পটুয়াখালী ইপিজেডে ১৩৫০ মিলিয়ন বিনিয়োগের প্রত্যাশা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী রপ্তানী প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) প্রকল্পের অধিগ্রহণকৃত জমি বেপজা কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (১ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১ টায় সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের পঁচা কোড়ালিয়া মৌজায় এ হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক নূর কুতুবুল আলমের সভাপতিত্বে জমি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রত্যাশী সংস্থা বেপজার পরিচালনা কমিটির সদস্য (প্রকৌশল) মোহাম্মদ ফারুক আলম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো: ওবায়দুর রহমান,প্রকল্প পরিচালক মো: শফিকুল ইসলাম।

আরো পড়ুন : পায়রা বন্দরে শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যু

স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্প পরিচালক জানান, পটুয়াখালী ইপিজেড পূর্নাঙ্গ চালু হলে এখানে প্রায় এক হাজার ৫৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হবে। প্রতি বছর এখান থেকে এক হাজার ৮৬০ মিলিয়ন ডলার আয় হবে। বিদেশি বড় বড় কোম্পানি পটুয়াখালী ইপিজেডে বিনিয়োগ করার জন্য উম্মুখ হয়ে আছে।




যে ৪ কারণে খুশকি হতে পারে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  খুশকি হলো মাথার ত্বকের একটি সাধারণ অবস্থা যা মৃত ত্বকের কোষ দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ম্যালাসেজিয়া নামক একটি খামিরের মতো ছত্রাকের অত্যধিক বৃদ্ধির ফলে হয়, যার ফলে চুলকানি এবং জ্বালা হয়। শুষ্ক ত্বক, তৈলাক্ত মাথার ত্বক এবং ত্বকের কিছু সমস্যার কারণে খুশকি বেড়ে যেতে পারে। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি এবং চিকিৎসার মাধ্যমে খুশকি দূর করা সম্ভব। কিছু খাবার খাওয়া কিংবা কিছু খাবারের অভাবের কারণেও খুশকি হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক-



ওজন কমাতে হলুদ যেভাবে খাবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  হলুদ আমাদের অনেক রান্নায়ই ব্যবহৃত হয়। মসলাটি ওজন কমাতে সাহায্য করা সহ আরও অনেক স্বাস্থ্য সুবিধার জন্য পরিচিত। হলুদের সক্রিয় যৌগ কারকিউমিনের মধ্যে প্রদাহবিরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে শুধু হলুদ ওজন কমানোর জন্য জাদুকরী কোনো সমাধান নয়, এটি সঠিক উপায়ে ডায়েটে অন্তর্ভুক্ত যোগ করতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক-



সূর্যমুখী চাষে সফলতার মুখ দেখছেন উপকূলের হাজারও কৃষক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা পটুয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল কলাপাড়া উপজেলার মাঠে প্রান্তরে এ যেন হলুদের সমারোহ। মাঠের পর মাঠ বিলের পর বিল যেদিকে তাকাই সেদিকে শুধু হলুদ গালিচার মতো সূর্যমুখী খেত। কম খরচে অধিক ফলন ও লাভবান হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছে এ উপজেলার কৃষকরা। ভোজ্যতেলের মূল্য বৃদ্ধিতে বিকল্প পদ্ধতি ও অধিক লাভের আশায় দিন দিন এটি চাষ বাড়ছে বলে মনে করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় সূর্যমুখী খেত পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে উপকূলের হাজারও কৃষক। ভালো ফলন ঘরে তোলার আশায় পরিচর্যার কোনো কমতি নেই তাদের মাঝে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর মোট ১৯৫০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইসান-৩৩, বারি সূর্যমুখী-১ ও বারি সূর্যমুখী-২ জাতের ফুলের চাষ বেশি করেছে কৃষকরা। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় ১২’শ হেক্টর জমিতে এ ফুলের চাষ বেশি হয়েছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় কমবেশি এ সূর্যমুখী ফুলের চাষ হয়েছে বলে কৃষি অফিস নিশ্চিত করেছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ধর্ষণের শিকার চতুর্থ শ্রেনী‌তে পড়ুয়া শিশু

কৃষকরা জানান, তাদের প্রতি বিঘা জমিতে ১৩ থেকে ১৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন ভালো হবে। এতে তারা সুর্যমূখীর বিচি প্রতি মণ ৩৫’শ টাকার ওপরে বিক্রি করতে পারবেন। তবে স্থানীয়ভাবে এ বীজ থেকে তৈল উৎপাদনের সুযোগ থাকলে আরও লাভবান হওয়া যেত বলে একাধিক সূর্যমুখী চাষিরা জানান।

লতাচাপলী ইউনিয়নের নয়া পাড়া গ্রামের কৃষক সোহরাফ জানান, বর্তমানে তার খেতের ফলন খুব ভালো হয়েছে। শুরুতে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হলেও কৃষি অফিসের পরামর্শে তা ঠিক হয়ে গেছে। এ বছর তিনি ১০ একর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় দুই লাখ টাকা। ফসল উঠলে পাঁচ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

কুয়াকাটা পৌরসভার তুলাতলী এলাকার কৃষক জয়নাল আকন বলেন, আমি এক একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর আমাদের সূর্যমুখী ফলন খুবই ভালো। সঠিকভাবে সার ওষুধ ও কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ভালো ফলনের আশা করছি আমরা। তবে বৃষ্টি হলে আরও ভালো ফলন হতো।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.চিন্ময় হাওলাদার বলেন, সূর্যমুখী ফুলের তেল স্বাস্থ্যসম্মত ও বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর। এ তেলের ব্যবহার বাড়ানো গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই কমবে।

আরো পড়ুন : ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে জঙ্গলে নিয়ে গলা কেটে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত হোসেন বলেন, কৃষকদের আমরা বিনামূল্যে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক দিয়ে সহযোগিতা করেছি। কৃষকরা সূর্যমুখী চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছে। গত বছর ৭২০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হলেও এ বছর তা অনেক বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ বছর উপজেলায় মোট ১৯৫০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। আমরা কৃষি প্রণোদনার আওতায় ২৪’শ কৃষককে ১ কেজি করে সূর্যমুখীর বীজ ও পর্যাপ্ত পরিমাণ সার দিয়েছি। আগামীতে আরও বেশি জমি এ চাষাবাদের আওতায় আনা হবে।




স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন পিরোজপুরের পুরাকীর্তি মসজিদ

বরিশাল অফিস :: মোগল আমলের স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন বেড়াচ্ছে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া পৌর শহরের মিয়াবাড়িতে পৌনে ৪শ বছরের একটি প্রাচীন পুরাকীর্তি মসজিদ। উপজেলার পোনানদী পাড় জুড়ে মিয়া বাড়ীর সামনে এ মসজিদটি অবস্থিত। চমৎকার নির্মাণশৈলীর এক গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদটি মুঘল আমলের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি। প্রতিবছর প্রচুর পর্যটক এই মসজিদটি দেখার জন্য এখানে ছুটে আসেন।

স্থানীয় আবুল কালাম আজাদ নামের এক মুসল্লি জানান, কয়েক বছর আগে প্রতœতত্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পুরাকীর্তি মসজিদটি সংস্কার করা হয় এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান মন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া সংরক্ষিত প্রাচীন এ পুরাকীর্তি মিয়াবাড়ি মসজিদ সংস্কার শেষে উদ্বোধন করেণ। ৩০ ফুট লম্বা এবং ১৭ ফুট চরড়া। এই মসজিদটি ১৬শ খৃষ্টাব্দের শেষের দিকে নির্মাণ করা হয়েছে । এই মসজিদটি ছাড়াও এ উপজেলায় স্থানীয় কাজী বাড়ি,ভান্ডারিয়ায় থানার পিছনে ও ভেলাই চোপদারের বাড়ীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ধরণের আরও ৬টি মসজিদ রয়েছে। যা এখনো সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে এখনো কালের স্বাক্ষি হয়ে পড়ে আছে। মসজিদগুলো সংস্কারের দাবি জানাই ।

সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, মসজিদ গুলোর দেয়ালে লাল ইট আর চুনা পাথরের মিশ্রণের কাজে দিল্লির লাল ইটের স্থাপত্যরীতির প্রভাব রয়েছে। এর দেয়ালগুলোতে রয়েছে ইটের বিন্যাস, পোড়ামাটির ফলকের কাজ। ছাদের গম্বুজ ও খিলানে এক সময় ছিল সোনালি প্রলেপের কাজ। তবে বর্তমানে তা আর চোখে পড়ে না। রেলিং প্রাচীরে ঘেরা ছোট্ট সুন্দর এই মসজিদগুলোতে মিহরাব এবং এক গম্বুজের ভেতরের অংশ পাথরের ফুল, চমৎকার লতাপাতা ও আরব্য নকশায় খোদাইকৃত। মসজিদের ভেতরে ও বাইরে রয়েছে পোড়ামাটির নকশার কাজ, যা মোগল ও স্থানীয় শিল্পরীতির নিপুণ সমন্বয়। ভেতরের চমৎকার ফুলেল নকশায় নির্মিত মসজিদটি নামাজের কাজ ছাড়াও বিচারকার্য এবং সভা পরিচালনার কাজেও ব্যবহৃত হতো ।

স্থানীয় মিয়াবাড়ির বাসিন্দা তমিজ উদ্দিন কাজল জানান, পূর্ব ভান্ডারিয়া গ্রামে একটি প্রাচীন দিঘি রয়েছে। ভেলাই চোকদার নামক একজন ধনাট্য জমিদার আনুমানিক পাঁচ একর জমির উপর মুঘল আমলে এ দিঘিটি খনন করেন। ভান্ডারিয়া কৃতি সন্তান, সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর পারিবারিক উদ্যোগে এ দিঘিটি সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করেন। এ দিঘির পাড়ে ভেলাই চোকদার নির্মিত একটি মসজিদসহ দটি দালান প্রাচীন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এসব মসজিদ জমিদার ভেলাই চোকদারের আমলে তার নির্মিত হয়েছে। যদিও এই মসজিদগুলোর নির্মানকাল বা নির্মাতার নিশ্চিত পরিচয় জানা যায়নি, তারপরেও স্থাপনারীতি এবং এই সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষনে ধারনা করা হয় যে মোগল আমলের শেষদিকে সম্ভবত এই স্থাপনাগুলি নির্মিত হয়ে ছিলো।

উল্লেখ্য: এই মসজিদের চার পাশ ঘিরে রয়েছে ফুল বাগান ও তার সামনে রয়েছে একটি পুকুর। পুকুরটিও বাধিঁয়ে ও লাইটিং দিয়ে দৃষ্টনন্দন করা হয়েছে। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে প্রতœতত্ত অধিদপ্তর কর্তৃক ২০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে মিয়াবাড়ি প্রাচীন মসজিদটির সংস্কার পূর্বক সংরক্ষিত পুরাকীর্তি মসজিদ হিসেবে ঘোষনা করা হয়।




কলাপাড়ায় দেখা মিললো বিলুপ্তপ্রায় উড়ন্ত লাউডগা সাপের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী কলাপাড়ায় দেখা মিলেছে বিলুপ্তপ্রায় উড়ন্ত লাউডগা সাপের। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫ ফুট।

শনিবার (৩০ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের হাড়িপাড়া চৌকিদার বাড়ি সংলগ্ন সড়কের ওপর কিছুটা আহত অবস্থায় সাপটিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে তারা সাপটিকে বালিয়াতলী বনে অবমুক্ত করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে জেলেদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

আহেতুলা ও নাসুটা প্রজাতির মাথা চ্যাপ্টা লম্বা আকৃতির গাড়ো সবুজ বর্ণের এসব সাপ সচারচার দেখা মেলে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সাপটি সড়ক পার হওয়ার সময় যানবাহনের চাকায় চাপা পড়ে আহত হয়েছে বলে জানান তারা।

পথচারী বুলেট আকন বলেন, অন্তত ২০ বছর আগে এই প্রজাতির সাপ দেখেছি। আর আজ কলাপাড়া থেকে বালিয়াতলী হয়ে কুয়াকাটা যাওয়ার পথে আবার দেখলাম। এসব সাপ প্রায় ১ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যের সমান যায়গা উড়ে যেতে পারে। তবে, এগুলো কতটা বিষধর সেটা বলতে পারছি না।

এনিমেল লাভারস অব পটুয়াখালীর কলাপাড়া শাখার টিম লিডার রাকায়েত আহসান বলেন, এসব সাপ এখন প্রায় বিলুপ্ত। আমাদের টিম ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগে সাপটি স্থানীয়রা অবমুক্ত করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ৫ কেজি গাঁজাসহ নারী আটক

বেসরকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিস ইকোফিস-২ প্রকল্পের সহকারী জীব বৈচিত্র্য গবেষক সাগরিকা স্মৃতি বলেন, এটি আহেতুলা ও নাসুটা প্রজাতির সাপ। মাথা চ্যাপটা লম্বা আকৃতির গাড়ো সবুজ বর্ণের এসব সাপ সচারচার দেখা মেলে না। এই সাপের প্রধান খাবার পোকা মাকড়। এই সাপ লাউগাছসহ বিভিন্ন সবুজ গাছের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে ধ্বংস করে।




কোনো কালেই কপালে সুখ জুটলো নায় পটুয়াখালীর আদুরীর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘কোনো কালেই আমার কপালে সুখ জুটলো না! ছোটবেলায় বাবাকে হারালাম। ঢাকায় পরের বাড়িতে কাজ করতে গিয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলাম। ইচ্ছে ছিল পড়ালেখা শিখে মানুষের মতো মানুষ হবো। কিন্তু অভাবের কারণে তা আর হলো না। মা-ভাই দেখেশুনে বিয়ে দিলো। সেখানেও শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন। এখন স্বামী-সন্তান নিয়ে ভাইয়ের ঘরে থাকি। ঠিকমতো খাবারও পাই না। নিজেদের মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই আর ছেলেটাকে যদি মানুষ করতে পারতাম, তাহলে জীবনে আর কিছু চাইতাম না।’

এ ভাবেই নিজের দুঃখের কথা বলছিলেন আদুরী বেগম।

২০১৩ সালে ঢাকার পল্লবীতে গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীর নির্যাতনের শিকার হয়ে সংবাদপত্রের শিরোনাম হন আদুরী বেগম। এ ঘটনায় সে বছর ২৬ সেপ্টেম্বর পল্লবী থানায় গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদী, তার স্বামী সাইফুল ইসলাম মাসুদ, মাসুদের ভগ্নিপতি চুন্নু মিয়া ও তাদের আত্মীয় রনিকে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন নওরীন।

আরো পড়ুন : সুলতান আহমেদ হাওলাদারের দাফন সম্পন্ন 

আদুরীর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফলের জৈনকাঠি গ্রামে। তারা নয় ভাই-বোন। তার বয়স যখন ছয় বছর, তখন বাবা খালেক মৃধা মারা যান। অভাবের সংসারে দু’মুঠো ভাতের জন্য গ্রামের চুন্নু মিয়ার কাছে আদুরীকে কাজের কথা বলেন তার মা। চুন্নু মিয়া প্রথমে বরিশালের শায়েস্তাবাজার এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে কাজ দেন আদুরীকে। সেখানে এক বছর কাজ করার পর তিনি ঢাকার পল্লবীতে তার শ্যালক সাইফুল ইসলাম মাসুদের বাসায় আদুরীকে কাজ দেন।

আদুরী বলেন, ‘তখন আমি খুব ছোট ছিলাম। ঠিক মতো কাজ করতে পারতাম না। সবসময় কারণে-অকারণে আমাকে মারধর করতো। ইস্ত্রি দিয়ে ছ্যাঁকা দিত, আগুন দিয়ে জিহ্বা পুড়িয়ে দিয়েছে। ব্লেড দিয়ে হাত-পা কেটে দিয়েছে। আমাকে বাসি, পচা ভাত দিত। তার মধ্যে অনেক লবণ দিয়ে রাখতো যাতে আমি খেতে না পারি। আদা বাটা, রসুন বাটা জোর করে খাওয়ানো হতো। এখনও সারা শরীরে মাঝে মাঝে ব্যথা করে। ভাত খেতে পারি না, গলা ও পেট জ্বলে। জিহ্বা পুড়িয়ে দেওয়ার কারণে স্পষ্ট করে কথা বলতেও কষ্ট হয়।’

আদুরীর পরিবারের লোকজন জানান, ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাইফুল ইসলামের বাড়িতে থাকাকালীন আদুরীর ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। এ সময় গৃহকর্তী নওরীন জাহানের তীব্র রোষের শিকার হয় সে। খাবার এবং পুষ্টির অভাবে কঙ্কালসার হয়ে পড়ে ছোট্ট আদুরী। ওই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর নির্যাতনের পর মারা গেছে ভেবে আদুরীর ক্ষত-বিক্ষত দেহ রাতের অন্ধকারে পল্লবী এলাকার একটি ডাস্টবিনে ফেলে রেখে যায় নওরীন। পরদিন সকালে ডাস্টবিন থেকে আদুরীকে উদ্ধার করেন লিলি আক্তার নামে এক পথচারী। পরে খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ আদুরীকে নিয়ে যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে তার চিকিৎসা চলে। গঠন করা হয় মেডিক্যাল বোর্ড। এক মাস চিকিৎসা শেষে আদুরী বাড়ি ফিরে আসে।

আরো পড়ুন : ছুটিতে হল বন্ধ করায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

আদুরী বর্তমানে স্বামী ও দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে তার ভাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন। ২০২২ সালে পার্শ্ববর্তী আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মো. ইমরানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতেও সুখ জোটেনি আদুরীর কপালে।

আদুরী বলেন, ‘শ্বশুর-শাশুড়ির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে এক বছর আগে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছি বড় ভাই জুয়েলের ঘরে।’

সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরটি ছোট। এখানে-ওখানে ভাঙা। এই ভাঙা ঘরেই নয়জন মানুষকে থাকতে হচ্ছে। করতে হচ্ছে মানবেতর জীবনযাপন।

আদুরী জানান, তার স্বামী জেলে। এখন সাগর ও নদীতে মাছ কম পাওয়ায় আরো অসহায় অবস্থায় দিন কাটছে তার।
তিনি ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার কপালে আল্লাহ সুখ রাখেননি। সেদিন ডাস্টবিনে যখন পড়ে ছিলাম, একেবারে মরে গেলেই হয়তো ভালো হতো। এখনও অশান্তির শেষ নাই। স্বামীর জালে মাছ উঠলে কপালে ভাত জোটে, না হলে না খেয়ে থাকতে হয়।’

আদুরীর প্রতিবেশী রহমান খা বলেন, ‘আমরা গ্রামবাসীরা টাকা তুলে আদুরীকে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতেও তার সুখ হয়নি। মেয়েটা জনমদুঃখী।’

হোসনেয়ারা নামে আরেক প্রতিবেশী বলেন, ‘ওর (আদুরীর) স্বামী সাগরে মাছ না পেলে এখনও অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হয়। আমারা প্রায়ই সহযোগিতা করি। তার একটা থাকার ঘর খুব দরকার। সমাজের বিত্তবানরা আদুরীর পাশে দাঁড়ালে তার সন্তানের লেখাপড়াও হতো, পরিবারও ভালোভাবে চলতে পারতো।’

পটুয়াখালী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জীব দাশ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। তবে খোঁজ নিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করবো।’

আরো পড়ুন : কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে মৃত জোড়া কচ্ছপ

মামলার রায় : আদুরীকে নির্যাতনের মামলার রায়ে গৃহকর্ত্রী নওরীন জাহান নদীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ১ লাখ টাকা জরিমানা আনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক জয়শ্রী সমদ্দার এ রায় ঘোষণা করেন। তবে বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির জন্য রয়েছে।




বাউফলে তেঁতুলিয়া নদীতে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফলে বছরের পর বছর ধরে ভাঙছে তেঁতুলিয়া নদীর দুপাড়। এতে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। অথচ এই ভাঙনকবলিত এলাকা থেকেই প্রভাবশালীরা দেদারে বালু ও মাটি কেটে ব্যবসা করছেন। আর এ কারণে ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে কয়েক গুণ।

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরব্যারেট এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর তলদেশ থেকে আইনকানুনের তোয়াক্কা না করে বালু তুলছেন কয়েক প্রভাবশালী। অপরদিকে ধুলিয়া ইউনিয়নের বাসুদেবপাশা এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে ফসলি জমির টপসয়েল কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছেন স্থানীয় কয়েক প্রভাবশালী।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে সাশ্রয়ী মূল্যে দুধ, ডিম, মাংস বিক্রয় শুরু

সূত্র জানায়, তেঁতুলিয়া নদীর চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন, নাজিরপুর ইউনিয়নের ধানদী, নিমদী, কচুয়া ও ধুলিয়া ইউনিয়ন দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে এসব এলাকার বালুমহাল ইজারা বন্ধ রয়েছে। শুধু বাউফল-দশমিনা সীমান্তবর্তী বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর ডুবোচরে বালুমহাল ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে তেঁতুলিয়া নদীর কোনো পয়েন্টে বালুমহাল নেই। বালুমহাল না থাকার পরেও চরব্যারেট এলাকা থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে বাণিজ্যিকভাবে বালু তোলা হচ্ছে।

একাধিক ব্যক্তি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বালু তুলছেন ভোলার বোরহানউদ্দিনের প্রভাবশালী নেতা। বিশালাকৃতির ৩টি ড্রেজার দিয়ে ২৪ ঘণ্টা ধরে এ কাজ করছেন তার লোকেরা। আর অবৈধভাবে তোলা বালু বিক্রির লাভের একটি অংশ পাচ্ছেন বাউফলের কয়েক প্রভাবশালী নেতা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৩টি ড্রেজার দিয়ে অবিরত বালু তোলার কাজ চলছে। এ সময় তেঁতুলিয়ার চরব্যারেট এলাকার কয়েক কিলোমিটারজুড়ে অপেক্ষায় রয়েছে সারি সারি বালু পরিবহণের বাল্কহেড (জাহাজ)।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক, ডেকে নিয়ে প্রেমিককে খুন করেন স্বামী

এ বিষয় অভিযুক্ত মোসারেফ হোসেন বলেন, বালু তোলার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

ইউএনও মো. বশির গাজী বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকায় মাটি ও বালু কাটার সুযোগ নেই। শিগগিরই অভিযান চালিয়ে মাটি ও বালু কাটা বন্ধ করা হবে।




আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত না মেনে ‘দলীয় প্রার্থী’ ঘোষণা করলেন প্রতিমন্ত্রী মহিববুর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে মনোনয়ন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের জন্য আওয়ামী লীগের ‘দলীয় প্রার্থী’ হিসেবে দুজনের নাম ঘোষণা করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের ইয়ুথ ইন চত্বরে কুয়াকাটা পৌরসভা ও পৌর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন। এ সময় উপস্থিত সবার সামনে তিনি ওই দুজনকে পরিচয় করিয়ে দেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার নির্বাচন গুলোয় দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেবে না আওয়ামী লীগ। অর্থাৎ কাউকে নৌকা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে না। যাঁর যাঁর মতো করে স্বতন্ত্র ভাবে দলের নেতারা নির্বাচন করতে পারবেন। যে কোনো প্রার্থীর পক্ষে দলের নেতারা ভোট করতে পারবেন।

গতকালের অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান বলেন, ‘আগামী উপজেলা নির্বাচনে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা দল থেকে, আওয়ামী লীগ থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামী লীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক ত্যাগী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব তালুকদারকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছি। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ আলীকে দল থেকে মনোনীত করেছি।’

আরো পড়ুন : গলাচিপায় শিক্ষাবৃত্তি পেলেন ৫০ মেধাবী শিক্ষার্থী  

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে অনেক প্রার্থী আসবেন, কিন্তু দুর্দিনে যাঁরা দলের জন্য শ্রম দিয়েছেন ও দলকে আগলে রেখেছেন— এমন দুই নেতাকে দল থেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি।

কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-সংগঠনের একাধিক নেতা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। প্রার্থীদের অনেকে তৃণমূল ভোটারসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে গণসংযোগ করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এমন অবস্থায় প্রতিমন্ত্রীর এ ধরনের ঘোষণাকে ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী’ বলে আখ্যায়িত করেছেন অনেকে।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিতে স্থানীয়ভাবে গণসংযোগ করছেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামিম আল সাইফুল। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে একজন প্রতিমন্ত্রী হয়ে তিনি এভাবে নিজের খেয়াল-খুশি মতো কাউকে দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন না। কারণ, ইতিমধ্যে দলের সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলে দিয়েছেন, উপজেলা নির্বাচনসহ সব স্থানীয় পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হবে। কেউই দল মনোনীত প্রার্থী হবেন না। এমনকি আমাদের দল থেকে যাঁরা নির্বাচন করবেন, তাঁরা দলীয় পদ ব্যবহার করতে পারবেন না।’
দল থেকে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রী হয়ে প্রকাশ্য সভায় প্রার্থী ঘোষণা করে শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করেছেন বলে মনে করেন যুবলীগ নেতা শামিম। এ বিষয়ে তাঁরা দলের সভানেত্রী, সাধারণ সম্পাদকসহ উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের অবহিত করেছেন বলে জানান।

উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের আগ্রহ দেখিয়েছেন টিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ আখতারুজ্জামান। প্রতিমন্ত্রীর প্রার্থী ঘোষণায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘গতবার সামান্য ভোটে হেরে গেছি। এবারও চেয়ারম্যান পদে আমি নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছি। হঠাৎ প্রতিমন্ত্রী একজনকে প্রার্থী ঘোষণা দিলেন, এটা হতে পারে না। তিনি দলীয় নিয়ম ভঙ্গ করে এ কাজটি করেছেন। আমরা এ নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানাব।’

আরো পড়ুন : জমি জখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এভাবে প্রার্থিতা ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দল থেকে তাঁরা প্রার্থী, তাঁরা তাঁরা দাঁড়াতে চান, সেটা বলেছি। দলীয় প্রার্থী তো দেওয়ার সুযোগ নেই।




চর বিজয় যেন লাল কাঁকড়া আর অতিথি পাখির নির্ভরযোগ্য সাম্রাজ্য

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি ও সূর্য উদয়ের বেলা ভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা। আর এই কুয়াকাটার সমুদ্রের বুকে জেগে উঠেছে যেন আর একটি নতুন বাংলাদেশ।

মৌসুম জুড়েই হাজার হাজার অতিথি পাখির নিরলস উড়ে বেড়ানো এবং পুরো চর বিজয়ের সৈকত জুড়ে লাখ লাখ লাল কাকড়ার অবাধ ছুটে চলা এই সমুদ্রের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে কয়েক গুণ। আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে এমন সুন্দর দৃশ্য উপভোগ করাই তো প্রকৃতি প্রেমী মানুষের মনের বড় প্রশান্তি।

কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের মাঝে জেগে ওঠা চর বিজয় দ্বীপটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজার হাজার প্রকৃতি প্রেমী পর্যটকরা ছুটে যান এই দ্বীপে। শীত মৌসুম এলেই যেমন বাংলাদেশে বাড়ে পর্যটকদের ভ্রমণ। ঠিক তেমনি সুদূর সাইবেরিয়া থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লাখ লাখ অতিথি পাখি ছুটে চলে আসে বাংলাদেশে। এরই পাশাপাশি লাল কাকড়ার অভয়ারণ্য কেন্দ্র নামে পরিচিত চর বিজয় যেন তাদের নির্ভরযোগ্য বাসস্থান। আর এত সব সৌন্দর্য একসঙ্গে উপভোগ করতেই কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা প্রতিনিয়ত ছুটে যাচ্ছেন চর বিজয়ের প্রান্তে।

২০১৭ সালে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২০ কিলোমিটার গভীরে ৫ হাজার একর আয়তন নিয়ে জেগে ওঠে চর বিজয় নামের এই দ্বীপটি। শীত মৌসুম এলে এই দ্বীপটি জেগে ওঠে কিন্তু বর্ষা মৌসুমে আবার পানির নিচে ডুবে যায়। তবে জেলেদের কাছে এটি হাইরের চর নামেই পরিচিত।

এটির অবস্থান মূলত বঙ্গোপসাগরের কুয়াকাটা সংলগ্ন সৈকত হতে প্রায় ২০ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে সমুদ্রের বুকে অবস্থিত।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বেড়াতে আসা ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসাইন বলেন, কুয়াকাটায় আমি এই প্রথমবার ভ্রমণে এসেছি। কুয়াকাটা সত্যিই খুব সুন্দর জায়গা। তবে কুয়াকাটায় সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চর বিজয় সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। কিন্তুু এখানে এসে সত্যিই মুগ্ধ হয়ে গেছি, চারদিকে বিশাল সমুদ্রের মাঝখানে একটি দ্বীপ আর সেই দ্বীপে এত পরিমাণ অতিথি পাখি ও লাল কাঁকড়া দেখে প্রাণ জুড়িয়ে গেছে। আমি আবারও আসতে চাই এখানে পরিবার নিয়ে।

ঢাকা থেকে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা অন্য এক ব্যবসায়ী মনিরুল হক লোটাস বলেন, চর বিজয়ে নামার পর আমি এখানকার পরিবেশ দেখে মুগ্ধ হয়ে গেছি। এত পরিমাণ লাল কাকরা আর অতিথি পাখি দেখলে যে কেউ মুগ্ধ হবে এটাই স্বাভাবিক। কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের জন্য চর বিজয় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে। এটি হতে পারে আরেকটি সেন্ট মার্টিন তবে অতিথি পাখি ও লাল কাকড়া নিধন থেকে বিরত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বন বিভাগের পক্ষ থেকে এই দ্বীপে এখন পর্যাপ্ত গাছ লাগানো দরকার, যাতে করে পাখিদের নির্ভয় যোগ্য বাসস্থান তৈরি হয়। এবং আমরা যারা এই দ্বীপে ভ্রমণ করতে আসবো তারা যেন কোন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ ফেলে এই দ্বীপের সৌন্দর্য নষ্ট না করি।

আরো পড়ুন : বাউফলে পুরোনো মরিচা পড়া লোহা দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ

এ বিষয় ট্যুর অপারেটর এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টেয়াক) প্রসিডেন্ট রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, পর্যটকদের কাছে সূর্য উদয়-অস্তের বেলভূমি সাগরকন্যা এমনিতে অনেক জনপ্রিয়। এর মধ্যে চর বিজয় ২০১৭ সাল থেকে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। এই চরের পাখি আর লাল কাকড়ার সমাগমে আকৃষ্ট হয় সব শ্রেণির পর্যটকরা। চর বিজয় ভবিষ্যতে সেন্টমার্টিনের মতো জনপ্রিয়তা পাবে বলে মনে করি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিওনের পুলিশ সুপার আনসার উদ্দিন বলেন, সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা চরটির নাম দেওয়া হয়েছে চর বিজয়। ২০১৭ সালে সমুদ্রের বুকে জেগে ওঠা এ চরটি এখন খুবই জনপ্রিয় পর্যটকও স্থানীয়দের কাছে।সেখানে প্রতিনিয়ত ভিড় করে শত শত পর্যটক। মূলত লাল কাঁকড়া ও অতিথি পাখির সমাগম দেখতেই পর্যটকরা ভিড় করেন সেখানে। টুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে সকল পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করছি আমরা।

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় উচ্ছেদ আতঙ্কে ভূমিহীন ১৩৬ পরিবার : পায়রাবন্দরের সড়ক নির্মাণ শুরু