জয়া আহসানকে ঘিরে বিজেপি নেতার ক্ষোভ

সম্প্রতি ওপার বাংলায় মুক্তি পেয়েছে অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় নির্মিত ছবি ‘ডিয়ার মা’। দীর্ঘ এক দশক পর পরিচালনায় ফিরে এই সিনেমায় মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। ছবির প্রচারণায় গত কয়েকদিন ধরেই কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় সরব দেখা গেছে তাকে।

তবে এই প্রচারেই নতুন বিতর্কে জড়ালেন জয়া। কলকাতায় তার সক্রিয় উপস্থিতি ভালোভাবে নিতে পারেননি পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। একটি সংবাদ সম্মেলনে জয়ার বিরুদ্ধে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের এই অভিনেত্রী অনেকদিন ধরেই কলকাতায় আছেন। তবে তিনি কি একবারও বলেছেন, তাদের দেশে যা হচ্ছে, তা অন্যায়?”

শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন চলছে, আর সেই বিষয় নিয়ে কখনো মুখ খোলেননি জয়া আহসান। তার দাবি, একজন দায়িত্বশীল শিল্পী হিসেবে এই বিষয়ে অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল জয়ার।

বিজেপি নেতার বক্তব্যে ব্যঙ্গাত্মক সুর ছিল শুরু থেকেই। তিনি আরও বলেন, “জয়া আহসান বলে একজন অভিনেত্রী আছেন। একদম সামনে। মঞ্চ আলো করে! বড় মাপের অভিনেত্রী। তার জনপ্রিয়তা আছে, গ্রহণযোগ্যতা আছে। কিন্তু একবারও কি বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে যা হচ্ছে, অন্যায় হচ্ছে?”

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, জয়া একজন অভিনেত্রী হিসেবে সাংস্কৃতিক পরিসরে কাজ করছেন, তাই তাকে রাজনৈতিক ইস্যুতে জড়িয়ে আক্রমণ করা অনুচিত। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, একজন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত শিল্পীর পক্ষ থেকে এমন সংবেদনশীল বিষয়ে নীরবতা থাকা ঠিক নয়।

এদিকে, এই বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি জয়া আহসান। বরং তিনি বর্তমানে ব্যস্ত রয়েছেন ‘ডিয়ার মা’ সিনেমার প্রচারণা নিয়েই। কলকাতার বিভিন্ন টিভি অনুষ্ঠান, সংবাদ সম্মেলন ও সিনেমা হলের আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন তিনি নিয়মিত।

‘ডিয়ার মা’ সিনেমার মধ্য দিয়ে অনিরুদ্ধ রায় চৌধুরীর পরিচালনায় জয়ার কাজ দর্শকদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি করেছে। ছবির গল্প ও অভিনয়ে তার উপস্থিতি ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

তবে রাজনৈতিক বিতর্ক ছাপিয়ে একজন শিল্পীর কাজ নিয়েই দর্শকরা যতটা আগ্রহী, তা এখন সময়ই বলে দেবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে কাঁদলেন অপু বিশ্বাস

রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অবস্থিত দেশের স্বনামধন্য ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর একটি ভবনে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির জন্ম দিয়েছে। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৭ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছে আরও অনেকে, যাদের মধ্যে অন্তত ৭০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং ৪৮ জন গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো জাতি শোকে স্তব্ধ। দেশজুড়ে বইছে শোকের ছায়া, সোশ্যাল মিডিয়া পরিণত হয়েছে এক নিঃশব্দ কাঁদাঘরে। এই শোকমিছিলে সামিল হয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের অনেক তারকাও। দেশীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, “উত্তরা দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন কলেজে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা! আজ স্কুল ছুটির ঠিক মুহূর্তে দিয়াবাড়ি মাইলস্টোন কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের উপর বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। ভবনটিতে ছোট ছোট শিশুদের ক্লাস হতো। ক্লাস শেষে ছুটির সময়ে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অনেক নিরীহ শিশু ও শিক্ষক পুড়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এই সন্তানরা আমাদেরই সন্তান। আমাদের সবার দায়িত্ব এখন তাদের পাশে দাঁড়ানো। রক্তের প্রচণ্ড প্রয়োজন হতে পারে, আপনার একটি রক্তদান একটি প্রাণ বাঁচাতে পারে।”

অপুর এই বার্তায় ফুটে ওঠে এক মায়ের মমতা, এক শিল্পীর দায়িত্ববোধ এবং এক নাগরিকের সহমর্মিতা। তার এই বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “শুধু সিনেমার পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও আপনি একজন সত্যিকারের নায়িকা।”

প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার সময় ক্লাস শেষ করে বাইরে আসছিল শিক্ষার্থীরা। বিধ্বস্ত প্রশিক্ষণ বিমানটি ভবনের ছাদে আঘাত করে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনের বিভিন্ন কক্ষে। ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন শিশু নিহত হয়, অনেকেই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সরকারের বিভিন্ন সংস্থা, ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় অনেককে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ টেস্টেরও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এই ট্র্যাজেডি শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি জাতির বেদনার দিন হিসেবে ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিমান ট্র্যাজেডিতে কান্নায় ভাঙলেন বাঁধন

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো জাতি যখন শোকে মুহ্যমান, তখন এই ঘটনার গভীর প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের হৃদয়ে। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি শোক প্রকাশ করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে ঘটনাটিকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন বলে জানান।

বাঁধন লিখেছেন, “আমি এই ঘটনাটিকে খুব ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছি। আমার মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ওই রাস্তাটি আমার প্রতিদিনের পথের অংশ। তার স্কুলটি ওই প্রতিষ্ঠানের খুব কাছেই। সৌভাগ্যবশত, তারা এখন গ্রীষ্মের ছুটিতে রয়েছে। কিন্তু এই দুর্ঘটনা আমাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে, এতটাই যে আমি আমার অনুভূতি পুরোপুরি প্রকাশ করতেও পারছি না।”

তিনি আরও লিখেছেন, “যদি আমি কেবল দূর থেকে দেখেই এতটা ব্যথা অনুভব করি, তাহলে যারা এই ট্র্যাজেডির ভুক্তভোগী, তাদের বাবা-মা কী যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। এই ভয়াবহতার বর্ণনা দেওয়ার মতো শব্দ আমার নেই।”

নিজ কন্যা সায়রার প্রসঙ্গ টেনে বাঁধন লেখেন, “সেই নিষ্পাপ শিশুরা অন্য যেকোনো দিনের মতো সকালে স্কুলে গিয়েছিল। তারা জানত না, এটা তাদের জীবনের শেষ সকাল হতে যাচ্ছে। তাদের বাড়ি ফিরে আসার কথা ছিল নিরাপদে। কিন্তু একটি ট্র্যাজেডি তাদের জীবন কেড়ে নিল। আর যারা বেঁচে গেল, তাদের সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে ভয়াবহ ট্রমা।”

সবশেষে তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে লেখেন, “যারা প্রাণ হারিয়েছেন, আল্লাহ যেন তাদের শান্তি ও সান্ত্বনা দান করেন এবং তাদের পরিবারের এই অসহনীয় শোক সহ্য করার শক্তি দেন। জীবন কতটা অপ্রত্যাশিত, তা আমাকে সবচেয়ে বেদনাদায়কভাবে এই ঘটনাটি স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ তার রহমত বর্ষণ করুন, মৃতদের জান্নাত দান করুন এবং জীবিতদের ও তাদের পরিবারকে আরোগ্য ও সান্ত্বনা দান করুন।”

প্রসঙ্গত, রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অবস্থিত ‘মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়। ঘটনাস্থলেই বহু শিক্ষার্থী নিহত ও আহত হয়। জাতিসংঘ থেকে শুরু করে দেশের শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভক্তের ভালোবাসায় তৌসিফের চোখ ভিজল

ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ তৌসিফ মাহবুব। গত এক দশকে নাট্য অঙ্গনে নিজের অবস্থান পোক্ত করে নিয়েছেন এই তরুণ অভিনেতা। আদনান আল রাজীবের ‘অ্যাট অলটাইম দৌঁড়ের উপর’ নাটকের মধ্য দিয়ে তার অভিনয় যাত্রা শুরু। তারপর থেকে আর থেমে থাকেননি। প্রতিনিয়ত অভিনয়ে নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপন করছেন।

সাম্প্রতিক সময়েও নাটকে নিয়মিত হলেও, ছোটপর্দাকে একটি অনুশীলনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কারণ, তৌসিফ নিজেকে প্রস্তুত করছেন বড়পর্দার জন্য। সে লক্ষ্যেই কাজের মান, গল্প এবং বাজেটের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। আগে যেখানে ২-৩ দিনের মধ্যেই নাটকের শুটিং শেষ করতেন, এখন সেখানে একেকটি নাটকে সপ্তাহব্যাপী সময় দিচ্ছেন। সময় দিচ্ছেন চরিত্র নির্মাণে, দৃশ্য পরিকল্পনায় ও সংলাপ বিশ্লেষণে।

বর্তমানে নাটকের নিয়মিত অভিনেতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে। যদিও তৌসিফ সরাসরি এই বিষয়ে মন্তব্য করতে নারাজ, তবে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তার নাটকের বাজেট তুলনামূলক বেশি। জনপ্রিয়তাও বেড়েছে আগের তুলনায়। তার নাটক মুক্তি পেলেই ভিউয়ের সংখ্যায় মাইলফলক স্পর্শ করে। তরুণদের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা, ভালোবাসা ও অনুরাগ অন্য রকম।

এই অনুরাগের এক উজ্জ্বল প্রমাণ মিলেছে মেরিল প্রথম আলো পুরস্কার অনুষ্ঠানের দিন। ‘লাভ সাব’ নাটকে সেরা অভিনেতা হিসেবে পুরস্কার গ্রহণ করেন তৌসিফ। এই অর্জনের দিন ভক্ত রিফাত রাজ নামের এক তরুণের আচরণ তাকে অভিভূত করে তোলে।

রিফাত নামের এই তরুণ ভক্ত অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান আমন্ত্রণপত্র ছাড়াই। অনুমতি না পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি, কিন্তু অনুষ্ঠান চলাকালীন পুরোটা সময় তিনি বাইরে দাঁড়িয়ে অভিনেতার জন্য দোয়া করে যান। যখন তৌসিফ পুরস্কার পান, তখন রিফাত তা জানেন ফেসবুক থেকে। তারপর ছুটে যান তৌসিফের বাসার সামনে। হাতে দুটো মিষ্টির প্যাকেট—একটা তিনি তৌসিফকে খাওয়াবেন, আরেকটা তৌসিফ তাকে খাওয়াবেন—এই চিন্তা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন সেখানে। তৌসিফ বাসায় ফিরেই বিষয়টি জানতে পারেন এবং আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

তৌসিফ বলেন, “ভক্তদের জন্যই তো সব কষ্টকে তুচ্ছ মনে হয়। তাদের এমন নিখাদ ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।”

ব্যক্তিগত জীবনে তৌসিফ একজন নিভৃতচারী মানুষ। তিনি বলেন, “আমি ৬-৭ ঘণ্টা চুপচাপ এক জায়গায় বসে থাকতে পারি। আমার ভাবনাগুলোই অভিনয়ে কাজে লাগে। নাটকে আমি হয়তো অনেক কথা বলি, অনেক কিছু করি, কিন্তু বাস্তবে আমি একদম অন্যরকম।”

তৌসিফের মতো শিল্পীদের জন্যই নাট্য অঙ্গন আজও তরুণ প্রজন্মের ভালোবাসায় উদ্ভাসিত। ভক্তদের আবেগ, ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণা নিয়েই তিনি এগিয়ে যেতে চান আরও বহুদূর।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



‘বিগ বস ১৯’-এ রেকর্ড পারিশ্রমিক নিচ্ছেন সালমান খান!

বলিউড সুপারস্টার সালমান খান ছাড়া যেন জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘বিগ বস’ ভাবাই যায় না। প্রতি সিজনে তার স্বভাবসুলভ উপস্থাপনা এবং দৃঢ় উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এনে দেয় আলাদা জনপ্রিয়তা। এবার ‘বিগ বস ১৯’–এর জন্য পারিশ্রমিকের দিক থেকেও নতুন রেকর্ড গড়ছেন ভাইজান।

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ সপ্তাহে সম্প্রচার শুরু হবে ‘বিগ বস ১৯’। প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে চলবে এই রিয়েলিটি শো। এ সিজনের জন্য সালমান খান নিচ্ছেন ৩০০ কোটিরও বেশি পারিশ্রমিক! এর আগের সিজন অর্থাৎ ‘বিগ বস ১৮’-এর জন্য তিনি নিয়েছিলেন প্রায় ২৫০ কোটি টাকা, আর ‘বিগ বস ১৭’-এ নিয়েছিলেন ২০০ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে তার পারিশ্রমিক বেড়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি সালমান খান বা শো কর্তৃপক্ষ। তার পরও এই বিপুল অঙ্কের পারিশ্রমিক ঘিরে ইতোমধ্যেই তুমুল আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে ভক্ত ও মিডিয়া মহলে।

এদিকে সালমান খানকে সবশেষ দেখা গেছে অ্যাকশন থ্রিলার ‘সিকান্দার’ সিনেমায়, যেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেন রাশমিকা মান্দানা। তবে ছবিটি প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পায়নি এবং বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়ে।

সিনেমায় একের পর এক চ্যালেঞ্জ থাকলেও ‘বিগ বস’-এর মতো রিয়েলিটি শোয়ে সালমান খানের উপস্থিতিই যেন বাড়িয়ে দেয় অনুষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা ও টিআরপি। আর তার এই আকাশচুম্বী পারিশ্রমিকও সেই জনপ্রিয়তারই প্রমাণ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




স্কারলেট জোহানসনের নতুন রেকর্ড, বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী অভিনেতার খেতাব এখন তার

হলিউড তারকা স্কারলেট জোহানসন গড়লেন অভিনব এক রেকর্ড। সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড: রিবার্থ’ সিনেমার বিশাল সফলতার পর তার অভিনীত ছবিগুলোর সম্মিলিত আয় গিয়ে ঠেকেছে ১৪.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা তাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী প্রধান অভিনেতার আসনে বসিয়েছে। মার্কিন চলচ্চিত্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য র‍্যাপ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চলচ্চিত্র জগতে ৪০ বছরে পা রাখা এই অভিনেত্রী বরাবরই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রে। তবে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় লাফ এসেছে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স (MCU) থেকে। বিশেষ করে ‘অ্যাভেঞ্জার্স’ সিরিজ ও ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’–এ ব্ল্যাক উইডো চরিত্রে অভিনয় করে তিনি বক্স অফিসে ৮.৭ বিলিয়ন ডলার তুলে এনেছেন একাই।

সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জুরাসিক ওয়ার্ল্ড: রিবার্থ’–এ জোরা বেনেট চরিত্রে স্কারলেটকে দেখা গেছে এক সাবেক সামরিক অফিসার হিসেবে, যাকে পাঠানো হয় ডাইনোসর-আক্রান্ত দ্বীপে ভয়ঙ্কর এক অভিযানে। মুক্তির মাত্র ৬ দিনের মাথায় সিনেমাটি আয় করেছে ৩১৮ মিলিয়ন ডলার, যা এ বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়।

বক্স অফিস বিশ্লেষক সাইট দ্য নাম্বার্স জানিয়েছে, প্রধান চরিত্রে থাকা স্কারলেটের ছবিগুলোর সম্মিলিত আয় ১৪.৮ বিলিয়ন ডলার, যা রবার্ট ডাউনি জুনিয়র (৪৫টি সিনেমা) এবং স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন (৭১টি সিনেমা)-এর মতো তারকাকেও পেছনে ফেলেছে। অথচ স্কারলেট এই রেকর্ড গড়েছেন মাত্র ৩৬টি সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেই।

তার অর্জনের পেছনে রয়েছে ‘আয়রন ম্যান ২’ থেকে শুরু করে অ্যানিমেটেড হিট সিরিজ ‘সিং’-এ রকস্টার পোর্কুপাইন অ্যাশ চরিত্রে ভয়েস অভিনয়ের অবদানও। এই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি শুধু বক্স অফিসে নয়, হলিউড ইতিহাসেও নতুন এক মাইলফলক গড়েছেন।

বর্তমানে শীর্ষ পাঁচ আয়কারী অভিনেতার তালিকায় আছেন স্কারলেট জোহানসনের সঙ্গে আরও রয়েছেন টম হ্যাঙ্কস, ক্রিস প্র্যাট, স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন ও রবার্ট ডাউনি জুনিয়র।

এস এম/বার্তা২৪.কম




অবশেষে ফিরছেন বিদ্যা সিনহা মিম, মুক্তির অপেক্ষায় নতুন সিনেমা

দীর্ঘ বিরতির পর আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম। ২০২২ সালের আলোচিত ছবি ‘পরাণ’ দিয়ে দর্শকপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে এলেও এরপর থেকে সিনেমা জগতে তিনি ছিলেন অনেকটাই অনুপস্থিত। ‘দামাল’ সিনেমাটি মুক্তি পেলেও প্রত্যাশিত সাড়া পায়নি। তবে এবার নতুন সিনেমা নিয়ে আশার আলো দেখাচ্ছেন মিম।

সর্বশেষ মিম অভিনয় করেছেন ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ নামের একটি সিনেমায়, যেখানে তিনি শহীদ বুদ্ধিজীবী শহীদুল্লাহ কায়সারের স্ত্রী ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পান্না কায়সারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ওয়াহিদ তারেক পরিচালিত এ সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বাড়ছে ধীরে ধীরে।

মিম বলেন, “সিনেমাটির শুটিং শেষ। কিছু প্যাচওয়ার্কের কাজ বাকি রয়েছে, যেগুলো ১৬ ও ১৭ জুলাই করা হবে। এরপর পুরো কাজ শেষ হবে। আমি সিনেমাটি নিয়ে অনেক বেশি আশাবাদী।”

তিনি আরও যোগ করেন, “গল্পটা সত্যিই খুব সুন্দর। আশা করছি দর্শকরা হলে গিয়ে সিনেমাটি উপভোগ করবেন।”

এ ছবির মাধ্যমে ক্যামেরার সামনে আবারও পুরোদমে ফিরছেন মিম। যদিও মাঝে কিছু বিজ্ঞাপন ও ফটোশুটে অংশ নিয়ে মিডিয়ায় আলোচনায় ছিলেন, তবে সিনেমার পর্দায় তাকে দেখা যায়নি দীর্ঘ সময়।

এছাড়া ওয়েব সিরিজেও অভিনয় করেছেন মিম। তবে এখনই কোনো নতুন কাজের ঘোষণা না দিলেও জানিয়েছেন, “নতুন কাজের প্রস্তাব আসছে, কিন্তু গল্প ও চরিত্র যদি ভালো লাগে, তাহলেই করব।”

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা সফর নিয়েও বেশ উচ্ছ্বসিত মিম। তিনি বলেন, “সারা ১০ দিন শ্রীলঙ্কায় ছিলাম। এবারের ভ্রমণটা অনেক আনন্দের ছিল। এত সুন্দর জায়গা ঘুরেছি যে, দ্বিতীয়বার আর না গেলেও চলবে!”

সব মিলিয়ে ‘পরাণ’ খ্যাত এই অভিনেত্রীর নতুন সিনেমা ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ দিয়ে সিনেমায় তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে দর্শকদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।

এস এম/বার্তা২৪.কম




জন্মদিনে টম ক্রুজ সম্পর্কে ২০টি চমকপ্রদ তথ্

হলিউডের অ্যাকশন কিংবদন্তি টম ক্রুজ আজ ৬৩ বছরে পা দিলেন। চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি মুগ্ধ করে চলেছেন বিশ্বব্যাপী দর্শকদের। ‘টপ গান’ থেকে শুরু করে ‘মিশন: ইমপসিবল’ সিরিজ— প্রতিটি সিনেমাতেই তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন। এই তারকার জন্মদিনে চলুন জেনে নিই তাঁর জীবন ও ক্যারিয়ার ঘিরে কিছু অজানা ও দারুণ তথ্য—


জন্ম ১৯৬২ সালের ৩ জুলাই, নিউইয়র্কের সিরাকিউজ শহরে। ছোটবেলা থেকেই অভিনয় ভালোবাসতেন—ডোনাল্ড ডাক ও এলভিস প্রিসলির অনুকরণ করতেন।

স্কুলজীবনে ডিসলেক্সিয়া থাকার কারণে পড়াশোনায় পিছিয়ে ছিলেন, কিন্তু নাটক ও খেলাধুলায় ছিলেন সবার প্রিয়।

‘গাইজ অ্যান্ড ডলস’ নাটকে অভিনয়ের পর তিনি পেশাদার অভিনেতা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

১৯৮১ সালে ‘Taps’ ছবির মাধ্যমে হলিউডে অভিষেক ঘটে তাঁর।


চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার ও সাফল্য

‘রিস্কি বিজনেস’ (1983) সিনেমার সেই বিখ্যাত নাচের দৃশ্য তাঁর নিজের কোরিওগ্রাফ করা।

‘টপ গান’ (1986) সিনেমার মাধ্যমে হলিউডের শীর্ষ তারকা হয়ে ওঠেন।

১৯৯০ সালে পিপল ম্যাগাজিন তাঁকে “Most Sexy Star” ঘোষণা করে।

‘বর্ন অন দ্য ফোর্থ অব জুলাই’-তে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য প্রথমবার অস্কার মনোনয়ন পান।

১৯৯৬ সালে ‘Mission: Impossible’ মুক্তি পায় এবং এক নতুন অ্যাকশন ফ্র্যাঞ্চাইজির শুরু হয়। স্টান্টগুলো তিনি নিজেই করেন, যেমন: বুর্জ খলিফা থেকে ঝুলে পড়া, হেলিকপ্টার চালানো, স্কাইডাইভিং ইত্যাদি

২০২5 সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য ফাইনাল রেকনিং’-এ ১৬ বার আগুনে পোড়া প্যারাস্যুট নিয়ে হেলিকপ্টার থেকে লাফিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন।


ব্যক্তিগত জীবন

এখন পর্যন্ত তিনবার বিয়ে করেছেন: মিমি রজার্স (1987), নিকোল কিডম্যান (1990), কেটি হোমস (2006)। তিনটি সম্পর্কই বিচ্ছেদে শেষ হয়।

কেটির সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আর বিয়ে করেননি। বর্তমানে কিউবান অভিনেত্রী আনা দে আরমাসের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।

সম্মাননা ও রেকর্ড

সব মিলিয়ে তাঁর সিনেমাগুলোর মোট আয় ১৩.৩ বিলিয়ন ডলার, যা তাঁকে বিশ্বের অন্যতম বক্স অফিস রাজা বানিয়েছে।

বহুবার অস্কারে মনোনীত হলেও জিততে পারেননি। তবে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তিনি সম্মানসূচক অস্কার পেতে যাচ্ছেন।

‘Mission: Impossible’ ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম প্রযোজকও তিনি।

ভবিষ্যৎ প্রকল্প

সামনে তাঁকে দেখা যাবে অস্কারজয়ী পরিচালক আলেহান্দ্রো গনজালেস ইনারিতুর একটি কমেডি সিনেমায়। মুক্তি: ২ অক্টোবর ২০২৬

মজার কিছু তথ্য

ব্যক্তিগত জিমের নাম দিয়েছেন “Pain Cave” – যেখানে নিজেই প্রতিদিন প্রশিক্ষণ নেন।

তিনি বিশ্বাস করেন, যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন ‘মিশন: ইমপসিবল’ করবেন। একবার বলেছিলেন, “শেষ বলে কিছু আছে নাকি?

মুভি শুটিংয়ে ডামি বা স্টান্টম্যান ব্যবহার না করে নিজেই সব স্টান্ট করেন। বিমানের বাইরের দরজায় ঝুলে থাকা, ছাদ থেকে লাফ দেওয়া, পাহাড় বেয়ে ওঠা—সব করেছেন স্বয়ং।

তিনি সায়েন্টোলজি ধর্মের অনুসারী, যা নিয়ে অনেক বিতর্ক থাকলেও, তাঁর আত্মনিবেদন ও আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা এখান থেকেই অনেকটা গড়ে উঠেছে।

টম ক্রুজ শুধু অভিনেতা নন, একজন জীবন্ত কিংবদন্তি।
তাঁর অভিনয়, দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, ও সাহসিকতা কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা।
জন্মদিনে তাঁর জন্য রইল অফুরন্ত শুভেচ্ছা ও দীর্ঘায়ু কামনা!

 




বাচ্চাদের যেভাবে বড় করছেন জানালেন পরীমণি

ঢালিউডের আলোচিত-সমালোচিত নায়িকা পরীমণি। তার অভিনয় ক্যারিয়ার থেকে ব্যক্তিজীবন- সব ক্ষেত্রেই তুমুল বিতর্ক থাকলেও বেশিরভাগ মানুষ এটা স্বীকার করেন যে, মা হিসেবে পরীমণি অতুলনীয়। দুটি সন্তানকে কিভাবে একা হাতে সামলাচ্ছেন তা দেখার মতো। সন্তানরাই যেন এখন তার প্রথম পৃথিবী হয়ে উঠেছে।

তাই অনেকেরই জানার আগ্রহ রয়েছে, পরী কিভাবে তার সন্তানদের বড় করছেন? ছোট বয়স থেকেই কোন মূল্যবোধের চর্চা করাচ্ছেন? অবশেষে পরী নিজেই এক লম্বা পোস্টের মাধ্যমে নিজের মাতৃত্ব, গুড প্যারেন্টিং এবং সন্তানদের বড় করা নিয়ে নানা দিক তুলে ধরেছেন।

পরীমণি লিখেছেন, ‘একটা এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করি! মনে হলো দরকার আছে। খেয়াল করে দেখবেন, আপনার আশেপাশে কিছু মানুষ থাকবে তারা আপনার প্রতি তাদের কেয়ার বোঝানোর জন্য তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ভালো মন্দ নানান জিনিস উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরবে। যে এটা করবা, এটা করলে এটা ভালো হবে। এটা করবা না, এটা করলে এটা মন্দ হবে।

সেরকম আমার এক পরিচিত মানুষ (মায়ের সমতুল্য) আমাকে নানান রকম বুদ্ধি পরামর্শ দিতেন আর কি! আমার বাচ্চা নিয়ে দিতো। আমার ছেলে তখন একদমই ছোট। দুই/তিন মাসের হবে। আমি তো তখন প্রতিদিন নতুন নতুন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এখন অব্দি যাচ্ছি…

উনি সেসময়ে আমাকে নানান কিছু শেখাতেন। নতুন মায়েদের অবশ্য সবাই শেখাতে আসে। কিছু আসলে জানুক আর না জানুক। যাইহোক, উনি আমাকে বুঝাতেন- বাচ্চাকে ডিমের কুসুম দিতে ৩ মাস পর থেকেই (যেটা একদমই ঠিক নয়), আরও শেখাতেন- বাচ্চা বসা শিখলেই আমি যেন বাচ্চাকে ওয়াকার দিয়ে দেই! তাহলে নাকি বাচ্চা দ্রুত হাঁটতে শিখবে! আমি দেইনি বলে উনি নিজেই একদিন কিনে নিয়ে এলেন (যেটা এখন সাইন্টিফিক্যালি একদম ব্যান করে দেওয়া হয়েছে। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে এতে বাচ্চাদের মেরুদণ্ডের ক্ষতি করে। পঙ্গুত্ব পর্যন্ত হতে পারে!) তবে এ রকম অনেক ভুলভাল পরামর্শের মধ্যে কিছু ভালো জিনিসও উনি আমাকে শিখিয়েছেন। যেমন বাচ্চাকে প্রপার ওয়েতে ব্রেষ্ট ফিড করানো, তেল মালিশ করা, বাচ্চার গ্যাস ফাইন্ডআউট করা। আমি অবশ্যই তার জন্য কৃতজ্ঞ।’

এরপর তিনি এই লেখাটি কেন লিখছেন সে কথা তুলে ধরেন। পরীর ভাষ্য, ‘‘আজকের এই লেখাটার কারণ হচ্ছে অন্য একজন মায়ের জন্য। তার একটা ভিডিও আমি দেখলাম তার তিন বছরের বাচ্চাকে নিয়ে শপিংমলে শপিং করার ফুটেজে ভয়েস ওভারে গুড প্যারেন্টিং নিয়ে কথা বলতে! কথা বলা তো নয় বলা যায় এক রকম জ্ঞান দিচ্ছিলো আর কি। আমি খেয়াল করলাম, এই কথাগুলো আমার পরিচিত! কথাগুলো এমন- ‘বাবা মায়ের সাধ্য থাকলেও তাদের উচিত না বাচ্চাকে সব কিনে দেয়া। ঈদের শপিং এ তার ৩ বছরের বাচ্চাকে অপশন দিয়েছেন হয় জামা নিতে পারবে না হয় খেলনা।’’

এরপর পরী লিখেছেন, ‘এই কথাগুলো আমাকেও বলা হয়েছিলো। ওই যে যিনি আমাকে গুড প্যারেন্টিং নিয়ে উপদেশ দিতেন। উনি আমাকে এটাও বলেছিলেন, যে তার বাচ্চারা ছোটবেলায় বাইরে গেলে চিপস কিনতে চাইলেও নাকি তাদের তখন কিনে দেয়া হতো না। পরের দিন দিত। এতে নাকি বাচ্চার তার বাবা মায়ের সমর্থের উপর আস্থা আসে। বাচ্চা নাকি এতে অভাব বুঝতে শেখে। যাইহোক তারা তাই-ই শিখছে, মানে ওই ‘অভাব’ আর কি।

সরি ভাই! আমার মোটেও এই ধরনের প্যারেন্টিং বোধগম্যে হলো না। এই যে একটা বিষয়, ছোট্ট একটা বাচ্চা ২/৩ বছরের, ওরে তুমি অভাব শেখাও! কেমনে? তুমি তো ওরে মনুষত্ব শেখাবা। তবেই ও অভাব না শিখে অভাববোধ শিখবে। বাবা মায়ের সাধ্য সমর্থ্যের সঠিক মূল্যায়ন করতে শিখবে। না হলে বড় হয়ে তোমার মতোই ধোকাবাজি শিখবে।’ সবশেষে পরী লেখেন, ‘ভাই আমি বুঝিনা কোনও টোকাইও চায় তার বাচ্চাকে অন্তত ঈদের সময় দুনিয়াটা কিনে দিতে। আর আপনার সাধ্য আছে নিউ মার্কেট থেকে কেনাকাটার তাহলে আপনি নিশ্চয়ই বাচ্চাকে নিয়ে দুবাই চলে যাবেন না তাই না। এতে আপনার বাচ্চার কোমল মন ছোট অনুভব করে। অভাববোধ শেখাতে গিয়ে আপনি তাকে কৃপণ্যতা শেখাচ্ছেন।

হ্যাঁ, আমি আমার ছেলেকে একদম ছোট থেকেই খেলনার দোকানে ছেড়ে দিই। আর বলি, ‘আমার বাজান তোমার যা কিছু ভালো লাগে তুমি নিতে পারো।’ ফলে আমি ওর খুশি হওয়া দেখি। আমি দেখি কত লোভনীয় হার্মফুল টয় (পিস্তল, বন্দুক ইত্যাদি) ও ধরে না। ব্যাস, এতটুকুই শিক্ষা এই বয়সের জন্য যথেষ্ট। এক বস্তা খেলনা কিনে যখন সবাইকে ভাগ করে দেয়! ব্যাস, এতটুকু মন উদার হওয়াটাই ওর এই বয়সের জন্য যথেষ্ট। আমি জানি প্রত্যেক মায়ের বা বাচ্চাদের বড় হওয়ার জার্নি এক রকম নয়। শুধু এইটুকু বলার, আপনার সোশ্যাল কোনো কম্পিটিশনের মধ্যে বাচ্চদের ফেলবেন না প্লিজ।’




নোবেলের সঙ্গে ইডেনের সেই ছাত্রীর বিয়ের নির্দেশ আদালতে

গায়ক মাইনুল আহসান নোবেলের সঙ্গে ধর্ষণ মামলার বাদী—ইডেন মহিলা কলেজের এক সাবেক শিক্ষার্থীর—রেজিস্ট্রি কাবিননামা অনুযায়ী বিবাহ সম্পাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কারা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। উভয়ের সম্মতিতে এই বিয়ের আয়োজন করার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

বুধবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে নোবেলের আইনজীবী এ বিষয়ে একটি আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, ২০ মে থেকে নোবেল কারাগারে আটক রয়েছেন। বাদী ও আসামির মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে মামলা দায়ের হয়েছিল। এখন তারা পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চান। তাই জেলহাজতে বিয়ের অনুমতি প্রদান একান্ত প্রয়োজন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি গ্রহণ করেন।

এর আগে, গত ১৯ মে রাত ২টার দিকে রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের একটি বাসা থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন (২০ মে) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। এদিকে, নোবেলের পক্ষে জামিন চাওয়া হলেও ম্যাজিস্ট্রেট জিয়া উদ্দিন আহমেদ তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।