বইয়ের বাঁধাই থেকে মানুষের চামড়া সরিয়ে ফেললো হার্ভার্ড লাইব্রেরি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : গ্রন্থাগার থেকে ৯০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাখা একটি বইয়ের বাঁধন থেকে মানুষের চামড়া অপসারন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। খবর এএফপি’র।

ডেস্টিনিজ অব দ্য সোল’ নামের ঊনবিংশ শতকের বইটি নিয়ে গবেষণা হয়। ২০১৪ সালে জানা যায়, এক নারীর চামড়া দিয়ে বাঁধাই করা এই বই।

হার্ভার্ড বলেছে, বইটির বাঁধাই অপসারন করা হয়েছে এবং উল্লেখ করেছে ‘বইটির তদারককারীদের অতীতের ব্যর্থতা যা মানুষের মর্যাদাকে আরও আপত্তিকর এবং যার দেহাবশেষ বাঁধাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল তাকে হেয় করেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয় বলেছে, তারা ‘এই মানব দেহাবশেষের একটি চূড়ান্ত সম্মানজনক অবস্থান নির্ধারণ করতে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রাচীনতম কলেজ হিসাবে বিবেচিত হার্ভার্ড ‘এই বিষাদগ্রস্থ গল্পের বইটির প্রতি আগ্রহ জাগিয়েছিল, ২০১৪ সালের আবিষ্কারটিকে ‘নৃতাত্ত্বিক গ্রন্থপঞ্জি, গ্রন্থ সংগ্রাহক এবং নরখাদকদের অনুরাগীদের মধ্যে উদ্দীপক হিসেবে অভিহিত করেছিল।’

হার্ভার্ড ২০১৪ সালের একটি ব্লগ পোস্টে বলেছিল, নৃতাত্ত্বিক গ্রন্থপঞ্জিতে মানুষের ত্বকে বই বাঁধাই করার অভ্যাস একসময় তুলনামূলকভাবে সাধারণ অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল।

ইউনিভার্সিটি বলেছে, ফরাসি লেখক আর্সেন হাউসেয়ের লেখা বইটির প্রথম মালিক বই সংগ্রাহক,চিকিৎসক লুডোভিক বোল্যান্ড সেই সময়ে মানসিকভাবে অসুস্থ এক মহিলার শরীর থেকে চামড়া নিয়েছিলেন, যিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি কাজ করতেন।

বোল্যান্ড একটি নোটে হাউসেয়েকে বলেছিলেন: ‘মানুষের আত্মা সম্পর্কে একটি বই মানুষের ত্বকের আবরণ পাওয়ার যোগ্য।’

বুধবার হার্ভার্ড বিবৃতিতে বলেছে, ‘বইটির সাথে সম্পর্কিত বোল্যান্ডের স্টুয়ার্ডশিপ অনুশীলনগুলো ‘নৈতিক মানগুলোর স্তর পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

এতে বলা হয়, বইটি মানুষের ত্বকে আবদ্ধ ছিল তা নিশ্চিত করার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের পরে লাইব্রেরি ব্লক পোস্টে বইটি সম্পর্কে ‘একটি চাঞ্চল্যকর, বিষাদগ্রস্ত এবং হাস্যকর টোন ব্যবহার করেছে যা অনুরূপ আন্তর্জাতিক মিডিয়া কভারেজকে উৎসাহিত করে।’

২০২২ সালে হার্ভার্ড একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, এতে বলা হয় বিশ্ববিদ্যলয়টির বিভিন্ন সংগ্রহে ২০,০০০ টিরও বেশি বইয়ে বাঁধাইয়ে মানুষের দেহাবশেষ শনাক্ত করেছে, এতে কঙ্কাল থেকে দাঁত, চুল এবং হাড়ের টুকরো পর্যন্ত রয়েছে।




১৯ দিনের ছুটি পাচ্ছে ববি’র শিক্ষার্থীরা

বরিশাল অফিস:: টানা ১৯ দিনের ছুটি পাচ্ছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। ইস্টার সানডে, শব-ই-কদর ও পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের এ ছুটি আগামী ৩১ মার্চ থেকে শুরু হবে এবং চলবে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত। ১৯ এপ্রিল থেকে যথারীতি অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে ববি’র রেজিস্টার মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ৩১ মার্চ ইস্টার সানডের ছুটি থাকলেও ১ এপ্রিল থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস খোলা থাকবে।

পরবর্তীতে ৭ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত শব-ই-কদর ও পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। ববি বন্ধ থাকাকালীন সময় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি সেবা চালু থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।




গলাচিপায় শিক্ষাবৃত্তি পেলেন ৫০ মেধাবী শিক্ষার্থী  

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :

পটুয়াখালীর গলাচিপায় শিক্ষা কল্যাণ ট্রাস্ট’র সহায়তায় ও গলাচিপা স্কিল ল্যাব এর আয়োজনে মেধাবীদের শিক্ষা বৃত্তি, পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়েছে।

২৭মার্চ গলাচিপা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তন কক্ষে ৫০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়।
এছাড়া  উপজেলা গণিত উৎসব -২০২৩ এ সেরা ৭০ জন কৃতি শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং ওয়ার্কশপ আয়োজন করে তাদেরকে পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়।

গলাচিপা উপজেলা  কল্যাণ ট্রাস্টের সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃমহিউদ্দিন আল হেলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. নূর কুতুবুল আলম শিক্ষার্থীদের মাঝে অনুদানের চেক, পুরস্কার ও সনদ তুলে দেন এবং গলাচিপা স্কিল ল্যাব এর গঠনতন্ত্রের মোড়ক উন্মোচন করেন।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মু.সাহিন, উপজেল আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক(ভারপ্রাপ্ত) সর্দার মু. শাহ আলম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল কবির, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুদ্দিন সানু ঢালী, গলাচিপা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো.ফোরকান কবির,অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস আলম খান প্রমুখ।




শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল হতে পারে

চন্দ্রদীপ নিউজ : রমজান মাসে ছুটি কার্যকর রাখতে আগামীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল হতে পারে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় আজ মঙ্গলবার এ কথা জানান তিনি।

পবিত্র রমজান মাসে স্কুল খোলা থাকা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রচার-অপপ্রচার হয়েছে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু এই বছর বিষয়টি সামনে এসেছে। আমরা আগামীতে চেষ্টা করব বছরে ৫২টি শনিবার আছে। সেখানে যদি বিদ্যালয় কিছুটা খোলা রেখে যদি রমজানের ক্ষেত্রে যে বিতর্ক হচ্ছে, বিতর্ক সৃষ্টির অপপ্রয়াস যারা করছে তাদের অপ্রয়াস যাতে বন্ধ করতে পারি। সে লক্ষ্যে আমরা একটা পরিকল্পনা করব। যাতে আদালতে গিয়ে গুছিয়ে মিথ্য বলে বিভ্রান্ত করে রায় নিয়ে এসে, সে ধরনের অপচেষ্টা কেউ না করতে পারে। এটা নিয়ে রাস্তায় নেমে মানববন্ধন করতে না পারে; আমরা চেষ্টা করবো। ‘

সংবেদনশীলতার জায়গায় সরকার অবশ্যই শ্রদ্ধাশীল বলেও মন্তব্য করেন মহিবুল হাসান চৌধুরী। বলেন, এসব বিষয় নিয়ে আলেম ওলামাদের সঙ্গেও আলোচনা করব, তাদের একটা অবস্থান আছে এ বিষয়ে। আগামীতে শিক্ষা পরিবার সংবিধানের মূলনীতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সুষম বাংলাদেশ সৃষ্টি করবো আমরা যেখানে পিছিয়ে পড়া মানুষেরও শিক্ষা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন না।

প্রসঙ্গত, শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি যাতে না পড়ে সে কারণে ঘণ্টা ঠিক পাঠদান ব্যবস্থা ঠিক রাখতে রমজানের শুরুতে মাত্র কয়েকদিন বিদ্যালয় খোলা রাখায় বিতর্ক হচ্ছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বছরের ৫২ দিন শনিবারের ছুটি বাতিলের চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে।




নতুন কারিকুলামে প্রতি বিষয়ে পাঁচ ঘণ্টার পরীক্ষা

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : অভিভাবকদের দাবি মেনে নিয়ে পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন কারিকুলামে মূল্যায়নের খসড়া প্রস্তুত করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি। জুন থেকেই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করেছে বোর্ড।

খসড়া অনুযায়ী, প্রতিটি মিড টার্ম ও চূড়ান্ত পরীক্ষা হবে পাঁচ ঘণ্টার। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে অন্য কেন্দ্রে। আর চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণির পরীক্ষা হবে নিজ স্কুলে। এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলবে। এতে ছয়টি সেশন থাকবে। চার ঘণ্টা থাকবে ব্যবহারিক। মিডটার্ম ও বার্ষিক চূড়ান্ত পরীক্ষায় সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে নতুন কারিকুলামের আলোকে।

জানা গেছে, রোববার (২৪ মার্চ) শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে খসড়াটি করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগের পদ্ধতিতে আর পরীক্ষা হবে না। এটিকে মূল্যায়ন বলা হচ্ছে।

এ তথ্য জানিয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো: ফরহাদুল ইসলাম বলেছেন, রোববার (২৪ মার্চ) মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সভা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভায় পরীক্ষা পদ্ধতি ফেরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আরেকটি সভা করে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

জানা গেছে, নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির পরীক্ষায় মার্কিং (চিহ্নিত) করার নিয়ম থাকবে না। রিপোর্টিং ভালো, অর্জনের পথে এবং প্রাথমিক পর্যায় এমন তিনভাগে ফলাফল হবে। চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মিডটার্ম ও ফাইনাল পরীক্ষা হবে। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন হবে চূড়ান্ত পরীক্ষার মাধ্যমে।

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০টি সাধারণ বিষয় পড়তে হবে। এসএসসি পরীক্ষা হবে দশম শ্রেণির পাঠ্যক্রমের ওপর। আর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রতি বছর দু’টি পাবলিক পরীক্ষা হবে। গত বছর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। চলতি বছর দ্বিতীয়, তৃতীয়, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে এবং আগামী বছর চতুর্থ, পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে চালু হবে এ নিয়ম। এর আলোকে ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষা হবে।




বরিশাল আইএইচটির ১৩ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

বরিশাল অফিস:: বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) শিক্ষার্থীরা গত বছরের ডিসেম্বরে হোস্টেল সুপার ডা. সানজিদা শহীদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১৩ শিক্ষার্থীকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ওই শিক্ষার্থীদের হোস্টেল থেকে কেন বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে নোটিশে। গত ২০ মার্চ নোটিশ প্রদানের পর থেকে শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কিত শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, ছাত্রাবাসের ১০টি কক্ষের ১০ ছাত্রকে এ নোটিশ দেওয়া হয়। তারা হচ্ছেন ৩১৮ নম্বর কক্ষের রেডিওলজি বিভাগের মো. সোহেল, ৩০৬ নম্বর কক্ষের একই বিভাগের মো. ঈসা, ৫০১ নম্বর কক্ষের ল্যাবরেটরি বিভাগের সাবিত হাসান, ৩০৭ নম্বর কক্ষের ফিজিওথেরাপি বিভাগের জহিরুল ইসলাম, ৩০১ নম্বর কক্ষের ডেন্টালের ফারদিন ইসলাম, ৫০৩ নম্বর কক্ষের রেডিওলজি বিভাগের তাহমিদুল হক, ২১৫ নম্বর কক্ষের ল্যাবরেটরি বিভাগের আল শাহরিয়ার, ২১২ নম্বর কক্ষের ফার্মেসী বিভাগের হাসানুর রহমান, ২০৩ নম্বর কক্ষের ফিজিওথেরাপির সজীব ঘরামী ও একই কক্ষের ডেন্টালের সৈকত পাল।

এ ছাড়া ছাত্রীনিবাসের ৩ শিক্ষার্থী হচ্ছে ৪১৬ নম্বর কক্ষের রেডিওলজি বিভাগের সানমুন জাহান বুশরা, একই বিভাগের ৪০৯ নম্বর কক্ষের আছমিতা আহম্মেদ মিম ও ৩১৮ নম্বর কক্ষের রেডিওথেরাপি বিভাগের শারমিন জাহান মুক্তা।

গত বছর ডিসেম্বর মাসে ছাত্রীদের হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে। সেই আন্দোলনে যারা সামনের সারিতে ছিলেন তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন সুপার সানজিদা শহীদ। আইএইচটি এর একাধিক সূত্রে অভিযোগ রয়েছে ছাত্রাবাসের সুপার হবেন পুরুষ শিক্ষক। কিন্তু সানজিদা মহাপরিচালকের লোক হওয়ায় অধ্যক্ষ আইনবহির্ভূতভাবে একজন নারীকে হল সুপার করেন।

আইএইচটি এর ল্যাবরেটরি বিভাগের আল শাহরিয়ার বলেন, ‘হল সুপার সানজিদা ম্যাডাম ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের তালিকা করে একাডেমিক ভবনের নোটিশ বোর্ডে টানিয়ে দেয়। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে হোস্টেলের অভ্যন্তরে আইনশৃংখলা অমান্য করার অভিযোগ আনা হয়।

একই বিভাগের অপর ছাত্র সাবিত হাসান বলেন, একই কারণে এ বছর জানুয়ারি মাসে ইয়ার ফাইনাল পরীক্ষায় ফিজিওথেরাপি বিভাগের জহিরুল ইসলাম ও রেডিওলজি বিভাগের আছমিতা আহম্মেদ মিমকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু তাদের কোনো দোষ ছিল না। শিক্ষিকা সানজিদা নকলের অভিযোগ তুলে তাদের বহিষ্কার করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই দুই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করতে গেলে সহপাঠীরা তাদের রক্ষা করেন। তাদের দোষ ছিল তারা সানজিদা শহীদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে ছিলেন।

আইএইচটি এর একাধিক সাধারণ শিক্ষার্থী বলেন, কোনোভাবে হোস্টেল সুপার সানজিদার বিরুদ্ধাচরণ করা যাবে না। তার বিরুদ্ধে গেলে শিক্ষকদের হাতে যে নম্বর থাকে তা কেটে দেয়াসহ সেমিস্টারে অকৃতকার্য করে রাখা হবে বলে হুমকি দেন।

এ প্রসঙ্গে আইএইচটির সহকারী অধ্যাপক ও হল সুপার (ছাত্র) ডা. সানজিদা শহীদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা আইএইচটিতে কর্মরত রয়েছে সকলেই মহাপরিচালকের লোক। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করায় তিনি এ নোটিশ দেননি। হোস্টেলে তাদের কর্মকাণ্ড ভালো না থাকায় নোটিশ করা হয়েছে।’

বরিশালে আইএইচটির হোস্টেলে ছাত্রীদের মারধরের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বরিশালে আইএইচটির হোস্টেলে ছাত্রীদের মারধরের অভিযোগ ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে

নিয়মানুযায়ী ছাত্র হোস্টেলে কোনোভাবেই একজন নারী দায়িত্ব পালন করতে পারেন না, তিনি এ বিষয়ে বলেন, ‘যে সময় তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ওই সময় কোনো পুরুষ শিক্ষক না থাকায় বাধ্য হয়ে অধ্যক্ষ তাকে হল সুপারের দায়িত্ব দেন।’

এ ব্যপারে আইচএইচটি অধ্যক্ষ ডা. মানুষ কুন্ডু সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের চাপে রাখার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এর সমাধান করা হবে।’ ছাত্র হোস্টেলে কীভাবে একজন নারীকে হলসুপার করা হলো। এ প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, ‘পুরুষ শিক্ষক না থাকায় তাকে হলসুপার করা হয়।’




চশমায় এআই প্রযুক্তি

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস (এমডব্লিউসি) উৎসবে ‘এয়ার গ্লাস ৩’ উন্মোচন করেছে অপো, যা অ্যাসিস্টেড রিয়েলিটি চশমার নতুন প্রজন্মের প্রটোটাইপ। চশমা দিয়ে কথা বলা, বার্তা পড়া, ছবি তোলা, ভিডিও– সবই করা সম্ভব। স্মার্টফোন দিয়ে অ্যান্ডেসজিপিটি মডেলে প্রবেশ করতে পারবে এয়ার গ্লাস থ্রি, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অভিজ্ঞতা দেবে।

উন্মোচনের আগেই এআই সেন্টার প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে ‘এআই স্মার্টফোন হোয়াইট পেপার’ প্রকাশ করে ব্র্যান্ডটি, যা স্মার্টফোনকে এআই ঘরানার স্মার্টফোনে রূপান্তরের সূচনা করল।

বাইনোকুলার এআর চশমা: ইমেজ, টেক্সট, অডিও-ভিডিও ডেটা বুঝতে চশমাটি চৌকস। যার মাল্টিমোডাল এআই প্রযুক্তি ভয়েস ও ভিজ্যুয়ালের মতো আরও জটিল ইউজার সিনারিওর প্রক্রিয়া করে তা ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। এটি যোগাযোগে খুলে দেবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। ফিচার ব্যবহারে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে এক্সআর (এক্সটেন্ডেড রিয়েলিটি) সব ডিভাইস। সত্যিকার অর্থে ব্যক্তিগত, দৈনন্দিন স্মার্ট সহকারীর ভূমিকা নিতে হলে প্রয়োজন মানোন্নত কার্যকারিতা ও লাইটওয়েট ডিজাইন। লক্ষ্য পূরণে একেবারে নতুন এয়ার গ্লাস ৩ প্রটোটাইপ চালু করে ব্র্যান্ডটি।

এআই গবেষণা: সুদীর্ঘ সময় ধরে ব্র্যান্ডটি এআই উন্নয়নে বিনিয়োগ করেছে। ব্র্যান্ডটি এখন এআই প্রযুক্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির কৌশল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্র্যান্ডটি ফেব্রুয়ারি মাসে এআই সেন্টার উদ্বোধন করে। ব্র্যান্ডের সক্ষমতাকে এআই রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপ করে যথাযথ কাজে লাগানো হবে। সারাবিশ্বে এআই প্রযুক্তির সুবিধা ছড়িয়ে দিতে অত্যাধুনিক এবং গ্রাহকবান্ধব প্রযুক্তি ও অ্যাপ নিয়ে নিয়মিত গবেষণা সচল থাকবে বলেও সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।

২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে বৈশ্বিক বাজারে রেনো-১১ সিরিজ ও ফাইন্ড এনথ্রি সিরিজে এআই সুবিধার জেনারেটিভ এআই ফিচার যুক্ত করা হবে। ভবিষ্যতে ব্র্যান্ডটি ‘জেনারেটিভ এআই’ ফিচারকে বৈশ্বিক বাজারে রেনো সিরিজের নেক্সট জেনারেশন ডিভাইসে যুক্ত করবে। ফলে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্মার্ট, কার্যকর ও সুবিধাজনক জীবনযাত্রার অভিজ্ঞতা পাবে ব্যবহারকারীরা।




পটাশিয়াম কমে যাওয়ার ৮ লক্ষণ

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : আমাদের শরীরের জন্য একটি অপরিহার্য খনিজ উপাদান হচ্ছে পটাশিয়াম। শরীরে এর প্রধান ভূমিকা হলো আমাদের কোষের ভেতরে তরলের স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করা। সোডিয়াম কোষের বাইরে স্বাভাবিক তরল মাত্রা বজায় রাখে, আর পটাশিয়াম পেশীকে সংকুচিত করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে এই খনিজ। এছাড়া হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের মতো কার্ডিওভাসকুলার সমস্যার ঝুঁকি কমাতে পারে পটাশিয়াম। প্রতিদিন গড়ে ৪৭০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম প্রয়োজন হয় আমাদের। রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে ঝুঁকিতে পড়ে আমাদের স্বাস্থ্য। এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপোক্যালেমিয়া। বিভিন্ন কারণে কমে যেতে পারে এই খনিজ। শরীর থেকে অতিরিক্ত পরিমাণে তরল বেরিয়ে গেলে যেমন পটাশিয়াম ঘাটতির ঝুঁকি থাকে, তেমনি অপুষ্টি, নির্দিষ্ট ওষুধের ব্যবহার কিংবা কিডনি ব্যর্থতার মতো শারীরিক সমস্যার কারণে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম হারিয়ে ফেলতে পারে শরীর। পটাশিয়াম কমে গেলে কোন কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় জেনে নিন।

০১. অনেক রোগেরই প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে দুর্বলতা এবং ক্লান্তি। পটাশিয়ামের অভাবের লক্ষণ হিসেবেও এই ধরনের উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে। কারণ পটাশিয়াম পেশী সংকোচন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। যখন রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকে, তখন পেশী দুর্বল হয়ে যায়। ফলে ক্লান্ত লাগে।

০২. পটাশিয়াম পেশী সংকোচন করতে সাহায্য করে। রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে এই ভারসাম্য প্রভাবিত হয়। মাসল ক্র্যাম্প হতে পার এই অবস্থায়। এতে পেশীর অনিয়ন্ত্রিত এবং দীর্ঘায়িত সংকোচন ঘটতে পারে।

০৩. পটাশিয়ামের ঘাটতি পেট ফুলে যাওয়া এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যার কারণ হতে পারে। কারণ এটি পাচনতন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের চলাচলকে ধীর করে দেয়।

০৪. পটাশিয়াম হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রক্তে এর মাত্রা খুব কম হলে অনিয়মিত হার্টবিট দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাকে হার্ট অ্যারিথমিয়া বলে যা একটি গুরুতর হৃদরোগের লক্ষণ।

০৫. পটাশিয়াম ফুসফুস প্রসারিত এবং সংকুচিত করতে সাহায্য করে, তাই এর অভাবের ফলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

০৬. পটাশিয়ামের ঘাটতির কারণে স্নায়ু অসাড় হয়ে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

০৭. কিছু ক্ষেত্রে, কম পটাশিয়াম শরীরের তরল এবং ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কিডনির ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এতে প্রস্রাবের বেগ পেতে পারে ঘনঘন।

০৮. পটাশিয়াম শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন পটাশিয়ামের মাত্রা কম থাকে, তখন কিডনি শরীরে আরও সোডিয়াম ধরে রাখে, যা রক্তচাপ বাড়াতে পারে।




ভারতের উত্তর প্রদেশে মাদরাসা শিক্ষা নিষিদ্ধ করে আদালতের রায়

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে মাদরাসা শিক্ষা নিষিদ্ধ করে আদেশ দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। শুক্রবার (১৫ মার্চ) রাজ্যের এলাহাবাদ হাইকোর্ট এ রায় দেয়।

রায়ে উত্তর প্রদেশের মাদরাসা পরিচালনাকারী আইন-২০০৪ বাতিল করা হয়েছে। আদেশে বলা হয়, ‘এই আইন ভারতের সংবিধানের ধর্মনিরপেক্ষতার পরিপন্থী’। রায়ে মাদরাসায় লেখাপড়া করা শিক্ষার্থীদের প্রচলিত স্কুলগুলোতে শিক্ষাগ্রহণের জন্য পাঠানোর কথাও বলা হয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এই রায়ের ফলে আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন হিন্দু-জাতীয়বাদী সরকারের সঙ্গে দেশটির মুসলিমদের দূরত্ব তৈরি হতে পারে।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায় ২৭ লাখ শিক্ষার্থী এবং ২৫ হাজার মাদরাসার প্রায় এক লাখ শিক্ষকের জীবনে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ইফতিখার আহমেদ জাভেদ।

রায়ে বিচারপতি সুভাষ বিদ্যার্থী এবং বিবেক চৌধুরী বলেন, ‘রাজ্য সরকার এটাও নিশ্চিত করবে যে, রাজ্যের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী কোনো শিশু যেন যথাযথভাবে স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বাদ পড়ে না যায়।’

অংশুমান সিং রাঠোর নামে একজন আইনজীবীর আবেদনের ভিত্তিতে এলাহাবাদ হাইকোর্ট মাদরাসা নিষিদ্ধের এই রায় দেয়।

রাজ্য সরকার মাদরাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে নয়, বরং তারা মুসলমান শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন জানিয়ে উত্তর প্রদেশের ক্ষমতায় থাকা বিজেপির মুখপাত্র রাকেশ ত্রিপাঠী বলেন, ‘আমরা কোনো মাদরাসার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু আমরা ভেদাভেদের যে অনুশীলন চলে তার বিরুদ্ধে। আমরা অবৈধ অর্থায়নের বিরুদ্ধে এবং আদালতের নির্দেশ অনুসরণ করে রাজ্য সরকার এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ’

আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে ভারতে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। দেশটির মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশ মুসলমান। নির্বাচনী প্রচারের ডামাডোলের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশে মাদরাসা নিষিদ্ধ করা হলো।




জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৮ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট বেকার থাকছেন!

চন্দ্রদীপ ডেস্ক : দেশের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ পড়াশোনা করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে। তবে এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করা ২৮ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট তিন বছর পরও বেকার থাকছেন বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এসব কলেজ থেকে পাস করা ৪২ দশমিক ২৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বেতনে চাকরি করছেন। এছাড়া ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ আত্মকর্মসংস্থানে আছেন এবং ১৩ দশমিক ২২ শতাংশের বেশি খণ্ডকালীন কাজ করছেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বিআইডিএস এ সংক্রান্ত একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা ফেলো বদরুন নেসা আহমেদ। তিনি জানান, বিআইডিএস সম্প্রতি (২০২৩ সাল) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ওপর একটি গবেষণা পরিচালনা করেছে। ওই গবেষণায় তিন বছর আগে পাস করা শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তাদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে। তাতে দেখা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার তিন বছর পরও প্রায় ২৮ দশমিক ২৪ শতাংশ গ্র্যাজুয়েট চাকরি পাচ্ছেন না।

যে ২৮ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী বেকার, তারা কোন কোন বিষয়ে পড়েছেন, তাও দেখা হয়েছে গবেষণায়। এতে দেখা যায়, যারা বেকার থাকছেন, তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বিএ (পাস) ডিগ্রিধারী। এছাড়া রাষ্ট্রবিজ্ঞান, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা, বাংলা, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেকারের হার তুলনামূলক বেশি। বিপুলসংখ্যক নারীও বেকার থাকছেন।

দেশের উচ্চশিক্ষায় যত শিক্ষার্থী আছেন, তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় অংশ কেন এখনো চাকরির বাজারে প্রবেশ করতে পারছে না, সেটাও খোঁজা হয়েছিল গবেষণায়।

এ প্রসঙ্গে গবেষণা ফেলো বদরুন নেসা আহমেদ জানান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে যেটি জানা গেছে তার মধ্যে একটি হলো, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমে সমসাময়িক জ্ঞান ও দক্ষতার অভাব রয়েছে। যার কারণে পাস করেও অনেকেই চাকরি পাচ্ছেন না। ইংরেজি ভাষার ক্ষেত্রেও ঘাটতি আছে। বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যেসব সুবিধা পায়, তা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে। সেসব সুবিধা দেওয়া গেলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বেকারত্বের হার কমে আসবে।

‘বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকার’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রবন্ধে বদরুন নেসা আহমেদ আরও বলেন, সার্বিক বেকারত্বের হার কমিয়ে আনা গেছে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেকারত্বের হার এখনো বেশ উচ্চ হারে রয়ে গেছে। যারা বেকার রয়ে গেছেন, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যদি দেখা হয় তাহলে দেখা যাবে, ১২ শতাংশ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা পেয়েছেন। কিন্তু তারা বেকার রয়ে গেছেন। তার মানে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেও তারা চাকরির বাজারে নিজেদের সক্ষম করে গড়ে তুলতে পারেননি। যুবকদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৮ শতাংশ, যা জাতীয় বেকারত্ব হারের প্রায় দ্বিগুণ।

এই গবেষক বলেন, গত দুই দশকে (২০০৬-২৩) শিক্ষার কলেবর বেড়েছে এবং ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। সাক্ষরতার হার ৪৫ থেকে বেড়ে ৭৬ শতাংশ হয়েছে। বেকারত্বের হারও কমেছে। ঝরে পড়ার হার ৪৯ থেকে কমে ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সংখ্যাও ছিল ৯। সেখান থেকে সরকার সারা দেশে ১৬৬টি কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র করেছে।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক অর্থনীতিবিদ বিনায়ক সেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।