কলাপাড়ায় সবজিতে আগুন – মাছে নাভিশ্বাস

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কাঁচাবাজারে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। হাতের নাগালে বেগুন, শসা,আলু, পটল, ঢেঁড়শ, মিষ্টি কুমড়া, লাউসহ সব রকম সবজির দাম দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে কাঁচাবাজারের পাশাপাশি মাছ মাংস দুধ ডিমের দামও। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের যেন বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। অনেকে হাটে এসে কাঁচাবাজার না করেই খালি ব্যাগ হাতে নিয়ে বাড়ি ফেরত চলে যাচ্ছেন। আবার কেউ বাধ্য হয়ে বেশি দামেই বাজার করে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করায় ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

সরজমিন দেখা যায়, কলাপাড়া পৌরসভার কাঁচা বাজারে সবজির দাম শুনতেই নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতাদের। বাজারে করলা ১শ’ টাকা কেজি, ঢেঁড়শ ৯০ টাকা, বেগুন ৯০ টাকা, আলু ৬০ টাকা, ঝিঙে ১শ’ টাকা, পটল ৫০ টাকা, পেঁপে ৫০ টাকা, শসা ১শ’ টাকা, জালি কুমড়া ৭০ টাকা, পিয়াজ ১শ’ টাকা, আদা ২৮০ টাকা, রসুন ২২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৩২০ টাকা, কচু ৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে রুই মাছ ৩শ’ টাকা, পাঙ্গাশ ২২০ টাকা, কাতলা মাছ ৩৫০ টাকা, সিলভারকাপ মাছ ৩শ’ টাকা, টেংরা মাছ ৬শ’ টাকা, চিংড়ী মাছ ৬-৮শ’ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কলাপাড়া বাজারে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষের বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে অতিভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা, মৎস্য ও কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষতি

বাজার করতে আসা নিম্নআয়ের মানুষ মো. শাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি বাজার করতে এসে তরকারির দাম শুনে হতাশ হয়ে বাজার না করে খালি ব্যাগ নিয়ে বাড়িতে ফেরত যাচ্ছেন। তিনি সারাদিনে কাজ করে পারিশ্রমিক পান মাত্র ৬শ’ টাকা। আর বাজারে এক কেজি বেগুনের দাম ৮০ টাকা, পাঙ্গাশ মাছের দাম ২২০ টাকা।

বাজার করতে আসা মো. বাবুল চৌকিদার বলেন, মাছের বাজারে গিয়ে হাফ কেজি চিংড়ি মাছ কিনেছি ৩৫০ টাকা দিয়ে, এক কেজি আলু কিনেছি ৬০ টাকা দিয়ে। যেভাবে দিন দিন তরি তরকারির দাম বাড়ছে তাতে মানুষের বাজার করে খাওয়া দায় হয়ে পড়েছে।

মো. আলমগীর নামের ব্যবসায়ী জানান, তারা পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে মাল কিনে খুচরা দামে বিক্রি করছেন। তাদের কাছে পাইকারি বাজারে বেগুনের দাম ধরা হচ্ছে ৮০ টাকা আর সেই বেগুন খুচরা বাজারে বিক্রি করছি ৮৫-৯০ টাকা দরে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি হওয়ায় তারা বেশি দামে মাল কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।




চালতা ফুলের সৌন্দর্য ও সৌরভে বিমোহিত পথিক

বরিশাল অফিস :: রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ চালতা ফুলের রূপে মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন- ‘আমি চলে যাব বলে/ চালতা ফুল কি আর ভিজিবে না শিশিরের জলে/ নরম গন্ধের ঢেউয়ে?’

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে চলতি বর্ষায় কেয়া ও কদমফুলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফুটেছে চালতাফুলও। পথের ধারে কিংবা পুকুর পাড়ে দৃশ্যমান এ চালতার দৃষ্টিনন্দন ফুল ও সৌরভ বিমোহিত করছে সৌন্দর্যপিপাসু পথিকদেরকেও।

সাদা রঙের সুরভিত ওই ফুলের ব্যাস ১৫-১৮ সেন্টিমিটার। মূলত গ্রাম-গঞ্জে বর্ষাকালে দেখা মেলে চালতা ফুল ও ফলের। দৃষ্টিনন্দন এই ফুলটি বর্ষা মৌসুমে গাছের শাখায় ফুটে কেবল আবহমান প্রকৃতির শুদ্ধতারই জানান দেয়।

সূত্রমতে, ঔষধিগুণসম্পন্ন ও টক জাতীয় চালতা ফলের কদর রয়েছে দেশের সর্বত্রই। এ গাছটি উচ্চতায় প্রায় ১৮ মিটার পর্যন্ত বড় হয়ে থাকে। গাছটির শাখা-প্রশাখা অবিন্যস্ত ও প্রসারিত। সবুজ পাতাগুলো খাঁজকাটা ধরনের হয়। বর্ষায় ওই সবুজের মাঝে শুভ্র চালতা ফুল দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগে। দীর্ঘাকার ঘন পাতার আচ্ছাদনে এ ফুলকে আড়াল করে রাখে। এর বৃতির রঙ সবুজ ও স্থায়ী। সুমিষ্টি গন্ধযুক্ত এ ফুলের পরাগধানী কাঁচাহলুদ রঙের পুংকেশরে মণ্ডিত।

এছাড়া তারকাবৃতির গর্ভমুণ্ড এ ফুলকে দিয়েছে বাড়তি সৌন্দর্যময়তা। সাধারণত চালতার বৃতিগুলো দ্রুতই ফলে পরিণত হয় বলে এ ফুল দু-এক দিনের বেশি স্থায়ী হয় না। এটি প্রভাতে পাপড়ি মেলে আর সন্ধ্যায় ঝরে পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রঙেও পরিবর্তন আসে ফুলটিতে। এরপর নিষিক্ত ফুলই পরবর্তীতে পরিপূর্ণ চালতা ফলে পরিণত হয়।

স্থানীয় বৃক্ষ গবেষক অধ্যাপক ইয়াসিন আলী বলেন, চালতা ফল বহুবিধ ঔষধিগুণ সম্পন্ন হলেও এর আচার দেশের নারী-শিশুদের জন্য খুবই লোভনীয় ও মুখরোচক খাবার হিসাবে ব্যাপক সমাদৃত। কিন্তু যথাযথ উদ্যোগের অভাবে দিনে দিনে আবহমান গ্রাম বাংলা থেকে এ গাছটি হারিয়ে যাচ্ছে। অতীতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিস্ময়কর ও বহুবিধ ঔষধিগুণসম্পন্ন এই চালতা গাছ দেখা গেলেও বর্তমানে এটি ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

হোসেনপুর আদর্শ মহিলা ডিগ্রি (অনার্স) কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাজমুন নাহার বলেন, বহুবিধ ভেষজ ঔষধি গুণসম্পন্ন এ ফল পাকে বর্ষার পর। পাওয়া যায় শীতকাল পর্যন্ত। আষাঢ়-শ্রাবণে ফোটে চালতা ফুল। সুগন্ধি এ ফুলে পাঁচটি পাপড়ি থাকে। পাপড়িগুলো আঁকড়ে থেকে ফলে রূপান্তরিত হয়। ফোটার পর এ ফুলে মৌমাছির আগমন ঘটে। মৌমাছিরা মধু আহরণ করতে গিয়ে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বসে। এভাবেই চালতার পরাগায়ন ঘটে। একটি চালতা ফলের গাছে বছরে একবারই ফল ধরে। প্রতিটি চালতা ফল স্বাভাবিকভাবে ২০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজন হয়ে থাকে।

স্থানীয় পরিবেশবিদ ও সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন বলেন, এক সময় আমাদের গ্রামীণ জনপদের রাস্তার পাশে, পুকুরের ধারে ও বাড়ির আঙ্গিনায় অনেক চালতা গাছ দেখা যেতো। নানা কারণে এখন আর সে দৃশ্য খুব বেশি চোখে পড়ে না। তাই প্রকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে এই বৃক্ষ লাগানো প্রয়োজন। তা না হলে আগমী প্রজন্ম এ ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য ও মুগ্ধতা থেকে বঞ্চিত হবে। তাই এ বর্ষায় চালতা গাছ লাগানো খুবই জরুরি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ একেএম শাহজাহান কবীর বলেন, একটি চালতা গাছে বছরে একবারই ফল ধরে। চালতার ফুল সাধারণত রাতে ফোটে এবং ফুল ফোটার এক দিনের মধ্যেই ফুলের পাপড়ি নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই পরিপূর্ণ একটি ফুল ফুটেই ঝড়ে যায়। যেহেতু এ গাছ ওষুধি গুণাগুণসম্পন্ন ও ফুলটি দেখতেও অত্যন্ত সুন্দর এবং সুগন্ধিযুক্ত,তাই পরিবেশবান্ধব এ গাছটিকে প্রকৃতিতে টিকিয়ে রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব।




গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখালেন নলছিটির অংকন

বরিশাল অফিস :: দৈনিক যুগান্তরের নলছিটি প্রতিনিধি ও নলছিটি প্রেসক্লাব সভাপতি মো. এনায়েত করিমের ছেলে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী রাগীব শাহরিয়ার অংকন গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড করেছেন।

(Guinness World Record এ “The Most Football (Soccer) Toe Taps in one minute” category ) অর্থাৎ এক মিনিটে সর্বোচ্চ ২২০ বার ফুটবলে ট্যাপ করে তিনি এ রেকর্ড অর্জন করেছেন। যেটি আগে ছিলো ২১২।

মঙ্গলবার অংকন অফিসিয়ালি তার এ অর্জনের সার্টিফিকেট হাতে পেয়েছেন। এর আগে তার এ কৃতিত্বের জন্য গত ২০ ফেব্রুয়ারি গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড ওয়েবসাইটে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হয়।

অংকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন ডিজঅর্ডারস বিভাগে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র।

তার বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি পৌর শহরের হাই স্কুল সড়কে।মেধাবী অংকনের এ ব্যতিক্রমি অর্জনে নলছিটিবাসী ও তার সহপাঠীরা তাকে ফোনে ও ফেসবুকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ।

এ ব্যাপারে রাগীব শাহরিয়ার অংকন জানান, এ রেকর্ড গড়তে পারায় আমি অত্যন্ত খুশি। এজন্য আমি দীর্ঘদিন অনুশীলন করেছি। দৃঢ় প্রচেষ্টা ও অনুশীলনে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করছেন।




দুমকিতে জেলেদের চাল আত্মসাৎকারী চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দুমকিতে জেলেদের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফ-এর ১৭ টন সরকারি চাল আত্মসাৎকারী আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা শুক্কুর মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তারা এই দাবি জানায়। দুপুরে দুমকি জনতা কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে বাজার, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

মিছিল ও সমাবেশে চাল আত্মসাতের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানোসহ অভিযুক্ত চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা শুক্কুরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়া হয়।

আরো পড়ুন : বাউফলের শতাধিক স্থানে হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক

শ‌নিবার (২৯ জুন) রাত সা‌ড়ে ১০টার সময় দুমকি থানা পু‌লি‌শের সহায়তায় উপ‌জেলা নির্বা‌হী অফিসার মো. শা‌হিন আঙ্গারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা শুক্কুর মিয়ার বাড়ি থেকে সাড়ে ১৭ মেট্রিকটন চাল জব্দ ক‌রেন। এ ঘটনায় রোববার (৩০ জুন) বিকেলে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান তালুকদার বাদী হয়ে দুমকি থানায় একটি মামলা করেন।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারেক মো. আব্দুল হান্নান জানান, অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জারে চালু হলো মেটা এআই




বরিশালের মোস্তফার বানানো ‘বিমান’ চলছে পানিতে

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারের ওয়ার্কশপ মিস্ত্রি গোলাম মোস্তফা। দুই বছরের বেশি সময় ব্যয় করে তিনি তৈরি করেছেন অভিনব এক বাহন। যা দেখতে অনেকটা বিমানের মতো। দূর থেকে বিমান মনে হলেও এটি আসলে অবসর কাটানোর নৌযান। নাম সুবর্ণা এক্সপ্রেস-২।

প্রকৌশল শাস্ত্রে গোলাম মোস্তফার কোনো একাডেমিক জ্ঞান নেই। ওয়ার্কশপে কাজ করতে গিয়েই যতটুকু শিখেছেন। লোহা-লক্করের সঙ্গেই তার বন্ধুত্ব প্রায় ২৭ বছরের। অজোপাড়া গাঁয়ের এই মিস্ত্রি গতানুগতিক কাজে যখন হাঁপিয়ে ওঠেন তখন নিজের মতো করে নতুন কিছু তৈরি করেন। কখনো কৃষকের জন্য, কখনো জেলের জন্য, কখনো নিছক আনন্দের জন্য।

বিশারকান্দিতে গোলাম মোস্তফার চেয়ে মোস্তফা ফিটার বা ফাইন্ডার নামেই বিখ‌্যাত তিনি। ইঞ্জিনের দক্ষ মেকানিককে ফিটার বা ফাইন্ডর বলা হয়।

গোলাম মোস্তফা বলেন, আমরা গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ। চাইলেইতো আর বিমানে উঠতে পারতেছি না। বিমানে ঘুরে বেড়ানো ব্যয়বহুল। অনেক টাকা-পয়সা দরকার। অত টাকা আমি পাব কোথায়? চিন্তা করলাম বিমানে উঠার সক্ষমতা না থাকলেও নিজে একটা বিমানে তৈরি করি। যেটি নদীতে চলবে। নিজেও চড়তে পারলাম আর লোকজন বলবে বিমান আসছে। একেবারেই খেয়ালখুশিতে এটি তৈরি করেছি।

তিনি বলেন, এক সময় আমি অন্যের ওয়ার্কশপে কাজ করতাম। এখন চৌমুহনী বাজারে নিজের ওয়ার্কশপ আছে। কাজের চাপ না থাকলে স্টিল বা লোহা দিয়ে নিজের মনের মতোই কিছু তৈরি করি। এর আগে স্টিলের লাঙল বানিয়েছি। সাধারণত কৃষকরা ভালো ও মজবুত লাঙলের সংকটে থাকেন। তাছাড়া বছরে বছরে কাঠের লাঙল বদলাতে হয়। স্টিলের লাঙল দীর্ঘস্থায়ী। ধারালো হওয়ায় সহজেই গভীরভাবে জমি চাষ করা যায়।

গোলাম মোস্তফা বলেন, দক্ষিণাঞ্চল নদী প্রধান হওয়ায় নৌকা এখনো জনপ্রিয় পরিবহন। কিন্তু দেখা যায় অধিকাংশ নৌকা কয়েক বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। নৌকা যদি কাঠের বডি না হয়ে লোহার বডি হয় তাহলে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। এই কথা চিন্তা করে আমি লোহার নৌকাও তৈরি করেছি।

তিনি বলেন, অনেক অঞ্চলে ধানের জমিতে পানির উচ্চতা বেশি হওয়ায় সাধারণ ট্রাক্টর চাষ দিতে পারে না। সঠিক সময়ে চাষ না দিলে ফসল উঠাতেও দেরি হয়। ভালো ফসলও পাওয়া যায় না। নিম্নাঞ্চলের কথা চিন্তা করে আমি ভাসমান ট্রাক্টর বানিয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় নদীর প্লেন তৈরি করি। ২০২২ সালে মাথায় চিন্তা আসে বিমান বানালে কেমন হয়? কিন্তু আকাশে উড়তে পারবে এমন বিমানতো আমার দ্বারা বানানো সম্ভব না। বিকল্প হিসেবে বায়ুর জগত বাদ দিয়ে পানির জগতে বিমান তৈরির পরিকল্পনা করি। একটু একটু করে প্রায় দুই বছর কাজ করে বিমানটির কাজ শেষ করি। প্রথমে মানুষ অনেক প্রশ্ন করতো, কী বানাচ্ছি? পূর্ণাঙ্গ করার আগ পর্যন্তও মানুষ ধারণা করতে পারেনি আসলে কী হচ্ছে। বিমানটি চলাচল উপযোগী করতে দুই লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমি মনে করি সঠিকভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আমি মানুষের উপকারে আসে এমন টেকসই বাহন উদ্ভাবন করতে পারব।

১৮ জন যাত্রী নিয়ে ২৪ ঘণ্টাই নৌপথে চলাচলের সক্ষমতা রয়েছে গোলাম মোস্তফার বিমানের। ইঞ্জিনচালিত এই বাহনটি এখন পর্যন্ত নিজেই পরিচালনা করছেন তিনি। সদ্য সমাপ্ত বানারীপাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে উড়োজাহাজ প্রতীকের ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী তার প্রচারণায় মোস্তফা ফিটারের তৈরি বাহনটি ব্যবহার করেন।

বাইশারী ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নান্না তালুকদার বলেন, মরিচবুনিয়ার বাসিন্দা মোস্তফার বানানো নদীর বিমানটি এলাকায় খুবই জনপ্রিয়। অনেকেই বিমানটি দেখতে আসে। চড়ে ঘুরে বেড়াতে আসে। মোস্তফা গ্রামের ছেলে হলেও তার মধ্যে উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা আছে। এর আগে আরও কয়েকটি জিনিস উদ্ভাবন করেছিল, যা উপকারী।




ঝালকাঠিতে জমে উঠেছে লেবুর ভাসমান হাট

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভিমরুলীর ভাসমান লেবুর হাট চলতি মৌসুমে জমে উঠেছে। প্রতিদিন এখানে লাখ লাখ লেবু কেনাবেচা হচ্ছে। পাইকাররা নৌকা থেকে লেবু কেনে গাড়িতে করে বরিশাল আড়তে নিয়ে বিক্রি করছেন। অনেকে আবার মালবাহী ট্রলার বা ট্রাকে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন জেলায়।

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, এ বছর ঝালকাঠি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ৯২ হেক্টর জমিতে লেবুর চাষ করা হয়েছে। অনাবৃষ্টির কারণে লেবুর ফলন প্রতি বছরের চেয়ে এ বছর কম হলেও কৃষকরা ন্যায্য দাম পেয়ে খুশি। দেশীয় সুগন্ধিযুক্ত কাগজিলেবু ছোট হলেও ভেতরে পর্যাপ্ত রস থাকে। ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই লেবুর প্রতি সবারই কম-বেশি আকর্ষণ আছে। লেবুচাষিদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গাছের পরিচর্যাসহ সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতি বছরের মতো এ বছরও ৩ কোটি টাকার বেশি বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝালকাঠি জেলার ২২টি গ্রামের ৯২ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সুগন্ধি কাগজিলেবুর। ভিটামিন-সি যুক্ত রসাল এই লেবুর ঘ্রাণে মাতোয়ারা আশপাশের এলাকা। বাজারে বিভিন্ন জাতের লেবু ১২ মাস পাওয়া গেলেও মৌসুমি এ কাগজিলেবুর চাহিদাই বেশি। সদর উপজেলার কৃষি অঞ্চলখ্যাত কীর্তিপাশা, নবগ্রাম ও গাভারামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ২২টি গ্রামেই কাগজিলেবুর উৎপাদন হয়। গ্রামীণ হাট-বাজারে বিক্রি হলেও মূল মোকাম ভিমরুলী।

ফরমালিন ও কেমিক্যালমুক্ত রসাল সুগন্ধি কাগজিলেবু সবার কাছেই প্রিয়। ঝালকাঠির বাউকাঠি, শতদশকাঠি, ভিমরুলী, কাফুরকাঠি, আটঘর, গাভারামচন্দ্রপুর, পোষণ্ডা, ডুমুরিয়া, খেজুরা, কীর্তিপাশা, মিরাকাঠিসহ ২২টি গ্রাম এখন লেবুর ঘ্রাণে মাতোয়ারা। প্রতিদিন এসব গ্রামের কৃষকরা গাছ থেকে লেবু সংগ্রহ করে নৌকায় ভিমরুলী বাজারে নিয়ে আসেন। অপেক্ষমাণ পাইকাররা ট্রলারে বসেই লেবু কেনে নেন।

সরেজমিন আলাপ হয় স্থানীয় লেবুচাষিদের সঙ্গে। এ সময় তারা জানান, জলবায়ু পরিবর্তনে অনাবৃষ্টির কারণে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন কম হওয়ায় দাম বেশি। গত বছর ১ পোন (৮০টি) লেবু ছিল আড়াইশ টাকা। এবার তা ৪শ টাকা। গ্রামের কৃষকরা সজ্জন পদ্ধতিতে (কাঁদি কেটে) লেবু চাষ করছেন। একেকটি কাঁদি ১শ থেকে ১১০ হাত লম্বা এবং ৭-৮ হাত চওড়া হয়। প্রতিটি কাঁদিতে ২২ থেকে ২৫টি গাছ লাগানো যায়। এ রকম ১ বিঘার কাঁদিতে লেবু চাষ করতে খরচ হয় ৫০ হাজার টাকা। ফল ধরার পরে প্রতি বছর লেবু বিক্রি করে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পাওয়া যায়। সে হিসাবে লেবু বিক্রি করে প্রতি বছর কৃষকরা আয় করছেন দেড় থেকে ৩ কোটি টাকা।

লেবুর পাইকারি ব্যবসায়ী রহমান জানান, পটুয়াখালী থেকে মালবাহী ট্রলার এলে সেই ট্রলারে পটুয়াখালী মোকামে পাঠানো হয়। ওখানের কাঁচামাল বিক্রেতাদের সঙ্গে আগেই চুক্তি করা থাকে। কেনা দামের ওপর লাভ রেখে বিক্রি করা হয়। স্থানীয় পাইকাররা জানান, তীব্র গরমের কারণে ঘেমে মানুষের শরীর দুর্বল হয়। জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হলে লেবুর শরবত পান করলে আরোগ্য লাভ করা যায়। তাই কাগজিলেবুর চাহিদা বরাবরই বেশি। তবে অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার চাহিদা অনেকগুণ বেশি। এ জন্য কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্যমূল্য দিয়েই লেবু কেনে নেওয়া হচ্ছে। ভালো মানের একেকটি লেবুর ক্রয় মূল্যই হচ্ছে ৫ টাকা যা খুচরা বাজারে ৭-৮ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। প্রতি বছরই লেবুর চাহিদা থাকে। কিন্তু এ বছর চাহিদা অনেক বেশি।

কথা হয় লেবুচাষি বশিরের সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, ঝালকাঠির কাগজিলেবুর কদর সবার কাছেই সমান। ফলন ধরার পর দুভাবে লেবু বিক্রি করে থাকি। প্রথমত স্থানীয় ভিমরুলী বাজারে পাইকারদের কাছে। এ ছাড়া গাছে ফল আসার পর পাইকারদের কাছে বাগান বিক্রি করি এককালীন নগদ টাকায়। ভিমরুলী থেকে নৌকা বা ট্রলারে করে পাইকাররা কেনে তা সরবরাহ করেন ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, ফরিদপুর, মাদারীপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।




রাজার কন্যার অন্ধত্ব ঘোচাতে দিঘি খনন, দেখে আসবেন যেভাবে

বরিশাল অফিস :: প্রতিদিন হাজারো মানুষের সুখ-দুঃখ কিংবা অবসরের সঙ্গী হয় এই দিঘি। কেউ পাড়ে বসে জমিয়ে দিয়েছে আড্ডা, কেউ বড়শির শিকারে একের পর এক তুলে আনছেন বড় বড় মাছ, কেউ বা শরীর চর্চায় ব্যস্ত। দিঘির শীতল পানিতে নিজেকে চুবিয়ে রাখতেও এই দিঘি অনন্য। বলা হচ্ছে ফেনী শহরের ‘মধ্যমণি’ রাজাঝির দিঘির কথা। যেটির আছে সমৃদ্ধ ইতিহাস এবং লোকমুখে প্রচলিত নানা মিথ।

রাজাঝির দিঘি ফেনীর কয়েকশ’ বছরের ঐতিহ্য। জেলার জিরো পয়েন্টে ও ফেনী ট্রাংক রোডের সংযোগস্থলে এটি অবস্থিত। এ দিঘিটি ফেনীর শতবর্ষের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানের একটি। এত বছরেও দিঘির স্বচ্ছ জল রূপ-সৌন্দর্য্য আজও কিছুটা ধরে রেখেছে।

জনশ্রুতি আছে, ত্রিপুরা মহারাজের একজন রাজার কন্যার অন্ধত্ব দূর করার মানসে এ দিঘি খনন করেন। স্থানীয় ভাষায় কন্যাকে ঝি বলা হয় তাই দিঘিটির নামকরণ করা হয় ‘রাজাঝির দিঘি’। ফেনী অঞ্চলের মানুষ কন্যাকে আঞ্চলিক ভাষায় ঝি বলে থাকে। ফলে দিঘিটি খননের পর থেকেই রাজাঝির দিঘি বা রাজনন্দিনীর দিঘি নামে পরিচিত হয়ে উঠে।

ফেনীর প্রথম মহকুমা প্রকাশক কবি নবীন চন্দ্র সেন তার ফেনীর কথা বইতে (১৮৭৬) লিখেছেন, শোনা যায়, ফেনীর এই দিঘির জল এত চমৎকার ছিল যে, জনৈক ব্যক্তির পরিবার ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে কঙ্কালসার হয়েছিলেন, এবং এই দিঘির জল পান করে আরোগ্য লাভ করেছিল। ফেনীর বিভিন্ন গ্রামের ও ট্রাংক রোডের শত শত মানুষ এই দিঘির জল পান করিত। উহা ফেনীর জীবন ও শোভা, এমন বলিলেও হয়।

১৮৭৫ সালে ফেনী মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হলে তার সদর দফতর গড়ে তোলা হয় এই রাজাঝির দিঘির পাড়ে। তবে ১৯৮৪ সালে ফেনী জেলা হওয়ার পর অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। তবে কিছু ভবন এখনও পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে রয়েছে। দিঘির পাড়ে বর্তমানে ফেনী সদর থানা, ফেনী কোর্ট মসজিদ, অফিসার্স ক্লাব, ফেনী রিপোর্টাস ক্লাব, জেলা পরিষদ পরিচালিত শিশু পার্কসহ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন রয়েছে।

জনসাধারণের বিনোদন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলাফেরার সুবিধার জন্য রাজাঝির দিঘির দুই পাশে কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। দিঘির পাড়ের নিচে চলাফেরার সুবিধার জন্য রাস্তা, দিঘিতে নামার জন্য উন্নতমানের সিঁড়ি, মাঝে মাঝে খালি জায়গায় বৃক্ষ রোপণ, বসার জন্য বেঞ্চ স্থাপনসহ পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

দিঘির জল যাতে সবাই স্পর্শ করতে পারে, সেইজন্য তিন পাশে পাঁচটি সিঁড়ি হয়েছে। দিঘিতে ময়লা আবর্জনা যাতে বৃষ্টির পানির সঙ্গে মিশে গড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য চারপাশ উঁচু করা হয়েছে। বর্তমানে দিঘির পানি পানের ও ব্যবহারের উপযোগী।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী যেকোনো পরিবহণের বাসে ফেনীর মহিপাল যাওয়া যায়। তবে স্টার লাইন পরিবহণ সবচেয়ে ভালো। মহিপাল বাস ষ্ট্যান্ড থেকে রিকশা বা সিএনজি ভাড়া করে রাজাঝির দিঘি পৌঁছাতে পারবেন। এছাড়া চট্টগ্রামগামী ট্রেনে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে এসে একইভাবে রাজাঝির দিঘি দেখতে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

ফেনী শহরের অবস্থিত আবাসিক হোটেলের মধ্যে বেস্ট ইন হোটেল, হোটেল মিড নাইট এবং হোটেল গাজী ইন্টারন্যাশনাল অন্যতম। এছাড়া অনুমতি নিয়ে ফেনী সার্কিট হাউস, ফেনী জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, এলজিইডি রেস্ট হাউস, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউস এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রেস্ট হাউসে রাত্রিযাপন করতে পারবেন।




শিক্ষকতার পাশাপাশি ছাদ বাগান করে সফল শামীম

বরিশাল অফিস :: বর্তমানে সারাদেশে ফসিল জমি কমছে বাড়ছে বসতি। তাই অল্প জায়গায় অধিক ফল-ফসল উৎপাদন করা যায় তা নিয়ে সরকারের নানা উদ্যেগ রয়েছে। তাই দেশের বিভিন্ন শহরে বড় বড় বিল্ডিংয়ের বাড়ির ছাদে বাগান করতে ঝুঁকেছন বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।

বেশিরভাগ বাড়ির ছাদের দিকে তাকালেই বিভিন্ন ধরনের ফল ও সবজির বাগান দেখা যায়। যেসব বাগান দেখা যায়, তার বেশিরভাগ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠেছে। পরিকল্পিতভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে বাড়ির ছাদে যেকোনো গাছ, এমনকি শাকসবজিও ফলানো সম্ভব। এসব বাগান করে সফলতাও পাচ্ছেন অনেকে। শখ থেকে হয়ে উঠছে বাণিজ্যিক চিন্তাধারাও।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের সুবিদখালী বাজার এলাকায় এম. শামীম আহমেদ নাসিরের ভবনের ছাদে নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলা অরিজিনাল থাই ড্রাগন লাল, সাদা, হলুদ তিন প্রজাতির গাছ। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির আমগাছ, আম্রপালি, হাঁড়িভাঙ্গা, বারোমাসি পেয়ারা ইত্যাদি এবং বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি শাক সবজি রয়েছে।

তবে নানান জাতের ফল, ফুল ও সবজির বাগান দেখতে ওই ছাদে ভিড় করছেন অনেকে। তিনি পেশায় একজন আদর্শ শিক্ষক। তিনি উপজেলার ৩৫ নম্বর এন এস আমড়াগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক এবং বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মির্জাগঞ্জ উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। তার ছাদ বাগান দেখে এলাকার অনেকেই ছাদ বাগান করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

শামীম আহমেদ পেশায় একজন শিক্ষক হলেও বাগান করার প্রতি তার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। ছোটবেলায় বাড়ির আঙ্গিনা কিংবা আশপাশ যেখানে জায়গা পেতো সেখানেই তিনি বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা রোপন করতেন। ছোটবেলার শখকে তিনি একটি মডেল হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নিজ বসতবাড়ির আঙ্গিনায় কিংবা আশপাশ তেমন ফসলি জায়গা না থাকায় ছাদে দু’একটা গাছা লাগিয়ে বাগান করা শুরু করেন। নিজ বসতবাড়ির তিনতলা ভবনের ছাদকে এখন তিনি জীবন্ত বাগানে পরিণত করেছেন। ছাদের কোথাও তিনি থাই ড্রাগন, কমলা, আম্রপালি, হাঁড়িভাঁঙ্গা, মাল্টা, বেদানা, লিচু, লেবু, বারোমাসি আমড়া, পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রকার ফলের গাছ লাগিয়েছেন। কোথাও আবার পেঁপে, বেগুন, শসা, লাল শাক, পালংশাক এবং মরিচা গাছ-সহ অনেক ধরনের সবজি গাছ লাগিয়েছেন। এছাড়াও আবার কোথাও হাসনাহেনা, গোলাপ, জবা, গাঁধা, রজনীগন্ধাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের গাছ লাগিয়েছেন। সবজি, ফল আর ফুলে ভরে গেছে ছাদের সমস্ত অংশ। দেখে বোঝার উপায় নেই এটি কোনো ছাদ, নাকি সবুজ ফসলের মাঠ। সব ধরনের সবজি ও ফল কীটনাশক ব্যবহার না করেই এবং জৈবসার ব্যবহার করে উৎপাদন করছেন আদর্শ শিক্ষক শামীম আহমেদ।

উৎপাদিত সবজি ও ফল নিজের পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত ফল ও সবজি আত্মীয় স্বজনের মাঝে বন্টন করেন বলেও তিনি জানান। শামীম আহমেদ শিক্ষকতা, ব্যবসা ও ছেলে-মেয়ের যত্ন নেয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত সময় তিনি বাগান পরিচর্যার কাজে ব্যবহার করেন।

শিক্ষক এম. শামীম আহমেদ নাসির জানান, ‘২০২০ সালের করোনাকালীন সময়ে বিদ্যালয়ে ছুটি থাকায় ড্রাগন ফলের গাছ লাগিয়ে ছাদ বাগান শুরু করি। ছোটবেলা থেকেই বাগান করা আমার শখ। আমার বাড়ির সাথে তেমন ফসলি জায়গা না থাকায় ছাদে বাগান করা শুরু করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং স্কুল থেকে ফিরে বিকালে এক ঘণ্টাব্যাপী করে বাগানের পরিচর্যার কাজ করি। বর্তমানে আমার ছাদ বাগানে ১০০টি অরিজিনাল থাই ড্রাগন (লাল, সাদা ও হলুদ) এই তিন ধরনের গাছ রয়েছে এবং এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির আমগাছ, আম্রপালি, হাঁড়িভাঙ্গা, বারোমাসি পেয়ারাসহ দুই শতাধিক গাছ রয়েছে ও বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি শাক সবজি রয়েছে।’

শামীম আরো বলেন, ‘শহরে ছাদ বাগানের কদর থাকলেও মফস্বল এলাকায় ছাদ বাগান তৈরী করার কেউ চিন্তাও করে না। কারণ এতে অনেক পরিশ্রম ও খরচও বেশি এবং তবে এখানে বাগান থাকেও নিরাপদ। কারণ এখানে গরু, ছাগল কিংবা মানুষের দ্বারা বাগানের ক্ষতি হওয়ার কোনোরকম সম্ভাবনা নেই। বেশিরভাগ অবসর সময়টা বাগানের মধ্যেই কাটিয়ে দিই।’

তিনি আরো জানান, ‘সৌন্দর্য পিপাসু ব্যাক্তি অনেকে বাগান দেখতে ছাদে আসেন এবং তাদের আমি ছাদ বাগান করার পরামর্শ দেই। অনেকে আমার বাগান দেখে উৎসাহিত হচ্ছেন। তবে আমার মতো মির্জাগঞ্জের সুবিদখালীতে আরো দু’জন ছাদ বাগান করে সফলতা পেয়েছেন।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: আবদু্ল্লা আল-মামুন জানান, শিক্ষকতার পাশাপাশি শামীম আহমেদের ন্যায় দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ছাদে বাগান করার দিকে গুরুত্ব দেয়া উচিৎ।’

উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে মির্জাগঞ্জে ছাদ বাগানের সংখ্যা বেড়েছে। কর্ম জীবনের পাশাপাশি ছাদ কৃষি করছেন অনেকে। পরিবারের পুষ্টি চাহিদা মিটাতে সহযোগিতা করেন ছাদ কৃষি। এ সকল কাজে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবাইকে নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে করে নিজে ও তার পরিবারসহ সমাজ উপকৃত হচ্ছে।




চানাচুর বিক্রেতা ‘মাইকেল জ্যাকসন’

বরিশাল অফিস :: কখনো গান গেয়ে কিংবা কখনো গানের তালে তালে নেচে মানুষকে বিনোদন দিচ্ছেন। সেজেছেন বিখ্যাত পপ স্মার্ট মাইকেল জ্যাকসনের অবয়াঅবে। চোখে সানগ্লাস, মাথায় লাল কাপড় পেচানো গোলাকার টুপি, পায়ে বুট জুতা। পরনে বেশ পরিপাটি মার্জিত পোষাক। ফুরফুরে মেজাজে ভোলার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে ফেরি করে চানাচুর বিক্রি করেন। স্মার্ট চানাচুর বিক্রেতা হিসেবে তার যতেষ্ট সুখ্যাতি রয়েছে। নিজস্ব পরিকল্পনায় মোটর বিশিষ্ট তিন চাকাওয়ালা একটি গাড়ি। প্রয়োজনে পায়ে চালানোর জন্য প্যাডেলও আছে। এসেসের তৈরী প্রয়োজনীয় বক্স, ঘটি-বাটি, চানাচুর গরম রাখার কয়লাবিশিষ্ট একটি বক্স, বিভিন্ন মশলার পট। গরম চানাচুরের সাথে পেয়াজ, শসা, কাঁচা মরিচ, গাজর, সরিষার তৈলসহ বিভিন্ন ধরনের মশলা ব্যবহারে চানাচুর স্বাদকে বাড়িয়ে তোলে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার উত্তর বাসস্যান্ডে এমন এক চানাচুর বিক্রেতাকে বাহারি গানে ডাকতে দেখা যায় ছোট ছোট সোনামনিদেরকে। নাম তার জুয়েল। বয়স ২৫ বছর। বাবা জসিম মিয়া ও মা রহিমা বেগম। তিনি ভোলা ও বোরহানউদ্দিনের মধ্যেখানে খায়ের হাট বাজারের পাশেই গাড়িঘাটায় বসবাস করেন। কিছুক্ষণ পর বিভিন্ন পেশার মানুষদেরও ভিড় লক্ষ্যে করা যায় তার চারপাশে। ক্রয় করেন স্বাদে গুণে অনন্য ঘটি গরম চানাচুর।

স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষক মাও: আবদুল করিম বলেন, ‘বিভিন্ন সবজি, মশলা ব্যবহার করার কারণে এই চানাচুর স্বাদ হয়।’হোটেল ব্যবসায়ী আলী আকবর, কার ড্রাইভার মো: জিয়াউল হক, বীকন ফার্মার প্রতিনিধি মো: ইলিয়াছসহ সবাই একই মতামত দেন।

একান্ত আলাপচারিতায় জুয়েল নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘আমি আগে হোটেলে কাজ করতাম। একদিন ইউটিউবে মাইকেল জ্যাকসনের একটি গান দেখি। সেই থেকে আমি তার ভক্ত। আমার সারাদিনে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার চানাচুর বিক্রি হয়। দুই হাজার টাকা লাভ হয়। আমি অনেক পরিশ্রম করি। আমি পাঁচ বছর ধরে চানাচুর বিক্রি করছি। আমাদের পরিবারের ৬ সদস্যর সংসার চলে এর ওপর। আমাদের নিজস্ব কোনো সম্পত্তি ছিল না। কিছুদিন আগে আমরা দুই লাখা টাকায় তিন শতক জমি ক্রয় করি এই ব্যবসা থেকে।’

বিয়ের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ব্যবসা নিয়ে মানুষ হাসাহাসি করে। তখন আমি লজ্জা পাই। কর্ম করে খাচ্ছি, চুরি-ডাকাতি তো করছি না। ভবিষ্যতে একটি দোকান নেয়ার ইচ্ছা আছে।’