কুয়াকাটায় নাচে গানে ফানুস উড়িয়ে ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ উদযাপন

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): রং-বেরঙের শতাধিক ফানুষ আর এত হাজার মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মধ্যে দিয়ে কুয়াকাটায় উদযাপিত হয়েছে প্রবারণা উৎসব। রোববার দিনভর বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অন্যতম এই ধর্মীয় উৎসকে ঘিরে মন্দিরে মন্দিরে চলে পঞ্চশীল ও অষ্টশীলসহ গৌতম বুদ্ধ স্মরণে প্রার্থনা।
এদিন রাখাইন নারীদের হাতে তৈরি হরেক রকমের পিঠাপুলি প্রদান করা হয় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মাঝে।
মনোজ্ঞ আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয় কুয়াকাটার শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহার। আর ফানুস উৎসবে আতশবাজি ও নাচে গানে মেতে ওঠে রাখাইন নারী পুরুষসহ ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সবশ্রেণি পেশার মানুষ।
রোববার রাতে এভাবেই কুয়াকাটায় পালিত হয়েছে বৌদ্ধধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা। শুধু কুয়াকাটার শ্রী মঙ্গল বৌদ্ধ বিহারই নয় কলাপাড়ার ২০টি রাখাইন পল্লীতে আনন্দ উৎসবে উদযাপন করা হয়েছে প্রবারণা পূর্ণিমা।
কুয়াকাটার কেরানীপাড়ার মাদবর উছাছিং মাদবর জানান, আমাদের জীবন হোক মঙ্গলময়। এ কামনায় গৌতম বুদ্ধ স্মরণে আমরা নানা আচার অনুষ্ঠান করেছি। তবে আমাদের প্রধান আকর্ষণ ছিলো মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও ফানুস উৎসব। এ উৎসবে কুয়াকাটার সব ধর্মের মানুষ অংশগ্রহণ করেছেন।
একই এলাকার লুমা রাখাইন জানান, ফানুস উৎসবে আতশবাজি ও নাচে গানে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে রাখাইন তরুণ-তরুণীরা। এর আগে সকালে পঞ্চশীল, অষ্টশীল প্রার্থনা করা হয়। হরেক রকমের পিঠাপুলি বৌদ্ধ ভিক্ষুদের প্রদান করেছি।
কুয়াকাটা শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহারের উপাধ্যক্ষ ইন্দ্র বংশ ভিক্ষু জানান, নিজেকে আত্মশুদ্ধি করার জন্যই আমরা প্রবারণা উৎসব করে থাকি। গৌতম বুদ্ধ স্মরণে আমরা দিনব্যাপী নানা আয়োজন করেছি। এটি এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। আগামীকালও বিহারগুলোতে এ উৎসব চলবে।
মহিপুর থানার ওসি ফেরদাউস আলম জানান, রাখাইন সম্প্রদায়ের এ উৎসবকে ঘিরে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে। যাতে তাদের উৎসব পালনে কোন ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।








