কুয়াকাটা খালের সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশা কর্মশালা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উপকূলীয় এলাকার শহর উন্নয়নে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও জলবায়ু প্রতিরোধ (সিটিসিআরপি) প্রকল্পের আওতায় সমন্বিত এবং বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে পটুয়াখালীর পর্যটন নগরী কুয়াকাটা খালের সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রায় দুইশ কোটি টাকা প্রকল্পের আওতায় এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক— এডিবির অর্থায়নে এলজিইডি বিভাগ এ কাজ বাস্তবায়ন করবে।

এ লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়দের অংশগ্রহণে সুষ্ঠুভাবে ও সৌন্দর্যের সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে নকশ প্রণয়ন কর্মশালা করেছে এডিবি। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে কুয়াকাটায় পর্যটকদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় কুয়াকাটা পৌরসভা অডিটোরিয়ামে ‘কুয়াকাটা খালের’ দুই পাড়ের সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিকল্পনা বিষয়ক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরো পড়ুন : বিদেশি প্রকৌশলী নির্ভরতা কমাতে পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কুয়েট শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ

এ সময় পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. মনির শরীফের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মশালায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের পরিদর্শক মো. মাহফুজ রহমান, প্যানেল মেয়র-২ মো. শহিদ দেওয়ান, কুয়াকাটা বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান, পর্যটন উদ্যোক্তা হাসানুল ইকবাল, কাউন্সিলর তৈয়বুর রহমান, ফজলুল হক খান, আবুল হোসেন ফরাজী, মো. মজিবর রহমান, তুলাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল বারী আজাদ প্রমুখ।

এছাড়াও পৌর এলার প্রতিটি ওয়ার্ডের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অর্ধশত মানুষ এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।

কর্মশালায় প্রকল্প বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরবান ডিজাইনার ও এডিবির কনসালট্যান্ট মোহাম্মদ শামসুজ্জামান।

কর্মশালায় প্রকল্পের ধারণাগত নকশা প্রণয়ন এবং এর বাস্তবায়ন নিয়ে খোলামেলা মতামত গ্রহণ করা হয়। পর্যটকদের বিনোদনে এবং একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে এডিবির এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় প্রতিনিধিসহ সকল শ্রেনী পেশার মানুষ।

আরো পড়ুন : এনজিওর চাকরি ছেড়ে মাশরুম চাষে সফল পটুয়াখালীর মিলন

কুয়াকাটা খালের সৌন্দর্যবর্ধন করা হলে পর্যটকসহ স্থানীয়দের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ হবে এমনটাই জানায় কুয়াকাটা পৌর কতৃপক্ষ।

খালের দুই পাড়ের এক্সেস রোড, ফুটব্রিজ, র‌্যাম্প, ওয়াকওয়ে, বোর্ডওয়াক, ৩টি ঘাট, বসার শেড, বোট রাইডিং, মাছ ধরার পয়েন্ট, ফ্লোটিং গার্ডেন, মার্কেট, রেস্তোরাঁ, আলোকসজ্জা, পাবলিক টয়লেট, পানীয় জলের ব্যবস্থা, মানচিত্র, নিরাপত্তা ক্যামেরা, বৃক্ষরোপণ, ঝর্ণা, ফুটব্রিজ, খাল খননসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্থান পেয়েছে প্রস্তাবিত এই নকশায়।

জলবায়ু সহনশীল সবুজ অবকাঠামো এবং প্রকৃতিভিত্তিক পর্যটন নগরী গড়ে তুলতে এমন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।




তীব্র গরমে হাতপাখা বিক্রির হিড়িক

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত। তার ওপর আবার ঘন ঘন লোডশেডিং। ফলে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থায় কলাপাড়া উপজেলার কর্মব্যস্ত মানুষ। অতিষ্ঠ গরম থেকে রক্ষা পেতে শহরে হাত পাখা কেনার ধুম পড়েছে।

শহরের অলিগলিতে বিভিন্ন সিজনাল ব্যবসায়ীদের ঘুরে ঘুরে হাত পাখা বিক্রি করতে দেখা যায়। প্রতি হাত পাখা ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। যদিও গত বছর এই পাখা ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হতো।

জানা গেছে, কেওয়া পাতা দিয়ে এক বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি এই হাতপাখা গ্রামীণ জনজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। সুদীর্ঘকাল থেকে বৈদ্যুতিক পাখার বিকল্প হিসেবে তালপাখার জুড়ি নেই। কেওয়াপাতা কেটে রোদে শুকিয়ে বাঁশের শলা ও সুতা দিয়ে এক বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি করা হয় এই হাতপাখা।

পাখা বিক্রেতা আবদুল কাদের বলেন, ‘আমি কাজের ফাঁকে গরমের সিজনে তিন বছর ধরে হাতপাখা বিক্রি করছি। গত কয়েক বছরের চেয়ে এই বছর অনেক বেশি পাখা বিক্রি হয়েছে। এতে আর্থিক বেশ লাভ হয়েছে।’

আরো পড়ুন : এনজিওর চাকরি ছেড়ে মাশরুম চাষে সফল পটুয়াখালীর মিলন

নতুন বাজারের বাসিন্দা আহাল উল্লাহ মাওলানা জানান, দিন কিংবা রাতের বেলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং হওয়ার কারণে আমরা ছেলে-মেয়ে নিয়ে ঘরের ভেতরে থাকতে পারি না। তাই ফ্যানের বিকল্প হিসেবে আমরা নিরুপায় হয়ে হাতপাখা কিনছি।

ব্যবসায়ী বাসুদেব জানান, বৈদ্যুতিক পাখার বিকল্প হিসেবে হাতপাখা ব্যবহার করেন তারা। পাশাপাশি ২০ টাকার পাখা ৪০ টাকায় বিক্রি হওয়ায় সুলভ মূল্যে পাখা কেনা অনেক কঠিন হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

খেপুপাড়া সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজের প্রভাষক আবু ইউসুফ বলেন, লোডশেডিংয়ের এই বিরূপ পরিবেশ শীতল করতে হাতপাখার জুড়ি নেই। তাই এই গরমে হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল শিশু, রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বস্তি দিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সুলভ বা বিনামূল্যে জনপ্রতি একটি করে হাতপাখা ও খাবার স্যালাইন দেওয়ার আহ্বান জানাই।




গরমে অতিরিক্ত ঘাম? এই ৫ খাবার এড়িয়ে চলুন




শুধু গরমে নয়, আয়রনের ঘাটতিতেও হয় প্রচণ্ড দুর্বলতা ও হার্ট ফেইলিওর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : এই গরমে সুস্থ থাকাটাই এখন চ্যালেঞ্জের। এ সময় অনেকেই শারীরিক বিভিন্ন সমস্যায় বিশেষ করে দূর্বলতা, ক্লান্তি ও মাথা ঘোরার মতো লক্ষণে ভুগছেন। শুধু গরমের কারণে নয়, শরীরে আয়রনের অভাবে ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দেয়। এমনকি আয়রনের অভাবে হার্ট ফেইলিওর হতে পারে।

আয়রনকে শরীরের প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এটি শক্তি দেয় ও শরীরকে অনেক রোগ থেকে রক্ষা করে। আয়রন হিমোগ্লোবিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা লোহিত রক্তকণিকায় পাওয়া যায়। হিমোগ্লোবিনের কাজ হলো ফুসফুস থেকে অন্য অঙ্গে অক্সিজেন পরিবহন করা। কাজেই, আয়রনের ঘাটতি হলে পুরো ব্যবস্থাই নড়ে যায়।

যেহেতু আয়রন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, তাই এর ঘাটতি অনেক রোগের কারণ হয়। এটি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরে কম আয়রনের কারণে ক্লান্তি সবচেয়ে সাধারণ উপসর্গ। শরীরের বিভিন্ন অংশে অপর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন পৌঁছানোর কারণে ক্লান্তি অনুভূত হয়। এতে দুর্বলতা ও মাথা ঘোরার মতো সমস্যা হতে পারে।

শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেনের অভাব হয়, যে কারণে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। ব্যায়াম, হাঁটা বা দৌড়ানোর সময় এই সমস্যা বাড়ে।

আয়রন শুধু শারীরিক স্বাস্থ্য নয় মানসিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে। এর অভাবে মাথাব্যথার সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় আয়রনের ঘাটতির কারণে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে, কারণ এমন পরিস্থিতিতে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন পায় না।

সেরোটোনিন ও ডোপামিন উভয়ই শরীর ও মস্তিষ্ককে শিথিল রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। আয়রনের মাত্রা কম হলে শরীরে এই দুটি হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ঘুমের ওপর। ফলে অনেক সমস্যা হতে পারে।

হাত পা প্রায়ই ঠাণ্ডা থাকলে সতর্ক থাকুন, কারণ এটি আয়রনের ঘাটতির লক্ষণও হতে পারে। আয়রনের ঘাটতির কারণে যখন শরীরে অক্সিজেন ঠিকমতো পৌঁছায় না, তখন এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়।

সূত্র: এবিপি নিউজ




২৯ এপ্রিলের ভয়াল সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি উপকূলবাসী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভয়াল ২৯ এপ্রিল আজ। স্বজন হারাদের আঁতকে ওঠার দিন। এখনও স্বজনরা ডুকরে ডুকরে কাঁদে প্রিয়জনের স্মরণে। গণহারে কবর হয়েছিল, লাখে লাখে মরেছে মানুষ। মানুষের লাশ আর লাশ ভেসে এসেছে সেদিন।

১৯৯১ সালের এদিনে দিনগত মধ্যরাতে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ দেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ১২ থেকে ২০ ফুট উচ্চতায় জ্বলোচ্ছাসে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘হারিকেন’। লাশের পরে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল চারদিকে। নদী-নালা, ডোবায়, খাল-বিল, সমুদ্রে ভেসেছিল মানুষের লাশ আর লাশ। গরু, মহিষ, ভেড়ার মরদেহের স্তুপ যেন ভয়াল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।

আরো পড়ুন : ভাইরাল ভিডিও নিয়ে কুয়াকাটা পৌর ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন

বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছিল। দেশের মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে সেদিন প্রত্যক্ষ করেছিল প্রকৃতির করুণ এই আঘাতের নিদারুণ দৃশ্য। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এতবড় অভিজ্ঞতার মুখোমুখী এদেশের মানুষ এর আগে আর কখনো সম্মুখীন হয়নি।

পরদিন বিশ্ববাসী অবাক হয়ে গিয়েছিল সেই ধ্বংসলীলা দেখে। নির্বাক হয়ে তাকিয়ে ছিল জাতি। স্বজনহারানোর অস্থিরতায় বোবা কান্নায় ডুকরে ডুকরে কেঁদেছিল সমগ্র দেশ।

বাংলাদেশে আঘাত হানা ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে নিহতের সংখ্যা বিচারে পৃথিবীর ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড়গুলোর মধ্যে অন্যতম। ঘূর্ণিঝড় এবং তার প্রভাবে সৃষ্ট ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে আনুমানিক ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষ নিহত এবং প্রায় এক কোটি মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল। তবে বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরও বেশি। মারা যায় ২০ লাখ গবাদিপশু। ক্ষতি হয়েছিল ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি সম্পদ।

ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ক্ষয়ক্ষতির কারণ সম্পর্কে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি হয়েছিল আগে থেকেই। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার হয়েছিল। সেসময় অনেকেই ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা বুঝতে পারে নি বলে সাইক্লোন সেন্টারে যায় নি। বার বার মাইকিং করা সত্ত্বেও বাড়ি ঘর ছেড়ে যেতে চায় নি’। এটাও ঠিক যে তখন সাইক্লোন সেন্টারও যথেষ্ট ছিল না। যাবেই বা কোথায়? পরিবারে বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। শেষ সময়ে অনেকে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়ে যাবার সময় বৃদ্ধ মা-বাবাকে নারিকেল গাছের সাথে বেঁধে গেছেন। বাতাসের তীব্র গতিতে গাছের সাথে দুলতে দুলতে কেউ কেউ বেঁচেও গিয়েছিলেন, আবার ভেসেও গেছেন এমন দুঃখের কথাও আমরা শুনেছি রাঙ্গাবালী, গলাচিপা, কুয়াকাটা, কলাপাড়ার মানুষের কাছে।

কুয়াকাটার বাসিন্দা জয়নাল মৃর্ধা বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের পরে তখন আমরা যা দেখেছি পুরো উপকূল মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। এলাকায় ফিরে গিয়ে দেখি তখন এক কবরে একাধিক নারী পুরুষ শিশুকে কাফন ছাড়া দাফন করা হচ্ছে। হাটে ঘাটে নালা নর্দমা পুকুরে লাশের সারি। ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের আগে নারীরা বলেছিলেন আমরা গরু-ছাগল হাঁস-মুরগি রেখে যাই কেমন করে? এটা নিয়ে অনেকে হেসেছিলেন, কিন্তু ওদের কথায় এটা পরিষ্কার ছিল যে পরিবার বলতে ওদের কাছে শুধু মানুষ নয়, ঘরের পশুপাখিও তাদের পরিবারের অংশ। তাদের ফেলে যাবেন এমন স্বার্থপর তারা নন। সাইক্লোন শেল্টারগুলোতে গবাদিপশু রাখার ব্যবস্থা তখন ছিল না, এখনও নেই। শুধু মানুষ বাঁচানোর চেষ্টা। আবার এই মানুষ যখন অন্য প্রাণীর জন্যে আকুল হয় তখন তাদের সচেতনতার অভাবের কথা বলা হয়।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালী তীব্র তাপদাহে ফসলের উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

উপকূলবাসী আজও ভুলতে পারেনি সেই রাতের দুঃসহ স্মৃতি। প্রলয়ঙ্করী এই ধ্বংসযজ্ঞের ৩৩ বছর পার হতে চলেছে। এখনও স্বজনহারাদের আর্তনাদ থামেনি। গৃহহারা অনেক মানুষ এখনও মাথা গোঁজার ঠাঁই করে নিতে পারেনি।

রাঙ্গাবালী দ্বীপের বাসিন্দা আলম মিয়া ওই রাতের স্মৃতি উল্লেখ করে বলেন, সে ভয়াল রাতের কথা মনে পড়লে চোখে পানি চলে আসে। সেই রাতের কথা কোনো ভাবেই ভুলে যাওয়ার নয়। সেই উপকূল এখনো অরক্ষিত।




ব্রেকআপের কষ্ট ভোলার উপায়




পটুয়াখালীতে ভেসে এসেছে টর্পেডো সাদৃশ্য বস্তু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ভেসে এসেছে একটি টর্পোডে সাদৃশ্য বস্তু। এটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২৭ ফুট ও প্রস্থ ৩ ফুট। রবিবার দুপুরে বঙ্গোপসাগর থেকে উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের মীরকান্দা গ্রামের ভাঙ্গার খালে এ টর্পেডোটি ভেসে আসে। অচেনা এ বস্তুটি দেখে স্থানীয়দের মাঝে কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে।

রাঙ্গাবালী থানার ওসি হেলাল উদ্দিন বলেন, বঙ্গোপসাগর থেকে রাবনাবাদ চ্যানেল হয়ে এই টর্পেডোটি ভাঙ্গার খালে প্রবেশ করতে পারে। স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কোষ্টগার্ডের সদস্যরা ছবি দেখে এটি প্রাথমিকভাবে টর্পেডো বলে জানিয়েছেন।
টর্পেডো হচ্ছে এক ধরনের স্ব-চালিত অস্ত্র। এটি জলের নিচে বা উপরে বিস্ফোরক ওয়ারহেড বহন করে এবং লক্ষবস্তুর কাছাকাছি আসার পর বিস্ফোরিত হতে পারে।

আরো পড়ুন : মুখ ঢেকে জাল ভোট দিতে গিয়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড



এক ফসলি জমি চার ফসলিতে রূপান্তর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পাল্টে গেছে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার আবাদি জমির চিত্র। থাকছে না কোনো অনাবাদি, পতিত জমি। প্রায় সব জমি আসছে চাষের আওতায়। পরিণত হচ্ছে চার ফসলি জমিতে। প্রশিক্ষণ আর পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব জমির ফসলের উৎপাদন বাড়বে। এতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন কৃষক। সমৃদ্ধ হবে কৃষি অর্থনীতি।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক দশক আগেও আমন মৌসুমের পর জেলার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পড়ে থাকত অনাবাদি। কিন্তু এখন দৃশ্যপট পাল্টাচ্ছে। এসব জমিতে আমনের পরেই ফলছে বোরো, সূর্যমুখী, গম, ভুট্টা, তরমুজ, বাদাম, আলু, সরিষাসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি। আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার, উন্নত চাষ পদ্ধতি, মিষ্টি পানির সংরক্ষণ, উন্নত বালাইনাশক ও লবণসহিষ্ণু উন্নত জাতের বীজের কারণে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার এক সময়ের এক ফসলি জমি পরিণত হচ্ছে চার ফসলি জমিতে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। তরমুজের চাষ হয়েছে ২৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর বেশি। জেলায় ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে হয়েছে সূর্যমুখীর চাষ, যা গত বছরের তুলায় দ্বিগুণ। এর মধ্যে শুধু কলাপাড়া উপজেলায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। জেলায় প্রায় ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে হয়েছে মুগডালের আবাদ। এ ছাড়া বাদাম, ভুট্টা, গম, মরিচ, সবজি, বাঙ্গি উৎপাদনেও রেকর্ড করেছে উপকূলের এই জেলা।

কৃষি বিভাগের এমন সমীক্ষায় সংশ্লিস্টরা মনে করছেন, প্রণোদনা, কৃষি উপকরণের সহজ প্রাপ্তিসহ মিষ্টি পানির সংরক্ষণ বাড়ানো গেলে উপকূলীয় এলাকায় চাষের জমি আরও বাড়বে।

উত্তর ঠিয়াখালী গ্রামের কৃষক জামাল হাওলাদার বলেন, ‘আমন ধানের পরে জমি পতিত থাকত। ইরি ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতায় সেই জমিতে বাদাম, সরিষা, আলু চাষ করেছি। এখন সূর্যমুখী ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায়।’

একই গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ধান চাষ করে সংসারে নুন আনতে পানতা ফুরাত। এখন আমনের পাশাপাশি বারো মাস সবজি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছি।’

কৃষক খলিল মৃধা বলেন, ‘বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে খাল-ডোবা-পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় মিস্টি পানির অভাব দেখা দেয়। মিস্টি পানির সংরক্ষণ বাড়ানো গেলে চাষ সুবিধা পাওয়া যেত।’

আরো পড়ুন : পবিপ্রবি ও ভারতের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে চুক্তি

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকর্তা মানিক দেবনাথ বলেন, ‘আমন চাষের পর জেলার উপকূলীয় এলাকার ৭০ ভাগ জমি পড়ে থাকত অনাবাদি। শুস্ক মৌসুমে লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কৃষক ফসল চাষ করলেও ভালো ফলন পেত না। পরে আবহাওয়া উপযোগী জাত নির্বাচন, বপনের সঠিক সময় নির্ধারণ ও সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে কৃষকদের ধারণা প্রদান, উপকরণ দিয়ে সহায়তা, নিয়মিত মাঠ তদারকি ও কৃষক মাঠ দিবস পালন করায় কৃষকরা আগ্রহী হয়। পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও বরগুনার আমতলী উপজেলার এক ফসলি জমিকে চার ফসলি জমিতে উন্নীত করার প্রচেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ জমি তিন ফসলিতে উন্নীত করা হয়েছে।’

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন বলেন, ‘কৃষি বিভাগের উৎসাহিতকরণ, নিয়মিত মাঠ তদারকি, সহযোগিতা ও লবণসহিষ্ণু ফসলের ভালো ফলনের কারণে কৃষকরা জমিকে এখন আর অনাবাদি রাখছেন না।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পটুয়াখালীর উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষি বিভাগের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আগ্রহীকরণ ও প্রণোদনার ফলে আমন চাষের পরে তরমুজ, মুগ ডাল, মরিচ, সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন কৃষক। এসব শষ্যে উচ্চমূল্য পাওয়ায় তারা খুশি। উপকূলীয় উপজেলা কলাপাড়া, গলাচিপা, রাঙ্গাবালীতে লবণসহিষ্ণু জাতের বীজ সরবরাহ করায় এসব এলাকার পতিত জমি এখন তিন থেকে চার ফসলি চাষের আওতায় চলে আসছে।




ইন্টারনেট ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো যাবে ছবি-ফাইল




তীব্র দাবদাহে শরীরে দেখা দিতে পারে পানিশূন্যতা

বরিশাল অফিস :: চলমান তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই বেশ কিছু এলাকায় আগাম রোপিত বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিদিন অসহনীয় গরমের মধ্যে কাজ করা দিনমজুররা ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে যাচ্ছেন। ঘামের সাথে শরীরের প্রয়োজনীয় পানি বের হওয়ার পর সেই ঘাটতি পূরণ না হওয়ায় অনেকের শরীরে দেখা দিয়েছে পানিশূন্যতা। প্রচন্ড দাবদাহের কারণে ডায়রিয়া, বমি ও জ¦রে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এসব রোগীদের শরীরেও দেখা দিয়েছে পানির ঘাটতি। অনেক সময় অতিরিক্ত শরীরচর্চার কারণেও পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ মোঃ মাহাবুব আলম মির্জার মতে, শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দিলে পানির পাশাপাশি খনিজ পদার্থেরও ঘাটতি হয়। তাই এ সময় ডাব ও স্যালাইন পান করতে পারেন। আবার পটাশিয়ামের অভাব পূরণের জন্য নিয়মিত পাকা কলাও খেতে পারেন। তবে এড়িয়ে চলতে হবে কফি খাওয়া। অতিরিক্ত কফি শরীরে পানিশূন্যতার সৃষ্টি করে। তাই গরমে কফি ও তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। তবে বেশ কিছু ফল রয়েছে, যা আপনার শরীরের পানির ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম।

লেবু ॥ গরমে প্রশান্তি পেতে কমবেশি সবাই লেবুর শরবত পান করেন। ভিটামিন সি যুক্ত এই ফলের রস আপনাকে সতেজ অনুভূতি দেবে সারাদিন। তবে লেবুর শরবতে খুব বেশি চিনি মেশাবেন না। লেবুতে থাকা পটাশিয়াম শরীর সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ঘামের কারণে শরীরে খনিজের যে ঘাটতি তৈরি হয়, তার অনেকটাই পূরণ করে লেবু। লেবুর প্রায় ৮৮ শতাংশই পানি।

তরমুজ ॥ গ্রীস্মকালীন ফল তরমুজ। বাজারে বেশ সহজলভ্য ফলটি। গরমে একটু স্বস্তি পেতে খেতে পারেন এই ফল। এটি শরীরে জলের অভাব পূরণ করে। তরমুজে শতকরা ৯০ ভাগের বেশি পানি থাকে। ফলে পানিশূন্যতারোধে এটি হতে পারে একটি উপকারী খাবার। সাথে রয়েছে-ফাইবার, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট লাইকোপিন ও ম্যাগনেসিয়াম। যা তীব্র গরমেও আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। তরমুজ ফ্রিজে রেখেও খেতে পারেন। তবে তরমুজ খাওয়ার পরপরই পানি পান করবেন না।

টমেটো ॥ টমেটো এখন প্রায় সারাবছরই পাওয়া যায়। টমেটো রান্না কিংবা কাঁচা, যেভাবেই খাবেন তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি। তবে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায় কাঁচা টমেটো খেলে। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ২, ভিটামিন সি, ক্রোমিয়াম, ফোলেট, ফাইবার, পটাশিয়াম ও ফাইটোকেমিক্যালের উপকারী পুষ্টি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত টমেটো খেলে ক্যান্সার, হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

শসা ॥ গরমের আরেকটি সেরা ফল হল শসা। এটি পানিশূন্যতারোধ করতে সাহায্য করে। শসায় রয়েছে ভিটামিন কে, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম। শসার প্রায় ৯৫ শতাংশই পানি। এই ফলের সবচেয়ে উপকারী গুণ হলো, এতে ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম। নিয়মিত শসা খেলে দূর হয় শরীরে জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ। এটি ত্বককে ভেতর থেকে পরিসকার রাখে। শসা খেলে গরমে শরীর ঠান্ডা থাকে।

ডাব ॥ শরীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে এবং ইলেক্ট্রলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে ডাবের পানি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের পক্ষেই প্রতিদিন ডাব ক্রয় করে খাওয়া প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। সেক্ষেত্রে তারা বিকল্প হিসেবে স্যালাইন পানি পান করতে পারেন।

ডাঃ শাহনাজ রুবি’র মতে, গরমের সময় ভারি খাওয়ার পর ডিটক্স পানি পানি করা যেতে পারে। ডিটক্স ওয়াটার হলো-পানি, লেবুর রস, শশা, গাজর, পুদিনা ইত্যাদির রসের সমন্বয়ে তৈরি একধরনের পানিয়। এ ছাড়া মশলা জাতীয় ভারি খাবার খেতে ভালো লাগলেও গরমের সময় কম মশলা জাতীয় খাবারের ওপর জোর দিতে হবে। কারণ এগুলো সহজে হজমযোগ্য। বাজারে এখন ঝিঙ্গা, চালকুমড়া, লাউ, চিচিঙ্গা, সজনেডাঁটা, শাকের ডাঁটা ইত্যাদি কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। এগুলোকে যদি পাতলা ঝোল করে রান্না করে খাওয়া হয়, তাহলে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা জোগাবে, অপরদিকে শরীরে গরম অনুভব কম হবে।

গরমে নিরাপদ পানি পানের কোন বিকল্প নেই জানিয়ে ডাঃ মণীষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, গরমের সময় ঘাম ও প্রসাবের সাথে শরীর থেকে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম বের হয়ে যায়। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে তিন থেকে সাড়ে তিন লিটার বা ১২ থেকে ১৩ গ্লাস পানি পান করা উচিৎ। পাশাপাশি এখন দেশের সর্বত্রই কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে। কাঁচা আমের মাঝে ভিটামিন-সি থাকে। কাঁচা আমের সাথে মরিচ যুক্ত না করে যদি এটিকে শরবত হিসেবে খাওয়া যায় তাহলে গরম কম অনুভব হবে। এ ছাড়া প্রচন্ড গরমে পাকস্থলীকে সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন টকদই খাওয়া যেতে পারে।

প্রতিদিন বাড়ছে তাপমাত্রা। বাড়ছে গরম। এ সময় পিপাসায় গলা শুকিয়ে যায়। পানির চাহিদা বেশি থাকে। তাই নরমাল পানির চেয়ে ফ্রিজের পানির প্রতি চাহিদা বেশি থাকে। পাওয়া মাত্রই খাওয়া শুরু করে দেন অনেকেই কিন্তু এটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর জানিয়ে ডাঃ কাজী শিউলী বলেন, রোদ থেকে ঘুরে এসে ঢক ঢক করে ঠান্ডা পানি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য একেবারেই ভালো নয়। এতে সাময়িক আরাম পাওয়া গেলেও শরীরের উপর এর বিরূপ প্রভাব পরে। হঠাৎ করে শরীরে ঠান্ডা পানি প্রবেশ করার ফলে রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত হয়ে পরে। বিশেষ করে ঠান্ডা লেগে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে।