১০২ মিনিটে মোশাররফ করিমের অজানা গল্প

দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে এসে চলচ্চিত্র ও নাটকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্কুলজীবন থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া, শিশুশিল্পী হিসেবে যাত্রাপালায় অভিনয়—এসবই তাঁর অভিনয় জীবনের প্রারম্ভ। ঢাকায় এসে থিয়েটারে নিয়মিত চর্চা, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠা তাঁকে শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত পডকাস্ট ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’–এর বিশেষ পর্বে মোশাররফ করিম জীবনের অজানা অধ্যায় ও সংগ্রামের গল্প বলেছেন। মাছরাঙা টেলিভিশন ও রেডিও ৯৩.৬ এফএমে রাত ৮টায় প্রচারিত হবে ১০২ মিনিটের এই পর্ব।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার নিয়ে মতামত:
২০১৮ সালে ‘কমলা রকেট’ চলচ্চিত্রে ‘মফিজুর’ চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ কৌতুক অভিনেতা হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হয়েছিল। তবে মোশাররফ করিম প্রধান চরিত্রে অভিনয় করলেও কৌতুক অভিনেতা ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়ে তা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেন। এই প্রসঙ্গে তিনি পডকাস্টে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

রান্নার দক্ষতা:
হালকা মেজাজে অভিনেতা জানান, তিনি রান্নায় শুধু ডিম ভাজতে পারেন। ভাপে ডিম রান্না শিখলেও দুইদিন পর ভুলে গেছেন।

শৈশব ও থিয়েটার জীবন:
স্কুলজীবনে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত প্রতি বৃহস্পতিবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতেন মোশাররফ করিম। অল্প বয়সে যাত্রাপালায় অভিনয়ও করেছেন। ঢাকায় এসে থিয়েটারে যুক্ত হয়ে গুরুদের কাছ থেকে শেখেন—“শিল্পী হতে চাইলে আগে সৎ মানুষ হতে হবে।”

সোশ্যাল মিডিয়া ও দায়িত্বশীলতা:
সোশ্যাল মিডিয়ায় দায়িত্বহীন আচরণ নিয়ে তিনি বলেন, “অনেকে যাচাই না করে অনেক কিছু লিখে ফেলেন। পরে দেখা যায়, সেগুলোর অনেকটাই ভুল।”

পুরো ১০২ মিনিটের এই পর্বে জীবনের নানা অধ্যায়, চিন্তা ও অনুভূতি অকপটে তুলে ধরেছেন মোশাররফ করিম।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




উৎপত্তিস্থলে তীব্রতা ছিল বেশি, ফেটে গেছে মাটি-সড়ক

‘এক ভয়ংকর সময়। এমন ঝাঁকুনি আর দেখিনি। ঘরের দেয়াল কয়েক স্থানে ফেটে গেছে। বাইরে বের হতে গিয়ে স্বামী গুরুতর আহত হয়েছে। এখনও মনে হলে শরীর কাঁপে।’ এসব কথা বলেন নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ওয়াপদা গেট এলাকার গৃহবধূ সামসুন নাহার মলি। গতকাল শুক্রবার সকালে আঘাত হানা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল এই জেলা।

দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল নরসিংদীর মাধবদীতে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসজিএস বলছে, কেন্দ্রস্থল নরসিংদী সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিণ পশ্চিমে।

গুগল ম্যাপ অনুযায়ী, কেন্দ্রস্থল পলাশ উপজেলার ডাংগা গ্রাম। স্থানটি শীতলক্ষ্যা নদীর পারে। এটি পলাশ উপজেলার অধীন ঘোড়াশাল পৌর শহরের কাছাকাছি। মাধবদীও পলাশ উপজেলার পাশে।
গতকাল দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, ভূমিকম্পে পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় ফাটল দেখা দিয়েছে। কাছাকাছি একটি গরুর খামারের মাটি ফাঁকা হয়ে গেছে। অনেক ভবনে দেখা দিয়েছে ফাটল। হেলে পড়েছে বহুতল ভবন। ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কিছু যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়েছে। আগুনও ধরেছিল। শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর পুরোনো রেলসেতুতে ফাটল দেখা দিয়েছে। দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন।

ডাংগা-কালীগঞ্জ খেয়াঘাটের মাঝি সুবাদ ভৌমিক জানান, ভূমিকম্পের সময় নদীর পানি অনেক ওপরে উঠে প্রচণ্ড ঢেউ তুলেছিল। ভয় পেয়েছিলাম। অনেকক্ষণ পর বুঝতে পেরেছি, ভূমিকম্প হয়েছে। তবে আমার জীবনে এমন কম্পন এটাই প্রথম।

ডাংগা প্রাণ-আরএফএল কারখানার পাশে ইসলামপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী ফয়সাল বলেন, ‘আমরা প্রথমে বুঝতে পারিনি। মনে করেছিলাম, বাইরে কোনো ভারী লরি যাচ্ছে। পরে দেখি পাশের কারখানার সব ভবন কাঁপছে। শ্রমিকরা মুহূর্তে বাইরে বের হয়ে আসেন। তেমন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ভয়ে কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।’

পলাশ রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের পাশের দোকানদার ফজলু মিয়া বলেন, ভূমিকম্পের সময় হঠাৎ বিকট শব্দে মাটিসহ সব কাঁপতে থাকে। কিছুক্ষণ পরই কলেজের গেটের ভেতর মাটি সরে গিয়ে ফাটল দেখতে পাই। এমন ঘটনা আর কোনোদিন দেখিনি।

ওয়াপদা গেট-সংলগ্ন নূর নবী সানির স্ত্রী তামান্না বলেন– বলে বোঝানো যাবে না, কেমন ছিল ওই সময়টা। বাচ্চাদের নিয়ে নিচে নামার সুযোগ পাইনি। শুধু আল্লাহকে ডেকেছি। এ সময় আমার ঘরে থাকা ফ্রিজ, টিভিসহ ঘরের আসবাব ভেঙে যায়।

শিশু আয়ান জানায়, সে খুব ভয় পেয়েছে। এখনও ভয় পাচ্ছে– যদি আবার এমন হয়!
ঘোড়াশাল মিয়াপাড়া গ্রামের প্লে শ্রেণিপড়ুয়া মুনতাসির আয়াত বলে, আমি ভয়ে কেঁদেছি। ঘরের ভেতর বই-খাতাসহ সবকিছু নিচে পড়ে গিয়েছিল। মা-বাবা আমাকে নিয়ে দৌড়ে বাইরে বের হয়েছিল।
ঘোড়াশাল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানের তাকে রাখা মালপত্র নিচে পড়ে আছে। সবার চোখেমুখে আতঙ্ক। জুতা দোকানি আলম মিয়া বলেন, আমার দোকানে জুতাসহ বিভিন্ন ধরনের মালপত্র ছিল। ভূমিকম্প শুরু হলে সবকিছু পড়ে গিয়ে আসবাব ভেঙে গেছে।

এই বাজারের মুদি দোকানদার আসলাম মিয়া বলেন, কাচের মালপত্র সব ভেঙে গেছে। প্রথমে মনে হয়েছে, কেউ হামলা করেছে। পরক্ষণে বুঝতে পেরেছি, এটি হামলা নয়; ভূমিকম্প। বেশ ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছি।

বাজার ঈদগাহ সড়কে মারকাসুল সুন্নাহ তাহফিজুল কোরআন সুন্নাহ মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি সালাউদ্দিন আনসারী বলেন, আমাদের ছয়তলা ভবনের চার-পাঁচ জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়েছে; আতঙ্কিত ছিল।

এ ভবনের মালিক আমানউল্লাহ বলেন, ভূমিকম্পে আমার ভবনে কয়েক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। দোকানপাট বন্ধ। কেউ ভয়ে দোকান খুলছে না।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন ঘোড়াশাল বাজারের ছয়তলা ভবনের এসএ প্লাজার নিচতলার মোবাইলের দোকানদার মোবারক হোসেন। তিনি বলেন, হঠাৎ সব কাঁপাকাঁপি শুরু করে। মনে হলো, সব ভেঙে পড়ছে। আমরা সবাই বাইরে বের হয়ে পড়ি। তিনি আরও বলেন, মার্কেটের ওপরতলা থেকে নারী-পুরুষ দৌড়াদৌড়ি করে নিচে নামার সময় অনেকে সিঁড়িতে পড়ে যান। কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গেছে অনেককে।

বাজারের আল জিলানী মার্কেটের তিনতলার রেলিং ভেঙে পড়ে পাশের মুরগির খাদ্যের দোকানের ওপর। দোকানি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পুরো দেয়ালটা আমার দোকানের ওপর পড়ে। দোকানটা তছনছ হয়ে যায়। আমি কীভাবে বেঁচে গেলাম, এক আল্লাহ জানে। কাঁপুনি ও ঝাঁকুনি ছিল ভয়াবহ।’
আরটিভির জেলা প্রতিনিধি নূরে আলম রনি জানান, তিনি সকালে পলাশের বাসায় ছিলেন। হঠাৎ কাঁপুনি শুরু হলে দোতলা থেকে বাচ্চাকে নিয়ে বের হওয়ার সময় সিঁড়িতে পড়ে মুখে আঘাত পান। পরে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পলাশের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা পরিদর্শন করেছি। সরকারি খাদ্যগুদামের ভেতরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। দ্রুত চাল স্থানান্তর করতে হবে। ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য আমরা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছি। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।




ভোলায় নজরুল স্মৃতি সংঘে কবির আদর্শে তরুণদের প্রেরণা

মানবতার কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর লেখনীতে গেয়েছেন সাম্য, প্রেম, বিদ্রোহ ও মানবতার জয়গান। সেই চেতনা লালন করে ভোলাবাসী গড়ে তুলেছে “নজরুল স্মৃতি সংঘ”। চার দশকের বেশি সময় ধরে এ প্রতিষ্ঠানটি জেলার শিল্প-সাহিত্য চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে কাজ করছে।

ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপরীতে অবস্থিত “নজরুল স্মৃতি সংঘ” প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৮ সালে। সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন (রেজি. নং-২৩৬/৭৮) মূলত তরুণ প্রজন্মকে কবি নজরুল ইসলামের সাহিত্য ও জীবনদর্শনে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করছে।

সংগঠনের তত্ত্বাবধায়ক আলহাজ্ব মো. রাইসুল আলম জানান—
“জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের নীতি-আদর্শকে শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ করছি। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তরুণদের উদ্যোগেই এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়।”

এ সংঘ নিয়মিত সাহিত্য পাঠচক্র, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৃক্ষরোপণ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড আয়োজন করে থাকে। প্রতিবছর শীতকালে আয়োজন করা হয় “নজরুল স্মৃতি সংঘ ডে-নাইট ক্রিকেট টুর্নামেন্ট”। এ আয়োজনে ভোলার তরুণরা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে অংশ নেয়।

কবি নজরুল ইসলামের সাহিত্যযাত্রায় ভোলার কৃতিসন্তান কবি মোজাম্মেল হকের অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর সম্পাদিত পত্রিকা মোসলেম ভারতবঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকায় নজরুলের প্রথম কবিতা ‘মুক্তি’ ও গল্প ‘হেনা’ প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক সম্পর্ক এখনো ভোলাবাসীর গর্বের বিষয়।

ভোলার শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ মো. জসিমউদ্দিন বলেন—
“ছাত্রজীবনে আমরা নজরুল স্মৃতি সংঘে কবির লেখা পড়ে বড় হয়েছি। নতুন প্রজন্মও এখানে এসে তাঁর চিন্তাধারায় সমৃদ্ধ হচ্ছে।”

সাংবাদিক মো. উমর ফারুক জানান—
“সরকারি সহায়তা পেলে নজরুল স্মৃতি সংঘকে পূর্ণাঙ্গ গবেষণাগারে রূপান্তর করা সম্ভব।”

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন—
“নজরুল স্মৃতি সংঘকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তরুণ প্রজন্মের কাছে কবির আদর্শ তুলে ধরা আমাদের দায়িত্ব।”

ভোলার এই নজরুল স্মৃতি সংঘ প্রমাণ করছে—জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেবল রাজধানী বা জাতীয় পরিসরেই নয়, বরং গ্রামীণ সমাজেও আজও সাম্য, মানবতা ও স্বাধীনতার প্রতীক হয়ে বেঁচে আছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালের ‘পিসার টাওয়ার’—হেলে থাকা ৩০০ বছরের মাহিলাড়া সরকার মঠ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া সরকার মঠ, যা স্থানীয়ভাবে সরকার মঠ নামে পরিচিত, দেখতে অনেকটা ইতালির পিসা টাওয়ারের মতো। প্রায় তিনশ বছরের পুরনো এই মঠ দক্ষিণ-পূর্ব কোণে হেলে রয়েছে। এটি শিখর মন্দির শিল্পের অপূর্ব নিদর্শন হিসেবে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

মঠের কোনো খোদাই করা লিপি না থাকলেও জানা যায়, নবাব আলীবর্দী খাঁ (১৭৪০-১৭৫৬) শাসনামলে স্থানীয় প্রভাবশালী রূপরাম দাশগুপ্ত মঠটি নির্মাণ করেছিলেন। মঠের ইতিহাস অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাতার মায়ের সমাধি স্থল মঠের ভিতরে থাকায়, মঠের দম্ভপূর্ণ মন্তব্যের পর থেকে এটি হেলে গেছে বলে জনশ্রুতি আছে। তবে মঠ সংলগ্ন বিশাল দিঘির কারণে কিছুটা হেলে যাওয়ার সম্ভাবনাকেও এড়িয়ে যায় না।

ভূপৃষ্ঠ থেকে মঠটির উচ্চতা প্রায় ২৭.৪০ মিটার। অষ্টভুজাকারে নির্মিত মঠটির প্রতিটি ভুজের দৈর্ঘ্য নিচে ১.৯১ মিটার, যা ক্রমে উপরের দিকে সরু হয়ে উঠে শিখরে গিয়ে শেষ হয়। মঠের অভ্যন্তরে একটি বর্গাকারে ছোট কক্ষ রয়েছে, প্রবেশপথ পশ্চিম দেয়ালে। কক্ষে দুই পাশে আড়াআড়িভাবে কমপক্ষে ৮ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশ রাখা আছে, যা নির্মাণকাল থেকেই রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

সরকার মঠটি বাংলাদেশ সরকারের সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে আছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় মঠের পলেস্তারা খসে পড়েছে এবং দক্ষিণ পাশের দিঘিতে পাইলিং না থাকায় ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সুধীর কুমার দাস (বীরপ্রতীক) জানিয়েছেন, “১০ বছর আগে মঠটি সংস্কার করা হলেও বর্তমানে বিভিন্ন স্থানের পলেস্তারা খসে পড়েছে। প্রাচীন নিদর্শনটি রক্ষার জন্য সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।”

সরকার মঠের সামনের দুর্গামন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার দাস বলেন, পর্যটকরা মঠটি পরিদর্শন করে খুশি হন, কিন্তু ওয়াশরুম, রেস্ট রুম বা বসার ব্যবস্থা না থাকায় তারা হতাশ হয়ে ফিরে যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানিয়েছেন, শিগগির প্রাচীন নিদর্শনগুলো পরিদর্শন করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সাপে কাটলে করণীয় : কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা জরুরি

বর্ষা মৌসুম এলেই বন্যার সাথে বেড়ে যায় সাপের উপদ্রব। শুধু গ্রামীণ অঞ্চল নয়, শহরেও এ সমস্যার প্রকোপ বাড়ে। এমনকি পাহাড়ি বা বনভূমিতে বেড়াতে যাওয়া মানুষও প্রায়ই সাপের দংশনে আক্রান্ত হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশে সাপে কাটার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সঠিক জ্ঞান না থাকায় অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি প্রাথমিক চিকিৎসা না পেয়ে বিপদের মুখে পড়েন।

সাপে কাটলে করণীয়

  • আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া সবচেয়ে জরুরি।

  • আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে আশ্বস্ত করতে হবে। বাংলাদেশে অধিকাংশ সাপই নির্বিষ।

  • আক্রান্ত অঙ্গ নড়াচড়া না করে স্থির রাখতে হবে। আধশোয়া অবস্থায় রাখা ভালো।

  • ক্ষতস্থানে চাপ প্রয়োগ করে কাপড় বা ব্যান্ডেজ দিয়ে বেঁধে দিতে হবে।

  • শ্বাস বন্ধ হয়ে গেলে কৃত্রিম শ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

  • দংশনের স্থান সাবান দিয়ে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

  • শরীরে থাকা গয়না, ঘড়ি বা তাবিজ খুলে ফেলতে হবে।

যেসব কাজ করা যাবে না

  • ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট করা যাবে না।

  • আক্রান্ত স্থানে ভেষজ ওষুধ, কাদা বা গোবর লাগানো একদমই ঠিক নয়।

  • মুখ দিয়ে বিষ টেনে বের করার চেষ্টা করা যাবে না।

  • কামড়ের স্থানে শক্ত করে বাঁধন দেওয়া যাবে না। এতে টিস্যু নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

  • ব্লেড বা ছুরি দিয়ে কাটা যাবে না।

  • অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো উচিত নয়।

  • রাসায়নিক পদার্থ বা সেঁক দেওয়া যাবে না।

  • জোর করে বমি করানোর চেষ্টা করা যাবে না।

সাপে কাটা রোগীর জীবন বাঁচাতে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। প্রচলিত ভুল ধারণা থেকে বিরত থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার সঠিক পদক্ষেপ নিলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দুনিয়ার যেসব জিনিস জান্নাতে থাকবে না

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: কোরআন ও হাদিসের আলোকে দুনিয়ার নেতিবাচক বা অপ্রীতিকর যেসব বিষয় জান্নাতে থাকবে না-

কোনো দুঃখ-কষ্ট বা শোক : জান্নাতে কোনো ধরনের মানসিক বা শারীরিক কষ্ট থাকবে না। তাই জান্নাতে কান্না, হতাশা, উদ্বেগ বা মানসিক অশান্তি থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তাদের কোনো ভয় থাকবে না এবং তারা দুঃখিত হবে না। (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ৬২)

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে কোনো কষ্ট বা ক্লান্তি অনুভব করবে না।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৮)

মৃত্যু বা অস্তিত্বের সমাপ্তি : জান্নাতে মৃত্যু থাকবে না; জান্নাতিরা চিরকাল বেঁচে থাকবেন। তাই দুনিয়ার মতো জান্নাতে মৃত্যুর ভয় বা অস্তিত্ব হারানোর চিন্তা থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা সেখানে চিরকাল থাকবে।(সুরা : বাইয়িনা, আয়াত : ৮)

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘জান্নাতে একটি ঘোষক ঘোষণা করবে, হে জান্নাতিরা, তোমরা চিরকাল বেঁচে থাকবে, কখনো মরবে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮৩৭)।

রোগ-ব্যাধি বা শারীরিক দুর্বলতা : জান্নাতে কোনো রোগ, ব্যথা বা শারীরিক দুর্বলতা থাকবে না। জান্নাতে মাথা ব্যথা, জ্বর, বার্ধক্য বা কোনো শারীরিক অক্ষমতা থাকবে না। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা কখনো অসুস্থ হবে না, বৃদ্ধ হবে না, এবং চিরকাল তরুণ থাকবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫৪৫)।

মল-মূত্র বা অপবিত্রতা : জান্নাতে মানুষের শরীর থেকে কোনো অপবিত্র জিনিস (যেমন—মল, মূত্র, ঘাম) বের হবে না।

জান্নাতে কোনো নোংরা বা অপ্রীতিকর গন্ধ থাকবে না; সব কিছু পবিত্র ও সুগন্ধময় হবে। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা যা খাবে, তা তাদের শরীর থেকে মেশকের মতো সুগন্ধি হিসেবে বের হবে।’

 

(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮৩৫)

হিংসা, শত্রুতা বা মনোমালিন্য : জান্নাতিরা একে অপরের প্রতি হিংসা বা শত্রুতা পোষণ করবে না। জান্নাতে কোনো মানুষের মধ্যে বিরোধ, কলহ বা মনোমালিন্য থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমরা তাদের হৃদয় থেকে সব বিদ্বেষ দূর করে দেব, তারা ভাইয়ের মতো মুখোমুখি বসবে।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪৭)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রথম যে দল জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মতো উজ্জ্বল আকৃতি ধারণ করে প্রবেশ করবে আর তাদের পর যারা প্রবেশ করবে তারা অতি উজ্জ্বল তারকার মতো রূপ ধারণ করবে। তাদের অন্তরগুলো এক ব্যক্তির অন্তরের মতো হয়ে থাকবে। তাদের মধ্যে কোনোরূপ মতভেদ থাকবে না আর পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৪৬)

ক্লান্তি বা পরিশ্রম : জান্নাতে কোনো ক্লান্তি বা শ্রম থাকবে না। দুনিয়ার মতো কাজের চাপ, শ্রম, বা ক্লান্তি জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে কোনো পরিশ্রম অনুভব করবে না।’ (সুরা : ফাতির, আয়াত : ৩৫)

অপূর্ণতা বা অভাব : জান্নাতে কোনো চাহিদা অপূর্ণ থাকবে না। দুনিয়ার মতো অভাব, ক্ষুধা, বা অপূর্ণ ইচ্ছা জান্নাতে থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা যা চাইবে, তাই পাবে, এবং আমার কাছে আরো বেশি আছে।’ (সুরা : কাফ, আয়াত : ৩৫)।

হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা যা চাইবে, তা তৎক্ষণাৎ পাবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৫০১)।

অশ্লীলতা বা অসৌজন্য : জান্নাতে কোনো অশ্লীল কথা বা আচরণ থাকবে না। জান্নাতে গালাগাল, অশ্লীলতা, বা অসৌজন্যমূলক কথাবার্তা থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে কোনো অশ্লীল বা মন্দ কথা শুনবে না, শুধু শান্তির কথা শুনবে।’ (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৬২)।

গোপনীয়তার অভাব : জান্নাতে কেউ কারো ব্যক্তিগত বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। সবাই নিজ নিজ গোপনীয়তা ও সম্মান উপভোগ করবে। দুনিয়ার মতো গোপনীয়তা লঙ্ঘন বা হস্তক্ষেপ জান্নাতে থাকবে না। হাদিসে এসেছে, ‘জান্নাতিরা তাদের প্রাসাদে থাকবে, একে অপরের সঙ্গে শান্তিতে থাকবে।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ২৫৫৯)

শয়তান বা প্রলোভন : জান্নাতে শয়তান বা তার প্ররোচনা থাকবে না। দুনিয়ার মতো শয়তানের ওয়াসওয়াসা বা পাপের প্রলোভন জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘শয়তান তাদের কাছে পৌঁছতে পারবে না।’ (সুরা : হিজর, আয়াত : ৪২)

গরম বা ঠাণ্ডার অস্বস্তি : জান্নাতে কোনো চরম আবহাওয়ার অস্বস্তি থাকবে না। জান্নাতে গরম, ঠাণ্ডা বা অস্বস্তিকর পরিবেশ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা সেখানে ছায়ার মধ্যে থাকবে এবং তাদের জন্য ফলমূল ও পানীয় থাকবে।’ (সুরা : মুরসালাত, আয়াত : ৪১-৪৩)

নিষিদ্ধ খাদ্য বা পানীয় : জান্নাতে হারাম খাদ্য বা পানীয় (যেমন—মদ, শূকরের মাংস) থাকবে না। তবে জান্নাতে হালাল ও পবিত্র পানীয় থাকবে, যা মদের মতো মনে হলেও হারাম নয়। জান্নাতে সব খাদ্য ও পানীয় পবিত্র, সুস্বাদু এবং হালাল হবে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা সেখানে পবিত্র পানীয় পান করবে, যা তাদের মাতাল করবে না।’ (সুরা : সাফফাত, আয়াত : ৪৫-৪৭)

অন্যায় বা জুলুম : জান্নাতে কোনো অন্যায়, জুলুম বা অবিচার থাকবে না। দুনিয়ার মতো শোষণ, অত্যাচার বা অবিচার জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘জান্নাতে কোনো অবিচার করা হবে না।’ (সুরা : মারয়াম, আয়াত : ৬০)।

জান্নাত এমন একটি স্থান, যেখানে শুধু সুখ, শান্তি ও পবিত্রতা থাকবে। হাদিসে এসেছে : ‘জান্নাতে এমন জিনিস আছে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হূদয় তা কল্পনা করেনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২৪৪)।




স্বীকৃতি বঞ্চিত মানতা নারীরা: যুগযুগ মাছ ধরা সত্ত্বেও নেই সরকারি তালিকায়

বরিশালের নদীবেষ্টিত অঞ্চলে যুগের পর যুগ নৌকায় ভেসে থেকে নদীতে জাল ফেলেই জীবিকা নির্বাহ করছেন মানতা সম্প্রদায়ের নারীরা। কিন্তু দীর্ঘ সময় মাছ ধরে জীবনের প্রতিটি দিন নদীর সঙ্গে কাটালেও এখনো সরকারি কাগজে কলমে তারা “জেলে” হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। ফলে সরকারি সহায়তা, ত্রাণ, ভিজিএফ চাল কিংবা স্বাস্থ্যসেবার কোনো সুবিধাই তাদের কপালে জোটে না।

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের তালতলী ভাঙার পার এলাকায় বাস করা শাহিদা বেগমের (৫৫) গল্প এর উদাহরণ। ছোটবেলা থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে নদীতে জাল ফেলে মাছ ধরলেও আজ অবধি তিনি জেলে হিসেবে নিবন্ধিত নন। ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, “৫৫ বছর ধইর‌্যা নদীতে মাছ ধরতেছি। কিন্তু মহিলা হইয়া মনে হয় জেলে হওয়া যায় না।”

একই অভিজ্ঞতার কথা জানান ছকিনা, ঝর্না, হালিমা সহ মানতা সম্প্রদায়ের শতাধিক নারী। তারা বলেন, জন্ম থেকে জীবনের প্রতিটি দিন নদীতে কাটলেও সরকার তাদের জেলে হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে ত্রাণ, ভিজিএফ কিংবা প্রণোদনা কিছুই পান না।

মানতা নারীদের নিয়ে কাজ করা সমাজকর্মী সাইদুর রহমান পান্থ জানান, বর্তমানে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে “এনহ্যান্সিং ইনফরমেশন অ্যান্ড ইনক্লুশন অব ফিশারফোক উইমেন, স্পেশালি দ্যা মানতা কমিউনিটি” প্রকল্পের আওতায় কিছু সীমিত আর্থিক সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে তা চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তার মতে, নারী জেলেদের স্বীকৃতি এখন সময়ের দাবি।

চন্দ্রদ্বীপ ডেভলপমেন্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক জাহানারা বেগম স্বপ্না বলেন, “নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে ৯৩ শতাংশ নারী জেলে নানা স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন। অথচ তাদের কথা প্রায় শোনা হয় না।” তিনি নারীদের সরকারি প্রণোদনা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কান্তি ঘোষ জানান, মাঠপর্যায়ে নারী মৎস্যজীবীদের তালিকাভুক্ত করার কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের নিবন্ধন দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে সব নারীকে সরকারি সহায়তার আওতায় আনা হবে।

দশকের পর দশক নদীতে নৌকায় ভেসে থাকা মানতা নারীদের দাবি—সরকারি স্বীকৃতি ও সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জুলাই জাগরণের দিনলিপি -৭ জুলাই

৩৬ জুলাইয়ের বাংলা ব্লকেডে সারাদেশ অচল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ‘বাংলা ব্লকেড’ নামের নতুন কর্মসূচিতে অচল হয়ে পড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। ৭ জুলাই, আন্দোলনের সপ্তম দিনে সারাদেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে যোগ দেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্ররা। দাবির কেন্দ্রে ছিল—সকল গ্রেডে বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য কোটা বাতিল করে যৌক্তিক সংস্কার এবং সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে চূড়ান্ত সমন্বয়।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “আমাদের চার দফা দাবি ছিল। এখন থেকে আমাদের দাবি একটাই—সব গ্রেডে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে যৌক্তিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে সংসদীয় আইনের মাধ্যমে।”

এদিন দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে কোটাপদ্ধতির যৌক্তিক সংস্কারের দাবি জানায় গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট। জোটের সমন্বয়ক রাগীব নাঈম বলেন, “রাজনৈতিক স্বার্থে মুক্তিযোদ্ধা কোটার অস্বাভাবিক বহাল যেমন বৈষম্য তৈরি করছে, তেমনি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কোটা বাতিলও সামাজিক বৈষম্য বাড়াবে।”

বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, সায়েন্স ল্যাব, নীলক্ষেত, চানখাঁরপুলসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বদরুন্নেসা কলেজ ও বোরহানউদ্দিন কলেজের শিক্ষার্থীরা পৃথকভাবে অবরোধে অংশ নেন। আগারগাঁওয়ে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেন বিকেল ৪টায়।

শিক্ষার্থীদের অবস্থানের ফলে রাজধানীতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে রাত ৮টায় তারা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে আপাতত সরে দাঁড়ান। নাহিদ ইসলাম জানান, “ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের মাধ্যমে অনির্দিষ্টকালের জন্য ছাত্র ধর্মঘট চলবে। বাংলা ব্লকেড কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে।”

এদিন রাজধানীর বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল ১১টায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দুই ঘণ্টা অবরোধ করেন। চট্টগ্রামে চবি ও বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা ২ নম্বর গেট মোড়ে অবস্থান নেন, পুলিশের বাধার মুখে পরিকল্পনা বদল করে সেখানে যান চলাচল বন্ধ করেন।

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কে, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে, এবং পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে অবস্থান নেন।

এছাড়াও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তাদের নিজ নিজ এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে অংশ নেন।

এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা জানান, যৌক্তিক সংস্কার ও সমন্বয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশনে বিআরটিএ’র নতুন নির্দেশনা, জালিয়াতি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা

মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি ও অনিয়ম রোধে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিআরটিএ সদর দপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কোনো আমদানি করা মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করা যাবে না।

গত ৩০ জুন বিআরটিএ’র পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) শীতাংশু শেখ বিশ্বাস স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। এতে দেশের সব সার্কেল অফিসকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সদর দপ্তরের অনুমোদন ব্যতীত রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, কিছু অসাধু আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসকেডি (সেমি নকড ডাউন) ও সিকেডি (কমপ্লিটলি নকড ডাউন) কনফিগারেশনে মোটরসাইকেল এনে সিবিইউ (কমপ্লিটলি বিল্ড ইউনিট) হিসেবে দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে নিচ্ছে। এমনকি ১৬৫ সিসির বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন বাইককে ১৬৫ সিসির কম দেখিয়ে কাস্টমস ও বিআরটিএ থেকে ছাড় করানোর চেষ্টা করছে।

এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে বিআরটিএ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ৩১ জুলাইয়ের পর থেকে সিবিইউ/এসকেডি অবস্থায় আমদানি করা মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন শুধুমাত্র সদর দপ্তরের অনুমোদিত চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বরের তালিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে। এ তালিকা বিআরটিএ আইএস (ইনফরমেশন সিস্টেম)-এ আপলোড করা হবে এবং সেখান থেকে যাচাই করে সার্কেল অফিসগুলো রেজিস্ট্রেশন প্রদান করবে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, এ নির্দেশনা অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশনার সঙ্গে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের অনুমোদনও রয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




গঙ্গামতি চর: কুয়াকাটার বুকে এক নিসর্গের জাদুকাব্য

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতের মাত্র ১০ কিলোমিটার পূর্বে বিস্তৃত গঙ্গামতি চর—একটি স্থান যেখানে সমুদ্রের গর্জন, লেকের শান্ত জলরাশি আর সবুজ বন মিলে সৃষ্টি করেছে এক অপার্থিব সৌন্দর্য। প্রকৃতিপ্রেমী আর ভ্রমণপিপাসুদের কাছে দিনদিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই চর, যেখানে প্রতিটি সকাল শুরু হয় সূর্যের স্নিগ্ধ আলো আর কাঁকড়ার রঙিন নৃত্যে।

সূর্যোদয়ে রঙিন এক নাট্যাভিনয়

গঙ্গামতির লালচে বেলাভূমিতে ভোরের আলো পড়তেই শুরু হয় কাঁকড়ার দৌড়ঝাঁপ। সূর্যোদয়ের মুহূর্তগুলো যেন ক্যানভাসে আঁকা কোনো শিল্পকর্ম। এই দৃশ্য দেখে পল্লীকবি জসিমউদ্দিনের কবিতার মাঠগুলো মনে পড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।

বনজীবনের জীবন্ত নিদর্শন

চরজুড়ে বিস্তৃত কেওড়া, গেওয়া, বাইন ও ছইলার বনে নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর বিচরণ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এখানে পাখির কলতান, বানরের লাফালাফি, শেয়ালের নিঃশব্দ পথচলা আর বুনো শুকরের মাটির নিচে কন্দ খোঁজার দৃশ্য সবই যেন প্রকৃতির নিজ হাতে আঁকা একটি ভ্রাম্যমাণ জাদুঘর।

লেকের হৃদয়স্পর্শী সৌন্দর্য

গঙ্গামতির লেক যেন চরটির প্রাণ। জোয়ার-ভাটার প্রভাবে প্রতিনিয়ত এর রূপ বদলায়। পর্যটকরা ট্রলার, ডিঙি নৌকা কিংবা হেঁটে এই লেক আর আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন। ভাটার সময় গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতা ও ফুল মিলে তৈরি করে অনন্য এক প্রাকৃতিক শিল্প।

যাতায়াতে সহজতা, অথচ উন্নয়ন নেই

কুয়াকাটা জিরোপয়েন্ট থেকে সহজেই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, অথবা ভ্যানে গঙ্গামতিতে যাওয়া যায়। ভাটার সময় যাওয়া যায় মাইক্রোবাসেও। তবুও পর্যটন সুযোগ-সুবিধার অভাবে এই চর এখনও অবহেলিত। নেই পর্যাপ্ত সড়ক উন্নয়ন, নিরাপত্তা কিংবা পরিচ্ছন্নতা।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক দম্পতি সাদমান ও সিলভি বলেন, “এটা যেন এক অন্য জগৎ। লেক, বন আর কাঁকড়া মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা ছিল অসাধারণ।”

ঘুমিয়ে থাকা সম্ভাবনার গন্তব্য

স্থানীয়দের মতে, সরকারি উদ্যোগ ও বিনিয়োগের অভাবে গঙ্গামতির সম্ভাবনা এখনও অচর্চিত। যদিও কিছু হাউজিং কোম্পানি ইতোমধ্যে এখানকার জমিতে বিনিয়োগ শুরু করেছে এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা করছে। এখানে সাগরভাঙনের ঝুঁকি কম, ভূমির স্বাভাবিক ভারসাম্যও অনেক বেশি—সব মিলিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়নের জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।

উপসংহার

গঙ্গামতি শুধু একটি চর নয়—এটি ভবিষ্যতের এক সম্ভাবনাময়, টেকসই, পরিবেশবান্ধব আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে। দরকার শুধু দৃষ্টি প্রসারিত করা, পরিকল্পনা গ্রহণ এবং আন্তরিক সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫