চন্দ্রদীপ নিউজ: আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, ৩০ দিন ধরে কাজপ্রত্যাশী একজন মানুষ যদি শেষের সাত দিনে এক ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ না পান, তাহলে তাঁকে বেকার হিসেবে ধরা হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোও (বিবিএস) এই সংজ্ঞা ব্যবহার করে।
বিবিএসের তথ্য মতে, দেশে মোট বেকারের ১২ শতাংশই এমন উচ্চশিক্ষিত। অথচ যাঁদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তাঁদের বেকারত্বের হার মাত্র ১.০৭ শতাংশ। অর্থাৎ মানসম্মত শিক্ষার অভাবে দেশে বেকারত্বের হার বাড়ছে, বিশেষ করে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অধিক হারে বাড়ছে।
বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করা বেকারের হার ৮.৭৮ শতাংশ। মাধ্যমিক শেষ করা বেকার ২.৪২ শতাংশ। প্রাথমিক শেষ করা বেকারের হার ১.৬৯ শতাংশ। অন্য কোনো মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করা ব্যক্তিদের বেকারত্বের হার ৪.৮৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা বলছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করা ৬৬ শতাংশই বেকার থাকছেন। ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী স্নাতক কিংবা স্নাতকোত্তর শেষ করে চাকরি পান। ৭ শতাংশ শিক্ষার্থী এখনো অন্য কোনো বিষয়ে স্নাতকোত্তর বা কারিগরি শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ৩ শতাংশ নিজ উদ্যোগে কিছু করছেন।
লন্ডনের ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) তথ্য মতে, বাংলাদেশে ১০০ জন স্নাতকধারীর ৪৭ জনই বেকার। আইএলওর ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা তিন কোটি। তখন সংস্থাটি আভাস দেয়, কয়েক বছরে তা দ্বিগুণ হয়ে ছয় কোটিতে দাঁড়াবে, যা মোট জনসংখ্যার ৩৯.৪০ শতাংশ হবে।
বিবিএসের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ ২০২২-এর হিসাব বলছে, দেশে শ্রমশক্তির মোট পরিমাণ সাত কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার। এর মধ্যে কাজ করছেন সাত কোটি চার লাখ ৭০ হাজার জন। অর্থাৎ দেশে কর্মক্ষম বেকারের সংখ্যা ২৫ লাখ ৮০ হাজার। আর ২০২৩-এর চতুর্থ কোয়ার্টারের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে বেকার ২৩ লাখ ৫০ হাজার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বেকারত্বের হিসাবের এই পদ্ধতিতে গলদ আছে। এই সংজ্ঞা বাংলাদেশে বেকারত্বের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য আংশিক কর্মসংস্থান সম্পর্কিত ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং এই সংজ্ঞা দেশের মোট উৎপাদনের অন্যান্য উপাদানের মধ্যকার মৌলিক ভারসাম্যহীনতাকেই প্রতিফলিত করে।
উচ্চশিক্ষিত বেকারদের জন্য সরকার কী উদ্যোগ নিচ্ছে বা নেওয়া উচিত, জানতে চাইলে পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সচিব মামুন-আল-রশীদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সরকার তাঁদের সর্বোচ্চ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দিয়েছে, আর কী দিতে পারে। সরকার কম শিক্ষিতদের জন্য বিভিন্ন কারিগরি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছে, প্রকল্প নিচ্ছে। বেকার বেড়ে যাওয়ায় চীন যেমন উচ্চশিক্ষা বন্ধ করে কারিগরি শিক্ষা চালু করেছিল, সরকারেরও এখন সেটা করা উচিত। যদিও সেটা করা সরকারের জন্য কঠিন। তবে আমাদের যেসব বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়, তার পরিবর্তে কর্মমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা করা উচিত। এখানে কিছু বিষয়ে যে শিক্ষা দেওয়া হয়, সে অনুযায়ী বাজারে কর্ম নেই।’