মাইলস্টোন কলেজে ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ দুই উপদেষ্টা ও প্রেস সচিব

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সি আর আবরার এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলমসহ প্রেস উইংয়ের আরও দুই কর্মকর্তা প্রায় সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে ছিলেন।

মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে কলেজ ক্যাম্পাসে যান তারা। তবে পরিদর্শন শেষে শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়েন। তারা বারবার দাবি জানালেও উপদেষ্টারা তাৎক্ষণিক প্রতিকার দিতে ব্যর্থ হন, ফলে কলেজ ত্যাগ করতে পারেননি কেউ।

বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তারা মাইলস্টোন কলেজের পাঁচ নম্বর একাডেমিক ভবনে অবস্থান করছিলেন। এসময় বাইরে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীদের দুটি পৃথক দল—একটি দল মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে, অন্যটি কলেজের গোলচত্বরে বিক্ষোভে অংশ নেয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা গোপন করা হচ্ছে। তারা দাবি জানান, যারা এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের ঘটনাস্থলে এসে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাইলস্টোন কলেজ চত্বর, মেট্রোরেল ডিপো এবং আশপাশের এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্য।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সিরাজ উদ-দৌলা খান বলেন, “শিক্ষা উপদেষ্টা কোথায় আছেন, তা অফিসিয়ালি আমার জানা নেই। তিনি মাইলস্টোন কলেজে গিয়েছিলেন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে এখনো সচিবালয়ে ফেরেননি।”

এর আগে জানা যায়, মঙ্গলবারের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। দুর্ঘটনার সময় প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।




শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে শিক্ষা সচিব প্রত্যাহার

তীব্র ছাত্র বিক্ষোভের মুখে অবশেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবাইরকে প্রত্যাহার করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই (মঙ্গলবার) দুপুরে এই তথ্য নিশ্চিত করেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি সচিব প্রত্যাহারের বিষয়টি জানান।

দিনভর উত্তপ্ত ছিল রাজধানীর সচিবালয় এলাকা। মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীদের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। সেই সঙ্গে এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে গভীর রাতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে তারা। মঙ্গলবার বিকেলে হঠাৎ করে ঢাকার বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের মূল ফটকে জড়ো হন এবং বিক্ষোভ করতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে শিক্ষার্থীরা সচিবালয়ের ১ নম্বর গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এরপর সচিবালয় চত্বরে থাকা একাধিক সরকারি গাড়ির কাচ ভাঙচুর করেন তারা। বিক্ষোভ দমন করতে পুলিশ লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একপর্যায়ে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনা সদস্য।

একজন শিক্ষার্থী জানান, “গতকাল বিমান দুর্ঘটনায় আমাদের সহপাঠীরা মারা গেছে। এতো বড় একটি দুর্ঘটনার পরও পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয় গভীর রাতে। সকালে পরীক্ষা দিতে এসে জানতে পারি বাতিল হয়েছে। এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্তের জন্য আমরা শিক্ষা উপদেষ্টা ও সচিবের পদত্যাগ চাই।”

ঘটনাস্থলে থাকা শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তারা জানান—যথাসময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত না নেওয়ার কারণে শুধু শোক নয়, বিভ্রান্তির মধ্যেও পড়তে হয়েছে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীকে। শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা আছেন তারা ছাত্রবান্ধব নন, বরং উদাসীন ও অযোগ্য। এই বিক্ষোভ ছিল সেই দায়মুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।

ঘটনার পর থেকে সচিবালয়ের ভেতর থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও প্রবেশপথে অবস্থান করছেন। সরকার এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে।

শিক্ষা উপদেষ্টা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আলোচনার কথা বললেও বিক্ষোভকারীরা বলেছেন—যতক্ষণ না দায়িত্বপ্রাপ্তদের অপসারণ ও শিক্ষার্থীদের প্রাণহানির ঘটনার দায় স্বীকার করে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়, ততক্ষণ তাদের আন্দোলন চলবে।

অবশেষে সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি আংশিক মেনে নিয়ে সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জুবাইরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের একটি ‘প্রাথমিক বিজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় শোক, তবে এইচএসসি পরীক্ষা চলবে নির্ধারিত সময়ে

রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আগামীকাল মঙ্গলবার (২২ জুলাই) সারাদেশে এই শোক পালন করা হবে।

তবে, রাষ্ট্রীয় শোক পালনের দিনেও দেশের চলমান উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হচ্ছে না। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবারের সকল পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, “এখন পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পূর্বঘোষিত রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা হবে।”

জানা গেছে, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • রসায়ন (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র (বিজ্ঞান শাখা)
  • ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি দ্বিতীয় পত্র (মানবিক শাখা)
  • ইতিহাস দ্বিতীয় পত্র / গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন দ্বিতীয় পত্র
  • উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন দ্বিতীয় পত্র (ব্যবসায় শিক্ষা শাখা)

উল্লেখ্য, এর আগে ১০ জুলাই বন্যা পরিস্থিতির কারণে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। ১৭ জুলাই গোপালগঞ্জে কারফিউ জারির কারণে সেখানে ঢাকা, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের আওতাধীন পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।

উল্লেখ্য, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিমান বাহিনীর একটি এফ-৭ বিজিআই প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান উত্তরার মাইলস্টোন কলেজের চত্বরে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনায় ২০ জন নিহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অন্তত ১৭১ জন।




গোপালগঞ্জে সহিংসতা: মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত

গোপালগঞ্জ জেলার চলমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

বুধবার রাতে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বোর্ড চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে গোপালগঞ্জ জেলার জন্য ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিপ্লোমা-ইন-ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি, ডিপ্লোমা ইন টেক্সটাইল, এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (বিএমটি) সহ সকল পরীক্ষার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ১৭ জুলাইয়ের পরীক্ষাগুলোর নতুন তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে।

একইসঙ্গে, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র গোপালগঞ্জ জেলার আলিম শ্রেণির ‘আল ফিকহ ১ম পত্র’ (বিষয় কোড-২০৩) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। দেশের অন্য সব জেলার পরীক্ষা পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী যথানিয়মে অনুষ্ঠিত হবে।

এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বুধবার সন্ধ্যা থেকে গোপালগঞ্জ জেলায় ২২ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন। রাত ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই কারফিউ বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ জুলাই বন্যা পরিস্থিতির কারণে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২৬ জুন থেকে শুরু হয়েছে। সারাদেশে ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে প্রায় ১২ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থী এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১০ আগস্ট এবং ১১ থেকে ২১ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।




ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা দাখিল পরীক্ষায় দেশসেরা

দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে দেশের শীর্ষস্থান অধিকার করেছে ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদরাসা। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবছর ৪২৭ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে ২২৭ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে এবং মাত্র একজন শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

মাদরাসাটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা গাজী শহিদুল ইসলাম জানান, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ হযরত আযীযুর রহমান কায়েদ প্রতিষ্ঠিত এই মাদরাসায় এবার পাসের হার ৯৯.৭৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার প্রায় ৫৪ শতাংশ। ফলাফলের দিক থেকে ঢাকার দারুন্নাজাত আলিয়া মাদরাসায় পাসের হার ছিল ৯৬ শতাংশ এবং তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসায় ৯৭ শতাংশ। গড় ফলাফলে এনএস কামিল মাদরাসা সবার শীর্ষে উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও জেলার বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখা গেছে।

  • ঝালকাঠি সরকারি হরচন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২২২ জন অংশগ্রহণ করে ২১২ জন উত্তীর্ণ হয়, যার মধ্যে ৫৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
  • সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২১৫ জনের মধ্যে ২১২ জন পাস করে, তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৮ জন।
  • ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা থেকে ৩৮ জন অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ৩২ জন পাস করে এবং ২ জন জিপিএ-৫ পায়।
  • কুতুবনগর আলিম মাদরাসা থেকে ৩৮ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
  • উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১২৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হয় ৮১ জন, তবে কেউ জিপিএ-৫ পায়নি।

ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার বলেন, “জেলার সম্পূর্ণ ফলাফল এখনো আমার হাতে পৌঁছায়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে ফলাফলে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই। আজকেও একটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা এই পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছি।”

উল্লেখযোগ্য ফলাফল ও উদ্যোগে ঝালকাঠি জেলার শিক্ষা অগ্রগতির ইতিবাচক বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।




এসএসসিতে ১৩৪ প্রতিষ্ঠান থেকে কেউই পাস করেনি

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১৩৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি—যা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এক বড় অশনিসঙ্কেত। গত বছর শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৫১টি। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৪টিতে, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ৮৩টি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে এই তালিকায়।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ঢাকা, রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড একযোগে এসএসসি ও সমমানের ফলাফল প্রকাশ করে।

এ বছর ৩ হাজার ৭১৪টি কেন্দ্রে মোট ৩০ হাজার ৮৮টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে শতভাগ পাস করেছে মাত্র ৯৮৪টি প্রতিষ্ঠান। যেখানে গত বছর শতভাগ পাসের কৃতিত্ব দেখিয়েছিল ২ হাজার ৯৬৮টি প্রতিষ্ঠান। এই হিসাবেও দেখা যাচ্ছে, শতভাগ সফলতার হারেও বড় ধস নেমেছে।

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির বলেন, “বাস্তব মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এজন্য ফলাফলে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে।”

এ বছর নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় এক লাখ কম। পরীক্ষা শুরু হয় ১০ এপ্রিল এবং শেষ হয় ১৩ মে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, ফলাফলে এমন নেতিবাচক চিত্র শিক্ষার মান, প্রস্তুতি, শিক্ষক স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। তাই এসব শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

এম এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




এসএসসি পরীক্ষায় মেয়েদের দাপট, ছেলেদের ছাড়িয়ে এগিয়ে জয়জয়কার

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় আবারও ছেলেদের ছাড়িয়ে গেছে মেয়েরা। পাসের হার থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জনের দিক—সবক্ষেত্রেই ছাত্রীদের আধিপত্য স্পষ্ট। শিক্ষা ব্যবস্থায় নারীর অংশগ্রহণ ও অগ্রগতির আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত গড়েছে এই সাফল্য।

বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৬৫.৮৮ শতাংশ। ফলে পাসের হারে ছাত্রীদের অগ্রগতি প্রায় ৬ শতাংশ।

জিপিএ–৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় এগিয়ে। এবার জিপিএ–৫ পেয়েছে ৭৩ হাজার ৬১৬ জন ছাত্রী, যেখানে ছেলেদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জিপিএ–৫ পেয়েছে ৬৫ হাজার ৪১৬ জন। অর্থাৎ, ছাত্রীদের সংখ্যা ছেলেদের চেয়ে ৮ হাজার ২০০ জন বেশি।

এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৯ লাখ ৪ হাজার ৮৬ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্রী ছিল ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৯ জন এবং ছাত্র ছিল ৯ লাখ ৫১ হাজার ৬৯৭ জন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৪৪৫ জন ছাত্রী এবং ৬ লাখ ২৬ হাজার ৯৮১ জন ছাত্র।

গত কয়েক বছর ধরেই বোর্ড পরীক্ষাগুলোতে মেয়েদের ধারাবাহিক সাফল্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, পরিবার ও সমাজের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং নারী শিক্ষায় বিশেষ মনোযোগ—এইসব কিছুর সম্মিলিত ফলেই মেয়েরা এ সফলতা অর্জন করছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শিক্ষায় মেয়েদের এই অগ্রগতি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, বিশেষ করে নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




দাখিলে পাসের হার ৬৮.০৯%, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯,০৬৬ শিক্ষার্থী

চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় (এসএসসি সমমান) পাশ করেছেন ৬৮ দশমিক ০৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী। আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯ হাজার ৬৬ জন। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) দুপুর ২টায় বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এই ফলাফল প্রকাশ করে।

এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। ২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।

এবারও মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে ভালো করেছে। ছাত্রীদের পাসের হার ৭১.০৩ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৬৫.৮৮ শতাংশ। টানা ১০ বছর ধরে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় বেশি হারে পাস করছে।

জিপিএ-৫ এর চিত্র:

  • মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে: ১,৩৯,০৩২ জন
  • দাখিল বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে: ৯,০৬৬ জন
  • গত বছর (২০২৪) মোট জিপিএ-৫ ছিল: ১,৮২,১২৯ জন

এবার জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কমেছে। ফলে ফলাফলের এই নিম্নগামী প্রবণতা শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও ভাবিয়ে তুলেছে।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, দাখিল পরীক্ষায় ফলাফল আরও উন্নত করতে পাঠদানের মান উন্নয়ন, পর্যালোচনা ও নিরবচ্ছিন্ন প্রস্তুতির ওপর জোর দিতে হবে।

এস এম এ / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বরিশালে ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত ৩০

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করে ‘বিআইটি’ মডেলের মতো স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠা গঠনের একদফা দাবিতে বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা বুধবার সকাল থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বরিশাল-ভোলা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে অংশ নেন। প্রবল বর্ষণের মধ্যেও শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নেন, ফলে যান চলাচলে সৃষ্টি হয় তীব্র বাধা।

ঘটনার শুরুতে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করলেও দুপুর ২টার দিকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সড়ক থেকে শিক্ষার্থীদের সরানোর চেষ্টা করলে কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয় পরিস্থিতি। পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হন, যার মধ্যে ২৩ জনকে ভর্তি করা হয়েছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিচার্জ করে এবং নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্যরাও হামলা চালিয়েছেন। তবে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পুলিশের দাবি, সড়ক অবরোধের কারণে তিনটি বিভাগের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসন ধৈর্য এবং সহনশীলতার সঙ্গে কাজ করেছে। যদিও পুলিশের লাঠিচার্জের পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়, শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে বিক্ষোভ চালিয়ে যান এবং জানিয়ে দেন যে তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

উল্লেখ্য, চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে বরিশাল, ফরিদপুর ও ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একাডেমিক কার্যক্রম ২০ মে থেকে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির আওতায় ক্লাস, পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক সব কার্যক্রম বর্জন করে আসছেন।

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বৈত শাসন ব্যবস্থায় তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে। তারা স্পষ্ট করে বলেন, “আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




বন্যা আতঙ্কেও স্থগিত নয় এইচএসসি, কুমিল্লা বোর্ড পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে

টানা বর্ষণ আর উজান থেকে আসা ঢলে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী ও পরশুরামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ফলে এসব অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন বা স্থগিত করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড।

বুধবার (৯ জুলাই) দুপুরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক রুনা নাছরীন জানান, জলাবদ্ধতা ও নদ-নদীর পানি বাড়লেও পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে এখনো বড় কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। বোর্ড সার্বক্ষণিক সংশ্লিষ্ট জেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বলেন, “বিকেলের পর থেকে যদি বৃষ্টি না বাড়ে, তাহলে অনেক এলাকায় পানি দ্রুত নেমে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থার প্রয়োজন না-ও হতে পারে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আমরা আজ সন্ধ্যার মধ্যেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারি।”

বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপদে কেন্দ্রে পৌঁছানো এবং নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই প্রধান অগ্রাধিকার।

উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহে কুমিল্লা অঞ্চলের কিছু শহর ও গ্রামীণ এলাকায় নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। যার প্রভাব পড়তে পারে আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষায়।

২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে শুরু হয়েছে ২৬ জুন সকাল ১০টা থেকে। এবার ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১২ লাখ ৫১ হাজার শিক্ষার্থী। লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে ১০ আগস্ট এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ১১ থেকে ২১ আগস্ট পর্যন্ত।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫