পটুয়াখালীতে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ

বরিশাল অফিস :: পটুয়াখালীতে মনোয়ারা সুফি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

গত রবিবার (২৮ জানুয়ারি) থেকে মনোয়ারা সুফি ফাউন্ডেশনের পক্ষে শামীমা নাসরিন শিল্পী স্ব-শরীরে প্রতেকটি স্কুলে গিয়ে গিয়ে নিজ হাতে কোমলমতি শিশুদের হাতে তুলে দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন মনোয়ারা সুফি ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ মর্তুজা রেজা হায়দার, নির্বাহী সদস্য মোঃ ইশরাত হোসেন লিটন , গ্রীণ টিভি’র জেলা প্রতিনিধি সুমন মাহমুদ এবং হাসান কম্পিউটারস্ এর স্বাধিকারী হাসান কায়েস প্রমুখ।

পটুয়াখালী সদর উপজেলার কমলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টাউন উচ্চ বিদ্যালয়, ফজলুল হক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডোনাবান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, জৈনকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লতিফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গ্রীণগার্টেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাতৃকল্যান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর-পশ্চিম কালিকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেহাকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ দুমকী উপজেলার আরো ০৫ (পাঁচ টি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে ৬ টি কলম, ২ টি পেন্সিল, ৬ টি খাতা, ২ টি রাবার, ১টি পানির পট ও ১ টি স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, এ ফাউন্ডেশন ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ১ম ধাপে ২০০ শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল এবং ২য় ধাপে কচিকাঁচা শিশুদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়।




ববি সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জাকির, সম্পাদক ইমদাদুল

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ববিসাস) ২০২৪-২৫ কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক

খবরের কাগজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন নয়া শতাব্দীর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মো. ইমদাদুল ইসলাম।

আজ বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির দ্বিতীয় তলায় ২০২৪- ২৫ কার্যকরী পরিষদের ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আব্দুল কাইউম।

মোট নয়টি পদে একাধিক প্রার্থী না থাকায় নয়টি পদের সবকটিতে প্রার্থীরা বিনা প্রদিদ্বন্ধীতায় নির্বাচিত হন।

এসময় নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, মো. শফিকুল ইসলাম ও ওবায়দুর রহমান।

কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন- সহ-সভাপতি ইলিয়ান হোসেন (দৈনিক দেশ জনপদ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ হোসেন (দেশ রূপান্তর), দপ্তর প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম (দৈনিক বাংলা) কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ এনামুল (আমার সংবাদ), এবং কার্যকরী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মেহরাব হোসেন (দৈনিক দক্ষিণ অঞ্চল) মাসুদ রানা (ঢাকা টাইমস) মো. মেহেদী হাসান
(বিডিএন ৭১)।

নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সাংবাদিক সমিতির সকল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সকলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হয়।




বরিশালে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

বরিশাল অফিস :: বরিশালের জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে ২০২৪ সালের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার জেলা পর্যায়ে বৃহস্পতিবার ( ১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

বরিশাল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রুম্পা সিকদার সঞ্চালনায় বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন,১০ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৃন্দ, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের প্রতিনিধিসহ সরকারি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বৃন্দরা।

শুরুতে ২০২৪ সালের এসএসসি, দাখিল, এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক সভার উপরে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। পরে অংশগ্রহনকারীদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত আলোচনায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরে আলোচনা করা হয়।

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হবে। বরিশাল জেলায় মোট ৯৬টি পরীক্ষা কেন্দ্র রয়েছে এদের মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ২০৮০২ জন, ছাত্রী সংখ্যা ২০৫৮৮ জন, মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪১৩৯০ জন।




আগুনে নিহত পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর সিএন্ডবি রোড এলাকায় সোমবার( ৩০ জানুয়ারী) দিবাগত রাত ৩টার দিকে অগ্নিকান্ডে ৪টি দোকান পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। এ সময় একটি দোকানের ভেতরে থাকা বাকেরগঞ্জ উপজেলার নাঙ্গলিয়া গ্রামের বাসিন্দা সজীব জমাদ্দার নিহত হন।

বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অফিস কক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত সজিবের বাবা আবুল কালাম জমাদ্দার কে ২৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক বরিশাল শহিদুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকর্তা রনজিত কুমার সরকার, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান।

সজিব ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেক্ট্রনিক বিভাগের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি পার্সের দোকানে ম্যানেজার হিসেবে চাকুরি করতেন বলে জানা যায়।




ফিরে দেখা একুশ: শহীদ সালামের রক্তমাখা জামা দেখে উত্তাল পটুয়াখালী

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে ঢাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন আবদুস সালাম। তার রক্তামাখা জামা পটুয়াখালীতে নিয়ে আসা হয়। সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ভাষা আন্দোলন উপলক্ষে আয়োজিত গণজমায়েতে রক্তামাখা জামা মানুষকে দেখানোর পরে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পটুয়াখালী। এতে ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের ঢেউ পটুয়াখালীতেও আছড়ে পড়ে।
তৎকালীন ভাষা আন্দোলনে পটুয়াখালীতে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারীদের অনেকেই এখন জীবিত নেই। এস এম আবুল হোসেন আবু মিয়া ও মো. দলিল উদ্দিন আহমেদ নামের দুই ভাষা সৈনিকের সঙ্গে কথা হয়।

তারা জানান, তখন পটুয়াখালী ছিল বরিশাল জেলার একটি মহকুমা। ঢাকায় যখন ভাষা আন্দোলনকে ঘিরে নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল ঠিক সেই সময় পটুয়াখালীতে ‘পটুয়াখালী রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের’ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে কবি খন্দকার খালেককে আহ্বায়ক ও জালাল উদ্দিন আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়। পরে এ কমিটির নাম দেওয়া হয় ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। কমিটিতে উল্লেখযোগ্য সদস্য ছিলেন আজহার উদ্দিন, আবুল হোসেন আবু মিয়া, অ্যাডভোকেট এমদাদ আলী, বীরেশ্বর বসু, অতুল চন্দ্র দাস, ধ্রুবজ্যোতি দত্ত, অ্যাডভোকেট গোলাম আহাদ চৌধুরী, এটিএম ওবায়দুল্লাহ প্রমুখ।
ওই কমিটিতে না থাকলেও ভাষা আন্দোলনে পটুয়াখালীতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও পটুয়াখালীর বাউফলের সন্তান সৈয়দ আশরাফ হোসেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ কমিটির উদ্যোগে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ও পটুয়াখালী শহরে হরতাল পালন করা হয়। পটুয়াখালীতে খবর আসে ঢাকায় ভাষা আন্দোলনের মিছিলে গুলিবর্ষণ ও শহীদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। অন্যদের সঙ্গে শহীদ হন সালাম। তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। ময়নাতদন্তের দায়িত্বে ছিলেন সৈয়দ আশরাফের বড় ভাই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার সৈয়দ ফজলুল হক। ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে শহীদ সালামের রক্তমাখা জামা নিয়ে সৈয়দ আশরাফ হোসেন পটুয়াখালীতে আসেন।
২৩ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী শহরের বড় মসজিদ সংলগ্ন মাঠে অনুষ্ঠিত হয় ভাষা আন্দোলন কমিটির প্রথম প্রকাশ্য জনসভা। এমদাদ আলীর সভাপতিত্বে ওই সভায় বিডি হাবিবুল্লাহ, এবিএম আব্দুল লতিফ, আব্দুল করিম মিয়া, সৈয়দ আশরাফসহ ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দানকারীরা বক্তব্য দেন। ছাত্র-জনতা ছাড়া ওই সভায় তেমন লোক ছিল না। শহীদ সালামের রক্তমাখা জামাটি দেখানোর পরে পটুয়াখালীর মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। আন্দোলনে যোগ দেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা।

ভাষা সৈনিক মো. দলিল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ঢাকা থেকে নিয়ে আসা শহীদ সালামের রক্তমাখা জামাটি বিভিন্ন সভায় জনতাকে দেখান সৈয়দ আশরাফ। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে উপস্থিত জনতা, আন্দোলন – সংগ্রামে উত্তাল হয়ে ওঠে পটুয়াখালী। জনসভায় ঘোষণামতে ৩ মার্চ পটুয়াখালী শহরে পালন করা হয় সর্বাত্মক হরতাল ও বিক্ষোভ মিছিল। এর আগে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণজমায়েতে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাসহ অনেক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ওই সভায়ও রক্তমাখা জামাটি দেখানো হয়। রক্তমাখা জামাটি ছুয়ে আমরা সবাই শপথ নিই বাংলা ভাষার জন্য আন্দোলন সংগ্রহ চালিয়ে যাওয়ার। পরে জুবিলী স্কুলের মাঠ থেকে আমাদের ‘রক্ত শপথ’ গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পরে।’
তবে স্থানীয় প্রশাসন জুবিলী স্কুলের মাঠের গণজমায়েতকে পণ্ড করতে নানা কৌশল নেয় বলে জানান দলিল উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘ভাষা সংগ্রাম পরিষদ নেতাদের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়। জনসভায় বিতরণের জন্য আন্দোলনকারীদের অন্যতম কবি খন্দকার খালেক রচিত ‘রক্ত শপথ’ লিফলেট আর্ট প্রেস নামক ছাপাখানায় ছাপিয়ে জনসাধারণের মধ্যে বিতরণ করা হয়। শহরে মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা পুলিশ। কিন্তু ছাত্র-জনতার ঢল নামে পটুয়াখালী শহরের সরকারি জুবিলী স্কুল মাঠে। গণজমায়েত স্মরণকালের বৃহৎ জনসভায় রূপ নেয়। এতে গ্রাম থেকেও নৌকায় ছুটে আসেন ছাত্র, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ। অ্যাডভোকেট এমদাদ আলী এ সভায় সভাপতিত্ব করেন। জনস্রোত দেখে দাঙ্গা পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হয়। এদিকে ‘রক্ত শপথ’লিফলেট ছাপানোর কারণে তৎকালীন প্রশাসন সরকারি কাজের ক্ষেত্রে আর্ট প্রেসের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যা পরের পাঁচ বছর বলবৎ ছিল।’

ভাষা সৈনিক এস এম আবুল হোসেন আবু মিয়া জানান, পরে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে পটুয়াখালীতে একটি পাঠাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৫৪ সালে ১৭ এপ্রিল পটুয়াখালীর পুরান বাজার স্টিমার ঘাটের একটি বাড়ির দোতলায় প্রথমে প্রতিষ্ঠা করা হয় শহীদ স্মৃতি পাঠাগার এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন যুক্তফ্রন্টের এমপি আব্দুল করিম মিয়া ও সম্পাদক হন জালাল উদ্দিন আহমেদ। পরে কয়েকটি স্থানে স্থানান্তরের পর শহরের এসডিও অফিসের পুকুরের পশ্চিম উত্তর কোণে নিজস্ব ভবনে নির্মিত হয় পটুয়াখালী শহীদ স্মৃতি পাঠাগার যার কার্যক্রম এখনও সচল।

আবু মিয়া আরো জানান, ২৫ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন পাঠাগারের। বর্তমানে ৩৬ জন আজীবন সদস্যসহ ১০০ জন সদস্য রয়েছেন। পাঠাগারের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, বাংলা বর্ষবরণ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, প্রখ্যাত কবি সাহিত্যিক ও শিল্পীদের জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীসহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটকের আয়োজন করা হয়। প্রতিদিন এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ পত্রিকা, ম্যাগাজিন এবং বিভিন্ন লেখক-কবিদের বই পড়েন।
ভাষা শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে পটুয়াখালী সরকারি কলেজ চত্বরে ১৯৬৩-৬৪ অর্থবছরে স্থাপিত হয় শহীদ মিনার। পটুয়াখালী জেলার প্রথম শহীদ মিনার হিসেবে মাথা উঁচু করে আজও দাঁড়িয়ে আছে এই কাঠামোটি। যেখানে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো হয়।




আজ থেকে শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  আজ  শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৪। বিকেল ৩টায় বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদের স্মৃতিতে এবারের বইমেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘পড়ো বই গড়ো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’। বইয়ের এ উৎসবে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ বর্গফুট আয়তনের মাঠে ৬৩৫ প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২০ প্রতিষ্ঠান ১৭৩ ইউনিট এবং সোহরওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৫১৫ প্রতিষ্ঠান ৭৬৪ ইউনিট বরাদ্দ পেয়েছে। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩৬টি প্যাভিলিয়ন থাকবে। গত বছরের মতো রমনা কালী মন্দির গেটে প্রবেশের ঠিক ডান দিকে বড় পরিসরে রাখা হয়েছে শিশুচত্বর। প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। এছাড়াও নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থাপন করা হচ্ছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এর পাশাপাশি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার।




বরিশালে শিক্ষাকারিকুলাম পরিবর্তন ও ট্রান্সজেন্ডারকে প্রমোট করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: একতরফা প্রহসনের নির্বাচন বাতিল, বিতর্কিত শিক্ষাকারিকুলাম পরিবর্তন ও ট্রান্সজেন্ডারকে প্রমোট করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর শাখা।

বুধবার (৩১) জানুয়ারী নগরীর
সদররোডে সমাবেশ করে। আলহাজ সৈয়দ মাওলানা মোঃ নাসির আহমেদ কাউসারের সভাপতিত্বে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তরা বলেন,বর্তমান শেখ হাসিনার ডামি নির্বাচনকে আমেরিকা সহ ইউরোপিয়ার ইউনিয়নগুলো সমর্থন না দেওয়ার কারনে তাদেরকে খুশি করার জন্য এই নীতির মাধ্যমে বাংলাদেশে সমকামিতা ঢুকিয়েছে। বক্তারা আরো বলেন এই সমকামিতা এদেশের কোন ধর্মের লোকজন মেনে নেবে না।

তারা আরো বলেন, গত ৭ই জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে লাল কার্ড দেখিয়েছে তাই সংসদকে বহাল রাখার জন্য সরকার দেশের মানুষকে ভিন্নখাতে প্রাবাহিত করার জন্য শিক্ষানীতির একটি ইস্যু তৈরী করেছে যাতে করে মানুষ আর নির্বাচন নিয়ে কোন ধরনের কথা না বলে। শেখ হাসিনা এখন সেই ফেরায়ূনের মত নিজেকে খোদা মনে করে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংশ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে ইসলামী আন্দোলন চরমোনাই পিস সাহেব তা কোনদিন সফল হতে দেবে না।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন মাওঃ আব্দুর রহমান,মাওঃ মোঃ আরিফুর রহমান,হাফেজ মাওঃ নাসির উদ্দিন নাঈম,মাওঃ মোঃ আজিজুল হক,মাওঃ মোঃ রেজাউল করীম,মাওঃ মুহাম্মদ ইব্রাহিম প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে নগরীতে এক বিক্ষোভ মিছিল বেড় করে মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বরে এসে শেষ হয়।




৪০০ জনকে নিয়োগ দেবে গোল্ডেন হারভেস্ট, কর্মস্থল ঢাকা

 চন্দ্রদ্বীপ অনলাইন:  গোল্ডেন হারভেস্ট ইনফোটেক লিমিটেডে (জিএইচআইটিএল) ‘ডাটা এন্ট্রি অপারেটর’ পদে ৪০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহীরা আগামী ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।প্রতিষ্ঠানের নাম: গোল্ডেন হারভেস্ট ইনফোটেক লিমিটেড (জিএইচআইটিএল)

পদের নাম: ডাটা এন্ট্রি অপারেটর

পদসংখ্যা: ৪০০ জন
শিক্ষাগত যোগ্যতা: এইচএসসি
অভিজ্ঞতা: ০১ বছর
বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে

চাকরির ধরন: ফুল টাইম
প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ
বয়স: ১৮-৪৫ বছর
কর্মস্থল: ঢাকা (মহাখালী ব্র্যাঞ্চ)

আবেদনের শেষ সময়: ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

 




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তঃবিভাগ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট শুরু

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে আন্তঃবিভাগ ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট-২০২৪।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়দফা বেদি সংলগ্ন মাঠে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (রুটিন দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. শওকত আলী।

এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. শওকত আলী বলেন, “খেলাধুলা প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত জরুরি একটা বিষয়। খেলাধুলাসহ যেকোনো সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মনের খোরাক জোগায়। এগুলো শিক্ষার্থীদের মনের শক্তিকে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

এসময় প্রধান অতিথি খেলাধুলাসহ যেকোনো প্রয়োজনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম। অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন আইন অনুষদের ডিন সুপ্রভাত হালদার, রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আব্দুল কাইউম এবং শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. তারেক মাহমুদ আবীর।

শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, বিভাগীয় প্রধান, পরিচালক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, দপ্তর প্রধানসহ শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী পর্বে ইংরেজি ও কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আন্তঃবিভাগ ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতার ছাত্র ইভেন্টে ২৫টি বিভাগ এবং ছাত্রী ইভেন্টে ২২টি বিভাগ অংশগ্রহণ করবে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি এ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হবে।

 




শিক্ষক নিয়োগে ই-রেজিস্ট্রেশন শুরু, শিগগির পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ই-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এ ই-রেজিস্ট্রেশন চলবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এরপর শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করবে সংস্থাটি এবং তথ্য যাচাই শেষে শিগগির পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) এনটিআরসিএর সদস্য (শিক্ষাতত্ত্ব ও শিক্ষামান) মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকীর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, এনটিআরসিএ কর্তৃক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি) শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ সুপারিশের লক্ষ্যে পঞ্চম নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে এনটিআরসিএর প্রচলিত নিয়ম অনুসারে সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের শূন্যপদের তথ্য চাহিদা (ই-রিকুইজিশন) অনলাইনে সংগ্রহ করা হবে। অনলাইনে চাহিদা দেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আবশ্যিকভাবে ই-রেজিস্ট্রেশন (অনলাইন নিবন্ধন) কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠান পূর্বেই ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে, তাদের অবশ্যই ই-রেজিস্ট্রেশন প্রোফাইল হালনাগাদ করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে অনলাইন প্লাটফর্মে ই-রেজিস্ট্রেশন সম্পাদন কিংবা প্রোফাইল হালনাগাদ না করলে অনলাইনে নিয়োগযোগ্য শিক্ষকের শূন্যপদের চাহিদা (ই-রিকুইজিশন) দেওয়া সম্ভব হবে না।

যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এর মধ্যে ই-রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে, সেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ই-রেজিস্টেশন ফর্মের এডিট অপশনে ক্লিক করে প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল হালনাগাদ করতে হবে।

কোনো প্রতিষ্ঠানের সব তথ্য অপরিবর্তিত থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠানকে লগইন করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। নতুবা ই-রেজিস্ট্রেশন নবায়ন বা হালনাগাদ হবে না। এজন্য ২৯ জানুয়ারি থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য ই-রেজিস্ট্রেশন করা এবং আগে ই-রেজিস্ট্রেশন করা প্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ করার জন্য অনুরোধ করেছে সংস্থাটি।

এতে আরও বলা হয়, জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারদের নিজস্ব প্রোফাইলও হালনাগাদ করতে হবে। ই-রেজিস্ট্রেশন প্লাটফর্মে লগইন করার জন্য তাদেরকে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড টেলিটক থেকে এমএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হবে।

ই-রেজিস্ট্রেশন প্ল্যাটফর্মে লগইন করে তথ্য প্রদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য এনটিআরসিএর ওয়েবসাইটে ই-রেজিস্ট্রেশন নামক সেবাবক্সে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে অনুরোধ করা হলো।

জানা গেছে, ২০২২ সালের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সর্বশেষ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। চতুর্থ ধাপে শিক্ষক নিয়োগের জন্য যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায় ৬৮ হাজার পদ শূন্য। এমপিওপ্রাপ্য এসব এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক পদে নিয়োগ সুপারিশ করতে চতুর্থ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ। কিন্তু মাত্র সাড়ে ৩২ হাজার পদে প্রার্থী নির্বাচন করা সম্ভব হয়। যেখান থেকে মাত্র ২৭ হাজার নতুন শিক্ষককে গত বছরের সেপ্টেম্বরের শেষাংশে চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। যাদের কেউ যোগ দিয়েছেন, কেউ কেউ দেননি।

নতুন শিক্ষকরা সবাই যোগদান করলেও ৪১ হাজারের বেশি শিক্ষক পদ শূন্যই থাকছে। এসবের সঙ্গে যোগ হবে ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অবসরজনিত কারণে শূন্য হওয়া শিক্ষক পদ। এ হিসাবে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষক পদ এখন শূন্য।