সততাই আমার শক্তি: আজমেরী হক বাঁধন

শোবিজ অঙ্গনে খ্যাতি আর আলোচনার ভিড়ে খুব অল্প কিছু তারকা আছেন, যারা অভিনয়ের বাইরে নিজের চিন্তা, অবস্থান ও জীবনদর্শনের মাধ্যমে মানুষের কাছে অনুপ্রেরণায় পরিণত হন। সেই তালিকায় আজমেরী হক বাঁধনের নাম আলাদাভাবে উচ্চারিত হয়। তিনি কখনোই নিজের মতামত লুকিয়ে রাখেননি। সামাজিক ইস্যু, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা কিংবা জীবনসংগ্রাম—সব ক্ষেত্রেই ছিলেন স্পষ্ট ও সাহসী।
সম্প্রতি একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের জীবন, ভাবনা ও মানসিক শক্তির উৎস নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন এই অভিনেত্রী। কথোপকথনের শুরুতেই সঞ্চালক জানান, বাঁধনের সঙ্গে কথা বললে তিনি ভেতর থেকে শক্তি পান। জবাবে বাঁধন বলেন, তার আশপাশের অনেক মানুষই তার চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অনুপ্রাণিত হন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
নিজের শক্তির উৎস ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাঁধন বলেন, সততাই একজন মানুষকে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী করে তোলে। কাজের জায়গা হোক কিংবা ব্যক্তিগত জীবন—সবখানেই সৎ থাকার চেষ্টা তাকে মানসিকভাবে দৃঢ় করেছে। তার মতে, এই সততার জায়গাটাই তাকে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সাহস জুগিয়েছে।
সব বিষয়ে স্পষ্ট কথা বলার কারণে জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। তবে এসব বিষয় তাকে ভেঙে দেয়নি। বরং নেতিবাচক পরিস্থিতিতে তিনি নীরব থাকাকেই সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর মনে করেন। অপ্রয়োজনীয় বিতর্কে জড়িয়ে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে নিজের অবস্থানে অটল থাকাই তার কৌশল।
বাঁধন জানান, একসময় তার চারপাশের মানুষজন প্রায়ই বলত, তিনি যা করছেন সবই ভুল। কারণ তিনি বরাবরই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সময় যেসব কাজকে ভুল বলা হয়েছিল, সময়ের ব্যবধানে সেগুলোর জন্যই পরে প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। তার বিশ্বাস, সময়ই শেষ পর্যন্ত সঠিক ও ভুলের পার্থক্য দেখিয়ে দেয়।
অভিনয়, পুরস্কার বা জনপ্রিয়তার চেয়েও মানুষের জীবনে নিজের কাজ ও চিন্তার প্রভাব ফেলতে পারাকেই তিনি সবচেয়ে বড় সাফল্য মনে করেন। তিনি কখনো চাননি মানুষ তাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে কোনো তারকা হিসেবে দেখুক। বরং সাধারণ একজন নারীর মতো জীবনযাপন করেই সমাজের অন্য নারীদের সঙ্গে নিজের জীবনের মিল খুঁজে পাওয়ার সুযোগ করে দিতে চেয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় স্পষ্ট অবস্থানের কারণে বাঁধনকে প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, জীবনে এত ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে গেছেন যে এখন আর এসব সমালোচনা তাকে মানসিকভাবে নড়াতে পারে না। কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করেই তিনি মানসিকভাবে শক্ত হয়েছেন।
নিজের জীবনের এই শক্ত হয়ে ওঠার পেছনে প্রাক্তন স্বামীদের ভূমিকার কথাও অকপটে স্বীকার করেন বাঁধন। তার ভাষায়, জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতাগুলোই তাকে বাস্তবের সঙ্গে লড়াই করার প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার কারণেই আজ তিনি যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম।
উল্লেখ্য, মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রথম বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে নির্যাতনের শিকার হয়ে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিতে হয় বাঁধনকে। পরে ২০১০ সালে মাশরুর সিদ্দিকী সনেটকে বিয়ে করেন তিনি। চার বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে ২০১৪ সালে। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
আজমেরী হক বাঁধনের জীবনগল্প শুধু একজন অভিনেত্রীর গল্প নয়, এটি একজন নারীর সাহস, সততা ও আত্মসম্মানের লড়াইয়ের গল্প—যা এখনও অনেককে নতুন করে ভাবতে শেখাচ্ছে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম







