শাহরুখের সাথে ছবি করে হিট যেসব নায়িকা

চন্দ্রদ্বীপ বিনোদন ডেক্স:   শাহরুখ খানকে সিনেমার পর্দার রোমান্সের বাদশা বলা হয়। তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে চলচ্চিত্রের রঙিন পর্দায় অনেক নায়িকার সঙ্গে রোমান্সে মেতেছেন। তবে সব নায়িকার সঙ্গে রোমান্স করে তার ভক্তদের কাছে জনপ্রিয়তা পাননি। যেসব নায়িকার সঙ্গে পর্দায় রোমান্স করে আলোচানায় এসেছেন তাদের মধ্য থেকে ১০ নায়িকা সম্পর্কে জেনে নিন।

জুহি চাওলা: বলিউড বাদশাহ শাহরুখের ‘লাকি ম্যাসকট’ অভিনেত্রীদের অন্যতম জুহি চাওলা। পর্দায় তাদের রসায়ন দর্শকও বেশ পছন্দ করেন। শুধু অভিনয় জগতেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বের সম্পর্ক কিং খান ও জুহির। একসঙ্গে কাজ করেছেন, ‘ডর’, ‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’, ‘ইয়েস বস’, ‘ডুপ্লিকেট’, ‘ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি’ ও ‘ভুতনাথ’-এর মতো অনেক হিট সিনেমায়। যেটা একেবারেই মিস করার নয়, তাদের দুজনেরই গালের টোল। তাদের রোমান্সও দর্শকরা মিস করবেন।

রানি মুখার্জি: কিং খানের সঙ্গে রোমান্সে মেতে দর্শকের কাছ থেকে প্রশংসা পেয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী রানি মুখার্জি। একসঙ্গে করেছেন অনেক সিনেমায় কাজ করে সফল হয়েছেন। ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘চলতে চলতে’, ‘কভি খুশি কভি গম’-এর মতো সিনেমা। ‘বীর জারা’ সিনেমাতেও ছিলেন রানি, যদিও নায়িকার চরিত্রে নয়। এছাড়া ‘কাভি আললবিদা না কহে না’-তাদের অন্যতম আলোচিত সিনেমা। শাহরুখের ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমার গানে ও ‘কাল হো না হো’ সিনেমার গানে রানির ক্যামিও মন জয় করেছে দর্শকদের। তাদের রোমান্স দর্শক মন ভরে উপভোগ করেছেন।

প্রীতি জিনতা: বলা হয় শাহরুখের ‘লাকি ম্যাসকট’ ট্রায়োর তৃতীয় নাম প্রীতি জিনতা। একসঙ্গে তারা পর্দায় এলেই বক্স অফিসে ঝড় ওঠে। শাহরুখ, প্রীতি জিনতা ও রোমান্স যেন সমার্থক শব্দ। ‘কল হো না হো’, ‘বীর জারা’ বা ‘কভি অলবিদা না কহেনা’র উদাহরণ তো রয়েছেই সামনে। ‘দিওয়ানগি দিওয়ানগি’ ও ‘ফির মিলেঙ্গে চলতে চলতে’ গানে অতিথি শিল্পী হিসেবে দেখা গিয়েছিল প্রীতিকে। ‘ডিম্পল ডুয়ো’র পর্দায় প্রেমকাহিনি মানুষের মনে এখনো গেঁথে আছে।

মাধুরী দীক্ষিত: বলিউডের হার্টথ্রব নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম নায়িকা মাধুরী। ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমার শাহরুখ-মাধুরী জুটির কথা নিশ্চই সবার মনে আছে। তাদের রোমান্স যেন নয়ন ভালোনো। একসঙ্গে তাদের পাঁচটি সিনেমা রয়েছে। ‘অঞ্জাম’, ‘কোয়েলা’, ‘হম তুমহারে হ্যায় সনম’, ‘দেবদাস’ ও ‘দিল তো পাগল হ্যায়’।

প্রিয়াঙ্কা চোপড়া: শাহরুখের সঙ্গে ‘ডন’ ও ‘ডন-২’ সিনেমায় অভিনয় করে অনেক দর্শকের কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়েছেন তারা। অভিনেতার ‘ওম শান্তি ওম’ ও ‘বিল্লু’ সিনেমায় ক্যামিও করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাদের রসায়ন এমনই ঝড় তোলে যে একসময় কিং খান ও প্রিয়াঙ্কার প্রেমের গুজবও শোনা গিয়েছিল বলিউডে। শাহরুখ-প্রিয়াঙ্কার রোমান্স দেখলে দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে যান।

অনুশকা শর্মা: তিনি বলিউডে পা রেখেছিলেন কিং খানের হাত ধরে। ‘রব নে বনা দি জোড়ি’ সিনেমায় বেশ নজরকাড়েন এ জুটি। এরপর তারা একসঙ্গে ‘যব তক হ্যায় জান’ সিনেমায় কাজ করেন, তবে সেখানে মূল নায়িকা অনুশকা ছিলেন না। এরপর ২০১৬ সালে মুক্তি পায় ‘অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল’। ২০১৭ সালে ফের তারা ‘যব হ্যারি মেট সেজল’ সিনেমাতে জুটি বাঁধেন। কাজ করেছেন ‘জিরো’ সিনেমাতেও।

ঐশ্বরিয়া: ঐশ্বরিয়ার সঙ্গে ‘মহব্বতেঁ’ সিনেমার প্রেমে পড়েননি- এমন শাহরুখ ফ্যান খুঁজে পাওয়া যাবে না। ‘যোশ’ সিনেমায়ও তাদের ভাই-বোন হিসেবে দেখা যায় তাদের। তবে এরপর দেবদাসের পার্বতী হোক বা সাবার তাহির, শাহরুখ-ঐশ্বরিয়ার জুটি বাঁধ ভেঙেছে বারবার। ‘হম তুমহারে হ্যায় সনম’ সিনেমায় ক্যামিও করেছিলেন ঐশ্বরিয়া।

দীপিকা পাড়ুকোন: আরও এক অভিনেত্রী যিনি কিং খানের হাত ধরেই পা রাখেন বলিউডে। প্রথম সিনেমা ‘ওম শান্তি ওম’ ঝড় তোলে সর্বত্র। দুই তারকাই সে সিনেমায় দ্বৈত চরিত্রে কাজ করেন। তাদের রসায়ন দর্শক বেশ পছন্দও করেন। ‘বিল্লু’ সিনেমায় ক্যামিও করেন দীপিকা। এছাড়া তাদের ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’ হোক, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ সর্বত্রই ভালবাসা ছড়ান তারা। চলতি বছরে মুক্তি প্রাপ্ত ‘পাঠান’ তো বটেই, ‘জওয়ান’ সিনেমায় ক্যামিও করেছেন দীপিকা।

কারিনা কাপুর: বলিউডে কারিনা ও কিং খানের জুটিও বেশ পছন্দ করেন দর্শক। একসঙ্গে তাদের ‘অশোকা’ সিনেমা আজও দর্শকের মনে দাগ কেটে আছে। এরপর তাদের একসঙ্গে দেখা যায় কল্পবিজ্ঞান ঘরানার সিনেমা ‘রা ওয়ান’-এ। ‘ছম্মক ছাল্লো’ মনে পড়ে? ‘ডন’ ও ‘বিল্লু’ সিনেমায় ছোট চরিত্রে দেখা যায় কারিনাকে। এছাড়া ‘কাভি খুশি কাভি গাম’ সিনেমার শালি-জামাইবাবু জুটি দর্শকের পছন্দের তো বটেই।

কাজল: কিং খানের নায়িকাদের কথা বললেও কাজলের বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। রাহুল-অঞ্জলির জুটি হোক বা মন্দিরা-রিজওয়ান, সবার মতে শাহরুখ-কাজল জুটি সবার সেরা। একসঙ্গে তাদের অসংখ্য সিনেমা, প্রত্যেকটিই হিট! ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’ থেকে শুরু করে ‘মাই নেম ইজ খান’, ‘দিলওয়ালে’ সর্বত্র এই তারকা জুটির রসায়ন মন জয় করেছে। এছাড়া কিং খানের বিভিন্ন সিনেমায় ক্যামিও করেছেন কাজল। তাদের ব্যক্তিগত জীবনে বন্ধুত্বও মন ছোঁয়া।




বিয়ের জন্য পাত্র খুঁজছেন সায়ন্তিকা

চন্দ্রদ্বীপ বিনোদন ডেক্স:  টলিউডে একসময় দাপিয়ে কাজ করেছেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বর্তমানে টলিউডের পর্দায় খুব একটা পাওয়া যায় না তাকে। রাজনীতির ময়দানে পা রেখে এই সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কি না তা স্পষ্ট নয়। কারণ টলিউডের এমন অনেক মুখ রয়েছে, যারা প্রথম সারিতে কাজ করে চলেছেন, অথচ সমান তাহলে রাজনীতির ভার বহন করে চলেছেন। রাজ চক্রবর্তী, দেব, মিমি চক্রবর্তী এমন নামের অভাব নেই। তবে কেন পর্দায় নেই সায়ন্তিকা? এই প্রশ্নের জবাব এখনও স্পষ্ট নয়, তবে ভালো চরিত্রের সুযোগ পেলে যে তিনি সিনেমার কাজ ফেরাবেন না, তার প্রমাণ মিলে সেই ইতিমধ্যে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের দুইটি সিনেমার প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন সায়ন্তিকা। সেই সূত্রে বাংলাদেশে যাওয়া-আসার চলছে মাঝেমধ্যেই। এ তো গেল ক্যারিয়ার প্রসঙ্গ, আর ব্যক্তিগত জীবনে কবে নতুন অধ্যায় শুরু করতে চলেছেন অভিনেত্রী? বাংলাদেশের এক সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সায়ন্তিকার জানালেন, ভালো পাত্র পেলেই বিয়ে করবেন তিনি। তবে বিয়ের আগে তো পাত্র প্রয়োজন।

হাসতে হাসতে সায়ন্তিকা জানান, তিনি তার মায়ের নম্বর সবাইকে দিয়ে দেবেন, যে ইচ্ছুক সে যোগাযোগ করতে পারেন। বর্তমানে বাংলাদেশের এই দুই সিনেমার চরিত্র নিয়ে ব্যস্ত সায়ন্তিকা।

বেশ কয়েক বছর হলো দুই বাংলার কাজের আদান-প্রদান বেড়ে গিয়েছে বহু মাত্রায়। সিনেমা থেকে ওটিটি প্রচারের ক্ষেত্রেও দুই বাংলাকেই বেছে নিচ্ছেন তারকারা। কয়েক মাস আগে কলকাতায় গিয়েছিলেন আফরান নিশো। তিনি জানিয়েছিলেন, দুই বাংলার মধ্যে সবচেয়ে বড় যোগসূত্র হলো ভাষা। হয়ত বলার ধরনটা আলাদা, কিন্তু ভাষা যেহেতু একই… তাই দুই বাংলার প্রত্যেকটি আমাদের সিনেমার দর্শক। তাই দুই বাংলার দর্শকদের কাছে যদি সিনেমাকে পৌঁছে দেওয়া হয়, তাহলে ব্যবসার ক্ষেত্রেও লাভজনক হবে এবং শিল্পীর কাজও অনেকটা পরিধি পাবে।




নয়নতারার জন্য ১৬ বছরের সংসার ভাঙেন প্রভুদেবা

চন্দ্রদ্বীপ  বিনোদন ডেস্ক:দক্ষিণী লেডি সুপারস্টার নয়নতারা। প্রথমবারের মতো পর্দায় জুটি বেঁধেছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের সঙ্গে। এই দুই তারকার অভিনীত সিনেমা ‘জওয়ান’ ইতোমধ্যেই ঝড় তুলেছে ভারতজুড়ে।

কিং খানের সঙ্গে প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাতের পর ভক্ত-অনুরাগীদের আলোচনার কেন্দ্রতেও এখন নয়নতারা। ফলে পর্দার জীবনের বাইরে এই নায়িকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও চর্চা তুঙ্গে।

বর্তমানে স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে সুখের সংসার নয়নতারার। কিন্তু এই নায়িকার জীবনেই একসময় ঝড় উঠেছিল এক বলিউড তারকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কেকে ঘিরে। শুধু তাই নয়, তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহিলা সংগঠনও রাস্তায় নেমেছিল প্রতিবাদে!

কিন্তু কি এমন ঘটেছিল এই অভিনেত্রীর জীবনে? বলিউড তারকা প্রভুদেবার সঙ্গে প্রেম ছিল নয়নতারার। এই অভিনেতা ছিলেন তখন বিবাহিত। স্ত্রী লতার সঙ্গে তিনটি সন্তানও ছিল তার। এরপরও নায়িকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান প্রভু। ২০১০ সালে অভিনেতা নিজেই জানিয়ে দেন নয়নতারার সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা।

এই খবর প্রকাশ হতেই ব্যপক হইচই-এর সৃষ্টি হয়। স্ত্রীর কাছ থেকে ডিভোর্স চান প্রভু। কিন্তু লতা চেয়েছিলেন সংসার করতে। তিনি পাল্টা মামলা দায়ের করেন অভিনেতার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনার পরই ভক্তদের চোখেও অপরাধী বনে যান প্রভুদেবা ও নয়নতারা। এমনকি বিভিন্ন স্থানে নারীবাদীদের বিক্ষোভও শুরু হয় তাদের বিরুদ্ধে। এসবের মাঝেই ২০১০ সালেই স্ত্রীকে ডিভোর্স দেন প্রভুদেবা।




ক্যাটরিনাকে বিয়ের খবরে কী বলেছিলেন ভিকির বাবা-মা 

চন্দ্রদ্বীপ বিনোদন ডেস্ক :বলিউডের বর্তমান সময়ের অন্যতম চর্চিত দম্পতি ক্যাটরিনা কাইফ ও ভিকি কৌশল। বেশ কিছুদিন লুকিয়ে প্রেমের পর চুপিসারে বিয়ে করেছেন এই জুটি। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বিয়ের পর দুই বছর হতে চলল তাদের সংসার জীবনের। এই সময়টা একে অপরের পাশে থেকে গেছেন ভালোবেসেই।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভিকি জানিয়েছেন, ক্যাটরিনার সঙ্গে সম্পর্কের খবর প্রথমে তার বাবা-মাকেই জানিয়েছিলেন তিনি। ভিকির কথায়, ‘আমাদের সম্পর্কের কথা সর্বপ্রথম আমার বাবা-মাকেই জানাই। ’

অভিনেতার মুখে এই কথা শুনে সঞ্চালক পাল্টা জিজ্ঞেস করেন, ‘ক্যাটরিনার সঙ্গে সম্পর্কের রয়েছেন, সেটা আপনার বাবা-মা বিশ্বাস করতে পেরেছিলেন?’ এর জবাবে ভিকি বললেন , ‘হ্যাঁ, বিশ্বাস তো করেই নিয়েছিল।’

ভিকির কথায়, প্রথম দিকে তিনিই বিশ্বাস করতে পারেননি, যে ক্যাটরিনা তাকে পছন্দ করছেন! অভিনেতার মনে প্রশ্ন ছিল, ক্যাটরিনা হঠাৎ কেনই বা তাকে পছন্দ করবেন! তার প্রতি অভিনেত্রীর ভালো লাগার কথা জেনে ভিকির প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘তুমি ঠিক আছো তো?’

তবে অভিনেতার ভাষ্য, ‘প্রথম দিকে এই বিষয়টা মেনে নিতে আমারই অসুবিধা হত। আমি তো বিশ্বাসই করতে পারতাম না যে ক্যাটরিনার মতো একজন তারকা আমাকে এত পাত্তা দিচ্ছে! তবে আমি ওর সঙ্গে সহজে মিশে বুঝতে পেরেছিলাম, মানুষ হিসাবে কতটা খাঁটি সে। তখনই আমি উপলব্ধি করেছিলাম, নিজের জীবনসঙ্গী হিসেবে ওকেই চাই।’

এদিকে বিয়ের দুই বছর হতে চলায় এই দম্পতির সংসারে নতুন সদস্যর আগমন কবে ঘটছে এমন প্রশ্নও চারদিকে ডালপালা মেলেছে। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও এ নিয়ে কোনো চাপ রয়েছে কি না? সেই প্রশ্নের উত্তরও জানার চেষ্টা করেন ভক্তরা।

ওই সাক্ষাৎকারে ভিকির কাছে জানতে চাওয়া হয়, ‘পরিবারের কেউ সুখবরের কথা শুনতে চাইলে কীভাবে সামলান?’ এর জবাবে অভিনেতা সাফ জানান, কেউ এই ব্য়াপারে নাকই গলায়নি এখন পর্যন্ত।

খুব শীঘ্রই একসঙ্গে পর্দা শেয়ার করতে চলেছেন ভিকি-ক্য়াট। বিষয়টি উল্লেখ করে ঠাঁট্টার ছলে ভিকি বলেন, ‘আমি ওকে বলেছি, তাহলে সেটে আমার দুইজন পরিচালক থাকবে। একটা তুমি, একটা আসল পরিচালক।’




প্রেমিকের খোঁজে বিজ্ঞাপন, একদিনে ৩ হাজারেরও বেশি আবেদন!

চন্দ্রদ্বীপ বিনোদন ডেক্স:  প্রেম কিংবা বিয়ে করতে গেলে পরীক্ষা দিতে হবে। আর সেই পরীক্ষা নেবেন খোদ প্রেমিকাই। সিনেমার গল্পে এমনটা দেখা গেলেও, বাস্তবে কখনো এমনটা হতে দেখেছেন? আশ্চর্যজনক হলেও, সম্প্রতি এমনই এক ঘটনা ঘটেছে।

হ্যাঁ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেমিকের খোঁজে বিজ্ঞাপন দিয়ে নেট দুনিয়ায় হৈ-চৈ ফেলে দিয়েছেন ডাচ তরুণী ভেরা ডিজকম্যানস। তবে প্রেমিক হতে হলে নির্ধারিত আবেদনপত্র পূরণ করে তার ঠিকানায় পাঠাতে হবে। আবেদনকারীর সব তথ্য মনে ধরলে তবেই মিলবে ২৩ বছর বয়সী এ তরুণীর প্রেমিক হওয়ার সুযোগ।

গত ১ সেপ্টেম্বর মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করলেও, নেদারল্যান্ডসের স্যোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের মধ্যে পরিচিত মুখ ভেরা ডিজকম্যানস। সম্প্রতি টিকটকে নিজের প্রেমিক খোঁজার বিষয়টি ভক্ত ও অনুসারীদের সঙ্গে শেয়ার করেন তিনি। বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তার প্রেমিক হওয়ার জন্য ৩ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়ে।

জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে প্রতি মাসে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ডলার আয় করেন ভেরা ডিজকম্যানস। তবে ভালোবাসা খুঁজে পেতে আবেদনের প্রয়োজন কেন হচ্ছে, তা নিয়ে কৌতুহলী অনেকে।

ভেরা বলেছেন, বিষয়টি একটু অদ্ভুত হলেও তরুণদের কাছ থেকে আমি বেশ ভালো সাড়া পেয়েছি। ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ২০২৩ সালে এসে একজন ভালো প্রেমিক খুঁজে পাওয়া মোটেই সহজ কাজ না।

একেবারে সাধারণ প্রশ্ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রশ্ন রয়েছে সেখানে। প্রথমে অবশ্যই যিনি আবেদন করছেন তার নাম, ঠিকানা বয়স লিখতে হবে। এর আগে কতজন নারীর সঙ্গে তিনি প্রেম করেছেন, সেই সংখ্যাও উল্লেখ করতে হবে। এমনকি, আবেদনকারী যদি বিবাহিত হন, তাহলে কতদিন বিয়ে হয়েছে, সেই সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে প্রথমেই। আর এইসব লিখতে হবে পূর্ণবাক্যে।

এরপরও একগুচ্ছ প্রশ্ন রয়েছে। সেসবের উত্তর অবশ্য দিতে হবে হ্যাঁ কিংবা না-তে। আর সেই তালিকায় প্রথম প্রশ্ন হলো, আবেদনকারী চাকরি করেন কি না, পরিবারের সঙ্গে থাকেন নাকি একা। একইসঙ্গে রয়েছে কিছু সাধারণ প্রশ্ন। যেমন আবেদনকারীর কোন কোন সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

সবচেয়ে অবাক করা প্রশ্ন হলো, ওই ব্যক্তি কার্টুন দেখেন কি না? ভাবছেন, এমন আজব সব প্রশ্ন ওই তরুণী কেন ফর্মে রেখেছেন? ভেরার দাবি, তিনি এবার স্থায়ী সম্পর্কে জড়াতে চান। তার আগে সঙ্গীকে পুরোপুরি জেনে নিতে চান।

প্রেম করতে করতে এইসব উত্তর খুঁজতে নারাজ তিনি। আগে থেকেই সব জেনে নিয়ে, যার সঙ্গে মিলবে তার সঙ্গেই প্রেম করবেন বলে ঠিক করেছেন ভেরা। তবে সমবয়সী কারও সঙ্গেই প্রেম করবেন বলে জানান তিনি।




মুক্তি পাচ্ছে ঝন্টুর সিনেমা ‘সুজন মাঝি’

ছয়টি গানসমৃদ্ধ সিনেমার কাহিনী, সংলাপ চিত্রনাট্য ও গীত রচনা করেছেন দেলোয়ার জাহান ঝন্টু নিজে। গ্রামীণ মেজাজের সবকটি গানের কোরিওগ্রাফি করেছেন রমজান।

যেসব সিনেমাহলে ‘সুজন মাঝি’ মুক্তি পাচ্ছে আজাদ সিনেমা (ঢাকা), নিউ গুলশান সিনেমা (জিঞ্জিরা), মমতা সিনেমা (মাধবদী), মোহন সিনেমা (হবিগঞ্জ), পূর্ণিমা সিনেমা (কোম্পানীগঞ্জ), ছন্দা সিনেমা (হাসানাত), রূপসী সিনেমা (ভোলা), অন্তরা সিনেমা (মেলান্দহ), বিলাস সিনেমা (সাভার), ক্লিওপেট্রা সিনেমা (ধনুট), শাপলা সিনেমা (শ্রীপুর), মল্লিকা সিনেমা (উল্লাপাড়া), তাজ সিনেমা (নওগাঁ), মল্লিকা সিনেমা (জয়পুরহাট), মিলন সিনেমা (মাদারীপুর), পূরবী সিনেমা (ময়মনসিংহ), বনলতা সিনেমা (ফরিদপুর), সোহাগ সিনেমা (ঘোড়াশাল), রাজ্য সিনেপ্লেক্স (টাঙ্গাইল)।

সিনেমায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী ফেরদৌস ও নিপুণের পাশাপাশি আরও অভিনয় করেছেন রাতুল, তিথি, গাঙ্গুয়া, সেলিম, শিউলি আক্তার প্রমুখ। সিনেমাটির পরিবেশনা করছে সেমন্তী মিউজিক।




মমতাজের বিরুদ্ধে ভারতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি 

চন্দ্রদ্বীপ বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ও সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে ভারতের মুর্শিদাবাদে। চুক্তিভঙ্গ এবং প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এ পরোয়ারা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কলকাতার সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।  

এই মামলায় মমতাজের বিরুদ্ধে এর আগেও তিন বার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। এর পর তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

আদালতের নির্দেশ মোতাবেক, আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মমতাজকে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে।

আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— ৯ আগস্ট মুর্শিদাবাদের মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতে হাজির হওয়ার কথা ছিল মমতাজের। ৮ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মমতাজের মামলার চার্জ গঠন করা হবে। সেই দিন মমতাজ উপস্থিত না হলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। এর পরেই মমতাজ বাংলাদেশ হাই কমিশনের মাধ্যমে একটি আবেদনপত্র আদালতে দাখিল করে জানান, ওই সময়ে তিনি কানাডায় একটি অনুষ্ঠানে থাকবেন। ফলে তার পক্ষে আদালতে হাজিরা দেওয়া সম্ভব হবে না। মুর্শিদাবাদের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট ওই আবেদন খারিজ করে দিয়ে মমতাজের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে— মুর্শিদাবাদে ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনের জন্য আয়োজক সংস্থার কর্মকর্তা শক্তিশঙ্কর বাগচীর সঙ্গে মমতাজের লিখিত চুক্তি হয়। সেই চুক্তি মোতাবেক শক্তিশঙ্করের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মমতাজ নিয়মিত অংশ নিতেন। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ১৪ লাখ টাকায় মুর্শিদাবাদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা ছিল শিল্পীর। তিনি অগ্রিম টাকাও নেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি মমতাজ। এর পরেই শক্তিশঙ্কর চুক্তিভঙ্গ ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে মুর্শিদাবাদের মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মমতাজের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার ভিত্তিতে আদালত পরবর্তী সময়ে সমন জারি করে।
এর আগেও তামিলনাড়ুর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্মানিক ডক্টরেট ডিগ্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠে মমতাজের বিরুদ্ধে। সেই মামলা এখনও তামিলনাড়ুর আদালতে বিচারাধীন।




মৃত্যুর ৭ দিন আগে সালমান শাহ মা আমাকে তারা তোমার কাছে ফিরতে দেবে না

চন্দ্রদ্বীপ বিনোদন ডেক্স:  সালমান শাহ নেই- এ সত্য এখনো বিশ্বাস করতে পারেন না তার অনেক ভক্ত-অনুরাগী। আবেগের বাঁধ ভাঙলেও প্রিয় অভিনেতার স্মৃতিকাতরতা এখনো বিহ্বল করে তোলে ঢালিউডের সিনেমাপ্রেমীদের। কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় এখনো যেন জীবন্ত হয়ে ফিরে আসে এই অমর নায়ক। তার না থাকার ২৭ বছর পূর্ণ হলো আজ। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পাড়ি জমান না ফেরার দেশে। পারিবারিক নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) হলেও ঢাকাই চলচ্চিত্রে সালমান শাহ নামেই তিনি অমরত্ব পান।

চলচ্চিত্র অঙ্গনে তখন জনপ্রিয়তার মধ্যগগনে বিচরণ করছিলেন সালমান শাহ। ছিলেন সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে। রুপালি পর্দায় তখন বলা চলে একচ্ছত্র আধিপত্য তার। মৃত্যুর দুই যুগেরও বেশি সময় পার হলেও তার অভিনীত সিনেমা এখনো তুমুল জনপ্রিয় দর্শক-ভক্তদের কাছে। কিন্তু সেই দর্শক-ভক্তদেরই চোখের জলে ভাসিয়ে অকালে অনন্তযাত্রা করেন বাংলা সিনেমার নন্দিত এ রোমান্টিক হিরো। তবে তার এই চলে যাওয়ার নেপথ্যে কি স্বাভাবিক মৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, ২৭ বছর পরও তা ‘রহস্য’ হয়েই রয়ে গেছে।

তবে সালমান শাহর পরিবার মনে করে, এটি স্বাভাবিক কোনো মৃত্যু ছিল না। তাকে ‘হত্যা করা হয়েছে’ বলে অভিযোগ করেন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করেও রহস্যের জাল ভেদ করতে পারেনি। মেলেনি অভিযোগের সত্যতাও। প্রতিটি তদন্তেই সালমান শাহর আত্মহত্যার তথ্য উঠে আসে। যদিও আজও সালমান শাহকে ‘হত্যা করা হয়েছে’ দাবি করে বিচার চেয়ে যাচ্ছে তার পরিবার।

নীলা চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, সালমান শাহ মৃত্যুর মাত্র সাতদিন আগে কোনো এক রাতে আমাকে বলছিল- মা, আমাকে তারা তোমার কাছে ফিরতে দেবে না। আমি তখন প্রশ্ন করেছিলাম- তারা কারা। তখন সে কিছুই বলেনি। এত কোনো সন্দেহ নেই যে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আজিজ মোহাম্মদ ভাই, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরাসহ চলচ্চিত্র জগতের অনেকেই।

সর্বশেষ ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ছয়শ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।’ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। এই খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে সালমান শাহর মায়ের আইনজীবী ফারুক আহমেদ রিভিশন মামলা করেন। ২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত রিভিশনটি গ্রহণ করেন। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর রিভিশনটি শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

এ বিষয়ে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, আমার ছেলে আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে তার স্ত্রী সামিরা, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনের আরও অনেকে। একটা মানুষ খারাপ হলে তাকে মানুষ এতদিন মনে রাখতো না। সালমান শাহকে খুন করে সামিরা ঘর করে বেড়াচ্ছে। তার ঘরও টিকছে না। ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমি ছেলের হত্যার বিচার চেয়ে যাবো।

এ বিষয়ে মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, রিভিশন মামলাটি শুনানির জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। রিভিশন গ্রহণ হলে আমরা নিম্ন আদালতে তদন্ত চেয়ে আবার শুনানি করবো। আশা করছি রিভিশন গ্রহণ হবে। আমরা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আব্দুল্লাহ আবু জাগো নিউজকে বলেন, ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআইয়ের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ছয়শ পৃষ্ঠার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এর আগের দিন ২৪ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার। পিবিআইপ্রধান বলেন, তদন্তকালে ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনা সংশ্লিষ্ট ৪৪ সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনার সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনায় দেখা যায়, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

এরপর ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ওই ঘটনায় তখন ‘অপমৃত্যু মামলা’ করেন তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

‘ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে’ অভিযোগ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান বাদী কমরউদ্দিন। অপমৃত্যু মামলার সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসঙ্গে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ওই বছরের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে উল্লেখ করা হয়। পরে ঢাকার সিএমএম আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে।

তখন সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে ‘অপমৃত্যু’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

২০১৪ সালের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান এবং ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন মর্মে আবেদন করেন। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নারাজির আবেদন করেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে পুলিশের এলিট ফোর্স র্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বিশেষ জজ ৬-এর বিচারক ইমরুল কায়েশ র্যাবকে তদন্ত বন্ধ করার আদেশ দেন। এরপর এ মামলার তদন্তের দায়িত্বে আসে পিবিআই। পরে পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলা খারিজ করে দেন আদালত।

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পিবিআইয়ের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন।

পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর আত্মহত্যার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়। সেগুলো হলো- চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, মাত্রাতিরিক্ত আবেগপ্রবণতার কারণে একাধিকবার আত্মঘাতী হওয়া বা আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জীভূত অভিমানে রূপ নেওয়া এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা।




মাঠে খেলবেন একঝাঁক শোবিজ তারকা

‘আমরা বিশ্বকাপ চাই’ শীর্ষক স্লোগানে উদ্যোগটি নিয়েছে জি নেক্সট। এ উপলক্ষ্যে রাজধানীর একটি ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জেনারেশন নেক্সট। অনুষ্ঠানে ৮ দলের দল অধিনায়ক ও অন্যান্য তারকারা উপস্থিত ছিলেন।

জানা গেছে, এতে আটটি টিম অংশ নেবে। প্রতি টিমে মেন্টর বা উপদেষ্টা হিসেবে থাকবেন একজন সাবেক ক্রিকেট তারকা। দলগুলোর নেতৃত্ব দেবেন আটজন পরিচালক। তারা হলেন সালাহউদ্দিন লাভলু, গিয়াসউদ্দিন সেলিম, চয়নিকা চৌধুরী, রায়হান রাফি, মোস্তফা কামাল রাজ, দীপঙ্কর দীপন, শিহাব শাহীন।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ২৮-৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিনে শেষ হবে তারকাদের ক্রিকেট খেলার এ টুর্নামেন্ট। খেলা অনুষ্ঠিত হবে মিরপুর ইনডোর স্টেডিয়ামে।

খেলায় অংশে নেবেন আফরান নিশো, পরীমণি, সাইমন সাদিক, রাশেদ মামুন অপু, সিয়াম আহমেদ, তমা মির্জা, ইরেশ যাকেরসহ আরও অনেক তারকা। বেশ কয়েকদিন ধরেই চলছে প্র্যাকটিস। প্রতিটি দলই নিজেদের চ্যাম্পিয়ন করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সবার প্রধান লক্ষ্য, ক্রিকেটের উন্মাদনা বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে সারা দেশের মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া।




শুরু হচ্ছে ১৬তম আর্ন্তজাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৩

চন্দ্রদ্বীপ বিনোদন ডেক্স: ‘ফ্রেমে ফ্রেমে আগামী স্বপ্ন’ স্লোগানে প্রতি বছরের মতো এবারও চিলড্রেন’স্ ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশ আয়োজন করতে যাচ্ছে ১৬তম আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসব বাংলাদেশ-২০২৩। শিশু-কিশোরদের এই প্রাণের উৎসব আগামী ৭ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।

উৎসবটির বিস্তারিত তথ্য জানাতে ৪ সেপ্টেম্বর ধানমন্ডির আলিয়ঁস্ ফ্রঁসেজে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, চিলড্রেন’স্ ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মুনিরা মোরশেদ মুন্নী, উপদেষ্টা ইয়াসমিন হক, উৎসব কর্মকর্তা ম্ঈুদ হাসান তড়িৎ ও আলিয়ঁস্ ফ্রঁসেজের পরিচালক ফ্রঁসোয়া ঘ্রোঁজ। উৎসবের সব তথ্য লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন উৎসব পরিচালক শাহরিয়ার আল মামুন।

এবারও উৎসবের অন্যতম আকর্ষণীয় বিভাগ হিসেবে থাকছে বাংলাদেশি শিশুদের নির্মিত প্রতিযোগিতা বিভাগটি। এ বিভাগে এবার ১৭টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল, যার মধ্যে নির্বাচিত ৯টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে, ৩টি চলচ্চিত্র পুরস্কার পাবে।

বিশেষ চলচ্চিত্র বিভাগে ৫টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল, যার মধ্যে নির্বাচিত ২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে। তরুণ বাংলাদেশি নির্মাতা বিভাগে ৩৫টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল যার মধ্যে প্রদর্শিত হবে ১৫টি চলচ্চিত্র, পুরস্কার পাবে ২টি চলচ্চিত্র। আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র নির্মাতা বিভাগে ২৭০০-এর বেশি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল, প্রদর্শিত হবে ৭৫টি চলচ্চিত্র।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে উদ্বোধনী দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১১টা, দুপুর ২টা, ও সন্ধ্যা ৬টায়, মোট ৩টি প্রদর্শনী হবে। এবারের উৎসবে ঢাকায় ২টি ভেন্যু, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তন ও আলিয়ঁস ফ্রসেঁসে ৩৯টি দেশের ১০১টি শিশুতোষ চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

প্রতিটি প্রদর্শনীতে একাধিক শিশুতোষ চলচ্চিত্র দেখানো হবে। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও উৎসবের সব প্রদর্শনী অভিভাবক, শিশু-কিশোরসহ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সিনেমা দেখার জন্য কোনো ধরনের প্রবেশমূল্য নেই।

শিশু নির্মাতাদের চলচ্চিত্র বিচারকাজে জুরি বোর্ডের সবাই শিশু-কিশোর। অর্থাৎ ছোটদের নির্মিত শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রগুলো বাছাই করবে ছোটরাই। তরুণ বাংলাদেশি নির্মাতা বিভাগের চলচ্চিত্রগুলো বিচার করার জন্য জুরি বোর্ডে রয়েছেন উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাগণ।

এছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম, শামীম আকতার ও রাকা নওশিন নাওয়ারকে সদস্য করে ‘আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র নির্মাতা বিভাগ’র চলচ্চিত্র বিচার করার জন্য একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

উৎসবে যাদের চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য মনোনীত হয়েছে তাদেরকে উৎসব কমিটির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

উৎসবে আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদের জন্য বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে, এবার মোট ২টি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মশালা নেবেন চলচ্চিত্র নির্মাতা মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা রায়হান রাফি।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার, বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবের উদ্বোধন করবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হুমায়ুর কবীর খোন্দকার এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন চিলড্রেন’স্ ফিল্ম সোসাইটি বাংলাদেশের সভাপতি ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

অনুষ্ঠান শেষে মোহাম্মদ নুরুজ্জামান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আম কাঠাঁলের ছুটি’ (বাংলাদেশ) উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হবে।