এস এল টি তুহিন : জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিত ‘মুজিব একটি জাতির রূপকার’ চলচ্চিত্রটি বরিশাল বিভাগের সিনেমা হলে প্রদর্শিত হচ্ছে। নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হল সংলগ্ন অভিরুচি সিনেমা হলসহ বিভাগের হলগুলোতে ৪ দিন থেকে সরকারি কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ ছবিটি দেখতে ভিড় জমান। চলচ্চিত্রটি মুক্তির আগে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার টানানো হয় ।
বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রযোজিত সিনেমাটি অভিরুচি সিনেমা হলে দেখতে আসা রিফাত শরিফ নামের এক স্কুল ছাত্র জানান, স্বাধীনতার মহানায়ককে সামনে থেকে দেখতে পারিনি। বইতে তার সম্পর্কে জেনেছি। তাকে নিয়ে যখন সিনেমার ট্রেলার দেখেছি, তখন আর সিনেমাটি না দেখে ঘরে থাকতে পারলাম না। বঙ্গবন্ধুর জীবনী নিয়ে একটি চমৎকার উপস্থাপন। আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম এই সিনেমার মাঝে। আমরা নতুন প্রজন্ম তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপলব্ধি করছি। সিনেমাটি দেখে মনে হচ্ছিল ’৭১-এ যেন আমিও দাঁড়িয়ে আছি।
বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান (সুজন) বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ছিল সংগ্রামমুখর। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি নিজের জীবন বাজি রেখে প্রাণপণ সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। সিনেমাটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সংগ্রামী জীবন ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্পষ্টভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে।
বরিশাল বিভাগের বিলাসবহুল অভিরুচি সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক সৈয়দ রেজাউল করিম বলেন, একটা সময় মনে হয়েছিল সিনেমা হল অতীত ইতিহাস হয়ে যাবে। তবে এখন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত মুজিব চলচ্চিত্রটি সিনেমাটি হলে দেখতে সব বয়সের মানুষের ভিড় দেখে মনে হয় মুজিব ফিরিয়ে দিলো বরিশালের সিনেমা হলের জীবন্ত প্রাণ ।
তিনি বলেন, আমাদের সিনেমা হলে ৩২৫টি আসন রয়েছে। সাড়ে ১২টায় একটি শো, সাড়ে ৩টায় একটি ও সাড়ে ৬টায় লাস্ট শো হয়। টিকেটের মূল্য ছিল ১০০ টাকা। তিন শো মিলিয়ে প্রায় ৮০০ জন দর্শক হয় । বিগত পাঁচ বছরে কোনদিন এত আসনও পূর্ণ হয়নি।
বরিশালে সিনেমাটি সপ্তাহজুড়ে চলবে।
ভোলার রূপসী সিনেমা হলের মালিক আমিরুল ইসলাম কচি বলেন, সিনেমা হল অনেকের জীবন গড়েছে, অনেককে পথে বসিয়েছে। এখন আমরা যারা সিনেমা হল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তারা পথে বসে গেছি তবে মুজিব সিনেমাটি আসায় সর্বমহলের ভিড় দেখে আমরা নতুন করে উজ্জীবিত হয়ে আশায় জোগাচ্ছি ।
রূপসী সিনেমা হলে ছবি দেখার সময় ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল বলেন, ছবিটি দেখে জীবন্ত বঙ্গবন্ধুকে উপলব্ধি করা যায়। বাঙালি জাতির কর্ণধার বঙ্গবন্ধুর প্রমাণ এই ছবিটি। ১৯৫২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত ইতিহাসের কালের সাক্ষী এই ছবি। ছবিটি দেখার সময় আবেগে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
রূপসী হলে ছবি দেখে ভোলার স্কুল শিক্ষক মলয় দে জানান, এই ছবি না দেখলে তাদের প্রজন্ম জানতে পারতো না সেই সব দিনগুলোতে কী ঘটেছিল। স্বাধীনতার অর্জনে বঙ্গবন্ধুর অবদান কী ছিল। ছবির নির্মাতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাই।
পটুয়াখালী তিতাস সিনেমা হলের ম্যানেজার মোতালেব হোসেন জানান, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা ও শারদীয় দূর্গা পূজা ছাড়া একসঙ্গে এরকম ৩৫০টি টিকিট বিক্রি করিনি। সিনেমা হলে ৩০০ আসন থাকায় পরবর্তী ৫০ টি আসন বৃদ্ধি করি কিছুক্ষণের মধ্যে সেই টিকিটও বিক্রি হয়ে যায়।
সিনেমাটি দেখা শেষে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম বলেন, বহুল প্রতীক্ষিত ও আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মুজিব- একটি জাতির রূপকার’। সিনেমাটিতে বঙ্গবন্ধু চরিত্রে অভিনয় করেছেন আরিফিন শুভসহ দেশের শতাধিক শিল্পী। জাতির পিতার একেবারে ছোটবেলা থেকে বেড়ে ওঠা এবং একটি দেশের স্বাধীনতা অর্জন পর্যন্ত সব কিছু ফুটে উঠেছে এই বায়োপিকে। চলচ্চিত্রটি একটি ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে থাকবে।