বরিশালে হিটস্ট্রোকে মারা যাচ্ছে খামারের মুরগি

বরিশাল অফিস:: বৈশাখের তাপদাহে গত কয়েক দিনে হিটস্ট্রোকে বরিশাল জেলার ১ হাজার ৬০৮টি পোল্ট্রি খামারে ৫ সহস্রাধিক ব্রয়লার, লেয়ার ও সোনালী মুরগি মারা গেছে।

বুধবার এ তথ্য জানিয়েছেন পোল্ট্রি খামার মালিকদের সংগঠনের নেতা কালাম শিকদার। এ কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খামারিরা।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী চলতি মাসের গত সাত দিনে বরিশালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৭.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। এ কারণে বরিশাল জেলার ৬১৭টি ব্রয়লার মুরগির খামার, লেয়ার মুরগির ৫৩৫টি, সোনালী মুরগির ৪৫৬টি খামারের মধ্যে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে হিটস্ট্রোকে বরিশাল নগরীসহ জেলার বিভিন্ন খামারে ৫ সহস্রাধিক মুরগি মারা গেছে। এর মধ্যে বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার মোস্তফা পোল্ট্রি ফিডের ৫০০ মুরগি, সিকদার পোল্ট্রি ফিডের ২০০, শহিদ পোল্ট্রি ফিডের ১০০ মুরগিসহ জেলার বিভিন্ন খামারে হিটস্ট্রোকে মুরগি মারা গেছে। তবে খুচরা ও পাইকারী বাজারে মুরগির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু ক্রেতা কম।

নগরীর আমানতগঞ্জ এলাকার খামারী মোস্তফা জানান, প্রচণ্ড গরমে তারসহ আশপাশের খামারে মুরগি মারা যাচ্ছে। গত কয়েক দিনে হিটস্ট্রোকে ৫০০ মুরগি মারা গেছে। যে মুরগিগুলো বেঁচে রয়েছে তাও অসুস্থ।

বরিশাল বিভাগীয় প্রাণি সম্পদ অধিদফতরের পরিচালক ডা. আবু সুফিয়ান বলেন, বরিশালের সব মাঠ কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা খামারীদের বার বার পানি স্প্রে ও চট ভিজিয়ে ফ্লোরে দেয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। গরমে মুরগি মৃত্যুর খবর তিনি অবগত নন বলে জানান তিনি।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক বশির আহমেদ জানিয়েছেন, চলতি মাসে তাপমাত্রা হ্রাসের সম্ভাবনা নেই। মাঝে মধ্যে হালকা বৃষ্টি হলে সাময়িকভাবে কিছু সময়ের জন্য তাপমাত্রা কমতে পারে।




১৮ বছর পর বরগুনায় সন্তানকে ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা বাবা-মা

বরিশাল অফিস :: ছেলে নিখোঁজ ছিল দীর্ঘ ১৮ বছর। সন্তানের পথপানে চেয়ে থাকতে থাকতে বাবা-মা দিশাহারা।
ছেলের শোকে কাঁদতে কাঁদতে চোখে যেন ছানি পড়ে গেছে। হঠাৎ করেই অবসান হলো দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার।

নিখোঁজ হওয়ার ১৮ বছর পর সন্তানের দেখা পেলেন বাবা-মা। এতো বছর পর সন্তানকে ফিরে পাওয়ায় আনন্দে আত্মহারা বাবা-মাসহ পরিবারের সবাই।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের ঘটেছে এমন ঘটনা। উপজেলার রায়হানপুর-কাকচিড়া পুরান ভাড়ানী খাল সংযোগ ও নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন পূর্ব লেমুয়া গ্রামের বাসিন্দা জেলে সেলিম মিয়ার বড় ছেলে শ্যাম্ভু। গত সোমবার বাড়ি ফিরে আসেন সেলিমের বড় ছেলে শ্যাম্ভু। পরিবারে মা-বাবা, ভাই সোহেল ও সেলিনা নামে বোন রয়েছে। শ্যাম্ভুর বর্তমান বয়স প্রায় ৩৪ বছর। যখন তিনি বাড়ি থেকে না বলে চলে যান তখন তার বয়স ছিল ১৬ বছর।

শ্যাম্ভুর বাবা সেলিম মিয়া বলেন, ২০০৫ সালের শেষের দিকে না বলে আমাদের সন্তান বাড়ি ছাড়ে, তখন বয়স ছিল ১৬ বছর, সেই থেকে বিভিন্ন জায়গায় আমরা খোঁজ করেছি কিন্তু কোথাও কোনো সন্ধান মেলেনি। ছেলেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। হয়ত আল্লাহ আমাদের ওপরে দয়া করে সন্তানকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। সন্তানকে কাছে পেয়ে আমাদের পুরো পরিবার খুবই আনন্দিত।

বাবা সেলিম মিয়া বলেন, সিলেটে যে জায়গায় এতদিন সে বসবাস করেছে সেই মালিকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে সেখানে শ্যাম্ভুর তিনটি অটোরিকশা আছে। ছেলেকে পেয়ে আমরা খুশি। ছেলেকে নিয়ে সিলেটে যাব মালিকের সঙ্গে দেখা করে আমাদের সন্তান আমাদের কাছে স্থায়ীভাবে নিয়ে আসবো। তাছাড়া যার আশ্রয়ে এতো বছর থেকেছে তাদের তো ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।

শ্যাম্ভুর মা হাসি বেগম বলেন, সন্তান হারা মা কীভাবে থাকতে পারে? ১৮ বছর কীভাবে থেকেছি আমিই জানি। এতো বছর পর সন্তানকে পেয়ে মনে হয়েছে যেন আকাশের চাঁদ পেয়েছি। আমার বুকটা ভরে গেছে। ভাবছিলাম ছেলেকে আর পাবো না, ছেলে আদৌ বেঁচে আছে কিনা তাও জানতে পারিনি। ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে মনে হলো এখনই ভূমিষ্ঠ হয়েছে। আল্লাহ আমার বুক আবার ভরে দিয়েছেন।

ফিরে আসা ছেলে শ্যাম্ভু বলেন, চাকরির সন্ধানে বাড়ি থেকে না বলেই চট্টগ্রাম যাই। সেখানে তিন বছর ছিলাম। ওই তিন বছর বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। সেখান থেকে গিয়ে সিলেটে থাকা শুরু করি, এরপর আর বাড়ির কারো সঙ্গে যোগাযোগ নেই। এতদিন থাকার পর বাড়ির কথা খুব মনে পড়ছিল, তাই ঠিকানা পুরোপুরি মনে না থাকা সত্ত্বেও অনুমান করে বাড়িতে পৌঁছাই। এতোটুকু মনে ছিল কাকচিড়া বাজারের পাশেই বাড়ি। সেই হিসাব করে কাকচিড়া বাজারে এসে বাবার নাম ধরে জিজ্ঞেস করতে করতে পৌঁছে যাই বাড়ি।

তিনি আরও বলেন, আমি এখনো কোনো সাংসারিক জীবনে আবদ্ধ হইনি। এখন বাড়িতেই বাবা-মাকে নিয়ে থাকতে চাই।




রিকশার প্যাডেল চেপে জীবিকা জোগান ভোলার বৃদ্ধ মালেক

বরিশাল অফিস:: আব্দুল মালেক। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য অনুযায়ী তার বয়স ৫৫ বছর। তবে মালেকের দাবি তার বয়স অন্তত ৬৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ আব্দুল মালেক। শরীরে হার্নিয়া বাসা বেঁধেছে। এর যন্ত্রণায় কাবু তিনি। তবুও জীবিকার তাগিদা রোজ বের হন পুরনো রিকশা নিয়ে। ওই রিকশার প্যাডেল চেপেই জীবিকা জোগান বৃদ্ধ আব্দুল মালেক।

তিনি ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালুরচর এলাকার গহরআলী মাতাব্বর বাড়ির বাসিন্দা।

বৃদ্ধ আব্দুল মালেক বলেন, গত ২৫ বছর ধরে এই রিকশা চালাচ্ছি। ২০ বছর ধরে শরীরে হার্নিয়া বাসা বেঁধেছে। এই রিকশা চালিয়ে তেমন কোনো আয় নেই। আবার পায়ে প্যাডেল চেপে এই রিকশা চালানো অনেক কষ্টেরও। তার উপরে আবার হার্নিয়ার যন্ত্রণা। তবুও জীবিকার তাগিদে রোজ রিকশা নিয়ে বের হই। প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে তিনশ টাকার মতো উপার্জন করতে পারি। এ দিয়ে নিজে চলি। আর মাঝে মধ্যে রিকশা মেরামত করি।

তিনি বলেন, প্রথম বিয়ে করার কয়েক মাসের মাথায় আমাকে ফেলে স্ত্রী চলে যান। এরপর মোট চারটি বিয়ে করেছি। কোনো স্ত্রীই বেশি দিন আমার সংসার করেননি। যার জন্য আমার কোনো সন্তান নেই। এ কারণে ছোট ভাইয়ের ঘরে থাকি। তারাই আমার খেদমত করেন। মাঝে মধ্যে নিজের আয় থেকে তাদের জন্য বাজার-সদাই করি। এখন অনেক বয়স হয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরেও বাড়ছে রোগ। এরমধ্যে হার্নিয়ার সমস্যাটাই সবচেয়ে বেশি। এর জন্য চলাফেরা ও উঠতে-বসতে অনেক কষ্ট হয়।

বৃদ্ধ আব্দুল মালেক আরো বলেন, টাকার অভাবে এর অপারেশনও করাতে পারছি না। রিকশাটিতেও নানা সমস্যা। তাই সরকারের কাছে আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি একটি নতুন রিকশা পেতে অনুরোধ করছি। হার্নিয়ার অপারেশন করাতে পারলে আর নতুন রিকশা পেলে বাকি জীবন মোটামুটি একটু ভালোভাবে কাটাতে পারবো।

ওই বৃদ্ধ রিকশা চালকের ছোট ভাই মো. বাদশা মিয়া জানান, আমি নিজেও বোরাক চালাই। বোরাক চালিয়ে যা আয় হয় তা দিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাই। বড় ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তান কেউ নেই। তার অনেক বয়সও হয়েছে। শরীরিকভাবেও তিনি অসুস্থ। যার জন্য বড় ভাইকে আমাদের সঙ্গেই রাখি। সরকারি কিছু সহযোগিতা পেলে বড় ভাইয়ের জন্য অনেক ভালো হতো।

কালমা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আল-আমিন ইমন বলেন, আমার জানামতে তিনি স্থায়ীভাবে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তবে ব্যক্তিগতভাবে তাকে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করি। ওই বৃদ্ধের হার্নিয়া অপারেশনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা করা যায় কিনা দেখবো।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ওই বৃদ্ধ ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। এছাড়া তাকে সরকারি অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা যায় কিনা দেখবো।




বরিশালে ভোজন বিলাসীদের রসনার তৃপ্তি গৌরনদীর দই

বরিশাল অফিস :: বরিশালের গৌরনদীর দই ২০০ বছর ধরে নানা উৎসবে ভোজন বিলাসীদের রসনার তৃপ্তি মিটিয়ে আসছে। বৃটিশ আমল থেকে গৌরনদী থানার ডাওরি ঘোষের হাতে সুখ্যাতি পায় দইসহ বিভিন্ন মিষ্টি, যা বংশপরম্পরায় এখনো টিকে আছে। বিদেশেও গড়ে উঠেছে গৌরনদীর দইয়ের দোকান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা খান সামসুল হক জানান, ব্রিটিশ কর্তারা গৌরনদীর দই, মিষ্টি, ঘি ও মাখন খুব পছন্দ করতেন। জমিদাররা অতিথিদের এসব সুস্বাদু খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। অভিজাতদের মাধ্যমেই গৌরনদীর দই ও মিষ্টি দেশ-বিদেশে বিখ্যাত হয়ে ওঠে।

গৌরনদীর প্রসিদ্ধ দই-মিষ্টি প্রস্তুতকারক জীবন ঘোষের গৌরনদী মিষ্টান্ন ভান্ডার-এর কর্মচারী রানা ঘোষ ১৯৯০ সালে ডিভি লটারি জিতে আমেরিকায় পাড়ি জমান। সেখানে তিনি গৌরনদী মিষ্টান্ন ভান্ডার নামে দোকান চালু করেন। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে রানা গৌরনদীর দই, মিষ্টি, ঘি ও মাখনের সুখ্যাতি আমেরিকায় ছড়িয়ে দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদীন খোন্দকার বলেন, দইয়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ এমন ছিল; কয়েকবার সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করলেও তা থেকে যেত। সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়লে গৌরনদী থেকে এসব পণ্য কলকাতা, করাচি ও রেঙ্গুন পর্যন্ত সরবরাহ করা হতো। সেই থেকে এখনো বিয়ে, জন্মদিন কিংবা মেজবানের খাবারে অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে গৌরনদীর দই।

শচীন ঘোষের ছেলে গৌরনদী বন্দরের গৌরনিতাই মিষ্টান্ন ভান্ডার-এর কর্ণধার গৌরদাস ঘোষ বলেন, গৌরনদীর দইয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য সহজে পরিবহনযোগ্য এবং স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ৭-৮ দিন ভালো থাকে। একইভাবে শুকনো মিষ্টি ১৫ দিন, মাখন দু-একদিন এবং ঘি এক বছরেও নষ্ট হয় না। দই-মিষ্টি তৈরির উপকরণ দুধ-চিনি; জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। কষ্ট হলেও বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতে ব্যবসা অব্যাহত রেখেছি।

ননী ঘোষের ছেলে শ্যামল ঘোষ বলেন,পূর্বপুরুষের গড়া মানের সঙ্গে আপস করিনি। তবে দুর্মূল্যের বাজারে দিন দিন ভালো জিনিস তৈরি কঠিন হয়ে পড়েছে।

প্রস্তুত প্রণালী: প্রথমে সংগ্রহকৃত গরুর দুধ বড় কড়াইতে নিয়ে ভালোভাবে মাটির চুলাতে রেখে জ্বাল দেওয়া হয়। এরপর তা ঠান্ডা করা হয়। কড়াইয়ের ভেতর থেকে বাঁশের চাক দিয়ে নির্দিষ্ট পরিমাণে মাখন তুলে ফেলা হয়। এরপর কড়াইয়ে দুধের যে অংশ থাকে তার সঙ্গে চিনি মিশিয়ে আবারো ভালোভাবে গরম করা হয়। এবার মিশ্রণের রং কিছুটা লালচে আকার ধারণ করলে তা নামিয়ে ফেলা হয়। এরপর ওই মিশ্রণ মাটিতে সাজিয়ে রাখা বিভিন্ন আকৃতির (১ কেজি থেকে ৬ কেজি) মাটির হাঁড়িতে ঢালা হয়। এভাবে দই পাতা হয়। এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় চাণক।

এভাবে হাঁড়িতে পেতে রাখা দই এভাবে চারপাশে কচুরিপানা দিয়ে তার ওপর ২৪ থেকে ৩০ ঘণ্টা রাখার পর তা অকেটা জমাট ও কিছুটা শক্ত হয়ে আসে। এরপর শুরু হয় তা বিক্রি ও বাজারজাতকরণের কাজ। এই দই আবহাওয়া ও তাপমাত্রা ভেদে ৬ থেকে ১০ দিন পর্যন্ত ভালো থাকে।




দেশীয় অর্থে নির্মিত হচ্ছে বরিশালের মীরগঞ্জ সেতু

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিভাগীয় সদর সহ সারা দেশের সাথে মেঘনা পাড়ের মুলাদী ও হিজলা উপজেলার সরাসরি ও মেহেন্দিগঞ্জের সাথে সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলে মীরগঞ্জে অড়িয়াল খাঁ নদের ওপর সেতু নির্মান কাজ চলতি বছরের শেষে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল স্টেইট এক্সট্রা ডোজ টাইপের এ সেতুটি নির্মানে ইতোমধ্যে নির্মান প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রাক-যোগ্যতা যাচাইয়ে প্রস্তাব আহবান করা হয়েছে।

আগামী মাসেই প্রাক-যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশের খ্যাতিমান নির্মান প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রস্তাবনা যাচাই বাছাই করে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে থেকে দর প্রস্তাব আহবান করা হবে। এসব দর প্রস্তাবের অর্থনৈতিক ও কারিগরি বিষয় সমূহ মূল্যায়ন শেষে চলতি বছরের মধ্যেই নির্মান প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে দ্রুততার সাথেই মীরগঞ্জ সেতুর নির্মান কাজ শুরু করতে চাচ্ছে সড়ক অধিদপ্তর।

মীরগঞ্জ সেতু নির্মানের লক্ষ্যে উন্নয়ন প্রকল্প-প্রস্তাবনা,ডিপিপি’ গত ৩১ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি-একনেকএর সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে। ডিপিপি অনুযায়ী ২০২৮-এর জুনের মধ্যে সংযোগ সড়ক ও নদী শাসন কাজ সম্পন্ন করে মীরগঞ্জ সেতু যান চলাচলের জন্য উম্মুক্ত করা হবে । তবে এসব কিছুর আগে নির্মান প্রতিষ্ঠানই এ সেতুটির চূড়ান্ত নকশা প্রনয়ন করবে বলে জানা গেছে।

প্রায় ১ হাজার ৪৪২ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যায় সাপেক্ষ মীরগঞ্জ সেতুটি আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর তৃতীয় সেতু। অপর দুটি সেতু ঢাকা-ভাঙ্গা-বরিশাল মহাসড়কের শিবচর এবং চাঁদপুর-শরিয়তপুর-মাদারীপুর মহাসড়কে অবস্থিত। মীরগঞ্জ সেতুটি নির্মিত হলে বরিশাল সহ সারা দেশের সাথেই নদ-নদী বেষ্টিত বিচ্ছিন্ন উপজেলা মুলাদী ও হিজলা’র সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবার পাশপপাশি পাশ^বর্তি মেহেদিগঞ্জের সড়ক পথও অনেকটা নির্বিঘœ হবে।

এক হাজার ৪৮৪ মিটার দীর্ঘ মীরগঞ্জ সেতুটির মূল অংশ ২টি এবাটমেন্ট ও এবং ১৭৫ মিটারের দুটি ও ৯৭ মিটারের দুটি পিয়ার সহ ৫৪৪ মিটার। সংযুক্ত ভায়াডাক্ট ৯৪০ মিটার। সেতু ও ভায়াডাক্ট সহ মোট পিয়ারের সংখ্যা থাকছে ৩০টি। সেতুটির দুই প্রান্তে প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মিত হবে। যারমধ্যে টোলপ্লাজার সন্নিকটে রিজিট পেভমেন্ট এবং অবশিষ্ট ৩ হাজার ৯৭৩ মিটার ফ্লেক্সিবেল পেভমেন্ট এর সড়ক নির্মিত হবে। নির্মানের পরে আড়িয়াল খাঁ নদের সম্ভাব্য যে কোন ঝুঁকির হাত থেকে সেতুটি রক্ষায় ৪৬০ মিটার নদী তীর রক্ষাপ্রদ কাজে ৯৬.৬১ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এছাড়া সেতুটির প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মানে ২১.৫৫ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণে ৯৩.৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। অধিগ্রহনকৃত ভূমি থেকে ১০৫টি স্থাপনার ক্ষতিপূরণ বাবদও ৪৪.৭১ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

প্রকল্পটির আওতায় সেতু ও সংযোগ সড়কে ট্রাফিক সাইন, সিগন্যাল, রোড মার্কিং,টোল প্লাজা, সড়ক বাতি, ব্রীজ স্মার্ট হেলথ মনিটরিং সিস্টেম,বাস-বে, ডিভাইডার, ড্রেন, ফুটপাথ, কালভার্ট ও বনায়ন বাবদও প্রায় আড়াইশ কোটি টাকা ব্যয় হবে । পাশাপাশি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রুফ চেকিং পরামর্শক সেবা সহ প্রকল্প বাস্তবায়ন পরামর্শক সেবা বাবদও প্রায় ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।

গত ১৮ অক্টোবর আন্তঃমন্ত্রণালয় প্রগ্রামিং কমিটির সভায় প্রকল্পটি চলতি অর্থ বছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপিতে অন্তর্ভূক্তির পরে ২১৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সেতুটি নির্মানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্স এর একটি যৌথ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার আলোকে এ্যাপাইজাল রিপোর্টও প্রনয়ন করা হয়েছে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও তার আলোকে প্রণীত এ্যাপাইজাল রিপোর্টে সেতু ও সংযুক্ত সড়কটিতে বার্ষিক যান চলাচলের হিসেব অনুযায়ী দৈনিক গড়ে ২ হাজার ৪০১টি যানবাহন চলাচল করছে। যা প্রতিবছর গড়ে ১০ভাগ করে বৃদ্ধি পাবে। উপরন্তু সেতুটি নির্মিত হলে সর্বসাধারণের ভ্রমণ সময় হ্রাস সহ যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বাবদ প্রায় ৪০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি সেতুটি নির্মিত হলে অর্থনৈতিক লাভবানের হার বছরে প্রায় ১৯% পর্যন্ত হতে পারে বলে সম্ভাব্য হিসেব করা হয়েছে।

তবে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পূর্ণ দেশীয় তহবিলের বিশাল এ প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে অবিলম্বে প্রশাসনিক অনুমোদন সহ ভূমি অধিগ্রহণের জটিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন। যদিও সেতুটি নির্মানে ভূমি অধিগ্রহণের জটিল প্রক্রিয়া এখনো শুরু হয়নি। যেকোন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় এখনো আমাদের দেশে বছর পার হয়ে যায়। আর ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হলে প্রকল্পটির বাস্তব অবকাঠামো নির্মান কাজ শুরু সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন অনেকে। তবে সে লক্ষে ইতোমধ্যে সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক।

 




জলকেলিতে মাতোয়ারা রাখাইন কিশোর-কিশোরীরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আয়োজন করা হয়েছে তিন দিনব্যাপী রাখাইনদের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল ৫টায় শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রাখাইন মার্কেটে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। সাংগ্রাই জলকেলি উৎসব উপলক্ষে রাখাইন কিশোর-কিশোরীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের মধ্যে রাখা হয়েছে একটি সাজানো গোছানো নৌকা। নৌকার মধ্যে রাখা হয়েছে পানি। আর এ পানি একে অপরের গায়ে মারছেন রাখাইন কিশোর কিশোরীরা। এসময় নাচে গানে মাতোয়ারা হয়ে উঠে কিশোর-কিশোরীরা। এদিকে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বাড়িতে বাড়িতে ফুল দিয়ে সাজানো, বিহারে মোমবাতি প্রজ্বলন এবং প্রার্থনা করা, নতুন পোশাক পরাসহ নানা আয়োজন করে রাখাইনরা।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী পৌর মেয়রের উদ্যোগে ইমামসহ ১২ জনের হজের সুযোগ

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলাপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান রাকিবুল আহসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম, কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব তালুকদার এবং কলাপাড়া ও কুয়াকাটার পৌর মেয়র উপস্থিত ছিলেন।

কেরানীপাড়ার তরুণ রাখাইন ওয়োনাইচে বলেন, পুরনো দুঃখকে ভুলে নতুন বছরে ভালো কিছু করার প্রত্যাশায় জলকেলিতে অংশ নিয়েছি। একটি বছর অপেক্ষা করি এমন দিনের জন্য। আমরা অনেক আনন্দ করছি।

একই এলাকার মাচান বলেন, নববর্ষের শুরুতে আমরা নানান রকমের খাবার তৈরি করেছি। পুরনো দুঃখ-কষ্টকে ভুলে নতুন বছরে ভালো কিছুর প্রত্যাশায় জলকেলিতে অংশ নিয়েছি।
শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের

পরিচালক ইন্দ্র বংশ ভান্তে বলেন, উৎসবকে ঘিরে সাজ সাজ রব রাখাইন পাড়ায়। নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পাড়া থেকে যোগ দিয়েছে রাখাইনরা। পুরনো পাপ জলকেলির মাধ্যমে ধুয়ে মুছে নতুন বছর ভালোভাবে শুরু করব।




ফের একসঙ্গে তাহসান-মিথিলা




পর্যটকদের মন কাড়ছে কুয়াকাটার কীটনাশকমুক্ত শুঁটকি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কোনো ধরনের ক্ষতিকারক কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই প্রাকৃতিকভাবে শুকানো হচ্ছে শুঁটকি। সমুদ্রপাড়ে খোলা আকাশের নিচে রোদের সাহায্যে মাছ শুকিয়ে বিক্রি করা হয় ক্রেতাদের কাছে।

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত প্রাকৃতিকভাবে দর্শনার্থীদের কাছে বিখ্যাত হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে সুনাম কুড়াচ্ছে এই পর্যটন নগরীর বিষমুক্ত শুঁটকি, যা ইতোমধ্যে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘুরতে আসা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে কুয়াকাটার শুঁটকি এখন অন্যতম। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত এ শুঁটকির রয়েছে ব্যাপক চাহিদা। শুঁটকিপ্রেমীরা শুঁটকি কিনতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন কুয়াকাটায়। এখানকার শুঁটকি সুস্বাদু হওয়ায় দেশে ও বিদেশের রয়েছে আলাদা চাহিদা। প্রতি বছরই এ শুঁটকি রপ্তানি হচ্ছে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

সরেজমিনে দেখা গেছে, সামুদ্রিক মাছ সহজে পাওয়ায় কুয়াকাটায় বেশ কয়েকটি স্থানে গড়ে উঠেছে অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী। এসব পল্লীতে প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয় শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত কার্যক্রম। এ কাজে অংশ নেন নারী, পুরুষ ও শিশুসহ পরিবারের সকল সদস্যরা। পোয়া, সোনাপাতা, মধুফাইস্যা, রূপচাঁদা, শাপলাপাতা, চাপিলা, ফাইস্যা, লইট্রা, চিংড়ি, ছুড়ি, হাঙ্গর, ভোল ও কোড়ালসহ প্রায় ৫০ প্রজাতির মাছ সংগ্রহ করে খোলা জায়গায় বাঁশের মাচা বানিয়ে রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হয় শুঁটকি। কোনো কীটনাশক ছাড়া শুধু লবণ মেখে প্রক্রিয়াজাত করায় এর আলাদা স্বাদ ও চাহিদা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো পল্লী না থাকায় বছরের ছয় মাস চলে এ ব্যবসা।

জানা গেছে, স্বাদে ও গুণে বেশ সুনাম আছে এখানকার শুঁটকির। প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি হওয়ার কারণে পর্যটন মৌসুমে কুয়াকাটার শুঁটকি দোকান থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি হয়। যারা বেড়াতে আসেন তারা ফিরে যাওয়ার সময় আর কিছু না হোক কিছু শুঁটকি কিনে নিয়ে যান।

ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা পর্যটক নজরুল ইসলাম বলেন, কুয়াকাটার শুঁটকির অনেক নাম রয়েছে। এখানে এসে নিজ চোখে শুঁটকি শুকানো করা দেখেছি। তারা কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করে না। আমাদের এলাকার চেয়ে দাম অনেক কম। মানও ভালো, তবে স্থায়ী পল্লী থাকলে আরও পরিছন্নভাবে করতে পারত।

শুঁটকি শ্রমিক মো. হোসেন বলেন, শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত করার কোনো নির্ধারিত জায়গা না থাকায় আমরা সৈকতের পাশে মাছ শুকাই। অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযানে সব কিছু ভেঙে ফেলে। আবার শুঁটকি ব্যবসায় আসা কষ্টের হয়ে যায়। শুঁটকি ব্যবসায় আলাদা করে লোনও পাই না আমরা।

আরো পড়ুন : বেড়েই চলছে গরমের তীব্রতা, নিম্নআয়ের মানুষ দিশেহারা

শুঁটকি ব্যবসায়ী ফারুক ঘরামি বলেন, অনেক বছর ধরে শুঁটকি ব্যবসা করি তবে স্থায়ী শুঁটকি মার্কেট না থাকায় কিছু দিন পরে উঠে যেতে হয়। কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে প্রিয়ই হচ্ছে শুটকি। তাই সরকারের কাছে আমরা স্থায়ী শুঁটকি মার্কেট চাই।

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু বলেন, সারা দেশে কুয়াকাটার শুঁটকির একটা সুনাম রয়েছে। স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণে শ্রমিকদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা এবং স্থায়ী শুঁটকি পল্লীর জন্য ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। তবে উন্নতমানের শুঁটকি উৎপাদনের জন্য এই পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।




ছেলেকে বাঁচাতে ভিটে-বাড়ি বিক্রি করছেন মা ফরিদা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের মৃত ফারুক মল্লিকের ছেলে সজিব মল্লিক (৩০)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। সজিব ঢাকায় দিন মজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। চার মাস আগে ঢাকা থেকে বাসে পটুয়াখালী নিজ বাড়িতে ফেরার পথে বাখেরগঞ্জ এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। এতে তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। তাকে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য তার বাবার রেখে যাওয়া সহায় সম্পদ ও পৈত্রিক ভিটে-বাড়ি বিক্রি করে পরিবারটি এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী মেডিকেলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে কেমন চিকিৎসক হবেন?

বর্তমানে কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে আন্ধারমানিক নদীর তীরের ঝুপড়ি ঘরে শুয়ে আছেন অসুস্থ সজিব মল্লিক। বিধবা ফরিদার এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ে দিয়েছেন বিয়ে থাকেন পরের ঘরে। একমাত্র ছেলে সজিবকে নিয়েই স্বপ্ন দেখতেন ফরিদা। একমাত্র সজিবের আয়েই চলতো পুরো পরিবার। ছেলে শয্যাশায়ী হওয়ায় দিশেহারা মা ফরিদা বেগম। স্বামী ফারুক মল্লিকের মৃত্যুর পর ফরিদা জীবনযুদ্ধে সংগ্রামী এক নারী। কখনো কোমর বেঁধে নদীতে ধরতেন মাছ, বসত-ভিটের পাশেই কখনো করতেন সবজি চাষ। বর্তমানে বিধবা ফরিদা অসুস্থ থাকায় পারছেন না ছেলের চিকিৎসা করতে। অসুস্থ সজিব এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

প্রতিবেশীরা বলেন, সজিব ঢাকার দিন মজুরের কাজ করতেন। ৪ মাস আগে বাড়িতে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় তার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। আমাদের সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতা করছি কিন্তু এতো টাকা দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না। সমাজের বিত্তবান কিংবা সরকার যদি একটু সহযোগিতা করতো তাহলে পরিবারটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারতো। অপারেশনে বেশি দেরি হলে সজিব আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাবে।

বর্তমানে অর্থের অভাবে সজিবের চিকিৎসা বন্ধ। তাকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে দ্রুত অপারেশন করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। অন্যথায় তার জীবননাশের আশঙ্কা রয়েছে। অসুস্থ সজিবের অপারেশনে জন্য দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার জন্য সকলের দরজায় সাহায্য সহযোগিতা চেয়েও হয়নি সমাধান। তাই সজিবের চিকিৎসায় বিত্তবানদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান এলাকাবাসীর।

সজীবের মা ফরিদা বলেন, আট বছর বয়সে সজিবের বাবা মারা যায়। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে আর বিয়ে করিনি। অনেক কষ্ট করে ছেলেকে বড় করেছি। অনেক স্বপ্ন ছিল, আজ সব খান খান হয়ে গেছে। ভিটে বাড়ি বিক্রি করেছি।

আরো পড়ুন :পটুয়াখালীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড, দিশেহারা সাধারণ মানুষ

ঝুপড়িঘরে শয্যাশায়ী সজিব জানান, পটুয়াখালী, বরিশাল মেডিকেল শেষে ঢাকা আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে ডাক্তার দেখিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন মায়ের হাতে কোনো টাকা পয়সা নেই। বিয়া করেছি আড়াই বছরের মেয়ে আছে আমার। মা জীবনে অনেক কষ্ট করেছে আমাদের জন্য। একটু ভালো থাকার জন্য ঢাকায় দিন মজুরের কাজ করতাম। গত জানুয়ারি মাসের ১৪ তারিখ বাড়িতে আসার সময় বাখেরগঞ্জ এলাকায় বাস দুর্ঘটনায় আমার মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায়। ডাক্তার বলছে অপারেশন লাগবে নাহলে আমি সারা জীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে যাব। আমারে বাঁচান আমি বাঁচতে চাই বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম জানান, নিলগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।




মোবাইলের অব্যবহৃত অ্যাপ যেভাবে অটো আর্কাইভ করবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্টোরেজ দেওয়া থাকলেও প্রয়োজনের থেকে বেশি অ্যাপ থাকলে ডিভাইসের স্টোরেজ দখল করে নেয়।

সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েড একটি অপশন চালু করেছে যেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই আর্কাইভ হয়ে যাবে ফোনের অব্যবহৃত অ্যাপ।

২০২৩ সালের এপ্রিলে প্লে স্টোরের মাধ্যমে চালু হয় অ্যান্ড্রয়েডের অটো-আর্কাইভ। এ ফিচারটি ব্যবহারকারীরা যেসব অ্যাপ ব্যবহার করছেন না, সেগুলো বাদ দিয়ে ফোনে নতুন অ্যাপ ইনস্টল করার জায়গা তৈরি করে।

এটি কার্যকর ফিচার হলেও কেবল তখনই পাওয়া যেত যখন ফোনের স্টোরেজ শেষ। সম্প্রতি গুগল এ ফিচার আপডেট করেছে। এখন ফোনে যতটুকু স্টোরেজই থাকুক না কেন, চালু করা যাবে অটো আর্কাইভ ফিচারটি। গুগলের প্লে স্টোরের একটি টগলের মাধ্যমেই ব্যবহারকারীরা এ ফিচার চালু করতে পারবেন।

গুগল বলছে, এ ফিচারটি কেবল তখনই অ্যাপগুলো আর্কাইভ করবে যখন একজন ব্যবহারকারীর ফোনের জায়গা একেবারে কমে আসবে। কেউ ফোনে অনেক ফাঁকা জায়গা নিয়ে ফিচারটি চালু করা হলেও, স্টোরেজের সংকট না দেখা দেওয়া পর্যন্ত অ্যাপগুলো আর্কাইভ করা হবে না।

যেভাবে ফিচারটি চালু করবেন

অটো-আর্কাইভ ফিচারটি চালু করতে প্রথমে অ্যান্ড্রয়েডের প্লে স্টোর অ্যাপটি চালু করতে হবে। সেখান থেকে নিজের প্রোফাইল ছবিতে ট্যাপ করতে হবে। এরপরে ‘সেটিংস’ অপশনে যেতে হবে। সেটিংসের ‘জেনারেল’ বিভাগে প্রবেশ করলেই ‘অটোমেটিকালি আর্কাইভ অ্যাপস’ নামের টগলটি চালু করে দিতে হবে।

যখন ফোন বিভিন্ন অ্যাপ আর্কাইভ করা শুরু করবে, প্লে স্টোরে ব্যবহারকারীর অ্যাপ লাইব্রেরির ‘আর্কাইভড’ শিরোনামের নিচে অ্যাপগুলোর তালিকা দেখা যাবে।