ববিতা ৭২ বছরে, কোথায় কাটছে তার দিন?

ঢালিউডের কিংবদন্তি নায়িকা ববিতা আজ ৭২ বছরে পা দিয়েছেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তিনি এক অবিস্মরণীয় নাম, যিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশকে গৌরবান্বিত করেছেন। সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ ছবিতে তাঁর অভিনয় তাঁকে বিশ্বখ্যাত করেছে। ‘ডার্লিং অব রেড কার্পেট’ উপাধিতে সজ্জিত ববিতা বর্তমানে বেশিরভাগ সময় কাটান কানাডায়, একমাত্র ছেলে অনীকের সঙ্গে।

ববিতার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ‘অশনি সংকেত’ সিনেমার দৃশ্যের কোলাজ

জন্মদিন বেশ কিছু বছর ধরে ছেলের সঙ্গে পালন করার চেষ্টা করেন ববিতা, যদিও গত বছর অসুস্থতার কারণে ছেলেকে ছাড়া বাংলাদেশেই দিনটি কাটাতে হয়েছিল। কানাডায় সময় কাটানোর ব্যস্ততার মাঝেও ছেলের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া ও ছবি তোলা তাঁর রোজকার একটি অংশ। দেশের মানুষকে অনেক মিস করেন তিনি।

১৯৫৩ সালে বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করা ববিতার আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি। তাঁর বড় বোন সুচন্দা ছিলেন দেশের নামকরা চিত্রনায়িকা, যিনি ববিতার চলচ্চিত্র জীবনের বড় অনুপ্রেরণা। ১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে ‘সংসার’ ছবিতে অভিষেক হয় তাঁর, এরপর ‘শেষ পর্যন্ত’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন ১৯৬৯ সালে।

ববিতার সর্বোচ্চ সফল সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘নয়নমনি’, ‘বসুন্ধরা’, ‘বাঁদী থেকে বেগম’, ‘রামের সুমতি’, ‘পোকামাকড়ের ঘর বসতি’, ‘হাছন রাজা’ প্রভৃতি। তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন সর্বমোট সাতবার এবং ২০১৬ সালে পেয়েছেন আজীবন সম্মাননা।

সেকালে ম্যাগাজিনের কভারে স্টাইল আইকন ববিতা
সেকালে ম্যাগাজিনের কভারে স্টাইল আইকন ববিতা

যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে আয়োজিত চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর সম্মানে ‘ববিতা দিবস’ ঘোষণা করা হয়। ববিতা ২৫০-এর বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন, যার মধ্যে সত্তর থেকে বর্তমান পর্যন্ত বহু সফল ও জনপ্রিয় ছবি রয়েছে।

বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে থাকলেও শোবিজের সঙ্গে সংযোগ রেখেছেন এবং তরুণ প্রজন্মের কাছে এখনও আদর্শ নায়িকা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলকাতা দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জয়া আহসান

ঢাকাই মিডিয়া থেকে যাত্রা শুরু করা অভিনেত্রী জয়া আহসান আজ কলকাতা চলচ্চিত্রজগতে একটি বিশিষ্ট নাম। মডেলিং, নাটক ও সিনেমায় নিজের প্রতিভা প্রমাণ করার পর তিনি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। ঢাকার ‘ডুবসাতার’, ‘ব্যাচেলর’, ‘ফিরে এসো বেহুলা’র মতো প্রশংসিত ছবির পাশাপাশি ‘গেরিলা’ ও ‘চোরাবালি’র মতো বাণিজ্যিক সফল চলচ্চিত্র তার ক্যারিয়ারকে ভিন্ন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। এই দুটি ছবিই তাকে এনে দেয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

পরবর্তীতে শাকিব খানের সঙ্গে ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’ ছবির মাধ্যমে ঢালিউডের মেইনস্ট্রিম বাণিজ্যিক ধারাতেও জয়ার অবস্থান দৃঢ় হয়। কিন্তু এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। নিজের প্রতিভা ও পরিশ্রম নিয়ে পাড়ি জমান কলকাতায়। ২০১৩ সালে অরিন্দম শীলের ‘আবর্ত’ ছবির মাধ্যমে কলকাতার টলিউডে আত্মপ্রকাশ ঘটে তার। এরপর থেকে একে একে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি পশ্চিমবঙ্গের চলচ্চিত্রে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।

জয়ার অভিনয় দক্ষতা কলকাতার প্রথিতযশা নির্মাতাদের নজর কাড়ে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘বিসর্জন’, ‘বিজয়া’, ‘ঈগলের চোখ’, ‘ভালোবাসার শহর’, ‘কণ্ঠ’, ‘এক যে ছিল রাজা’, ‘রাজকাহিনী’, ‘ক্রিসক্রস’, ‘রবিবার’, ‘অর্ধাঙ্গিনী’, ‘দশম অবতার’, ‘ভূতপরী’, ‘ডিয়ার মা’ প্রভৃতি। প্রতিটি ছবিতেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করে গেছেন তিনি।

এই অব্যাহত সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ইতোমধ্যেই কলকাতার সম্মানজনক ‘ফিল্মফেয়ার বাংলা’ পুরস্কার জিতেছেন চারবার, যা সেখানে অভিনয়ে উচ্চতার প্রতীক। অনেক নির্মাতা ও দর্শকের মতেই জয়া কলকাতার সবচেয়ে ভরসাযোগ্য অভিনেত্রীদের একজন।

জয়া আহসান । ছবি: ফেসবুক
জয়া আহসান । ছবি: ফেসবুক

তবে এমন উত্থান সবসময়ই প্রশংসা কুড়ায় না। কলকাতার ইন্ডাস্ট্রিতে একটি শ্রেণি মনে করেন, জয়া ‘ঢাকা থেকে এসে’ সব ভালো চরিত্র নিজের করে নিয়েছেন। এমনকি অনেকেই ঠাট্টায় বলেন, ‘কাচ্চি বিরিয়ানি খাইয়ে বড় বড় পরিচালকদের ছবিতে জায়গা করে নেন।’ সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ডিয়ার মা’ ছবির প্রচারণায় এই প্রসঙ্গ তুলে ধরলে জয়া হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, তিনি বরং কলকাতায় একা থাকার কারণে নির্মাতাদের বাড়ি থেকে খাবার খেয়ে চলে আসেন!

জয়া আরও বলেন, ভালো চরিত্রগুলো তিনি পেয়েছেন নির্মাতাদের ও দর্শকদের ভালোবাসার কারণে। সবাই তার ওপর ভরসা করেন বলেই এ সুযোগ এসেছে। তবে তিনি একাই যে সব চরিত্র করছেন, তা মোটেও সত্য নয়। কারণ প্রতিটি চরিত্রের জন্য আলাদা শিল্পী উপযুক্ত। মিমি চক্রবর্তী বা সোহিনী সরকার যে চরিত্রগুলো করেন, সেগুলো তার পক্ষে সম্ভব নয়।

তিনি মনে করেন, একা কেউই কোনো ইন্ডাস্ট্রির সব চরিত্র করতে পারে না। এটাই শিল্পের সৌন্দর্য। তাই তিনি নিজের কাজের প্রতি আন্তরিক থেকে ভবিষ্যতেও ভালো কাজ উপহার দিতে চান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“এআই ভিডিও বিশ্বাস করবেন না, আল্লাহর দোহাই লাগে” — সাদিয়া আয়মান

আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রগতির যুগে যেমন মানুষের জীবন সহজ হয়েছে, তেমনি এর কিছু অপব্যবহারও জন্ম দিয়েছে ভয়াবহ বিড়ম্বনার। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে তারকাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো যেন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান এবার সেই ভুয়া এআই কনটেন্ট নিয়ে সরব হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি ভক্তদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন থাকার জন্য। সাদিয়া স্পষ্টভাবে লেখেন, “কিছু কিছু পেজ আছে, যারা সেলিব্রিটিদের এআই দিয়ে এডিট করা ছবি বানায়। আমার মনে হয়, ওরা আমার ছবি বানিয়ে ছড়াতে আরও বেশি মজা পায়।”

তিনি আরও বলেন, “হ্যাঁ, তারা সম্ভবত এটা থেকে আয় করে। এটাই তাদের রুটি-রুজি হতে পারে। কিন্তু এতে ওদের নিচু মানসিকতার আর সস্তা মনভাবটাই বেশি ফুটে ওঠে।”

অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান
অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান

সাদিয়ার ভাষায় সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, “২০২৫ সালেও মানুষ কীভাবে এখনো ‘এআই’ চিনতে পারে না বা বোঝে না! তারা ওই ভুয়া ছবি বা ভিডিওতে গিয়ে আসল ভেবে মন্তব্য করে!”

স্ট্যাটাসে সাদিয়া ভক্তদের উদ্দেশে সরাসরি বলেন, “আরে ভাই-বোনেরা, এখন তো সময় হয়েছে একটু সচেতন হওয়ার! এসব ‘এআই এডিটেড ছবি ও ভিডিও’কে সত্যি ভেবে বিশ্বাস করবেন না, আল্লাহর দোহাই লাগে!”

তিনি আরও অনুরোধ করেন, “আমার দর্শক ও অনুসারীদের প্রতি ছোট্ট একটা অনুরোধ- যদি কখনো এমন কোনো ছবি বা ভিডিও চোখে পড়ে, তাহলে পোস্ট এবং পেইজটা রিপোর্ট করুন এবং সরাসরি ব্লক করে দিন। আমি অবশ্যই এই বিষয়টি সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞদের হাতে তুলে দেব। এরপর ওনারাই বিষয়টা সামলাবেন।”

বাংলাদেশে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন বাড়ছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে। ফলে বিভ্রান্তি ছড়ানো এসব কনটেন্ট খুব সহজেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। তারকাদের ব্যক্তিগত সম্মান ও নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে।

সাদিয়ার মতো একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী যখন সরাসরি এসব বিষয়ে সরব হন, তখন ভক্তদেরও উচিত আরও সচেতন হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করা। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের উচিত এই ধরনের পেইজ ও প্রোফাইলের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যুক্তরাষ্ট্রের মঞ্চে বাংলাদেশের একক নৃত্য

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক স্বীকৃতির এক নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো একজন বাংলাদেশি নৃত্যশিল্পী অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বখ্যাত ‘ব্যাটারি ড্যান্স ফেস্টিভ্যাল’-এ। উৎসবটি ১৯৮২ সাল থেকে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এবং এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৭০টিরও বেশি দেশের নামকরা শিল্পীরা এতে অংশ নিয়েছেন। চলতি বছর এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তরুণ নৃত্যশিল্পী মোফাসসাল আলিফ।

আন্তর্জাতিক এই উৎসবে আলিফ তার একক পরিবেশনা ‘ইন সার্চ অফ ইউ’ মঞ্চস্থ করবেন ১৬ আগস্ট। বিশ্বজুড়ে স্বনামধন্য শিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে উঠে দেশের পতাকা তুলে ধরার সুযোগ পেয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এই আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরতে পারাটা আমার জন্য গর্বের, কৃতজ্ঞতার এবং দায়িত্বের বিষয়।”

ভেস্টিভ্যালের পোস্টার ও ‘ইন সার্চ অফ ইউ’ পরিবেশনায় আলিফ
ভেস্টিভ্যালের পোস্টার ও ‘ইন সার্চ অফ ইউ’ পরিবেশনায় আলিফ

আলিফ জানান, তাঁর পরিবেশনাটি মূলত দুইটি লালন গানের আধ্যাত্মিক বাণীর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত। এটি একটি সমসাময়িক নৃত্যকাহিনি যা মানুষের আত্মার খোঁজ, ভালোবাসা এবং আত্ম-অনুসন্ধানের প্রতীকী প্রকাশ। এই প্রশ্ন—‘আমি কাকে খুঁজি? সে কি বাইরের কেউ, না আমার অন্তরে?’—এর উত্তর খোঁজার প্রচেষ্টাই তুলে ধরা হবে পারফর্মেন্সের মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, নৃত্যটিতে কন্টেম্পোরারি ধারা এবং বাংলার লোকজ ভাবনার মিশ্রণ থাকবে, যা পুরোপুরি তার নিজস্ব কোরিওগ্রাফিতে নির্মিত।

আয়োজক সংস্থা এই অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে জানিয়েছে, “আমরা আনন্দিত যে এবারে বাংলাদেশের একজন উদীয়মান শিল্পী আমাদের মঞ্চে পরিবেশনা করবেন। আলিফের কাজ দর্শন, নন্দন এবং আত্মপ্রকাশের দৃষ্টিকোণ থেকে অসাধারণ।”

নিউইয়র্কের দর্শকরা যখন বিশ্বব্যাপী প্রখ্যাত শিল্পীদের সাথে বাংলাদেশের নিজস্ব ভাবনা ও চেতনার একটি শিল্পরূপ প্রত্যক্ষ করবেন, তখন এটি নিঃসন্দেহে দেশের সাংস্কৃতিক ইতিহাসে একটি গর্বের মুহূর্ত হয়ে থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাবার কবরেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন জসীমপুত্র রাতুল

চিত্রনায়ক জসীমের পুত্র এবং জনপ্রিয় রক ব্যান্ড ওন্ড-এর ভোকালিস্ট এ কে রাতুলকে তাঁর বাবার কবরেই চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ জুলাই) সকালে বনানী কবরস্থানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের পার্ক মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জানাজা।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য সনি রহমান সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে লেখেন,

“বাবার কবরেই সন্তানের দাফন। বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্রনায়ক জসিম সাহেবের ছেলে রাতুলের জানাজা সকাল ৮টায় বনানীতে অনুষ্ঠিত হয় এবং তাঁকে বাবার কবরেই সমাহিত করা হয়। আমি দুজনেরই আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।”

মৃত্যু ও শোক:
শনিবার (২৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর একটি জিমে হৃদরোগে আক্রান্ত হন রাতুল। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। মাত্র ৩৮ বছর বয়সে চলে যাওয়া এই সংগীতশিল্পীর মৃত্যুতে সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।

স্মরণীয় কর্মজীবন:
এ কে রাতুল ছিলেন বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাউন্ড রক সংগীতের একজন শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। ব্যান্ড O.N.D (Ode to New Dawn)-এর ফ্রন্টম্যান হিসেবে তিনি কেবল গায়কই নন, ছিলেন গীতিকার ও সুরকারও।
২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ব্যান্ডটির প্রথম অ্যালবাম “1” এবং ২০১৭ সালের “2” অ্যালবাম তরুণ শ্রোতাদের কাছে ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিশেষ করে রাতুলের কণ্ঠে শক্তি, আবেগ এবং বিদ্রোহী সুরধারার কারণে তিনি হয়ে ওঠেন অনন্য এক সংগীতশিল্পী।

শিল্পীদের শ্রদ্ধা:
রাতুলের মৃত্যুর খবরে সহকর্মী সংগীতশিল্পী ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা সামাজিক মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন। অনেকেই তাঁর প্রজ্ঞা, বিনয় ও সংগীতপ্রেমকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

চিত্রনায়ক জসীমের মতোই রাতুলও ছিলেন ভিন্ন জগতে এক অনন্য নাম। বাবা-ছেলে দু’জনেই নিজেদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে রেখেছেন শক্তিশালী উপস্থিতি।

পরিবার ও ভক্তদের আহ্বান:
রাতুলের পরিবার ভক্তদের তাঁর আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর হঠাৎ প্রয়াণের মধ্য দিয়ে একটি প্রজন্ম হারালো এক সৃজনশীল কণ্ঠস্বর, আর বাংলা রক হারালো এক আশাব্যঞ্জক পথপ্রদর্শক।


মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাফটা জয়ী অভিনেতা মাইকেল ওয়ার্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

ব্রিটিশ চলচ্চিত্র অঙ্গনের আলোচিত অভিনেতা এবং বাফটা অ্যাওয়ার্ডজয়ী মাইকেল ওয়ার্ডের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করেছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ। চলতি বছরের শুরুতে দায়ের হওয়া এ মামলায় অভিনেতার বিরুদ্ধে দুটি ধর্ষণ ও একাধিক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চলছে এবং অভিযোগকারী নারীকে প্রয়োজনীয় সকল সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা ডিটেকটিভ সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ওয়ার বলেন, “আমরা বুঝি এই ধরনের ঘটনা মানসিকভাবে কতটা চাপ সৃষ্টিকারী হতে পারে। তাই অভিযোগকারীর পাশে থেকে তাকে সর্বোচ্চ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”

তবে অভিনেতা মাইকেল ওয়ার্ড এক বিবৃতিতে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো “সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার” করেছেন। ২৫ জুলাই দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, “আমি পুলিশকে তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব। আমি আইন ও বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল এবং আমি বিশ্বাস করি, শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হব।”

মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। মাইকেল ওয়ার্ডকে আগামী ২৮ আগস্ট পূর্ব লন্ডনের থেমস ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দিতে হবে বলে আদালতের নির্দেশ রয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্যারিয়ারের শুরুতে ‘ব্রাদারহুড’ নামের একটি টেলিভিশন সিরিজে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেন ওয়ার্ড। ২০১৯ সালে ‘হিমসেলফ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে “বেস্ট রাইজিং স্টার” ক্যাটাগরিতে বাফটা পুরস্কার জেতেন। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘টপ বয়’-এ জেমি চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

এরপর ‘স্মল এক্স’, ‘এম্পায়ার অব লাইট’, ‘ব্লু স্টোরি’–সহ একাধিক প্রভাবশালী প্রজেক্টে যুক্ত হন তিনি। বিশেষ করে ২০২০ সালের ব্লকবাস্টার ‘ব্লু স্টোরি’তে অভিনয়ের জন্য তিনি ব্রিটিশ ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ও এনএমই পুরস্কারে মনোনীত হন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত মহামারিভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘এডিংটন’-এ অভিনয় করেছেন মাইকেল ওয়ার্ড। ছবিটি আগামী ২২ আগস্ট যুক্তরাজ্যে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে তার আগেই এই অভিনেতার বিরুদ্ধে এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগে বিতর্কে মুখর হয়েছে তার ক্যারিয়ার। এখন দেখার বিষয়, আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার পরবর্তী চলচ্চিত্রগুলোর ভবিষ্যৎ কী হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বহুল আলোচিত ‘ওয়ার ২’ ট্রেইলার পেল মিশ্র প্রতিক্রিয়া, অপেক্ষা ছবির মুক্তির জন্য

ছবির প্রচারের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গণ্য ট্রেইলার। এটি দর্শকের মধ্যে আগ্রহ ও উত্তেজনা সৃষ্টির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আসন্ন বলিউড স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার ‘ওয়ার ২’-এর ট্রেইলারও মুক্তি পাওয়ার পরই একই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

গতকাল মুক্তি পাওয়া ‘ওয়ার ২’ ট্রেইলারটি দর্শকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। যদিও এতে কোনও ত্রুটি বা খারাপ উপাদান নেই, তবুও অনেকের মতে, ট্রেইলারটিতে যে এক্স ফ্যাক্টর থাকা উচিত ছিল, তা অনুপস্থিত। বাণিজ্যিক অ্যাকশন ঘরানার ছবিতে এমন কিছু মুহূর্ত থাকে যা দর্শকের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয়; কিন্তু এবারের ট্রেইলার সেই ব্যাপারে কমজোরি বলে মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।

প্রথম ‘ওয়ার’ ছবির ট্রেইলারটির চেয়ে এই সিক্যুয়েলের ট্রেইলারটিকে কম আকর্ষণীয় বলেও মন্তব্য করেছেন অনেক দর্শক।

তবে ইতিবাচক দিক থেকে দেখলে, ‘ওয়ার ২’ স্পাই ইউনিভার্সের ঐতিহ্যকে ধরে রেখে নতুন দিক উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রথম কিস্তি নির্মাতা সিদ্ধার্থ আনন্দ ছিলেন, যেখানে দ্বিতীয় কিস্তির পরিচালক অয়ন মুখার্জি। এই পরিবর্তনের ফলে ছবিতে দেখা যাবে আবেগগত গভীরতা ও চরিত্রায়নের শক্তিশালী দিক।

ট্রেইলারে স্পষ্ট হয়েছে, হৃতিক রোশনের বিপরীতে দেখা যাবে জুনিয়র এনটিআর এবং নতুন মুখ বলিউডের মিষ্টি অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি। এছাড়া প্রথম পর্বের জনপ্রিয় নায়ক টাইগার শ্রফ-র উপস্থিতিও ছবি আলোচনায় ধরে রাখবে।

আগামী ১৪ আগস্ট ‘ওয়ার ২’ হিন্দি, তামিল ও তেলেগু ভাষায় ভারতের পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে।

সমষ্টিগতভাবে ট্রেইলারটি খুব বেশি আলোচনার জন্ম না দিলেও, ছবির প্রতি আগ্রহ কমায়নি। বক্স অফিসে এটি প্রথম দিনেই ১০০ কোটি টাকার আয় এনে বুম করার সম্ভাবনা প্রবল। স্পাই থ্রিলার প্রেমীদের কাছে ‘ওয়ার ২’ সিক্যুয়েলের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ধরা হচ্ছে হৃতিক-জুনিয়র এনটিআরের উত্তেজনাপূর্ণ দ্বৈরথ।

এভাবেই ছবির মুক্তির দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই দর্শকদের মাঝে রোমাঞ্চ ও প্রত্যাশার মাত্রা বাড়ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইতালিতে হানিমুনে মেহজাবীন-রাজীব, লেইক কমোর রোমান্সে মুগ্ধ ভক্তরা

প্রেম ছিল ১৩ বছরের দীর্ঘ সফর। আর সেই পথচলার পূর্ণতা এসেছে গত ফেব্রুয়ারিতে, যখন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী ও পরিচালক আদনান আল রাজীব বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর থেকে এই তারকা দম্পতির প্রতিটি মুহূর্ত যেন হয়ে উঠেছে প্রেম, ভ্রমণ আর সাফল্যের মেলবন্ধন। বিয়ের পাঁচ মাস পর অবশেষে নিজেদের ‘আনুষ্ঠানিক হানিমুন’ ঘোষণা করলেন মেহজাবীন। গন্তব্য—ইতালির লেইক কমো, বিশ্বের অন্যতম রোমান্টিক স্থান।

দর্শকদের অনেকেই ভেবেছিলেন, কান, প্যারিস, মিশর কিংবা কানাডা— এসব বিদেশ সফরই বোধহয় তাদের হানিমুন। কিন্তু এবার মেহজাবীন নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “এটাই আমাদের হানিমুন।”

শনিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ছবি শেয়ার করেন মেহজাবীন। ইতালির নীল জলরাশির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছবিগুলো দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। কখনো একা, কখনো আদনান রাজীবের কাঁধে মাথা রেখে, হাসিমুখে মেহজাবীন যেন ভালোবাসার প্রতিচ্ছবি।

ছবির ক্যাপশনে তিনি লেখেন—

“সবসময় শুনতাম, লেইক কমো হলো বিশ্বের সবচেয়ে রোমান্টিক জায়গাগুলোর একটি, বিশেষ করে কাপলদের জন্য। তাই নিজের চোখে দেখতে চলে এলাম। সত্যি বলতে, মনে হয়েছে যেন এক স্বপ্ন! আমরা ভাগ্যবান, কারণ আমাদের হানিমুনের কয়েকটি দিন এখানে কাটিয়েছি। শান্ত, সুন্দর আর ছোট ছোট মুহূর্তে ভরপুর, যা কখনো ভুলবো না। তারই কিছু ঝলক শেয়ার করলাম।”

পোস্টের নিচে ভক্তদের কমেন্টে যেন উপচে পড়ে ভালোবাসা। কেউ লিখেছেন, “স্বপ্নের জুটি।” আবার কেউ হাস্যরস করে মন্তব্য করেছেন, “আপনাদের হানিমুন এখনো শেষ হলো না?”
এইসব প্রতিক্রিয়া দেখে স্পষ্ট, মেহজাবীন ও রাজীবের দাম্পত্য জীবনের এই পর্বটিও যেমন প্রেমময়, তেমনি জনপ্রিয়।

অভিনয়ের দিকেও উজ্জ্বল মেহজাবীনের পথচলা। ছোট পর্দায় শক্ত অবস্থানের পর এখন বড় পর্দা ও ওটিটিতেও আলো ছড়াচ্ছেন তিনি। ‘প্রিয় মালতী’-সহ বেশ কয়েকটি সিনেমায় পেয়েছেন বিশেষ সম্মাননা ও শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার। ক্যারিয়ারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও যেন এখন চলছে তার সোনালি সময়

বিনোদন দুনিয়ার এই সফল তারকা দম্পতির জীবনের মিষ্টি মুহূর্তগুলো দেখে মুগ্ধ ভক্তকুল, আর নতুন করে প্রমাণিত হলো— ভালোবাসা যখন গভীর হয়, তখন প্রতিটি সফরই হয়ে ওঠে স্মরণীয়।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কাজ না পেয়ে ফেসবুকে আর্জি অভিনেত্রী মৌ শিখার, জবাবে সহকর্মীদের সান্ত্বনা

বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের পরিচিত মুখ মৌ শিখা। দীর্ঘদিন ধরে ছোটপর্দায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি। বিনয়ের সঙ্গে সহজ-সরল অভিনয়ে তিনি নাট্যপ্রেমীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করেই নাটকে তার কাজ কমে যাওয়ায় চরম হতাশায় দিন কাটছে এই গুণী অভিনেত্রীর।

শনিবার (২৬ জুলাই) এক আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে মৌ শিখা লিখেছেন, “আমি মৌ শিখা। অনেক বছর ধরে অভিনয় করে আসছি। এতদিন নিজেকে অভিনেত্রী বলেই পরিচয় দিতাম। কিন্তু গত আড়াই মাস ধরে নিজেকে অভিনেত্রী ভাবতে লজ্জা হচ্ছে। আগে যেখানে মাসে ১৫-২০ দিন কাজ করতাম, এখন করছি মাত্র ৪-৫ দিন। তাহলে কিভাবে ভাবব আমি একজন অভিনয়শিল্পী?”

তিনি জানান, অভিনয়ই তার জীবিকা। এই পেশা দিয়েই সংসার চলে। কাজ না থাকায় তিনি চরম মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পোস্টে তিনি আরও বলেন, “বেঁচে থাকতে যদি আমার মূল্যায়ন না হয়, মৃত্যুর পরে আফসোস করে কী লাভ? আমি চাই বেঁচে থাকতেই কেউ বলুক—এই মহিলা ভালো অভিনেত্রী ছিলেন।”

শিখার আবেগময় বার্তায় উঠে আসে শিল্পীজীবনের এক নির্মম বাস্তবতা। তিনি লেখেন, “২৫ বছর ধরে মিডিয়ায় কাজ করছি, এখনো আগের রেমুনারেশনেই কাজ করি। কখনো বাড়াইনি। অথচ এখন ডিরেক্টররা আর ডাকছেন না। আমাকে গল্পের চরিত্রে মানানসই ভাবছেন না। কেন?”

এই পোস্টে শিখা সহকর্মীদের সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “যে কটা দিন বাঁচি, কাজ করতে চাই। আপনারা পাশে থাকুন, সহযোগিতা করুন। আল্লাহ নিশ্চয়ই সহায় হবেন।”

মৌ শিখার এই খোলা চিঠির মতো ফেসবুক পোস্ট দেখে অনেক সহকর্মীই আবেগাপ্লুত হয়েছেন। অভিনেত্রী মনিরা মিঠু সান্ত্বনার সুরে মন্তব্য করেন, “ভয় নেই শিখা, আমরা দুইজন মিলে চায়ের টং দোকান দিবো। আমাদের হাতে সবাই চা, কফি, বিস্কিট খাবে, লাইন ধরে দাঁড়িয়ে খাবে।”

এই ঘটনায় অনেকেই বলিউড অভিনেত্রী নীনা গুপ্তার প্রসঙ্গ টানছেন। তিনিও একসময় বলিউডে কাজ না পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি লিখেছিলেন, “আমাকে সবাই ভুলে গেছেন। প্লিজ আমাকে কাজ দিন।” সেই আবেদন থেকেই পরবর্তীতে ‘বাধাই হো’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে আবার আলোচনায় আসেন তিনি।

তেমনি, মৌ শিখার এই খোলা ডাকে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির মানুষেরা আরও সংবেদনশীল হবেন—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। শিল্পীদের মূল্যায়ন হোক তারা বেঁচে থাকতে, তবেই শিল্প জগৎ হবে মানবিক, মর্যাদাপূর্ণ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মাইলস্টোন আহতদের বিদেশে চিকিৎসার উদ্যোগ নিচ্ছেন তৌহিদ আফ্রিদী

সমাজসেবায় নিজেকে নিবেদিত বাংলাদেশের শীর্ষ ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদী মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সেভাবে ভালো নেই, শোনছি ছোট ছোট শিশুদের কান্নার আওয়াজ, অনেক মায়ের বুক খালি হয়ে গেছে। আমি নিজেও এই শোকে মন বসাতে পারছি না। তবে বসে থাকলে হবে না, তাই আহত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াব।’

তিনি আরও জানান, ‘বাংলাদেশের চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন। তবে যারা ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন, তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে পাঠাতে হলে আমি এবং আমার বন্ধুরা মিলে সাধ্যমতো তাদের দায়িত্ব নিতে চাই। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে থাইল্যান্ড বা সিঙ্গাপুরে নিয়ে চিকিৎসা করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’

আফ্রিদী অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ করেন, ‘যারা সত্যিই ক্রিটিক্যাল অবস্থায় আছেন, তাদের অভিভাবকরা আমার ফেসবুক পেজে ইনবক্স করুন। আমি নিজে ফলোআপ রাখব এবং যোগাযোগ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনও রাজনৈতিক কথাবার্তা বলছি না, প্রত্যেকে নিজের মতো করে সাহায্য করুন। যারা এই দুর্ঘটনার শুরু থেকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। যারা অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহে কাজ করছেন, তাদের জন্য আমরা সবসময় পাশে আছি। আমাদের মাই টিভি পরিবার তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫