শাকিব-বুবলীর আমেরিকান ঘুরে আলোড়ন, অপু বিশ্বাসের সঙ্গে বিরোধ উধাও

শাকিব খানকে কেন্দ্র করে দুই জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস ও শবনম বুবলীর মাঝে দীর্ঘদিন ধরে চলা টানাপোড়েন নতুন কিছু নয়। দুই নায়িকা তাদের-নিজেদের স্থান পেতে নানা সময়ে একে অপরকে কটাক্ষ করে যাচ্ছেন। অপু বিশ্বাসের কথায় যেন বুবলীকে সহ্য করা কঠিন, আর বুবলীর মন্তব্যে শাকিব খানের প্রতি অন্যরকম ঘৃণা স্পষ্ট।

কিন্তু এসব গুঞ্জন ও বিরোধকে পাশ কাটিয়ে, সম্প্রতি আমেরিকায় শাকিব খান ও শবনম বুবলী একসঙ্গে ছেলে শেহজাদ খান বীরের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটিয়েছেন। বুবলী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শাকিব এবং বীরের সঙ্গে নানা রকম ছবি পোস্ট করেছেন যা বলেই দিচ্ছে তাদের পারিবারিক সম্পর্ক এখনো অটুট।

আমেরিকায় শাকিব খান-বুবলী দম্পতির রোমান্টিক মুহূর্ত
আমেরিকায় শাকিব খান-বুবলী দম্পতির রোমান্টিক মুহূর্ত

অন্যদিকে, অপু বিশ্বাস ও শাকিব খানের এমন কোনো ছবি দেখা যায়নি, যেটা থেকে বোঝা যায় তাদের মধ্যকার সম্পর্ক এখন ফাইনাল বিচ্ছেদ। যদিও সন্তান জয়ের কারণে দুজনের মাঝে মাঝে দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে, তবুও তাদের মধ্যে পারস্পরিক ঘনিষ্ঠতা এখন আর নেই।

শাকিব-বুবলী দম্পতির আমেরিকার এই ঘুরে বেড়ানোর ছবি ও পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে উঠেছে। এতে তাদের সম্পর্কের গভীরতা আর সন্দেহের অবকাশ রয়ে গেছে না।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মাসুদরা কখনো ভালো হয় না: তমা মির্জা

ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা তমা মির্জা সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তার ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কাজের স্বীকৃতি পেতে কিছুটা সময় লেগে গেলেও তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ এবং আরো ভালো কাজের আশায় রয়েছেন।

তমা বলেন, “ভালো কাজের স্বীকৃতি অনেকের কাছে দেরিতে আসে। আমি হয়তো অনেক আগে না পেয়ে দেরিতে পেয়েছি, তবুও আলহামদুলিল্লাহ্। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন। খুব শিগগিরই আমার পরবর্তী ছবির ঘোষণা আসবে।” তিনি আরও জানান, তার পরবর্তী সিনেমাটি দর্শকরা উপভোগ করবেন।

বিয়ের বিষয়ে তমা স্পষ্ট করে বলেন, “এখনো কোনো বিয়ের পরিকল্পনা নেই। আমি আমার কাজের প্রতি বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। জন্ম, মৃত্যু, বিয়ের সময় আল্লাহই ঠিক করেন। তাই তাড়াহুড়ো নেই।”

সম্প্রতি আলোচিত ‘সুড়ঙ্গ’ সিনেমার সিক্যুয়েল ‘সুড়ঙ্গ ২’ নিয়ে তমা বলেন, “আমরা ‘সুড়ঙ্গ টুর’ একটা আভাস পেয়েছি। হয়তো শিগগিরই আসবে। তবে আমার সাথে প্রোডাকশন হাউজ বা পরিচালকের এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। আলোচনা হলে সবাই জানবে।”

তমা তার অভিনীত চরিত্র ময়না এবং আফরান নিশোর চরিত্র মাসুদকে বাস্তব জীবনের প্রতিচ্ছবি হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, “আমি সব সময় বলি, মাসুদরা কখনো ভালো হয় না, ময়নারাও ভালো নয়। সমাজের অনেক জায়গায় এই ধরনের মানুষ থাকে। ময়না যেমন লোভী, মাসুদও ছিল বিশ্বাসঘাতক। সে বউকে ভালোবাসতো কিন্তু পরে ধোঁকা পেয়ে রিভেঞ্জ নেয়। এমন মানুষ আমাদের সমাজে প্রচুর।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘যত ভালোবাসি তোরে’–নতুন প্রেমের গল্প নিয়ে ফিরলেন আসিফ আকবর

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর আবারও মাতালেন নতুন গানে। একাধারে গায়ক, পারফর্মার ও সংগীতপ্রেমীদের আপনজন এই শিল্পী এবার হাজির হয়েছেন রোমান্টিক মুডের গান ‘যত ভালোবাসি তোরে’ নিয়ে। গতকাল ডিপি মিউজিক স্টেশনের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাওয়া গানটি ইতোমধ্যেই সাড়া ফেলতে শুরু করেছে শ্রোতামহলে।

গানটির কথা লিখেছেন প্রসেনজিৎ মন্ডল, সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন অমিত কর। ভিডিও নির্মাণ করেছেন মোহন ইসলাম, যেখানে প্রেমের আবহকে চিত্রায়িত করা হয়েছে অপূর্বভাবে। গানের ভিডিওতে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন প্রিয়া অনন্যানয়ন সানি—দুজনের অনস্ক্রিন রসায়ন দর্শকদের নজর কাড়ছে।

আসিফ আকবর বলেন, “সবসময় শ্রোতা-দর্শকদের পছন্দ মাথায় রেখেই গান তৈরি করি। নতুন গানগুলো নিয়েও আশাবাদী। সবার ভালো লাগবে বলে বিশ্বাস করি।” আসিফের এই বক্তব্যে ফুটে ওঠে একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীর আন্তরিক দায়বদ্ধতা।

এর আগে ১০ জুলাই প্রকাশিত হয় তার আরেকটি জনপ্রিয় গান ‘ভীষণ কান্না পায়’, যার কথা লিখেছেন হাসানুজ্জামান মাসুম, সুর-সংগীত করেছেন কিশোর দাশ। ভিডিও নির্মাণ করেছেন ইয়ামিন ইলান, আর নিজেই অভিনয় করেছেন আসিফ। এই গানটিও ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

শুধু একক গান নয়, সম্প্রতি আসিফ আকবর শ্রোতাদের উপহার দিয়েছেন এক বিশেষ দ্বৈত গান ‘মন যে ছুঁয়েছে মন’, যেখানে তার সঙ্গে গেয়েছেন ভারতের জনপ্রিয় গায়িকা সাধনা সারগাম। গানটি লিখেছেন আসিফ ইকবাল, সুর-সংগীত করেছেন রাজা কাশেফ। এতে ভিডিও নির্মাণে ছিলেন চন্দন রায় চৌধুরী, প্রযোজনায় জুয়েল মোর্শেদ এবং মডেল হিসেবে ছিলেন মৌরি মাহদি

আসিফ আকবরের একের পর এক নতুন গান প্রকাশে তার অগণিত ভক্ত-অনুরাগীরা বেশ উচ্ছ্বসিত। নানান ঘরানার গান দিয়ে যেমন তিনি বাংলা গানের ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছেন, তেমনি প্রতিটি গানে তার নিজস্ব সিগনেচার স্টাইল শ্রোতাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে বহু আগেই। এখন দেখার বিষয়, ‘যত ভালোবাসি তোরে’ গানটি কত দ্রুত জায়গা করে নেয় দর্শক-শ্রোতার হৃদয়ে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নিরবেই বাজিমাত, প্রথম ছবিতেই ৫০০ কোটির ক্লাবে আহান পান্ডে!

বলিউডে নতুন যুগের সূচনা করলেন আহান পান্ডে। চাচা চাঙ্কি পান্ডে প্রথম সারির অভিনেতা হতে পারেননি, চাচাতো বোন অনন্যা পান্ডেও স্টারকিড বিতর্কে জর্জরিত—কিন্তু বলিউডে পা দিয়েই আহান একেবারে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। প্রমাণ করলেন, নেপোটিজম নয়, প্রতিভাই আসল পরিচয়।

মোহিত সুরি পরিচালিত এবং যশরাজ ফিল্মস প্রযোজিত ‘সাইয়ারা’ সিনেমা দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয়েছে আহানের। চমকপ্রদ তথ্য হলো, ছবিটির প্রচারণায় আহানকে দেখা যায়নি কোথাও—না কোনো টিভি শো, না পত্রিকা, না সোশ্যাল মিডিয়ায়। অথচ ছবিটি মুক্তির মাত্র ১৬ দিনের মাথায় ৪৬০.৭৫ কোটি টাকার বিশ্বব্যাপী আয় করে ফেলেছে! ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিনের মধ্যেই ছবিটি ৫০০ কোটির অভিজাত ক্লাবে ঢুকে পড়বে।

ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে সিনেমাটি আয় করেছে ৩৫০.৭৫ কোটি টাকা (নেট আয় ২৯৭.২৫ কোটি)। বিদেশের বাজার থেকেও এসেছে ১১০ কোটি টাকার রেকর্ড সংগ্রহ। এই অঙ্ক রণবীর সিং, আয়ুষ্মান খুরানা বা টাইগার শ্রফের বহু ছবিকেও ছাড়িয়ে গেছে।

হৃতিক রোশন, আহান পান্ডে ও শাহরুখ খান
হৃতিক রোশন, আহান পান্ডে ও শাহরুখ খান

অভিনেতা আহান পান্ডে এবং অভিনেত্রী আনিত পাড্ডার অভিনয় নিয়ে দর্শক ও সমালোচকরা একবাক্যে প্রশংসা করেছেন। অথচ জানা গেছে, শুরুতে পরিচালক মোহিত সুরি এই চরিত্রে পরিচিত কোনও নায়ককেই কাস্ট করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু যশরাজের কর্ণধার আদিত্য চোপড়া দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, “এই চরিত্রের জন্য নতুন মুখই সঠিক পছন্দ হবে।” আর তাতেই বাজিমাত।

আহান পান্ডের ‘সাইয়ারা’ ইতোমধ্যেই আয় করে ফেলেছে আন্ধাধুন (আয়ুষ্মান খুরানা অভিনীত, ৪৫৩.৮ কোটি) ছবির চেয়ে বেশি। আর খুব সম্ভবত আজই এটি ছাড়িয়ে যাবে হৃতিক-টাইগার অভিনীত ওয়ার (৪৬৬.৮২ কোটি) এবং শাহরুখ খানের ডাঙ্কি (৪৭০.৬ কোটি)-কেও।

যশরাজ ফিল্মসের পরিকল্পিত মার্কেটিং, চরিত্রের সঙ্গে মানানসই কাস্টিং এবং গল্পনির্ভর প্রেজেন্টেশনই যেন এই সাফল্যের রহস্য। রণবীর সিং, আনুশকা শর্মা, ভূমি পেডনেকারদের মতো তারকার জন্ম দিয়েছে যশরাজ, এবার সেই তালিকায় যোগ হলেন আহান পান্ডেও।

বলিউডের ভবিষ্যৎ তারকা হিসেবে ইতোমধ্যেই নাম লেখালেন আহান। ‘সাইয়ারা’র দৌড় থামার নয়—এখন অপেক্ষা কেবল নতুন রেকর্ডের।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




উপার্জনের পথ থাকলে অভিনয় ছেড়ে দিতেন অহনা

জনপ্রিয় টেলিভিশন অভিনেত্রী অহনা রহমান জানিয়েছেন, অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেও বিকল্প উপার্জনের মাধ্যম না থাকায় এখনই শোবিজ ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। মাসখানেক আগে ওমরাহ পালন করে দেশে ফেরার পর থেকেই নিজের জীবনধারায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন এই অভিনেত্রী। বিশেষ করে পোশাক-পরিচ্ছেদে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। এখন নিয়মিত বোরকা ও হিজাব পরিধান করছেন তিনি।

ওমরাহ্ থেকে ফিরে অহনা ঘোষণা দেন, ২০২৫ সাল থেকেই অভিনয়ে ধীরে ধীরে কাজ কমিয়ে দেবেন এবং এক পর্যায়ে মিডিয়া থেকে বিদায় নেবেন। এরপর থেকেই তার ধর্মীয় অবস্থান ও পেশাগত উপস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ধর্মীয় চেতনা থাকলে কেন এখনও অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

এইসব বিতর্কের জবাবে অহনা সরাসরি বলেন, “ইনকামের আরেকটা উৎস থাকলে আমি শোবিজ ছেড়ে দিতাম। কারণ আমি বসে খেতে পারি না। বসে থাকলে রাজার সম্পত্তিও শেষ হয়ে যায়।”

অভিনেত্রী জানান, ওমরাহ পালন করার পর থেকে নিজের জীবনে মানসিক ও আধ্যাত্মিক পরিবর্তন অনুভব করেছেন। তিনি এখন হিজাব-বোরকা পরে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং নাটকের বাইরেও মাথার কাপড় না ফেলে চলতে চান। এমনকি ইন্টারভিউ বা জনসমক্ষে আসার সময়ও মাথা ঢেকে রাখার চেষ্টা করেন।

নেটিজেনদের নানা সমালোচনার জবাবে অহনা বলেন, “যদি মনে করেন আমি সিমপ্যাথি নিচ্ছি, তাহলে আমার মাসিক খরচটা আপনারা দিয়ে যান। এখানে টিভি চ্যানেলের বিকাশ নাম্বার আছে, সেখানেই পাঠিয়ে দিন।”

ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও বাস্তবতার টানাপোড়েনে অহনার এই অবস্থান মিডিয়া অঙ্গন ও সাধারণ দর্শকদের মাঝে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। তবে একদিকে ধর্মীয় আবেগ, অন্যদিকে অর্থনৈতিক বাস্তবতা—এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করেই পথ চলছেন তিনি।

উল্লেখ্য, অহনা রহমান মডেলিং দিয়ে শোবিজে যাত্রা শুরু করেন এবং খুব দ্রুত ছোট পর্দায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। দীর্ঘদিন ধরে নাটক ও বিজ্ঞাপনে কাজ করে দর্শকদের ভালোবাসা পেয়েছেন। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তার সরব উপস্থিতি রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মাইকেল জ্যাকসনের পুরোনো মোজা বিক্রি ৭ লাখ টাকায়!

প্রয়াত পপ কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসনের প্রতি তার ভক্তদের ভালোবাসা কখনোই কমেনি, বরং সময়ের সঙ্গে তা আরও গভীর হয়েছে। আর এই ভালোবাসাই যেন বারবার নতুন রেকর্ড তৈরি করে। এমনই এক নজির গড়েছে তাঁর ব্যবহৃত পুরোনো এক জোড়া মোজা, যা সম্প্রতি ফ্রান্সে নিলামে বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮ হাজার মার্কিন ডলারে, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ টাকা

মোজাটির মূল্য প্রথমে ৩,৪০০ থেকে ৪,৫০০ ডলারের মধ্যে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু নিলাম শুরুর পর তা ভক্তদের আগ্রহে ও ভালোবাসায় ছাড়িয়ে যায় প্রত্যাশা।

১৯৯৭ সালে মাইকেল জ্যাকসনের ‘হিস্ট্রি ওয়ার্ল্ড ট্যুর’-এর ফ্রান্সের একটি কনসার্টে পারফর্ম করার সময় এই মোজাটি তিনি পরেছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষে তার ড্রেসিং রুমের বাইরে মোজাটি পড়ে থাকতে দেখে এক ব্যক্তি তা তুলে নেন এবং পরবর্তী ২৮ বছর সেটিকে অত্যন্ত যত্নে সংরক্ষণ করে রাখেন।

সেই ব্যক্তি কিছুদিন আগে সিদ্ধান্ত নেন এই মোজাটি নিলামে তোলার। ফ্রান্সের বিখ্যাত নিলামকারী প্রতিষ্ঠান অরোর ইলি-এর আয়োজনে মোজাটি নিলামে ওঠে। নিলামকারীদের একজন জানান, মোজাটির কিছু অংশে হলদে দাগ দেখা দেয়ায়, নষ্ট হয়ে যাওয়ার আগেই এটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যিনি মোজাটি কিনেছেন, তিনি জানিয়েছেন এটি মাইকেল জ্যাকসনের একটি মূল্যবান স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ভক্তদের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করবেন।

পপ সংগীতের ইতিহাসে মাইকেল জ্যাকসনের অবদান অতুলনীয়। তাই তার ব্যবহৃত যে কোনও জিনিসই ভক্তদের কাছে শুধু স্মৃতিচিহ্ন নয়, বরং ভালোবাসার এক শক্তিশালী প্রতীক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ফের পর্দায় ফেসবুক: জাকারবার্গ হচ্ছেন জেরেমি স্ট্রং!

২০১০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’ সিনেমাটি প্রযুক্তি দুনিয়ায় বিপ্লব ঘটানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের শুরুর গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছিল। অ্যারন সোরকিনের চিত্রনাট্যে ডেভিড ফিঞ্চারের পরিচালনায় তৈরি এ চলচ্চিত্রটি ব্যাপক সাড়া ফেলে দেয় বিশ্বজুড়ে। সেই ছবিতে ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছিলেন জেসি আইজেনবার্গ।

তবে এবার আসছে এ সিনেমার বহুল প্রতীক্ষিত সিক্যুয়েল। আর নতুন এই ছবিতে জাকারবার্গের চরিত্রে দেখা যেতে পারে অস্কার ও এমি পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা জেরেমি স্ট্রংকে। হালকা গুঞ্জন নয়, বরং নির্মাতাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র জানাচ্ছে, চরিত্রটির জন্য স্ট্রং-ই পরিচালকের প্রথম পছন্দ।

নতুন ছবির মূল উপজীব্য ২০২১ সালে প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন ‘দ্য ফেসবুক ফাইলস’। এই প্রতিবেদনে ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার অসঙ্গতি, কিশোরদের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব এবং ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ার মতো গুরুতর বিষয় উঠে এসেছিল। এসব দিক নিয়েই গড়ে উঠবে ‘দ্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক’-এর সিক্যুয়েলটির গল্প।

ছবিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে মিকি ম্যাডিসন ও জেরেমি অ্যালেন হোয়াইটকে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এখনো কাউকেই চূড়ান্তভাবে সই করানো হয়নি।

জেরেমি স্ট্রং সম্প্রতি এইচবিও’র আলোচিত সিরিজ Succession-এ ‘কেন্ডাল’ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। ফলে তার জাকারবার্গ রূপে পর্দায় আসা নিয়ে দর্শকমহলে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।

এই সিক্যুয়েল কতটা সাহসী ও বিস্ফোরক হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে যে বিষয়টি নিশ্চিত—প্রযুক্তি দুনিয়ার আলো-অন্ধকার আর বাস্তব জটিলতাই এবার ক্যামেরার সামনে উঠে আসবে নতুন এক ভাষ্যে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যুক্তরাষ্ট্রে ‘দ্য উইকেন্ড’-এর কনসার্টে সাবিলা নূর, বললেন— “ওহ মাগো!”

‘তান্ডব’ সিনেমায় অভিনয় এবং ‘লিচুর বাগানে’ গানে নেচে দর্শকদের মন জয় করা অভিনেত্রী সাবিলা নূর এখন আছেন ছুটির মেজাজে, যুক্তরাষ্ট্র সফরে। সঙ্গে রয়েছেন তার স্বামী নেহাল তাহের। সেখানেই কাটাচ্ছেন প্রিয়জনদের সঙ্গে সময়, আবার ভক্তদের জন্য রাখছেন বিশেষ চমক!

সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত গায়ক দ্য উইকেন্ডের কনসার্ট সরাসরি উপভোগ করেছেন সাবিলা। কনসার্টে অংশ নেওয়া ও প্রিয় শিল্পীকে সামনে থেকে দেখা তার জন্য যেন এক স্বপ্নের বাস্তবায়ন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই অভিজ্ঞতা ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন সাবিলা নিজেই। পোস্টে লিখেছেন,

“কী একটি রাত, কী একজন পারফর্মার! দ্য উইকেন্ড, ওহ মাগো, তার এনার্জি, কণ্ঠ, পুরো পরিবেশনা—সবকিছুই অন্য মাত্রার ছিল। আমি এতদিন ধরে এটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। গাড়িতে বসে থাকা, ফোসকা পড়া, গলা ব্যথা—সব সার্থক হয়েছে!”

এছাড়াও স্বামী নেহালসহ একাধিক ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। দেখা যাচ্ছে, সাবিলা ও তার পরিবার সময় কাটাচ্ছেন ল্যাভেন্ডার বাগান, কনসার্ট ভেন্যু এবং বিভিন্ন মনোরম জায়গায়।

‘দ্য উইকেন্ড’-এর কনসার্টে সাবিলা নূর ও তার স্বামী নেহাল তাহের
‘দ্য উইকেন্ড’-এর কনসার্টে সাবিলা নূর ও তার স্বামী নেহাল তাহের

এটাই প্রথম নয়।
এর আগেও সাবিলা যুক্তরাষ্ট্র সফরে ‘লিনকিন পার্ক’-এর কনসার্টে অংশ নিয়েছেন। ‘ইন দ্য এন্ড’, ‘পেপারকাট’, ‘সামহয়্যার আই বিলং’ গানগুলো তার সবচেয়ে প্রিয় বলেও জানিয়েছিলেন সে সময়।

ব্যতিক্রমী আগ্রহ:
সাবিলা কেবলমাত্র বিদেশে গিয়ে ঘোরাঘুরি বা কেনাকাটায় সময় কাটান না, বরং তার আগ্রহের জগৎ—সংগীত, পারফর্ম্যান্স, সংস্কৃতি—তাকে টানে বেশি। সেই আগ্রহ থেকেই তিনি পছন্দের শিল্পীদের কনসার্টে গিয়ে অংশ নিচ্ছেন, যা অনেক তারকার চেয়ে আলাদা।

প্রিয় শিল্পীর পরিবেশনায় মুগ্ধ সাবিলা নূর। দ্য উইকেন্ডের লাইভ কনসার্টের অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন ভক্তদের হৃদয়ে আরও গভীরভাবে।


আল-আমিন

 




ভারতে নাচের ভিডিও করতে গিয়ে আটক হলেন নোয়েল

বাংলাদেশের রাস্তায় নেচে ভাইরাল হওয়া জার্মান কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও নৃত্যশিল্পী নোয়েল রবিনসন ভারতে গিয়ে পুলিশের জালে পড়েছেন। সম্প্রতি ব্যাঙ্গালুরুর চার্চ স্ট্রিটে পারফর্ম করার সময় অতিরিক্ত ভিড় জমে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে। একই দিনে আরেক জার্মান ইনফ্লুয়েন্সার ইউনেস জারুকেও একই কারণে আটক করা হয়।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, ৩০ জুলাই ব্যাঙ্গালুরুতে পারফর্ম করার সময় নোয়েল এবং ইউনেস জনসমাগমের মাধ্যমে জনস্বার্থে বিঘ্ন ঘটান বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর পুলিশ কিছু সময়ের জন্য তাদের হেফাজতে নেয়। ইনস্টাগ্রামে ১.১ কোটির বেশি ফলোয়ার রয়েছে নোয়েলের, আর ইউনেসের অনুসারী ২ কোটিরও বেশি

নোয়েল মূলত রাস্তায় আকস্মিক পারফরম্যান্স ও চমকপ্রদ নৃত্যদক্ষতার জন্য পরিচিত। তিনি তাঁর স্ট্রিট ডান্স এবং ‘অ্যাফ্রো হেয়ার’ দিয়ে দর্শকদের চমকে দিতে পছন্দ করেন। তবে এদিন তার পারফরম্যান্স এতটাই জনাকর্ষণ সৃষ্টি করে যে পুলিশ বাধ্য হয়ে হস্তক্ষেপ করে।

পরবর্তীতে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় নোয়েল বলেন, “মাত্র ১৫ মিনিট আটক ছিলাম। ২ ডলার (প্রায় ১৬০ টাকা) জরিমানা দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। কিছুক্ষণের জন্য ভয় পেয়েছিলাম, মনে হয়েছিল জেলে পাঠাবে। তবে এখন আমি নিরাপদ, আর আমি ভারতকে ভালোবাসি!”

এর আগেও মুম্বাইয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে রাস্তায় নাচ করে ভাইরাল হয়েছিলেন নোয়েল। ভারত সফরের আগে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন এবং ঢাকার সংসদ ভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, লালবাগ কেল্লা, গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন ও নাচ করেছেন।

ঢাকায় তার নৃত্যে অংশ নেন জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী হৃদি শেখ, এবং সংগীতশিল্পী জেফার রহমানের সঙ্গেও তাকে আড্ডা দিতে দেখা যায়। নোয়েলের বাংলাদেশ সফরের ভিডিওগুলো সেসময় ভাইরাল হয় ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে।

এদিকে ব্যাঙ্গালুরুর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অনুমতি ছাড়া জনসমাগম তৈরি করে ভিডিও করায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চলচ্চিত্রে ধূমপান ও মাদক, তরুণদের জন্য বিপজ্জনক বার্তা

বর্তমান প্রজন্মের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হলো চলচ্চিত্র। কিন্তু সাম্প্রতিক মুক্তিপ্রাপ্ত অনেক সিনেমা তরুণ-তরুণীদের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বয়ে আনছে। বিশেষ করে ধূমপান, মাদক সেবন এবং অশালীন ভাষার অকারণ প্রদর্শন তরুণদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—যা সামাজিক ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

এমনই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)। সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঈদুল আযহা উপলক্ষে ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ৬টি চলচ্চিত্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়—এর মধ্যে ৫টি ছবিতেই খোলাখুলিভাবে ধূমপান ও মাদক সেবনের দৃশ্য রাখা হয়েছে। ‘তান্ডব’ ও ‘ইনসাফ’ চলচ্চিত্রে একত্রে প্রায় ১৬০ বার ধূমপানের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। শুধু সিনেমার ভেতরেই নয়, ট্রেইলার, পোস্টার, টিজার এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণাতেও এইসব দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে।

এমন অবস্থায় মানস মনে করে, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা লঙ্ঘিত হয়েছে। আইনের তোয়াক্কা না করেই স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা প্রদর্শন করা হয়েছে অনেক সময়, আবার কখনো তা উপেক্ষাও করা হয়েছে। যা স্পষ্টতই একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নীতি বিশ্লেষক ও আইনজীবী এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম জানান, বর্তমান চলচ্চিত্র, নাটক এবং ওটিটি কন্টেন্টে ভাষার অশালীনতা এবং অপরাধমূলক উপাদান এমনভাবে দেখানো হচ্ছে—যা পরিবার নিয়ে দেখার অনুপযুক্ত হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরিত্রে ধূমপান দেখিয়ে বাস্তব সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, যা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।”

এর বিপরীতে ‘উৎসব’ নামে একটি চলচ্চিত্রকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছে মানস। এই চলচ্চিত্রে ধূমপান ও মাদকদ্রব্য সেবনের দৃশ্য নেই, বরং শুরুর আগে, বিরতির সময় ও শেষে যথাযথ সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়েছে। এটা প্রমাণ করে, ‘কাহিনীর প্রয়োজনে’ ধূমপান দেখানো জরুরি—এই অজুহাত অসার।

মানসের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, “বিনোদন একটি শক্তিশালী মাধ্যম। কিন্তু যখন তা অবাধ, লাগামহীন ও বিকৃত উপস্থাপনায় পরিণত হয়—তখন তা সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়। তরুণ সমাজ সিনেমার নায়কদের মতো আচরণ করে, তাই তাদের কাছে যা উপস্থাপন করা হয়, সেটাই তারা অনুকরণ করে।”

তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত ও অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এখনই সংশ্লিষ্ট দপ্তর, চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজক এবং শিল্পীদের এগিয়ে আসতে হবে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে।”

এই মুহূর্তে প্রয়োজন কঠোর আইনি পদক্ষেপ, সিনেমা সেন্সরবোর্ডের দায়িত্বশীলতা এবং সৃষ্টিশীল নির্মাতাদের উদ্যোগ। না হলে তরুণ সমাজ বিনোদনের নামে বিষাক্ত আসক্তিতে ডুবে যাবে—যার খেসারত দিতে হবে পুরো জাতিকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম