ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য অধ্যাপক মাকসুদ কামাল

চন্দ্রদীপ নিউজ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে এ নিয়োগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে আজ রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বর্তমান উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী মাসের শুরুতে।

নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল ২০২০ সালের জুন মাস থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্যের (শিক্ষা) দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের অধ্যাপক। এর পূর্বে তিনি ভূতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপক পদে কর্মরত ছিলেন। অধ্যাপক মাকসুদ কামাল গত বছরের এপ্রিল থেকে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

অধ্যাপক মাকসুদ কামাল ২০০০ সালের মার্চে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। একই বিভাগে ২০১০ সালে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান। বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে তিনি বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানে (স্পারসো) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পদে প্রায় ছয় বছর কাজ করেন। মাকসুদ কামাল ভূমিকম্প ও সুনামি এবং নগর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ।

অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামালের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তাঁর অগ্রজ সদ্য প্রয়াত এ কে এম শাহজাহান কামাল বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।




শুভসংঘের উদ্যোগে পটুখালীতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): শুভসংঘ পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ শাখার উদ্যোগে আজ শুক্রবার বিকেল চারটায় কলেজ হল রুমে বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বসুন্ধরা শুভসংঘ পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ শাখার সভাপতি আফরোজা আক্তারের সভাপতিত্বে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

বিতর্কের বিষয় ছিল- কর্মসংস্থানের অভাব নয়, কর্মবিমুখতাই বেকার সমস্যার প্রধান কারণ। এতে কলেজটির শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।

কর্মসংস্থানের অভাব নয়, কর্মবিমুখতাই বেকার সমস্যার প্রধান কারণ তর্কিত বিষয়ের পক্ষে অবস্থান নেন একাদশ শ্রেণির সুবর্ণা কর্মকার, ফারহানা ইসলাম চাদনী  ও দ্বাদশ শ্রেণির তৌহিদা তাসনিম সিন্থিয়া।

বিপক্ষ দলে ছিলেন, একাদশ শ্রেণির মোসা নাইমা, মোসা. সুমী আক্তার ও দ্বাদশ শ্রেণির কবিতা আক্তার মিম।

বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ শাখার সহসভাপতি, নাসিমা আক্তার, ইসরাত জাহান এপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবিহা শাম্মি, ক্রীড়া সম্পাদক দিনা, সদস্য ইসরাত আফরিন, তমা হাওলাদার, ইসরাত জাহান এপি প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়।




শিক্ষকদের মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে – জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ আল মামুন

চন্দ্রদীপ নিউজ: শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির সহযোগী ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ আল মামুন ।

আজ বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জের একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত জাতীয় ছাত্র সমাজ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্ধোধনী বক্তব্যে  তিনি এসব কথা বলেন।

ছাত্রনেতা তানজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মোঃ আশরাফুল ইসলাম খান। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জ জেলা জাপার সভাপতি ও মানিকগঞ্জ-২ এর সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাপার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম রুবেল । এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ন কবির , মানিকগঞ্জ জাপার সাধারণ সম্পাদক হাসান সাঈদ, জাতীয় ছাত্র সমাজের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী , ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহবায়ক আরিফুল ইসলাম রিগান , সদস্য সচিব শরীফ মিয়া , সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান পাভেল , কেন্দ্রীয় সদস্য ওসমান গণি , সম্মিলিত পলিটেকনিক শাখার আহবায়ক নাহিদ হাসান নিরবসহ মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতৃবৃন্দ ।

আল মামুন বলেন, শিক্ষিত জাতি গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অনেক, প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও ছাত্রদের গবেষণার জন্য ব্যবস্থা করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী আগামীদিনে কতটুকু এগিয়ে যাবে তা নির্ভর করে শিক্ষকদের শিক্ষার উপর। শিক্ষকদের মর্যাদা ও সুযোগ সুবিধা বাড়ালে মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আসার আগ্রহ বাড়বে। প্রাইমারী শিক্ষকদের মর্যাদা যদি তৃতীয় শ্রেনী হয় তবে শিক্ষকরা মনোকষ্ট কাউকে বলতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মর্যাদা বৃদ্ধি করলে তাদের মাধ্যমেই গঠিত হবে আগামীর শিক্ষিত জাতি।




৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলায় পৌঁছাবে প্রাথমিকের বই

রোববার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য আলী আজম, শিরীন আখতার, ফেরদৌসী ইসলাম ও কাজী মনিরুল ইসলাম অংশগ্রহণ করেন।

এসময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ জানান, আগামী নভেম্বর মাসে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে। এজন্য এ বছর আগেভাগে বই সরবরাহ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রাথমিকের সব বই ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দিয়ে দেওয়া হবে উপজেলা পর্যায়ে।

বৈঠকে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১৭ হাজার ৯৬৫টি অতিরিক্ত শ্রেণি কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। আরও ৫০ হাজার অতিরিক্ত শ্রেণি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ মন্ত্রণালয় করেছে বলেও জানানো হয়।

সংসদ সচিবালয় থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০২৪ সালে বিনামূল্যে পুস্তক প্রণয়ন কার্যক্রম অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে যথাসময়ে বই দেওয়ার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ে বই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাবে। প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত ও গুণগত মান নিশ্চিতকরণে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা প্রদানে শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেয় সংসদীয় কমিটি।




পটুয়াখালী সরকারি কলেজে বে-সরকারি কর্মচারীদের মানববন্ধন ও কর্মবিরতি

মো:আল-আমিন,পটুয়াখালী: বাংলাদেশ সরকারি কলেজে কর্মরত বে-সরকারি কর্মচারীদের চাকুরী রাজস্ব খাতে স্থানান্তর ও বহুুদিন যাবৎ অস্থায়ীভাবে কর্মরতদের ব্যতিরেকে নতুন নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও ১ ঘন্টা কর্ম বিরতি করেছেন বাংলাদেশ সরকারি কলেজে কর্মরত বে-সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন পটুয়াখালী জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

সরকারি কলেজে কর্মরত বে-সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে ৮ অক্টোবর বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মানববন্ধন ও ১ ঘন্টা কর্ম বিরতি পালন করেছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সরকারি কলেজে কর্মরত বে-সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন পটুয়াখালী জেলা শাখার আন্দোলন কমিটির উপদেষ্টা মোঃ শাহ আলম, জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আঃ গনি খান, কলেজ শাখার সভাপতি মোঃ আবুল হোসেন, মহিলা সম্পাদিকা আসমা আক্তার, শিউলি রানী, মোঃ অলিউল্লাহ, মোঃ বেলায়েত হোসেন প্রমুখ।

বক্তরা বলেন, সরকারি কলেজে কর্মরত বে-সরকারি কর্মচারীদের চাকুরী রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করতে হবে। চাকুরী রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের পূর্ব পর্যন্ত সরকারি বেতন স্কেল অনুযায়ী বেতন ভাতাদি প্রদান করতে হবে এবং বহুদিন যাবৎ অন্থায়ী ভাবে কর্মরতদের ব্যতিরেকে নতুন নিয়োগ বন্ধ করতে হবে ও কর্মরতদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করতে হবে।

মানববন্ধন ও ১ ঘন্টা কর্ম বিরতি পালন করেন সরকারি কলেজে কর্মরত বে-সরকারি কর্মচারী ইউনিয়ন পটুয়াখালী জেলা শাখার আন্দোলনকারী বৃন্দ।




বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বরিশালে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

বরিশাল অফিস : কাঙ্ক্ষিত শিক্ষার জন্য শিক্ষক: শিক্ষক স্বল্পতা পূরণ বৈশ্বিক অপরিহার্যতা” প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে বরিশালে ‍”বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৩” উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) সকাল ১১ টায় নগরীর সিএন্ডবি রোডস্থ সেইন্ট বাংলাদেশ এর সভাকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সেইন্ট বাংলাদেশ ও গনসাক্ষরতা অভিযান’র উদ্যোগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বরিশাল জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মনদীপ ঘরাই বলেন, বিশ্বে ৯ কোটি ৭৩ লাখ শিক্ষক রয়েছে। তারমধ্যে বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ১০ লাখ শিক্ষক। পূর্বের তুলনায় সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় অনেক উন্নয়ন করেছে।

বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইন এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সেইন্ট বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর কবির। এবং প্রতিপাদ্য শীর্ষক বিষয়ক ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন, সেইন্ট বাংলাদেশ এর উপ-পরিচালক আহসান মুরাদ চৌধুরী।

সভায় মুক্ত আলোচনা করেন, কাগাশুরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, চরকাউয়া তোফায়েল আহমেদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স,ম হুমায়ুন কবির, রায়পাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মোঃ মনির হোসেন, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী স্কুলের শিক্ষক সিরাজুম মুনির টিটু, কড়াপুর পপুলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দিবা পাত্র, বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লিসা আক্তার, আরোহী সংস্থার পরিচালক খোরশেদ আলম, সংবাদকর্মী রবিউল ইসলাম রবি ও পারভেজ রাসেল প্রমুখ।

 

বক্তারা বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৪র্থ লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও শিক্ষা নিশ্চিতকরণ। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, জ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধির শিক্ষা ও শিক্ষ প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শিক্ষক। কারণ, একজন শিক্ষক এবং শিক্ষা বিশেষজ্ঞই পারেন তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জ্ঞানের অজানা জগৎ এবং ক্রমবর্ধমান জ্ঞানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সারা বিশ্বে দক্ষ ও যোগ্যতাসম্পন্ন জ্ঞানের সংযোগ ঘটাতে। কিন্তু বাংলাদেশের ন্যায় সারা বিশ্বে এমন শিক্ষকদের শিক্ষক স্বল্পতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই জটিল পরিস্থিতির পিছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে, যেমন: শিক্ষকদের কাজের চাপ বৃদ্ধি এবং পেশাগত অবস্থার অবনতি হওয়ায় শিক্ষকতা পেশা তার স্বকীয়তা হারাচ্ছে। সুতরাং প্রতিটি শিক্ষক সময় মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিতি এবং সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে সিংহভাগ সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যায়।




ভোলায় ‌নানা আ‌য়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পা‌লিত

মো. তৈয়বুর রহমান (ভোলা): ভোলায় র‌্যালি ও আ‌লোচনা সভাসহ নানা আ‌য়োজ‌নের মধ‌্য দি‌য়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পা‌লিত হ‌য়ে‌ছে।

দিবস‌টি উপল‌ক্ষে বেলা ১১ টার দি‌কে ভোলা সরকা‌রি বালক উচ্চ বিদ‌্যাল‌য়ের সাম‌নে র‌্যালী বের হ‌য়ে শহ‌রের বি‌ভিন্ন সড়ক প্রদ‌ক্ষিণ ক‌রে একই স্থা‌নে গি‌য়ে শেষ হয়।

প‌রে ওই বিদ‌্যাল‌য়ের হলরু‌মে আ‌লোচনা সভা অনু‌ষ্ঠিত হ‌য়। বিদ‌্যাল‌য়ের প্রধান শিক্ষক মো: শ‌ফিকুল ইসলা‌মের সভাপ‌তি‌ত্বে এসময় অন‌্যান‌্য শিক্ষকরা বক্তব‌্য রা‌খেন।

এসময় বক্তরা ব‌লেন, আজ‌কের দি‌নের শিক্ষার্থীরা আগামী দি‌নের শিক্ষকসহ বি‌ভিন্ন প‌দে থে‌কে জাতিকে স‌ঠিক প‌থে নি‌য়ে যা‌বে। তারা আরও বলেন, জাতীয় জীব‌নে শিক্ষক‌দের গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়াও সকল শিক্ষার্থী‌দের পড়াশুনায় ম‌নো‌যোগ দেওয়ার আহবান জানান তারা।

এরআ‌গে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপল‌ক্ষে ওই বিদ‌্যাল‌য়ের ‌শিক্ষক‌দের ফুল দি‌য়ে বরণ ক‌রেন বিদ‌্যাল‌য়ের শিক্ষার্থীরা।

এ‌দি‌কে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপল‌ক্ষে ভোলা সরকা‌রি বা‌লিকা বিদ‌্যালয়, ভোলা টাউন ক‌মি‌টি (বাংলা স্কুল) ম‌াধ‌্যমিক বিদ‌্যালয়সহ বি‌ভিন্ন বিদ‌্যালয় নানা আ‌য়োজ‌নের মধ‌্য দি‌য়ে দিবস‌টি পালিত হয়।




সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিনের ছাউনির নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

বরিশাল অফিস: একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে  টিনের ছাউনির নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। আটটি বেঞ্চ আর ২৫ জন শিক্ষার্থী। মেঝেতে কাদাপানি। কোনো রকম দেয়াল-বেড়া আর দরজা-জানালাহীন এই ছাউনি দেখে আর যাই হোক বিদ্যালয় মনে হবে না কারও কাছে। তবে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটি সত্যিই একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। যার নাম পশ্চিম-দক্ষিণ-মধ্য কলাকোপা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়ে এ রকম নাজুক পরিবেশে রোদ, ঝড় ও বৃষ্টিতে চলে পাঠদান। বিদ্যালয়ের একমাত্র টিনের ঘরটি ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়ায় পাঁচ মাস ধরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। তবে এ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কারণে দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমান জানান, ২০০৬ সালে বেসরকারি উদ্যোগে বিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হলেও ২০১৪ সালের পহেলা জানুয়ারি জাতীয়করণ করা হয়। চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল ঝড়ের কবলে পড়ে বিদ্যালয়ের একমাত্র টিনের ঘরটি ভেঙে যায়। এর পর থেকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশের এক ব্যক্তির বাড়ির উঠানে একটি খোলা টিনের ছাউনির নিচে পাঠদান করা হয়।

তিনি আরও জানান, তাদের স্কুলের জন্য পাকা একটি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সেটি নির্মানের কাজ শেষ হতে দেড় থেকে দুই বছর লাগতে পারে। তার আগে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত স্কুলটির টিনের ঘরটি মেরামত জরুরি। যার জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এরই মধ্যে আবেদনও করেছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকা চায়না রানী ও তাসনুর বেগম জানান, স্কুলের ঘর বিধ্বস্ত হওয়ার পর থেকে ঠিকমতো ক্লাস না হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমছে। ১১৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে এখন নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসে ২০ থেকে ২৫ জন। এখন ছাত্রছাত্রীরা আসতে চায় না, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেকে আনতে হয় ।

সরেজমিনে গেলে স্কুলটির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুফনা আক্তার, সানজিদা এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়ামিন জানায়, আকস্মিক ঝড়ে তাদের বিদ্যালয়ের টিনের ঘর ভেঙে গেছে। এতে করে পাঁচ মাস ধরে তারা ঠিকমতো ক্লাস করতে পারছে না। কখনও রোদ, কখনও বৃষ্টি। কয়েকদিন বৃষ্টি হলে বেঞ্চের নিচে পানি ও কাদা জমে যায়। খুব বেশি বৃষ্টি হলে ক্লাস ছেড়ে মানুষের বাড়িতে দৌঁড়ে আশ্রয় নিতে হয়। এসব কারণে তাদের বাবা-মায়েরা স্কুলে আসতে দিতে চায় না। আবার অনেক শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী একটি মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে। এতে করে দিন দিন তাদের সহপাঠীদের সংখ্যা কমছে বলেও জানায় তারা।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক আজিজুল ফরাজী ও সিরাজুল ইসলাম জানান, এখানে স্কুল চলার মতো কোনো পরিবেশ নেই। তাদের ছেলেমেয়েরা এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে আসতে চায় না। এতে করে সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে অভিভাবকরা দুশ্চিন্তায় আছেন। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুরোনো স্কুলটি মেরামত করা হলে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

দৌলতখান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত) জানান, বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত পাকা ভবন নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পুরোনো স্কুলটি ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়ায় বিদ্যালয়ের পাঠদান বিঘ্ন হচ্ছে। তাই সেখানে অস্থায়ী ঘর নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লেখা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে অতিসত্বর অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হবে।




কলাপাড়ায় শিক্ষক সঙ্কটে প্রাথমিক শিক্ষায় বেহাল অবস্থা

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী: পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর জন্য সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদগুলো দীর্ঘ দিন ধরে শূন্য রয়েছে। সেই সাথে লোকবলের সঙ্কট রয়েছে উচ্চমান সহকারী, অফিস সহায়ক, হিসাব রক্ষকসহ অন্য পদগুলোতেও। বছরের পর বছর সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদগুলো পূরণ করা হচ্ছে না। যার ফলে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তেমনি বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নিয়মিত শ্রেণী শিক্ষকগণরা। এক কথায় কলাপাড়ায় প্রাথমিক শিক্ষায় বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে।

শিক্ষক সঙ্কটে থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও এ নিয়ে বিরক্ত। বারবার উপজেলা শিক্ষা অফিসে জানালেও এ সমস্যার কোন সমাধান হচ্ছে না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলায় ১৭১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ২৫ হাজার ৬৭২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৯৫ জন সহকারী শিক্ষক ও ৩১ জন প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। মামলা জটিলতা রয়েছে ১৯ জনের। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সঙ্কটের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলাও ভেঙে পড়েছে। শিক্ষক স্বল্পতায় মানসম্মত ফলাফলের দিক দিয়েও পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা।

এ নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই অভিভাবকদের। শিক্ষার্থীদের আশানুরূপ ফলাফল না হওয়ায় অভিভাবকদের অনেকেই শিক্ষক স্বল্পতাকেই দায়ী করেন।

তারা বলেন, শিক্ষক সঙ্কট সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া না হলে আগামী দিনে এ উপজেলায় শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের ঘাটতি থেকে যাবে।

শিক্ষক স্বল্পতায় থাকা বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের ইচ্ছে মতো ক্লাস নেন। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে অফিসের কাজের পাশাপাশি একজন শিক্ষককে একই সময়ে দুটি ক্লাসে পাঠদান চালাতে হয়।

গঙ্গামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অসিম কুমার কিওনীয়া বলেন, আমার বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পাঁচটি পদের দুটি পদই শূন্য। তিনজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ে ২০৬ জন ছাত্র-ছাত্রীর ক্লাস সত্যিকার অর্থেই বেশ কঠিন হয়ে যায়। তিনি জরুরি ভিত্তিতে শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক দেয়ার জোর দাবি জানান।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অচ্যুতানন্দ্র দাস বলেন, শিক্ষক সঙ্কটের বিষয়টি অবগত আছি। সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদগুলোর তালিকা করা হয়েছে। সামনে নিয়োগ পরীক্ষা হলে আমরা শত ভাগ শিক্ষক পাবো।




এসএসসিতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে বৃত্তি পেল দেড় হাজার শিক্ষার্থী

বরিশাল অফিস : এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্নদের দেড় হাজার শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দিয়েছে বরিশাল শিক্ষাবোর্ড। মেধা ও সাধারন কোটায় এ বৃত্তি দেয়া হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর বৃত্তিপ্রাপ্তদের তালিকা ঘোষনা করেছে শিক্ষা বোর্ড তাদের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করেছে। সেখানে দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, দুই বছর শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পাবেন।

মেধা কোটায় বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থী মাসিক ৬০০ ও সাধারন কোটাধারীরা ৩৫০ টাকা করে বৃত্তি পাবেন। এককালীন নিলে প্রতিবছর মেধা কোটাধারীরা পাবেন ৯০০ টাকা এবং সাধারন কোটাধারীরা পাবেন ৪৫০ টাকা।

জিপিও ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেকে ১১৯ জনকে মেধা বৃত্তি দেয়া হয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক সাধারন বৃত্তি পেয়েছে ১৬৮ জন, মহানগর এলাকায় ৮ জন এবং জেলা কোটায় ১ হাজার ২১৯ জনকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে।

এ নিয়ে মোট মেধা ও সাধারন কোটায় ১ হাজার ৫১৪ জনকে বৃত্তি দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। মেধাবৃত্তির মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৮ জন পেয়েছেন বরিশাল জেলায়, এরপর ১৮ জন করে ভোলা ও পটুয়াখালী জেলায়, পিরোজপুর জেলায় ১৫ জন, বরগুনায় ১৩ ও ঝালকাঠিতে ৭ জন পেয়েছেন।