বর্তমান প্রজন্মের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হলো চলচ্চিত্র। কিন্তু সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত অনেক সিনেমা তরুণ-তরুণীদের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বয়ে আনছে। বিশেষ করে ধূমপান, মাদক সেবন এবং অশালীন ভাষার অকারণ প্রদর্শন তরুণদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—যা সামাজিক ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এমনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)। সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ৬টি চলচ্চিত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়—এর মধ্যে ৫টি ছবিতেই খোলাখুলিভাবে ধূমপান ও মাদক সেবনের দৃশ্য রাখা হয়েছে। ‘তান্ডব’ ও ‘ইনসাফ’ চলচ্চিত্রে একত্রে প্রায় ১৬০ বার ধূমপানের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। শুধু সিনেমার ভেতরেই নয়, ট্রেইলার, পোস্টার, টিজার এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণাতেও এইসব দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে।
এমন অবস্থায় মানস মনে করে, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে। আইনের তোয়াক্কা না করেই স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদর্শন করা হয়েছে অনেক সময়, আবার কখনো তা উপেক্ষাও করা হয়েছে। যা স্পষ্টতই একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নীতি বিশ্লেষক ও আইনজীবী এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম জানান, বর্তমান চলচ্চিত্র, নাটক এবং ওটিটি কন্টেন্টে ভাষার অশালীনতা এবং অপরাধমূলক উপাদান এমনভাবে দেখানো হচ্ছে—যা পরিবার নিয়ে দেখার অনুপযুক্ত হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরিত্রে ধূমপান দেখিয়ে বাস্তব সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।”
এর বিপরীতে ‘উৎসব’ নামে একটি চলচ্চিত্রকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে মানস। এই চলচ্চিত্রে ধূমপান ও মাদকদ্রব্য সেবনের দৃশ্য নেই, বরং শুরুর আগে, বিরতির সময় ও শেষে যথাযথ সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়েছে। এটা প্রমাণ করে, ‘কাহিনীর প্রয়োজনে’ ধূমপান দেখানো জরুরি—এই অজুহাত অসার।
মানসের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, “বিনোদন একটি শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু যখন তা অবাধ, লাগামহীন ও বিকৃত উপস্থাপনায় পরিণত হয়—তখন তা সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়। তরুণ সমাজ সিনেমার নায়কদের মতো আচরণ করে, তাই তাদের কাছে যা উপস্থাপন করা হয়, সেটাই তারা অনুকরণ করে।”
তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত ও অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এখনই সংশ্লিষ্ট দপ্তর, চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক এবং শিল্পীদের এগিয়ে আসতে হবে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে।”
এই মুহূর্তে প্রয়োজন কঠোর আইনি পদক্ষেপ, সিনেমা সেন্সরবোর্ডের দায়িত্বশীলতা এবং সৃষ্টিশীল নির্মাতাদের উদ্যোগ। না হলে তরুণ সমাজ বিনোদনের নামে বিষাক্ত আসক্তিতে ডুবে যাবে—যার খেসারত দিতে হবে পুরো জাতিকে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম