বাউফলের ইউএনওর সাথে শিক্ষার্থীদের মতবিনিময়

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): আজ (৩০ সেপ্টেম্বর) শনিবার সকাল দশটায় কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সাথে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন-অর-রশিদ এর সভাপতিতে অনুষ্ঠিত সভায় বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী প্রধান অতিথি ছিলেন।

এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার মো. সবুজ মিয়া, পটুয়াখালী জেলা পরিষদ সাবেক সদস্য সাংবাদিক হারুন অর রশিদ খান, উপজেলা কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তা বোরহান তালুকদার, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ফোরকান মেম্বার, জাকির হোসেন, শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ।




বরিশালে বিতর্ক শিখলো পাঁচশ’ শিক্ষার্থী

বরিশাল অফিস : বিতর্ক শিখলো বরিশালের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের পাঁচশ’ শিক্ষার্থী। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিনভর অনুষ্ঠিত বিতর্ক ও ক্যারিয়ার বিষয়ক কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

বরিশাল ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (বিইউডিএস) আয়োজিত প্রশিক্ষণে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির তিনশ’ এবং অনার্স পড়ুয়া দুইশ’ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ ছাদেকুল আরেফিন, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া, জেলা প্রশাসক মোঃ শহিদুল ইসলাম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. খোরশেদ আলম, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সুপ্রভাত হালদার, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক জ্যোতির্ময় বিশ্বাস, বিইউডিএস’র চিফ মডারেটর মোহাম্মদ তানভীর কায়ছার, মডারেটর বঙ্কিমচন্দ্র সরকার, সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।

বিইউডিএস’র সভাপতি মাসুম বেপারীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাদাত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের কী-নোট স্পীকার ছিলেন, টেন মিনিট স্কুলের কনসালটেন্ট এবং পাবলিক স্পীকার সাকিব বিন রশিদ।

বক্তারা বলেন, বিতর্কের মাধ্যমে উচ্চারণ, শব্দশৈলী, বাক্যশৈলী ও আচরণের পরিচ্ছন্নতা চর্চা হয়। তথ্য নির্ভর আলোচনার মাধ্যমে জ্ঞান বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যুক্তিবাদী হতে শেখে। এ ছাড়া অন্যের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া, বিনয় ও ভালো শ্রোতা তৈরি করে বিতর্ক। তাই এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মজীবনে নিজেকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।




বাউফলে এক পরিবার থেকেই কোরআনের হাফেজ ৬৬ জন

আল-আমিন (পটুয়াখালী): জেলার বাউফল উপজেলায় এক পরিবার থেকেই ৬৬ জন পবিত্র কোরআন শরিফের হাফেজ হয়েছেন । ইতিমধ্যে এই বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জেলায় সুনাম কুড়িয়েছেন উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এর বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার।

মৃত হাজী নূর মোহাম্মদ হাওলাদারের ছোট ছেলে শাহজাহান হাওলাদার। বাউফল সরকারি কলেজ থেকে ১৯৭১ সালে এইচএসসি পাস করেন। নিজের পৈতৃক সম্পত্তি ও মামা বাড়ির তিন একর সম্পত্তি বিক্রি করে তিনি নির্মাণ করেছেন ১২ টি মাদরাসা এবং ৩ টি মসজিদ। তার ৬ ছেলে এবং ৪ মেয়ে কোরআনের হাফেজ। তার বংশধররাও এখন হাফেজ হয়ে সংখ্যাটি বাড়িয়ে চলেছেন। ২ বছর আগে তাদের পরিবারে হাফেজ ছিলেন ৫৭ জন আর এখন ৬৬ জন।

শাহজাহান হাওলাদারের বড় ছেলে হাফেজ মাওলানা মজিবর রহমানের ৩ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ মোট ৮ জন হাফেজ। দ্বিতীয় ছেলে হাফেজ মাওলানা নূর হোসেন। তার ৩ ছেলে ৩ মেয়ে ও মেয়ে জামাইসহ পরিবারে মোট ৮জন হাফেজ। তৃতীয় ছেলে হাফেজ মাওলানা আবু বকর। এই পরিবারে ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের মধ্য ৩ জন হাফেজ। মেয়ে জামাইসহ মোট হাফেজের সংখ্যা ৬ জন। চতুর্থ ছেলে হাফেজ ইব্রাহীম। ১ মেয়ে ৪ ছেলে ও মেয়ে জামাইসহ হাফেজ সংখ্যা ৬ জন। পঞ্চম ছেলে হাফেজ জোবায়ের। তাদের পরিবারের ২ ছেলে ও ২ মেয়ে তারা সবাই হাফেজ। এই পরিবারে মোট হাফেজ সংখ্যা ৬ জন। ছোট ছেলে হাফেজ হুজাইফা। ২ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে ১ জন হাফেজ। তাদের পরিবারে মোট হাফেজের সংখ্যা ২ জন।
শাহজাহান হাওলাদারের ৪ মেয়ে। প্রথম মেয়ে হাফেজা খাদিজা। তার পরিবারে ছেলে মেয়ে, ছেলের বউ এবং মেয়ে জামাইসহ হাফেজ ১১জন। দ্বিতীয় মেয়ে হাফেজা আসমা। তাদের সংসারে ছেলে-মেয়ে ও মেয়ে জামাইসহ হাফেজের সংখ্যা ১০ জন। ৩য় মেয়ে হাফেজা খানসা। তাদের সংসারে ছেলে-মেয়ে ও মেয়ে জামাইসহ মোট হাফেজের সংখ্যা ৬ জন। সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে হাফেজা আম্মারা। তাদের সংসারে ২ ছেলে ১ মেয়েসহ মোট হাফেজের সংখ্যা ৩ জন।

শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে হাফেজ জোবায়ের হাওলাদার বলেন, বাবার পাঁচ নম্বর ছেলে আমি। আমরা ৬ ভাই ৪ বোন। বড় ভাই সে সৌদি আরবে জেদ্দায় থাকেন সেখানে মসজিদের ইমাম। তার ৬ সন্তান হাফেজ। আমাদের অন্যান্য ভাইয়েরা ও বোনেরা তাদের সন্তানরা হাফেজ হয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় মাদ্রাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। আমি এই মাদ্রাসার পরিচালনা করতেছি এখানের প্রধান শিক্ষক আমার স্ত্রী তার। হাতে এখানের শত শত মেয়েরা হাফেজ হয়ে এইসব অঞ্চলে শিক্ষকতা করছেন।

শাহজাহান হাওলাদার বলেন, ‘আমার পরিবারের ছেলে মেয়ে নাতি বউসহ ৬৬ জন হাফেজ, হাফেজা রয়েছে। এর মধ্যে ৪০ জনই আন্তর্জাতিক হাফেজ, আমি সাতখানা কিতাব লিখেছি। সবার কাছে আমার অনুরোধ রইল আপনারা আপনাদের ছেলে মেয়েদেরকে হাফেজ হাফেজা বানাবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলে ও ছেলের বউয়েরা বিভিন্ন মাদ্রাসায় এখন হাফেজ বানানোর শিক্ষা দিচ্ছে। আমি কোন দান বা সহযোগিতা এখন পর্যন্ত পাইনি, আমি আমার পৈতৃক সম্পত্তি ও মামাবাড়ির সম্পত্তি থেকে তিন একর জমি বিক্রি করে মাদ্রাসা ও মসজিদ করেছি।’

শাহজাহান হাওলাদার আরো বলেন, ‘আমার বাবা হাফেজদের খুব ভালবাসতেন। ছোটবেলা থেকেই কেমন যেন হাফেজদের প্রতি আমার ভালোবাসা ও সম্মান বেশি ছিল। বাবা-মা ছোটবেলায় মারা যাওয়ায় আমি হাফেজ হতে পারিনি। এজন্য আমি চিন্তা করেছি আমার ছেলে সন্তানদের সবাইকে হাফেজ বানাবো। তারা ইসলাম প্রচার করবে। আল্লাহ কবুল করেছেন। তাই আজ পরিবারে এতো হাফেজ হয়েছে।’

বাউফল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘শাজাহান হাওলাদার একজন ভদ্র মানুষ ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞ জানাই। তার পরিবারের ৬৬ জন আল্লাহর কালাম পবিত্র কেরআন শরিফের হাফেজ হতে  পেরেছেন। এটা নিতান্তই গর্বের বিষয় আমাদের বাউফল ইউনিয়নের জন্য।




বরিশাল জিলা স্কুলের নতুন প্রধান শিক্ষক পাপিয়া জেসমিন

 

বরিশাল অফিস: বরিশাল সরকারি জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হলেন পাপিয়া জেসমিন। তিনি রুপাতলী শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক দুর্গা রানী শিকদার এক অফিস আদেশে তাকে ঐ পদে পদায়ন করেন। পাপিয়া জেসমিন ১৯৯১ সালে বরিশাল সরকারি বালিকা বিদ্যালয় (সদর গার্লস) সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১১ সালে বরিশাল জিলা স্কুলে বদলী হন।

সেখানে তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে বরিশালে শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলে ঐ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান তিনি। সেই থেকে অদ্যাবধি কঠিন পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে শহরের প্রথম সারির বিদ্যালয়ে রুপ দিয়েছেন। বেশ কয়েক মাস ধরে জিলাস্কুল এর প্রধান শিক্ষক এর অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয় তা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় জিলা স্কুলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং একাডেমিক উন্নয়নের স্বার্থে পাপিয়া জেসমিনকে জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে বদলি করেন।

অপরদিকে জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল ইসলামকে ঝালকাঠি হরশ চন্দ্র সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে শাস্তি মূলক বদলি করা হয়। পাপিয়া জেসমিন নগরীর প্রতিটি স্কুলেই সুনামের সাথে চাকুরী করেছেন। তিনি একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক। পাপিয়া জেসমিন বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট লস্কর নুরুল হকের স্ত্রী।




বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির পটুয়াখালীতে সংবাদ সম্মেলন

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: ” কৃত্য পেশা ভিত্তিক মন্ত্রণালয় চাই”-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ক্যাডার কম্পোজিশনের সুরক্ষা, পদোন্নতি, স্কেল আপগ্রেডেশন ও আন্তঃক্যাডার বৈষম্য,পদসৃজন, নিরসন সহ বিসিএস সাধারন শিক্ষা ক্যাডারের যুক্তিক দাবি সমূহ আদায়ে বিসিএস সাধারন শিক্ষা সমিতি পটুয়াখালী জেলা শাখা সংবাদ সম্মেলন করেছে।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় পটুয়াখালী সরকারি কলেজের প্রফেসর লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সমিতির সাধারন সম্পাদক পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল মালেক।

উক্ত সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ নুরুল আমিন, পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোদাচ্ছের বিল্লাহ, প্রফেসর মোঃ শহিদুল আলম খান, প্রফেসর মোঃ হাবিবুর রহমান, প্রফেসর মোঃ আখতারুজ্জামান খান সহ সমিতির বাকি সদস্যরা এবং বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।




বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে গলাচিপায় শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস-২০২৩ পালিত হয়েছে।
‘জলাতঙ্কের অবসান, সকলে মিলে সমাধান’- এই প্রতিপাদ্যের আলোকে জুনোটিক ডিজিট কন্ট্রোল প্রোগ্রাম, সিডিসি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সার্বিক সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর আলোচনা সভা ও র‌্যালির আয়োজন করেছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. মো. নূর উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল।
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল দাস, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মীর রেজাউল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান, গলাচিপা থানার এসআই মো. শাহ আলম প্রমুখ।
এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার, নার্স, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আশপাশের সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।




কাটলো জটিলতা, অক্টোবরেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রথম ধাপে আবেদন শেষ হয় গত ২৪ মার্চ। ছয় মাস পার হলেও নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে কোনো সুখবর দিতে পারছিল না কর্তৃপক্ষ। মূলত অর্থ ছাড় নিয়ে দেখা দেয় জটিলতা।

পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নে যে খরচ, তা যোগাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি মিলছিল না। ‘নড়াচড়া’ করেনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও। অবশেষে সেই জটিলতা কেটেছে। অর্থ ছাড়ে মৌখিক সম্মতি মিলেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত এ সংক্রান্ত চিঠি যাবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে।

জটিলতা কেটে যাওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনে প্রস্তুতি শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। অক্টোবর মাসের শেষ দিকে প্রথম ধাপে আবেদন করা রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষা নিতে চান তারা। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগেই বাকি দুই ধাপের লিখিত পরীক্ষাও শেষ করার লক্ষ্যে কাজ করছে অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদও দ্রুত নিয়োগ পরীক্ষা হবে বলে আশার কথা জানান।

তিনি  বলেন, ১১-১২ লাখ প্রার্থী। এত সংখ্যক প্রার্থীর পরীক্ষা নিতে হলে তো অনেক খরচ হবে। তার মধ্যে বড় খরচটা হলো- তাদের যে লিখিত পরীক্ষার খাতা (উত্তরপত্র), সেটি মূল্যয়ন করানো। এখানে বেশ ভালো অংকের অর্থ খরচ হয়। সেটি অর্থ মন্ত্রণালয় ছাড় না করলে আমাদের বা অধিদপ্তরের কিছু করার থাকে না। ইচ্ছা থাকলেও সেজন্য এতদিন নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ফরিদ আহাম্মদ বলেন, অর্থ ছাড় নিয়ে হয়তো আর ঝামেলা নেই। আমরা অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গ্রিন সিগন্যাল পেয়েছি। বলা চলে- ওটা হয়ে যাবে বা গেছেই। এখন নিয়োগ সংশ্লিষ্টরা বাকি প্রস্তুত নেবেন। যত দূর জেনেছি, তারা অক্টোবরের ভেতরে একটা (প্রথম ধাপ) পরীক্ষা হয়তো নিয়ে নেবেন। পরীক্ষা কবে হবে, সেই সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্টরা ভালো বলতে পারবেন।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনে নীতিগত সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা করবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), এটিও আগেই ঠিক করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় অর্থ ছাড়ের সম্মতির চিঠি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অধিদপ্তরে পৌঁছালে পরীক্ষার তারিখ ঠিক করতে শিগগির সভা ডাকা হবে। সেখানে তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম ধাপে রংপুর, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এ ধাপে আবেদনের শেষ সময় ছিল ২৪ মার্চ। প্রথম ধাপে আবেদন জমা পড়ে ৩ লাখ ৬০ হাজার ৭০০টি।

দ্বিতীয় ধাপে ২৩ মার্চ ময়মনসিংহ, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। আবেদনের শেষ সময় ছিল ১৪ এপ্রিল। দ্বিতীয় ধাপে আবেদন জমা পড়ে ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৪৩৮টি।

১৮ জুন তৃতীয় ও শেষ ধাপে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এ ধাপে আবেদন শেষ হয় গত ৮ জুলাই। তৃতীয় ধাপে আবেদন জমা পড়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি।




এসএসসি-এইচএসসি থাকছে না জিপিএ-নম্বর, আসছে চিহ্নভিত্তিক মূল্যায়ন

হাবিবার মা বলেন, ‘ও আঁকতে চায়, সুন্দর আঁকেও। চারুকলায় পড়ার স্বপ্ন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হলে তো এসএসসি-এইচএসসি পাস করতে হবে। অন্য দু-একটা সাবজেক্টে যে কাঁচা, তাতে পাস করবে কি না, তা নিয়ে যত চিন্তা।’ মায়ের এমন চিন্তার পাশাপাশি হাবিবা শিক্ষকদের থেকেও জেনেছে- বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলার কোনো বিভাগে ভর্তি হতে হলে তাকে এসএসসি-এইচএসসিতে আগে ভালো ফল করতে হবে, যা নিয়ে মন খারাপ শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এ ছাত্রীর।

এক লাখ শিক্ষার্থীকে আমরা বলে দিলাম- তুমি জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছ, তুমিই সেরা। তুমিই প্রকৃত মেধাবী। সংবর্ধনা-পুরস্কার কত কী! বাকি ১৯ লাখ বাচ্চাকে বুঝেয়েছি- তুমি খারাপ। তোমাকে দিয়ে পরিবার, দেশের কোনো কাজ হবে না। গ্রেডিং সিস্টেমে এভাবে আমরা নন-সেন্স, ইডিয়টিং কতগুলো কাজ করেছি। এটার কোনো অর্থ হয় না।

হাবিবার মতো প্রায় সব শিক্ষার্থী কোনো না কোনো বিষয়ে বিশেষ পারদর্শী। পাবলিক পরীক্ষায় খারাপ ফল করার কারণে এমন অনেক শিক্ষার্থীর মেধা ও দক্ষতা প্রস্ফুটিত হয়ে ওঠে না। ঝরে পড়ে অনেক মেধাবীরাও। এতদিন ধরে চলা শিক্ষাক্রমে যা ‘অতি বড় সংকট’ বলে বিবেচিত। প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রমে এমন সংকট থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনার চেষ্টা করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

এ লক্ষ্যে এসএসসি ও এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় নম্বরভিত্তিক মূল্যায়ন বাদ দেওয়া হচ্ছে। থাকছে না দুই যুগ ধরে প্রচলিত জিপিএ পদ্ধতিও। সমাপ্তি ঘটছে জিপিএ-৫ কিংবা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার যুদ্ধেরও। এখন থেকে শিক্ষার্থীদের মেধা মূল্যায়নে ব্যবহার হবে পারফরম্যান্স ‘ইনডিকেটর’, অর্থাৎ বিশেষ পারদর্শিতার ‘চিহ্ন’। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দিয়ে এ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন শুরু হবে।

গ্রেডিং সিস্টেম এখনো বিশ্বের বহু উন্নত দেশে রয়েছে। তারা মূল্যায়ন করছেন, তারা তো এটাকে নন-সেন্সিং মনে করছেন না। এটাকে সংস্কার বা উন্নয়ন করা যায়। এভাবে তুলে দেওয়াটা যায় না, উচিতও নয়। উনি (অধ্যাপক মশিউজ্জামান) গ্রেডিংয়ে মূল্যায়ন নিয়ে যে কথা বলছেন, সেটাই কাণ্ডজ্ঞানহীন কথা।

নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলছেন, ফল হিসেবে যে ইনডিকেটর বা চিহ্ন দেওয়া হবে, তা থেকে বোঝা যাবে- কোন শিক্ষার্থী কোন বিষয় বা কাজে বেশি দক্ষ। ‘ভালো’, ‘মধ্যম’ বা ‘খারাপ’ ফল বলে কোনো কথা বা বার্তাও সেখানে থাকবে না। কোনো শিক্ষার্থী খেলাধুলায় পারদর্শী হতে পারে, কেউ হতে পারে ছবি আঁকায়। কারও কথা বলার দক্ষতা বেশি থাকতে পারে। তাদের এসব দক্ষতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভাগ পছন্দ করে পড়তে উৎসাহ দেওয়া হবে। এতে শিক্ষার্থী যে বিষয়ে দক্ষ ও আগ্রহী, সে বিষয়ে পড়বে এবং কর্মজীবনে সেই ক্ষেত্রেই কাজ করবে। চাকরির বাজারে বিষয়ভিত্তিক দক্ষ কর্মী বাড়লে, কমবে বেকারত্বও।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘জিপিএ পদ্ধতি যে থাকছে না, এটা আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মূল্যায়ন পদ্ধতি কী হবে, সেটা নিয়ে আমাদের শিক্ষাক্রম প্রণেতারা কাজ করছেন। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভালো একটা মডেল দাঁড় করাবে বলে আশা করছি। ২০২৫ সালের আগেই আমরা এটাকে কাঠামোভিত্তিক মডেলে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করবো।’

জিপিএ পদ্ধতিটা ‘নন-সেন্স’

জিপিএ পদ্ধতিতে নম্বরের ওপর ভিত্তি করে গ্রেডে বিভক্ত করে ফল প্রকাশ করা হয়। যেমন- কেউ বাংলায় ৭০-৭৯ পেলে সেটাকে ‘এ গ্রেড’ এবং ৪.০০ পয়েন্ট ধরা হয়। গণিতে ৮০ বা তার বেশি পেলে ‘এ প্লাস’ গ্রেড এবং ৫.০০ পয়েন্ট ধরা হয়। প্রাপ্ত গ্রেড পয়েন্টকে কোর্সের ক্রেডিট দিয়ে গুণ করে বের করা হয় তার যোগফল। এবার সব বিষয়ের ক্রেডিট যোগ করে ওই যোগফল দিয়ে গ্রেড পয়েন্ট বের করা হয়। সেখানে শিক্ষার্থীর প্রাপ্ত জিপিএ কত, তা উঠে আসে।

কেউ গোল্ডেন জিপিএ-৫ (সব বিষয়ে ৮০ নম্বরের ওপরে) পেলে তাকে সবচেয়ে মেধাবী বলে বিবেচনা করা হয়। আবার কেউ জিপিএ-৪ বা ৩.৫ পেলে তাকে ততটা মেধাবী নয় বা ফল ভালো হয়নি বলে বিবেচনার সংস্কৃতি বিদ্যমান। এটিকে ‘নন-সেন্স’ ও ‘ইডিয়টিং’, অর্থাৎ ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন’ ও ‘নির্বুদ্ধিতা’ বলে মনে করেন নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে কাজ করা অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামান। তিনি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) শিক্ষাক্রম ইউনিটের সদস্য।

অধ্যাপক মশিউজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘দেশে ২০ লাখ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিলো। তারা সবাই কিশোর-তরুণ। কাঁচা মন। অথচ তাদের মধ্যে এক লাখ শিক্ষার্থীকে আমরা বলে দিলাম- তুমি জিপিএ-৫ বা গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছ, তুমিই সেরা। তুমিই প্রকৃত মেধাবী। সংবর্ধনা-পুরস্কার কত কী! বাকি ১৯ লাখ বাচ্চাকে বুঝেয়েছি- তুমি খারাপ। তোমাকে দিয়ে পরিবার, দেশের কোনো কাজ হবে না। গ্রেডিং সিস্টেমে এভাবে আমরা নন-সেন্স, ইডিয়টিং কতগুলো কাজ করেছি। এটার কোনো অর্থ হয় না। আমরা ঠিক এ জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।’

ড. মশিউজ্জামানের বক্তব্যের সঙ্গে ‘তীব্রভাবে দ্বিমত’ জানিয়েছেন ২০১২ সালে প্রণীত শিক্ষাক্রম প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. সিদ্দিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘গ্রেডিং সিস্টেম এখনো বিশ্বের বহু উন্নত দেশে রয়েছে। তারা মূল্যায়ন করছেন, তারা তো এটাকে নন-সেন্সিং মনে করছেন না। এটাকে সংস্কার বা উন্নয়ন করা যায়। এভাবে তুলে দেওয়াটা যায় না, উচিতও নয়। উনি (অধ্যাপক মশিউজ্জামান) গ্রেডিংয়ে মূল্যায়ন নিয়ে যে কথা বলছেন, সেটাই কাণ্ডজ্ঞানহীন কথা।’

যেমন হবে চিহ্নভিত্তিক ফল

চলতি বছর মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হয়েছে। গত জুলাইয়ে ষান্মাষিক একটি মূল্যায়নও হয়েছে তাদের। তাদের যে রিপোর্ট দেওয়া হয়, সেখানে বিষয়গুলোর পাশে পিরামিড বা ত্রিভুজ, বৃত্ত ও চতুর্ভুজ চিহ্ন দেখা যায়। অভিভাবকরা তো বটেই অনেক শিক্ষকও এ পারফরম্যান্স ইনডিকেটরগুলোকে সঠিকভাবে ব্যাখা করতে পারেননি। ফলে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। নতুন শিক্ষাক্রম বাতিলের দাবিও তুলেছেন তারা।

চিহ্নভিত্তিক ফলের প্রকৃত অর্থ কী, তা নিয়ে শিক্ষাক্রম প্রণেতা তিনজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলেছে জাগো নিউজ। প্রত্যেকে জানান, চিহ্নগুলো দিয়ে ‘ভালো বা মন্দ’ অর্থ করা হয়নি। অথচ অভিভাবক ও শিক্ষকরা এটিকে নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা করেছেন। অনেক ধরনের গুজবও ছড়িয়েছেন।

বিশেষজ্ঞ একজন শিক্ষাক্রম প্রণেতা উদাহরণ দিয়ে চিহ্নভিত্তিক ফল বোঝানোরও চেষ্টা করেন। তার মতে, ৮ বছর বয়সী একজন শিশু সাইকেল চালানো শিখতে চায়। তার বড় ভাই সাইকেলের পেছনে ধরে তাকে চালানো শেখাবে। এরপর তাকে একা চালাতে হবে। এটা একটা সাধারণ ধারণা। বেড়ে ওঠার পরতে পরতে এমন ধারণা শিশুর মনে গড়ে ওঠে। এমন সাধারণ ধারণা যার মধ্যে রয়েছে সেটাকে বলা হচ্ছে ‘চতুর্ভুজ’।

সাইকেল চালানো শিখে যখন সে বাড়ির গলি বা আশপাশের রাস্তায় যাতায়াত শুরু করছে, তখনও সে পুরোপুরি দক্ষ হয়ে ওঠেনি। তার প্রচেষ্টা রয়েছে, সে আগ্রহী- এমন অবস্থাকে ‘বৃত্ত’ চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়েছে।

যখন ওই শিশু সাইকেল চালানোটা রপ্ত করে ফেলেছে, সে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যাচ্ছে, বাজারে যাচ্ছে। বেশ সাবলিল। সাইকেলের ওপর তার বেশ নিয়ন্ত্রণ এবং ক্রমে তা বাড়ছে এটাকে ‘পিরামিড’ বা ‘ত্রিভুজ’ চিহ্ন দিয়ে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ অবস্থা থেকে সে উত্তরোত্তর উন্নতি করবে এবং সর্বোচ্চ শিখরে ওঠার প্রক্রিয়ায় থাকবে।

বিষয়টি আরও স্পষ্ট করেছেন অধ্যাপক মশিউজ্জামান। তিনি বলেন, ‘চিহ্নগুলো শুধু যে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতার মাত্রা নির্ণয় বা নির্ধারণ করবে তাও ঠিক নয়। বরং শিক্ষার্থীর আগ্রহ-দক্ষতা কোনদিকে তাও বোঝানো হবে। এটা আরও মডিফাই করা হবে।’

নম্বর বলে কোনো শব্দ থাকবে না উল্লেখ করে ড. মশিউজ্জামান বলেন, ‘শিশু-কিশোর-তরুণদের আমরা মূল্যায়ন করবো, পরীক্ষার মুখে ফেলবো না। পরীক্ষা নিয়ে দেওয়া হয় নম্বর। আর মূল্যায়নে জানানো হবে পারফরম্যান্স, তার অ্যাক্টিভিটি, তার আগ্রহ। প্রত্যেক বিষয়ের পাশে পারফরম্যান্স ইনডিকেটর (পারদর্শিতা চিহ্ন) থাকবে, তার বিপরীতে একজন শিক্ষার্থীর অবস্থান কোথায়, সেটা চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হবে। এখন যেমন লেখা হয়- বাংলায় ৭০ নম্বর বা এ গ্রেড, ইংরেজিতে ৮০ নম্বর বা এ প্লাস গ্রেড, এসবের কিছুই থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে আমরা ষান্মাষিক মূল্যায়ন করেছি। এখানে তিনটি ইনডিকেটর বা চিহ্ন ছিল। ত্রিভুজ, বৃত্ত ও চর্তুভুজ। এটা দিয়ে আমরা খুব ভালো, মধ্যম ও খারাপ বোঝাইনি। এগুলো অনেকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে ছড়িয়েছে। সিম্বলগুলো দিয়ে শিক্ষার্থীর পারদর্শিতার মাত্রা নয় বরং কোনদিকে কার পারফরম্যান্স কেমন, তা বোঝানো হয়েছে। আমরা ভাবছি- আগামী বছর এ চিহ্নগুলো উলট-পালট করে দেওয়া হবে।’

তবে এ মডেল নিয়েও এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। এটি আরও স্পষ্ট করে তা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপব্যাখ্যা ও গুজব ছড়ানো রোধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করেন শিক্ষাক্রম প্রণেতা ও শিক্ষাবিদরা।

পছন্দের ক্যারিয়ার গড়ার অবারিত সুযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগে স্নাতক-স্নাতকোত্তর করে ব্যাংকে চাকরি করছেন শিউলি আক্তার। আবার মার্কেটিং বিভাগ থেকে পড়ে সাংবাদিকতা করছেন মাহমুদুল হাসান। ইয়াসমিন আক্তার পড়েছেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন তিনি চাকরি করছেন শিল্পকলা একাডেমিতে। উচ্চশিক্ষার বিষয়ের সঙ্গে কর্মক্ষেত্র বা ক্যারিয়ারে যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান, তা দূর করার সুযোগ রয়েছে নতুন শিক্ষাক্রমে।

শিক্ষাক্রম প্রণেতা অধ্যাপক মশিউজ্জামান বলেন, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির সুযোগ নেই। এখানে সবকিছু গোছানো ও স্পষ্ট। তবে কোনো পদ্ধতি হঠাৎ সবার কাছে জনপ্রিয় বা বোধগম্য হয়ে ওঠে না। নতুন শিক্ষাক্রমও তার বাইরে নয়।

তিনি বলেন, ‘আমার প্রাথমিক থেকেই শিক্ষার্থীর দক্ষতা নির্ণয় করবো এবং তা বাতলে দেবো। শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে আগ্রহী ও দক্ষ তা তার মননে গেঁথে দেওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বড় হবে। মাধ্যমিক স্তর পেরিয়ে তাকে এমন একটা বোঝাপড়ার জায়গায় আমরা নিতে চাইবো- যেখান থেকে সে নিজেই নিজের ক্যারিয়ার বেছে নেবে।’

ড. মশিউজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে যেন তার আগ্রহের বিপরীতের কোনো বিষয় নির্ধারণ করে চাপিয়ে দেওয়া না হয়, সেটা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোই মূল কাজ। কোনো কোনো কলেজ আছে যেখানে জেনারেল হিস্ট্রি (সাধারণ ইতিহাস) নেই, ইসলামিক হিস্ট্রি (ইসলামের ইতিহাস) আছে। অনেক জায়গায় আবার সমাজবিজ্ঞান নেই। হয়তো সেখানে দর্শন আছে। কিংবা তাও নেই। সব প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের বিষয় থাকবে না। এটা পৃথিবীর কোথাও নেই। আমেরিকা গেলে দেখা যাবে, এক স্টেট থেকে আরেক স্টেটে চলে যাচ্ছে পছন্দের বিষয়ে পড়তে। কারণ ওই সাবজেক্ট তার স্টেটের মধ্যে নেই। আমরাও সেই প্রক্রিয়ার মধ্যে যাচ্ছি।’

শঙ্কা কাটছে না অভিভাবকদের, আন্দোলনের ‘প্রস্তুতি’

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে নানান উদ্যোগ নিলেও সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে শঙ্কা কাটছে না অভিভাবকদের। পরীক্ষা ও নম্বরবিহীন কারিকুলাম নিয়ে তাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দানা বাঁধছে। চিহ্নভিত্তিক মূল্যায়নে কোনো আস্থা ও যৌক্তিকতা দেখছেন না অভিভাবকরা।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে মার্জিনা বেগমের মেয়ে। গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে পড়ে তার ছোট ছেলে। দুই সন্তানই এবার নতুন শিক্ষাক্রম পড়ছে। সন্তানদের পড়ালেখা নিয়ে সন্তুষ্ট নন এ অভিভাবক।

তিনি বলেন, ‘বলা হচ্ছে, বাচ্চাদের কাঁধে পরীক্ষার বোঝা থাকবে না। অথচ তাদের এমন সব কাজ দেওয়া হচ্ছে, যা শেষ করতে রাত ২-৩টা পর্যন্ত প্রতিদিন জেগে থাকতে হচ্ছে। অসম্ভব চাপের মধ্যে তারা। বিভিন্ন কাজ দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর জন্য জিনিসপত্র কিনে দিতে হচ্ছে। খরচও বেড়েছে। ফলাফলে চিহ্নভিত্তিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে। ওটার কিছুই আমরা বুঝছি না। এ শিক্ষাক্রম বাতিল চেয়ে আমরা অভিভাবকরা আন্দোলনে নামবো।’

তাহেরা বেগম নামে আরেক অভিভাবক বলেন, ‘চিহ্ন দিয়ে ফল প্রকাশ- এটা আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সম্ভব নয়। শিক্ষকরাও বোঝেন না কাকে কোন চিহ্ন দেবেন। এটা আমরা মানবো না। অভিভাবকরা এক হচ্ছি। একটা মিটিং করেছি। সামনে আরেকটি মিটিং আছে। আমরা চূড়ান্ত আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

অভিভাবকদের এমন ‘উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা’ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন শিক্ষাক্রম প্রণেতাদের একজন অধ্যাপক মশিউজ্জামান। তিনি বলেন, ‘তার মানে অভিভাবকরা সচেতন। তারা সন্তানের খারাপ চান না। আমরাও সেই লক্ষ্যে নতুন শিক্ষাক্রম করেছি। যাতে আমাদের শিক্ষার্থীদের খারাপ না হয়, ভালোটা হয়। অভিভাবক সচেতন হয়ে এটা নিয়ে আলাপ তুললে আলোচনা করা এবং বোঝানো সহজ হবে। আমার বিশ্বাস- তাদের আমরা বোঝাতে সক্ষম হবো ও তারা শিক্ষাক্রম নিয়ে সন্তুষ্ট থাকবেন।’

তবে এ শিক্ষাক্রম মুখ থুবড়ে পড়বে বলে মনে করেন ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান। তার ভাষ্য, ‘আজ ২১ সেপ্টেম্বর, আমি আপনাকে বলে রাখলাম- এ শিক্ষাক্রম ব্যর্থ হবে, মুখ থুবড়ে পড়বে। নতুন শিক্ষাক্রম এদেশে এখনো উপযোগী হয়ে ওঠে না। শিক্ষা কাঠামোর সব সেক্টরকে আগে উপযোগী করে, তারপর এটা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি ছিল। লাফ দিয়ে ওপরে উঠতে গিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাটা এখন ঝুঁকির মুখে।’




পড়া-লেখা অনিশ্চয়তায় মেধাবী ইভা ও রুপক

 

মো: আল-আমিন, পটুয়াখালী: অসুস্থ মা শয্যাশায়ী। তাই ইভার স্বপ্ন চিকিৎসক হয়ে গরিব, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু অভাবের সংসারে তার উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়া নিয়েই শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোথায় পড়বে, কীভাবে পড়বে—নানা শঙ্কা আর সিদ্ধান্তহীনতায় প্রথম ধাপে পছন্দের কলেজে আবেদন করা হয়নি তার। একই রকম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পটুয়াখালী সদরের রুপক কুমার, সেলিনা আক্তার ও খাদিজা আক্তারের। নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাদের পরিবারে।

পড়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় ইভা আক্তার এবার পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঝাটিবুনিয়া মোজাফ্ফর ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। তাদের বাড়ি উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামে। তার বাবা মহিষকাটা বাজারে ছোট্ট একটি দোকানে কাপড় সেলাইয়ের কাজ করেন। এ অবস্থায় ইভা এবং তার কলেজ পড়ুয়া বড় ভাইয়ের পড়ালেখার খরচ জোগানো তাঁর পক্ষে সম্ভব না ।

ইভা বলে, তার মা শয্যাশায়ী। টাকার অভাবে ঠিকঠাক চিকিৎসা হচ্ছে না। নিয়মিত ওষুধ খাওয়াতে হয়। মা অসুস্থ থাকায় সংসারের যাবতীয় কাজও সামলাতে হয় তাকে। তবু ইচ্ছাশক্তির জোরে সে এসএসসিতে ভালো ফলাফল করেছে।

ইভা আরও বলে, ‘ইচ্ছা ছিল চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু চিকিৎসক হওয়া তো দূরের কথা, উচ্চমাধ্যমিকে পড়া হবে কি না, বুঝতে পারছি না। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় পড়াশোনা করেছি। কিন্তু এবার কলেজে ভর্তি, বই-খাতা কেনা, প্রাইভেট, কোচিং করার সামর্থ্য আমার বাবার নেই।’

ঝাটিবুনিয়া মোজাফ্ফর ইসহাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবদুস ছাত্তার বলেন, ইভা অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত অংশগ্রহণ করত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায়। একটু সহযোগিতা পেলে হয়তো মেয়েটি জীবনে অনেক উন্নতি করবে।

দুশ্চিন্তায় রুপকের মা–বাবা
পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে রুপক কুমার। ছেলের ভালো ফলাফল মা-বাবার দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। রুপকের বাবা জগদীশ চন্দ্র শীল শহরের একটি ওষুধের দোকানে কাজ করেন। দুই ভাইবোনের মধ্যে রুপক ছোট। রুপকের মা রীনা রানী সেলাইয়ের কাজ করেন। শহরের চরপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তাঁদের সংসার।
পাড়া-প্রতিবেশী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় রুপক এত দিন লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিন জানান, রুপক মেধাবী ছেলে। এত দিন তাঁরা লেখাপড়ায় সহায়তা করেছেন।

রুপকের বাবা জগদীশ চন্দ্র বলেন, ‘আমি আর পারছি না ছেলেরে লেহাপড়া করাইতে। অনেক দেনা রয়েছে। রুপকের লেহাপড়ার ভার দেশের দশজনের ওপর ছেড়ে দিলাম।




বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বাউফল আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় বিজয়ী

 

বরিশাল অফিস: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মাধ্যমিক মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বাউফল আদর্শ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিজয়ী হয়েছে। সোমবার বিকাল ৫ টায় বাউফল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অফিসার মোঃ বশির গাজী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা ও মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ নাজমুল হক। বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন মাধ্যমিক অ্যাকাডেমিক অফিসার মোহাম্মদ নুরুন্নবী, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সুজন হালদার ও অলিউল্লাহ। বিতর্কের বিষয় ছিল “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহারই শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিমুখ করে তুলেছে’।

জানা গেছে, ৫০ তম গ্রীষ্মকালীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান সমিতির বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিতর্ক প্রতিযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে ফাইনালে উঠেছিল বাউফল মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও বাউফল আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়। আজ চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় বাউফল আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় উপজেলা চ্যম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।