২০২৪ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ২০২৪ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। পরীক্ষার সময়সূচি (রুটিন) আজই প্রকাশ করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকশিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার।

তপন কুমার সরকার জানিয়েছেন, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে।

এর আগে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার জানিয়েছিলেন, আগামী বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে একযোগে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার সময়সূচি (রুটিন) আজই প্রকাশ করা হবে।

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে গত ২০২১, ২০২২ ও ২০২৩ বছরে (চলতি বছর) সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা হয়েছে। এ সময় পরীক্ষার সময় ও নম্বর কমিয়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল।




গলাচিপায় ঝুঁকিতে সাড়ে ৫শ শিক্ষার্থী

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): পেরিয়ে গেছে প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর। অথচ এখনো পায়নি সরকারি বরাদ্দের ভবন। ফলে প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের জরাজীর্ণ ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে চলছে পটুয়াখালীর গলাচিপার চর আগস্থি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

দীর্ঘ এ সময় সমস্যা সমাধানের আবেদনে মিলেছে শুধুই আশ্বাস। কিন্তু শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয়দের প্রত্যাশা শুধু আশ্বাস নয়, নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে স্কুলটির উন্নয়ন করা হোক।

চারদিকে নদী ও সাগরবেষ্টিত পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর কাজল ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চর আগস্থির শিক্ষার প্রসারে ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় চর আগস্থি মাধ্যমিক বিদ্যালয়। গুণগত শিক্ষার মান ধরে রাখায় ১৯৯৯ সালে হয় এমপিওভুক্ত। শুরু থেকেই নিজস্ব ভবনে অপ্রতুল আসবাবপত্রে ছোট কক্ষে নানা সংকট নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান। এরই মধ্যে বিদ্যালয়টি নিম্ন মাধ্যমিক থেকে মাধ্যমিক হয়ে এখন উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে শিক্ষার্থী ৫২৩ জন। কিন্তু ভবনের আর উন্নতি হয়নি।
২৮ বছরের পুরনো সেই ভবন এখন হয়ে পড়েছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। দেয়ালের পলেস্তারা খসে গেছে। জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়েছে চালের টিন। বৃষ্টিতে ভিজে যায় শ্রেণিকক্ষ। টিনের চালার ফুটো দিয়ে রোদ লাগে শিক্ষার্থীদের গায়ে। দরজা-জানালা খুলে খুলে পড়ছে। নেই অ্যাকাডেমিক ভবন, পাঠাগার ও বিজ্ঞানাগার । শ্রেণিকক্ষ ও বেঞ্চ সংকট চরমে। দেশের সব বিদ্যালয় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার উপকরণ পেলেও এ বিদ্যালয়টি এতে উপেক্ষিত।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সানজিদা জানান, রুমান, সাজিদ, তপ্ত রোদে যেমন চরম গরমে সেদ্ধ হতে হয়। তেমনি বর্ষায় ভিজতে হয়। বিদ্যালয়ে কোনো বিজ্ঞানাগার নেই। তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষার জন্য কোনো ল্যাব নেই। পাঠাগার নেই। বেঞ্চ সংকটে গাদাগাদি করে বসতে হয়। অনেক সময় বেঞ্চে বসার সুযোগ না পেয়ে দাঁড়িয়ে করতে হয় ক্লাস।

চর আগস্থি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবির বলেন, ভবন শুধু জরাজীর্ণ নয়। চরম ঝুঁকি পূর্ণও হয়ে পড়েছে। প্রতিটি মুহূর্তে আতঙ্ক নিয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে হচ্ছে। অ্যাকাডেমিক ভবনের জন্য কয়েক দফা আবেদন করেছি। কিন্তু বরাদ্দ পাইনি।

গলাচিপার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকলেচুর রহমান বলেন, ২০০৭ সালে প্রলয়ঙ্ককরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়টির ভবন মেরামতে সামান্য বরাদ্দ পেলেও মাধ্যমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত এ বিদ্যালয়ের ভাগ্যে জোটেনি কোনো ভবন। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা প্রকৌশলসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।




প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রথম পর্বের (বরিশাল, সিলেট, রংপুর বিভাগ) লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় মোট ৯৩৩৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। বুধবার রাতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।



বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ভলিবল প্রতিযোগিতা উদ্বোধন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ভলিবল (ছাত্র-ছাত্রী) প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় বরিশাল জেলা ক্রীড়া অফিসের আয়োজনে এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এই টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া।

শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন, প্রক্টর ড. মো. খোরশেদ আলম, জেলা ক্রীড়া অফিসার সাইদুল ইসলাম।

এ ছাড়া শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধানগণ, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক, শিক্ষকমণ্ডলী, শিক্ষার্থীরাসহ শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী পর্বে সমাজবিজ্ঞান ও বাংলা বিভাগের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃবিভাগ ভলিবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।




হোমিও চিকিৎসক হতে কোথায় পড়বেন?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দিন যতই সামনে এগোচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিস্তৃতির প্রয়োজনীয়তা ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি শাখা হচ্ছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। আমাদের দেশের প্রায় ৪০শতাংশ মানুষ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। বলা হয়ে থাকে হোমিও ঔষধে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। হোমিও চিকিৎসা নিয়ে অনেকের মধ্যে কিছু ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন হোমিও চিকিৎসকদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। ছোটখাটো কোর্স করেই হোমিও চিকিৎসক হওয়া যায়। কিন্তু হোমিও শাস্ত্রে জ্ঞান অর্জনের জন্য উচ্চতর শিক্ষা পদ্ধতি চালু রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার হোমিও চিকিৎসার উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য অনেকটাই সচেতন হয়েছে । এরই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতি ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে হোমিও চিকিৎসা আইন পাশ হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে এখন থেকে হোমিও চিকিৎসকরা আইনগতভাবে ডা. পদবী ব্যবহার করতে পারবেন এবং হোমিও চিকিৎসকরা তাদের নিজস্ব অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

কীভাবে একজন হোমিও ডাক্তার হবেন?
সরকারি এবং বেসরকারি দুই মাধ্যমেই হোমিও চিকিৎসা শিক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। হোমিও চিকিৎসক হওয়ার জন্য বাংলাদেশে দুটি কোর্স চালু রয়েছে। বিএইচএমএস (ব্যাচেলর ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি) এবং ডিএইচএমএস (ডিপ্লোমা অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি)। এই দুইটি কোর্সের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী হোমিও চিকিৎসক হতে পারেন।

বিএইচএমএস কোর্স কি?
ব্যাচেলর ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি কোর্স হলো এমবিবিএস কোর্সের সমান মর্যাদা সম্পন্ন একটি কোর্স। সরকারি এবং বেসরকারি উভয় ভাবেই এই কোর্স শিক্ষাগ্রহণ করা যায়। এই কোর্সের মেয়াদকাল পাঁচ বছর। সরকারিভাবে এই কোর্স করতে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪.০০ পেতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট আসনের বিপরীতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাবেন। এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য ৫০ টি আসন বরাদ্দ রয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান। সম্পূর্ণ সরকারি খরচে ৫০ জন শিক্ষার্থী এখান থেকে হোমিও চিকিৎসক হতে পারেন। বেসরকারিভাবে বিএইচএমএস কোর্স এ ১০০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক ভর্তি পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহণ করবে শুধু তারাই বেসরকারিভাবে বি এইচ এম এস কোর্স করতে পারবেন। বিএইচএমএস কোর্সের একমাত্র বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এই প্রতিষ্ঠানে কোর্সটি সম্পন্ন করার জন্য সর্বমোট খরচ হয় চার-পাঁচ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠান দুটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের আওতাধীন।

বিএইচএমএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা কিভাবে অনুষ্ঠিত হয়?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক বছরের নির্দিষ্ট সময়ে তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে সার্কুলার দিয়ে থাকেন। সাধারণত এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষার পরে এই সার্কুলার প্রকাশ করা হয়। শুধু বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার পর আবেদন করতে পারেন। মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ ৪.০০ পেতে হবে। ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

ডিএইচএমএস কোর্স কি?
ডিপ্লোমা অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি একটি ডিপ্লোমা কোর্স। যে কোনো বিভাগ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার পরে এই কোর্সে এ ভর্তি হওয়া যায়। এই কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য তেমন কোনো শর্ত থাকে না। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায় ৬৫টির বেশি ডিপ্লোমা হোমিওপ্যাথিক কলেজ রয়েছে। ডিপ্লোমা কোর্স ধারীরা বিএইচএমএস কোর্সের সমান মর্যাদা লাভ করতে পারে না। তবে ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করে ভালো রেজাল্ট নিয়ে বিএইচএমএস কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। ডিএইচএমএস কোর্স ধারীরা নামের পাশে ডা. পদবী ব্যবহার করতে পারে না। এই কোর্সের সময়কাল চার বছর। তবে এই কোর্স সম্পন্ন করতে খরচ খুবই সীমিত।

হোমিওপ্যাথিক কোর্স করে বিসিএসে অংশগ্রহণ করা যায়?
বিএইচএমএস কোর্স ধারীরা সরাসরি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে এবং ডিএইচএমএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে না। তবে কেউ যদি ডি এইচ এম এস কোর্স সম্পন্ন করে বিএইচএমএস কোর্স সম্পন্ন করে তবে সে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। বিএইচএমএস কোর্সটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ফ্যাকাল্টির অন্তর্ভুক্ত।

হোমিওপ্যাথিক ডাক্তারদের ক্যারিয়ার কি?
বাংলাদেশের প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল রয়েছে সেখানে হোমিওপ্যাথিক ডক্টররা নিয়োগ পান। দেশে অনেক বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল রয়েছে সেখানেও তারা নিয়োগ পেয়ে থাকেন। তাছাড়া নিজস্ব চেম্বারে রোগী দেখার সুযোগ রয়েছে। সম্মানের দিক থেকে এমবিবিএস ডাক্তারদের সমান গুরুত্ব দেয়া হয়।




প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ : শনিবার থেকে প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু




ভোলার স্কুলছাত্রী তানজিলার কাঁধে বড় দায়িত্ব

এস এল টি তুহিন,বরিশাল : ভোলার লালমোহন কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসা. তানজিলা। সংসারে নেই কোনো বড় ভাই। তাই ৭ বছর বয়স থেকেই বাবার ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি ও নুডলসের দোকানে সহযোগিতা করে আসছে সে। আবার বাবা অসুস্থ থাকলে তানজিলাকেই সামলাতে হয় সব। গত বেশ কয়েক বছর ধরে স্কুল শেষে এভাবেই বাবার কাজে সহযোগিতা করছে লালমোহন পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকার মো. আবুল কালামের মেয়ে তানজিলা।সংসারে ৩ বোন এক ভাইয়ের মধ্যে মেঝ সে। তার বাবার ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি ও নুডলসের দোকান লালমোহন ডিজিটাল পার্কের মধ্যে।

দোকানের ভেতর পড়ছে শিক্ষার্থী মোসা. তানজিলা

শিক্ষার্থী তানজিলা জানায়, একটু বড় হওয়ার পর থেকেই বাবার দোকানের কাজে সহযোগিতা করছি। প্রতিদিন সকালে এসে দোকান খুলি। ৯ টার দিকে স্কুলে চলে যাই। আবার স্কুল শেষে বাড়িতে গিয়ে খাওয়া-ধাওয়া শেষে দোকানে এসে পড়ি। এসে বাবাকে সহযোগিতা করি। আবার মাঝে মধ্যে নিজেই ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি ও নুডলস তৈরি করি। ক্রেতাদের খাওয়ার পর প্লেট-পিরিজ ও চামুচ ভালোভাবে পরিষ্কার করে রাখি। যখন দোকানে ক্রেতা থাকেন না তখন দোকানের ভেতর একটি টেবিলে বসে পড়ালেখা করি। ৭ বছর ধরে নিয়মিত পড়ালেখার পাশাপাশি এভাবেই বাবাকে তার কাজে সহযোগিতা করে আসছি। আমার স্বপ্ন; একটু কষ্ট হলেও পড়ালেখা শেষে চাকরি করে পরিবারের পাশে দাঁড়াবো।

বাবার দোকানে কাজ করতেছেন শিক্ষার্থী মোসা. তানজিলা

তানজিলার বাবা মো. আবুল কালাম বলেন, ছোট থেকেই দোকানটি চালাতে আমাকে সহযোগিতা করে আসছে তানজিলা। দোকানে কর্মচারী রাখতে পারছিনা, তাই মেয়েকে সঙ্গে নিয়েই দোকানটি চালাচ্ছি। প্রায় ৭ বছর ধরে তানজিলা আমার দোকানে আমার সঙ্গে কাজ করছে। পাশাপাশি সে পড়ালেখাও করছে। বর্তমানে তানজিলা লালমোহন কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ছে। আগামী বছর দশম শ্রেণিতে উঠবে। আমার তিন মেয়ে ও এক ছেলে। এই দোকানের আয় দিয়েই পুরো সংসার চলে। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। আমি এখন অনেক অসুস্থ। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারছিনা। যার জন্য মাঝে মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন তানজিলা একাই দোকানটি চালায়।

পার্কে ঘুরতে আসা ঝর্না, আমেনা, মিমি ও ইকবালসহ কয়েকজন দর্শনাথী জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাঝে মধ্যেই আমাদের পার্কে আসা হয়। এখানে আসলে তানজিলার দোকানে গিয়ে আমরা ফুচকা, চটপটি, ঝালমুড়ি ও নুডলস্ খাই। এখানে খুব ভালো এবং মুখোরোচক খাবার তৈরি হয়। পড়ালেখার পাশাপশি বাবার কাজে সহযোগিতা করা এটা অনেকের জন্য অনুকরণীয়। আমরা তার উজ্জল ভবিষ্যত কামনা করছি।

লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনামিকা নজরুল বলেন, ওই শিক্ষার্থীর পড়ালেখার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে। আমরা চাই; প্রতিটি শিক্ষার্থী সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হোক।

চন্দ্রদীপ নিউজ/ এস এল টি




কাল সর্বোচ্চ পদ নিয়ে আসছে ৪৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি

চন্দ্রদীপ নিউজ : আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ৪৬তম সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি। এই। এতে ক্যাডার ও নন–ক্যাডার পদ নির্দিষ্ট করা হয়েছে। গত ১০টি বিসিএসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্যাডার পদ রেখে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) ৪৬তম বিসিএসের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে। এই বিসিএসের পদ নির্দিষ্ট করার বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ শাখা থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

পিএসসি সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রণালয় যেসব পদ পাঠিয়েছে, সেখান থেকে ক্যাডারের ৩ হাজার ১০০ পদ ও নন–ক্যাডারে ৩০০ পদ নির্দিষ্ট করা হচ্ছে, যা বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হবে। পিএসসি বলছে, ক্যাডারে ও নন–ক্যাডারে এই পদ মানেই চূড়ান্ত নয়, এটি সরকার বাড়াতে পারে। তাই ক্যাডার ও নন–ক্যাডারের পদ এটাই চূড়ান্ত নয়। ওই সূত্র জানায়, ৪৬তম বিসিএসে আবেদনের বয়স গণনা হবে ১ নভেম্বর থেকে। বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের শেষ তারিখ উল্লেখ করা হবে। তবে কোন ক্যাডারে কতজন নেওয়া হবে, সেটি নির্দিষ্ট করে না বললেও স্বাস্থ্য ক্যাডারে উল্লেখযোগ্য পদে আবেদনের সুযোগ রাখা হবে বলে জানা গেছে। পিএসসি সূত্রটি আরও জানায়, সর্বশেষ ৪৫তম বিসিএস ছিল গত পাঁচ বিসিএসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পদ। এবার ৪৬তম বিসিএসে রেকর্ড হচ্ছে। এটি গত ছয় বিসিএসকে ছাড়িয়ে যাবে। ৪৫তম বিসিএসে প্রথম ক্যাডারের পাশাপাশি নন-ক্যাডারের পদও উল্লেখ রেখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

৩৪তম বিসিএসে ২ হাজার ১৫৯ জন, ৩৫তম বিসিএসে ১ হাজার ৮০৩, ৩৬তম বিসিএসে ২ হাজার ১৮০, ৩৭তম বিসিএসে ১ হাজার ২২৬, ৩৮তম বিসিএসে ২ হাজার ২৪, ৪০তম বিসিএসে ১ হাজার ৯২৯ ও ৪১তম বিসিএসে ২ হাজার ৫২০ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ৪৩তম বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৮১৪ জন, ৪৪তম থেকে ১ হাজার ৭১০ ও সর্বশেষ ৪৫তম থেকে ২ হাজার ৩০৯ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়ার কথা রয়েছে। ৩৯তম ও ৪২তম বিসিএস দুটি ছিল চিকিৎসকদের জন্য বিশেষ বিসিএস।




বরিশালে ১৩ কলেজে শতভাগ পাশ

বরিশাল অফিস: এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকশিক্ষা বোর্ডের ১৩টি কলেজের পরীক্ষার্থীরা শতভাগ পাশ করেছে। পাশাপাশি এবার শতভাগ ফেল করেছে এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। এ ছাড়া দুইজন পরীক্ষার্থী কারাগারে থেকে পরীক্ষা দিয়েও ভালো ফলাফল করেছে।

রোববার দুপুরে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুণ কুমার গাইন জানিয়েছেন, বোর্ডের ৩৩৫টি কলেজের ৬৭ হাজার ৪৬৫ শিক্ষার্থীরা ১৩১টি কেন্দ্রে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলো। যারমধ্যে ১৩টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাশ করেছে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলায় চারটি করে আটটি কলেজের সবাই শতভাগ পাশ করেছে।

এরপর বরগুনা জেলার দুইটি, ঝালকাঠি জেলার দুইটি ও ভোলা জেলায় একটি কলেজের পরীক্ষার্থীরা শতভাগ পাশ করেছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুণ কুমার গাইন আরও জানিয়েছেন, বোর্ডের আওতাধীন দুইজন পরীক্ষার্থী কারাগারে থেকে পরীক্ষা দিয়েও ভালো ফলাফল করে পাশ করেছে।




ব‌রিশাল বোর্ডে পাসের হার ৮০.৬৫

বরিশাল অফিস :: এইচএসসিতে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পাসের হারের দিক থেকে ‌ঝালকা‌ঠি জেলা সবার শীর্ষে রয়েছে। আর সবার নিচে রয়েছে পটুয়াখালী জেলা। আজ রোববার (২৬ ন‌ভেম্বর) বেলা ৩টারদিকে ফলাফলের পরিসংখ্যান ঘোষণা করেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অরুন কুমার গাইন।

তিনি জানান, এ বছর ব‌রিশাল বোর্ডে পাসের হার ৮০ দশমিক ৬৫।যারমধ্যে শতভাগ পাশ ক‌রে‌ছে ১৩ টি প্রতিষ্ঠান, আর জি‌পিএ ৫ পে‌য়ে‌ছে ৩ হাজার ৯৯৩ জন। এবার ব‌্যবসায় শিক্ষা বিভা‌গের শিক্ষার্থীদের পাসের হার সব থেকে বেশি এরপর বিজ্ঞান ও মান‌বিক বিভাগের অবস্থান।

এ‌দি‌কে ৭ হাজার ৩৮৬ জিপিএ-৫ এর ম‌ধ্যে সবচেয়ে বেশি পেয়েছে মান‌বিক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে মোট ১ হাজার ৯৭৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া ‌বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ৬২১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৩৯৮ জন জিপিএ-৫
পেয়েছে। এদিকে বরিশাল বোর্ডে এবারে কেউ পাস করেনি এমন কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।