সিয়াম-তুষিকে নিয়ে রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’ শুটিং শুরু

সিনেমা নির্মাতা রায়হান রাফী তাঁর নতুন সিনেমা ‘আন্ধার’-এর শুটিং শুরু করেছেন, যেখানে দুই বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা সিয়াম আহমেদ এবং নাজিফা তুষি মূল চরিত্রে অভিনয় করবেন।

রাফীর পূর্ববর্তী সফল সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’, ‘তুফান’ ও ‘তান্ডব’-এর সিক্যুয়েল নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ থাকলেও, এইবার নির্মাতা ‘আন্ধার’ সিনেমাটিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে সিনেমাটিতে জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশোকে নেওয়ার খবর ছিল, তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ছাড় দেন।

ছবির নায়িকা নিয়েও নানা নাম আলোচনা হলেও, রাফী এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা করেননি। নির্মাতা ভেতরে ভেতরে শুটিং প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলার পরই কাজ শুরু করেছেন।

‘আন্ধার’ সিনেমা সম্পর্কে রাফী বলেন, “যদি সবকিছু পরিকল্পনা মতো হয়, দর্শক শিগগিরই সিনেমাটির নানা কাহিনী ও চরিত্র দেখতে পাবেন।”

এই সিনেমার মাধ্যমে রাফী তার পূর্ববর্তী সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাইছেন এবং দর্শকদের জন্য নতুন ধরনের নাটকীয়তা ও বিনোদন উপস্থাপন করতে চলেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




সাবিলা নূর প্রকাশ করলেন ব্যক্তিগত অনুভূতি

দেশের জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী সাবিলা নূর প্রথমবারের মতো ঢাকাই সিনেমায় অভিনয় করেছেন মেগাস্টার শাকিব খানের বিপরীতে। ‘তাণ্ডব’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখার পর থেকে তিনি আলোচনার কেন্দ্রে আছেন।

একটি পডকাস্ট শোতে সাবিলা নূর ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবন নিয়ে খোলাখুলিভাবে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, “আমি কখনও কখনও একটু কনফিউজড বা ভয় পেতে পারি। ইন্ট্রোভার্ট ব্যক্তিত্বের কারণে কোনো জায়গায় মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে কারো সাথে ঘনিষ্ঠ হলে আমি সম্পূর্ণ ভিন্ন একজন মানুষ।”

তিনি আরও বলেন, “এখন আমি ভালো একটি সিনেমা করেছি, মানুষজন আমাকে দেখছেন ও পছন্দ করছেন। তবে এক বছর পরে যদি ভালো কোনো কাজ না আসে, হয়তো আমাকে তারা ভুলে যাবে।”

অভিনয়ের পাশাপাশি সাবিলা নূর নাচ ও লেখালিখিত কাজেও ব্যস্ত। শেষ বইমেলায় তার লেখা ছোট গল্পের বই ‘ভালোবাসা অতঃপর’ প্রকাশ পেয়েছে। এর আগে তিনি নাটকের জন্য লিখেছেন হৃদিকা, পারাপারমুখোমুখি অন্ধকার


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘ইত্যাদি’ এবার ভোলার চরফ্যাশনে

বাংলাদেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’ এবার ধারণ করা হয়েছে দ্বীপ জেলা ভোলার চরফ্যাশনে। মেঘনা-তেতুলিয়া নদী বিধৌত এ ঐতিহ্যবাহী জনপদের ঐতিহাসিক ট্যাফনাল ব্যারেট স্কুলের সামনে নির্মিত মঞ্চে অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয়।

স্থানীয়দের ভালোবাসার এই অনুষ্ঠান ঘিরে পুরো ভোলাজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ। আমন্ত্রিত দর্শকদের পাশাপাশি অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ ভিড় করেন। আশপাশের ভবন, ছাদ ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও দর্শকরা উপভোগ করেন প্রিয় অনুষ্ঠানটির ধারণ প্রক্রিয়া।

ফাগুন অডিও ভিশন জানিয়েছে, এবারের আয়োজনে দুটি গান রয়েছে। ভোলাকে নিয়ে মনিরুজ্জামান পলাশের কথায় ও হানিফ সংকেতের সুরে পরিচিতিমূলক গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় শতাধিক নৃত্যশিল্পী। এছাড়া রবি চৌধুরী ও আঁখি আলমগীর পরিবেশন করেছেন আরেকটি নতুন গান।

দর্শকপর্বে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তিনজন দর্শক নির্বাচন করা হয়। পরে তারা অভিনেতা তৌসিফ মাহবুবের সঙ্গে অভিনয় করেন। এছাড়া ভোলার সন্তান, দুইবার এভারেস্ট জয়ী এম এ মুহিতের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকার প্রচার করা হবে।

এবারের ‘ইত্যাদি’তে ভোলা জেলা ও এর বিভিন্ন উপজেলাকে ঘিরে তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন, মহিষের বাথান, মৎস্য খাত, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবার এবং গুলশান-ভোলা গ্রাম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখানো হবে। বিদেশি প্রতিবেদনে থাকছে চীনের বেইজিংয়ের সামার প্যালেস।

প্রতিবারের মতো এবারও অনুষ্ঠানটির শিল্প নির্দেশনা ও মঞ্চ পরিকল্পনা করেছেন মুকিমুল আনোয়ার মুকিম।

আগামী ২৯ আগস্ট রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে। এটি রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনা করেছেন হানিফ সংকেত।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




কুয়াকাটায় নজরুল গানে ফেরদৌস আরা

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণদিবস উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন নিয়ে দর্শকদের সামনে আসছেন একুশে পদকপ্রাপ্ত সঙ্গীতশিল্পী ফেরদৌস আরা। আগামী ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে চ্যানেল আইতে প্রচারিত হবে তার একক সংগীতানুষ্ঠান ‘মোরা আর জনমে’।

এই আয়োজনে প্রথমবারের মতো পর্যটন নগরী কুয়াকাটার মনোরম লোকেশনে নজরুলের গান ধারণ করেছেন ফেরদৌস আরা। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গীতের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি হাজির হচ্ছেন দর্শকদের জন্য নজরুলের কয়েকটি জনপ্রিয় গান নিয়ে।

অনুষ্ঠানে পরিবেশিত গানের তালিকায় রয়েছে— তেপান্তরের মাঠে, মোরা আর জনমে, এ কোন মায়ায় এবং দোলে বন-তমালের ঝুলনাতে। এর মধ্যে ‘দোলে বন তমালের ঝুলনাতে’ গানটি প্রথমবারের মতো আউটডোর লোকেশনে ভিডিওচিত্র ধারণ করা হয়েছে।

গানগুলোর চিত্রায়ণে কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতসহ ঢাকার বিভিন্ন মনোরম দৃশ্য ধরা পড়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশে ধারণকৃত ভিডিওগুলো গানকে দিয়েছে নতুন মাত্রা।

ফেরদৌস আরা বিশ্বাস করেন, তার নতুন এই পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের মনে এক ভিন্ন আনন্দ যোগ করবে। অনুষ্ঠানটি প্রযোজনা করেছেন অনন্যা রুমা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অপুর হাতে জমজমের পানি ও তসবিহ দিলেন রইস উদ্দিন

নাটোরের সিংড়া উপজেলার প্রবীণ গরু ব্যবসায়ী রইস উদ্দিনকে সম্প্রতি বিশেষ উপহার দিয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস। কোরবানির ঈদে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়ি হাটে জাল নোটের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হওয়ার পর কান্নাভেজা মুহূর্তে দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন তিনি। সেই ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে সহমর্মিতা জানাতে এগিয়ে আসেন বহু মানুষ, যার মধ্যে অন্যতম ছিলেন অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস।

ওই ঘটনার পর নিজ খরচে রইস উদ্দিনকে ওমরাহ পালনে পাঠানোর ঘোষণা দেন অপু বিশ্বাস। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গত জুলাইয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ সম্পন্ন করেন রইস উদ্দিন। দেশে ফিরে তিনি প্রিয় ‘মেয়ে’ অপুকে আমন্ত্রণ জানান নিজ বাড়িতে।

গত ১৯ আগস্ট (মঙ্গলবার) অপু বিশ্বাস নাটোরে গিয়ে দেখা করেন তার সঙ্গে। রইস উদ্দিন বাড়িতে তাকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। দীর্ঘক্ষণ আড্ডা ও গল্পগুজবের সময় তিনি অপুর হাতে তুলে দেন সৌদি আরব থেকে আনা বিশেষ উপহার—জমজমের পানি, খেজুর, একটি জায়নামাজ ও তসবিহ। আবেগাপ্লুত রইস উদ্দিন বলেন, “আমি আমার মেয়ের জন্য উপহার এনেছি।”

অপু বিশ্বাসও সমান আবেগ নিয়ে উপহার গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, “বাবার কাছ থেকে পাওয়া এই উপহার আমার কাছে অমূল্য। আমি আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই না। বরং এটাকে আমার প্রতি তার দোয়া হিসেবেই মনে করছি।”

উল্লেখ্য, কোরবানির ঈদের সময় রইস উদ্দিন তার পোষা গরুটি বিক্রি করতে গিয়ে ১ লাখ ২৩ হাজার টাকার মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার টাকা জাল নোটে পেয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। হতাশায় কান্নাভেজা সেই দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশের নানা প্রান্ত থেকে সহায়তার হাত বাড়ানো হয়। প্রথমে আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এরপরই এগিয়ে আসেন অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস, যার অর্থায়নেই তিনি সৌভাগ্যবান হয়ে পবিত্র ওমরাহ পালন করতে সক্ষম হন।

এমন মানবিক দৃষ্টান্ত আজও সমাজে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক বৃদ্ধের চোখের জল মুছে দিতে একজন শিল্পীর আন্তরিক সহযোগিতা দেশের মানুষের মনে দাগ কেটেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তৌসিফের খোলামেলা স্বীকারোক্তি

কথায় আছে, মানুষ যত ওপরে ওঠে, তত সে একা হয়ে যায়। ঠিক এমন বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী আর প্রশংসা অর্জন করলেও সময়ের সাথে সাথে তিনি হারাচ্ছেন কিছু কাছের মানুষকেও। বিশেষ করে কয়েক মাস আগে একটি বড় পুরস্কার হাতে পাওয়ার পর তিনি আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে পেরেছেন, কে তার সত্যিকারের আপন আর কে শুধু নামমাত্র বন্ধু।

সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের জনপ্রিয় পডকাস্ট শো ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-তে অতিথি হয়ে এসেছেন তৌসিফ। অনুষ্ঠানটির গ্রন্থনা ও সঞ্চালনায় ছিলেন রুম্মান রশীদ খান, আর প্রযোজনায় ছিলেন জেড আই ফয়সাল। আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত ৯টায় শোটি প্রচার হবে মাছরাঙা টেলিভিশন এবং রেডিও দিনরাত ৯৩.৬ এফএম-এ।

এই অনুষ্ঠানে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তৌসিফ জানান, জীবনের কিছু ঘটনা চোখ খুলে দেয়। তার যে কোনো অর্জন পরিবার, প্রকৃত বন্ধু ও ভক্তরা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করলেও অনেক তথাকথিত বন্ধুর চোখে তা হয়ে ওঠে ঈর্ষার কারণ। যদিও তিনি নিজেকে এতটা বড় ভাবেন না যে মানুষ তাকে নিয়ে হিংসা করবে, তবে এসব অভিজ্ঞতা তাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। তৌসিফের ভাষায়, এসব পরিস্থিতি তাকে ভালো কাজে আরও বেশি মনোযোগী ও দৃঢ় করেছে।

শোতে তৌসিফ তার অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে চিত্রনায়ক সিয়াম আহমেদের নাম উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সিয়ামের পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং নিষ্ঠা তাকে মুগ্ধ করে। সিয়াম যে সফলতা পেয়েছেন, তা রাতারাতি নয়, বরং কঠোর পরিশ্রম আর সততার ফল। তাই বন্ধুকে নিয়ে তিনি ভীষণ গর্বিত।

এছাড়া এই অনুষ্ঠানে তৌসিফ তার ব্যক্তিগত জীবনের এক পর্ব নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন। বিয়ের আগে একজন অভিনেত্রীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা শেষ পর্যন্ত টেকেনি। সম্পর্ক ভাঙনের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। নিজের ভাষায়, ‘ছ্যাঁকা খেয়ে ব্যাকা হয়ে গিয়েছিলাম’।

জনপ্রিয় এই অভিনেতার খোলামেলা স্বীকারোক্তি শুধু ভক্তদের নয়, বরং তার কাছের মানুষদেরও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে বলে মনে করছেন অনেকে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাদিয়া তানজিনের সাহসী চরিত্রে প্রশংসা

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া তানজিন দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের মন জয় করে আসছেন। তবে শুধু ছোট পর্দাতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। ২০২১ সালে নির্মাতা রাশিদ পলাশ পরিচালিত পদ্মাপুরাণ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তার অভিষেক ঘটে। এই সিনেমাতেই দর্শকরা তাকে একেবারেই নতুন রূপে দেখতে পান।

চলচ্চিত্রটিতে সাদিয়া অভিনয় করেন একজন মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীর ভূমিকায়। যেখানে স্বামীর অপরাধ জগত এক পর্যায়ে তাকেই সামলাতে হয়। চরিত্রের প্রয়োজনে তাকে সাহসী কিছু কর্মকাণ্ডে দেখা যায়, যা নিয়ে সম্প্রতি তিনি মুখ খুলেছেন এক সাক্ষাৎকারে।

সাদিয়া জানান, সাধারণত টেলিভিশনে ভিন্ন ধাঁচের হলেও সাধারণ চরিত্রেই তাকে দর্শকরা দেখতে অভ্যস্ত। কিন্তু পদ্মাপুরাণ–এ একেবারেই আলাদা রূপে হাজির হয়ে ভক্তদের চমকে দিয়েছেন তিনি। অভিনেত্রী বলেন, “আমি সবসময় একটু ভিন্নমাত্রার কাজ করতে ভালোবাসি। তবে এই সাহসী চরিত্রে কাজ করার সম্পূর্ণ ক্রেডিট আমার স্বামীর। গল্পটা শোনার পর প্রথমে রাজি হইনি। কিন্তু স্বামীই আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। সে বলেছিল—তুমি অভিনয় পারো, তোমার যোগ্যতা আছে, সেটাই প্রকাশ করো।”

অভিনেত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সিনেমাটিতে তার চরিত্র ছিল এমন—স্বামী মাদক ব্যবসায়ী, কিন্তু এক পর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে প্যারালাইজড হয়ে যায়। তখন পুরো ব্যবসার দায়িত্ব চলে আসে স্ত্রীর কাঁধে। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে তাকে স্থানীয় ক্ষমতাশালীদের সঙ্গেও সম্পর্ক বজায় রাখতে হয়। ফলে চরিত্রটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত বোল্ড ও চ্যালেঞ্জিং।

এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করার পর প্রথমে ভেবেছিলেন দর্শক হয়তো তাকে নেতিবাচকভাবে নেবেন। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। দর্শকরা শুধু ইতিবাচকভাবে গ্রহণই করেননি, বরং তার অভিনয়ের প্রশংসাও করেছেন।

তিনি বলেন, “আমাদের দেশে দর্শকরা সাধারণত তারকাদের নির্দিষ্ট চরিত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখতে অভ্যস্ত। যেমন—শাবানা আপাকে সাহসী চরিত্রে কল্পনা করা যায় না, আবার রীনা খানকে নেতিবাচক চরিত্র ছাড়া ভাবা যায় না। তবুও আমি চেয়েছি ভিন্নধর্মী কিছু করতে, এবং দর্শকের ভালোবাসাই প্রমাণ করেছে যে আমার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।”

তার মতে, একজন শিল্পীর মূল শক্তি হলো নতুন কিছু করার সাহস। আর সেই সাহসকে মূল্যায়ন করেছেন দর্শকরা।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অস্ত্রোপচারে যাচ্ছেন ফারুকী

সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ও খ্যাতিমান নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস ধরা পড়েছে এবং দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।

রোববার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালের এক শীর্ষ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ফারুকীর চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেন, উপদেষ্টা অ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত এবং তার অপারেশন জরুরি। আজ রাতেই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এ ছাড়া তার অন্য কোনো জটিলতা নেই। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা আশাবাদী, সফল অস্ত্রোপচারের পর তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

এর আগে শনিবার কক্সবাজার সফরে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় আনা হয় এবং স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ফারুকীর অসুস্থতার খবরে সংস্কৃতি অঙ্গনের শিল্পী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুই বছর পর কাজে ফেরা, স্বামী হারানোর শোক কাটিয়ে নতুন পথচলায় সাবিহা জামান

বাংলাদেশের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী সাবিহা জামান স্বামী, একুশে পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা মাসুম আজিজকে হারানোর পর প্রায় দুই বছর অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন। ২০২২ সালের অক্টোবরে স্বামী মৃত্যুবরণ করলে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। শোবিজে তার প্রথম পদচারণাও হয়েছিল স্বামীর হাত ধরে, তাই এই হারানো তাকে একাকিত্বে ডুবিয়ে দেয়। প্রিয়জন হারানোর শূন্যতা, শারীরিক অসুস্থতা এবং মনোবেদনা মিলিয়ে এই সময়টায় তিনি ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পারেননি।

চিকিৎসক এবং কাছের মানুষদের অনুপ্রেরণাতেই তিনি আবারও অভিনয়ে ফেরেন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছিল— কাজের ভেতর থাকলে মন ভালো থাকবে, একাকিত্ব কিছুটা হলেও কমবে। পাশাপাশি পরিচালক, লেখক ও সহশিল্পীরা নিয়মিত ফোন করে তার কাজে ফেরার অনুরোধ জানান। অবশেষে সবাইকে কথা দিয়েই তিনি আবার শুটিংয়ে ফিরেছেন।

তবে ফেরার পরও তিনি কাজের ব্যস্ততায় নিজেকে ডুবিয়ে দেননি। মাসে ৮ থেকে ১০ দিন শুটিং করেই সন্তুষ্ট থাকেন। সংসার ও অভিনয় দুটোকে সমানভাবে সামঞ্জস্য রেখে চলাই তার অভ্যাস। তিনি মনে করেন, সামগ্রিকভাবে এখন শোবিজে নাটকের কাজ কমেছে, বাজেট সংকটের কারণে নাটকের চরিত্র সংখ্যা কমে গেছে, ফলে সবার জন্য সমান কাজের সুযোগ তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ব্যক্তিগত জীবনে সাবিহা জামান দুই সন্তানের মা। ছেলে বুয়েট থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছেন, মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে পাশ করে একজন চিত্রশিল্পী হয়েছেন। তাদের নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, অভিনয়ের প্রতি তার টান এখনও অটুট। স্বামী মাসুম আজিজ জীবনের শেষ পর্যন্ত কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন— সেই ইচ্ছা পূরণের পাশাপাশি নিজেরও অভিনয় জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাফলংয়ের সাদা পাথর লুটে ক্ষোভ, তারকাদের স্মৃতিকাতর প্রতিক্রিয়া

সিলেটের জাফলং, যা একসময় প্রকৃতিকন্যা হিসেবে খ্যাত ছিল, এখন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। পাহাড়ি নদীর বুক চিরে অবাধে চলছে সাদা পাথর ও বালু লুট। বেলচা, কোদাল, শাবল দিয়ে তোলা হচ্ছে পাথর, এরপর বারকি নৌকার মাধ্যমে পাচার করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, প্রশাসনের নজরদারি শিথিল থাকায় এই অপরাধ প্রবণতা ভয়াবহভাবে বেড়েছে।

গত কয়েক মাসে অনিয়ন্ত্রিত পাথর উত্তোলনের ফলে জাফলংয়ের সৌন্দর্যের মূল আকর্ষণ — বড় বড় সাদা পাথর — প্রায় হারিয়ে গেছে। এখন সেখানে পড়ে আছে শুধুই কালচে পাথরের স্তূপ। পাহাড়ি ঝরনা, সবুজ পাহাড় ও নদীর বুক জুড়ে ছড়িয়ে থাকা সাদা পাথরের অপূর্ব দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক আসতেন, কিন্তু এই দৃশ্য হয়তো শিগগিরই অতীত হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন পরিবেশপ্রেমীরা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের প্রকাশ। অনেকেই নস্টালজিক হয়ে পুরনো ছবি পোস্ট করছেন, যেখানে তারা সাদা পাথরের সামনে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটিয়েছিলেন। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব, অভিনেত্রী নাজনীন নাহার নীহা এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী আতিয়া আনিসা।

আতিয়া আনিসা তিন বছর আগে পরিবারের সাথে সাদা পাথরে কাটানো স্মৃতি শেয়ার করে লিখেছেন— খবরগুলো দেখে মন খারাপ হয়ে গেছে, সেই সুন্দর মুহূর্ত যেন সবার মনে অমলিন থাকে। তৌসিফ মাহবুব নাটকের শুটিংয়ের সময় সাদা পাথরের সামনে তোলা ছবি পোস্ট করে শুধু লিখেছেন “সাদা পাথর”, যা তার মুগ্ধতা ও ক্ষোভ দুই-ই প্রকাশ করেছে। নাজনীন নাহার নীহা লিখেছেন— “সেই দিনগুলো আর নেই, সাদা পাথরের মতো হারিয়ে গেছে সময়টাও।”

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জাফলংয়ের স্বকীয়তা চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এদিকে, আজ সন্ধ্যায় মুক্তি পাচ্ছে নীহার নতুন নাটক ‘উইশ কার্ড’, আর তৌসিফের অভিনীত আলোচিত নাটক ‘খোয়াবনামা’ও শিগগির মুক্তি পাবে। কিন্তু শিল্পীরা জানিয়েছেন, বিনোদনের নতুন কাজের আনন্দের মাঝেও জাফলংয়ের সাদা পাথরের হারিয়ে যাওয়া তাদের গভীরভাবে কষ্ট দিচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম