ভাবতেই পারছি না ‘শান্ত’ আর পৃথিবীতে নেই: কৌশানী মুখার্জী

বরিশাল অফিস :: চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের আলোচিত চেয়ারম্যান ও শাপলা মিডিয়ার কর্ণধার-প্রযোজক সেলিম খান এবং তার ছেলে নায়ক শান্ত খান গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। গত (৫ আগস্ট) শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর বালিয়া ইউনিয়নের বাগাড়া বাজারে জনতার পিটুনিতে নিহত হন বাবা-ছেলে।

বাবা সেলিম খানের পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীনির্ভর ‘টুঙ্গিপাড়ার মিয়া ভাই’ ছবিতে বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শান্ত। অভিনেতা শান্ত’র এমন মৃত্যুতে স্তম্ভিত ওপার বাংলার নায়িকা কৌশানী মুখার্জী। তিনি এই নায়কের বিপরীতে কাজ করেছেন। তাইতো নায়ক শান্ত’র এমন মৃত্যু যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এ অভিনেত্রী।

ভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমকে কৌশানী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করতে পারছি না সত্যিই এটা হয়েছে’। শান্তর সঙ্গে কৌশানীর পরের ছবি ‘পিয়া রে’র সমস্ত কাজ সারা। অপেক্ষা ছিল শুধু মুক্তির। কৌশানী বলেন, ‘এখন তো আর ছবিটাও মুক্তি পাবে না’।

কৌশানী বলেন, ‘আমার সঙ্গে ছাড়াও টালিউডের অনেকেরই শাপলা মিডিয়ার সেলিম ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। শান্ত আমাকে ঢাকা শহর ঘোরানো থেকে সিম কার্ড সংগ্রহ, সব কিছুর ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। মানুষকে ভালোবাসতো। আমি যেহেতু অভিজ্ঞতায় বড়, আমার থেকে নানা উপদেশ নিত। আমি ভাবতেই পারছি না সে আর পৃথিবীতে নেই।’

শ্রাবন্তীর সঙ্গে ‘বিক্ষোভ’ সিনেমায় শান্ত খান
২০১৯ সালে উত্তম আকাশ পরিচালিত ‘প্রেম চোর’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে শুরু করেন শান্ত খান। টলিউডের শ্রাবন্তীর সঙ্গে ‘বিক্ষোভ’ সিনেমার নায়ক ছিলেন তিনি। কৌশানী মুখার্জীর সঙ্গে অভিনয় করেছেন ‘প্রিয়া রে’ সিনেমায়। যদিও সিনেমাটি এখনো মুক্তি পায়নি। এছাড়াও দেবের ছবি ‘কমান্ডো’র প্রযোজক ছিলেন সেলিম খান। সেই ছবিটিও মুক্তি পায়নি।




বিটিভি প্রাঙ্গনে সহিংসতার বিরুদ্ধে শিল্পীরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : শোকাবহ আগস্ট মাসের প্রথমদিন বাংলাদেশ টেলিভিশন প্রাঙ্গনে হাজির হয়েছিলেন সংস্কৃতি অঙ্গনের একঝাঁক তারকা। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান সম্বিলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড। ‘সকল সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা’- এই স্লোগান ব্যানারে ধারণ করে বিটিভি প্রাঙ্গনে দাঁড়িয়ে তাদের মতপ্রকাশ করেন শিল্পীরা।

উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ফেরদৌস, অভিনেত্রী সুজাতা, অভিনেতা রিয়াজ, অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস, নিপূণ, নাট্যব্যক্তিত্ব শমী কায়সার, আজিজুল হাকিম, রোকেয়া প্রাচী, সুইটি, হৃদি হক, জ্যোতিকা জ্যোতি, সাজু খাদেম, সোহানা সাবা, চন্দন রেজা, সংগীতশিল্পী শুভ্র দেব, পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, এস এ হক অলিক, খোরশেদ আলম খসরুসহ নাটক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকারা।

বিটিভিতে এ ধ্বংসযজ্ঞ কেন, এর পেছনে কারা?- সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তাদেরকে খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি জানান শিল্পীরা। পাশাপাশি ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।

ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ‘আমি দেখেছি, ছাত্ররা যে কোটার আন্দোলনে নেমেছিল সে কোটার পক্ষে আমরা সকলেই ছিলাম, কিন্তু আন্দোলনে এই ছাত্রদেরকে ঢাল করে একদল মানুষরূপী পশু জালিয়ে-পুড়িয়ে ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ছারখার করে দিয়েছে আমাদের এ দেশটিকে। দেশটি হয়তো আবার আমরা কষ্ট করে ঠিক করে ফেলবো কিন্তু যে প্রাণগুলো ঝরে গেল সেগুলো আর আমরা আর কোনোদিন ফিরে পাবো না। আজকে আমরা বিটিভিতে এসেছি। আমাদের সংস্কৃতির অস্তিত্বের একটি জায়গা এটি। সে বিটিভিতে আগুন কেন? এ অগ্নিসন্ত্রাসী কারা? তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে, চিহ্নিত করতে হবে। যতগুলো প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, আপনারা যদি দেখেন, বাচ্চারাও যদি দেখে বুঝতে পারবে সুপরিকল্পিতভাবে এসব করা হয়েছে। তাদের বিচার চাই। আজ আমরা সকল অঙ্গনের শিল্পীরা এখানে একত্রিত হয়েছি, আমাদের সংহতি প্রকাশ করার জন্য। সকল সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা।’

শমী কায়সার বলেন, ‘সকল সংস্কৃতি কর্মীরা আমরা দাঁড়িয়েছি আজ শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিনে। আগস্ট মাস আমাদের একটি প্রতিবাদের মাস। যে মাসে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে স্বাধীনতার ইতিহাসকে হত্যা করা হয়েছে। সেরকম একটি মাসে আমরা আবারো দাঁড়াবো এই বাংলাদেশ টেলিভিশন চত্তরে সেটা আমাদের জীবদ্দশাতেও কখনো ভাবিনি। আজকে আমরা ব্যথিত, ক্ষুব্ধ, মর্মহত। কারণ যে বাংলাদেশ টিলিভিশন বাঙালির সংস্কৃতির ধারক ও বাহক, বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেছে- সেই বাংলাদেশ টেলিভিশনে এসে এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মর্মাহত হয়েছি। এখানে আমরা বেড়ে উঠেছি, শিল্পী হিসেবে এই প্রাঙ্গনে বড় হয়েছি। এই ধ্বংসযজ্ঞের সঙ্গে যারা জড়িত আছে তাদের সকলের আমরা বিচার চাই। বাংলাদেশে এরকম নৃশংসতাা, এমন ধ্বংসযজ্ঞ, এতো প্রাণহানি আমরা আর চাই না।’

রোকেয়া প্রাচী বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নকে ব্যহত করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল সব সময় থাকে। এই গণতান্ত্রিক দেশে বঙ্গবন্ধু কন্যা সকলকে তার অধিকারের কথা বলতে, দাবীর কথা বলতে সুযোগ দিয়েছেন। এই ছাত্রদের আন্দোলনকে ঘিরে জঙ্গি হিসেবে, দুঃস্কৃতিকারী হিসেবে যারা সহিংসতার রাজনীতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে চাই। জীবনের যেমন মূল্য আছে তেমনি রাষ্ট্রীয় সম্পদের মূল্য আছে। আমরা প্রতিবাদ জানাতে চাই। নিরীহ ছাত্রদের আন্দোলনকে যারা ছিনতাই করে সারা দেশে সহিংসতা চালিয়েছে এসব রাষ্ট্রদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়াতে চাই।’

আজিজুল হাকিম বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের উপর যে নৃশংস হামলা হয়েছে তা অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমি এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানাই। সেই সাথে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যে সকল প্রাণ আমরা হারিয়েছি, তাদের সকলের বিদেহী আত্মার প্রতি আমি সমবেদনা জানাই, আত্মার শান্তি কামনা করি।  আমরা সুন্দর বাংলাদেশ চাই, সম্প্রতির বাংলাদেশ চাই, স্বস্তির বাংলাদেশ চাই, সন্ত্রাসের বাংলাদেশ চাই না। সবাই মিলে আসুন, দেশটাকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাই। আর সন্ত্রাস আমাদের কাম্য নয়।’
শুভ্র দেব বলেন, ‘এই বিটিভি ছিল বাংলাদেশের প্রখ্যাত সব শিল্পীদের পদচারণামুখর একটি পবিত্র জায়গা। আমি বিশ্বাস করি, কোনো বাংলাদেশী এই বিটিভিতে আক্রমণ করতে পারে না, আক্রমণ করতে পারে কোনো টিক্কাখানের বংশধর। প্রত্যেকটা শিল্পীর হৃদয়ে যে ক্ষরণ হয়েছে, যে ক্ষত হয়েছে তা আপনারা কল্পনাও করতে পারবেন না। যারা এ ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে তাদের সকলকেই  বিচারের আওতায় আনতে হবে। যে সকল প্রাণহানি হয়েছে, সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে সে সবের বিচার হবে এটাই আমার কাম্য।’

সুজাতা বলেন, ‘ সন্ত্রাসীরা এখনো ঘুরে ফিরে বেড়াচ্ছে, তাদেরকে খুঁজে বের করে এর বিচার হোক। আমরা শিল্পীরা যেন ঐক্যবদ্ধ হই এবং যেন তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই। যখন দেশটা উন্নতির দিকে তখনই শত্রুরা আঘাত হানে, ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত করে দেয় দেশকে। আমরা শিল্পীরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি, থাকবো। দেশজুড়ে জ্বালাও, পুড়াও এ সন্ত্রাস আমরা চাই না, আমরা মানি না।’
এছাড়াও সহিংসতার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেন পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজার, হৃদি হক, সোহানা সাবা, সাজু খাদেম, অরুণা বিশ্বাস, নিপূণসহ উপস্থিত অনেক তারকাই।




বিটিভি এখনও ১৮ জুলাইয়ের তান্ডবের ধকল কাটতে পারেনি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) গত ১৮ জুলাই দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের তান্ডবের ধকল কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি দেশের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এ কারণে বিটিভি’র সদর দপ্তর প্রায় ১৯ ঘন্টা তার সম্প্রচার বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছিল।

বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের মহাব্যবস্থাপক মাহাফুজা আকতার জানিয়েছেন, যদিও পরের দিন থেকে বিটিভি তার সম্প্রচার পুনরায় শুরু করেছে, তবে এটি এখনও পুর্ণউদ্যোমে চালু হতে পারেনি। কারণ বসার স্থান ও অন্যান্য সুবিধা না থাকায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দায়িত্ব পালনে এখনও সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।

নিরাপত্তা বাহিনী এখন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন টেলিভিশন কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, কিন্তু এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এখনও সেই তান্ডবলীলার ধাক্কা কাটিয়ে ওঠতে পারেননি।
বিটিভি ভবনে যে নৈরাজ্য ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে তা বর্ণনাতীত। ১৯৭৫ সালের পর, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান এমন সহিংসতা প্রত্যক্ষ করেনি। বিটিভির প্রতিটি স্থান অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, লুটপাট ও বর্বরতার সাক্ষ্য বহন করছে।
কোটা আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই সংগঠন বিটিভির তিনটি প্রধান ফটক ভাঙচুর করে তাদের নৃশংসতার কর্মযজ্ঞ শুরু করে।

বিটিভির মহাপরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম বাসসের সাথে আলাপকালে বলেন, ১৮ জুলাই বিকেলে বিটিভি ভবনের প্রধান ফটক ভেঙ্গে বিপুল সংখ্যক দুর্বৃত্ত প্রবেশ করে।

তিনি বলেন, উত্তেজিত হামলাকারীরা প্রথমে সেখানে পার্ক করা বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয় এবং পরে বিটিভি ভবনের ভেতরে গিয়ে বিভিন্ন ফ্লোরের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা বিটিভির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনুরোধে কর্ণপাত করেনি।
দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে মুহূর্তের মধ্যে পুড়ে যায় রাষ্ট্রের জরুরী এ প্রতিষ্ঠানের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এমনকি আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকেও বিটিভি ভবনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে।

এরপর জঙ্গি কায়দায় বিটিভি সদর দপ্তর ভবনের ছয় তলা, মুজিব কর্নার ও নিচ তলায় অবস্থিত বিটিভি জাদুঘরে ভাঙচুর চালায় সন্ত্রাসীরা। তারা জাদুঘরে সংরক্ষিত বেশ কয়েকটি ক্যামেরা ভাংচুর ও লুট করে।
বিটিভির ক্যান্টিন ও কম্পিউটার ল্যাব ভাংচুর ও লুটপাট, ১৭টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও আরো নয়টি গাড়ি ভাংচুর করা হয়। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার অত্যাধুনিক আউটডোর ব্রডকাস্টিং যানবাহনও ভাঙচুর করা হয়।
গত ২৬ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর রামপুরায় সহিংসতা কবলিত রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবন পরিদর্শন করেন।
তিনি কোটা-সংস্কার আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত চক্রের হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ বিটিভি’র সকল বিভাগ পরিদর্শন করেন।
বিটিভি ভবনে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত হন ও অসন্তেুাষ প্রকাশ করেন।
বিটিভি ভবনে ধ্বংসযজ্ঞ দেখে বিটিভি কর্মকর্তারা যখন তাদের অশ্রু সংবরণ করার চেষ্টা করছিলেন তখন প্রধানমন্ত্রীকেও অশ্রুসিক্ত দেখা গেছে।

বিটিভির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিটিভির বিভিন্ন অবকাঠামো, সম্প্রচার সরঞ্জাম, নকশা বিভাগ, অফিস ভবন ও বিভিন্ন কক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ভাঙচুরের ঘটনায়, ১৯৬৪ সাল থেকে সংরক্ষিত অমূল্য প্রাচীন জিনিস দিয়ে সজ্জিত টেলিভিশন জাদুঘর, মুজিব কর্নার, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক, অভ্যর্থনা ও ওয়েটিং রুমের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রক (এসি) ও অন্যান্য জিনিসপত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

এছাড়াও প্রায় ৪০টি কম্পিউটার, ১০০টি টেলিভিশন সেট এবং কম্পিউটার ল্যাবের আসবাবপত্র, প্রশিক্ষণ কক্ষ ও প্রিভিউ রুম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। লিফট, নেটওয়ার্ক ইকুইপমেন্ট, সিসি ক্যামেরা ও মনিটরিং সেটও ভাংচুর করা হয়।

যানবাহন ভবন ও শেড, ক্যান্টিন ও নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কক্ষ; একটি সম্প্রচার ওবি ভ্যানসহ ১৭টি গাড়ি ও ২১টি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং নয়টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

এছাড়া অডিটোরিয়াম, লাউঞ্জ, ডিজাইন, মেক-আপ, ওয়ার্কশপ, গ্রাফিক্স রুম, স্টোর/ওয়ারড্রোব রুম ও ২০টি গ্রাফিকস কম্পিউটারও ভাংচুর করা হয়।

নকশার শেড, স্টুডিওর ছাদ, দেয়াল, ভবন ও অবকাঠামো, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং প্রায় ৭০টি এয়ার-কন্ডিশনার (এসি), অফিসিয়াল আসবাবপত্র, পাঁচটি ফটোকপি মেশিন এবং প্রায় ৫০টি অফিসিয়াল কম্পিউটারও ভাংচুর করা হয়েছে।

১০টি কম্পিউটার ওয়ার্কস্টেশন সহ ১০০টি মনিটরিং সেট, বৈদ্যুতিক তার, সুইচ, সহায়ক যন্ত্রপাতি, রেকর্ডিং ক্যামেরা, আলোক উৎস সামগ্রী ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক ফাইল, নথি, শিল্পীর সম্মানী-সম্পর্কিত খাতা, ব্যাংক বই, ভাউচার এবং অডিট বিল ইত্যাদিও বিনষ্ট করা হয়েছে।




ভারতকে কাঁদিয়ে এশিয়া সেরা শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঘরের মাঠে বাজিমাত করলো শ্রীলঙ্কা নারী ক্রিকেট দল। ভারতকে কাঁদিয়ে প্রথমবার নারী এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে তুলেছে চামারি আথাপাত্তুর দল।

২৮ জুলাই ডাম্বুলায় আসরের ফাইনালে ভারতকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা নারী দল। ৮ বল হাতে রেখেই ভারতের দেওয়া ১৬৬ রানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।

ফাইনালে টসে জিতে আগে ব্যাটিং নেয় ভারত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। ওপেনার স্মৃতি মান্ধানার ৪৭ বলে ৬০ এবং রিচে ঘোষের ঝোড়ো ১৪ বলে ৩০ ও জেমিমা রদ্রিগেসের ১৬ বলে ২৯ রানের সুবাদে ৬ উইকেটে ১৬৫ রান করে ভারত।

সেই রান তাড়ায় নেমে শ্রীলঙ্কার দুই টপ অর্ডার ঘুরিয়ে দেন ম্যাচের মোড়। চামারি আথাপাত্তুর ৪৩ বলে ৬১ এবং হর্ষিতা সামারাবিক্রমার ৫১ বলে ৬৯ রানের সুবাদে অনায়াস জয় পায় শ্রীলঙ্কা।

১৬ বলে ৩০ রান করে অপরাজিত থাকেন কাভিসা দিলহারি। এর আগে বল হাতেও ২ উইকেট নেন তিনি।




শাফিনের মরদেহ দেশে কবে আসবে জানালেন ভাই হামিন

বরিশাল অফিস :: যুক্তরাষ্ট্রে একটি কনসার্টে অংশ নিতে গিয়ে গেল বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) ভোরে প্রয়াত হয়েছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘মাইলস’র প্রধান ভোকাল ও বেজ গিটারিস্ট শাফিন আহমেদ। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শাফিন আহমেদের প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর ভার্জিনিয়ার মেনাসাসে দ্বার আল নূর ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে শাফিন আহমেদের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

বর্তমানে শাফিনের মরদেহ দেশে আনার প্রস্তুতি শুরু হয়।

মরদেহ দেশে আনতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথাও ছিল বড় ভাই হামিন আহমেদের; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর যাওয়া হয়নি। গণমাধ্যমকে তিনি জানান, ২৯ জুলাই বিকেলে শাফিনের মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছাবে।

হামিন আহমেদ আরও জানান, ৩০ জুলাই দুপুরে গুলশানের আজাদ মসজিদে শাফিন আহমেদের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে বাবার কবরে সমাহিত করা হবে শাফিনকে।

পাশে তার মা সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগমের কবর রয়েছে।

জানা গেছে, শাফিন আহমেদের অসুস্থ হওয়ার পরই তার স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন। মৃত্যুর খবর শোনার পর বড় ভাই হামিন আহমেদেরও দেশটিতে যাওয়ার কথা ছিল; কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিবারিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা স্বজন ও বন্ধুদের সিদ্ধান্তে তার যাওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, চলতি মাসের ৯ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান শাফিন আহমেদ। ২০ জুলাই কনসার্টে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তার, কিন্তু এর আগেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এই শিল্পী। ভার্জিনিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পী।




শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ভারতের শুভসূচনা

বরিশাল অফিস :: শ্রীলঙ্কার মাটিতে নতুন যুগের শুরু হলো ভারতের। অধিনায়ক হিসেবে সূর্যকুমার যাদব এসেছেন, কোচ হয়ে এসেছেন গৌতম গম্ভীর।

সে যুগের শুরুটা ভালোভাবেই করল ভারত। শুরুতে ব্যাট করে ২১৩ রানের পাহাড় গড়ল। এরপর শ্রীলঙ্কাকে আটকে রাখল ১৭০ রানে। দারুণভাবে তুলে নিল ৪৩ রানের জয়।

পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে আজ টস হেরে ব্যাট করতে নামা ভারতের সর্বোচ্চ ইনিংসটা ছিল ৫৮ রানের। সূর্য সেটা করলেন ২৬ বলে, স্ট্রাইক রেটটা ২২৩+! তার আগে শুভমান গিল আর যশস্বী জয়সওয়ালও খেলেছেন অমন ঢঙেই। দুজন করেছেন যথাক্রমে ৩৪ আর ৪০, তাদের স্ট্রাইকরেটও ২১২ আর ১৯০!

ঋষভ পান্ত শুরুতে খানিকটা রয়েসয়ে খেললেও শেষমেশ ৩৩ বলে তিনি করেন ৪৮। শেষ দিকে ব্যাটাররা দ্রুত রান তোলার তাড়নায় উইকেট খুইয়েছেন বেঘোরে। নাহয় ভারতের রানটা আরও বড় হতেই পারত। তবে তারপরও সব মিলিয়ে ৭ উইকেট খুইয়ে ২১৩ রান ভালোই তো!

জবাবে শ্রীলঙ্কাও শুরুটা নেহায়েত মন্দ করেনি। ওপেনিং জুটি থেকে এসেছে ৮৪ রান। কুশল মেন্ডিস ২৭ বলে ৪৫ রান করে ফেরেন।

এরপর পাথুম নিসাঙ্কার ব্যাটে আশা টিকে ছিল শ্রীলঙ্কার। তিনি যতক্ষণ ছিলেন, লঙ্কানদের রান ছিল ওভারপ্রতি ১০ করে। যেই না নিসাঙ্কা ফিরলেন ৪৮ বলে ৭৯ রান করে, শ্রীলঙ্কাও মুখ থুবড়ে পড়ল রীতিমতো।

কুশল-নিসাঙ্কার পর দুই অঙ্ক ছুঁতে পারলেন আর মোটে দুজন, কুশল পেরেরা আর কামিন্দু মেন্ডিস, সে ইনিংস দুটোও মোটে ২০ আর ১২ রানের। এরপরের বাকি সবাই রান করলেন ফোনের ডিজিটে, এক অঙ্কে। ফলটা যা হওয়ার তাই হয়েছে। শ্রীলঙ্কা শেষমেশ ১৭০ রানে অলআউট হয়েছে। ভারত ম্যাচটা জিতেছে ৪৩ রানের বড় ব্যবধানে।




হাসপাতালে শেষ দেখায় সামিনাকে যা বলেছিলেন শাফিন

বরিশাল অফিস :: যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার যে অনুষ্ঠানে গাইতে গিয়ে আর ফিরলেন না শাফিন আহমেদ, সেই মঞ্চে সেদিন গেয়েছিলেন দেশের আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সামিনা চৌধুরী। অনুষ্ঠানের চার দিনের মাথায় জানতে পারেন শাফিন আহমেদ চিরতরে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। শাফিন আহমেদের মৃত্যুর খবর অবিশ্বাস্য ছিল সামিনা চৌধুরীর কাছে। এই খবর সহ্য করাটাও ছিল ভীষণ কষ্টদায়ক।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সামিনা চৌধুরী জানালেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্বামী ইজাজ খান স্বপনসহ গিয়েছিলেন শাফিন আহমেদকে দেখতে। হাসপাতালে তাদের থাকার অনুরোধ করেছিলেন বলেও জানালেন সামিনা চৌধুরী।

সামিনা বলেন, ‘‘তিন দিন আগে দেখে এলাম শাফিন ভাইকে। বারবার আমাকে আর স্বপনকে থাকতে বলছিলেন। স্বপনকে বললেন, ‘আমাকে ছেড়ে যেয়ো না প্লিজ! আমার সঙ্গে গল্প করো। আমার অনেক ব্যথা হচ্ছে কোমরে। স্বপন, তোমাকে কিছু বলব, বসো।’’

সামিনা আরও বলেন, ‘শাফিন ভাইকে পানি খাওয়াল স্বপন। তারপর তাকে ঘুমের ওষুধ দেওয়া হলো। শাফিন ভাইয়ের অবস্থা দেখে আমাদের চলে আসতে বললেন আয়োজকেরা। কী বলতে চেয়েছিলেন শাফিন ভাই, কে জানে। কোনো চাপা কষ্ট কি ছিল তার ভেতর? দেশের আরেকটি সম্পদ, আরেকটি মেধার বিয়োগ হলো। চোখে শুধু ভাসছে। তোমরা যেয়ো না প্লিজ…আমাকে আর পাবা না।’

 




যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি করুন : প্রধানমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে তাঁর সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে, যেকারণে প্রতিটি বিভাগে বিকেএসপি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “খেলাধূলার জন্য ট্রেনিং করিয়ে উপযুক্ত করে গড়ে তোলাটা সবথেকে বেশি দরকার। সেজন্য বিকেএসপি আগে ঢাকায় ছিল এখন প্রত্যেক বিভাগে একটা করে করা হচ্ছে। যেখানে সাঁতার, আর্চারি থেকে শুরু করে ভারত্তোলন, ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, গলফ, স্যুটিং, দাবা, অ্যাথলেটিক্স, ভলিবল সবধরনের খেলাধূলার যাতে একটা সুযোগ হয়, ট্রেনিং হয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েরা যাতে ট্রেনিং পায় এবং আন্তর্জাতিক মানে যেন আমাদের খেলোয়াড়রা পারদর্শী হয়ে ওঠে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে ‘শেখ হাসিনা আন্তঃব্যাংক ফুটবল টুর্নামেন্টের চুড়ান্ত খেলা উপভোগ শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
ফাইনালে ইসলামী ব্যাংক পিএলসি ২-০ গোলের ব্যবধানে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক পিএলসিকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হবার গৌরব অর্জন করে।

তিনি বলেন, যখনই আমি সরকারে এসেছি তখন থেকেই আমার প্রচেষ্টা বাংলাদেশটা যেন খেলাধূলার ক্ষেত্রে আরো এগিয়ে যায়। ছেলে-মেয়েরা এর প্রতি আরো বেশি মনোযোগী হয়। কারণ, এটি যেমন সকলকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী করবে পাশপাশি এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মনভাব গড়ে উঠবে এবং নিজেকে আরো উন্নত করার চেতনা জাগ্রত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেইসাথে খেলাধূলা, লেখাপড়া, সাংস্কৃতিচর্চা প্রভৃতির মধ্যদিয়েই নিজের দেশের যে একটা সংস্কৃতি, নিজের জ্ঞান, মেধা, মননকেও প্রকাশ করার সুযোগ পাবে সবাই। সেজন্যই খেলাধূলার ওপর আমরা অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি।

সারাদেশে খেলাধূলার বিকাশ ও চর্চায় প্রতিটি উপজেলায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যেন বসে না থাকে। আর ছোটবেলা থেকে যদি চর্চা না হয় তাহলে কি করে উঠে আসবে।

তিনি এ সময় এদেশে মেয়েদের খেলাধূলায় এক সময় বাধা আসার প্রসঙ্গ টেনে বলেন তাঁর সরকারের উদ্যোগে দেশব্যাপী প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ এবং বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্মামেন্ট থেকে অনেক খেলোয়াড় উঠে আসছে যারা দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে দেশের জন্য মর্যাদা বয়ে আনছেন। খেলাধূলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশে^র কাছে তুলে ধরার কাজটাও করছে।

তিনি বলেন, এই খেলাধূলার মধ্যদিয়ে আমাদের একসময় আমাদের উপযুক্ত খেলোয়াড় গড়ে উঠবে। আমরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ের খেলাধূলা করে আন্তর্জাতিক শিরোপাও নিয়ে আসতে পারবো। সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে। সেজন্য আমাদের সরকার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী ফাইনালে বিজয়ী এবং বিজিত ট্রফি এবং পুরস্কারের অর্থের চেক তুলে দেন এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে দেশের ফুটবলের সার্বিক উন্নয়নের ওপর একটি প্রামান্য চিত্র প্রদর্শিত হয়।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বক্তৃতা করেন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়শন অব ব্যাংকস  (বিএবি) এর চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার স্বাগত বক্তৃতা করেন।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।




হারের পর কলম্বিয়ান দর্শককে ঘুষি উরুগুয়ান ফুটবলারের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : উরুগুয়ের ১৩ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো না। সমর্থকদের প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। কোপা আমেরিকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লুইস সুয়ারেজদের কাঁদিয়ে ২৩ বছর পর টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া।

তবে ম্যাচটির শেষে উত্তাপ ছড়িয়েছিল তুমুল মাত্রায়। ফুটবল খেলায় সংঘাত সাধারণত খেলোয়াড়-কোচদের মধ্যে হয়ে থাকে। কিন্তু এদিন উরুগুয়ান ফুটবলাররা তর্কে জড়িয়েছিলেন কলম্বিয়ান সমর্থকদের সঙ্গে। একপর্যায়ে সেটা হাতাহাতি এমনকি ঘুষি পর্যন্ত গড়িয়েছে।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টস তাদের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। এসময় সুয়ারেজ ও উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসা তার খেলোয়াড়দের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে সংঘাতটা ঠিক কি কারণে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি গণমাধ্যমটি।

মাঠের ভেতরে সংঘাত-তর্ক মারামারি, ফুটবলে খুব স্বাভাবিক ঘটনা। তবে মাঠ ছাড়িয়ে সেটা গ্যালারিতে চলে যাওয়া, এমন নজির ফুটবলে কমই রয়েছে।




কোপায় হতাশার পর ছাঁটাই যুক্তরাষ্ট্র কোচ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ঘরের মাঠে বড় আশা নিয়ে খেলতে নেমে গ্রুপ পর্বই পার হতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। ব্যর্থতার মাশুল দিতে হল গ্রেগ বারহল্টারের। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আগেই চাকরি হারালেন দলের কোচ।

যুক্তরাষ্ট্র ফুটবলের প্রধান সিন্ডি পার্লো স্থানীয় সময় এক বিবৃতিতে এই খবর জানান।

দেশের ফুটবলের এগিয়ে নেওয়া জন্য এখন সঠিক ব্যক্তির খোঁজে নামার কথাও বলেন তিনি।

বলিভিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার শুরুটা দারুণ করে যুক্তরাষ্ট্র। তুলনামূলক দুর্বল পানামার কাছে ২-১ গোলে হারের পর বিদায়ের শঙ্কায় পড়ে যায় তারা। আর উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে নিশ্চিত হয়ে যায় সেটি।

প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হলেও মেক্সিকো ও কানাডার সঙ্গে মিলে আয়োজনের অপেক্ষায় থাকায় ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ থাকার আশা প্রকাশ করেন বারহল্টার। বিশ্বকাপের জন্য কাজ শুরুর কথাও বলেন তিনি।

কিন্তু দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা আর আস্থা রাখতে পারল না ৫০ বছর বয়সী কোচের উপর। তাই দ্বিতীয় মেয়াদের দায়িত্বে ১৩ মাসেরও কম সময়ে চাকরি হারালেন তিনি।