তীব্র দাবদাহের ত্বকের সুরক্ষা দিবে পাচঁ প্রসাধনী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  শুধু জল নয়, শরীরের পাশাপাশি ত্বকের খেয়াল রাখতে রাখতে হবে প্রয়োজনীয় কিছু প্রসাধনী। তা হলে খানিকটা হলেও তাপপ্রবাহের সঙ্গে ল়ড়াই করা সম্ভব হবে।

এপ্রিলের কলকাতায় তাপমাত্রার পারদ ছাড়িয়েছে ৪০ ডিগ্রি। বাইরে বেরোলেই ঝলসে যাচ্ছে চোখমুখ। সেই সঙ্গে ঘামে ভিজে চুপচুপে হয়ে যাচ্ছে শরীর। এই তীব্র দহনেও বাড়ি থেকে বেরোতে হচ্ছে অনেককেই। নিয়মিত অফিস যেতে হচ্ছে। চিকিৎসকেরা ব্যাগে একটা জলের বোতল রাখার কথা বলছেন। তবে শুধু জল নয়, শরীরের পাশাপাশি ত্বকের খেয়াল রাখতে রাখতে হবে প্রয়োজনীয় কিছু প্রসাধনী। তা হলে খানিকটা হলেও তাপপ্রবাহের সঙ্গে ল়ড়াই করা সম্ভব হবে।

ফুট স্প্রে

রোদচশমা পরে, মাথা সহ মুখে ওড়না জড়িয়ে, ছাতার তলায় আশ্রয় নিয়ে ত্বকের খেয়াল তো রাখছেন। এ দিকে গরমে পায়েরও যে ক্ষতি হচ্ছে, সে কথা মাথায় থাকে না। ঘাম জমে পায়ের পাতায় সংক্রমণ হতে পারে। তেমনই পায়ের পাতার ত্বকও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তা ছাড়া পা ঘেমে দুর্গন্ধ তো আছেই। সেক্ষেত্রে ফুট স্প্রে ব্যবহার করুন। উপকার পাবেন।

ফেস মিস্ট

গরমে ঘেমে মুখ তেলেতেলে হয়ে যায়। ফলে চটচট ভাব দূর করতে সব সময় মুখ ধুতে ইচ্ছা করে। আবার অত্যধিক রোদে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গিয়ে জ্বালা করে। ত্বকের আর্দ্রতা কমে যা। তাই ব্যাগে রেখে দিন ফেস মিস্ট। প্রয়োজনে মুখে স্প্রে করে নিন। ত্বক তরতাজা দেখাবে।

অ্যালো ভেরা জেল

গরমে ব্যাগে অ্যালো ভেরা জেল না রাখলেই নয়। ত্বক একটু শুষ্ক হয়ে গিয়েছে মনে হলেই মেখে নিন। তা ছাড়া রোদে পোড়া, র‌্যাশ, ব্রণ— গরমের যেকোনও সমস্যায় ত্বকের জ্বালা ভাব কমিয়ে ঠান্ডা রাখতে পারে অ্যালো ভেরা জেল। তাই ব্যাগে অবশ্যই এটা রাখুন।

সানস্ক্রিন

গরমের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রসাধনী। বাইরে বেরোনোর আগে ত্বকে সানস্ক্রিন লাগাবেন তো বটেই। তবে সঙ্গেও রাখতে ভুলবেন না। রোদের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি।

সুগন্ধি

বাইরে বেরোলেই ঘামে ভিজে যাচ্ছে শরীর। ঘাম জমে দুর্গন্ধও হচ্ছে। ঘাম এবং দুর্গন্ধের অস্বস্তি কাটাতে সুগন্ধি ব্যবহার করতে ভুলবেন না। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় তো মেখে আসবেন বটেই। তবে সঙ্গেও রাখতে হবে।




ওজন কমাতে লেবুর সাথে পান করুন তিন উপাদান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  লেবুতে থাকা ফাইবারের কারণে পেটভার হয়ে থাকে। তখন অন্য কিছু খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়, তা ছাড়া এই পানীয় বিপাকহার বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। তাই সব মিলিয়ে ওজন ঝরাতে এই পানীয় বেশ কার্যকর। শুধু লেবু জল না খেয়ে আর কী কী ভাবে পানীয়ের গুণ বৃদ্ধি করতে পারেন, রইল হদিস।

এক গ্লাস জল আর গোটা একটা পাতিলেবু। ফিটনেস নিয়ে যাঁরা সচেতন, তাঁদের অধিকাংশের ডায়েটের প্রথম সারির পানীয় এটি। শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরাতে এই পানীয় অনেকের ক্ষেত্রেই বেশ কার্যকর। অনেক ফিটনেসবিদও খাদ্যতালিকায় এই পানীয় রাখার পরামর্শ দেন।

লেবুতে ভরপুর মাত্রায় ফাইবার ও অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট থাকে। লেবু জল নিয়ম করে খেলে এতে থাকা ফাইবারের কারণে পেটভার হয়ে থাকে। তখন অন্য কিছু খাওয়ার ইচ্ছে কমে যায়, তা ছাড়া এই পানীয় বিপাকহার বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে। তাই সব মিলিয়ে ওজন ঝরাতে এই পানীয় বেশ কার্যকর। শুধু লেবু জল না খেয়ে আর কী কী ভাবে পানীয়ের গুণ বৃদ্ধি করতে পারেন, রইল হদিস।

১) শসা দিয়ে লেবু জল: লেবু জলে শসা মিশিয়ে দিলে তার কার্যকারিতা আরও বেড়ে যায়। শসায় ভরপুর মাত্রায় জল থাকে আর এতে ক্যালোরিও থাকে না। তাই গরমের দিনে শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করতে এ পানীয় খেতেই পারেন।

২) পুদিনা পাতা দিয়ে লেবু জল: সাধারণ লেবু জলে কয়েকটি পুদিনা পাতা মিশিয়ে দিলে তার স্বাদ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে কেবল স্বাদ বৃদ্ধি করতেই নয়, পুদিনা পাতা কিন্তু হজমেও সাহায্য করে। এ ছাড়া বিপাকহার বৃদ্ধি করতেও পুদিনা বেশ উপকারী। সব মিলিয়ে লেবু জলে পুদিনা মিশিয়ে দিলে ওজন ঝরানোর কাজ তরান্বিত হয়।

৩) আদা দিয়ে লেবুর রস: লেবুর রসে এক চা চামচ আদা কুচি মিশিয়ে দিতে পারেন। আদা কিন্তু হজমের জন্য বেশ উপকারী। তা ছাড়া লেবু জলে মিশিয়ে দিলে তার স্বাদও বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তাই রোগা হওয়ার ডায়েটে এই পানীয় রাখতেই পারেন।

তবে কেবল ওজন কমাতেই নয়, রোজ লেবু জল খাওয়ার অভ্যাস কিন্তু প্রত্যেকের জন্যই ভাল। বিশেষ করে, এই গরমে লেবু জল খাওয়া জরুরিও বটে। চিকিৎসকদের মতে, শুধু সকালেই নয়, লেবু জল খেতে পারেন দিনের যে কোনও সময়। তবে লেবুর অ্যাসিডিক মাত্রা বেশি বলে অনেক চিকিৎসকই তা বেশি খেতে নিষেধ করেন। গরম জলে লেবু মিশিয়ে খেলে অ্যাসিডিটি আক্রমণ করতে পারে না। লেবুর মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ও তার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আপনাকে বাঁচাতে পারে অনেক অসুখ থেকেও। লেবু শরীরে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে। লেবুতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এটি চুলের পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করে।

চেহারায় বয়সজনিত ছাপ রুখে দিতে পারে লেবুর রস। লেবু প্রাকৃতিক স্ক্রাবার। তাই রস বার করে নেওয়ার পর লেবুর খোসাও ঘষতে পারেন ত্বকে। এতে ত্বক পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি মৃত কোষ নষ্ট হয়ে গিয়ে ত্বক আরও ঝকঝকে হয়ে ওঠে। প্রতি দিন লেবুর রস কিন্তু আপনার বদহজম কমিয়ে দিতে সক্ষম। তাই মুখের দুর্গন্ধ রোধেও লেবু জল উপকারী। লেবু জলে কুলকুচি করলে স্বাদকোরক সতেজ ও সুস্থ থাকে। লেবু শরীরের টক্সিক পদার্থ বার করে দেয়। তাই যে কোনও অসুখে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে। এর বাইরে, অনেক রোগজীবাণুকে ধ্বংসও করতে পারে লেবু জল।




বরিশালে হাইব্রিডে বিপ্লব এনেছে হীরা ধান

খোকন আহম্মেদ হীরা, বরিশাল: চলতি বোরো মৌসুমে কৃষকদের মাঝে হাইব্রিডে বিপ্লব এনেছে বাংলাদেশের সবচেয়ে মোটা জাতের হীরা-৬ ধান। অন্যান্য জাতের ধানের তুলনায় চাষীরা রোগ ও পোকার আক্রমন বিহীন হীরা-৬ জাতের হাইব্রিড ধান চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। সোমবার সকালে গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী মিশন পাড়ার অনুষ্ঠিত হীরা ধানের মেগা মাঠ দিবসের আলোচনা সভায় স্থানীয় কৃষক শওকত আকন জানিয়েছেন, তিনি তার ৬০ শতক জমিতে হীরা-৬ জাতের বোরো ধান চাষ করে এবার বাম্পার ফলন পেয়েছেন। আগামীতেও তিনি এ জাতের ধান চাষ করবেন। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশে যেসব হাইব্রিড ধান চাষ হয় হীরা-৬ ধান তার মধ্যে অন্যতম। উচ্চ ফলনশীল হওয়ার কারণে এই ধান তাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

সুপ্রীম সীড কোম্পানীর আয়োজনে হীরা ধানের মেগা মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষক আব্দুল আজিজ মৃধার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কোম্পানীর জোনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ মশিউর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনিতা মজুমদার। কোম্পানীর রিজিওনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ আসাদুল আলমের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় পরিবেশক দুলাল রায়, কৃষক শওকত আকন প্রমুখ।

মাঠ দিবসের আলোচনার শুরুতে অতিথিরা কৃষকদের সাথে নিয়ে হীরা-৬ ধানসহ অন্যান্য জাতের চাষ করা কয়েকটি বোরো ক্ষেত পরিদর্শন করে ধানের ছড়া সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে গণনা করে হীরা-৬ ধানের প্রতিটি শীষে গড়ে ৩০৬ থেকে ৩১০টি ধান পাওয়া গেছে। অন্যান্য জাতের ধানে সর্বোচ্চ ২০০টি ধান পাওয়া যায়।

এরপর অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিবিদ মশিউর রহমান বলেন, হীরা-৬ বাংলাদেশের সবচেয়ে মোটা হাইব্রিড ধান। এই জাতের ধানে অন্য যেকোন হাইব্রিড ধানের তুলনায় বেশি ফলন হয়। রোগ ও পোকার আক্রমন বিহীন ১৪৫ দিনের জীবন কাল হীরা-৬ ধানের জাতে প্রতি শতকে এক মনের অধিক ধান পাচ্ছেন কৃষক। পাশাপাশি এ ধানের খোসা অত্যন্ত পাতলা হওয়ায় প্রতি ১০০ মন ধানে ৭৩ মনের অধিক চাল পাওয়া যায়। এছাড়াও এ ধানের চাউলের ভাত অন্যান্য জাতের মতো আঠালো হয়না। সভায় উপস্থিত প্রায় দুই শতাধিক কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বোরো চাষের শুরুতে আগে ভাবতে হবে কোন ধানের বীজ বপন করে ভাল ফলন পাওয়া যাবে। কারণ এটা শুধু বীজ নয়; একটি পরিবারের স্বপ্ন।

কৃষকরা জানিয়েছেন, হীরা-৬ ধান চাষ করে তারা অন্যান্য জাতের চেয়ে বাম্পার ফলন পেয়েছেন। তাই আগামীতেও তারা হীরা-৬ ধান চাষ করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশে যে কয়টি কোম্পানি হাইব্রিড ধানের আমদানির অনুমতি পেয়েছে তাদের মধ্যে একটি সুপ্রীম সিড। কোম্পানিটি বাংলাদেশে প্রথম চীন থেকে বাংলাদেশে হীরা ধানের বীজ এনে বাজারজাত করেন। এরপর তারা নিজস্ব উৎপাদনে যায়। বর্তমানে ৯০ শতাংশ বীজ নিজেরাই উৎপাদন করে বাজারজাত করছেন।

সূত্রে আরও জানা গেছে, হাইব্রিড ধান সাধারণত ৭০-৭৫ শতাংশ পাকলেই কাটতে হয়। কারণ ধান বেশি পাকার ফলে ক্ষেতেই ঝড়ে যায়। তখন হাইব্রিড ধানের বিষয়ে নেতিবাচক প্রচারণা হয়। যেকারণে কৃষকদের সচেতনতার জন্যই মূলত হীরা-৬ ধানের মেগা মাঠ দিবসের আয়োজন করা হয়েছে।




তাপদাহে অসহনীয় পটুয়াখালীর জনজীবন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈশাখের তপ্ত তাপদাহে দক্ষিণের জনপদের মাঠঘাট ফেটে চৌচির। শুকিয়ে গেছে পুকুর জলাশয়। প্রচণ্ড গরম ও পানির সংকটে অসহনীয় হয়ে উঠেছে মানুষ ও পশুপাখির জীবন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় সেচের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে আউশ ও বোরো আবাদ। দিশেহারা পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ জনপদের কৃষক।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ৪৫ দশমিক ১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৮ মিলিমিটার, ফেব্রুয়ারিতে ১৬ মিলিমিটার, মার্চে ১০ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ১১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা গত বছরের তুলনায় অর্ধেকেরও কম। ২০২৩ সালে জানুয়ারি-এপ্রিল জেলায় ৯৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। গতকাল রোববার পটুয়াখালীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পটুয়াখালী আবহাওয়া অধিদপ্তর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আরো পড়ুন : দশমিনায় নদীতে ভেসে আসা যুবকের পরিচয় সনাক্ত

পটুয়াখালী আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টা আবহাওয়ার এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকবে। সামান্য বৃষ্টিপাত হলেও তাতে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা নেই বলে জানান এ কর্মকর্তা।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ২৮ থেকে ৩৪ ফুট নিচে নেমে গেছে। এর মধ্যে বদরপুরে ৩৪ ফুট, ইটবাড়িয়ায় ৩০ ফুট, কালিকাপুরে ২৯ দশমিক ৬ ফুট, মাদারবুনিয়ায় ২৯ ফুট, জৈনকাঠিতে ২৮ দশমিক ৭ ফুট এবং লাউকাঠিতে ২৮ ফুট নিচে রয়েছে পানির স্তর। একই অবস্থা জেলার অন্যান্য ইউনিয়নেরও। এ অবস্থায় পটুয়াখালীসহ পুরো দক্ষিণ জনপদের অনেক গভীর নলকূপে পানি উঠছে না । এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

পটুয়াখালীর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুজ্জামান জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিক ভাবে নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক নলকূপে পানি উঠছে না। সাধারণত ৬ নম্বর হ্যান্ডপাম্পযুক্ত গভীর নলকূপ বসানোর জন্য পানির সর্বোচ্চ স্থিতিতল হয় ২০ থেকে ২৫ ফুট। কিন্তু সদর উপজেলায় পানির স্তর আরও নিচে নেমে গেছে। এতে নলকূপগুলোর হাতল শক্ত হয়ে পানির ডিসচার্জ কমে যায়। কিছু কিছু নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। পানির সংকট নিরসনে সাবমার্সিবল পাম্প বরাদ্দ দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন : পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে একসঙ্গে ভিড়বে তিন জাহাজ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৬১০ হেক্টর। এর মধ্যে স্থানীয় জাতের ২৪১ হেক্টর, উফশী জাতের ১৫ হাজার ৫৫৯ হেক্টর এবং হাইব্রিড জাতের ৪ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়। কিন্তু অনাবৃষ্টি ও সেচের অভাবে বোরো আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বোরো আবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া প্রচণ্ড তাপদাহে মাঠঘাট ফেটে চৌচির হওয়ায় আবাদ করা মুগ ডাল, তিল, চিনাবাদাম, কাঁচামরিচ, সূর্যমুখী, ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, খরা ও অনাবৃষ্টিতে রবিশস্যের তেমন ক্ষতি না হলেও বোরো আবাদে ক্ষতির শঙ্কা প্রবল। কৃষকরা জমিতে দুই থেকে তিন দিন পানি ধরে রাখতে পারলে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। ফসল রক্ষায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।




পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে একসঙ্গে ভিড়বে তিন জাহাজ

বরিশাল অফিস::পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনাল চালু হতে যাচ্ছে আগামী জুনে। এটি চালু হলে, একসঙ্গে ভিড়তে পারবে তিনটি জাহাজ। বন্দরের প্রথম টার্মিনাল চালুর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে বন্দরটির বাণিজ্যিক যাত্রা। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের সঙ্গে পায়রা বন্দরের সরাসরি সংযোগ স্থাপনে চলছে আন্দারমানিক সেতুর নির্মাণ কাজও।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নে ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর পায়রা বন্দরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হয়। এর তিন বছর পর ২০১৬ সালের ১৩ই আগস্ট সমুদ্র বন্দরটিতে প্রথমবার কন্টেইনার জাহাজ খালাসের মাধ্যমে শুরু হয় বন্দরের কার্যক্রম।

প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ বন্দরে মোট ৬টি জেটি থাকবে, যার মধ্যে ৬০০ মিটার প্রথম জেটির কাজ প্রায় শেষের পথে। এ বছরের মাঝামাঝিতে জেটিটি চালু হলে ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের তিনটি জাহাজ একসঙ্গে ল্যান্ডিং করতে পারবে। বন্দর কার্যক্রম সহজ করতে আন্দার মানিক নদীর উপর ১ হাজার ১২০ মিটার দীর্ঘ সেতুও নির্মাণ করা হচ্ছে।

পায়রা বন্দরের সহকারী প্রকৌশলী মোহাইমিনুল হক চৌধুরী বলেন, অন্য দুটো পোর্টে তেমন একটা জায়গা না থাকার কারণে তারা এক্সটেন্ড করতে পারছে না। কিন্তু আমাদের এখানে যথেষ্ট জায়গা আছে। যখনই আমাদের চাহিদা আসবে, আমরা বন্দর এক্সটেন্ড করতে পারবো। এছাড়া আরেকটি বড় বিষয় হলো, আমাদের যে চ্যানেলটা আছে, এটা সোজা চ্যানেল। এখানে দৈর্ঘ্যের কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। যেকোনো দৈর্ঘ্যের জাহাজই এখানে আসতে পারবে।

৫০ বছরের পরিকল্পনাকে সামনে রেখে বন্দরটি আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পায়রা বন্দরের প্রকৌশল ও উন্নয়ন বিভাগের সদস্য কমডোর রাজিব ত্রিপুরা বলেন, এটা অন্যান্য পোর্টগুলোর তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক হিসেবে এবং আমাদের যে জাতীয় চাহিদা সেটির সঙ্গে মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

বন্দর চেয়ারম্যান রিয়াল এডমিরাল আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, প্রযুক্তির মাধ্যমে জাহাজ ল্যান্ডিংসহ সব সুবিধা থাকছে বলেই এটি হচ্ছে দেশের একমাত্র স্মার্ট সমুদ্র বন্দর।

তিনি বলেন, যারা শিপ হ্যান্ডলার, যারা জাহাজ মালিক তারা এই পোর্টের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে যদি সংশ্লিষ্ট হয় এবং তারা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে এই পোর্টের কর্মক্ষমতা ও রেভিন্যু আর্নিং অনেক বেশি আসবে।

এরই মধ্যে এই বন্দরে ৪০০টিরও বেশি বিদেশি জাহাজসহ মোট আড়াই হাজার জাহাজ ভিড়েছে। গত ৩ বছরে রাজস্ব আয় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।




বরিশালে মৌসুমের তাপদাহে দিনমজুর শ্রমিকরা ক্লান্ত

বরিশাল অফিস : মৃদু তাপদাহ বিরাজ করছে বরিশালে। শনিবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৯.০ ডিগ্রিী সেলসিয়াস। তীব্র তাপদাহে অতীষ্ট প্রাণীকূল।

বিশেষ করে দৈনিক খেটে খাওয়া দিনমজুররা পড়েছেন বিপাকে। আগামী এক সপ্তাহ এই অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন তারা।

গত কয়েকদিনের তাপপ্রবাহে বরিশালের জনজীবন বিপন্ন। দিনের বেলা সূর্যের তাপে অতীষ্ট প্রানীকূল। অতি প্রয়োজন ছাড়া প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে ঘরের বাইরে বের হতে চান না সাধারণ মানুষ। পেটের দায়ে কাজে নেমে হাঁসফাঁস অবস্থা দিনমজুরদের।


রিক্সাচালক আবুল হোসেন বলেন, রদ্দুরে গাড়ি চালাইতে পারতে আছি না। ২০-৩০ টাহার ভাড়া খাইট্টা ছাওয়ায় (ছায়া) বইয়া থাহি কি করমু।

কাঠুরে লোকমান মিয়া বলেন, গরমে কাজকাম করতে পারি না। ৬টা কোপ দেলে হেরপর থাহালাগে বইয়া। আগে মাল কাটতাম (লাকড়ি) ১০ থেকে ১৫ মণ। এহন ৫-৬ মনের বেশী কাটতে পারেন না।

বৃদ্ধ রহম আলী বলেন, বাইরে নামলে ছাতি মাথায় দিয়া হাটি। গাছতলায় গাছতলায় থাহি। গরমে টেকতে পারি না। মনে হয় জানডা বাইরাইয়া গেলো।

অপরদিকে নগরীর মুক্তিযোদ্ধা পার্ক সংলগ্ম কির্তনখোলা নদীতে দুরান্ত শিশুরা সহ বৃদ্ধরা নদীতে নেমে ঞন্টার পর ঘন্টা সময় ধরে গোসলের নামে শরীরটাকে শিতল করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে।

এছাড়া পার্কে যারা একটু শিতল হতে এসেছে তারাও বেঞ্চে বসে সময় পাড় করছে আবার কেহ কেহ ঘুমিয়ে শরীররকে শিতল করছে। এদিকে একটি বেসরকারী সংগঠনের পক্ষ থেকে নগরের পথচারীদের মাঝে স্যালাইনযুক্ত ঠান্ডা পানি সরবরাহের মাধ্যমে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।


বরিশাল আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক মো.মাযহারুল ইসলাম জানান, গত বছরের চেয়ে এবার অন্তত ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা বেড়েছে। বর্তমানে মৃদু তাপ প্রবাহ চলছে। শনিবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৯.০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা
চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড। আজ কিছুটা তাপমাত্রা কমে এসেছে রবিবার বেলা তিনটা পর্যন্ত ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়ার্স অব্যাহত রয়েছে। যা আগামী এক সপ্তাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন তিনি।

 




বরিশালে চাপকলে উঠছে না পানি বিপাকে মানুষ

বরিশাল অফিস : নগরের পর এবার বরিশালের আশপাশের গ্রামেও একে একে অকেজো হচ্ছে টিউবওয়েল। দীর্ঘসময় চাপার পরও এসব কলে উঠছে না পানি।

রবিবার বরিশালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর সঙ্গে চাপকলে পানি না ওঠার নতুন এ বিপদ যোগ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

উত্তাপের বিপদ সংকেতের মধ্যেই মাইলের পর মাইল দূরে গিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংকটাপন্ন এলাকাগুলোয় ১৩০টি মেশিনে চলা পানির পাম্প বসানোর কাজ করছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে তাতে সংকটের ছিটেফোঁটাও মিটবে না বলছে ওইসব এলাকার জনগণ।

বরিশাল নগর থেকে ৬-৭ কিলোমিটার দূরে রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন। সেখানকার বাসিন্দা নূর ইসলাম (৫২) ছন্দ চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন বলেন, গত ক’দিন এখানে কোনো টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চাপার পরও একই অবস্থা।একই কথা বলেন নগরসংলগ্ন কাশিপুর ইউনিয়নের তিলক কলাডেমা এলাকার বাসিন্দা রায়হান মল্লিক।

তিনি বলেন, গরমের তীব্রতা বাড়ার আগে ২-১টা টিউবওয়েলে যাও পানি উঠত এখন আর তাও মিলছে না। আশপাশের যেসব বাড়িতে টিউবওয়েলের সঙ্গে পানি ওঠানোর পাম্প (সাবমারসিবল) লাগানো আছে তারাই কেবল পানি পাচ্ছে। আমরা যারা সাধারণ টিউবওয়েল ব্যবহার করি তাদের টিউবওয়েল অনেকক্ষণ চাপার পরও পানি ওঠে না।

জাগুয়া ইউনিয়নের হুমায়ুন কবির চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, পানি না ওঠার কারণ জানতে গিয়েছিলাম উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের কাছে। তিনি বলেছেন, পানির স্তর নেমে যাওয়ার কারণে নাকি এ অবস্থা হয়েছে।

পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উপরিভাগ থেকে ৮-১০ ফুট নিচে থাকলে চাপকল চেপে পানি ওঠানো সম্ভব। কিন্তু বরিশাল নগরসংলগ্ন ৫টি ইউনিয়নের পানির স্তর এতটাই নিচে নেমে গেছে যে টিউবওয়েল চেপে সেই পানি ওঠানো যাচ্ছে না।

এটা ঠিক এখনও মাটির ৯১০ থেকে ৯২০ ফুট নিচেই মিলছে সুপেয় পানি। কিন্তু স্তর চাপের অবস্থান ৮-১০ ফুট থেকে নেমে চলে গেছে ২৩-২৪ ফুট নিচে। যে কারণে একই সঙ্গে বিকল হয়ে পড়েছে শত শত টিউবওয়েল। এ সমস্যা দেখা দিয়েছে নগরসংলগ্ন ৫ ইউনিয়নে। আবার এসব ইউনিয়নের যে জায়গাগুলো নগর থেকে খানিকটা দূরে সেখানে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে চরবাড়িয়া, চরকাউয়া, রায়পাশা-কড়াপুর, কাশিপুর এবং জাগুয়া ইউনিয়নে। সিটি করপোরেশন গঠিত হওয়ার সময় এসব ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকা নগরের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্ধিত এলাকা নামে পরিচিত সেসব এলাকাতেই বেশি সমস্যা হচ্ছে। বরিশাল নগর এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের নিম্নগামিতা কিন্তু আরও ভয়াবহ। মূলত তার প্রভাবই পড়ছে নগরসংলগ্ন এসব ইউনিয়নের ভূগর্ভস্থ স্তরে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইমরান চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, বরিশাল নগরে টিউবওয়েলে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৮-১০ বছর আগে। অগণিত বহুতল ভবন নির্মাণ ও এসব ভবনের বাসিন্দাদের পানির চাহিদা মেটাতে অপরিকল্পিতভাবে পাম্প বসিয়ে পানি ওঠানোর কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। যুগ যুগ ধরে এভাবে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে আনায় ভূ-উপরিতল থেকে মাত্র ৮-১০ ফুট নিচে থাকা পানির স্তর নেমে গেছে ৪২-৪৩ ফিট নিচে।

ফলে এখন যে কেবল টিউবওয়েলে পানি উঠছে না তা নয়, সুপেয় পানির স্তর পর্যন্ত তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। আগে যেখানে বরিশাল নগরে ৭৫০ থেকে ৮শ ফুট নিচে গেলেই মিলত বিশুদ্ধ পানি সেখানে এখন সাড়ে ৯শ ফুট নিচে যেতে হচ্ছে। এখনই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে অদূর ভবিষ্যতে হয়তো বরিশাল নগরে পানির হাহাকার পড়বে।

রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহম্মেদ শাহরিয়ার বাবু চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, এখানে কোনো টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। পুরো ইউনিয়নে হাতে গোনা কিছু সাবমারসিবল রয়েছে। খাবার পানি সংগ্রহে সেগুলোতেই ছুটতে হয় মানুষকে।

এছাড়া গোসলসহ অন্যান্য কাজে ব্যবহার হচ্ছে পুকুর কিংবা খালের পানি। চলমান হিট অ্যালার্মে একটু খাবার পানির জন্য মানুষ যে কতটা কষ্ট করছে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করানো যাবে না। কথা ছিল জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় এখানে বেশ কিছু ডিপ টিউবওয়েল বসানো হবে। কিন্তু টিউবওয়েলে পানি না ওঠায় এখন নাকি তাও বসানো হবে না।

বরিশাল সদর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী আবু সালেহ চন্দ্রদ্বীপ নিউজ কে বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। আলোচ্য ৫ ইউনিয়নে আমাদের দেড় হাজারের মতো টিউবওয়েল রয়েছে যার অধিকাংশই কাজ করছে না।

রাজস্ব খাতভুক্ত একটি প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে এসব ইউনিয়নে ১৩০টি টিউবওয়েল বসানোর কাজ চলছে। এসব টিউবওয়েলে সাবমারসিবলের পাশাপাশি জলাধার বসানোর কাজ করছি আমরা। এখানে প্রতিটি টিউবওয়েলের সাথে থাকা জলাধারেও সংরক্ষিত থাকবে পানি। আগে যেসব সাবমারসিবল বসানো হয়েছে তার সঙ্গে এগুলো যোগ হলে পানির সমস্যা অনেকটা দূর হবে বলে আশা করছি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালেই মূলত সমস্যাটা বেশি হয়। বিশেষ করে গত ২-৩ বছর যাবত। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। বর্ষাকালে কিন্তু পানির স্তর ৮-১০ ফুটের মধ্যে চলে আসে। তখন সব চাপকলই কাজ করে। এ বছর গরমের শুরু থেকেই পানি উঠছে না। সমস্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি আমরা। আশা করি খুব শিগগিরই এই সমস্যা সমাধানে বড় ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।

 




তীব্র গরমে কী খাবেন আর কী খাবেন না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আগামী তিন দিন তাপমাত্রা বাড়তে পারে বলে দেশের বিভিন্ন জেলা ও অঞ্চলে হিট অ্যালার্ট বা আবহাওয়ার সতর্কবার্তাও জারি করেছে আবহাওয়া অফিস।

এমন পরিস্থিতিতে ডায়রিয়ার মতো অসুখ এড়াতে এবং নিজেদেরকে সুস্থ রাখতে খাবার-দাবারে যেসব সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

গরমে যা খাওয়া উচিত নয়
কিছু খাবার আছে, যেগুলো খেলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গরম অনুভূত হতে পারে। ল্যাবএইড হাসপাতালের পুষ্টিবিদ সামিয়া তাসনিম তেমনই কিছু খাবার সম্বন্ধে জানিয়েছেন।

মশলাজাতীয় খাবার
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মশলা জাতীয় খাবার খেতে পছন্দ করলেও গরমের সময় ‘ভুনা মাছ বা গোশত’ খাওয়া এড়াতে হবে। কারণ এ ধরণের খাবার হজম করতে বেশি সময় লাগে। শরীরে বিপাক প্রক্রিয়া যদি বেশি সময় ধরে চলে, তখন গরম লাগতে শুরু করে।

ডিম
শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটানোর অন্যতম মাধ্যম ডিম। কিন্তু গরমের সময় ডিম খেলে অনেকের সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে যাদের শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি, কিংবা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাহলে তারা চাইলে ডিম এড়িয়ে চলতে পারে। ডিমের পরিবর্তে প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে তারা তাদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত মাছ কিংবা মুরগির গোশত রাখতে পারেন।

আইসক্রিম ও কোমল পানীয়
অনেকে মনে করেন, আইসক্রিম ও ঠাণ্ডা বোতলজাত কোমল পানীয় খেলে গরম কম লাগবে। কিন্তু এগুলো খেলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। সেজন্যই আইসক্রিম কিংবা কোমল পানীয় খাওয়ার পরপর তৃষ্ণার্ত বোধ করে মানুষ।

ফাস্টফুড
ফাস্টফুড নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বহু আলোচনা-সমালোচনা চললেও মানুষ বার্গার, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, ফ্রায়েড চিকেন, পিৎজা ইত্যাদি হরহামেশা খাচ্ছে। কিন্তু গরমের সময়ে তো বটেও, সাধারণ সময়ে এগুলো খাওয়া উচিৎ নয়। কারণ এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণ শর্করা ও চর্বি থাকায় হজম করতে সময় লাগে। ফলে, এগুলো রক্তচাপকে প্রভাবিত করে, প্রদাহ বাড়ায়।

ডুবো তেলে ভাজা খাবার
ডুবো তেলে ভাজা খাবার ও অতিরিক্ত তেলেভাজা খাবার মুখরোচক হলেও তা শরীরের জন্য মোটেও ভালো না। এ ধরনের খাবার গরমে এড়িয়ে চলতে হবে। ভাজা-পোড়া জাতীয় খাবার শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি করে।

চা-কফি
শীতকালে শরীর গরম রাখার জন্য অনেকে চা-কফি পান করেন। তাহলে যে চা-কফি শীতকালে শরীর গরম রাখতে সাহায্য করে, তা নিশ্চয়ই গরমকালেও একই ভূমিকা পালন করবে। তাই, গরমকালে অতিরিক্ত চা-কফি পান করা উচিৎ নয়। কারণ চা বা কফির ক্যাফেইন দেহকে পানিশূন্য করে ফেলে এবং শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে তোলে।

দুগ্ধজাতীয় খাবার
গরমকালে দুধ জাতীয় খাবার, যেমন মেয়োনেজ বা বিভিন্ন শেক খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ গরমের সময় এ জাতীয় খাবারে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত হয়।

স্টেক
অনেকেই রেস্টুরেন্টে গিয়ে স্টেক খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু স্টেক যদি সম্পূর্ণরূপে রান্না করা না হয়, তাহলে তার মাঝে ব্যাকটেরিয়া থেকে যেতে পারে। তাই, এক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

তেল-চর্বি জাতীয় খাবার
গরুর গোশত, হাঁসের গোশত, খাসির গোশত কার না পছন্দ? কিন্তু গরমের সময় এগুলো এড়িয়ে চলা উচিৎ। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে চর্বি থাকে। একইসাথে সুস্থ থাকার জন্য পোলাও, বিরিয়ানিতেহারি ইত্যাদি তেলযুক্ত খাবারকেও না বলা উচিৎ।

অতিরিক্ত চিনি ও লবণ
চিনি ও লবণ, এ দু’টো জিনিস এমনিতেই শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু গরমের সময় সেই ক্ষতির মাত্রাটা আরো বেশি হয়ে দাঁড়ায়। এ সময় অতিরিক্ত চিনি ও লবণ খেলে শরীরে অস্বস্তি হতে পারে। তাই, গরমে প্যাকেট জাতীয় খাবার বা প্রসেসড ফুড খাওয়া একদমই উচিৎ না।

গরমে যেগুলো খাওয়া যেতে পারে
গরমে ‘যেসব খাবার খাওয়া যাবে’, এমন খাবার সম্বন্ধেও জানিয়েছেন মিজ তাসনিম। তিনি বলেন,

কম মশলা জাতীয় খাবার
মশলা জাতীয় ভারী খাবার খেতে ভালো লাগলেও গরমের সময় কম মশলা জাতীয় খাবারের ওপর জোর দিতে হবে। কারণ এগুলো সহজে হজমযোগ্য।

শাক-সবজি
বাজারে এখন ঝিঙ্গা, চালকুমড়া, লাউ, চিচিঙ্গা, সজনেডাঁটা, শাকের ডাঁটা ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোকে যদি পাতলা ঝোল করে রান্না করে খাওয়া হয়, তাহলে এগুলো একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা জোগাবে, অপরদিকে শরীরে গরম অনুভব করাবে না।

পাতলা স্যুপ
স্যুপকে অনেকে মজা করে রোগীর খাবার বলে থাকেন। কিন্তু গরমের সময় একদম ‘ক্লিয়ার ভেজিটেবল’ স্যুপ (পাতলা করে সবজি স্যুপ) খেলে তা শরীরের জন্য উপকারী।

নিরাপদ পানি
গরমে নিরাপদ পানি পানের কোনো বিকল্প নেই। কারণ গরমের সময় ঘাম ও প্রস্রাবের সাথে শরীর থেকে সোডিয়াম, পটাশিয়াম বের হয়ে যায়। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার বা ১২ থেকে ১৩ গ্লাস পানি পান করা উচিৎ।

ডাবের পানি
শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে এবং ইলেকট্রলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের পক্ষেই প্রতিদিন ডাব কিনে খাওয়া প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। সেক্ষেত্রে তারা বিকল্প হিসেবে স্যালাইন পানি খেতে পারেন।

লেবু পানি
গরমের সময় লেবুর শরবত পান করলে তা শরীরের ক্লান্তি দূর করবে। সেক্ষেত্রে একদম সাধারণ পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করা যেতে পারে। তবে যাদের হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ নেই, তারা স্বাদের জন্য সামান্য লবণও ব্যবহার করতে পারেন।

ফলমূল
গরমে শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করার জন্য ফলমূল খাওয়া উচিৎ। স্ট্রবেরি, শশা, জাম ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। তবে বাংলাদেশের বাজারে এই সময়ে তরমুজে ভরপুর থাকে। তাই, গরমের ফল হিসেবে তরমুজ খাওয়া যেতে পারে। কারণ তরমুজে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পানি থাকে।

কাঁচা আমের শরবত
কাঁচা আমের মাঝে ভিটামিন-সি থাকে। কাঁচা আমের সাথে মরিচ যুক্ত না করে যদি এটিকে শরবত হিসেবে খাওয়া যায়, তাহলে গরম কম অনুভব হতে পারে।

টক দই
পাকস্থলীকে সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন টকদই খাওয়া যেতে পারে। টক দই খালিও খাওয়া যায়, আবার টকদইকে পানি দিয়ে গুলিয়েও খাওয়া যায়। অথবা, টক দইয়ের সাথে শশাও খাওয়া যেতে পারে।

ডিটক্স ওয়াটার
গরমের সময় ভারী খাওয়ার পর ডিটক্স খাবার খাওয়া যেতে পারে। ডিটক্স ওয়াটার হলো পানি, লেবুর রস, শশা, গাজর, পুদিনা ইত্যাদির রসের সমন্বয়ে তৈরি একধরনের পানীয়।

তবে এক্ষেত্রে মিজ তাসনিম এও বলেন, ‘একজনের জন্য যে খাবারটি খাওয়া ভালো হবে, তা সবার জন্য নাও হতে পারে। যেমন, অনেকের শশা খেলে সমস্যা হয়।’

খাবার সংরক্ষণে সতর্কতা
গরমের সময় চারপাশে এত বেশি তাপমাত্রা থাকে, যে খাবারগুলোতে সহজেই ব্যাকটেরিয়া হতে পারে। তবে খাবার একটা নির্দিষ্ট তাপমাত্রার মাঝে থাকলে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় না। তাপমাত্রা লিমিট ক্রস করলেই ব্যাকটেরিয়া হয়।

তাপমাত্রা পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকলে ও ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে গেলে খাবারে ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয় না।

ডায়রিয়া এড়াতে করণীয়
বাংলাদেশে প্রতি বছরই গ্রীষ্মকালে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। এবছরও তা শুরু হয়ে গেছে।

কিন্তু গরমের সময় ডায়রিয়া এড়াতে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়ার পাশাপাশি ‘একসাথে ভরপেট না খেয়ে কিছুটা বিরতি দিয়ে’ খাবার খাওয়া উচিত।

এছাড়া, মাছি ডায়ারিয়ার সংক্রমণ ছড়াতে খুব বড় ভূমিকা পালন করে। সেজন্যে সবসময় সব খাবার ঢেকে রাখতে হবে। রাস্তার খাবার, যেমন- ফুচকা, চটপটি, লেবুর শরবত খেতেও বারণ।

এছাড়া, ডায়রিয়া প্রতিরোধে অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হচ্ছে খাবার প্রস্তুত, স্পর্শ করা, পরিবেশন করা ও খাবার খাওয়ার আগে, টয়লেট থেকে বের হয়ে, বাইরে থেকে ফিরে এসে হাত ধুয়ে নেয়া। কারণ হাত দিয়েই মানুষ সবকিছু স্পর্শ করে এবং সবচেয়ে বেশি জীবাণু বহন করে।

ডায়রিয়ার জীবাণু ছড়ানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হচ্ছে পানি। তাই, যে পানিই আপনি পান করবেন, তা যেন বিশুদ্ধ পানি হয়।

সূত্র : বিবিসি




তীব্র তাপদাহ উপেক্ষা করে সমুদ্রের টানে পর্যটকরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তীব্র গরম উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আনন্দ উল্লাসে মেতে হাজার পর্যটক। ৪৩ বছরের ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাতেও নোনা জলে জলকেলিতে প্রশান্তি খোঁজ করছেন তারা। তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় বিক্রি বেড়েছে স্থানীয় শরবত ও কোমল পানিয়র দোকানগুলোতে।

নাগরিক কোলাহল থেকে মুক্তি পেতে প্রতি সপ্তাহের ন্যায় শুক্রবার ও শনিবার পর্যটন নগরী পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় হাজার পর্যটক ভ্রমণে এসেছে। সকাল থেকে তীব্র গরম উপেক্ষা করে সৈকতের তপ্ত বালিতে প্রিয়জনের সঙ্গে ছাতা হাতে কেউবা আবার মাথায় ক্যাপ-গামছা পেঁচিয়ে হেঁটে বেরাচ্ছেন। কেউবা আবার বেঞ্চিতে বসে শান্ত সমুদ্রের বিশালতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য  উপভোগ করছেন। তীব্র গরমের কারণে অনেকে হোটেল রুমে অবস্থান করছেন। ফলে ট্যুর গাইডগুলো অনেকটাই অলস সময় পার করে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত।

আরো পড়ুন : গলাচিপায় স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে এক তরুণীর অনশন

ফরিদপুর থেকে বন্ধুদের নিয়ে কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা ফয়সাল জানান, প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেই ঘুরতে আসতে হয়েছে কেননা ইদ ছাড়া সব বন্ধুরা এক হওয়া হয় না। ঈদের পরে সবাই এক সঙ্গে ঘুরতে এসেছি আর এই গরমে সমুদ্রে সময় কাটাতে ভালোই লাগছে।

মাগুরা থেকে ঘুরতে আসা মাহাতাব হোসাইন বলেন, ‘পরিবারের সবাইকে নিয়ে এই প্রথমবার কুয়াকাটা এসেছি। বছরের শুরুতেই পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম কিন্তু এত গরমের মধ্য আসতে হবে বুঝতে পারিনি। সমুদ্র সৈকতে এসে বাচ্চারা অনেক খুশি কিন্তু এত গরমে বেশি সময় বিচে থাকা অসম্ভব।’

তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সবেচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ফুটপাতের দোকানদার, অটোরিকশাচালক, সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরাও পড়েছেন বিপাকে।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকার ভ্যানচালক সুলতান আহমেদ বলেন, ‘এই মৌসুমে যাত্রীর অনেক চাপ এবং ইনকামও বেশি কিন্তু সারাদিন রোদে গরমে যাত্রী আনা-নেওয়ায় খুব কষ্ট হয়।’

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ডাব ব্যবসায়ী সিদ্দিক খান বলেন, ‘প্রচন্ড গরমের মধ্যে আমাদের কুয়াকাটায় অনেক লোকজন আসতেছে। এই গরমে সবাই ডাব খাইতেছে। গরমের কয়দিনে আমার ব্যবসাও ভালো হইতেছে।’

ঝিনুক ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পর্যটক বেশি হলেও বিকাল ছাড়া কাস্টমার হয় না কারণ এই গরমে সবাই সমুদ্রে সময় কাটায় না হয় হোটেলে। সারাদিন কাস্টমার থাকলে বেশি বেচাকেনা হত।’

আরো পড়ুন : কলাপাড়ায় ১৩ বছরের এক কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কুয়াকাটা টুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন টুরিস্ট পুলিশ। সার্বক্ষণিক মাইকিং করে সচেতন করা হচ্ছে পর্যটকদের। তীব্র গরমে কোন পর্যটক অসুস্থ হয়ে পরলেও আমরা তার সেবা নিশ্চিতকরণে কাজ করবো। আমাদের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সদস্যরাও পর্যটকদের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।’

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কলাপাড়া স্টেশনের টহল টিম ইনচার্জ ইলিয়াস হোসেন বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি সৈকত এলাকায় অবস্থান করি। পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় ফায়ার সার্ভিসের একটি টহল টিম সব সময় প্রস্তুত আছে। যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবেলায় আমরা তৈরি আছি।’




ফোন পানিতে পড়ে গেলে করণীয় 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দৈনন্দিন জীবনে অনেকেই স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরশীল। বিভিন্ন কাজে আমরা ফোনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। তবে একটু অসতর্ক থাকলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনার মধ্যে একটি হলো ফোন পানিতে পড়ে যাওয়া বা বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া।