বর্ষবরণ ও ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত পটুয়াখালীর মৃৎশিল্পীরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পহেলা বৈশাখ ও ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন পটুয়াখালীর বাউফলের পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরা। এখানকার তৈরি মাটির পণ্যসামগ্রী ঢাকার আড়ং ব্র্যান্ড ও দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে এখন। এ বছর ঈদ এবং পহেলা বৈশাখ উৎসব একই সময়ে পড়ায় জমজমাট ব্যবসা হচ্ছে বলে জানান এই মৃৎশিল্পীরা।

বাংলা বর্ষবরণ ও ঈদকে সামনে রেখে তৈরি করা হচ্ছে পান্তা খাওয়ার থালা-বাসন, মগ, মিষ্টির পাতিলসহ বিভিন্ন আইটেম। এসব পণ্য তৈরির কাজ শেষ । তাই এখন বিপণন নিয়ে ব্যস্ত এ শিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।

আরো পড়ুন : স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় চিকিৎসা নিতে ছুটছেন পার্শ্ববর্তী উপজেলায়

পটুয়াখালীর বাউফলের মদনপুরা ইউনিয়নের পালপাড়া মাটির পণ্যের জন্য পরিচিত প্রায় অর্ধশতক ধরে। বৈশাখী মেলায় এ অঞ্চলের সর্বত্র এখানকার তৈরি মাটির খেলনা বিক্রি করা হতো। প্রযুক্তির উৎকর্ষ আর নকশার আধুনিকতায় এর বাজার ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকাতেও। এখন আর শুধু খেলনা নয়, মাটির তৈরি ফুলদানি, ডিনার সেট, কাপ-পিরিচ, মগসহ বিভিন্ন শোপিস তৈরি হয় এই পালপাড়ায়। যার বাজার রয়েছে ঢাকার আড়ংসহ বিভিন্ন মার্কেটে। কয়েক বছর ধরে দেশের বাইরেও যাচ্ছে এই মাটির পণ্যগুলো।

এখানকার মৃৎশিল্পের অন্যতম রূপকার ছিলেন রাজেশ্বর পাল। এক সময় তিনি মেলায় ঘুরে ঘুরে মাটির খেলনাসহ অন্যান্য পণ্য বিক্রি করতেন। তিনি আজ বেঁচে না থাকলেও, তার প্রতিষ্ঠানের তৈরি পণ্য সুনাম ছড়াচ্ছে দেশের ঐতিহ্যবাহী সব প্রতিষ্ঠানে।

পালপাড়ার এ মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় অর্ধশত পরিবার। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে স্থানীয় বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকে। এ বছর ঈদ সামনে রেখে এই চাহিদার পরিমাণ আরও অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন পালপাড়ার এই মানুষেরা।

বাউফল পালপাড়ার মৃৎশিল্পীদের সভাপতি বিশ্বেশর পাল বলেন, ‘সরকারিভাবে স্বল্প সুদের সহযোগিতা এবং মাটি পেলে আমরা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করতে পারব তৈরি করা এই মাটির জিনিসগুলো।’

আরো পড়ুন : শেষ দিকে কুয়াকাটা সৈকত জুড়ে জমেছে ইফতার

পটুয়াখালীর ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. আলমগীর সিকদার বলেন, বর্তমানে এই শিল্পীরা আধুনিক কিছু পণ্য তৈরি করেছেন। সেই সঙ্গে কিছু পণ্য দেশের বাহিরেও রফতানি করা হচ্ছে। এই মৃৎশিল্পের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে পটুয়াখালীর শিল্প সহায়তা কেন্দ্রের। তাদের লোন কার্যক্রম ছাড়াও ঢাকা থেকে ডিজাইন সহায়তা করে থাকে বিসিক। তা ছাড়া এই মৃৎশিল্পীদের অল্প সুদে সহযোগিতা দেয়ার কথাও জানালেন এই বিসিক কর্মকর্তা।

পালপাড়ার এ মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন প্রায় অর্ধশত পরিবারের ৫ শতাধিক মানুষ। শুধু বর্ষবরণ নয়, বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক অনুষ্ঠান এবং ঘরের শোভাবর্ধনে দিন দিন চাহিদা বাড়ছে এখানকার মাটির তৈরি পণ্যের।




হেপাটাইটিসে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে সাড়ে ৩ হাজার মানুষ: ডব্লিউএইচও

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ক্রমশই আরও বেশি প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে ভাইরাসজনিত রোগ হেপাটাইটিস। এই রোগের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন মারা যাচ্ছে সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। এমনটিই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এমন অবস্থায় দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সংক্রামক প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে সংস্থাটি। বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে বুধবার (১০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেপাটাইটিস ভাইরাসে প্রতিদিন সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি লোক মারা যাচ্ছে এবং বিশ্বব্যাপী এই সংখ্যা বাড়ছে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মঙ্গলবার সতর্ক করেছে। হেপাটাইটিস রিপোর্ট প্রকাশ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রতি বছর ১৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে এই রোগে। যা যক্ষ্মায় মৃত্যুর সমান।

ডব্লিউএইচওর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে ১৮৭টি দেশের রিপোর্ট অনুসারে- ২০১৯ সালে যেখানে ১১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল হেপাটাইটিসে, সেখানে ২০২২ সালে মৃত্যু হয়েছে ১৩ লাখ মানুষের। এর মধ্যে ৮৩ শতাংশ মৃত্যুর কারণ হেপাটাইটিস বি।

অন্যদিকে হেপাটাইটিস সি কেড়েছে ১৭ শতাংশ মানুষের প্রাণ। আর এই সব মৃত্যুর ক্ষেত্রে দুই-তৃতীয়াংশ মৃত্যুই হয়েছে বাংলাদেশ, চীন, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, রাশিয়া ও ভিয়েতনামে।

মনে করা হচ্ছে, ২০২২ সালেই হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ। হেপাটাইটিস সি-এর ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ৫ কোটি। আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকই ৩০-৫৪ বছর বয়সী মানুষ। ১২ শতাংশ নাবালক। নারী ও পুরুষদের মধ্যে দেখলে আক্রান্তের ৫৮ শতাংশই পুরুষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল হেপাটাইটিস রিপোর্ট অনুযায়ী, ভাইরাল হেপাটাইটিসে মৃত্যু বেড়েই চলেছে। ২০১৯ সাল থেকে রিপোর্ট দেখলে বোঝা যাবে, ১৮৭টি দেশে হেপাটাইটিসে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১০ লাখ মানুষের। এই সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

ডব্লিউএইচওর সমীক্ষা বলছে, বিশ্বজুড়ে ২৫ কোটির বেশি মানুষ হেপাটাইটিস নিয়ে বেঁচে আছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেছেন, ‘এই রিপোর্ট বিপন্ন দৃশ্যকে তুলে ধরছে। যদিও হেপাটাইটিসের সংক্রমণ ও মৃত্যু রুখতে বিশ্বব্যাপী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তবুও খুব অল্প মানুষেরই হেপাটাইটিস ধরা পড়ে ও চিকিৎসা করা সম্ভব হয়। এই পরিস্থিতিতে ডব্লিউএইচও এই রোগের প্রকোপ থেকে বাঁচতে সব দেশের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

প্রসঙ্গত, লিভারের মারাত্মক অসুখই হলো হেপাটাইটিস। মূলত লিভারের প্রদাহজনিত অসুখ এটি। হেপাটাইটিসের কারণ ভাইরাল ইনফেকশন। এর নানা ধরন আছে। হেপাটাইটিস-এ এবং ই সংক্রমিত হয় দূষিত খাদ্য ও পানীয়ের মাধ্যমে। আর হেপাটাইটিস-বি, সি এবং ডি সংক্রমিত হয় রক্তের মাধ্যমে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, সারা বিশ্বে প্রতি বছর মোট ১০ কোটিরও বেশি মানুষ হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত হন। কিশোর-কিশোরী এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে, এই সংক্রমণের উপসর্গ অনেক বেশি মারাত্মক হতে পারে।




পটুয়াখালীতে পচা নাড়ার ঘরে বসবাস বৃদ্ধা আয়েশা বিবির

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পচনধরা নাড়া উপরে পলিথিনি মোড়ানো দোচালা কাচা ঘর। ঘরটির সামনের অংশে কোনো রকম কাঠের বেড়া থাকলেও পেছন অংশে সিমেন্টের ব্যাগ দিয়ে সাঁটানো। বৃষ্টি কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেলেই ঘরটি ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই ঘরেই বসবাস করছেন বৃদ্ধা আয়শাবিবি (৭০)।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের হরিদ্রাখালী গ্রামের বাসিন্দা তিনি। আয়েশা বিবির সংসারের কর্তা মারা গেছেন প্রায় ২০ বছর হয়ে গেল। এরপর থেকেই শুরু হয় সংসারে টানাপোড়ন। দুই মেয়ে আর এক ছেলে থাকলেও কেউ খোঁজ নেন না। পাশের বাড়িতে গৃহস্থলি কাজে সহায়তা করে ডাল-ভাত খেয়ে কোনো রকম জীবন যাপন করছেন তিনি। এত টানাপোড়নের পড়েও নিরুপায় হয়ে একটি ঘরের জন্য ঘুরেছেন জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে। সবাই শুনেছেন জীবনের করুণ চিত্র। কিন্তু দু’হাত ভরে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়নি কেউ। অথচ এ উপজেলায় সরকারের দেয়া বিনামূল্যের ঘর পেয়েছেন প্রায় দুই হাজার অসচ্ছ্বল মানুষ। সে সময়েও বৃদ্ধা আয়েশা নজরে পড়েনি কারো।

আরো পড়ুন : বাউফলে ৭শতাধিক পরিবারের ঈদের আনন্দ কেড়ে নিয়েছে আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়

আক্ষেপ নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সরকারি ঘরের জন্য টাকা চেয়েছিল। আমি দিতে পারিনি। তাই ভাগ্য অনুকূলে আসেনি।

সরেজমিনে কথা হয় আয়শা বিবির প্রতিবেশীদের সাথে। তারাও একই কথার সাথে সুর মিলিয়ে বললেন, যারা টাকা দিয়েছে তারা সরকারি ঘর পেয়েছে। অথচ বয়স্ক এই মানুষ ঘর, কাপড় ও খাবারের জন্য প্রতিনিয়ত কষ্ট করে থাকে। আমরা প্রতিবেশীরা যখন যা পারি তাকে দিয়ে টেনে রাখি। কিন্তু তিনি লোকলজ্জার ভয়ে অনেক সময় না খেয়েই দিনপার করেন। ছেলে-মেয়ে থাকলেও তারা খোঁজ নেন না। স্বামীর যে ভিটে রয়েছে সেখানে ছাপড়া দিয়েই বসবাস করছে। তার এমন কষ্ট আমাদেরও ব্যথিত করে। বৃদ্ধার পাশে খুঁটি হয়ে সহায়তা নিয়ে কেউ একজন আসুক এমনটি প্রত্যাশা তাদের।

অশ্রুঝরা নয়নে বৃদ্ধা আয়শা বলেন, ‘কেমনে ঘর তুলব বাবা? মানুষের বাড়ি কাজ করে খাই। বৃষ্টি নামলে ঘরে থাকা যায় না। ঘরের আসবাবপত্র অন্যের বাড়িতে রাখছি। অনেক সময় মানুষের বাড়িতে ঘুমাই। ঘরের জন্য নাম নেছে। দুইবার কইরা কাগজপত্র সব জমা দিছি ইউনিয়ন পরিষদে। কিন্তু ঘর পাই নাই। টাকা চায় হেরা।
আমার জন্য একটা ঘর ব্যবস্থা কইরা দিলে ভালো হয়। মরার আগে ভালো একটা ঘরে ঘুমাইতে চাই।

আরো পড়ুন : ঈদের আনন্দ নেই পটুয়াখারীর জেলে পল্লীতে

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আপাতত ঘর সংস্কারের জন্য টিন ও নগদ টাকা দিবো। এরপরে সরকারি ঘর এলে তাকে দেয়া হবে।




বর্ণিল সাজে সাগরকন্যা কুয়াকাটা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটিকে কেন্দ্র করে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হবে সূর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটায়। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ব্যাপকভাবে পর্যটন দেখা গেছে কুয়াকাটায়। তাই এবারের ঈদে ব্যবসা-বাণিজ্য গতি পাবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এরই মধ্যে ৬০ শতাংশ হোটেল মোটেল কক্ষ বুকিং হয়েছে বলে হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পর্যটকদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও সেবা দিতে প্রস্তুতি নিয়েছে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও পৌর কর্তৃপক্ষ।

খুশির ছোঁয়া লেগেছে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীদের, ইতিমধ্যেই পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাজিয়ে নিচ্ছে আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ , বেচাকেনার জন্য তৈরি রয়েছে রাখাইন মহিলা মার্কেট, ঝিনুক মার্কেট, বার্মিজ আচার, কাঁকড়া ফ্রাই, পর্যটকদের ছবি তোলার জন্য প্রস্তুত ক্যামেরাম্যান সহ, চটপটি ফুচকার দোকানে দেখা গেছে মানুষের আনাগোনা, কুয়াকাটা দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণ করাতে প্রস্তুত , মোটরসাইকেল ড্রাইভার, অটোরিকশা চালক,কুয়াকাটা থেকে সমুদ্রপথে বিভিন্ন দ্বীপ ও বনাঞ্চল ভ্রমণ করানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ট্যুরিস্ট বোট,স্পিড বোট এবং ওয়াটার বাইক ।

আরো পড়ুন : দুমকিতে রাস্তা সংস্কার বন্ধ দুবছর

কুয়াকাটা সৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে পূর্ব ও পশ্চিমে মনোমুগ্ধকর ১৮ কিলোমিটার বেলাভূমি রয়েছে। পর্যটকরা এখানকার ট্যুরিজম পার্ক , জাতীয় উদ্যান (ইকোপার্ক), শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, সীমা বৌদ্ধ বিহার ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া কুয়াকাটার পশ্চিমে সমুদ্র পথে ফাতরার বন, সোনাকাটা ফকিরহাট ( ইকোপার্ক),লাল কাঁকড়ার চর, লেম্বুর বন, শুটকি পল্লী ও ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে।

আচার বিক্রেতা মো. জহির রায়হান বলেন, নানা ধরনের দেশি বিদেশি আচার ও চকলেট উঠেয়েছি দোকানে। টানা ছুটিতে কুয়াকাটায় হাজারো পর্যটকদের আনাগোনা থাকবে। তাদের হাতে আমরা বাহারী স্বাদের আচার ও চকলেট বিক্রি করব। দামে মানে ও গুনে আমরা পর্যটকদের কথা মাথায় রাখি বরাবরই।

অভিজাত আবাসিক সিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলার্স এবং ওসান ভিউ হোটেল এন্ড কনভেনশন এসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মো. আল-আমীন খান বলেন, আমাদের এখন পর্যন্ত ৫০ শতাংশ অগ্রীম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিক্ষণই পর্যটকরা ফোনে খোঁজ খবর নিচ্ছে। আশাবাদী শতভাগ রুম বুক হয়ে যাবে। আমরা পর্যটকদের জন্য স্পেশাল ডিসকাউন্ট রেখেছি।

হোটেল মোটেল ওনার্স অসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরিফ বলেন, আমরা আশাবাদী পবিত্র ঈদুল ফিতর ও পহেলা বৈশাখের ছুটিকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় অনেক ট্যুরিস্টের আগমন হবে।আবার আগের মত প্রাণ খুঁজে পাবে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, হাসি ফুটবে সকল ব্যবসায়ীদের মনে। হোটেল মোটেল গুলোতে ৬০% এর মত আগাম বুকিং হয়েছে।

কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “ঈদ পরবর্তী সময়ে কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় বাড়বে এমন ধারণা মাথায় রেখেই আমরা প্রস্তুতি সভা করেছি। ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি দল সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। চিকিৎসক দল, ফায়ার সাভির্স অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদসরাও তৈরি রয়েছে।

টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ বলেন, কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা সকল পর্যটকদের সেবা দেওয়া ও আইনি সহায়তা দেওয়া আমাদের কর্তব্য। পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কুয়াকাটায় অনেক পর্যটক আসবে তাই আমরা অনেক নিরাপত্তাব্যবস্থা করেছি। সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সাদা পোশাকে আমাদের সদস্যরা টহলে থাকবেন। আশা করছি আমরা পর্যটকদের শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারব।




স্বামীকে বাঁচাতে একাই লড়ছেন ৭০ বছরের বরগুনার পিয়ারা বেগম

বরিশাল অফিস:: এক বছর আগে মিনি স্ট্রোক করা পিয়ারা বেগমের সব থাকতেও যেন কিছুই নেই। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে শয্যাশায়ী হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন স্বামী আব্দুল মালেক। তার চিকিৎসার খরচ যোগাতে একাই লড়ছেন ৭০ বছর বয়সী পিয়ারা বেগম।

বরগুনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ স্মৃতি সড়কের বরিয়ালপাড়া এলাকায় বসবাস করেন পিয়ারা বেগম। প্রায় ৩০ বছর আগে তার স্বামী আব্দুল মালেক পৌরসভার ঝাড়ুদার হিসেবে নিযুক্ত হন। স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে সংসারের অতিরিক্ত খরচ বহন করতে রাতে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার পাশাপাশি দিনের বেলায় বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি দেওয়ার কাজও করতেন তিনি। পরবর্তীতে সংসারের হাল ধরতে স্বামীর সঙ্গে পিয়ারা বেগমও যুক্ত হন কাজে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনিও পৌরসভার রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার কাজ কাজ করছেন।

দীর্ঘ বছর কাজ করে মালেক এখন বয়সের ভারে অসুস্থ হয়ে ৬ মাস ধরে শয্যাশায়ী। আগের মতো আর চোখেও দেখেন না তিনি। পিয়ারা বেগমও একবার স্ট্রোক করে বেঁচে ফিরে চলছেন লাঠি ভর দিয়ে। ছেলে-মেয়েরা ব্যস্ত তাদের যে যার সংসার নিয়ে। এক টাকাও খরচ দেন না বাবা-মায়ের সংসারে। স্বামী ও নিজের চিকিৎসা খরচ এবং তিন বেলা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে বাধ্য হয়ে রাতে ঝাড়ু হাতে লাঠি ভর দিয়ে রাস্তায় নামছেন পিয়ারা। তবে যে টাকা বেতন পান তা দিয়ে একজনের ওষুধ কিনতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। অনেক সময় টাকা না থাকায় ১৫ দিনেও ওষুধ জোটে না তাদের।

সরেজমিনে বরগুনা পৌর শহরের বাজার রোড এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় মানুষের ব্যস্তাতা কমার পরেই লাঠি ভর দিয়ে রাস্তা ঝাড়ু দিতে নেমে পড়েছেন পিয়ারা বেগম। ঠিকমতো চোখে না দেখায় চশমা পড়ে কাজ করছেন তিনি। এছাড়াও একটু কাজ করেই হাঁপিয়েও উঠছেন তিনি। শরীর না চাইলেও তিন বেলা খাবার জোটাতে, নিজের ও স্বামীর চিকিৎসার খরচ যোগাতে কাজ করে যাচ্ছেন পিয়ারা বেগম।

কাজের সুবাদে প্রতিদিন রাতে বাড়ি ফেরা সাইদুল শিকদার নামে এক এনজিও কর্মী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই পিয়ারা খালাকে রাস্তা ঝাড়ু দিতে দেখি। তার যে অবস্থা তাতে এই বয়সে এখন তার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব না। তার স্বামী সেও অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি এ কাজ করেন। অন্য কোনো কাজ করতে না পারায় শুধু ঝাড়ু দিয়ে পৌরসভা থেকে যে টাকা পান তা দিয়ে তাদের চলে না।

পৌরসভার বাজার রোড এলাকার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ী সুকুমার দত্ত বলেন, আমি ছোটবেলা থেকে তার স্বামী ও তাকে রাস্তা ঝাড়ু দিতে দেখি। তার স্বামী অসুস্থ তিনিও অসুস্থ, কেউই এখন ঠিকমতো চোখেও দেখেন না।

পিয়ারা বেগমের তিন ছেলের মধ্যে জাকির এখন বাবার পরিবর্তে যুক্ত হয়েছেন পৌরসভার রাস্তা ঝাড়ু দেওয়ার কাজে। এছাড়াও তিনি দিনের বেলায় শ্রমিকের কাজ করে মাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করেন। তার আয়ের এক টাকাও দিচ্ছেন না বৃদ্ধ মা-বাবাকে। ঈদের সময়ে মা-ছেলে দুজনে মিলে যে সব রাস্তা ঝাড়ু দিয়েছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা খুশি হয়ে যে টাকা বকশিস দিয়েছেন তাও ভাগ করে নিয়েছেন সমান ভাগে। অপরদিকে অন্য দুই ছেলের মধ্যে বাদল কাজ করেন শ্রমিকের, আর জাফর নামে আরেক ছেলে কাজ করেন বালুর জাহাজে। তারাও যে যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত।

বৃদ্ধ বাবা-মাকে কোনো খরচ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ছেলেদের মধ্যে জাকির বলেন, পৌরসভায় কাজ করে যে বেতন পাই তা দিয়ে আমাদেরই খরচ হয় না। ছেলে-মেয়ে তারপরে মা-বাবার জন্য কীভাবে কী করব তা বুঝি না।

অসহায় পিয়ারা বেগম অসহায়ত্বের বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমার এই বয়সে রাস্তায় ঝাড়ু দিয়ে খেতে হয়। আমার স্বামীকে কীভাবে খাওয়াব? তার ওষুধ কিনতে পারি না। মানুষের কাছে টাক চাইয়া যা পাই তা দিয়ে ওষুধ কিনে স্বামীকে খাওয়াই আবার আমি নিজেও খাই। কিন্তু সবাই তো আর সব সময় টাকা দেয় না। কেউ ১৫ দিন বা ১ মাস পরে কিছু টাকা দেয় তা দিয়ে কিছুই হয় না। কোনো কোনো দিন খাবার জোটাতে না পেরে না খেয়ে থাকতে হয়। নিয়মিত ওষুধ না খাওয়ায় আমার স্বামী ও আমি দুজনেই এখন আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছি। ছেলে-মেয়েরা যে টাকা আয় করে তা দিয়ে নিজেরাই চলতে পারে না আমাদেরকে তারা টাকা দেবে কীভাবে। তিন বেলা খাবার জোটাতেই আমার কষ্ট হয়। ঈদের সময় যে একটু সেমাই রান্না করে স্বামীকে খাওয়াব তাও আমি পারি না।

বরগুনা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. সাইদুর রহমান সজীব বলেন, পিয়ারা বেগমকে পৌরসভার বেতন ছাড়াও বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করা হয়। পৌরসভার ভিজিএফসহ বরাদ্দকৃত চাল দিয়েও তাকে সহযোগিতা করা হয়। অসহায় পিয়ারা বেগমকে সহযোগিতা করতে পৌরসভার পাশাপাশি সমাজে যারা বিত্তশালী ও সামর্থ্যবান রয়েছেন তাদেরকেও তিনি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম মিঞা বলেন, অসহায় অনেকেই আমাদের কাছে আসেন না। এ কারণে অনেকের তথ্য আমরা পাই না। পিয়ারা বেগমের সব তথ্য পেলে এবং তিনি যদি উপজেলা প্রশাসনের কোনো ধরনের সহযোগিতা ও বরাদ্দকৃত ভাতা না পেয়ে থাকেন তাহলে তাকে তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও যদি প্রয়োজন হয় আমাদের অপ্রত্যাশিত আয়ের মাধ্যমে পিয়ারা বেগমকে প্রতি মাসে কিছু পরিমাণ আর্থিক সহযোগিতা দেয়ার চেষ্টা করব।




দুমকিতে রাস্তা সংস্কার বন্ধ দুবছর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি রাস্তা সংস্কারের কাজ বন্ধ থাকায় খানাখন্দক ও ধুলাবালিতে যানবাহনসহ চলাচলে দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলার মুরাদিয়া বোর্ড অফিস বাজার থেকে কলবাড়ি বাজার সংলগ্ন চেয়ারম্যান বাড়ি পর্যন্ত রাস্তাটি সংস্কারের জন্য দুই বছর আগে খোয়া দেওয়ার পর থেকে অজানা কারণে কাজটি বন্ধ। নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করায় এমনটা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, দুমকী উপজেলার মুরাদিয়া ইউপিসি টু লাউকাঠী ইউপিসি ভায়া মুরাদিয়া হাইস্কুল ভায়া সাউথখালী জিপিএস এবং ভক্ত বাড়ি রাস্তাটি আম্পার প্রকল্প থেকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৫ দশমিক ৬ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কারের জন্য ৩ কোটি ২৫ লাখ ৬ হাজার ৭৮৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই সাপেক্ষে শরিয়তপুরের মেসার্স শেখ এন্টারপ্রাইজ গত ২০২২, ২৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে এবং গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা। মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও রাস্তাটি বেহাল রয়েছে।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় স্ত্রীর সামনে স্বামীর মৃত্যু

স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক মমিনুল ইসলাম খবির, গৌরী রানী নামের এক যাত্রী বলেন, গত দুইবছর আগে রাস্তায় নিম্নমানের ইটের খোয়া ফেলে রাখায় গুড়া হয়ে ধূলায় পরিণত হয়েছে। ধূলায় অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন যাতায়াতের সময় ইটের গুড়া, মাটি ও বালি মিশে ধূলায় পরিণত হয়ে বাতাসে উড়ছে। যাত্রীদের জামাকাপড় ধূলাবালিতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাস্তার দুইপাশের ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গাছপালা ধুলাবালি পড়ে লাল হয়ে গেছে এবং শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানান তারা। এছাড়াও রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কারের নামে ফেলে রাখায় খানাখন্দের কারণে চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নিম্নমানের ইট ব্যবহার করার কারণে গুড়া হয়ে গেছে। গাড়িতে উঠলে ঝাঁকুনিতে চলাচলে শরীর ব্যথা হয়ে যাচ্ছে। ধুলাবালির কারণে চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে এবং শাসকষ্ট জনিত রোগে ভুগছেন। কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে পেইজ ঢালাই করে দিলে দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার রাকিবুল ইসলাম আকন মোবাইলে বলেন, ঈদের পরে রাস্তাটির কাজ শেষ করা হবে।

দুমকী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাদ জগলুল ফারুক বলেন, আম্পার প্রকল্পের আওতায় রাস্তাটির কাজ চলমান। ঠিকাদার দীর্ঘ দিন ধরে কাজটি ফেলে রেখেছে। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বার বার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।




নানা বর্জ্য স্তূপে ভরে আছে আন্দারমানিকের পাড়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার প্রধান নদের নাম আন্ধারমানিক নদ। এটি এখন মৃত্যু প্রায়। আন্ধারমানিক নামটি শুনে অনেকেই হয়তো বলবেন অন্ধকারে আবার মানিক হয় কী করে! অবাক হওয়ার মতো হলেও এ এলাকায় মানুষের জীবন যাত্রায় নদটি এক কালে ‘মানিক’ ছড়িয়েছে। নিজের বুকের পলি মাটি ও পানি দিয়ে ফলিয়েছে সোনালি ফসল। বুকে আগলে রাখছে সাদা সোনা খ্যাত রুপালি ইলিশ।

কিন্তু পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ আন্দারমানিক এখন দখল ও বর্জ্যরে চাপে বিপর্যস্ত। কলাপাড়ায় এর পাড় জুড়ে ফেলে দেয়া ছেঁড়া কার্টন কাগজ, প্লাস্টিকের বোতল ও পলিথিন বর্জ্যরে স্তূপ। ঝড়ঝঞ্ঝা আর বাতাসে সেগুলো গিয়ে মিশছে নদের বুকে। বিনষ্ট হচ্ছে আশপাশের পরিবেশ, ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও ভরাট হচ্ছে তার বুক। বহমান নদের এমন পরিণতির জন্য তীরবর্তী ব্যবসায়ীদের দায়ী করছেন অনেকে। আবার সঙ্কট কাটাতে কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় অভিযোগ উঠছে পরিবেশ অধিদফতরের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) তথ্য মতে, আন্ধারমানিক নদের পানি প্রবাহের দৈর্ঘ্য ৩৯ কিলোমিটার ও গড় প্রস্থ ৩৩০ মিটার। এই নদীর গভীরতা ১৫ মিটার। এখন অবশ্য প্রতি বছর অন্তত পাঁচ ফুট করে কমে যাচ্ছে নদের প্রস্থ। নদটির দুই পাড়ে পলি জমে ভরাট হয়ে যাচ্ছে।

আরো পড়ুন : ঈদকে ঘিরে সাজছে সমুদ্রকণ্যা কুয়াকাটা, চলছে সড়ক উন্নয়ন

সরেজমিন দেখা গেছে, মাছ বাজার, কাঁচা বাজার, কলাপট্টি, লঞ্চ ঘাট, হ্যালিপোর্ট, ব্রিজের প্রবেশ মুখ এলাকায় নদের তীরের অবস্থা একেবারেই বেহাল। হোটেল-রেস্তেরাঁর পচা ও উচ্ছিষ্ট খাবারসহ নানা ধরনের বর্জ্য নিয়মিত ফেলা হচ্ছে নদের পাড়ে। নদের তীরে ফেলা এসব বর্জ্য গড়িয়ে গড়িয়ে পানিতে পড়ছে। এসব ক্ষতিকর বর্জ্য প্রকাশ্যে ফেলা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিশেষ করে নদের তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা ব্যবসা প্রতিতষ্ঠান গুলোর কারণেই এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে নদটি।

কাঁচা বাজারে নদীর পাড়েই হোটেল দোকান। এর চারপাশে স্তূপ হয়ে আছে নানা রকমের বর্জ্য। ভাগাড়ের মতো পরিবেশ সৃষ্টি করে রাখা হয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, কাগজের কার্টন, ডাবের খোসাসহ নানা ধরনের ফেলনা সামগ্রী। শুধু কাঁচা বাজারই না, নদের পাড় ঘেঁষে থাকা অধিকাংশ মুদি ও স্টেশনারি দোকান, ওয়ার্কশপ, মিল-কারখানাগুলোর ময়লা-আবর্জনাও ফেলা হচ্ছে পাড়ে। বহুতল ভবনসহ টিনশেড স্থাপনা তোলা হয়েছে আন্ধারমানিকের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। সবচেয়ে বেশি স্থাপনা তোলা হয়েছে আন্ধারমানিকের উত্তর পাড়ে। নদের পাড় ঘেঁষে গড়ে ওঠা অন্তত ১০টি ইটভাটার ময়লাও ফেলা হচ্ছে আন্দারমানিকের বুকে।

পৌরশহর এলাকার নাচনাপাড়া ফেরিঘাট থেকে ফিশারি পর্যন্ত আন্ধারমানিকের তীরসহ নদের পাড় দখল করে তোলা হয়েছে এসব স্থাপনা। আন্ধারমানিকের পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় ইতোমধ্যে অন্তত সাতটি সুইস সংযুক্ত খাল ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। পলি পড়ে এবং নতুন চর জেগে ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদের প্রায় ২৫ কিলোমিটারই স্থায়ীভাবে শুকিয়ে গেছে।
আন্ধারমানিকের পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় শহরের মধ্যভাগ দিয়ে প্রবাহিত চিংগড়িয়া খালটির অস্তিত্বও আজ বিপন্ন প্রায়। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় পৌর এলাকায়। এ ছাড়া কচুপাত্রা নদীর প্রবেশ মুখে দেয়া হয়েছে বাঁধ। আর পাঙ্গাশিয়ার সংযোগ স্থলটিও ভরাট প্রায়।

আরো পড়ুন : আগুন থেকে নিজের জানমাল রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে – ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

পরিবেশকর্মী মেজবা উদ্দিন মান্নু বলেন, আমাদের এই নদ এক সময় সৌন্দর্যে ও রূপেগুণে পূর্ণ ছিল। সেই সৌন্দর্যে এখন জং ধরেছে। বিষয় গুলো নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। সবাই সচেতন না হলে নদ ও নদের পাড়ের জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে।

কলাপাড়ায় প্রবীণ সাংবাদিক শামসু আলম আক্ষেপ করে বলেন, ভয়াবহ নাব্যতা সঙ্কটে আন্ধারমানিক নদের অববাহিকায় নেমে এসেছে পরিবেশ বিপর্যয়। কৃষি আবাদেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তাই দুই পাড়ের মানুষের প্রাণের দাবি অতি দ্রুত নদটিকে ড্রেজিং করে এর পানি প্রবাহ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক। আন্ধারমানিক আমাদের ঐতিহ্য। স্থানীয় সমাজ ও সংস্কৃতির সাথে জড়িত। এটি রক্ষা করতেই হবে। নদটি রক্ষার পাশাপাশি নদের চর পড়ে ভরাট অংশ যাতে কেউ দখল করতে না পারে সে জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ারও যৌক্তিকতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, পরিবেশ রক্ষার্থে আমি পৌরসভার সাথে আলাপ করে একটি প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতে চেষ্টা করব।




ঈদকে ঘিরে সাজছে সমুদ্রকণ্যা কুয়াকাটা, চলছে সড়ক উন্নয়ন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পদ্মাসেতুর দ্বার খুলে দেওয়ার পর থেকে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায় পর্যটক বেড়েছে কয়েকগুণ। টানা ছুটির দিনগুলোতে কুয়াকাটায় এসে ভিড় জমান পর্যটকরা।
কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের হয়রানি রোধে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন পৃথক সভা করেছে। পর্যটকের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে নানামুখী পদক্ষেপ।

পর্যটকদের বরণে সাজসজ্জায় নতুনত্বের ছোঁয়া লেগেছে আবাসিক হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে। তবে ঈদে পর্যটকের বেশ সাড়া পাচ্ছেন প্রথম সারির হোটেল গুলো। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতে এখনও কোনো বুকিংয়ের খোঁজ পাওয়া যায়নি। এতে হতাশা ব্যক্ত করলেও ঈদের টানা ছুটিতে রমযানের লোকসান কেটে ওঠার স্বপ্ন বুনছেন পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আরো পড়ুন : দুমকিতে অচেনা যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। যার ধারাবাহিকতায় কুয়াকাটা পর্যটক কেন্দ্রকে ঘিরে পৌরসভা গঠন করা হয়েছে। দেশ তথা বিশ্বের অন্যতম নান্দনিক দৃশ্যের এক তীর্থস্থান কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। যেখানে একই স্থানে দাঁড়িয়ে দেখা যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য। কুয়াকাটা সৈকতে আগত পর্যটকদের আধুনিক সেবাদান এবং চিত্ত বিনোদনে চলছে সৈকত এলাকায় উন্নয়ন অবকাঠামো। পৌর এলাকায় পর্যটক চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোকে প্রশস্তকরণসহ বাকি থাকা কিছু কাচা রাস্তা পাকা করার কাজ চলমান রয়েছে। এর ফলে কুয়াকাটায় ভ্রমণে আগত পর্যটকের পৌর শহরের মূল কেন্দ্রে ভোগান্তি পোহাতে হবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন দেখা গেছে, পর্যটক যাতায়াতের প্রধান সড়কে ভোগান্তি নিরসনে কুয়াকাটা রাখাইন মহিলা মার্কেট সংলগ্ন একটি পার্শ্ব রাস্তা নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে যা ঈদের আগেই সম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপরদিকে পর্যটক চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রশস্তকরণসহ ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা হচ্ছে যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে ধারণাতীত উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। সৈকতের মূল কেন্দ্র থেকে পূর্বে জাতীয় উদ্যান ফটক পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন লেক ও পার্কসহ বিনোদনের নানা মাত্রা যোগ করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

কুয়াকাটা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কোস্টাল টাউন প্রকল্পের আওতায় ২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য প্রকল্প ব্যয়ে আরও ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে কুয়াকাটা পৌরসভা। এই প্রকল্পের আওতায় যে সকল পরিকল্পনা রয়েছে তা বাস্তবায়ন হলে কুয়াকাটা পাল্টে যাবে, হয়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের সমুদ্র সৈকত। এমনটাই জানিয়েছেন কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হাওলাদার।

এদিকে পর্যটকের সেবা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন। কুয়াকাটায় চলমান বছরে পর্যটন মৌসুম শুরুর আগেই প্রায় অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল ও রিসোর্ট চালু হওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে বিশেষ দিনগুলোতে আগত পর্যটকের আর আবাসন সংকট দেখা দিবেনা। এছাড়াও নিরলস কাজ করছে আবাসিক হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ।

তারা বলছেন, কুয়াকাটায় পর্যটকদের সেবায় প্রস্তুত রয়েছে কুয়াকাটা।




ঈদে ছুটিতে ঘুরে আসুন সাগরকন্যা কুয়াকাটায়

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল ও বাংলাদেশের একটি উপকূলীয় জেলা। অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পটুয়াখালী বরিশাল বিভাগের একটি সম্ভাবনাময় জেলা। পর্যটন নগরী কুয়াকাটা এ জেলার সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। এখানে রয়েছে একসাথে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অপরূপ দৃশ্য যা বিশ্বে বিরল। তাই পর্যটকদের কাছে পটুয়াখালী “সাগরকন্যা” নামে পরিচিত। উপজেলা সংখ্যানুসারে পটুয়াখালী বাংলাদেশের একটি“এ”শ্রেণীভুক্ত জেলা। মেঘনা নদীর অববাহিকায় পললভূমি এবং কিছু চরাঞ্চল নিয়ে এই জেলা গঠিত। পটুয়াখালী জেলা শহর একটি পূর্নাঙ্গ প্রশাসনিক অঞ্চল। এই জেলায় বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ আছে প্রচুর সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। পাকিস্তান আমলে ১৯৬৯ সালে পটুয়াখালী মহুকুমাকে একটি জেলায় উন্নীত করা হয়। দেশের সর্ববৃহৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, তৃতীয় বৃহৎ সমুদ্র বন্দর পায়রা বন্দর, সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা, দক্ষিণাঞ্চলের সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, শেখ হাসিনা সেনানিবাস সহ এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত।

তাই এই ঈদের লম্বা ছুটি কিংবা ঝটিকা সফরের জন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে পটুয়াখালী।

দর্শনীয় স্থান :

১/ কুয়াকাটা

স্থান :- পটুয়াখালী

কিভাবে যাওয়া যায় :- ঢাকা থেকে সরাসরি একাধিক পরিবহনের গাড়ীতে গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে কুয়াকাটায় আসতে পারবেন। এছাড়া যে কোন স্থান থেকে রেন্ট-এ-কার যোগেও আসতে পারেন। লঞ্চের উঠে সকালের মধ্যে পটুয়াখালী কিংবা কলাপাড়া নেমে রেন্ট-এ-কার যোগে বা পটুয়াখালী-কুয়াকাটা রুটের বাসে চড়ে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা পৌঁছাতে পারেন। ঢাকা থেকে উল্লেখিত রুট সমূহের লঞ্চ গুলো বিকাল ৫ থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে লঞ্চ ঘাট ত্যাগ করে থাকেন।

বিস্তারিত :- অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ওসূর্যাস্ত অবলোকন করার মনোমুগ্ধকর পর্যটন স্পট। বঙ্গোপসাগরের ১৫ কিলোমিটারদৈর্ঘ্যের বিশাল সমুদ্র সৈকত পৃথিবীর বিরল। শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষাসহ সকলঋতুতেই মৌসুমী পাখিদের কলরবে মুখোরিত থাকে সমুদ্রতট। একমাত্র কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রে এসেই প্রকৃতির সৃষ্ট সাগরের নানা রূপ বিভিন্ন ঋতুতে উপভোগ করা সম্ভব। তাইতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটন পিপাসুরা বছরের বিভিন্ন  ঋতুতে বার বার ছুটে আসে কুয়াকাটায়। কৃত্রিমতার কোন ছাপ নেই এখানে। সে কারণেই পর্যটকরা কুয়াকাটায় এসে প্রকৃতির নিয়মের সাথে নিজের মনকে একাকার করে। প্রকৃতির স্বাদ নিজ উপলব্ধিতে আত্মস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠে। বিজড়িত দৃশ্য, যা পর্যটকদের আকর্ষণ করে। একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তেরদৃশ্য অবলোকন করা ছাড়াও রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রায় দুইশত বছরের পুরানোঐতিহ্য শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারে প্রতিষ্ঠিত অপতার “গৌতম বুদ্ধের” বিশাল আকৃতির মূর্তিসহ শ্বেত পাথরের নির্মিত ছোট-বড় অসংখ্য মূর্তি রয়েছে। আরাকান রাজ্য থেকে বিতারিত হয়ে আসা রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের রাজা মং এর নেতৃত্বে সাগর পাড়ি দিয়ে প্রথমে চট্রগ্রাম এবং পরে পটুয়াখালীর এ জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় তাদের বসতি স্থাপন করে। নিজস্ব ঐতিহ্য ও কৃষ্টে গড়ে তোলে নিজেদের আবাসস্থল। তৎকালীন সরকার রাখাইন সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওই সময় ৩একর এবং তাদের নিজস্ব পল্লীব জন্যে ১২ একর করে সম্পত্তি প্রদান করেন। এখনও তাদের ঐতিহ্যবাহী কলাপাড়ায় বিদ্যমান আছে।

২/ কুয়াকাটার কুয়া

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :– কুয়াকাটা থেকে ভ্যানে বা পায়ে হেটে ।

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের কাছে রাখাইন পল্লী কেরানীপাড়ার শুরুতেই একটা বৌদ্ধ মন্দিরের কাছে রয়েছে প্রাচীন কুপ গুলোর মধ্যে একটি কুপ। তবে বারবার সংস্কারের কারণে এর প্রাচীন রূপটা এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না। জনশ্রুতি আছে ১৭৮৪ সালে বর্মী রাজা রাখাইনদের মাতৃভূমি আরাকান দখল করলে বহু রাখাইন জায়গাটি ছেড়ে নৌকাযোগে আশ্রয়ের খোঁজে বেড়িয়ে পড়েন। চলতি পথে তারা বঙ্গোপসাগরের তীরে রাঙ্গাবালি দ্বীপের খোঁজ পেয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেন। সাগরের লোনা জল ব্যবহারের অনুপযোগী বলে মিষ্টি পানির জন্য তারা এখানে একটি কূপ খনন করেন। এরপর থেকে জায়গাটি ‘কুয়াকাটা’ নামে পরিচিতি পায়।

৩/ কেরানীপাড়া রাখাইনপল্লী

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :– কুয়াকাটা থেকে বাইকে বা ভ্যানে

বিস্তারিত :- সীমা বৌদ্ধ মন্দির থেকে সামনেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রাখাইনদের আবাসস্থল কেরানীপাড়া। এখানকার রাখাইন নারীদের প্রধান কাজ কাপড় বুনন। রাখাইনদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়। শীত মৌসুমে পোশাক তৈরির ধুম পড়ে কুয়াকাটার রাখাইন পল্লীগুলোতে। দিন-রাত পরিবারের সবাই মিলে মনের মাধুরী মিশিয়ে তৈরি করে বাহারি ডিজাইন ও নানা রঙের পোশাক। আর এই পোশাক কিনতে ভিড় করে বেড়াতে আসা পর্যটকরা।

৪/ ক্র্যাব আইল্যান্ড

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :– কুয়াকাটা থেকে বাইকে

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের পূর্ব দিকে গঙ্গা-মতির জঙ্গল ছাড়িয়ে আরও সামনে গেলে আছে ক্র্যাব আইল্যান্ড বা কাঁকড়ার দ্বীপ। এ জায়গায় আছে লাল কাঁকড়ার বসবাস। নির্জন পরিবেশে দূর থেকে লাল কাঁকড়ার দলের আনাগোনা দেখলে সৈকতে লাল গালিচা পাতা আছে ভেবে ভুল হয়। ভ্রমণ মৌসুমে (অক্টোবর-মার্চ) কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে স্পিড বোটে যাওয়া যায় ক্রাব আইল্যান্ডে।

৫/ গঙ্গা-মতির জঙ্গল

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা থেকে বাইকে বা ভ্যানে

বিস্তারিত :- কুয়াকাটার সমুদ্র সৈকত শেষ হয়েছে পূর্ব দিকে গঙ্গা-মতির খালে। এখান থেকেই শুরু হয়েছে গঙ্গা-মতির জঙ্গল। অনেকে একে গজমতির জঙ্গলও বলে থাকেন। উল্লেখ্য যে, কুয়াকাটা যে অংশ থেকে সূর্যোদয় সবচেয়ে ভালো দেখা যায়, তাহলো এই গঙ্গামতির বাঁক। নানান রকম বৃক্ষরাজি ছাড়াও এ জঙ্গলে রয়েছে বিভিন্ন রকম পাখি, বন মোরগ-মুরগি, বানর ইত্যাদি।

৬/ চর বিজয়

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলার কুয়াকাটাতে ।

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা থেকে ট্রলারে

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এর গঙ্গামতী থেকে দক্ষিণ-পূর্ব কোণে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে গভীর সাগরে জেগে উঠা মনোমুগ্ধকর এক দ্বীপ চর বিজয়। দ্বীপটির আয়তন আনুমানিক ৫ হাজার একর। লাল কাঁকড়া আর হাজারো অতিথি পাখির বিচরণে আকাশ আর চর মিলে একাকার হয়ে থাকে এই দ্বীপ। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে এই চরের নামকরন করা হয় চর বিজয়; যা স্থানীয়দের কাছে হাইরের চর নামেও পরিচিত।

বছরের ৬ মাস জেগে থাকে এই চর। মূলত এ চরে জেলেদের অস্থায়ী বসবাস। চর বিজয়ের চারপাশে জেলেরা মাছ শিকার করেন। তারা তিন মাসের জন্য চরে অস্থায়ী আবাস তৈরী করে মাছের শুঁটকি প্রস্তুত ও বিক্রি করেন। কুয়াকাটা থেকে মাত্র দেড় ঘণ্টায় এই অনিন্দ সুন্দর বিজয় দ্বীপে পৌঁছানো যায়।

৭/ মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় রাখাইনদের একটি গ্রামের নাম মিশ্রিপাড়া।

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সৈকত থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় রাখাইনদের একটি গ্রামের নাম মিশ্রিপাড়া। এখানে রয়েছে বড় একটি বৌদ্ধ মন্দির। কথিত আছে, এ মন্দিরের ভেতরে রয়েছে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধ মূর্তি। এছাড়া এখান থেকে সামান্য দূরে আমখোলা গ্রামে রয়েছে এ অঞ্চলে রাখাইনদের সবচেয়ে বড় বসতি।

৮/ পানি জাদুঘর

স্থান :- কলাপাড়া উপজেলায় কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে

কিভাবে যাওয়া যায় :- কলাপাড়া উপজেলায় কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে পাখিমারা নামক  জায়গায়

বিস্তারিত :- নদী ও পানিসম্পদ রক্ষায় জনসচেতনাতা বৃদ্ধের উদ্দেশ্য নিয়ে ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় কুয়াকাটা-ঢাকা মহাসড়কের পাশে একটি দ্বিতল ভবনে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম পানি জাদুঘর যাত্রা শুরু করে। একশন এইড নামের এনজিও কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরে বাংলাদেশের নদী-কেন্দ্রিক মানুষের জীবন-জীবিকা ও সংস্কৃতি, বাংলাদেশের সকল হারিয়ে যাওয়া ও বর্তমান নদ-নদীর পরিচিতি, ছবি, নদীর ইতিহাস এবং নদীর ভবিষ্যৎ সম্পর্কিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। পানি জাদুঘরে যমুনা, বুড়িগঙ্গা, পদ্মা, আন্ধারমানিক, মেঘনাসহ ৯০ টির অধিক নদীর পানির নমুনা সংরক্ষিত আছে।

৯/ ফাতরার বন

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা থেকে ট্রলারে।

বিস্তারিত :- আন্ধারমানিক নদীর মোহনার পশ্চিম দিকে রয়েছে সুন্দরবনের শ্বাসমূলীয় বনাঞ্চল, নাম তার ফাতরার বন যা বইয়ের ভাষায় টেংরাগিরি বনাঞ্চল নামেও পরিচিত। ভৌগোলিকভাবে বরগুনা জেলায় বাগানটির অবস্থান থাকলেও কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা বিনোদনের জন্য সেখানে ট্রলার যোগে যাতায়াত করেন। তবে সুন্দরবনের অংশ হলেও এ বনে নেই তেমন কোন হিংস্র প্রাণী। দিনে দুইবার এটি জোয়ার- ভাটায়  প্লাবিত হয়। জোয়ার- ভাটার উপস্থিতির কারণে, বনে সুন্দরি, কেওড়া, বাইন, গোলপাতা সহ দেখা মিলবে আরো বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের। ভাগ্য সহায় হলে দেখা মিলবে অজগর, গোখরা গুই সাপের মতো সরীসৃপের। এছাড়া ছোট বড় বিভিন্ন প্রজাতির পাখির ডাকে বিমোহিত হওয়ার সুযোগতো রয়েছেই। বন মোরগ, বানর আছে এ বনে। কদাচিৎ এ বনে বুনো শুকরেরও দেখা মেলে। কুয়াকাটা থেকে ফাতরার বনে যেতে হবে ইঞ্জিন নৌকাযোগে।

১০/ শুঁটকি পল্লী

স্থান :- পটুয়াখালী জেলার কলাপারা উপজেলায়।

কিভাবে যাওয়া যায় :- কুয়াকাটা থেকে বাইকে।

বিস্তারিত :- কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ৭ কিলোমিটার পশ্চিম প্রান্তে আছে শুঁটকি পল্লী। এখানে প্রচুর জেলেদের বসবাস। মূলত নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে চলে শুঁটকি তৈরির কাজ। সমুদ্র থেকে মাছ ধরে এনে সৈকতেই শুঁটকি তৈরি করেন জেলেরা। কম দামে ভালো মানের শুঁটকিও কিনতে পাওয়া যায় এখানে। পর্যটকরা তাজা মাছ কেটে শুঁটকি-জাত করার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমায়। অবলোকন করে জেলেদের ইলিশ শিকারে সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি করা জীবন জীবিকার যুদ্ধ। দেখতে পায় বেড় জালে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকারের অনন্য দৃশ্য।

কোথায় থাকবেন?

থাকার হোটেল, খাবার হোটেল আর দর্শনীয় স্থানগুলো প্রায় একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে অবস্থিত। ৪০০ টাকা থেকে শুরু করে প্রায় ১০ হাজার টাকা মানের অনেক থাকার হোটেল আছে কুয়াকাটা সাগর সৈকতের একদম কাছে। আর খাবার হোটেলগুলোর প্রায় সবগুলোই সৈকত থেকে মাত্র ২-৩ মিনিটের হাঁটা পথ।

আরো পড়ুন : সারা বছরই মুখর থাকে ইয়ার উদ্দীন দরবার



সারা বছরই মুখর থাকে ইয়ার উদ্দীন দরবার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যতগুলো পুণ্যভূমি আছে, তার মধ্যে অন্যতম পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবার শরিফ। সারা বছরই এই দরবার মুখর থাকে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর পদচারণে। তাদের কেউ আসেন দান কিংবা মানতের মাধ্যমে নেক মনোবাসনা পূরণের জন্য আবার কেউ আসেন স্রষ্টার নৈকট্য লাভের জন্য। পীর-মুরিদহীন ব্যতিক্রমী এই দরবারে শুধু বার্ষিক ওয়াজ-মাহফিলেই লাখো মানুষের সমাগম হয়।

মির্জাগঞ্জ দরবারে আসা দেশের বিভিন্ন স্থানের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের যতগুলো দরবার বা পুণ্যভূমি আছে, তার প্রতিটিতেই একজন করে পীর থাকেন। থাকেন অসংখ্য মুরিদ বা অনুসারীও। বংশপরম্পরায় পরিবারের বড় ছেলেই পীর নির্বাচিত হন এসব দরবারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম মির্জাগঞ্জ দরবার শরিফ। এই মাজারে কোনো পীর নেই, কোনো মুরিদও নেই। এ ছাড়া ধর্মীয় সব রীতিনীতি মেনেই চলে এ মাজারের সব কার্যক্রম। তাই দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও এ মাজারের সুনাম রয়েছে।

আরো পড়ুন : গুঠিয়া মসজিদের সৌন্দর্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর প্রকৃত নাম হচ্ছে ইয়ার উদ্দীন খান। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবার নাম সরাই খান। যুবক বয়সেই তার স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে মৃত্যুবরণ করেন।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় এসে প্রথমে মুদি ও মনোহরি পণ্য বিক্রি শুরু করেন ইয়ার উদ্দিন। এতে তাকে সাহায্য করতেন গগন মল্লিক নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। এরপর পেশা পরিবর্তন করে পাঞ্জাবি ও টুপি সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন তিনি। এ কারণে স্থানীয়রা তাকে খলিফা উপাধি দেন। জীবিকা নির্বাহের কাজের পেছনে তিনি স্বল্প সময় ব্যয় করতেন। দিন ও রাতের সিংহভাগ সময় তিনি নামাজ ও পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ইবাদতের মগ্ন থাকতেন।

ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.) একজন সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন। তিনি সব মানুষকে অত্যন্ত বিশ্বাস করতেন। তাই তার দোকানের কোনো পণ্য তিনি পরিমাপ করে ক্রেতাদের দিতেন না। ক্রেতারাই পরিমাপ করে পণ্য নিয়ে দাম দিয়ে যেতেন। তবে ইয়ার উদ্দীন খলিফা কবে জন্মগ্রহণ করেন ও কবে মির্জাগঞ্জে আসেন এবং কবে মৃত্যুবরণ তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি কেউই। তবে স্থানীয়দের ধারণা, ১৯২০ সালের দিকে ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.) মির্জাগঞ্জ আসেন এবং ১৯৩০ অথবা ১৯৩৫ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবারে প্রতিবছর ২৪ ও ২৫ ফাল্গুন দুদিনব্যাপী বার্ষিক ওয়াজ-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হয়। এ ছাড়া প্রতিদিন এই পুণ্যভূমি দর্শন ও মাজার জিয়ারত করতে দূরদূরান্ত থেকে শত শত মানুষের আগমন ঘটে।

খুলনার পাইকগাছা থেকে চার বন্ধুর সঙ্গে মো. ওমর ফারুক (২৫) এসেছেন মির্জাগঞ্জ মরহুম ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবারে। তিনি বলেন, এর আগেও আমি একাধিক দরবারে এসেছি। সেসব স্থানে মাহফিলে আসা মুসল্লিদের পীর তাদের মুরিদ বানান। তাদের নিজস্ব কিছু রীতি-রেওয়াজ পালনের নির্দেশনা দেন। কিন্তু এখানে এ রকম কিছু নেই। এখানে শুধু কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনাই করা হয়।

তিনি আরও বলেন, অনেক দরবারে দেখেছি, বার্ষিক এসব অনুষ্ঠান কিংবা কোনো অনুষ্ঠান ছাড়াও নারী-পুরুষ মিলেমিশে একাকার হয়। কিন্তু এখানের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। চাইলেই এখানে নারীরা পুরুষদের স্থানে যেতে পারেন না আর পুরুষরাও নারীদের স্থানে যেতে পারেন না। এসব কারণেই দরবারটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। তাই পরবর্তীতেও আমি এখানে আসতে চাই।

বরিশালের উজিরপুর থেকে মানতের একটি গরু নিয়ে এ দরবারে এসেছেন পৌঢ় হামিদ গাজী। তিনি বলেন, নেক মনোবাসনা পূরণে এ দরবারে দানের জন্য যদি কেউ মানত করেন, তাহলে আল্লাহর রহমতে তার মনোবাসনা পূরণ হয়। পারিবারিক একটি সমস্যা সমাধানের জন্য এ দরবারে আমি গরু মানত করেছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমার সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। তাই মাহফিলের শেষ দিন আমি মানতের গরু নিয়ে এখানে এসেছি।

টাঙ্গাইল থেকে আসা পৌঢ় আহমদ আলী বলেন, বর্তমানে সিংহভাগ দরবার ধর্মীয় নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজস্ব নিয়মনীতিতে পরিচালিত হয়। কিন্তু এই ধরবারে ধর্মীয় রীতিনীতি কঠোরভাবে মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এখন পর্যন্ত সব ধরনের বিতর্কের ঊর্ধ্বে এই দরবার। তাই কোনো পীর-মুরিদ না থাকার পরও লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে সমবেত হন আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য।

সাড়ে আট একর জমি নিয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলার পায়রা নদীর তীরে অবস্থিত হজরত ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর দরবার শরিফ। ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.)-এর মাজারকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে একটি মসজিদ, একটি আলিম মাদরাসা, একটি এতিমখানা, একটি নুরানি মাদরাসা, একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী থেকে অপহৃত কিশোরী যাত্রাবাড়ীতে উদ্ধার

মাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদ মল্লিক বলেন, আমাদের সমাজে মাজার মানেই গানবাজনাকে বোঝায়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন ইয়ার উদ্দীন খলিফা (র.) মাজার ও দরবার। আমাদের প্রিয় ইসলাম ধর্ম সমর্থন করে না, এমন কোনো কাজ এ মাজার ও দরবারে করা হয় না

তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় সব রীতিনীতি মেনে চলা হয় বলেই এখানের বার্ষিক মাহফিলে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। এ ছাড়া প্রতিদিন এখানে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শত শত মানুষ আসেন মাজার জিয়ারত করার পাশাপাশি দান ও মানত করতে।