দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রম বর্জন করে কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছে। তাদের দাবি—এই কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে মুক্ত করে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, বরিশাল’ মডেলে পুনর্গঠন করতে হবে। দাবি মানা না হলে জাতীয় মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

সোমবার (৮ জুলাই) বরিশাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ফিরবেন না। বরিশাল-ভোলা-চট্টগ্রাম এবং বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি বাস্তবায়নে তারা প্রস্তুত।

এ পরিস্থিতিতে একই দিন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন ও অধিভুক্ত অন্যান্য ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন।

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ জানান, কলেজের সমস্যা ও শিক্ষার্থীদের দাবি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন এবং মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করার কথাও জানিয়েছেন। তিনি শিক্ষার্থীদের দ্রুত ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানান, তবে সমস্যা সমাধানে সকলেই ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে ১/১১ সরকারের সময় বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কলেজটি যাত্রা শুরু করে। তবে একাডেমিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হলেও প্রশাসনিকভাবে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন হওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী সংকট দেখা দিয়েছে।

শিক্ষকদের নিয়োগ, বিভাগ সম্প্রসারণ এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবে বর্তমানে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। ‘নেভাল আর্কিটেকচার’ বিভাগের কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নিলেও শিক্ষকের অভাব ও দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে তা থেমে গেছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো—গত প্রায় দুই মাস ধরে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ সম্পূর্ণ বন্ধ (‘কমপ্লিট শাটডাউন’) অবস্থায় রয়েছে। ক্লাস-পরীক্ষা সব বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বিআইটি কাঠামোর দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

সরকারি প্রকৌশল কলেজগুলোর দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক ও একাডেমিক সংকট নিরসন এবং বিআইটি (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি) মডেলে রূপান্তরের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনজন শিক্ষার্থী বক্তব্য রাখেন।

তারা বলেন, বর্তমান প্রকৌশল শিক্ষা ব্যবস্থার দ্বৈত কাঠামো শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশাল প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একাডেমিক কার্যক্রম চলছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে, অথচ প্রশাসনিক দায়িত্ব রয়েছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে—এই ভিন্ন ভিন্ন নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শিক্ষার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ফলে সিলেবাস হালনাগাদ, শিক্ষক নিয়োগ, ল্যাব পরিচালনা কিংবা একাডেমিক পরিকল্পনায় দেখা দিচ্ছে দীর্ঘসূত্রতা ও দ্বিধা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানান, ইইই বিভাগে কোনো সহযোগী অধ্যাপক নেই, সিভিল বিভাগে আছেন মাত্র একজন প্রভাষক এবং নেভাল আর্কিটেকচার ভবন চালু না হওয়ায় সেখানে কার্যক্রম শুরুই হয়নি। এমনকি আধুনিক ল্যাব সরঞ্জাম থাকার পরও ইনস্ট্রাক্টরের অভাবে সেগুলোর কোনো ব্যবহার হচ্ছে না। এর ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন মানসম্পন্ন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সরকারের বিপুল অর্থ বিনিয়োগও অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

তারা জানান, ২০ মে থেকে বরিশাল, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শান্তিপূর্ণভাবে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে একাডেমিক শাটডাউন চলছে। এরমধ্যে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক ও স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শুধুমাত্র ডিগ্রি দিচ্ছে, কিন্তু সিলেবাস আপডেট, শিক্ষা মানোন্নয়ন বা প্রশাসনিক জবাবদিহিতার কোনো দায় নিচ্ছে না।

তাদের দাবি, বর্তমান অব্যবস্থাপনা নিরসনে বিআইটি মডেলের একটি স্বাধীন, স্বায়ত্তশাসিত ও কার্যকর কমিশন গঠন করা হোক। কারণ শিক্ষা মৌলিক অধিকার হলেও, প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা আজ চরম বৈষম্যের শিকার। অবিলম্বে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা এবং এর দায়ভার সরকারের ওপর বর্তাবে বলেও উল্লেখ করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই: শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার

কারিগরি শিক্ষা ছাড়া আধুনিক বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা প্রফেসর ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। তিনি বলেন, “হাতে-কলমে কাজ শেখার সময় এসেছে। প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই। নতুন বাংলাদেশ গড়ার নেতৃত্ব দেবে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত শিক্ষার্থীরা।”

সোমবার (৭ জুলাই) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার গকুলদাশের বাগ এলাকার জামেয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা এবং ভোকেশনাল স্কুল অ্যান্ড বিএম কলেজে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করতে হবে। সরকার চায়, মাদরাসার শিক্ষার্থীরাও যেন গুণগতমান সম্পন্ন কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে। এ জন্য কারিগরি শিক্ষায় জোর দেওয়া হচ্ছে। আমাদের হাতে হয়তো সময় কম, তবে এ সময়ের মধ্যেই কিছু কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করতে চাই।”

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চাই এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হোক, যা শিক্ষার্থীদের অন্তর্নিহিত গুণাবলী বিকাশে সহায়ক হবে, কর্মদক্ষতা বাড়াবে এবং নৈতিক ও মানবিক গুণে গুণান্বিত করবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে সেই লক্ষ্যে ঢেলে সাজানো হচ্ছে।”

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই মাসেই এক ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল। এতে শ্রমিক, শিক্ষক ও অভিভাবকরাও সংহতি জানিয়েছিলেন। পুরো জাতি ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সেই আন্দোলন আমাদের প্রজা থেকে নাগরিক হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। নতুন বাংলাদেশ তৈরির দায়িত্ব এখন আমাদের হাতে। অল্প সময়ের জন্য হলেও আমরা জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের ভিত গড়তে চাই।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার এবং প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন মিঞা।

এস এম/চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




বরিশালে সোলারচালিত ঘাস কাটার মেশিন উদ্ভাবন শিক্ষার্থীদের

বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবন করেছেন একটি বিদ্যুৎ-সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব ঘাস কাটার মেশিন, যা সম্পূর্ণ সৌরশক্তিতে চালিত। এই নতুন উদ্ভাবন কৃষি ও সৌন্দর্য সংরক্ষণের কাজে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্ভাবনটি করেছেন বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মেকানিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের ৫ম ও ৭ম পর্বের শিক্ষার্থীরা। মেশিনটিতে ব্যবহৃত হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ডিসি মোটর, সোলার প্যানেল, রিচার্জেবল ব্যাটারি এবং ধারালো ঘূর্ণনক্ষম ব্লেড। সৌর প্যানেলের মাধ্যমে এটি চার্জ নিয়ে দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে ঘাস কাটতে সক্ষম।

প্রকল্পটির দলনেতা মো. হাসান হোসেন জানান, ভবিষ্যতে কৃষিকাজ ও সৌন্দর্য রক্ষায় একটি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে কাজ করুক—এই লক্ষ্যেই এই যন্ত্রটি উদ্ভাবন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ না থাকলেও মেশিনটি কাজ করতে পারে, ব্যয়ও তুলনামূলক কম। এর ফলে এটি যেকোনো প্রান্তিক অঞ্চলেও ব্যবহারযোগ্য হতে পারে।”

মেশিন তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণগুলোর মধ্যে ছিল একটি সোলার প্যানেল, ডিসি মোটর, রিচার্জেবল ব্যাটারি, কাটার ব্লেড, ফ্রেম, চাকা, তার, কানেক্টর, সুইচসহ কিছু ছোট যন্ত্রাংশ। সহকারী উদ্ভাবক রাহাত খান জানান, প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাথমিক সহযোগিতা পাওয়া গেলেও, আরও সহায়তা পেলে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পথ উন্মুক্ত হবে।

মেকানিক্যাল বিভাগের চিফ ইন্সট্রাক্টর ও পাওয়ার বিভাগের প্রধান অমল কৃষ্ণ রায় বলেন, “ছাত্রদের উদ্ভাবনী কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এতে শিক্ষার্থীরা বাস্তবমুখী প্রযুক্তি শিক্ষার অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।”

ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার মো. রকিব উল্লাহ বলেন, “এই উদ্ভাবন আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বের বিষয়। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতাই নয়, বরং দেশের টেকসই প্রযুক্তি উন্নয়নের পথকেও তুলে ধরেছে। আমরা এই প্রজেক্টকে বড় পরিসরে প্রদর্শনের পরিকল্পনা করছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: পরীক্ষায় নকল করলে ৪ বছরের নিষেধাজ্ঞা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় যেকোনো ধরনের নকল বা অসদুপায় অবলম্বন করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে সেই পরীক্ষার ফল বাতিল করার পাশাপাশি পরবর্তী সর্বোচ্চ ৪ বছর পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।

শুক্রবার (৫ জুলাই) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে যেসব কার্যক্রমকে “পরীক্ষায় অসদুপায়” হিসেবে গণ্য করা হবে, তার মধ্যে রয়েছে:

  • পরীক্ষাকক্ষে অন্যের সঙ্গে কথা বলা বা যোগাযোগ
  • মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহার
  • অনুমোদনহীন কাগজপত্র সঙ্গে রাখা বা সেখান থেকে লেখা
  • শরীর, কাপড়, দেয়াল, বেঞ্চে লেখা থেকে উত্তর লেখা
  • উত্তরপত্রে টাকা রাখা, অশ্লীল/আপত্তিকর কথা লেখা
  • রোল নম্বর বদল বা ভুয়া পরিচয়ে পরীক্ষা দেওয়া
  • উত্তরপত্র ছিঁড়ে ফেলা বা বাইরে পাচার করা
  • পরীক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কাউকে গালাগাল/হামলা করা
  • পরীক্ষাকক্ষে বিশৃঙ্খলা বা ভাঙচুর সৃষ্টি করা

পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটি অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় ১ থেকে ৪ বছর পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবে। কোনো অপরাধ যদি পূর্বনির্ধারিত শাস্তির আওতায় না পড়ে, তবে কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উপযুক্ত শাস্তির সুপারিশ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁস, নকলসহ সব ধরনের অসাধুতা ঠেকাতে কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি থাকবে।


📌 পরামর্শ:
পরীক্ষার সুষ্ঠুতা রক্ষায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের উচিত নিয়ম মেনে প্রস্তুতি নেওয়া ও সততার সঙ্গে পরীক্ষা দেওয়া।

🔗 উৎস: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি, ৫ জুলাই ২০২৫




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই ৩৬ স্মৃতিফলক’ থমকে ভিত্তিপ্রস্তরেই, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া ‘জুলাই ৩৬ স্মৃতিফলক’ এখনো ভিত্তিপ্রস্তরেই থমকে আছে। গত ২৮ মে স্মৃতিফলকটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও এখনো শুরু হয়নি নির্মাণকাজ। নির্ধারিত স্থানে নেই কোনো নির্মাণ সামগ্রী, নেই প্রস্তুতির কোনো চিহ্ন। বিষয়টি নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

২০২৪ সালের ১৭ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর সারা দেশে ছাত্রদের মাঝে শুরু হয় ব্যাপক আন্দোলন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও ওই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন এবং শহীদদের স্মরণে ক্যাম্পাসের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পরদিন দেশব্যাপী ১৪৪ ধারা জারি হওয়ায় নির্মাণকাজ স্থগিত হয়ে যায়।

পরে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শিক্ষার্থীরা স্মৃতিফলক নির্মাণের দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করলে দায়িত্বে থাকা তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন প্রায় আট মাসেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি আনতে ব্যর্থ হন। আন্দোলনের মুখে তার পদত্যাগের পর অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম, যিনি ২৮ মে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

তবে স্মৃতিফলক নির্মাণ কমিটির আহ্বায়ক ড. আলমগীর মোল্লা জানান, পূর্বের উপাচার্য ইউজিসি থেকে বরাদ্দের আশ্বাস দিলেও প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট নিশ্চিত করতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। এমনকি ইউজিসিতে কোনো প্রতিবেদনও জমা দেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর স্মৃতিফলকের প্রস্তাবিত ডিজাইন সংশোধনের নির্দেশ দেন এবং একজন পেশাদার স্থপতির মাধ্যমে সেটি পুনর্গঠনের পরামর্শ দেন। তবে পুরোনো বাজেট বর্তমানে অপ্রতুল হওয়ায় নতুন ইস্টিমেট তৈরি করে ইউজিসিতে আবেদন করার প্রয়োজন রয়েছে, যা এখনো করা হয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য ড. তৌফিক আলম বলেন, “নতুন ডিজাইন অনুযায়ী ইস্টিমেট তৈরি করে ইউজিসিতে আবেদন করবো। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলেই দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে।”

শিক্ষার্থীরা বলছেন, স্মৃতিফলকটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক সংগ্রামের প্রতীক। এটি নির্মাণে দেরি হলে আন্দোলনের চেতনাকেই অপমান করা হবে। তাই দ্রুত প্রশাসনিক অচলাবস্থা দূর করে কাজ শুরুর দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




দুই দশক পর দখলমুক্ত বরিশাল জিলা স্কুল মাঠ, শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস

দীর্ঘ দুই দশক পর অবৈধ দখল থেকে মুক্ত হলো বরিশাল জিলা স্কুলের ঐতিহ্যবাহী ‘পরেশ সাগর মাঠ’। আজ বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে পরিচালিত এক অভিযানে এই মাঠটি দখলমুক্ত করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিবুল হাসান।

জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল জানায়, মাঠটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অবৈধ দখলে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ১৪-১৫টি অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। মাঠের সৌন্দর্য ও ব্যবহার উপযোগিতা ফিরিয়ে আনতে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়

মাঠ দখলমুক্ত হওয়ার খবরে জিলা স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আনন্দে আত্মহারা হন।
দুপুরে অভিযানস্থল পরিদর্শন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওছার এবং জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন।

প্রশাসক রায়হান কাওছার জানান, বরিশাল শহরের আরও যেসব জায়গা অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে, সেগুলোকেও পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

এমন উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহরবাসী এবং শিক্ষার্থী অভিভাবকেরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 

 




এসএসসি ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় জানালেন শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ

এসএসসি ফল প্রকাশের সম্ভাব্য সময় জানালেন শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে। এমন তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার।

তিনি বলেন, ফলাফল তৈরির কাজ এখন শেষের পথে। শিগগিরই ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের শেষ পরীক্ষা ১৫ মে অনুষ্ঠিত হওয়ায় ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে চূড়ান্ত তারিখ এখনো ঠিক হয়নি।

প্রতিবছর সাধারণত লিখিত পরীক্ষার শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হয় এবং এবারও সেই সময়সীমা মাথায় রেখে কাজ চলছে।

চলতি বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় মোট ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন, যার মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ এক হাজার ৫৩৮ এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৪ জন। পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে দুই হাজার ২৯১টি কেন্দ্র এবং ১৮ হাজার ৮৪টি প্রতিষ্ঠানে।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




কুয়েট ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পদে আগ্রহ ৬৮ শিক্ষকের

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেছেন দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৮ জন অধ্যাপক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে গঠিত সার্চ কমিটি আগামীকাল (বুধবার, ২ জুলাই) এসব আবেদন যাচাই-বাছাই শুরু করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কুয়েটের উপাচার্য পদে সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে। সেখানে ৪৮ জন অধ্যাপক সিভি জমা দিয়েছেন। অন্যদিকে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে আবেদন করেছেন ২০ জন অধ্যাপক।

উল্লেখযোগ্য যে, দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমা পড়া সিভিগুলোর মধ্য থেকে সার্চ কমিটি সর্বোচ্চ ছয়জনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করতে পারে। এই তালিকা প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হবে। প্রধান উপদেষ্টা যাঁকে যোগ্য মনে করবেন, তাঁকেই নিয়োগ দেওয়া হবে। তাঁর অনুমোদনের পরই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। তবে, প্রার্থীর সংখ্যা যদি কম হয় বা উপযুক্ত আবেদন কম পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে কম সংখ্যক আবেদনকারীর নাম পাঠানো হতে পারে।

এর আগে, গত ১০ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় কুয়েট এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, আগ্রহী প্রার্থীদের ২৬ জুন বিকেল ৫টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন পাঠাতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপাচার্য পদে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে অবশ্যই পিএইচডি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কুয়েটের ক্ষেত্রে পিএইচডি অবশ্যই প্রকৌশল বা প্রযুক্তি বিষয়ে হতে হবে, অন্যদিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যেকোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গ্রহণযোগ্য।

প্রার্থীদের কমপক্ষে ২০ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতা অথবা ১৫ বছরের শিক্ষকতার সঙ্গে ৫ বছরের গবেষণা অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজ, শিক্ষা পরিকল্পনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ছাত্রকল্যাণ ও একাডেমিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

যেসব আবেদনকারীর বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক বা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নালে প্রকাশনা, বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃতি এবং প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৪৫ বছর হওয়াও আবশ্যক শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ববিতে ভর্তি হতে না পারা ছাত্রীকে সহায়তা দিল ছাত্রদল

অর্থনৈতিক সংকটে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ভর্তি হতে না পারা এক ছাত্রীকে মানবিক সহায়তা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীর দুরবস্থা প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে ছাত্রদল নেতাদের। এরপরই তারা তার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

সোমবার (৩০ জুন) রাতে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন ববি ছাত্রদলের নেতা মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, তার সঙ্গে কাইউম তালুকদার ও মেহেদী হাসান বাপ্পি মিলে ওই ছাত্রীকে ভর্তি সহ সকল আনুষঙ্গিক খরচ বহনের দায়িত্ব নিয়েছেন।

ছাত্রদল নেতা মোশাররফ হোসেন বলেন, “শিক্ষা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর্থিক কারণে যেন কেউ পিছিয়ে না পড়ে, সেটাই আমাদের উদ্বেগের জায়গা। আমরা শুধু রাজনৈতিক সংগঠন নই, শিক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ একটি পরিবার।”

ছাত্রদল নেতা কাইউম তালুকদার বলেন, “ছাত্রদল বিশ্বাস করে, প্রতিটি শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণে মানবিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেই সহানুভূতির জায়গা থেকেই এগিয়ে এসেছি।”

মেহেদী হাসান বাপ্পি বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে অসংখ্য শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খরচ গোপনে বহন করেন। তার পথ অনুসরণ করেই আমরা আজ এক শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পেরে গর্বিত।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সবসময় শিক্ষার্থীবান্ধব রাজনীতি করেছে এবং আগামীতেও ন্যায্য দাবিতে শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /