ইমরান মাহমুদুলের পরিবারে নতুন সদস্য, কন্যাসন্তান জন্ম

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল বাবা হয়েছেন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর স্ত্রী মেহের আয়াত জেরিন কন্যাসন্তান প্রসব করেন। এটি দম্পতির প্রথম সন্তান।

আনন্দের খবরে ইমরান মাহমুদুল বলেন, “প্রথমবারের মতো বাবা হলাম। আল্লাহ আমাকে একটি সুস্থ ও সুন্দর কন্যাসন্তান উপহার দিয়েছেন। আমাদের ছোট্ট মেয়ের আগমন আমাদের জীবনকে আরও রঙিন করে দেবে ইন শা আল্লাহ।”

ইমরান মাহমুদুল ও মেহের আয়াত জেরিন ২০২৩ সালের ২৪ মে পারিবারিক আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। নতুন সন্তান ও স্ত্রীর সুস্থতার জন্য তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত ও সহকর্মীরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। সংগীতশিল্পী কর্ণিয়া লিখেছেন, “অভিনন্দন নতুন বাবা।” কণ্ঠশিল্পী পুতুল মন্তব্য করেছেন, “অভিনন্দন কন্যার বাবা-মাকে। ছোট্ট রাজকন্যাকে অনেক আদর।” এছাড়া আরও অসংখ্য শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে।

ইমরান মাহমুদুল ২০০৮ সালে চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংগীত ক্যারিয়ার শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি একক গান ও সংগীত পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। এক দশকের সংগীত ক্যারিয়ারে তিনি শ্রোতাপ্রিয় অনেক গান উপহার দিয়েছেন এবং বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছেন।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




শবনম ফারিয়ার দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী

আলোচিত অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া কয়েক মাস আগে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তার স্বামীর নাম তানজিম তৈয়ব। রাজধানীর মাদানি অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত একটি মসজিদে দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। মসজিদে বিয়ে করায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের মধ্যে কিছু সমালোচনা ও বিতর্কও দেখা দেয়। এছাড়া, তার স্বামীর বয়স নিয়েও কিছু আলোচনা হয়।

শবনম ফারিয়া সাম্প্রতিক একটি টিভি অনুষ্ঠানে এসব বিষয়ে পরিষ্কার কথা বলেছেন। তিনি জানান, “বাংলাদেশে বিয়ে করার সময় ছেলে বা মেয়ের কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের সীমা থাকে না। যেহেতু আমার বাবা নেই, তাই জীবনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মা ও বড় দুই বোন-বোন জামাইয়ের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। তাই মসজিদে বিয়ের সিদ্ধান্তও তাদের পরামর্শমতো নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, মসজিদে বিয়ের খবর প্রথমে গোপন রাখা হয়েছিল। বিবাহোত্তর সংবর্ধনা দিয়ে খবর জানানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে মসজিদে তোলা একটি ছবি কোনো এক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি অজানা থেকে যায়নি। পরে স্বামীর পরামর্শে ফেসবুকে বিয়ের খবর জানান।

শ্বশুরবাড়ির সমর্থনেও ছিলেন তিনি। শ্বশুর ও শাশুড়ি তাকে অনুরোধ করেন, “এসবে পাত্তা দেবেন না, মানুষ কিছুদিনের মধ্যেই ভুলে যাবে।” শবনম ফারিয়া বর সম্পর্কে বলেন, “আমার স্বামী অনেক ফিট। তাই বয়সটা তার চেয়ে কম মনে হয়, কিন্তু বাস্তবে সে আমার চেয়ে বয়সে বড়।”

শবনম ফারিয়ার ব্যক্তিগত জীবনেও বেশ নাটকীয় অধ্যায় ছিল। ২০১৫ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে হারুন অর রশীদ অপুর সঙ্গে পরিচয় হয়, যা বন্ধুত্বে রূপান্তরিত হয়। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তারা আংটি বদল করেন এবং ২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম বিয়ে সম্পন্ন হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তাদের সংসার ভেঙে যায়। এরপর শবনম ফারিয়া একা ছিলেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয়বার বিয়ে করেন শবনম ফারিয়া। এই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয় মসজিদে, যেখানে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন। তার স্বামী তানজিম তৈয়ব বেসরকারি ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। চলতি বছরের শেষে বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজনের পরিকল্পনা করেছেন শবনম ফারিয়া।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




নিশি’র বাংলাদেশ প্রিমিয়ার আজ জার্মান কালচারাল সেন্টারে

যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদাপূর্ণ এনভায়রনমেন্টাল মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (এমা) অ্যাওয়ার্ড জয়ী প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘নিশি’র বাংলাদেশ প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রযোজনা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইউরোপীয় চলচ্চিত্র উৎসবের অংশ হিসেবে ৬ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় ঢাকার জার্মান কালচারাল সেন্টারে এই প্রিমিয়ার আয়োজন করা হবে।

ছবিটির গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন গোলাম রাব্বানী। চলচ্চিত্র নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন জহিরুল ইসলাম। নির্মাতা গোলাম রাব্বানী জানান, “ছবিটি বিভিন্ন দেশে প্রদর্শিত হয়েছে, পুরস্কার পেয়েছে এবং ভবিষ্যতেও পাবার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য এটি প্রদর্শন করা আমাদের জন্য আলাদা আনন্দের। অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে ছবিটি দেখার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং এই প্রিমিয়ার সেই সুযোগ তৈরি করেছে।”

‘নিশি’ চলচ্চিত্রের গল্পে উঠে এসেছে এক চা-শ্রমিকের কন্যাসন্তানের পড়াশোনার বাধা পানির সংকটের কারণে। বাড়িতে টিউবওয়েল বসানোর প্রলোভন দেখিয়ে নাবালিকা নিশিকে বিয়ে করতে চায় কাঠ ব্যবসায়ী লালচাঁন। গল্পের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে প্রান্তিক এলাকার মানুষদের দৈনন্দিন চ্যালেঞ্জ ও জলবায়ু সংকটের প্রভাব।

ছবিটির চূড়ান্ত সম্পাদনা, রঙ ও সাউন্ড ডিজাইন সম্পন্ন হয়েছে পোল্যান্ডের লজ ফিল্ম স্কুলে। সেখানে চিত্রগ্রহণ পরিচালনা করেছেন প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী নাতালিয়া পুসনিক। শুটিং হয়েছে সিলেটের চা-বাগান ও আশপাশের এলাকায়। এতে অভিনয় করেছেন চা-বাগানের শ্রমিকের মেয়ে নিশি, চা শ্রমিক বিশ্বজিৎ, গণেশ ও ভারতী।

বাংলাদেশে ‘নিশি’র প্রিমিয়ার আয়োজন ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ, গ্রিন ফিল্ম স্কুল অ্যালায়েন্স ও ইউনেসকো ঢাকার সহযোগিতায় করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকদের জন্য বিশেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হবে, যেখানে তারা সামাজিক ও পরিবেশগত বার্তাবহ গল্প উপভোগ করতে পারবেন।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




চুপিসারে সাতপাকে বাঁধা সামান্থা রুথ প্রভু

ক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুকে নিয়ে প্রেমের গুঞ্জন চলছিল বহুদিন। আলোচনায় ছিল তার ব্যক্তিগত জীবন, বিশেষ করে নতুন সম্পর্কে জড়ানোর খবর। তবে তিনি সবসময় নীরব ছিলেন, কোনো তথ্য প্রকাশ্যে আনেননি। অবশেষে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে একেবারে চুপিসারে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন তিনি। শান্ত পরিবেশে, ঘনিষ্ঠ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নতুন জীবনে পা রাখলেন।

আগেও অভিনেত্রীর ব্যক্তিজীবন ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। ২০১৭ সালে দক্ষিণী তারকা নাগা চৈতন্যকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন সামান্থা। আলোচিত সেই সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি; বিচ্ছেদ ঘটে কয়েক বছরের মধ্যেই। পরে জানা যায়, নাগা নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী শোভিতা ধুলিপালার সঙ্গে এবং তাদের বিয়েও সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে সামান্থার নাম জুড়েছিল বলিউড নির্মাতা রাজ নিদিমরুর সঙ্গে। তবে দুজনই তাদের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খোলেননি।

অবশেষে সোমবার সকালে তামিলনাডুর কোয়েম্বাটুরে লিঙ্গ ভৈরবী মন্দিরে সাতপাকে বাঁধা পড়েন সামান্থা রুথ প্রভু ও পরিচালক রাজ নিদিমরু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বিয়ের ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তারা। ছবিতে বর-কনের হাস্যোজ্জ্বল মুখ যেন নতুন জীবনের আনন্দ আর ভালোবাসারই প্রতীক।

বিয়ের পিঁড়িতে সামান্থা ছিলেন দারুণ আকর্ষণীয়—লাল বেনারসি শাড়ি, ভারী সোনার গহনা, খোঁপায় ফুলের মালা—সব মিলিয়ে জমকালো অথচ শান্ত সৌন্দর্য ছড়াচ্ছিলেন তিনি। তার হাতে চোখে পড়ার মতো ঝলমলে হিরার আংটি নজর কেড়েছে ভক্তদের। অন্যদিকে রাজ নিদিমরুকে দেখা যায় সাদা পাঞ্জাবি-পাজামা ও অফ–হোয়াইট নেহেরু কোটে, যা অনুষ্ঠানের সরলতাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

খুব কাছের মানুষদের নিয়েই সহজ-সরল আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিয়ে সেরে ফেলেছেন তারা। আলোচনার ঝড় এড়িয়ে ব্যক্তিগত জীবনকে গোপন রাখতে চেয়েছেন, এটাই স্পষ্ট হয়েছে তাদের সিদ্ধান্তে। নতুন দাম্পত্য জীবন শুরু করায় ভক্তদের শুভেচ্ছায় ভরছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অনীত–আহান সম্পর্ক নিয়ে সত্যটি জানালেন আহান পান্ডে

বলিউডে রোমান্টিক সিনেমা ‘সাইয়ারা’ মুক্তির পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন নবাগত অভিনয়শিল্পী অনীত পাড্ডা ও আহান পান্ডে। তাদের অনস্ক্রিন রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করলেও পর্দার বাইরের ঘনিষ্ঠতা ঘিরে উঠেছিল নানা প্রশ্ন। ছবিটির অসম্ভব সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বিনোদন-পার্টিতে একসঙ্গে ঘনিষ্ঠ উপস্থিতি—সব মিলিয়ে ভক্তদের জল্পনা আরও বেড়ে যায়।

অবশেষে নীরবতা ভেঙে এ সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিলেন আহান পান্ডে। সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অনীতকে ঘিরে যে রোমান্সের গুঞ্জন ছড়িয়েছে তা বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে নয়। বরং তাদের সম্পর্কের কেন্দ্রে রয়েছে গভীর বন্ধুত্ব, আস্থা এবং নিরাপত্তার অনুভূতি

আহান বলেন, “অনীত আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু। মানুষ যতই আমাদের ‘জুটি’ ভাবুক না কেন, আমাদের সম্পর্কটা অন্যরকম। এটা প্রেম নয়—এটা পারস্পরিক ভালোবাসা, বোঝাপড়া আর বিশ্বাসের জায়গা থেকে তৈরি হওয়া বন্ধন।”

তিনি আরও জানান, ‘সাইয়ারা’ ছবির শুটিং বা বক্স অফিস সাফল্যের আগে থেকেই তাদের ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেছিল। দু’জনের পছন্দ–অপছন্দ, জীবনদর্শন এবং একই রকম ভাবনা তাদের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করেছে। বিশেষ করে পাওলো কোয়েলহোর একটি প্রিয় উক্তি—
“একটি স্বপ্ন সত্যি হওয়ার সম্ভাবনাই জীবনকে আকর্ষণীয় করে তোলে।”
এই দর্শনের প্রতি দুজনের সমান টান থেকেই তারা নিজেদের লক্ষ্য একসঙ্গে গড়ে তুলেছিলেন।

আহান বলেন, “আমাদের স্বপ্ন ছিল বড় পর্দায় জায়গা করে নেওয়া, আর ‘সাইয়ারা’ সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমরা প্রেম করি। আমাদের বন্ধুত্ব ভবিষ্যতেও একইরকম অটুট থাকবে।”

‘সাইয়ারা’র বিশ্বব্যাপী ৫০০ কোটি রুপি আয় ইতিমধ্যেই বলিউডে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। নতুন দুই তারকার অভিনয়, আবেগঘন গান এবং ভিন্নধর্মী রোমান্টিক উপস্থাপনা দর্শকদের মন জয় করেছে। বিশেষ করে অনীত–আহান জুটির পর্দার রসায়ন নিয়ে ভক্তদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো।

এদিকে সামনে নতুন কাজ নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন দুই শিল্পী। আহানকে দেখা যাবে আব্বাস আলী জাফর পরিচালিত একটি অ্যাকশন সিনেমায়, আর অনীত অভিনয় করবেন ম্যাডক ফিল্মস প্রযোজিত হরর–কমেডি ‘শক্তি শালিনী’তে।

তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ বাড়লেও আহানের ভাষায়—
“বন্ধুত্বই আমাদের আসল শক্তি। এই সম্পর্ক কখনো শেষ হবে না।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শিল্পী হতে হলে সুর তাল লয় ঠিক রাখতে হবে: রুনা লায়লা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : রুনা লায়লা  উপমহাদেশের সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম সুরের জাদুতে তিনি জয় করেছেন অসংখ্য শ্রোতাদের হৃদয় কিংবদন্তি এ সংগীতশিল্পী তার দীর্ঘ ছয় দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে উপহার দিয়েছেন দশ হাজারের বেশি গান। বাংলা, উর্দু, হিন্দি, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, আরবি, ফারসি, নেপালিসহ মোট ১৮টি ভাষায় কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি।

বর্তমান সময়ের সংগীত তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন রুনা লায়লা।

বিশেষ করে ‘অটো টিউন’ প্রযুক্তির ব্যবহার শিল্পীদের মৌলিকত্ব ও পরিশ্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে মনে করেন তিনি।

রুনা লায়লা বলেন, ‘অটো টিউন দিয়ে এখন যে কেউ গান গাইতে পারে। সো, এটা বললেই আপনি বুঝতে পারবেন যে এটা আমার পছন্দ, না অপছন্দ।’

তিনি বলেন, ‘আমি যদি নিজের সুর ঠিক না রাখতে পারি, তাহলে তো আমার শিল্পী হওয়াই উচিত না। কারণ অটোটিউনে যদি সবকিছু করে দেয়, আমার সুরও ঠিক করে দিচ্ছে। আমার কোথায় কী সমস্যা আছে ঠিক করে দিচ্ছে, আমি একটা মুখ গাইলাম তারপর আর মুখ গাইলাম না, ওটাই লাগিয়ে দিল আগে-পিছে করে।’

শিল্পী মনে করেন, প্রযুক্তির এই অতিরিক্ত ব্যবহার গানের আসল আবেগ ও স্বতঃস্ফূর্ততা (স্পন্টানিটি) নষ্ট করে দিচ্ছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘তাহলে তো জিনিসটা ওই স্পন্টানিটিটাও থাকে না, ওই ইমোশনও থাকে না।’

তার কথায়, ‘আমরা আগে যেরকম করতাম ফুল মিউজিশিয়ানদের নিয়ে একদম আমরা গান করতাম। সেই বিকেল ছটায় শুরু হলে পরের দিন সকাল ছটায় গিয়ে শেষ হতো। সব মিউজিশিয়ান সবার সাথে, একটা কেউ ভুল করলো তো আবার প্রথম থেকে শুরু করতাম ।




এআর রহমান কন্যার ব্যান্ড দলের পথ চলার শুভ সুচনা

চন্দ্রদ্বীপ ডেক্স : বিনোদন জগতের কিংবদন্তি সংগীতপরিচালক, সুরকার সংগীতশিল্পী অস্কারজয়ী এআর রহমান সম্প্রতি একটি নারী ব্যান্ড দলের ঘোষণা দিয়েছেন। যার নাম রাখা হয়েছেরুহনুর এর বাংলা অর্থ— ‘আত্মার আলো বিশেষ এই গানের দলটির সব সদস্যই নারী। আর এই ব্যান্ডের নেতৃত্বে আছেন তার মেয়ে খাতিজা রহমান।

এই ব্যান্ডে খাতিজা রহমান ছাড়াও রয়েছেন আরও পাঁচ গায়িকা। তারা হলেনপূজা তিওয়ারি, সানা আজিজ, শাওনি, আমিনা রফিক শিফা রুবি। আগামী ২১ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ শহরে তানভীর উৎসবে প্রথমবারের মতো মঞ্চে উঠবেন এই ব্যান্ডের নারীরা।

নতুন উদ্যোগ নিয়ে এআর রহমান বলেন, ‘রুহনুরশুধু একটি ব্যান্ড নয়, এটি এমন এক আলো, যা হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়কে যুক্ত করবে। প্রতিটি নারী সদস্য আধুনিক সংগীতশিল্পীর আত্মবিশ্বাস বহন করে। তাদের সম্মিলিত কণ্ঠ একাধারে নির্মল, শক্তিশালী, শিকড়সঞ্জাত ভবিষ্যৎমুখী।




সুরের মুর্ছনায় টরন্টো মাতাবেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা

চন্দ্রদ্বীপ ‍নিউজ :  টরন্টোতে শীতের শুরুতেই গানে গানে দর্শক মাতাবেন রবীন্দ্রসংগীতের প্রখ্যাত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। ২৩শে নভেম্বর ‘মোমেন্টস উইথ রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা’ শিরোনামের এই আয়োজনে বন্যার গানের সঙ্গে বাড়তি চমক হিসেবে থাকবে তাপস-নাহিদ জুটির নাচের বাহার। অনুষ্ঠানটি হবে টরন্টো শহরের স্বনামধন্য চাইনিজ কালচারাল সেন্টারে। মনোমুগ্ধকর এই আয়োজনে কালচারাল সেন্টারটিতে শিল্পী বন্যা পরিবেশন করবেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নির্বাচিত গান। তার গানের গভীরতা, নিখুঁত উচ্চারণ আর অনবদ্য আবেগের মিশেলে এই সন্ধ্যা হয়ে উঠবে কানাডার টরন্টো এবং আশপাশের শহরগুলোর প্রবাসী বাঙালিদের এক সাংস্কৃতিক পুনর্মিলন। এমনটাই মনে করছেন আয়োজন সংশ্লিষ্টরা। বন্যার গানের পাশাপাশি থাকবে নৃত্যের ছন্দও। মঞ্চে উঠবেন টরন্টোর জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী নাহিদ নাসরীন নয়ন ও তাপস দেব। তাদের নৃত্যে রবীন্দ্রসংগীতের সুর ও তালের সঙ্গে মিলবে এক মোহনীয় দৃষ্টিনন্দন রূপ। দারুণ এ আয়োজনের আয়োজক নাহিদ নাসরীন নয়ন এবং তাপস ড্যান্স গ্রুপের তাপস দেব। আয়োজক ও নৃত্যশিল্পী নাহিদ নাসরীন নয়ন বলেন, এই আয়োজন শুধু একটি সংগীতানুষ্ঠান নয়, এটি এক সাংস্কৃতিক উদ্‌যাপন। প্রবাসে থেকেও বাঙালির আত্মপরিচয়ের যে শেকড়, রবীন্দ্রনাথ সেই শেকড়েরই প্রতীক। আর বন্যার কণ্ঠ সেই শেকড়কে আবার জাগিয়ে তুলবে এই প্রবাসে। আমি নিশ্চিত, টরন্টোর শিল্পপ্রেমীরা ইতিমধ্যে অপেক্ষায় দিন গুনছেন, কবে তারা প্রিয় শিল্পীর কণ্ঠে শুনবেন ‘আজি ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে’ কিংবা ‘আমার মাথা নত করে দাও’- এর মতো গান। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নৃত্যশিল্পী ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের সভাপতি লায়লা হাসান। পুরো আয়োজনটি উপস্থাপনায় থাকছেন অজন্তা চৌধুরী ও শাকিলা নাজ। অনুষ্ঠানটিতে বাঁশি বাজাবেন জাহাঙ্গীর হোসেন।




ঢাকা-১৭ আসনে এমপি প্রার্থী হিরো আলম

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিলেন আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। এবার তিনি বগুড়ার বদলে লড়বেন রাজধানীর ঢাকা-১৭ আসন থেকে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকালে হিরো আলম গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ঢাকার ১৭ নম্বর আসন থেকে এমপি পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই আসনটি ক্যান্টনমেন্ট, গুলশান, বনানী, বারিধারা, মহাখালী ও মিরপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত। এতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৫ হাজার ২০৫ জন।

হিরো আলম বলেন, “নির্বাচন আমার কাছে শুধু জেতার লড়াই নয়, এটা জনগণের কণ্ঠ প্রকাশের একটি মাধ্যম। আগে যেমন অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি, এবারও করব। আমি চাই দেশে একটা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হোক। মানুষ যেন উৎসবের মতো ভোট দিতে পারে।”

তিনি জানান, বর্তমানে একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তার আলোচনা চলছে। তবে কোনো দলের সঙ্গে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। ব্যাটে-বলে মিললে কোনো দলে যোগ দেবেন, না হলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করবেন।

নিজেকে নিম্নবিত্ত শ্রেণির প্রতিনিধি দাবি করে হিরো আলম বলেন, “আমি সংসদে যেতে চাই গরিব, প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষের প্রতিনিধি হয়ে। কারণ দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি ওই পরিশ্রমী মানুষরাই। তারা দিনরাত কাজ করে দেশ এগিয়ে নেয়, অথচ তারাই রাষ্ট্রীয় সেবায় সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত।”

উল্লেখ্য, হিরো আলম এর আগে বগুড়া-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে ভোটের দিন হামলার শিকার হওয়ায় ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। সেই সময় আন্তর্জাতিক মহল এ হামলার নিন্দা জানায়।

এবারের নির্বাচনে হিরো আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থসহ জামায়াতে ইসলামি, এনসিপি এবং আরও কয়েকটি দলের প্রার্থী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ঐশ্বরিয়া রাই: সৌন্দর্যের সীমা পেরিয়ে অভিনয়ের মহিমায় অনন্য এক যাত্রা

ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ঐশ্বরিয়া রাই—একইসঙ্গে তিনি এক আইকন, এক শিল্পী, এক ইতিহাস। সৌন্দর্যের প্রতিমা হয়েও তিনি অভিনয়ের গভীরতা দিয়ে প্রমাণ করেছেন, একজন অভিনেত্রীর শক্তি শুধুই চেহারায় নয়, বরং চরিত্রে প্রাণ সঞ্চার করার ক্ষমতায়। বলিউড থেকে টলিউড—প্রতিটি চরিত্রে তিনি নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলেছেন। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক তার অভিনয় জীবনের সেরা অধ্যায়গুলো, যা তাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীদের কাতারে স্থান দিয়েছে।

হাম দিল দে চুকে সানাম
সঞ্জয় লীলা ভানসালির এই প্রেমকাহিনীতে নন্দিনী চরিত্রে ঐশ্বরিয়ার রূপ এবং অভিনয় একসঙ্গে দর্শকদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। সালমান খান ও অজয় দেবগনের সঙ্গে রোমান্টিক দৃশ্যগুলোতে যেমন তার প্রাণবন্ত হাসি মন জয় করেছিল, তেমনি দুঃখের মুহূর্তে ছিল বেদনাভরা বাস্তবতা। এই ছবিই তাকে এনে দেয় ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর প্রথম পুরস্কার এবং বলিউডে স্থায়ী আসন।

দেবদাস
ঐতিহাসিক এই ছবিতে পার্বতী (পারো) চরিত্রে অভিনয় করে তিনি যেন এক অনন্ত ভালোবাসার প্রতিমূর্তি হয়ে উঠেছিলেন। শাহরুখ খানের বিপরীতে তার চোখের ভাষাই ছিল সংলাপের চেয়ে বেশি প্রাণবন্ত। “দোলা রে দোলা” গানে তার নৃত্য ও অভিব্যক্তি আজও বলিউড ইতিহাসের সেরা মুহূর্তগুলোর একটি।

চোখের বালি
ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত এই বাংলা ছবিতে ঐশ্বরিয়া গ্ল্যামারের গণ্ডি ভেঙে একজন বিধবা নারীর জটিল অনুভূতি, আকাঙ্ক্ষা ও নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছিলেন। বিনোদিনী চরিত্রে তার সংযত অভিব্যক্তি ও মৃদু সংলাপ চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে এক অমর অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

রেইনকোট
এ ছবিতে অজয় দেবগনের সঙ্গে নীরজা চরিত্রে ঐশ্বরিয়া ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে। ঋতুপর্ণ ঘোষের সূক্ষ্ম গল্পনির্মাণে তিনি কৃত্রিমতা ছাড়াই এক প্রাক্তন প্রেমিকার মর্মবেদনা প্রকাশ করেন। এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সাহসী ও বাস্তবধর্মী অভিনয়।

যোধা আকবর
আশুতোষ গোয়ারিকর পরিচালিত এই ঐতিহাসিক কাহিনীতে রানি যোধা বাঈ চরিত্রে ঐশ্বরিয়া ছিলেন রূপ, বুদ্ধি ও মর্যাদার প্রতীক। হৃতিক রোশনের বিপরীতে তিনি ছিলেন রাজকীয় অথচ মানবিক, যা ছবির আবেগকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিল।

গুজারিশ
সঞ্জয় লীলা ভানসালির আরেক অনবদ্য ছবিতে হৃতিক রোশনের নার্স সোফিয়া চরিত্রে ঐশ্বরিয়া ছিলেন সংবেদনশীল ও নীরব আবেগের প্রতীক। ভালোবাসা, আত্মত্যাগ ও মানসিক শক্তির অনন্য মিশেলে এই চরিত্রে তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে যান।

ঐশ্বরিয়া রাই শুধু এক অভিনেত্রী নন; তিনি এক অনুপ্রেরণা, এক শিল্পধারার প্রতীক। সময়ের সঙ্গে তিনি প্রমাণ করেছেন—গ্ল্যামার ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু সত্যিকারের শিল্প চিরন্তন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম