বরিশালে সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে কলেজ ছাত্রকে কুপিয়ে জখম

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীতে জুনিয়র সিনিয়র নিয়ে দ্বন্দ্বে এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। রবিবার রাত ১০টার দিকে নগরীর শশী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত কলেজছাত্র হলো ইমাম হোসেন মইন ওরফে মাহী। সে নগরীর বগুড়া রোড বাংলাদেশ ব্যাংকের পেছনের গলির বাসিন্দা মৃত আহসান হাবীবের ছেলে। নগরীর সরকারী সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ থেকে এ বছর তার এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা রয়েছে।

মাহী বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মশিউর রহমান মঞ্জুর শ্যালক। তিনি জানান, মাহী বন্ধুদের নিয়ে শশী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের পাশে দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলো। এ সময় তার জুনিয়র সাইভি এসে সিগারেট কিনে দিতে বলে। এতে মাহী রাগ করে সাইভিকে সরিয়ে দেয়। সেখান থেকে সাইভি চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে আবারও এসে মাহীকে ডেকে পাশের একটি গলিতে নেয়। সেখানে আগে থেকে সাকিব ও রাফাতসহ সাইভি মাহীকে চাপাতি দিয়ে কোপানো শুরু করে।

মঞ্জু জানান, মাহীর ডাক-চিৎকারে বন্ধুরা এসে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

মাহীর ঘাড়ে, গলায় ও মাথায় তিন স্থানে ধারালো অস্ত্রের জখম রয়েছে জানিয়ে মঞ্জু বলেন, চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করছে। তা ঘাড়ের ওপ জখম গুরুতর। তাকে ঢাকায় নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় মামলা করা হবে বলেও জানিয়েছেন মঞ্জু।

কোতয়ালী মডেল থানার ওসি আরিচুল হক  বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। কারা জড়িত ছিলো তাদের পরিচয় শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।




পিরোজপুরে খসে পড়ছে পলেস্তারা-টিনের চালায় ছিদ্র, ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান

বরিশাল অফিস:: ৩৮ বছর আগে তৈরি করা হয় পাঁচ কক্ষের একটি টিনশেড ভবনের বিদ্যালয়। এরপর থেকে বিদ্যালয়টিতে কোনো মেরামতের কাজ হয়নি। বিদ্যালয়ের টিনশেড ভবনের দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বিভিন্নস্থানে ধরেছে ফাটল। টিনে জং ধরে চালায় অসংখ্য ছিদ্র হয়েছে। এসব শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় বিপাকে।

পিরোজপুর সদর উপজেলার ৫ নম্বর জুজখোলা বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমনি চিত্র চোখে পড়ে। জরাজীর্ণ হওয়ায় কমেছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে পিরোজপুর সদর উপজেলার জুজখোলা গ্রামে একটি টিনশেড ভবন নির্মাণ করে ৫ নম্বর জুজখোলা বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। টিনশেড ভবন হওয়ায় প্রতিবছর টিনের চালার মেরামত করার প্রয়োজন হলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টিতে তেমন বড় কোনো মেরামত করা হয়নি। ২০২০-২১ সালে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য ২ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেই টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের সামনে দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি কাচা মাটির কাঠের ঘর নির্মাণ করা হয়। পুরানো জরাজীর্ণ ভবনের চারটি কক্ষ ও কাঠের ঘরে দুটি কক্ষে পাঠদান করা হয় তবে আতঙ্কে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসিনা খানম বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ভবনটি ১৯৮৫ সালে নির্মাণ করা হয়। ২০১৯ সালে এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি তার আগে থেকেই বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে আছে। ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের এ ভবনে পাঠদান করতে হচ্ছে। আমাদের বিদ্যালয়ের ছয়টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন, রয়েছে চারটি। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে টিন ও কাঠ দিয়ে দুটি কক্ষ তৈরি করে সেখানে পাঠদান করতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে পাকা ভবনের টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। কাঁচাঘরে বর্ষাকালে স্যাঁতসেতে হয়ে যায়। ২০১৯ সালে বিদ্যালয়ে ১৭৫ জন শিক্ষার্থী ছিল এখন তা কমে ১৩৫ এর নিচে নেমে গেছে।

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবির হাসান বলে, বিদ্যালয়ের ভবনটি পুরানো হয়ে গেছে। জানালা ভেঙে পড়ছে। টিনের চালে জং ধরে ছিদ্র হয়ে গেছে। বৃষ্টিতে পানি পড়ে ক্লাস করা যায় না।

বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. নাজমুল হাসান হাওলাদার বলেন, ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় পাঠদান করতে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া জরাজীর্ণ ভবন হওয়ায় প্রতিবছরই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, জুজখোলা বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনটি পাঠদানের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। ওই বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কুমারেশ চন্দ্র গাছি বলেন, জুজখোলা বড়বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সহ জেলার ১৮৪টি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বরাদ্দ পেলে বিদ্যালয়গুলোর জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।




অবন্তিকার মৃত্যুর ঘটনায় জবির সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ও আম্মান আটক

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফাইরুজ সাদাফ অবন্তিকার আত্মহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত জবি শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম এবং সহপাঠী আম্মান সিদ্দিকীকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৬ মার্চ) রাতে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শিক্ষক-সহপাঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ফাইরুজ অবন্তিকা শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা সদরের ঠাকুরপাড়া এলাকায় নিজ বাসায় গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকীকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে সহায়তাকারী ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দ্বীন ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত ও প্রক্টরিয়াল বডি থেকে তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হচ্ছে— ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে; অভিযুক্ত শিক্ষক দ্বীন ইসলাম ও শিক্ষার্থী আম্মান সিদ্দিকিকে অবিলম্বে গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারের আওতায় আনা; দ্রুত সিন্ডিকেট ডেকে অভিযুক্তদের স্থায়ী বহিষ্কার; ভিক্টিমের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করতে হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী নিপীড়ন সেল কার্যকর করতে হবে।




ধাক্কা ছাড়া চলে না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বিআরটিসির বাস

বরিশাল অফিস::  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিআরটিসি বাসগুলো নাজেহাল অবস্থা।কখনো কখনো বাস নিজে থেকে চালু হয়না। বিআরটিসি বাস চালু করতে দিতে হয় ধাক্কা। কাগজে কলমে ফিটনেস থাকলেও বাস্তবে ভিন্নতর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) বাসগুলো।তবে কয়েকটি বাস ফিটনেস রয়েছে।বেহালদশা বিআরটিসি বাসগুলোর।সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বরিশাল ক্লাবের এক নম্বর রুটের চার, পাঁচ ও ছয় নম্বর বাস।

গত ৫ মার্চ বরিশাল ক্লাব এক নম্বর রুটের পাঁচ নম্বর বাস ধাক্কা দিয়ে চালু করতে হয়।ধাক্কা দেওয়ার একটি ভিডিও রয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে।সেখানে দেখা যায়, কয়েকজন শিক্ষার্থীরা মিলে বাসটি চালু করতে দিচ্ছেন ধাক্কা। এমন দৃশ্য প্রায় দেখা যায় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

গত বৃহস্পতিবার ১৪ মার্চে বরিশাল ক্লাব থেকে বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসার কথা বিআরটিসি ৫ নম্বর বাসটি।বিপত্তি বাধে ইঞ্জিন চালু নিয়ে।পরে শিক্ষার্থীরা বাসটি ধাক্কা দিয়ে চালু করে।

এরআগে অর্থাৎ ২০২২ সালে বিআরটিসির একতল ও দ্বিতল বাসের ফিটনেস নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়।পরে বাসের চেহারা পরিবর্তন হলেও ভীতরগত সমস্যার পরিবর্তন হয়নি। ফলে, বিপাকে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। কারণ অনেকের ক্লাস ও পরীক্ষার সময় নিয়ে থাকতে হয় সংশয়।বরিশালের নতুল্লাবাদের তিন নম্বর রুটে সাত, আট, নয়, দশ ও এগারো নম্বর দ্বিতল বাস চলে। এ রুটের বাসের কিছুটা সমস্যা থাকলেও তা কাটিয়ে উঠেছে।তবে বর্ষার সময়ে দ্বিতল বাসে বৃষ্টির পানি ফুটো দিয়ে ভীতরে প্রবেশ করতে দেখা যেত।নতুন করে পরিবহণ পুলে তিনটি বাস যুক্ত হলেও রয়েছে পরিবহণ সংকট। এদিকে চালকের স্বল্পতা ও পরিবহণ সংকটের কথাও জানায় শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের সহকারী প্রকৌশলী (ট্রান্সপোর্ট) মো. জাহিদ হাসান জানান, বিআরটিসি বাসগুলো ভাড়া নেওয়া।চালক ও মেরামত সবকিছু বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্পোরেশন দেখে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজস্ব বাস আছে মোট ২২ টি।তারমধ্যে ৫২ সিটের বড় বাস ৬টি। আর বিআরটিসি দ্বিতল বাস ৭৫ আসনের ৭টি ও ৫২ আসনের তিনটি বাস রয়েছে।যেগুলো বিআরটিসিদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস থাকার কথা ৩৫ টি, সেখানে রয়েছে ২২ টি। করোনাকালীন সময়ে ব্যয় সংকোচ নীতির কারণে বাসগুলো ক্রয় করা সম্ভব হয়নি।তবে পরবর্তীতে কয়েকটি বাস পরিবহণ পুলে যুক্ত হয়েছে। এছাড়া পরিবহনের ঘাটতি মেটাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি) থেকে চুক্তি অনুযায়ী দ্বিতল বাস ও বড় বাস প্রয়োজনমতো নিয়ে থাকে কর্তৃপক্ষ।

পরিবহন পুলের তথ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থী অনুপাতে বাস সংখ্যা পর্যাপ্ত হলেও শিক্ষার্থী ও চালকরা বলছেন ভিন্ন কথা। নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক একাধিক চালক জানান, দিনের শেষের দিকের ট্রিপগুলোতে গাড়ি ওভারলোড হয়ে যায়। ফলে গাড়ি চালাতেও বেশ ভোগ পোহাতে হয় আমাগো। ২৮ সিটের মিনিবাসে যখন ৫৬ থেকে ৫৮ জন উঠে তখন অনেক সতর্ক হয়ে ড্রাইভিং করতে হয়।নতুন বাজার রুটের তো আরো করুণ দশা।অনেকে বাসের মধ্যে জায়গা না পেয়ে উঠতেই পারেনা।ঝুলে ঝুলে যায় শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান শোভন জানান, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি। আমরা না হয় বাসটা একটু ঠেলেই দিলাম। ফিটনেসবিহীন এই বাস বন্ধের দিনে পার্টটাইম কাজ করে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে চলার সময় ঠেলা বা ধাক্কা দেওয়া লাগে! আবার ঠেলে কারা? যারা এই বাসে ওঠার জন্য মুদ্রা বিনিময় করে। যাইহোক, এই বিআরটিসি বাসগুলো মেরামত বা পরিবর্তন করা জরুরি। নাহলে ব্রিজের ঢালে যেকোন সময় ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, ২২টি বাসের বিপরীতে ১০ হাজার শিক্ষার্থী কোনভাবেই পর্যাপ্ত না। আবার শিক্ষক-কর্মকর্তারাও সেবা পাচ্ছে এই ২২ টি বাসের অন্তর্ভুক্ত বাস দিয়েই।যদিও কিছুটা সংকট কাটিয়ে উঠেছে।নতুন বাস যুক্ত হয়েছে। তবে বিআরটিসি বাসগুলোর দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত। কারণ এটা এক-একটা লক্কর ঝক্কর বাস। শুধু আমতলা থেকে যেতে ২০ মিনিট লাগে। শিক্ষার্থীদের সময়ের তো কোন মূল্য নেই।দুর্ঘটনা ঘটার আগেই বাসগুলো মেরামত বা পরিবর্তন করা জরুরি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিবহনের কাজে নিয়োজিত বড় বাস ‘ধানসিঁড়ি’ দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে। সেটি মেরামতে দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।বিআরটিসি বাসের পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজস্ব বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করার কথাও জানায় তারা।

ধানসিঁড়ি বাস ও মেরামতের ব্যাপারে পরিবহন পুলের একটি সূত্র বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে আমাদের প্রতিবছর গাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এক লক্ষ টাকা বাজেট দেয়া হয়। আর ‘ধানসিঁড়ি’ বাসের অবস্থা একটু বেশি খারাপ। এটি মেরামত করতে যে অর্থের প্রয়োজন তা নতুন একটি বাস ক্রয় করা সম্ভব। গাড়িটির ইঞ্জিন ভালো আছে।তবে ইউজিসিকে দুইবার চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ধানসিঁড়ি বাসের অর্থের বরাদ্দ আসলে সেটি দ্রুত মেরামত করা সম্ভব। নবনিযুক্ত উপাচার্য মহোদয় রুটিন দায়িত্বের সময় ‘জয়ন্তী’ বাস পরিবহণ পুলে যুক্ত করেন। তারপরেও আমরা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাস বৃদ্ধি করার স্বার্থে ইউজিসিকে একাধিকবার জানানো হয়েছে।

বিআরটিসি বাসের ব্যাপারে পরিবহন পুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যানেজার মো. মেহেদী হাসান বলেন, বিআরটিসি বাসগুলো ভাড়ায় নিয়ে চালায় আমরা। প্রতিমাসে তাদেরকে টাকা দিতে হয়। ধাক্কা দিয়ে বাস চালু করতে হয় এমন বিষয় সম্প্রতি আমার জানা নেই। কেউ জানাইনি আমাকে।তবে একমাস আগে আমাকে অবগত করেছিলো। আমি তখন বিআরটিসিদের সাথে যোগাযোগ করেছি যাতে এটি সমাধান করা যায়।আর এখন আপনার থেকে জানলাম।আমি বিষয়টি তাদেরকে অবহিত করে সমাধান করার জন্য বলবো।




পলাশের রঙে রঙিন ববি, মোহনীয় সৌন্দর্যে টানছে দর্শনার্থী

বরিশাল অফিস :: বসন্ত আসলেই প্রকৃতিতে যেন সাজের জোয়ার উঠে। কে কত বেশি সাজিয়ে তুলতে পারে প্রকৃতিকে। কে কত বেশি সৌন্দর্য বিলাতে পারে প্রকৃতিতে। ফুলের মধ্যে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। সেই প্রতিযোগিতায় অনেকটাই এগিয়ে থাকে লাল-হলুদের মিশ্রিত মোহনীয় রঙের পলাশ। যার সৌন্দর্য থেকে পশু-পাখি থেকে মানবকুল কেউ দৃষ্টি সরাতে পারে না।

কবি কিংবা গীতিকাররা নানানভাবে দিয়েছেন পলাশের সেই সৌন্দর্যের বর্ণনা, রূপসি বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন ‘যে-দিন সন্ধ্যায় পলাশের বনে হিঙ্গুল মেঘের আলোয় কোকিলের ডাক শুনেছি, সে-দিনই বুঝেছি আমার মৃত্যু অনেক দূরে।’

প্রকৃতিতে ঋতুরাজের আগমনে রূপসি বাংলার কবির জন্মভূমি বরিশালে এক যুগ পার করে আসা দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে আবেশ মাখানো রঙেই রাঙিয়ে তুলেছে সেই পলাশ।

পুরো বসন্ত জুড়ে ববি ক্যাম্পাস যেন পলাশ ফুলের ছোট্ট এক টুকরো রাজ্য হয়ে উঠে। যে দিকেই তাকাই চোখে পড়ে পলাশ ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য। ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চ এবং কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ সংলগ্ন রাস্তার পাশে সারি সারি অগ্নি রঙা পলাশ ফুল সৌন্দর্যের দূতী ছড়াচ্ছে শিক্ষক- শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা- কর্মচারীদের মাঝে। পলাশের চোখ জুড়ানো মুগ্ধতায় কাছে টানছে নানারকম পাখির সঙ্গে দর্শনার্থীদের দৃষ্টিকেও।

সৌন্দর্য উপভোগে আগ্রহের কমতি নেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে। সবাই ভিড় জমাচ্ছেন পলাশ গাছের নিচে। কেউ ছবি তুলছেন। কেউবা আবার ফুল ছিঁড়ে তার প্রিয়জনের ফুলের খোঁপায় বুজে দিচ্ছেন।

ক্যাম্পাসে পলাশের সৌন্দর্যের মুগ্ধতা নিয়ে কথা বলতে গেলে মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী রক্তিমা গোলদার বলেন, ‘বসন্তের আগমনে রক্তিম সম্ভারে ভরে উঠেছে পলাশ। বসন্ত মানে ফুলের সমারোহ, আর ফুল মানে রঙের মিলনমেলা। আগুন ঝরা পলাশ সেই রঙের মেলায় যোগ করেছে ভিন্নমাত্রা। পলাশে আকৃষ্ট হওয়া পাখির কলতানে মুখরিত হচ্ছে চারদিক। পলাশের ডালের ফাঁক গলে নীলাকাশে মনকে প্রশান্ত করে-রাঙিয়ে তোলে, পলাশ ফুলের সৌন্দর্য ক্যাম্পাসে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।প্র কৃতি প্রেমীদের কাছে টেনেছে বারংবার। আমরা এই সৌন্দর্য মনভরে উপভোগ করছি।’

মার্কেটিং বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো. পারভেজ আলম পলাশ ফুল নিয়ে বলেন, ‘ঋতুরাজ বসন্তের অপ্রতিম সৌন্দর্যের পূর্ণতা পায় পলাশ ফুলের স্নিগ্ধতায়। আবহমান গ্রাম বাংলার প্রকৃতিতে নয়নাভিরাম পলাশ ফুল না দেখলে যেন অপূর্ণতা থেকে যায় বসন্তের। সুবাস না থাকলেও সৌন্দর্য ছড়াতে জুড়ি নেই পলাশের। পলাশ ফুলের সৌন্দর্য এবং বসন্তের হিমেল হাওয়া মিলে তৈরি হয় এক মনোরম পরিবেশের যা প্রকৃতি প্রেমীদেরকে আকৃষ্ট করে। আর সেই ভালো লাগার পলাশ ফুল যখন নিজের ভালোবাসার ক্যাম্পাসে শোভা ছড়ায় তা আসলে এক অন্যরকম অনুভূতি দেয়, যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’

 




১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা আজ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন ১৮ লাখ ৬৫ হাজার প্রার্থী।

দেশের সব বিভাগীয় শহরে এই পরীক্ষার কেন্দ্র প্রস্তুত করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত স্কুল-২ ও স্কুল পর্যায়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত কলেজ পর্যায়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

পরীক্ষার সময় ও নম্বর

মোট ১০০টি প্রশ্নের বিপরীতে ১০০ নম্বরে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর যুক্ত হবে এবং ভুল উত্তরের জন্য প্রাপ্ত নম্বর থেকে শূণ্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হলে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে।

গত বছর ৯ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনে অংশগ্রহণের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীদের প্রিলিমিনারির পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।




ববি উপাচার্যের সঙ্গে মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তাদের মতবিনিময়

বরিশাল অফিস::  বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া ও মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১২টায় উপাচার্যের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিত্ব করেন দূতাবাসের পাবলিক ডিপ্লোমেসি সেকশনের পাবলিক ইনগেইজমেন্ট কোঅর্ডিনেটর ফারোহা সুহরোয়ার্দ্দী এবং দূতাবাসের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স স্পেশালিস্ট ফারহানাজ মেহরিন।

মতবিনিময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সহযোগিতা, বিভিন্ন প্রোফেশনাল প্রোগ্রাম এবং স্কলারশিপের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ, ভাষাগত দক্ষতা বাড়ানো, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল ব্রাইট স্কলারশিপ, লংটাইম ও সর্টটাইম কোর্সসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

উপাচার্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ও গবেষণা সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

এক্ষেত্রে তারা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নয়নে পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সভায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী, কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন তানভীর কায়ছার, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. আবদুল্লাহ আল মাসুদ, প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. আব্দুল কাইউম, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) ড. হেনা রানী বিশ্বাসসহ বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শন

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া।

উপাচার্য হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পরপরই তিনি ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধনের প্রতি জোর দেন এবং এ লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুর ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ১ এর সম্মুখে এরকম একটি প্রকল্প পরিদর্শন করেন উপাচার্য।

পরিদর্শন শেষে উপাচার্য এ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বিকশিত হয়। ক্যাম্পাস যদি অপরিচ্ছন্ন হয়, অসুন্দর হয় সেখানে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় রাখার জন্য যা যা করার আমি তা করব। আমার লক্ষ্য হচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া।

এসময় উপাচার্যর সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি, বিভাগীয় প্রধান, প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

 




পরিবেশ রক্ষায় ববি’র শিক্ষার্থীদের ভিন্নধর্মী উদ্যোগ

বরিশাল অফিস :: আসুন আমাদের পরিবেশ বাঁচাতে একসাথে হাত মেলাই” শ্লোগানকে সামনে রেখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের ভিন্নধর্মী উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও ক্যাম্পাস পরিস্কার কর্মসূচির উদ্বোধণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার ( ১২ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ডফ্লোরে ফিল্ডওয়ার্কটির উদ্বোধণ করেছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারজানা আফরোজ।

বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের “সোসোলজি অফ এনভায়রনমেন্ট” কোর্সের অধীনে ফিল্ডওয়ার্কের অংশহিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পরিবেশ বান্ধব পাটের তৈরি ব্যানারে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় এমন আয়োজন আসলেই প্রশংসার দাবি রাখে। সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে ভিসি বলেন, আসুন আমরা সকলে মিলে পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা গড়ে তুলতে সহযোগিতা করি।

 




রমজানে খোলা থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান : আপিল বিভাগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  রমজান মাসে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এ আদেশের ফলে রমজানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।