দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বর্জন করে কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছে। তাদের দাবি—এই কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে মুক্ত করে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, বরিশাল’ মডেলে পুনর্গঠন করতে হবে। দাবি মানা না হলে জাতীয় মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সোমবার (৮ জুলাই) বরিশাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না। বরিশাল-ভোলা-চট্টগ্রাম এবং বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি বাস্তবায়নে তারা প্রস্তুত।
এ পরিস্থিতিতে একই দিন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও অধিভুক্ত অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।
বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ জানান, কলেজের সমস্যা ও শিক্ষার্থীদের দাবি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করার কথাও জানিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান, তবে সমস্যা সমাধানে সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ১/১১ সরকারের সময় বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলেজটি যাত্রা শুরু করে। তবে একাডেমিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হলেও প্রশাসনিকভাবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে।
শিক্ষকদের নিয়োগ, বিভাগ সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে বর্তমানে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। ‘নেভাল আর্কিটেকচার’ বিভাগের কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিলেও শিক্ষকের অভাব ও দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে তা থেমে গেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো—গত প্রায় দুই মাস ধরে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সম্পূর্ণ বন্ধ (‘কমপ্লিট শাটডাউন’) অবস্থায় রয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম







