ভিটামিন ডির ঘাটতি হয় কেন, ৭ লক্ষণ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ভিটামিন ডি শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এর ঘাটতি শরীরের নানা রকম ঝুঁকির কারণ হয়।

খাদ্যে ভিটামিন ডির অপ্রতুলতা এবং সূর্যরস্মির অভাবে অনেকের শরীরেই ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হয়। ভিটামিন ডি শরীরের বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে যেকোনো বয়সী মানুষ।

যেসব কারণে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি হতে পারে, তাদের মধ্যে নিম্নলিখিত কারণগুলো উল্লেখযোগ্য। যেমন :

• শরীরের রং বেশি কালো হওয়া
• বয়স্ক হলে
• অতিরিক্ত ওজন
• পর্যাপ্ত মাছ বা দুধ না খাওয়া
• অতিরিক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা
• সবসময় ঘরে বসে থাকা ইত্যাদি

ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ

১. ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে ভিটামিন ডি। প্রায়ই সর্দি-কাশি বা ফ্লুতে ভোগার জন্য দায়ী হতে পারে ভিটামিন ডি-এর কম মাত্রা।

২. ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড়, জয়েন্ট, পিঠ ও স্নায়ুতে ব্যথা হতে পারে।

৩. ভিটামিন ডি-এর অভাবের সঙ্গে বিষণ্নতার সম্পর্ক রয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই বিষণ্ন লাগলে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা পরীক্ষা করে নিন।

৪. অত্যধিক চুল পড়া হতে পারে ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ।

৫. অস্ত্রোপচার বা আঘাতের পরে ধীরে ধীরে ক্ষত নিরাময় হওয়া ভিটামিন ডি অভাবের লক্ষণ হতে পারে।

৬. বাড়তি ওজনের কারণ হতে পারে অপর্যাপ্ত ভিটামিন ডি।

৭. ক্লান্তবোধ করা ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ। শরীরের এনার্জি লেভেল কমতে শুরু করে এই ভিটামিনের অভাবে, ফলে অল্প কাজ করেও লাগতে পারে ক্লান্ত।

ভিটামিন-ডি পাওয়া যায় যেসব খাবারে

ভিটামিন-ডি একটি ফ্যাট সলিউবল সিকুস্টারয়েড। এর কাজ হচ্ছে দেহের অন্ত্র (ইনটেসটাইন) থেকে ক্যালসিয়ামকে শোষণ করা; এটি আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং ফসফরাসকেও দ্রবীভূত করে। ভিটামিন-ডি নিয়ে আগে এত কথা না হলে বর্তমানে এ বিষয় নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। পুষ্টিবিদরা প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন-ডি জাতীয় খাবার রাখার পক্ষে জোর দিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিটামিন-ডি’র অভাবে শিশুদের দেহের হাড় ঠিকমতো বৃদ্ধি পায় না এবং হাড় বাঁকা হয়ে যায়। এর অভাবে বয়স্ক লোকদের হাড় নরম হয়ে যায়; আলঝেইমার রোগ হতে পারে। যাঁদের দেহে ভিটামিন-ডি’র অভাব রয়েছে, তাঁদের অ্যাজমার সমস্যা হতে পারে।

মাছ

বিভিন্ন মাছে রয়েছে ভিটামিন-ডি। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত মাছ, যেমন : স্যালমন, সারদিনস, টুনা, ম্যাককেরেল ইত্যাদি। দৈনিক ভিটামিন-ডি’র চাহিদার ৫০ শতাংশ পূরণ হতে পারে একটি টুনা মাছের স্যান্ডউইচ বা তিন আউন্স ওজনের একটি স্যালমান মাছের টুকরো থেকে।

মাশরুম

মাশরুমে রয়েছে ভিটামিন-ডি। পরটোবেললো মাশরুম সূর্যের আলোয় বড় হয়, এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন-ডি। তাই চাহিদা পূরণে নিয়মিত মাশরুম খেতে পারেন।

কমলার জুস

বাজারে কিছু ভালো ব্র্যান্ড রয়েছে, যারা কমলার জুস তৈরিতে ভিটামিন-ডি যোগ করে। অন্যান্য জুসের মধ্যে এটি দেওয়া হলেও কমলার জুস ভিটামিনের উপাদান ধরে রাখতে পারে। তাই ভিটামিন-ডি’র জন্য ভালো ব্র্যান্ডের জুসও খাওয়া যেতে পারে। তবে খাওয়ার আগে প্যাকেটের গায়ে দেখে নিন, কী কী উপাদান দিয়ে তৈরি হয়েছে এটি।

ডিম

ডিমে হালকা পরিমাণ ভিটামিন-ডি রয়েছে। তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, তাঁদের ডিমের কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জাতীয় খাবার

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জাতীয় খাবারে ভিটামিন-ডি রয়েছে, যেমন : গরুর মাংসের লিভারে ভিটামিন-ডি আছে। তবে এটা রান্না করে খাওয়ার চেয়ে অনেকেই হয়তো দুধ থেকে ভিটামিন-ডি খেতে বেশি পছন্দ করবেন।

 




পটুয়াখালীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, দিশেহারা সাধারণ মানুষ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মানুষের বেশ কয়েক দিনের তীব্র গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। আজ সোমবার (১৫ এপ্রিল) বছরের সর্বোচ্চ গরম অনুভূত হয়েছে জেলার কলাপাড়া উপজেলায়। এ উপজেলায় ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে কলাপাড়া ঝড় সতর্কীকরণ রাডার স্টেশন। আজ এটিই দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলাপাড়া ঝড় সতর্কীকরণ রাডার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার শরীফ।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন ফুটপাতের দোকানদার, ঠেলাগাড়িচালক, অটোরিকশা চালক, ভ্যান-অটোরিকশার চালকসহ নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

তীব্র গরমে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আসা পর্যটকদের চোখে-মুখে ছিল বিরক্তির ছাপ। একটু স্বস্তির আশায় ডাব ও শরবতের দোকানে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

কলাপাড়া পৌর শহরে ভ্যানচালক হোসাইন মিয়া বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে যাত্রী টানতে পারছি না। রোদে বারবার তৃষ্ণা পাচ্ছে। শরীরটারে শান্তি দিতে দুই গ্লাস শরবত খেলাম। এভাবে গরম পড়লে ভ্যান চালানো বন্ধ করে দেয়া লাগবে।’

কুয়াকাটা সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটক ইউসুফ মিয়া বলেন, ‘শরীর ঘেমে একাকার হয়ে যাচ্ছে। কোনো উপায় না পেয়ে এখন ডাব খাচ্ছি। তাতেও তৃষ্ণা মিটছে না।’

কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের গ্রামের কৃষক কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন রকমের শাক-সবজি ও শসার চাষ করেছি। রোদে গাছের গোড়া শুকিয়ে যাচ্ছে। রোদের তেজ আরও বাড়লে গাছ মরে যাবে। তাহলে আমরা বড় ক্ষতির মুখে পড়ব।’

আরো পড়ুন : দোকান ঘর ধুয়ে ঘরে ফেরা হলো না জামালের

কলাপাড়া ঝড় সতর্কিকরণ রাডার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার শরীফ বলেন, ‘আজ কলাপাড়ায় আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটি এ জেলায় এ বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। তবে উপকূলে বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা অনেকটা কমে যাবে। উপকূলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে যে কোনো সময় ঝড়ো হাওয়া বা ঝড়ো বৃষ্টি বয়ে যেতে পারে।’




পটুয়াখালী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসক তৈরির নামে জোড়াতালির পাঠদানে স্বাস্থ্যখাত ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।

এ ছাড়াও ল্যাব-আবাসন সংকটের পাশাপাশি শিক্ষক সংকটেও নেই মাথাব্যথা। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হলেও কার্যত কোনো ফল মিলছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজটি ২০১৪ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০১৬ সালে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ২০২০ সালে হস্তান্তর হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক দফায় সময় বাড়িয়েও এখনও কাজ সম্পূর্ণ হয়নি।

আরো পড়ুন : পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত কুয়াকাটা

খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কলেজের একাডেমিক ভবনের কাজ। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি নিয়েই পাঠদান কার্যক্রম চলছে। কোনো ল্যাব এখনও না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে শিক্ষা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিশ্চিত হচ্ছে না গুণগত মান; রয়েছে আবাসন সংকটও।

শুধু তাই নয়, বছরের পর বছর শিক্ষক সংকটেও ভুগছে প্রতিষ্ঠানটি। ৭৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩০ জন। সংকটের বিষয়ে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ফল আসেনি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্র্যাকটিক্যাল রিলেটেড ক্লাসগুলো থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। পাঠদানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, সরঞ্জামেরও অভাব রয়েছে। তাহলে বলেন, এখানে পড়ে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

আরো পড়ুন : বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছেন টাইগারদের নতুন কোচ

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মনরিুজ্জামান বলেন, প্রতিমাসই মাসিক প্রতিবেদন আমরা অধিদফতরের পাঠাই। আমাদের কতোটা পদ খালি আছে সেটার বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের প্রকল্প পরিচালক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের একাডেমিক ভবনটা আসলে কীভাবে রেডি করা যায় সে বিষয়ে কাজ করছি। সে বিষয়ে তাগেদাও দেয়া হচ্ছে।

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে বর্তমানে ১০ ব্যাচসহ ৩২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।




বুবলীর সাক্ষাৎকারে ‘বিরক্ত’ শাকিব খান, অভিমান অপু বিশ্বাসের




শোভাযাত্রা পেছালো ১৫ মিনিট

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : জাতি ১৪৩১ বঙ্গাব্দকে বরণে নানা আয়োজনে মেতে উঠেছে। রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠান শেষ করে চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া মঙ্গল শোভাযাত্রায় যেন সবাই যোগ দিতে পারেন, সেজন্য পূর্বনির্ধারিত সময় থেকে ১৫ মিনিট পেছানো হয়েছে সময়। এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হবে সকাল সোয়া ৯টায়।

শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড় হয়ে শিশুপার্কের সামনে দিয়ে ঘুরে ফের শাহবাগ হয়ে টিএসসিতে গিয়ে শেষ হবে। পরে বকুলতলার মঞ্চে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে বাউল গান।

এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার পোস্টার বানাতে একটি কর্মশালা হয়েছিল, সেখান থেকে এ বি এম শাফিউল আলমের আঁকা একটি পোস্টার নির্বাচন করা হয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রা গবেষণা ও প্রসারকেন্দ্র আয়োজিত কর্মশালা এবং মুক্ত আহ্বানে পাওয়া পোস্টার থেকে এটি বাছাই করেন চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসান হোসেন, শিল্পী তরুণ ঘোষ ও শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য্য।

গত শতকের আশির দশকে সামরিক শাসনের অর্গল ভাঙার আহ্বানে পহেলা বৈশাখে চারুকলা থেকে যে শোভাযাত্রা বের হয়েছিল; সেটিই পরে মঙ্গল শোভাযাত্রায় রূপ নেয়। ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতিও পায় এ কর্মসূচি।




পটুয়াখালীতে দেশী প্রজাতির ছোট বড় মাছ বিলুপ্ত হতে চলছে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী জেলার সবগুলো উপজেলাতে বিভিন্ন দেশী প্রজাতির ছোট বড় মাছ বিলুপ্ত হতে চলছে। জেলার বিভিন্ন খালে-বিলে বাঁশের চাঁই ব্যবহারের ফলে ছোট প্রজাতির মাছ হারিয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। চাঁই ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন প্রজাতির দেশী মাছের পোনা ও ছোট বড় মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। গ্রাম-গঞ্জে বাঁশের তৈরী চাঁই পেতে মাছের বংশ নষ্ট করছে এক শ্রেনীর অসাধু জেলেরা।

অন্যদিকে বিভিন্ন খালে ও ডোবায় অধিক হারে কীটনাশকযুক্ত পানি প্রবেশ করার কারনে মাছের বংশ বিস্তার করতে পারছে না। এই সব অবৈধ চাঁই প্রতিরোধ করতে না পারলে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তারপরও থেমে নেই মাছ শিকারে অসাধু জেলেরা। ফলে ভবিষ্যতে দেশী প্রজাতির ছোট-বড় মাছ রুপকথার গল্পের মত হয়ে যাবে।

আরো পড়ুন : দীর্ঘ ৮ বছর পর পটুয়াখালী-কুয়াকাটার ১১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ

জেলায় মাছের ক্ষেত্র হিসাবে পরিচিত আলীপুরা, বাঁশবাড়িয়া, রনগোপালদী, চরবোরহান, দশমিনা, গলাচিপা, ছোট বিঘাই, দুমকি, মির্জাগঞ্জ, সুবীধখালী, কলাপাড়া, আনন্দপুর, বেতাগী সানকিপুর ইত্যাদি ইউনিয়নসহ চরাঞ্চল এলাকা ছোট-বড় খাল এখন মাছ শূন্য হয়ে গেছে।

উল্লেখিত এলাকায় বোয়াল, মাগুর, শিং, কৈ, টেংরা, শোল, টাকি, পুটি, গজার, চাপিলা, খৈইলশা, পাবদা, আইড়, চিংড়ি, মলা, বাইন, বেলে সহ অর্ধ শতাধিক প্রজাতির মাছ প্রায় বিলুপ্ত হবার পথে রয়েছে। বিশেষ করে নদীর মাছ হিসাবে পরিচিত পোয়া, ইলিশ, আইড়, রিটা যার দেখা এখন অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। অত্র অঞ্চলের সোনার হরিণ হিসাবে পরিচিত ইলিশ মাছ যেন এখন হয়ে গেছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জালের অবাধ ব্যবহার, কৃষি জমিতে সার ও কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার, বর্ষাকালে প্রজনন মৌসুমে ডিমওয়ালা মা মাছ সহ পোনা নিধন, শুস্ক মৌসুমে মাছ ধরার প্রবনতা এবং মাছের বিচরন ক্ষেত্র কমে যাওয়া সহ প্রভৃতি কারনে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ফসল হিসাবে পরিচিত মৎস্য সম্পদ আজ বিলুপ্ত হতে চলছে। এছাড়া মাছের প্রজনন মৌসুম ও পোনা মাছের বৃদ্ধিকালীন সময় অবাধে ছোট-বড় মাছ ধরা এবং মৎস্য আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকায় মৎস্য সম্পদ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বিগত ২০ বছর আগে গ্রামাঞ্চলে সর্বত্র দেশী প্রজাতির মাছ পাওয়া গেলেও এখন আর সেই অবস্থা নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা গুলোর বিভিন্ন হাট-বাজারে অবৈধ ভাবে বাঁশের তৈরী চাঁই বিক্রি করে থাকে স্থানীয় ও সুবিধাভোগী ব্যবসায়ীরা। বৈশাখ থেকে ভাদ্র মাসের শেষ পর্যন্ত জেলার ৭টি উপজেলাতেই ধানী জমি ও খাল-বিল, ডোবা-নালাতে বাশেঁর চাঁই পেতে বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ ও বড় মাছ শিকার করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মাছ শিকারের জন্য ব্যবহারিত নিয়ম কানুন না মেনে অবৈধ ভাবে চাই পেতে মাছ শিকারে মেতে উঠেছে অসাধু জেলেরা। এ সকল অসাধু জেলেরা দুই সুতাঁ পরিমান ফাঁকা রেখে বাশেঁর চাঁই তৈরী করে ব্যবহার করছে। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছের বংশ নষ্ট করছে। আর দেশীয় মৎস্য প্রজনন কমে যাচ্ছে।

আরো পড়ুন : নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজি খাদে, নিহত ২

অন্য দিকে এ অঞ্চলের মানুষের মাছের আকাল দিন দিন বেড়েই চলছে। এমতাবস্থায় বাঁশের চাঁই ব্যবহার দ্রুত বন্ধ না করলে ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে দেশীয় মাছ রুপকথার গল্পের মত
থেকে যাবে।

এই বিষয়ে দশমিনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব আলম তালুকদার বলেন,বাশেঁর চাঁই দিয়ে মাছ শিকারের কারনে এই অঞ্চলের দেশী বিভিন্ন প্রজাতির মাছ উৎপাদন কমে যাচ্ছে। দেশী প্রজাতির মাছ রক্ষায় জেলেদেরকে সচেতন করা হবে।




দীর্ঘ ৮ বছর পর পটুয়াখালী-কুয়াকাটার ১১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কুয়াকাটা মহাসড়কের ১১ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ ৮ বছর পর সংস্কার হতে যাচ্ছে। মামলা জটিলতার কারণে কলাপাড়া উপজেলার পাখিমারা বাজার থেকে আলিপুর ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের এ অংশটি ২০১৪ সালের পর সংস্কার করা হয়নি। সম্প্রতি মামলা জটিলতার অবসান হওয়ায় এ সড়কের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দুয়েক মাসের মধ্যেই প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে পটুয়াখালী সড়ক ও জনপদ (সওজ) অধিদপ্তর।

পটুয়াখালী সওজ সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী সড়ক বিভাগ ২০১১ সালে পটুয়াখালী কুয়াকাটা সড়কের পাখিমারা থেকে আলিপুর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ হাতে নেয়। খুলনার রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ওই অংশের ঠিকাদার নিযুক্ত হয়। ব্যয় ধরা হয় ২০ কোটি টাকা। ঠিকাদার সড়কটি সংস্কারের পর চূড়ান্ত বিল দাবি করে সড়ক বিভাগের কাছে।

আরো পড়ুন : ট্রাক-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে যুবক নিহত

কিন্তু সংস্কার কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে সড়ক বিভাগ ঠিকাদারকে ১২ কোটি টাকা পরিশোধের পর বাকি ৮ কোটি টাকা আটকে রাখে। শিডিউলের শর্ত অনুযায়ী আবার সংস্কারের জন্য বলা হলে ঠিকাদার তাতে অস্বীকৃতি জানায়।

এ নিয়ে সওজ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং কমিটি সরেজমিনে তদন্ত করে সড়কের কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে ঠিকাদারের চূড়ান্ত বিল পরিশোধে আপত্তি জানায় তদন্ত কমিটি। এ অবস্থায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রূপসা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের পরিচালক রাশেদুর রহমান ২০১৪ সালে হাইকোর্টে পিটিশন দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সড়কটিতে সংস্কার কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সম্প্রতি হাইকোর্ট ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করায় সড়কের ওই অংশ সংস্কারে বাধা কেটে গেছে।

কুয়াকাটা সৈকতে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসেন। ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয়দের যাতায়াতের গুরুত্ব বিবেচনায় এ সড়কের ওই অংশ জরাজীর্ণ থাকায় অশেষ ভোগান্তি পোহাতে হয় যাত্রীদের।

পটুয়াখালী জেলা বাস মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘পটুয়াখালী-কুয়াকাটা সড়কের পাখিমারা থেকে আলিপুর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ ৮ বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে। এতে যানবাহন চলাচল বিঘ্নিত হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সড়ক বিভাগ এবার সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে আশা করি।’

আরো পড়ুন : পটুয়খালীতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার

পটুয়াখালী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এ এম আতিকুল্লাহ বলেন, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। এর সংস্কার জরুরি হলেও আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে আমরা এতদিন ওই ১১ কিলোমিটার অংশ সংস্কার করতে পারিনি’।

তিনি আরও বলেন, ‘সম্প্রতি আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় আমরা ১৭ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।’
‘আশা করছি দুয়েক মাসের মধ্যেই সংস্কার কাজ শুরু করা যাবে এবং সড়কের ওই অংশের সংস্কার কাজ শেষ হলে কুয়াকাটা থেকে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ৩০০ কিলোমিটার সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন হবে’।




আজ চৈত্র সংক্রান্তি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আজ শনিবার (১৩ এপ্রিল) ১৪৩০ বঙ্গাব্দের শেষ দিন। এদিন পালিত হবে চৈত্র সংক্রান্তি। আগামীকাল রোববার পয়লা বৈশাখ-নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩১। এদিন জীর্ণ পুরাতন সবকিছু ভেসে যাক, ‘মুছে যাক গ্লানি’ এভাবে বিদায়ী সূর্যের কাছে এই আহ্বান জানাবে বাঙালি।

আবহমান বাংলার চিরায়িত বিভিন্ন ঐতিহ্যকে ধারণ করে আসছে এই চৈত্র সংক্রান্তি। বছরের শেষ দিন হিসেবে পুরাতনকে বিদায় ও নতুন বর্ষকে বরণ করার জন্য প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে থাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান-উৎসবের আয়োজন। মনে করা হয়, চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পয়লা বৈশাখ উদযাপনের এত আয়োজন।

চৈত্র সংক্রান্তির দিন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস করে থাকেন। নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী, অন্য ধর্মাবলম্বীরাও নানা আচার-অনুষ্ঠান পালন করেন।

এছাড়াও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে নানা ধরনের মেলা ও উৎসব হয়। হালখাতার জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সাজানো, লাঠিখেলা, গান, সংযাত্রা, রায়বেশে নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে উদযাপিত হয় চৈত্র সংক্রান্তি।

চৈত্র সংক্রান্তির প্রধান উৎসব চড়ক। চড়ক গাজন উৎসবের একটি প্রধান অঙ্গ। এ উপলক্ষে গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্য গ্রামের শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়। একজন শিব ও একজন গৌরী সেজে নৃত্য করে এবং অন্য ভক্তরা নন্দি, ভৃঙ্গী, ভূত-প্রেত, দৈত্য-দানব সেজে শিব-গৌরীর সঙ্গে নেচে চলে।




ঈদের পরে বদ হজম এড়াতে যা করবেন




সেই বৃদ্ধার ঘরে ঈদ উপহার পাঠালেন ইউপি চেয়ারম্যান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় এক অসহায় বৃদ্ধার ঘরে ঈদ উপহার পাঠিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন। ওই বৃদ্ধার নাম আয়শা বিবি (৭০)। তিনি উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের হরিদ্রাখালী গ্রামের বাসিন্দা।

বুধবার দুপুরে ঈদসামগ্রীর প্যাকেজ বৃদ্ধার বাড়িতে পাঠানো হয়। এতে ছিল ১০ কেজি চাল, এব কেজির মশুর ডাল, চিনি, হলুদ,মরিচ, ধনিয়া গুড়া, সেমাই, দুধ ও নতুন কাপড়।

এর আগে ‘পচা নাড়ার ঘরে বসবাস বৃদ্ধা আয়শা বিবির’ শিরোনামে চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডক কম অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

পটুয়াখালীতে পচা নাড়ার ঘরে বসবাস বৃদ্ধা আয়েশা বিবির  শিরোনামে

সংবাদটি নজরে পড়লে বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মহিব্বুর রহমান মহিবের নির্দেশনায় ওই বৃদ্ধার ঘরে ঈদ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

ঈদ উপহার পেয়ে আপ্লুত আয়শা বিবি বলেন, ‘স্বামী মারা গেছে প্রায় ২০ বছর হয়েছে। দুই মেয়ে ও এক ছেলে আছে। ওরা কেউ আমার খোঁজখবর নেয় না। আমি মানুষের বাসায় কাজ করে জীবনযাপন করি। এত ঈদ গেল কেউ খোঁজ নিলো না। এ বছর আমার কষ্টের কথা শুনে যে ঈদ বাজার পাঠিয়েছে তার জন্য আল্লাহ কাছে দোয়া করি। স্বামীর ভিটেতে নাড়ার ছাপড়া দেয়া ঘরে বসবাস করি। অনেক কষ্ট হয় ভাঙা ঘরটিতে। তবুও ঝুঁকি নিয়ে থাকতে হচ্ছে। আমারে ঘর করে দিলে ভালো হতো।’

আরো পড়ুন : বর্ষবরণ ও ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত পটুয়াখালীর মৃৎশিল্পীরা

সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান মামুন বলেন, আয়শা বিবির বাসস্থান নিশ্চিতে সরকারি ঘর দেয়ার ব্যবস্থা করবো।