এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : চলতি বছরের অনুষ্ঠিতব্য উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার কেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করেছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। যদিও এ বছরের এইচএসসি পরীক্ষা কবে শুরু হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে কেন্দ্র অনুযায়ী কলেজের তালিকা দেয়া হয়েছে। ৩০ জুন এই পরীক্ষা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. আবুল বাশার স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় বলা হয়, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার অনলাইনে ফরম পূরণ শুরু হবে আগামী ১৬ এপ্রিল ও জরিমানা ছাড়া ফরম পূরণ চলবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত। বিলম্ব ফিসহ ২৯ এপ্রিল শুরু হয়ে চলবে ২ মে পর্যন্ত। আর পরীক্ষা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ৩০ জুন।

ফরম পূরণের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান শাখার পরীক্ষার্থীদের জন্য ২ হাজার ৬৮০ টাকা, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ২ হাজার ১২০ টাকা করে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাধারণত এপ্রিলে দেশে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নেওয়া হলেও কোভিড মহামারির ধাক্কায় শিক্ষা সূচি এলোমেলো হওয়ায় এবারও পরীক্ষা পিছিয়ে নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে, চলবে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।




মেঘনা গ্রুপে নিয়োগ, ২৯ মার্চ পর্যন্ত আবেদন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির অ্যাকাউন্টস (সিমেন্ট প্ল্যান্ট) বিভাগ সিনিয়র ম্যানেজার/ ম্যানেজার পদে একাধিক লোকবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। গত ২১ মার্চ থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।



প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত সাময়িক পরীক্ষা থাকবে না

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে ১ম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িকের মতো পরীক্ষা থাকবে না। তবে ধারাবাহিক মূল্যায়ন চলবে। মূলায়ন নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি উচ্চ পর্যায়ে কমিটি করেছে। সেই কমিটির সুপারিশ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত এভাবে প্রাথমিক স্কুলের মূল্যায়ন কার্যক্রম চলবে।



বাউফলে মাদ্রাসায় বিধিবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর বাউফলে মোহসেনুদ্দীন নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্য করে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। 

অভিযোগ আছে,পছন্দের লোককে নিয়োগ দিতে কমিটির বিরুদ্ধে নিয়োগ দুর্নীতির সংক্রান্ত চলমান মামলার তথ্য গোপন করে এবং পত্রিকায় গোপনে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তিন পদের নিয়োগ সম্পন্ন করেছেন অধ্যক্ষ।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সরকারি বিনামূল্যের বই বাইরে বিক্রি করে দেওয়া, মৃত ব্যক্তিকে মাদ্রাসা কমিটির সদস্য করা, অফিস না করে মাস শেষে একসাথে হাজিরা খাতায় সাক্ষর দেওয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য ও কমিটির বিরুদ্ধে চলমান মামলার বাদী নুর উদ্দিন আফসারি বলেন, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুর রহিম স্ট্যাম্প, মাদ্রাসার অফিসিয়াল প্যাডে লিখিত দিয়ে এবং নিজ একাউন্টের চেক জমা দিয়ে চাকরি দেওয়ার কথা বলে এলাকার বিভিন্ন মানুষের থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধি কারী মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ জানান, নিয়োগ কমিটির বিষয় রেজুলেশনে ও আদালতে জমা দেওয়া কাগজপত্র আমার নামের সাক্ষরটি আমার নয়, এটি অন্য কেউ দিয়েছে।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি কুচক্রীমহল মিথ্যা রটাচ্ছে।  বিধিবহির্ভূত কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে অধিদপ্তরের ডিজি অবগত আছেন।

নিয়োগের জন্য ঘুষ নিয়েও চাকরি না দেওয়ার অভিযোগের বিষয় তিনি বলেন, ওই টাকা আমি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ধার নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে সেই টাকা আমি পরিশোধও করে দিয়েছি।




১৭৫ ফুট দীর্ঘ কাঠের সেতু, দুইপারের দুর্ভোগ লাঘব

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : আমলাভাঙা খালের দুপাশে দুই গ্রাম। দক্ষিণপাশে দক্ষিণ কাজির হাওলা, আর উত্তরপাশে পশ্চিম নেতা গ্রাম। এই দুইপারের মানুষের যোগাযোগ মাধ্যম ছিল একটি বাঁশের সাঁকো। নড়বড়ে সেই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই পারাপার হতে হতো। সাঁকো পার হতে গিয়ে স্কুলপড়ুয়া শিশু কিংবা বয়োবৃদ্ধদের খালে পড়ে যাওয়ার দুর্ঘটনাও ঘটত প্রায়ই।

অবশেষে সেই দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ওই দুই গ্রামের মানুষের পারাপারের জন্য একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে।

বুধবার বিকালে নির্মিত সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এ সময় থেকেই সেতু দিয়ে লোকজন চলাচল শুরু হয়।

তাদের মধ্যে বই-খাতা নিয়ে সেতু পার হচ্ছিলেন পশ্চিম নেতা গ্রামের আব্দুল্লাহ। সে রাঙ্গাবালী সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

আব্দুল্লাহ বলেন, সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে আমি একবার পা পিছলে খালে পড়ে গিয়েছিলাম। এরপর থেকে তিন কিলোমিটার ঘুরে কলেজে যেতাম। এখন এই সেতু হওয়ায় মাত্র ১৫ মিনিটে কলেজে যেতে পারব। আমাদের কষ্ট দূর হয়েছে। আশা করি- এখানে একটি পাকা সেতু হবে। তাহলে স্থায়ীভাবে আমাদের কষ্ট দূর হবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, ১৭৫ ফুট দৈর্ঘ্য এবং সাড়ে ৪ ফুট প্রস্থের কাঠের এ সেতুটি আকর্ষণীয় করতে লাল-সাদা রঙে সাজানো হয়েছে। সেতুর মাঝপ্রান্তে একটি টং দোকান স্থাপন করা হয়েছে।

দৃষ্টিনন্দন এ সেতু দেখতে আসা দর্শনার্থী সাইদ বলেন, পথচারী কিংবা দর্শনার্থীরা এখানে চা-কফি, চিপস-চানাচুর ও বিস্কুট খেতে পারবেন। খালের মাঝখানের টং দোকানে বসে এক কাপ চা-কফি খাওয়া সত্যিই উপভোগের। এই দোকানটির কারণে অনেক মানুষ এ সেতুটি দেখতে আসবেন।

জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহম্মেদের উদ্যোগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ১৫ জন শ্রমিক ২৩ দিন ধরে সেতুটির নির্মাণকাজ করেন। এতে ব্যয় হয় মোট ৩ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। এর মধ্যে ২ লাখ ৮০ হাজার সরকারি এবং ৮৭ হাজার টাকা উপজেলা চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত তহবিলের।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, দুইপারের অসংখ্য মানুষের যাতায়াত এখানে। সেটি বিবেচনায় এখানে কাঠের অবকাঠামোর সেতু করে দেওয়া হয়েছে। কংক্রিটের সেতু যাতে করে দেওয়া যায়-আমরা সেই ব্যবস্থা করব।

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. জহির উদ্দিন আহমেদ বলেন, একটি খাল দুইটি গ্রামকে বিভক্ত করে রেখেছে দীর্ঘদিন। দুইপারে বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাই শিক্ষার্থীসহ দুইটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের জন্য সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমরা দৃষ্টিনন্দন একটি কাঠের সেতুটি করে দিয়েছি। এর মাধ্যমে দুইপারের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, সেতুটির মাধ্যমে পশ্চিম নেতা গ্রামের ইব্রাহিম হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে। বিনামূল্যে সেতুর মাঝখানের টং দোকানটি তাকে নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।




শিক্ষা সবার জন্য নমুনা!

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : আমেনা ছয় সন্তানের জননী। শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ না পেলেও ছেলে-মেয়েদেরকে শিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল। গ্রামে স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েদেরকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। তিন ছেলে আর তিন মেয়ে নিরক্ষর। বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালী। রাঙ্গাবালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ কাশেম চরের বাসিন্দা আমেনা বেগম। স্বামী আজাদ জেলে। সাগরের মোহনায় জাল ফেলে যা পান, তা দিয়েই চলে সংসার। চরে স্কুল না থাকায় আমেনা সন্তানকে লেখাপড়া শেখাতে পারেননি। মেয়ে আইরিন, আলভী ও মনিকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে রাফিক গার্মেন্টসে চাকরি করে। ছেলে শাকিল ও শাহিন বাবার সাথে মাছ ধরায় ব্যস্ত। ‘লেখাপড়া শিখতে পারি নাই, সন্তানদের লেখাপড়া শেখানোর আশা ছিল।’ স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া শেখাতে না পারায় আক্ষেপ।

ওই চরের বসবাসকারী সব পরিবারেই এই আক্ষেপ রয়েছে। চরে ৬০০ লোকের বাস থাকলেও প্রাথমিক বিদ্যালয় বা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। ছেলেমেয়েরা নিরক্ষর।

চরের বাসিন্দা রফিক সরদার জানান, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। গ্রামে স্কুল না থাকায় ছেলে-মেয়েকে শিক্ষার সুযোগ দিতে পারেননি। ছেলেরা তার সাথে নদীতে মাছ ধরে আয়ে সহযোগিতা করছে।

রেজাউল হাওলাদারের তিন ছেলে। এদের মধ্যে দুই ছেলেকে শিক্ষিত করতে না পারলেও ছোট ছেলে দ্বীন ইসলামকে অন্য চরের প্রাইমারি স্কুলে পাঠাচ্ছেন। এখন তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র। নদী পার হয়েই পাঁচ কিলোমিটার দূরের স্কুলটিতে যেতে হয় ইসলামকে। তাই নিয়মিত যেতে পারে না। বর্ষা মৌসুম এলে খেয়া চলাচল বন্ধ থাকায় বছরের প্রায় ছয় মাস স্কুলে যাওয়া হয় না দ্বীন ইসলামের। রেজাউলেরও আক্ষেপ চরে স্কুল থাকলে সব ছেলে-মেয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পেত। তিনি জানান, সরকারের প্রকল্পের মাধ্যমে রঙিন টিনের ঘর পেয়েছেন। কিন্তু সন্তানদের লেখাপড়া শিখানোর স্বপ্ন রঙিন হয়নি।

গ্রামের বাসিন্দা নূর হোসেন জানান, এই চরে প্রায় ৭০০ লোকের বসবাস। ৬০ পরিবারকে সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের রঙিন টিনের ঘর দেয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘর পেয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। ‘এই চরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হলে সন্তানকে লেখাপড়া শেখাতে পারতাম।’ এই চরের দু’চারজন শিশু অন্য চরে লেখাপড়া করছে। তারা না ফেরা পর্যন্ত দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। তিনি বলেন, এই চরের শতাধিক স্কুলে গমনোপযোগী শিশু রয়েছে। অবিলম্বে এই চরে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের দাবি জানান।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ ঘোষ বলেন, ‘চর কাশেম বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। অফিস থেকে তথ্য পাঠানো হয়েছে। নতুন স্কুল করার ব্যাপারে সরকারের বিধিমালা আছে। পর্যায়ক্রমে কাজটি সম্পন্ন হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন জানান, ‘আমরা উপজেলা থেকে ওই চরে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। উপজেলা থেকে চরটি বিচ্ছিন্ন থাকায় শিশুরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সর্বশেষ আপডেট জানাব।’




বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, প্রথম তামিম, দ্বিতীয় হাবিবুল্লাহ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় মোট ৩ হাজার ৬৮৯ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশের নোটিশ প্রকাশ করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ও অপেক্ষমান শিক্ষার্থীদের তালিকা দেওয়া হয়েছে এবং মেধাতালিকা ও পছন্দক্রম অনুযায়ী বিভাগ বণ্টন করা হয়েছে। এর মধ্যে মেধাক্রম মেনে মোট ১ হাজার ৩০৯টি আসনে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে পারবেন।

ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী আদনান আহমেদ তামিম, তার ভর্তি পরীক্ষার রোল ছিল ৫২৭০৭। দ্বিতীয় হয়েছেন হাবিবুল্লাহ খান, তিনিও নটরডেমের ছাত্র, রোল ৫২৮৮০। অন্যদিকে তৃতীয় হয়েছেন পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্র সুদীপ্ত পোদ্দার, রোল ৫০৯৬৩।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা তিন ধাপে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। প্রথম ধাপে স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিজ্ঞপ্তিতে নির্দেশিত নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফর্মে তথ্য পূরণ করবেন। দ্বিতীয় ধাপে ভর্তির ফি প্রদান করবেন। এ বছর প্রকৌশল বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ভর্তি ফি ৭ হাজার ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া স্থাপত্য বিভাগের ভর্তি ফি ৭ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে মূল সনদ, স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট এবং ভর্তি ফি-এর রশিদ জমা প্রদান সাপেক্ষে ভর্তি নিশ্চিত করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২৭ মার্চ স্থাপত্য বিভাগে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা সনদ ও  দলিলাদি যাছাই এবং জমাদান, স্বাস্থ্য পরীক্ষার ছাড়পত্র গ্রহণ এবং ভর্তি ফি প্রদান সাপেক্ষে ভর্তি নিশ্চিত করবেন। এছাড়া প্রকৌশল বিভাগসমূহ এবং নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা ২৭ ও ২৮ মার্চ একই প্রক্রিয়ায় ভর্তি নিশ্চিত করবেন।

এদিকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কমিটিসমূহের সভাপতি অধ্যাপক ড. জীবন পোদ্দার বলেছেন, আগামী মে মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নতুন বর্ষের শ্রেণি কার্যক্রম চালু হবে।




দুমকিতে চলাচলের পথে কাঁটাতারের বেড়া, এলাকাবাসীর মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :পটুয়াখালীর দুমকিতে চলাচলের পথে কাঁটাতারের বেড়া দিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) দুই কর্মকর্তা। প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের চরবয়ড়া গ্রামে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী ও পুরুষ।

মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা শামিম মৃধা, রুহুল আমীন গাজী, নাজমা আক্তারসহ অনেকে বলেন, সরকারি খালের ওপর কালভার্ট নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের চলাচলের পথে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পথ অবরুদ্ধ করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. কামরুজ্জামান ও তার ভাই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম। এই খালের ওপরে চলাচলের জন্য একটি সাঁকো ছিল, পরবর্তীতে বাঁধ নির্মাণ করা হয়।

তারা বলেন, বাঁধ নির্মাণে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন এসে একটি কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কালভার্ট নির্মাণের কাজ শুরু হলে চলাচলের পথে কামরুজ্জামান ও সাইফুল ইসলাম গং কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে পথ অবরুদ্ধ করে দেয়।

তারা আরও বলেন, এই পথ দিয়ে বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করত এবং গরু-ছাগল আনা-নেওয়াসহ বিভিন্ন কাজে উভয়পাড়ে যাতায়াত করতেন।

সাবেক ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম মৃধা বলেন, জনচলাচলের পথে প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম ও কামরুজ্জামানের কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অশোভনীয়। এতে চলাচলের বিঘ্ন ঘটেছে। আমি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই ও প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কামরুজ্জামান বলেন, আমরা পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বেড়া দিয়েছি। সরকারি জায়গায় বেড়া দেইনি। এটা কোনো সরকারি পথও নয়।

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নির্বাহী কর্মকর্তা অনামিকা নজরুল বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। সরেজমিন গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 




বিএ পাস করলেন ভ্যান চালক পিরোজপুরের হায়দার আলী

বরিশাল অফিস::  তখনও জানে না; বাচ্চারা কী খেয়ে রাতে ঘুমাতে যাবে? পরদিন পরীক্ষা তাই ভ্যান নিয়ে কাজে যেতে পারেনি। ছয়টা পেট অভুক্ত, ঘরে খাবার নাই। একদিন চাকা না ঘুরলে চুলায় আর ভাত উঠে না- এই হলো হায়দার আলীর অবস্থা! কথাগুলো বলছিলেন হায়দার আলীর পাশের ঘরের বাসিন্দা হাশেম মিয়া।

পেশায় একজন ভ্যানচালক হায়দার আলী। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শেখ মাটিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের বাসিন্দা। অভাব অনটন আর নিয়তির সঙ্গে লড়াইটা সেই শৈশব থেকে। তবে পরাজিত সৈনিক নয় বরং অপরাজিত নায়কের মতো বাঁচার প্রত্যয়ে চলছে তার জীবন সংগ্রাম। কখনো ভ্যান চালানো, দিন মজুরের কাজ কিংবা মাছ ধরা এই তার জীবিকার উৎস। এভাবে এসএসসি, এইচএসসি পাশ তার।

এরপর ২০১৮ তে নাজিরপুর কলেজে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বাউবিতে ভর্তি হন তিনি। গতকাল বাউবির বিএ/বিএসএস এর প্রকাশিত ফলাফলে ২.৮৩ (জিপিএ) পেয়ে উত্তীর্ণ হন হায়দার আলী।

জীবনে কোন কিছুই বাঁধা হতে পারেনি হায়দার আলীর শিক্ষা অর্জনের পথে। ভ্যান চালানোর পাশাপাশি লেখাপড়া শেখার অদম্য আগ্রহের কারণে রাতে পরিবারের সকলে ঘুমিয়ে পড়লে এবং দিনে ভ্যান চালানোর ফাঁকে ফাঁকে পড়ালেখা চালিয়ে যেতেন হায়দার। ইংরেজিতে তার বেজায় দখল। কথায় কথায় ইংরেজি বলার প্রাকটিস ও নতুন শব্দ শেখার আগ্রহ তার শব্দ ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।

ব্যক্তিগত জীবনে হায়দার আলী ৪ সন্তানের জনক। হায়দার আলী ১৯৯৪ সালে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক পাস করেন। সংসারের অভাব অনটনের কারণে অনেকটা বাধ্য হয়ে শিক্ষা জীবনের ইতি টানতে হয় তার। দীর্ঘ শিক্ষা বিরতির পর ২০১৩ সালে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে এইচএসসি তে ভর্তি হন। পরিবারের ঘানি, স্ত্রী-সন্তানদের ভরণ পোষণের দায়িত্ব পালনের পরেও ৩.৮৩ পেয়ে এইচএসসিতেও এলাকায় চমক দেখান তিনি।

ভ্যান চালিয়ে প্রতিদিন গড়ে তিন/চারশো টাকা আয় হয় তার। পৈতৃক সম্পত্তির মধ্যে তার একটি ঝুপড়ি ঘর আর মাত্র ৩ শতাংশ জমি আছে। হায়দার আলী বলেন, ‘এবার আমার স্বপ্ন উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন। যত বছরই লাগুক আমি এম.এ পাস করবই করব। চাকরি প্রাপ্তির জন্য না, উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার বাসনা থেকে এ শিক্ষা অর্জন করছি। তারপরেও যদি একটি অন্য কাজ পেতাম; পরিবার পরিজন নিয়ে একটু ভাল থাকতে পারতাম। বয়স এখন ৪৭। যত বাড়ছে বয়স, ভ্যান টানার শক্তি ততই কমে যাচ্ছে। খুব কষ্টের কাজ চরাঞ্চলে ভ্যান টানা।’

হায়দার আলীর মতো সুযোগ বঞ্চিত, অবহেলিত, বয়স্ক ও অদম্য শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে বাউবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ‘হায়দার আলী একটি সাহসের নাম। সংগ্রামী, পরিশ্রমী, দৃঢ়, অপরাজিত, স্বপ্নবান একজন। শিক্ষাবঞ্চিত মানুষের আদর্শ তিনি। এই রকম মানুষের পাশে সব সময় রয়েছে বাউবি। প্রযুক্তির কল্যাণে আমাদের শিক্ষাক্রম এখন সারাদেশেই সকল বয়সের, পেশার নাগরিকের ঘরে বসে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছে। শুধু তাই নয়, জনকল্যাণের জন্য সম্প্রতি গবেষণার সুযোগকে অবারিত ও বিস্তৃত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাউবি।’




অবন্তিকার হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: জগ্ননাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবন্তিকার কাঠামোগত হত্যা” র সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে

সোমবার( ১৮ মার্চ) সকাল ১১ টায় অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি বিজন সিকদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডাঃ মনীষা চক্রবর্তী, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন খোকন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার অর্থ সম্পাদক ফারজানা আক্তার, স্কুল বিষয়ক সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ফারহান, সদস্য রেজওয়ান হোসেন সিয়াম, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট সরকারি বরিশাল কলেজ শাখার সদস্য ঐশী হালদার, এ কে স্কুল শাখার সংগঠক সোহান শরীফ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, অবন্তিকা গতবছর নভেম্বর মাস থেকে তার সহপাঠী ছাত্রলীগ নেতা আম্মান সিদ্দীকী কর্তৃক নানাবিধ উত্যক্তকরণ ও নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করেও কোন বিচার পায়নি বরং সহকারী প্রক্টর দীন ইসলাম অভিযোগ করার জন্য তাকে অফিসে ডেকে হয়রানি করেছেন যা সে আত্মহত্যার পূর্বে তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছে।

বক্তারা বলেন, বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি ও স্বৈরাচারী রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকতার ফলে ছাত্রলীগ নেতা আম্মান সিদ্দিকী দীর্ঘদিন ধরে অবন্তিকাকে উত্যক্ত করার সাহস পেয়েছে। ক্যাম্পাসগুলিতে শুধু সন্ত্রাস-দখলদারিত্বের রাজত্ব কায়েম করেই ক্ষান্ত হয়নি সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ, উপরন্তু দেশের আপামর ছাত্রী-নারীর কাছে বিভীষিকাময় মূর্তি নিয়ে হাজির হয়েছে৷ আর এসবের সাথে যুক্ত হয়ে ক্যাম্পাসের সহকারী প্রক্টর দ্বীন ইসলাম ছাত্রলীগ নেতা আম্মান সিদ্দীককে রক্ষা করার জন্য নির্লজ্জ দালালি করেছেন।

বক্তারা বলেন, অবন্তিকার মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, কাঠামোগত হত্যা। বক্তারা অবিলম্বে অবন্তিকার “কাঠামোগত হত্যা” র সাথে জড়িত সকল ব্যক্তিদের তদন্তসাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।