাদের সুনজরে থাকতেই ব্যবহার হচ্ছে ওই সব অবৈধ অস্ত্র।

জানা গেছে, ওয়ান শুটারগান, পাইপগান, এলজি, একে-২২, বিদেশি নাইন এমএম পিস্তল, সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ, নাইন এমএম, পয়েন্ট টু টু রিভলবারের মতো আগ্নেয়াস্ত্র এবং রাম দা, বাগি দা ও গিয়ার চাকু জাতীয় অস্ত্রও রয়েছে সন্ত্রাসীদের হাতে। বিভিন্ন সময় এসব অস্ত্র পরিবহনে ‘কিশোর অপরাধী চক্র এবং মোটরসাইকেলের চালকদের ব্যবহার করা হয়।

বাউফলের সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান কোনোভাবেই সন্তোষজনক বলা চলে না। অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি এবং মাদকের দাপটে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত এবং উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিনাতিপাত করছেন। শীঘ্রই আসছে উপজেলা পরিষদের নির্বাচন। ওই নির্বাচনেও আধিপত্য বিস্তার করতে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবেক চিফ হুইপ স্থানীয় এমপি আ স ম ফিরোজ বলেন, বিগত বিশ-ত্রিশ বছরে এ রকম অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখিনি। একই সঙ্গে মাদকে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে বাউফল। এ কারণে যুব ও তরুণ সমাজ ধংসের পথে। জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোতাদের ধরতে পুলিশের ঊধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করি দ্রুতই তারা পদক্ষেপ নেবেন।

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার সম্পর্কে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শোনিত কুমার গায়েন বলেন, আমি যোগদান করার পর থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কাজ শুরু করেছি। এছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এর বেশি কিছু বলা যাবে না।