নতুন বইয়ের ঘ্রাণের অপেক্ষায় পৌনে ৪ কোটি শিক্ষার্থী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বছরের প্রথম দিনে পৌনে চার কোটির বেশি শিক্ষার্থীর হাতে উঠবে নতুন বই। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়াবে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ। বই উঁচিয়ে শিক্ষার্থীরাও নতুন বছরে জ্ঞানার্জনে শপথ নিয়ে ঘরে ফিরবে। রাত পোহালেই সারাদেশে আয়োজিত বই উৎসবে দেখা মিলবে এমন দৃশ্যের।

রোববার (৩১ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘বই উৎসব’র উদ্বোধন করেন। তবে মূল উৎসব হবে সোমবার (১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায়। সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এ সময়ে বই উৎসব শুরু হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে কেন্দ্রীয়ভাবে বই উৎসবের আয়োজন করা হলেও মাধ্যমিকে তা থাকছে না। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সম্মতি না পাওয়ায় মাধ্যমিকের আয়োজন করা হয়নি

এদিকে, নির্বাচনী তৎপরতায় এবার বই উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়লেও শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসের কমতি থাকবে না। আয়োজন যেন ফিকে না হয়ে যায় সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখছে শিক্ষা প্রশাসন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা, প্রাথমিক, মাদরাসা ও কারিগরি অধিদপ্তর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উৎসবমুখর পরিবেশে বিনামূল্যে বই বিতরণের নির্দেশনা দিয়েছে।

শতভাগ উপজেলায় নতুন বই পৌঁছে দেওয়ার কাজে তৎপর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এনসিটিবি সূত্র জানায়, প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সবগুলো বই হাতে পেতে পারেন। তবে অষ্টম ও নবমের শিক্ষার্থীদের ৫-৬টা করে বই দেওয়া হতে পারে। পরে কয়েক ধাপে তাদের সব নতুন বই দেওয়া হবে।

পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা ধরা হয়েছে তিন কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার ৬৩০ জন। তাদের জন্য বই ছাপা হয়েছে মোট ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭টি। প্রথম, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ছাপানো হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ ৩ হাজার ৪২৩ কপি বই। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির বই সংখ্যা ৩ কোটি ৩৬ লাখ ১ হাজার ২৭৪টি। প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ৬১ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭৮ কপি বই ছাপা হয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণিতে ছয় কোটি ৪৫ লাখ ৪৮ হাজার ৩০৮ কপি, সপ্তম শ্রেণির চার কোটি ৪৫ লাখ ৫৭ হাজার কপি, অষ্টম শ্রেণির জন্য পাঁচ কোটি ৩৪ লাখ ৮৪ হাজার ২৭১ কপি এবং নবম শ্রেণির জন্য পাঁচ কোটি ছয় লাখ ৮৪ হাজার ৫৭৩ কপি বই ছাপা হচ্ছে।

অন্যদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (পাঁচটি ভাষায় রচিত) শিশুদের জন্য এবার মোট দুই লাখ পাঁচ হাজার ৩১ কপি বই ছাপা হচ্ছে। অন্য বইয়ের মধ্যে পাঁচ হাজার ৭৫২ কপি ‘ব্রেইল’ বই ছাপা হবে। তাছাড়া শিক্ষকদের ৪০ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৮টি ‘শিক্ষক সহায়িকা’ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, ৯ শ্রেণির মধ্যে এবার ৭ শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রমে লেখা বই দেওয়া হবে। সেগুলো হলো- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম। এসব শ্রেণির বইগুলো পাণ্ডুলিপি নতুন করে লেখা। শুধু চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আগের শিক্ষাক্রমের বই পাবে।

 




প্রাথমিকের ছুটি বাড়ল ১৬ দিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মাধ্যমিকের চেয়ে প্রাথমিকে শিক্ষকদের ছুটি কম হওয়ায় শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি ১৬ দিন বাড়ানো হয়েছে। ছুটি বাড়িয়ে নতুন করে আগামী বছরের শিক্ষাপঞ্জিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)।



নতুন বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।




চোখের জলে স্কুলকে বিদায় দিলো মান্তা শিশুরা

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : জলে জন্ম, জলে মৃত্যু এবং জলের সাথেই জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটানো এক সম্প্রদায়ের নাম ছিল মান্তা।

জলের মানুষ হবার কারণে স্থলভাগের সাথে ছিল অনেক পার্থক্য। দেয়া হতো না যথাযথ সম্মান। লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত ছিল ছেলেমেয়েরা। এমন সম্প্রদায়ের বসবাস পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস খালে। চার বছর আগে ওই ইউনিয়নের জলেভাসা মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্য প্রথমবারের মত চালু হয়েছিল প্রাক – প্রাথমিক ভাসমান বোট স্কুল ‘ শিশু বাগান’।
শিক্ষকদের পরম মমতায় এই স্কুল যেন ছিল শিশুদের বেড়ে উঠার ঠিকানা। হাসি আনন্দ এবং খেলার ছলে শেখানো হতো শিক্ষার্থীদের। বইয়ের পাশাপাশি শেখানো হতো ডিজিটাল মাধ্যমেও। এই স্কুল ছিল মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষা অর্জনের একমাত্র ভরসা। দিনের বেলায় বাবা মায়েরা যখন মাছ শিকারে নদীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তখন ছেলেমেয়েরা শিখছে শিশু বাগানে। দেয়া হতো দুপুরের খাবার। তবে সেই ভাসমান স্কুল ভেসে ভেসেই চলে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের ছেড়ে। আর বিদায় বেলায় অঝোরে কাঁদছে শিক্ষার্থীরা।

এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এলে সমবেদনা জানান অনেকেই‌। সেখানে দেখা যায় কাদাপানিতে নেমে হাত নাড়িয়ে চোখের জলে শিশুরা বিদায় দিচ্ছি হাজারো স্মৃতি বিজড়িত স্কুলকে।

বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০ টায় সংস্থার হেফাজতে বরগুনায় নিয়ে যাওয়া হয় ভাসমান স্কুলটিকে। চোখের সামনে থেকে স্কুলটি নিয়ে যাওয়ায় আবেগ ধরে রাখতে পারেনি শিশুরা। তাই স্কুলটি নিয়ে যাওয়ার সময় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তীরে এসে অঝোরে কাঁদছিল শিশু রাজিয়া, মিম, ছখিনা, সায়েম, শাহিদা, দ্বীন ইসলাম, রহমান, খুকুমণি, শেফালী, মর্জিনা, আমেনাসহ স্কুলটির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী ।

তাদেরই কয়েকজন অশ্রুসিক্ত চোখে বলে, ‘আমরা লেখাপড়া করতে পারছি এই স্কুলের কারনে, আমাদের সেই স্কুলে আর যাইতে পারমু না।’

আর অভিভাবকরা জানান, নদী ও ডাঙায় মিলিয়ে ৩০০ শিশু রয়েছে। ভাসমান স্কুলের কারণে ধীরে ধীরে তারা স্কুলগামী হচ্ছিল। কিন্তু স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় মান্তা শিশুদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যুগের পর যুগ ধরে মান্তা সম্প্রদায় ছিল শিক্ষার আলো বঞ্চিত। চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস গেটের খালে ১১০টি পরিবার নৌকায় করে নদ-নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছিল। যাদের কাছে শিক্ষা ছিল শুধুই মাত্র বিলাসিতা। কিন্তু তাদের শিশুদের জীবনে লাগে শিক্ষার ছোঁয়া, হৈ-হুল্লোর করে স্কুলে যাওয়ার আনন্দ।

২০১৯ সালের জুন মাসে বেসরকারি সংস্থা জাগোনারীর উদ্যোগে মুসলিম চ্যারিটির অর্থায়নে মান্তা শিশুদের জন্য চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস গেটের খালে ভাসমান বোট স্কুল স্থাপন করা হয়েছিল। যেখানে ছিল প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের লেখাপড়ার সুযোগ। আর এই সুযোগ পেয়ে প্রাকের শিক্ষা লাভ করে অনেক শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করছে। এরফলেই তাদের জীবনে পরিবর্তনের ছোয়া লাগতে শুরু করে। দূর হতে থাকে ডাঙার মানুষের সঙ্গে বৈষম্যও।

ভাসমান বোট স্কুলের শিক্ষক আইয়ুব খান বলেন, ‘ডাঙার মানুষের সঙ্গে আগে মান্তা সম্প্রদায়ের বৈষম্য ছিল। যার কারণে মান্তা শিশুরা ডাঙার স্কুলে পড়ালেখা করতে যেত না। কিন্তু ভাসমান স্কুল চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে আধুনিকতার ছোয়া লাগে। বাবা-মা নদীতে মাছ ধরতে গেলেও বই-খাতা নিয়ে শিশুদের স্কুলে পাঠানো হতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘নাগরিক সুবিধা বি ত এসব মানুষ পেতে শুরু করে সরকারি সুবিধাও। ৫৯ পরিবারকে দেওয়া হয় মুজিববর্ষের ঘর। ফলে ডাঙায় বসবাসের সুযোগ পান তারা। কিন্তু এখনও প্রায় অর্ধশত নৌকায়ই বাস করছে। তাদের শিশুদের জন্য ভাসমান স্কুলটি ছিল কার্যকারী। কারণ, নদীর সঙ্গেই ওদের মিতালি। কিন্তু স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় এখন শিক্ষা জীবন থেকে অনেক শিশু ঝরে পড়তে পারে।’

কর্তৃপক্ষ জানান, মান্তা সম্প্রদায়ের অনেকেই এখন ডাঙায় উঠেছে। তাদের মধ্যে আধুনিকতার ছোয়া লেগেছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে শিশুদের স্কুলগামী করার অভ্যাস করা হয়েছে। তাই প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়িয়ে মান্তা শিশুদের হাতেখড়ির সেই স্কুলটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়।

স্কুলটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগী সংস্থা জাগোনারীর পরিচালক (যোগাযোগ) ডিউক ইবনে আমিন বলেন, ‘ভাসমান বোট স্কুল প্রকল্পের কার্যক্রম ওখানে শেষ। তবে নদী পাড়েই জাগোনারীর নির্মিত মসজিদ কাম কমিউনিটি সেন্টারের ভবনের দ্বিতীয়তলায় শিশুদের লেখাপড়ার কার্যক্রম চলবে। দুশ্চিন্তার কারণ নেই। খুব শিগগরই সেখানে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবো।’

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ ইসলাম বলেন, ‘মান্তা শিশুদের শিক্ষার জন্য ভাসমান স্কুলটি সহায়ক ভূমিকা পালন করছিল। ওইসব শিশুদের জন্য সরকারি স্কুল নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। মান্তা সম্প্রদায়কে দেওয়া মুজিববর্ষের ঘর সংলগ্ন এলাকায়ই স্কুলটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে।’




চোখের জলে বিদায় নিল মান্তা শিশুদের ভাসমান স্কুল!

বরিশাল অফিস :: যেখানে স্কুল থেকে বিদায় নিতে হয় শিক্ষার্থীদের, সেখানে উল্টো স্কুলকেই দিতে হচ্ছে বিদায়। এমনই এক চিত্র দেখা গেছে পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নে। চার বছর আগে ওই ইউনিয়নের স্লুইসের খালে জলেভাসা মান্তা সম্প্রদায়ের শিশুদের জন্য প্রথমবারের মত চালু হয়েছিল প্রাক-প্রাথমিক ‘ভাসমান বোট স্কুল’। বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত শুক্রবার সকাল ১১টায় একতলা লঞ্চ আকৃতির সেই স্কুলটি সংস্থার হেফাজতে বরগুনায় নিয়ে যাওয়া হয়। চোখের সামনে থেকে স্কুলটি নিয়ে যাওয়ায় আবেগ ধরে রাখতে পারেনি মান্তা শিশুরা।

সেই স্কুলটি নিয়ে যাওয়ার সময় বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর তীরে এসে অঝোরে কাঁদছিল শিশু শাহিদা, দ্বীন ইসলাম, রহমান, খুকুমণি, মর্জিনা, রাজিয়া, মিম, ছখিনা, সায়েম, শেফালী, আমেনাসহ স্কুলটির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী। তাদেরই কয়েকজন অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, ‘আমরা কলম ধরতে শিখেছি এই স্কুলে। আমাদের আর এই স্কুলে যাওয়া হবে না।’

আর অভিভাবকরা জানান, এখানে ডাঙা ও ভাসমান মিলিয়ে প্রায় ৩০০ শিশু রয়েছে। ভাসমান স্কুলের কারণে ধীরে ধীরে তারা স্কুলগামী হচ্ছিল। কিন্তু স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় মান্তা শিশুদের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যুগের পর যুগ ধরে মান্তা সম্প্রদায় শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল। চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস গেটের খালে ১১০টি পরিবার নৌকায় করে নদ-নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের কাছে শিক্ষা ছিলো বিলাসিতা। কিন্তু তাদের শিশুদের জীবনে লাগে শিক্ষার ছোঁয়া, হৈ-হুল্লোড় করে স্কুলে যাওয়ার আনন্দ। ২০১৯ সালের জুন মাসে বেসরকারি সংস্থা জাগোনারীর উদ্যোগে মুসলিম চ্যারিটির অর্থায়নে মান্তা শিশুদের জন্য চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস গেটের খালে ভাসমান বোট স্কুল স্থাপন করা হয়েছিল। যেখানে ছিল প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের লেখাপড়ার সুযোগ। আর এই সুযোগ পেয়ে প্রাকের গণ্ডি পেরিয়ে অনেক শিশু প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়েও লেখাপড়া করছে। এরফলে তাদের জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগতে শুরু করে। দূর হতে থাকে ডাঙার মানুষের সঙ্গে বৈষম্য।

ভাসমান বোট স্কুলের শিক্ষক আইয়ুব খান বলেন, ‘নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত এসব মানুষ পেতে শুরু করে সরকারি সুবিধাও। ৫৯টি পরিবারকে দেওয়া হয় মুজিববর্ষের ঘর। ফলে ডাঙায় বসবাসের সুযোগ পান তারা। কিন্তু এখনও প্রায় অর্ধশত পরিবার নৌকায় বাস করছে। তাদের শিশুদের জন্য ভাসমান স্কুলটি ছিল কার্যকরী। কারণ, নদীর সঙ্গেই ওদের মিতালি। কিন্তু স্কুলটি বন্ধ হওয়ায় এখন শিক্ষা জীবন থেকে অনেক শিশু ঝরে পড়তে পারে।’

কর্তৃপক্ষ জানান, মান্তা সম্প্রদায়ের অনেকেই এখন ডাঙায় উঠেছে। তাদের মধ্যে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। প্রকল্পটির মাধ্যমে শিশুদের স্কুলগামী করার অভ্যাস করা হয়েছে। তাই প্রকল্পের মেয়াদ না বাড়িয়ে মান্তা শিশুদের হাতেখড়ির সেই স্কুলটির কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। স্কুলটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগী সংস্থা জাগোনারীর পরিচালক (যোগাযোগ) ডিউক ইবনে আমিন বলেন, ‘ভাসমান বোট স্কুল প্রকল্পের কার্যক্রম ওখানে শেষ। তবে নদী পাড়েই জাগোনারীর নির্মিত মসজিদ কাম কমিউনিটি সেন্টারের ভবনের দ্বিতীয় তলায় শিশুদের লেখাপড়ার কার্যক্রম চলবে। দুশ্চিন্তার কারণ নেই। খুব শিগগরই সেখানে আমরা শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করবো।’

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ ইসলাম বলেন, ‘মান্তা শিশুদের শিক্ষার জন্য ভাসমান স্কুলটি সহায়ক ভূমিকা পালন করছিল। ওইসব শিশুদের জন্য সরকারি স্কুল নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। মান্তা সম্প্রদায়কে দেওয়া মুজিববর্ষের ঘর সংলগ্ন এলাকায়ই স্কুলটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত রয়েছে।




পটুয়াখালীর দশমিনায় ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল’

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : পটুয়াখালী সদর থেকে সড়ক পথে দশমিনা উপজেলার আউলিয়াপুর লঞ্চঘাট থেকে তেতুলিয়া নদী দিয়ে প্রায় সোয়া ঘণ্টা ট্রলারে গেলে দেখা মেলে দুর্গম চরবোরহান এলাকাটির। চারদিকে নদীবেষ্টিত এই চরে সহজে যাতায়াত করা যায় না। দিনে একটিমাত্র ট্রলার চলাচল করে, যা ওই এলাকার মানুষের ভরসা। সড়ক ও নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই চরে দেশের অন্তত সাতটি জেলার ভূমিহীন ও নদী ভাঙনে বাড়িঘর হারানো মানুষের বসবাস।

এখানকার মানুষের প্রধান পেশা মাছ শিকার আর কৃষিকাজ। জীবনযাত্রা অত্যন্ত নিম্নমানের। খেয়েদেয়ে কোনোভাবে বেঁচে আছে তারা। চরবোরহানে বেড়িবাঁধ না থাকায় বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটায় রাস্তাঘাটসহ ঘরবাড়ি জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়।

ওই সময় প্রতিদিনই নদীর তীব্র ঢেউ আর জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকে এই মানুষগুলো। তবু একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেই নিজেদের উজাড় করে দিতে মোটেই কার্পণ্য করে না চরবোরহানের মানুষ।

নিজের সংসারের খরচ মেটাতে চরবোরহানের শিশুরাও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাছ শিকার বা মাঠে কাজ করে। লেখাপড়া তাদের কাছে বিলাসিতার মতো।

বসুন্ধরা গ্রুপ এই শিশুদের কথা চিন্তা করে দক্ষিণ চরবোরহানে ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়। সেই স্কুলটি শুরু করতেই ঢাকা থেকে আসা বসুন্ধরা শুভসংঘ টিমসহ আমাদের চরবোরহানে আসা। স্কুলটির সামনে জড়ো হয়েছেন এলাকার শত শত নারী-পুরুষ। সন্তানদের অনাগত ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাঁদের চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক দেখা গেছে।

চরবোরহানের বাসিন্দা রাশিদ রাঢ়ী (৭০) বলেন, ‘আমাগো পোলাপানের এহন (এখন) আর পানি-কাঁদা ভাইংগা স্কুলে যাওন লাগবে না। আমাগো ঘরের ধারে (কাছে) স্কুল দেখলেই মনটা ভইরা যায়। পোলাপানগুলা দেখলেও আনন্দ লাগে। এতক্ষণ পোলাপানগুলা স্কুলের সামনে দেইখ্যা মনটায় বড় আনন্দ লাগছে। মন চায় হারা দিন স্কুলের সামনে বইস্যা থাহি। যারা এই স্কুলডা কইরা দিছে, হেগো লাইগ্যা মন থেইক্যা অনেক দোয়া করি।’

নতুন বই পেয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী পুতুল আনন্দে আত্মহারা।

পুতুল বলে, ‘আইজ রাইতেই আমি বইডা পড়মু। অনেক সুন্দর সুন্দর ছবি আছে। বইডা দেইখ্যা আমার ভালো লাগছে।’

আরেক শিক্ষার্থী রোজিনা বলে, ‘আমাগোরে এমন নতুন বই কেউ আর দেয় নাই। আমরা বই-খাতা পাইলে স্কুলে যাইমু।’

শিক্ষার্থী রুকাইয়ার মা লিপি বেগম বলেন, ‘আমরা লেহাপড়া জানি না। আমারো ইচ্ছা করে মাইয়াডারে লেহাপড়া শিখাই। এই সুযোগ করে দিছে বসুন্ধরা গ্রুপ। আমি কামের ফাঁকে মাইয়াডারে স্কুলে পাডাইতে পারমু। স্কুল কামাই (বন্ধ) যাইবে না। মাইয়ার বাপেও এহন মাইয়াডারে পড়াইবে। এই স্কুলেই আমার মাইয়ারে পড়ামু।’

শিক্ষার্থী রুবিনার মা লাবনী বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী নাই। খাওন খরচই জোগাড় করতে কষ্ট হয়। মাইয়ারে পড়ামু কেমনে? এহন বাড়ির ধারে স্কুল হইছে। হেরা খাতা, কলম, জামাকাপড় দিবে। এহন আর চিন্তা করতে হইবে না। মাইয়াডারে পড়াইতে পারলে আমার আর কোনো কষ্টই কষ্ট মনে হইবে না।’

প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী উজ্জ্বলের মা ময়না বেগম বলেন, ‘আমাগো গ্রাম দিয়া সরকারি স্কুল তিন কিলোমিটার। অত দূরে যাইয়া লেহাপড়া করতে পারে নাই। এহন প্রত্যেক দিন স্কুলে যাইবে। নতুন বছরে বই, খাতা, পেন্সিলসহ পাইবে নতুন জামা। আমাগো পোলাপাইনদের পড়ালেহার সব খরচই হেরা দিব। আল্লায় হেগো ভালা করব।’

সম্প্রতি বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে দশমিনা উপজেলার চরবোরহান ইউনিয়নের দক্ষিণ চরবোরহানে ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল’ চালু করা হয়েছে। শুরুতেই ৬৫ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশু এই স্কুলে ভর্তি হয়েছে। সেদিন উপস্থিত বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের শিক্ষার্থীদের নতুন বই ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কেন্দ্রীয় কমিটির ইয়াসির আরাফাত রাফি, শরীফ মাহ্দী আশরাফ জীবন, মো. আবীর খান, শাহ্ মো. হাসিবুর রহমান হাসিব, আলমগীর, ফরিদ মিয়া, বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা মামুন, দশমিনা উপজেলা শাখার সাফায়েত হোসেন, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।




১৭তম শিক্ষক নিবন্ধনের ফল প্রকাশ, উত্তীর্ণ ২৩,৯৮৫




৪৩তম বিসিএসের ফল প্রকাশ, ক্যাডার ২১৬৩ নন-ক্যাডার ৬৪২

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ৪৩তম বিসিএসের ক্যাডার ও নন-ক্যাডারের ফলাফল প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। এতে ক্যাডার পদে ২ হাজার ১৬৩ জন এবং নন-ক্যাডার পদে ৬৪২ জন চূড়ান্ত নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।




বরিশাল বোর্ডে এইচএসসি নিরীক্ষণে ৩৩ জনের জিপিএ-৫

বরিশাল অফিস :: বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার উত্তরপত্র চ্যালেঞ্জের (পুনর্নিরীক্ষণ) ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল দেওয়া হয়। এতে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২৩ জন।

মোট ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে ২৬৫ জনের। ফেল থেকে ৩৬ জন পাস করেছেন। ফলাফল দেখতে এখানে ক্লিক করুন। মোট আবেদন করেছিলেন ৭৭৩২ জন পরীক্ষার্থী।

দুই পদ্ধতিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের ফল জানা যাবে। একটি হলো এসএমএসের মাধ্যমে। এছাড়া নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ঢুকে পরীক্ষার্থীরা ফল দেখতে পারবেন।

প্রথম ফল প্রকাশের সময় যেভাবে এসএমএস পাঠিয়ে ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যায়, পুনঃনিরীক্ষণের ক্ষেত্রে তা নয়। এক্ষেত্রে প্রার্থী ফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করার সময় যে মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন, সেই নম্বরে বোর্ড থেকে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানিয়ে দেবে। তাই ফলাফলের জন্য এসএমএস পাঠানোর প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে নিজ শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ঢুকে ফল জানতে পারবেন। বোর্ড তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ফলাফলের পিডিএফ কপি আপলোড করেছে। ফলাফল দেখতে এখানে ক্লিক করুন।




এইচএসসির উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ আজ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ২০২৩ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণ বা উত্তরপত্র চ্যালেঞ্জের ফল আজ মঙ্গলবার প্রকাশিত হবে। এদিন সব শিক্ষা বোর্ড একযোগে এ ফল প্রকাশ করবে।

সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হবে মঙ্গলবার।

বোর্ডগুলো সকালের দিকে এ ফল প্রকাশ করবে। সুনির্দিষ্ট কোনো সময়ে সব বোর্ডের ফল প্রকাশ হবে না। তবে এদিনই সব বোর্ড যথাসম্ভব দ্রুত ফল জানিয়ে দেবে।

শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসএমএস ও নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ঢুকে পরীক্ষার্থীরা এই দুই পদ্ধতিতে ফল দেখতে পারবেন।