বরিশালে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালিত

বরিশাল অফিস :: নানা আয়োজনে পালিত হচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচীর সূচনা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্থাবক অর্পন শেষে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে আনন্দ র‌্যালির উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস প্রফেসর ড. একে আজাদ চৌধুরী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির। র‌্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট থেকে শুরু হয়।

বরিশাল-কুয়াকাটা মহসড়ক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এ সময় বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগের নাম সম্বলিত ব্যানার বহন করে শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত করে তোলে ক্যাম্পাস। অনেকে আবার বিভিন্ন ধরনের লেখা নিয়ে প্লাকার্ড বহন করে। বাজানো হয় ভেপু। ২০১১ সালের ২২ ফেব্রয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠীতে ৫০ একর জমিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন।

২০১২ সালের ২৪ জানুয়ারি বরিশাল জিলা স্কুলের। একটি ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শুরু হয় কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬টি অনুষদের অধীনে ৩০টি বিভাগে ১০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। এছাড়া ২১০ জন শিক্ষক, ১২১ জন কর্মকর্তা এবং ১৫২ জন কর্মচারী রয়েছে। পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটাসহ বিভাগের ছয় জেলার দর্শনীয় স্থানকে অগ্রাধিকার দিয়ে এবং শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে গুরুত্ব দিয়ে শিঘ্রই শুরু হচ্ছে ট্যুরিজম ও ফার্মেসী বিভাগ।




রাষ্ট্রপতি রচিত ‘এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ’র ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশিত




আজ একুশে পদক তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী




দেড় মাস পেছাল ৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি 




ভেলায় পরীক্ষা দিতে না পারায় ৩ ছাত্রীর মামলা

বরিশাল অফিস :: ভোলার লালমোহনে চলমান দাখিল পরীক্ষায় তিন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করতে না পারায় নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

শুক্রবার লালমোহন থানায় তিন পরীক্ষার্থীর পক্ষ থেকে এ মামলা করেছেন বাউরিয়া গ্রামের এক ছাত্রীর দাদা মোহাম্মদ আলী।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দাখিল পরীক্ষার প্রথম দিনে পরীক্ষা দিতে আসে করিমগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার তিন ছাত্রী। তারা হলো মুনতাহা, সোনিয়া আক্তার ও মোসা. সালমা আক্তার।

তারা জানায়, পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল আমিনের চাহিদামতো রেজিস্ট্রেশন, ফরম ফিলাপ ও প্রবেশপত্রের ফিসহ সর্বমোট ১২ হাজার টাকা করে দিলেও তাদের নামে রেজিস্ট্রেশন ও এডমিট কার্ড আসেনি। পরে ওই শিক্ষার্থীদের হাতে অন্য তিন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র দিয়ে পরীক্ষায় বসতে কেন্দ্রে পাঠান অধ্যক্ষ। তারা পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে অন্যের নামে পরীক্ষায় বসলে প্রক্সি হবে এবং ধরা পড়লে জেল-জরিমানা হবে, এমন শঙ্কায় কেন্দ্রে ঢুকেননি।

এমন ঘটনা জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল আমিন ওই শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেন। এই তিন ছাত্রীর হাতে যাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও এডমিট কার্ড দিয়ে পরীক্ষা দিতে পাঠানো হয়েছে, সেই প্রকৃত পরীক্ষার্থীদেরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

তবে একদিন পর অধ্যক্ষ মাওলানা রুহুল আমিন ও অফিস সহকারী মো. ওবায়েদের বিরুদ্ধে শুক্রবার লালমোহন থানায় প্রতারণার মামলা করেন প্রতারণার শিকার ছাত্রী মুনতাহার দাদা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে করিমগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. রুহুল আমিনের মোবাইলে একাধিকবার কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

লালমোহন থানার ওসি মাহবুব-উল-আলম জানান, করিমগঞ্জ ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলা হয়েছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




ফের পবিপ্রবিতে শিক্ষক লাঞ্ছণার অভিযোগ

 

মো:আল-আমিন, পটুয়াখালী : ফের শিক্ষক লাঞ্ছণার ঘটনা ঘটেছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে(পবিপ্রবি)।
আবারও সেই বিতর্কিতভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এবং বারংবার শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করার মূলহোতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিও টু প্রোভিসি মো. সামসুল হক ওরফে রাসেলের বিরুদ্ধে।

শনিবার(১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টায় পবিপ্রবির বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত কৃষিকুঞ্জের ডাইনিং কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির নিকট লিখিত অভিযোগে সহকারী অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত রাসেল শনিবার ডাইনিং এ আমাকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং উপস্থিত অন্য শিক্ষকদের সামনেই আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে এবং পরবর্তীতে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে এই বলে, ‘তোকে যেখানে পাবো সেখানেই মারবো’। সে আমাকে জীবননাশের হুমকিও দেয় এবং বলে, ‘তোর পেছনে কে আছে দেখে নেবো, তুই যা, দেখি তোর মাইর কে বাঁচায়’।
এছাড়াও অভিযুক্ত রাসেল উপস্থিত শিক্ষকদের উপেক্ষা করে তাকে আঘাত করে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত সামসুল হক ওরফে রাসেল বলেন, শেখ তানজিলা দোলার সাথে নজরুলের বিভাগীয় বিষয়ে মতানৈক্য সৃষ্টি হয়। দোলা আমার আত্মীয় হওয়ায় আমি নজরুলকে তার সাথে কোনো ঝামেলা না করার জন্য অনুরোধ করি। পরবর্তীতে এই বিষয়ে তার সাথে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। তবে অভিযুক্ত রাসেল মারামারির বিষয়টি অস্বীকার করেন।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক জেহাদ পারভেজ বলেন, ঘটনা পরবর্তী ভুক্তভোগী শিক্ষক আমাকে মুঠোফোনে বিষয়টি অবগত করেছেন। আমরা শিক্ষক সমিতি রবিবার একটি সাধারণ সভা আহবান করেছি সেখানে বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগেও অভিযুক্ত মো. সামসুল হক ওরফে রাসেল সহকারী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন মন্ডলকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন, যার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এছাড়াও মাসে ৪৫ দিনের বেতন নেওয়া, নিয়মিতভাবে অফিস না করাসহ নানা বিতর্কে বিতর্কিত তিনি।




অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে সেই অর্থ জলবায়ু তহবিলে দিন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে সেই অর্থ জলবায়ু তহবিলে দেওয়ার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় তিনি বিশ্বনেতাদের কাছে ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন।



মির্জাগঞ্জে ভুয়া তালিকায় এতিমের টাকা তছরুপ

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): মির্জাগঞ্জে এতিমখানা ও শিশু সদনে মাদ্রাসা ছাত্রদের ভুয়া এতিম ও অসহায় দেখিয়ে লাখ লাখ  টাকা ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগ উঠেছে।

সবচেয়ে বড় অনিয়ম দেখা গেছে মাজার কেন্দ্রিক এতিমখানা গুলোতে। তারা একদিকে এতিম খানার নামে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করে অন্য দিকে ভুয়া তালিকা দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ নিয়ে থাকে।
এ ছাড়াও অধিকাংশ শিশু সদনে স্টোক রেজিস্ট্রার, বিল ক্যাশ খাতা, ভাউচারের রেজুলেশন, ভর্তি রেজুলেশন, মেচ কমিটি ও ভাউচারের সঙ্গে মিল রেখে ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিছুই নাই। যা বিল উত্তোলনের জন্য একান্তই প্রয়োজন।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, সম্পাদক ও উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরকে ম্যানেজ করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ছাড়াই উত্তোলন করছে সরকারি বরাদ্দ।

জানা যায়, মির্জাগঞ্জে সরকারের তালিকাভুক্ত ক্যাপিটেশন গ্র্যান্টপ্রাপ্ত মোট ১১টি এতিমখানা রয়েছে। যার মধ্যে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট বরাদ্দের আওতায় এতিম দেখানো হয়েছে ১৭৮ জন। ক্যাপিটেশন বরাদ্দের অনুকূলে এতিমখানার ৬-১৮ বছর বয়সী এতিম ৫০ শতাংশ বরাদ্দের আওতায় আসবে। একজন এতিমকে মাসে দুই হাজার করে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

বছরে দুইবারে মোট ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ আসে।




দশমিনায় সেই কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

মো: আল-আমিন (পটুয়াখালী): চলতি বছর এসএসসি, দাখিল ও সমমানের পরীক্ষার প্রথম দিনে পটুয়াখালীর দশমিনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত কেন্দ্রসচিব অধ্যক্ষ নুরে আলম সিদ্দিকীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা নাজ নীরা স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে গতকাল বেলা ১১টার দিকে পরীক্ষাকেন্দ্রে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগে ওই কেন্দ্রসচিবকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াশিউজ্জামান চৌধুরী।

দাখিল পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত কেন্দ্র দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সচিব নিযুক্ত হন চরহোসনাবাদ ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরে আলম সিদ্দিকী। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে ওই কেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ছয়টি দাখিল মাদ্রাসার ছয়জন সুপার।

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ওই ছয়জন সুপারের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ওই কেন্দ্রসচিবকে দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে রাতে কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় ওই কেন্দ্রসচিবকে অব্যাহতি দিয়ে লিখিত আদেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাফিসা নাজ নীরা।

ইউএনও স্বাক্ষরিত ওই লিখিত আদেশে একই সঙ্গে দশমিনা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবুল বাশারকে কেন্দ্রটির সচিব নিযুক্ত করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাফিসা নাজ নীরা বলেন, সুষ্ঠু পরীক্ষার স্বার্থে কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সভায় দশমিনা ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবুল বাশারকে কেন্দ্রসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।




দাখিল পরীক্ষার্থী: চন্দ্রদ্বীপ সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদক্ষেপ

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগর ইউনিয়নের কাঠিপাড়া আহমদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষার একদিন আগেও প্রবেশপত্র হাতে না পেয়ে অঝরে কাঁদছিলো ওই মাদ্রাসার ফারজানা নামে এক শিক্ষার্থী। পরীক্ষা দেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় পাগল ছিলো ওই শিক্ষার্থীসহ তার পরিবার।

কিন্তু চন্দ্রদীপ নিউজে সংবাদ প্রকাশের পড়ে অল্প সময়ের মধ্যে ফারজানা ও তার পরিবারের মুখে হাসি ফোটালো রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ইয়াসমিন।

বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ফারজানা চন্দ্রদ্বীপ নিউজ এর রিপোর্টারের কাছে কাছে কেঁদে কেঁদে জানিয়েছিলে পরীক্ষা না দিতে পারলে সে আত্মহত্যা করবে। ফারজানা ও তার পরিবারের অভিযোগ ছিলো, বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) শুরু হবে দাখিল পরীক্ষা। কাঠিপাড়া আহমদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় রেগুলার মোট ৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের মধ্যে সবাই প্রবেশপত্র হাতে পেয়েছে শুধুমাত্র ফারজানা ছাড়া। প্রবেশপত্র না পাওয়ার কারণ জানতে চাইলে মাদ্রাসা সুপার জহিরুদ্দিন কামাল ও অফিস সহায়ক কবির ফারজানাকে বলে তোমার ফরম ফিলাপের টাকা আমরা ফেরত দিবো নয়তো আগামী বছর তুমি পরীক্ষা দিলে তোমাকে আর কোনো টাকা দিতে হবেনা।

এ বিষয়ে ফারজানার ভাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ পেয়ে বুধবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১ টায় সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মাদ্রাসায় সুপারসহ ওই প্রতিষ্ঠানে মোট ১৯ জন শিক্ষক কর্মচারী থাকলেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ১০ থেকে ১৫ জন। মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে ফারজানার ভাইয়ের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোস্তফা আলমের কঠোর হস্তক্ষেপে ঢাকা মাদ্রাসা বোর্ড থেকে মাদ্রাসা সুপার জহিরুদ্দিন কামাল প্রবেশপত্র এনে ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে ফারজানার হাতে তুলে দেয়। আর প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া পরীক্ষায় অংশ নেয় ফারজানা।

ফারজানার ভাই শাওন জানান, আমার বোন ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজাপুর ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে পরীক্ষা দিয়েছে। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তার বোন ফারজানার জন্য দোয়া চান।

রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইয়াসমিন জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমে একটি চন্দ্রদীপ নিউজের মাধ্যমেও অভিযোগ পেয়ে ওই মাদ্রাসার সুপারকে দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করে ফারজানার হাতে প্রবেশপত্র পৌঁছে দিতে বলি। ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রবেশপত্র হাতে পায় ফারজানা। প্রবেশপত্র হাতে পেয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া পরীক্ষায় অংশ নেয় ফারজানা।