৪৫তম বিসিএস: মৌখিক পরীক্ষা শুরু ৮ জুলাই থেকে

৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ৮ জুলাই থেকে। সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গতকাল ২৫ জুন সন্ধ্যায় তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এই পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেছে।

পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীনের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সাধারণ ক্যাডারের ৪৮১ জন এবং সাধারণ ও কারিগরি/পেশাগত ক্যাডারের ১০৪ জন—মোট ৫৮৫ জন প্রার্থীর মৌখিক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পিএসসি প্রধান কার্যালয়ে।

এর আগে, ১৮ জুন ৪৫তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ৬ হাজার ৫৫৮ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন, যারা এখন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। আবেদন করেন ৩ লাখ ৪৬ হাজার পরীক্ষার্থী। পরবর্তীতে, ২০২৩ সালের ১৯ মে অনুষ্ঠিত হয় প্রিলিমিনারি টেস্ট। এতে অংশগ্রহণ করেন ২ লাখ ৬৮ হাজার ১১৯ জন। মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে ফল প্রকাশ করা হয় এবং ১২ হাজার ৭৮৯ জন এতে উত্তীর্ণ হন।

এরপর, ২৭ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা আশঙ্কা দেখিয়ে প্রার্থীরা তা পেছানোর দাবি জানান। ফলে, পরীক্ষা পিছিয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নেওয়া হয়। ২৩ জানুয়ারি শুরু হয়ে লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৩১ জানুয়ারি। এরপর প্রায় সাড়ে ১৬ মাস পর ২০২৫ সালের জুনে ফল প্রকাশ করা হয়।

পিএসসি জানিয়েছে, ৪৫তম বিসিএসের মাধ্যমে ২ হাজার ৩০৯ জনকে ক্যাডার পদে এবং ১ হাজার ২২ জনকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। ফলে, দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে প্রবেশ করল এই বিসিএস।




সুষ্ঠুভাবে চলছে এইচএসসি পরীক্ষা, দ্রুতই আসবে ফলাফল

২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারা দেশে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খল পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার জানান, এবারের পরীক্ষায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়মের খবর পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর ভাসানটেক সরকারি কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় তিনি বলেন, “প্রথম দিন থেকেই পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোতে একটি শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রয়েছে। পরীক্ষার্থীরা সময়মতো কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিয়ম মেনে পরীক্ষা দিচ্ছে। এ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবি রাখে।”

তিনি আরও জানান, “প্রশ্নফাঁস বা নকলের মতো কোনো সমস্যার খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। সরকার এ বিষয়ে কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। ফলাফল যেন দ্রুত প্রকাশ করা যায়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

পরিদর্শনের সময় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের অধ্যক্ষ, কেন্দ্র সচিব, কক্ষ পরিদর্শক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




সারা দেশে সুষ্ঠুভাবে চলছে এইচএসসি পরীক্ষা: শিক্ষা উপদেষ্টা

সারাদেশে ২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। একইসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ফলাফল প্রকাশে যাতে কোনো বিলম্ব না ঘটে, সে বিষয়েও বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর ভাসানটেক সরকারি কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজে পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, “পরীক্ষার শুরু থেকেই সব কেন্দ্রে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে পৌঁছেছে এবং পরীক্ষাও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।”

উপদেষ্টা আরও জানান, প্রশ্নফাঁস রোধ এবং নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করেছে। এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের অধ্যক্ষ, কেন্দ্র সচিব, কক্ষ পরিদর্শক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। লিখিত পরীক্ষা চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। এ বছর মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।




মুলাদীতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় ছয়টি বেসরকারি কলেজের বিরুদ্ধে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্রের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিভিন্ন অজুহাতে জিম্মি করে নেওয়া হচ্ছে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মুলাদী উপজেলার সাতটি কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে একটি সরকারি ও ছয়টি বেসরকারি কলেজ রয়েছে। মুলাদী সরকারি কলেজ ছাড়া বাকি প্রতিটি বেসরকারি কলেজে প্রবেশপত্রের নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সফিপুর ইউনিয়নের বালিয়াতলী গ্রামের অভিভাবক আবুল হাসেম অভিযোগ করেন, হাজী সৈয়দ বদরুল হোসেন কলেজে কেন্দ্র খরচের অজুহাতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে।

আরিফ মাহমুদ কলেজের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক আব্দুল হান্নান জানান, তার সন্তানকে প্রবেশপত্র নিতে হলে ১ হাজার ২০০ টাকা দিতে হয়েছে। এমনকি অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও একই পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে।

শুধু তাই নয়, নাজিরপুর ইউনাইটেড কলেজ, চরকালেখান আদর্শ কলেজ, পূর্ব হোসনাবাদ কলেজ এবং মুলাদী মহিলা কলেজেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হাজী সৈয়দ বদরুল হোসেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, “কোনো কেন্দ্র খরচ বা প্রবেশপত্রের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়নি, শুধু পূর্বের বকেয়া আদায় করা হয়েছে।”

আরিফ মাহমুদ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মনির হোসেন বলেন, “ফরমপূরণের সময় শিক্ষার্থীরা পূর্ণ টাকা দেয়নি, প্রবেশপত্র বিতরণের সময় সেই টাকা আদায় করা হয়েছে।” তবে ১ হাজার ২০০ টাকা করে নেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সহিদুল ইসলাম বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, “ফরমপূরণের সময় কেন্দ্র ফি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে, প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় নতুন করে কোনো টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই।”

এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অভিযোগের দ্রুত তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত কোচিং সেন্টার বন্ধ

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাকে ঘিরে প্রশ্নফাঁস ও গুজব রোধে আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (২৪ জুন) বিকেলে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক তথ্য বিবরণীতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৫ জুন (বুধবার) মধ্যরাত থেকে এই নির্দেশনা কার্যকর হবে।

সম্প্রতি শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

তথ্য বিবরণীতে আরও বলা হয়:

  • প্রশ্নপত্র ফাঁস বা গুজব ছড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোনসহ কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  • পরীক্ষার দিন ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে।
  • বিলম্বে উপস্থিত হলে রেজিস্টারে নাম, রোল, সময় ও কারণ উল্লেখ করে বোর্ডকে জানাতে হবে।
  • প্রাকৃতিক দুর্যোগে পরীক্ষা বিলম্বিত হলে সময় সমন্বয় করে পূর্ণ সময় পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হবে।
  • প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীও দায়িত্বে থাকবে।

চলতি বছর দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন।




বরিশালে ৫ কলেজের নতুন নাম ঘোষণা

বরিশাল বিভাগের পাঁচটি সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন নামকরণে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় পরিচিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান।

রোববার (২২ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক নোটিশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বরিশাল শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোতে ইতোমধ্যে নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা পৌঁছে গেছে এবং কিছু কলেজ নতুন সাইনবোর্ডও স্থাপন করেছে।

পরিবর্তিত কলেজগুলোর নাম নিম্নরূপ—

  1. শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি কলেজ (বরিশাল নগরী)কাউনিয়া সরকারি কলেজ
  2. দেশরত্ন শেখ হাসিনা মহাবিদ্যালয় (মেহেন্দীগঞ্জ)আলিমাবাদ সরকারি মহাবিদ্যালয়
  3. শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি ডিগ্রি কলেজ (আগৈলঝাড়া)আগৈলঝাড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ
  4. বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয় (নাজিরপুর)নাজিরপুর সরকারি মহিলা কলেজ
  5. সরকারি শেখ ফজিলাতুন নেছা মহিলা কলেজ (ভোলা)ভোলা সরকারি মহিলা কলেজ

শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, “মন্ত্রণালয় আমাদের কাছে নামসহ তালিকা চেয়েছিল। আমরা সেই অনুযায়ী প্রেরণ করেছি। পরবর্তীতে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নাম পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও পরিচিতি ধরে রাখার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়েছে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫

 




কেঁচো সারেই ভাগ্যবদল, সফল উদ্যোক্তা ডলি বিশ্বাস

কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন করে ভাগ্য বদলেছেন বরিশালের আগৈলঝাড়ার ডলি বিশ্বাস। একসময় অভাব-অনটনে জীবন কাটানো এই নারী এখন ঘরে বসেই পরিবেশবান্ধব জৈব সার তৈরি করে এলাকার আদর্শ উদ্যোক্তায় পরিণত হয়েছেন।

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আঁক গ্রামের দিনমজুর পরিমল বিশ্বাসের স্ত্রী ডলি বিশ্বাস দুই বছর আগে শুরু করেন ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির কাজ। কারিতাসের ‘ধরিত্রী প্রকল্প’ থেকে সহায়তা পেয়ে তিনি প্রথমে তিনটি চারি ব্যবহার করে কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ১৩টি রিং ব্যবহার করে নিয়মিত সার উৎপাদন করে স্থানীয় বাজারে খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করছেন।

ডলি বিশ্বাস জানান, “সার তৈরির জন্য ১৫ দিনের পুরনো গোবর প্রয়োজন হয়। কেঁচো এই গোবর খেয়ে যে মল ত্যাগ করে, তাই হচ্ছে ভার্মি কম্পোস্ট। এই সার বিক্রি করেই আমি এখন স্বাবলম্বী।”

তার উৎপাদিত সার দামে সস্তা ও মাটির জন্য উপকারী হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে চাহিদা বেড়েছে। কৃষক আবু মিয়া বলেন, “রাসায়নিক সারের চেয়ে কেঁচো সার সস্তা। ফলনও ভালো হচ্ছে, আর মাটির ক্ষতি হচ্ছে না।”

আরেক কৃষক হারুন-অর রশিদ বলেন, “আমি সবজি চাষ করি। আগে রাসায়নিক সার ব্যবহার করতাম। এখন ডলির তৈরি কেঁচো সার ব্যবহার করছি, এতে খরচ কমেছে আর ফলন বেড়েছে।”

কারিতাসের আগৈলঝাড়া ধরিত্রী প্রকল্পের ইনচার্জ এডওয়ার্ড অন্তু রায় জানান, “ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের মাধ্যমে অনেক অসহায় নারী আজ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। কৃষকরাও এই সার ব্যবহারে লাভবান হচ্ছেন।”

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. রেজাউল হাসান বলেন, “কেঁচো সার সব ধরনের ফসলে ব্যবহারযোগ্য। এটি বীজের অঙ্কুরোদগমে সহায়তা করে, মাটির উর্বরতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ফলনের গুণগত মান বাড়ায়।”

ডলি বিশ্বাসের সফলতায় প্রমাণ হয়েছে, উদ্যোগ ও পরিশ্রম থাকলে জৈব কৃষিভিত্তিক কর্মসংস্থানেও নারীরা হতে পারে আত্মনির্ভর।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




এইচএসসিতে বরিশাল বোর্ডে ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছাত্রদের চেয়ে বেশি। মোট পরীক্ষার্থী সংখ্যা ৬১ হাজার ২৫ জন, এর মধ্যে ছাত্রী ৩২ হাজার ২৩১ জন এবং ছাত্র ২৮ হাজার ৭৯৪ জন

🏫 পরিসংখ্যান এক নজরে:

  • মোট প্রতিষ্ঠান: ৩৪৯টি
  • পরীক্ষা কেন্দ্র: ১৪৪টি
  • বিভাগভিত্তিক পরীক্ষার্থী:
    • মানবিক বিভাগ: ৪৩,০০৯
      • ছাত্র: ১৯,৬৪৯ | ছাত্রী: ২৩,৩৬০
    • বিজ্ঞান বিভাগ: ১১,৮৪১
      • ছাত্র: ৫,৩৮৫ | ছাত্রী: ৬,৪৫৬
    • ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: ৬,১৭৫
      • ছাত্র: ৩,৭৬০ | ছাত্রী: ২,৪১৫

📌 গুরুত্বপূর্ণ দিক:

বরিশাল বোর্ডে এবারও মেয়েদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের হার ছেলেদের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, বিশেষ করে মানবিক ও বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য।




১৫০ উপজেলায় স্কুলে খাবার পাবে শিশুরা

দেশজুড়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের জন্য চালু হচ্ছে ফিডিং কর্মসূচি। দেশের ৮টি বিভাগের ৬২টি জেলার ১৫০টি নির্বাচিত উপজেলায় এই কার্যক্রম বাস্তবায়িত হবে—যা প্রাথমিক শিক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক অফিস আদেশে রোববার (২২ জুন) জানানো হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় ও কর্মকর্তাদের হালনাগাদ তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পাঠাতে হবে। আদেশটি স্বাক্ষর করেন প্রকল্প পরিচালক ও যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নির্ধারিত ছকে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও কর্মকর্তাদের তথ্য পূরণ করে ৩০ জুনের মধ্যে ই-মেইলে (infogpsfp@dpe.gov.bd) পিডিএফ, সফট কপি (এক্সেল ফরম্যাটে, নিকোশবেন ফন্টে) এবং হার্ড কপি পাঠাতে। কক্সবাজার ও বান্দরবান জেলা এই নির্দেশনার বাইরে রয়েছে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রকল্প পরিচালক, উপ-প্রকল্প পরিচালক ও সহকারী প্রকল্প পরিচালক বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছেন।

বিদ্যালয়ভিত্তিক ফিডিং কার্যক্রম শিশুদের পুষ্টি, মনোযোগ এবং স্কুলে উপস্থিতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়ে আগ্রহী করতে এটি বড় সহায়ক হবে। অভিভাবকরাও এতে বেশি আগ্রহী হবেন শিশুদের স্কুলে পাঠাতে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঢাকা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগে অনীহা, চলবে অবস্থান ও কর্মসূচি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) বন্ধের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে হল না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে তাদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নে চলমান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

শনিবার (২১ জুন) সন্ধ্যায় এক ঘোষণায় শিক্ষার্থীরা জানান, কলেজ প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। আলোচনা ছাড়াই হঠাৎ করে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়ে হল ছাড়ার নির্দেশ অযৌক্তিক এবং অনৈতিক বলে দাবি করেন তারা।

শিক্ষার্থী তৌহিদুল আবেদীন তানভীর বলেন, “পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে আমাদের রাখা হয়েছে। এসব ভবনে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করেই এখন আমাদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা অমানবিক।” তিনি আরও বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হলে অবস্থান করব এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

এর আগে, শনিবার সকাল থেকে পাঁচ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মিছিল করেন ঢামেক শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবির মুখে বিকেলে কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা দেওয়া হয়, একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে এবং আগামীকাল ২২ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করতে হবে।

ঢামেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “কলেজের চলমান অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো। সব শিক্ষার্থীকে ২২ জুন দুপুর ১২টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হলো।” তবে পেশাগত পরীক্ষার্থীদের ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের এই বন্ধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, হঠাৎ করে হল ত্যাগের নির্দেশে বিপাকে পড়েছেন দূরের শিক্ষার্থীরা। ঈদের ছুটি শেষে appena ক্যাম্পাসে ফিরে আসা অনেক শিক্ষার্থীর এখন নতুন করে বাসস্থানের চিন্তায় উদ্বেগ বেড়েছে।

এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, “বিকল্প ব্যবস্থা না করে হলে তালা দেওয়ার নির্দেশ মানে আমাদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাজীবন দুটোই হুমকির মুখে ঠেলে দেওয়া। আমরা আন্দোলনে আছি এবং থাকব।”

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি
১. দ্রুত নতুন ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের জন্য বাজেট অনুমোদন।
২. নতুন ভবন চালু না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা।
৩. নতুন একাডেমিক ভবনের বাজেট অনুমোদন।
৪. পৃথক বাজেট ও তার দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।
৫. সব সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

শিক্ষার্থীরা জানান, শুধু আবাসন নয়, নিরাপদ ও টেকসই শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে না। এজন্য আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।