‘আমার জীবনের কোনো কিছুই ভুল নয়’ — প্রাক্তন ও সন্তানের প্রসঙ্গে খোলামেলা পরীমণি

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমণি। কাজের চেয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই বেশি আলোচনায় থাকেন তিনি। নিজের ইচ্ছেমতো বাঁচার দর্শনেই জীবন কাটান এই নায়িকা, তাই তাকে ঘিরে যত গুঞ্জনই উঠুক, তাতে বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ করেন না।
একাধিকবার বিয়ে করেছেন পরীমণি। সর্বশেষ অভিনেতা শরীফুল রাজের সঙ্গে সংসার গড়েছিলেন, আর এই সংসারে জন্ম নেয় পুত্রসন্তান পূণ্য। তবে সেই সম্পর্কও টেকেনি। সম্প্রতি মাছরাঙা টেলিভিশনের অনুষ্ঠান ‘বিহাইন্ড দ্য ফেইম উইথ আরআরকে’-তে প্রেম, বিয়ে, বিচ্ছেদ ও মাতৃত্ব নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই অভিনেত্রী।
অনুষ্ঠানে সঞ্চালক জানতে চান, “তোমার কি মনে হয় বিয়েটা ভুল ছিল?”
জবাবে পরীমণি বলেন,
“না, আমার জীবনের কোনো কিছুই ভুল না। সবই অভিজ্ঞতা। ভুল বলার কিছুই নেই।”
এরপর সঞ্চালক বলেন, “আমার মনে হয়, পূণ্য থাকার কারণে হয়তো এমন বলছো।”
জবাবে পরীমণি বলেন,
“না, ও না থাকলেও একই কথা বলতাম। আমার কোনো প্রাক্তনের সঙ্গে এমন পর্যায় আসেনি, যেখানে গালাগালির মধ্যে যেতে হয়েছে।”
বিয়ের সম্পর্ক ভাঙার প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন,
“আমরা দুই পক্ষ বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—এটা আর এগোবে না। খুব সম্মানজনক জায়গায় থেকেই আলাদা হয়েছি। ভবিষ্যতে কোথাও দেখা হলে যেন অস্বস্তি না হয়, সেই জায়গাটা বজায় রাখতে চেয়েছি।”
তবে বিচ্ছেদের পরও কিছু কষ্ট রয়ে গেছে তার মনে। পরীমণি বলেন,
“যে প্রাক্তনের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সম্মান পাওয়ার কথা ছিল, সেখান থেকেই সবচেয়ে বেশি অপমানিত হয়েছি। এই বিচ্ছেদটা আরও সুন্দরভাবে হতে পারত।”
সঞ্চালক যখন জানতে চান রাজ কি সন্তানের খোঁজখবর রাখেন—তখন পরীমণি বলেন,
“আমি তো কোথাও শুনিনি। উনি ভুলেই গেছেন, উনার একটা বাচ্চা আছে। কেউ কেউ বলেন, আমি যোগাযোগ করতে দিই না—এসব সম্পূর্ণ ভুল। আমি সব কিছু ক্লিয়ার রেখে গিয়েছি। আমি চাই না আমার সন্তান কখনো আমার দিকে আঙুল তুলে কিছু বলুক।”
তিনি আরও বলেন,
“আমার সন্তানের দাদা-দাদি আছেন, তারা কেন খোঁজ নেন না? পূণ্য অসুস্থ হলে একটা ফোনও দেয় না। রক্তের সম্পর্ক কি এভাবে মুছে যায়?”
মাতৃত্বকে জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হিসেবে দেখেন পরীমণি। তার ভাষায়,
“মাদারহুডে আমি ফেল করতে চাই না। আমার সন্তান যেন কোনোদিন মায়ের প্রতি হতাশ না হয়, সেই চেষ্টাই করছি।”
এই সাক্ষাৎকারে পরীমণি আবারও প্রমাণ করেছেন—তিনি যেমন খোলামেলা, তেমনি নিজের সত্য বলতে সাহসীও।










