রোববার থেকে খুলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়, বন্ধ থাকবে প্রাক-প্রাথমিক




শিশুদের কলরবে মুখরিত পুরো চর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর কয়েকটি উপজেলা খুবই দুর্গম। যাতায়াতে দুর্গম এসব উপজেলার বেশ কিছু চর আছে, যেখানে পৌঁছানো অনেক কষ্টকর। এই অঞ্চলগুলোর শিক্ষার অবস্থা খুবই নাজুক। পড়ালেখার সুযোগ কম থাকায় শিশুরা অল্প বয়স থেকেই কাজে লেগে যায়।

মা-বাবার মতো এক সময় তারাও ঝুঁকে পড়ে কৃষি কাজ কিংবা মাছ ধরার কাজে। এসব অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষের পেশা মাছ ধরা ও কৃষি কাজ। অনেকেই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এই অবস্থায় সন্তানদের কষ্ট করে একটু দূরের স্কুলে পড়ানোর কথা ভাবতেও হয়তো ভয় পায় মানুষগুলো।

প্রকৃতির সঙ্গে নিয়মিত লড়াই করে বেঁচে থাকা এই মানুষদের কথা বিবেচনা করে গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার তিনটি অতি দুর্গম চরে স্কুল করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপ। যে শিশুরা একসময় স্কুলে যাওয়ার কথা চিন্তাও করত না, তারা এখন নিয়মিত স্কুলে যায়। তাদের কলরবে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো চর। তিনটি চরের বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে এখন তিন শতাধিক শিশু পড়াশোনা করছে।

আরো পড়ুন : দুমকীতে ২৪টি কেউটে সাপের বাচ্চা হত্যা ও মা সাপ উদ্ধার

তেঁতুলিয়া নদীর কোল ঘেঁষে গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের চর আগস্তি গ্রাম। গ্রামের বড় একটি অংশের সঙ্গে জুড়ে আছে ঘাসির চর। রাঙ্গাবালী উপজেলা ও গলাচিপা উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ায় এই অংশটি বেশ অবহেলিত বলা যায়। এখানে তিন শতাধিক পরিবারের বাস। প্রতিদিন জোয়ার-ভাটায় চরে পানি ওঠে।

চর আগস্তির এই গ্রামটি নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর। এক বছর আগেও চরটিতে কৃষকের হাঁকডাক এবং জেলেদের ডাকচিৎকার ছাডা আর কিছুই শোনা যেত না। কিন্তু এই দৃশ্যপট পরিবর্তন হয়ে গেছে ‘বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল’ প্রতিষ্ঠার পরই। বেড়িবাঁধের একটু দূরেই (পশ্চিম পাশে) নির্মাণ করা হয়েছে দক্ষিণ চর আগস্তি মুজিব কেল্লা বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। সুবজের মাঝে লাল-সাদা ভবনটি প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থীর কলরবে মুখরিত থাকে। বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মানুষ এসে ঘুরে যায় স্কুলে। দেখে যায় বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের কার্যক্রম। বিশাল এই চরে সবুজের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। পিছিয়ে পরা এই গ্রামের শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে স্কুলটি। গ্রামটির বিভিন্ন দিক থেকে ইউনিফর্ম পরে স্কুলে আসা শিক্ষার্থীদের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে এলাকার মানুষ। বিচ্ছিন্ন এই এলাকার শিক্ষার্থীরা এভাবে জামা, প্যান্ট, জুতা, ব্যাগ নিয়ে সেজেগুজে স্কুলে আসবে, এটা যেন তাদের কাছে স্বপ্ন। আর সেই স্বপ্নকে বাস্তব করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। তাইতো গ্রামের মানুষ সব সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি।

দক্ষিণ চর আগস্তি বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মাদ সাহিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মীর মো. রেজাউল ইসলাম প্রমুখ পরিদর্শন করেছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের সহায়তায় বসুন্ধরা শুভসংঘের এই উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। বসুন্ধরা গ্রুপের এমন উদ্যোগুলো আরো বিস্তৃত হোক, এটাই চেয়েছেন সবাই।

তাঁরা বলেছেন, দেশসেরা শিল্প গ্রুপ বসুন্ধরার কল্যাণে উপকৃত হচ্ছে প্রান্তিক অসহায় পরিবার ও তাদের সন্তানরা। বসুন্ধরা গ্রুপ বলেই এমন সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে। বসুন্ধরা পরিবারের জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।

দক্ষিণ চর আগস্তির ঘাসির চরের কৃষক আলকেস মৃধা বলেন, ‘আমার তিন ছেলে-মেয়ে। বড় মেয়ে বিয়ে দিছি। মাইজ্জা পোলা তৃতীয় শ্রেণিতে দূরের একটা স্কুলে পড়ে। সাড়ে চাইর বছরের একটা ছোট মাইয়া আছে। আমি এই মাইয়াডারে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলে ভর্তি করামু। বাড়ির ধারে স্কুল, এইডাই আমাগো বড় সুবিধা, যদিও একটা হাক্কা (সাঁকো) পার হইয়া আইতে হইবে। তাতেও সমেস্যা নাই। দূরের চাইয়্যা হাক্কা পারানো সহজ। আমাগো মতো গরিব মাইনসের পোলাপানরে জামা, প্যান্ট, জুতা, ব্যাগসহ লেহাপড়ার সব এমন করে কেউ দেয় নাই। একমাত্র বসুন্ধরাই দিছে। স্কুল শুরু হইলে আমি প্রায়ই আইয়া চাইয়া দেহি আমাগো গেরামের ছোট ছোট পোলাপান একই জামাকাপড়, জুতা, ব্যাগ লইয়া স্কুলে যায়, পরানডা ভইরা যায়। আমার ধারে স্বপ্নের লাহান লাগে।’

আরো পড়ুন : লবনাক্ত জমিতে কোলেস্টেরল মুক্ত তৈলের হাতছানি দিচ্ছে হাইব্রিড সূর্যমুখী

দশমিনার চরবোরহানে বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। উত্তাল তেঁতুলিয়া নদী পাড়ি দিয়ে ওপারের চরবোরহানে যেতে হয়। যোগাযোগের মাধ্যম মাত্র একটি ট্রলার। তা-ও দিনে একবার যাতায়াত করে। চরটি প্রায় চার দশক আগে জেগে উঠলেও বসতি মাত্র দুই দশক ধরে। নেই কোনো বেড়িবাঁধ। তাই জলোচ্ছ্বাস কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে লড়াই করে বাঁচতে হয় এখানকার বাসিন্দাদের। মৌলিক চাহিদা তো দূরে থাক, স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই এখানে কঠিন। চরের বেশির ভাগ পরিবার মাছ ধরা বা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাইতো পড়াশোনা তাদের কাছে স্বপ্নের মতো। পরিবারের সঙ্গে কাজ করতে ক্ষেতে বা নৌকায় মাছ ধরতে দেখা যায় সাত-আট বছরের শিশুদের। এসব দেখে এগিয়ে আসেন বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। শত প্রতিকূলতাও থামাতে পারেনি শুভসংঘ বন্ধুদের। শিশুদের জন্য বর্ণমালার বই হাতে ছুটে চলা এই উদ্যমী তরুণদের দমিয়ে রাখতে পারেনি উত্তাল নদীও। দরিদ্র পরিবারের কোমলমতি শিশুদের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের আর্থিক সহায়তায় গড়ে তুলেছেন বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুল। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এই এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে স্কুলটি। দশমিনার আলিপুর লঞ্চঘাট থেকে উত্তাল তেঁতুলিয়া নদীতে প্রায় এক ঘণ্টা পাড়ি দিতে হয়। পূর্ব পাশে ভোলা জেলা, দক্ষিণে গলাচিপা উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে চরবোরহান। তেঁতুলিয়া নদীর তীরেই জেগে ওঠা চরবোরহানের আবাসন প্রকল্প এলাকায় টিনের চালের একটি ঘরে ৮০ জন শিশু নিজেদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে অবিরত চেষ্টা চালাচ্ছে। এসব শিশুকে জামা, জুতা, ব্যাগ, শিক্ষা উপকরণ, স্কুলের অবকাঠামো, বৈদ্যুতিক পাখাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে বসুন্ধরা গ্রুপ। নতুন জামা, ব্যাগ, জুতা হাতে পেয়ে ঘ্রাণ নিচ্ছে শিশুরা। শিশুদের চোখেমুখে আনন্দের হাসি।

শিক্ষার্থী রুবাইয়ার মা লিপি বেগম বলেন, ‘আমি তো মেয়ের পড়াশোনার কথা চিন্তাই করি নাই। আমাগো ভাগ্য অনেক ভালো, বসুন্ধরা গ্রুপ আমাগো মতো গরিব মাইনসের মাইয়া-পোলার কথা চিন্তা কইররা স্কুল করছে।’

রাঙ্গাবালীর বিচ্ছিন্ন চর ইমারশনে কোনো স্কুল না থাকায় নদী পাড়ি দিয়ে স্কুলে যেতে হতো শিক্ষার্থীদের। পুরো জেলা থেকেই স্থলপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালী। এই উপজেলার একেকটি চরে যেতে পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ। সেই চরগুলো থেকে শিশুরা শিক্ষা নিতে অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে চায় না। মা-বাবারাও শিশুদের এত দূরে দিয়ে পড়ালেখা করাতে চান না। এসব কিছু বিবেচনা করে চর ইমারশনে একটি স্কুল করার সিদ্ধান্ত নেয় বসুন্ধরা শুভসংঘ। স্কুলহীন চর ইমারশন এখন বসুন্ধরা শুভসংঘ স্কুলের শিক্ষার্থীদের কলকাকলিতে মুখরিত থাকে। অভিভাবকরাও এখন নিশ্চিন্ত মনে সন্তানদের স্কুলে পাঠান।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু ২৭ এপ্রিল

 বরিশাল অফিস:: জিএসটি গুচ্ছভূক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ১ম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক (চ.দা.) মো. ফয়সাল মাহমুদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

যেখানে জিএসটি গুচ্ছভূক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার তারিখ, সময়, কেন্দ্র ও পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যেখানে ২৭ এপ্রিল (শনিবার) এ ইউনিটের পরীক্ষা বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন মোট পাঁচ হাজার ৩৩৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে তিন হাজার ৯০৭ জন ও বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এক হাজার ৪৩১ জন অংশ নেবেন।

৩ মে শুক্রবার বি ইউনিটের পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট তিন হাজার ৮৫৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন।

১০ মে শুক্রবার সি ইউনিটের পরীক্ষা বেলা ১১টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ৯৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন।

উল্লেখ্য, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষায় ছয়টি অনুষদের অধীন ২৫টি বিভাগে আসন সংখ্যা এক হাজার ৫৭০টি।




রোববার খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বন্ধ অ্যাসেম্বলি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেই আগামী রোববার (২৮ এপ্রিল) খুলছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এদিন থেকে যথারীতি চলবে ক্লাস। তবে তাপপ্রবাহ সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত অ্যাসেম্বলি বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের বাইরের কোনো কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের দিয়ে না করানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার।

এতে বলা হয়েছে, ‘পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির ধারাবাহিকতায় তাপপ্রবাহের কারণে গত ২০ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ঘোষিত ছুটি শেষ হওয়ার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে শ্রেণি কার্যক্রম চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ প্রজ্ঞাপনে চারটি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো-

২৮ এপ্রিল রোববার থেকে যথারীতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে এবং শ্রেণি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তাপপ্রবাহ সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত অ্যাসেম্বলি বন্ধ থাকবে।

শ্রেণি কার্যক্রমের যে অংশটুকু শ্রেণিকক্ষের বাইরে পরিচালিত হয়ে থাকে এবং শিক্ষার্থীদের সূর্যের সংস্পর্শে আসতে হয়, সেসব কার্যক্রম সীমিত থাকবে।

তাপপ্রবাহ এবং অন্যান্য কারণে শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকার ফলে যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ এবং নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী শিখন ফল অর্জনের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহের শনিবারও শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।

পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতর ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ শেষে গত ২১ এপ্রিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার কথা ছিল। তবে দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘ ছুটি শেষেও খোলেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ২১ এপ্রিল ছুটি বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার।

২৬ ও ২৭ এপ্রিল শুক্র ও শনিবার হওয়ায় ঈদের ছুটি শেষে আরও এক সপ্তাহ বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকায় আরও কিছুদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের দাবি জানান অভিভাবকদের একটি অংশ। কেউ কেউ অনলাইনে ক্লাস চালুর দাবিও তোলেন।তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় ২৮ এপ্রিল থেকে ক্লাস চালুর নির্দেশনা দিলো সরকার।




তীব্র গরমে প্রাথমিক-মাধ্যমিকে অনলাইনে ক্লাস চালুর চিন্তা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘ ছুটি শেষেও খোলেনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত ২১ এপ্রিল ছুটি বাড়িয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয় সরকার। ২৬ ও ২৭ এপ্রিল শুক্র ও শনিবার হওয়ায় ৭ দিন বন্ধের পর ২৮ এপ্রিল পুনরায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা।

তবে তাপপ্রবাহ না কমায় এ ছুটি বাড়ছে নাকি ২৮ এপ্রিল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। অভিভাবকদের একটি অংশ এবং অভিভাবক ঐক্য ফোরাম নামে একটি সংগঠন অনলাইনে ক্লাস চালু রাখার দাবি তুলেছে। অনেকে আবার আরও কিছুদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পক্ষে মত দিচ্ছেন।

এমন পরিস্থিতিতে কী ভাবছে শিক্ষা প্রশাসন? এমন প্রশ্নের অবশ্য সরাসরি জবাব মেলেনি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া এবং বিকল্প উপায় নিয়ে আলাপ-আলোচনা চালানোর কথা জানিয়েছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তদারককারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা।

শিক্ষা প্রশাসন বলছে, তীব্র গরমে ছুটি বাড়ানো কিংবা অনলাইনে ক্লাস নেওয়া নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তই এখনো হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী বিদেশ সফরে থাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এ নিয়ে আলোচনা করেনি। আলোচনা চললেও প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও।

তবে মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদরাসা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনলাইনে ক্লাস চালুর বিষয়ে জোর আলোচনা রয়েছে। হাফ পিরিয়ড বা স্বল্প পরিসরে ক্লাস চালু করতেও মত দিচ্ছেন অনেকে। পাশাপাশি অ্যাসাইনমেন্টসহ ঘরে বসেই শিক্ষার্থীরা করতে পারে—এমন কাজ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন তারা।

তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশু শিক্ষার্থীরা। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখা বা খোলা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) শাহ রেজওয়ান হায়াত।

তিনি বলেন, ‘ছুটি বাড়ানো, ক্লাস কমিয়ে হাফ পিরিয়ড বা স্বল্প পরিসরে নেওয়া কিংবা অনলাইনে ক্লাস চালু করা—সব বিষয় সামনে রেখেই আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। তবে কোনো সিদ্ধান্তই এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। যে সিদ্ধান্তই আসুক, তা শিক্ষার্থীদের জন্য অবশ্যই ইতিবাচক হবে। নেতিবাচক সিদ্ধান্ত সরকার নেবে না।’

অন্যদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ছুটি আর বাড়ছে না বলেই জানিয়েছেন শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তাপপ্রবাহ যদি না কমে, সেক্ষেত্রে অনলাইনে ক্লাস চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি অ্যাসাইনমেন্ট দিয়ে অ্যাকটিভ (সক্রিয়) রাখার জন্যও শিক্ষকদের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক সৈয়দ জাফর আলী  বলেন, আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিইনি। আলাপ-আলোচনা চলছে। ক্লাস একেবারে বন্ধ রাখার চেয়ে অনলাইন ক্লাস কিংবা বাড়ির কাজ (অ্যাসাইনমেন্ট) দিয়ে শিক্ষার্থীদের কীভাবে পড়ালেখার মধ্যে রাখা যায় সেটা নিয়েও চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। তবে কোনো ব্যাপারেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি।

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল কবির দুলু  বলেন, ‘আমরা অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি। সার্বিক দিক চিন্তা করেই স্কুল-কলেজ বন্ধ আর না বাড়িয়ে অনলাইনে ক্লাস চালুর কথা বলেছি। নতুন কারিকুলামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত বেশি হবে।’

শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে ঘরে বসেই যেন পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারে, সে ব্যাপারে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান অভিভাবক ঐক্য ফোরামের এ নেতা।




‘দাবি না মানা পর্যন্ত’ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজার পক্ষে বিক্ষোভ চলবে

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গণ গ্রেপ্তার এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শৃঙ্খলা ভঙের কারণে ব্যবস্থা গ্রহণের পরও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।

গত সপ্তাহ থেকে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গাজা যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এখন পর্যন্ত সেখান থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও, গত কয়েক দিনে ইয়েল এবং নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও কয়েক ডজন শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙের দায়ে ছাত্রত্ব স্থগিত বা বাতিল করার ভয়ও দেখানো হয়েছে।

ইহুদি শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। তবে কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে ইহুদিবিদ্বেষী আচরণ ও হেনেস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগও করেছেন বলে জানায় বিবিসি।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের মধ্যরাতের মধ্যে ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সময় বেঁধে দিয়ে ছিল। যে সময় আরও ৪৮ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সমঝোতায় যাওয়ার চেষ্টাও করছে।

কলম্বিয়া প্রেসিডেন্ট ড. নেমাত শফিক এর আগে সতর্ক করে বলেছিলেন, যদি কোনো চুক্তি না হয় তবে তিনি ক্যাম্পাস খালি করতে ‘বিকল্প ব্যবস্থার’ কথা ভাববেন।

বিবিসি জানায়, মঙ্গলবার বিকালেও কলম্বিয়া ক্যাম্পাস শান্ত ছিল। যদিও শতাধিক বিক্ষোভকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে তাঁবু টানিয়ে অবস্থান করছিল।

পুরো এলাকা জুড়ে ফিলিস্তিনের পতাকা উড়ছে এবং বিভিন্ন স্লোগান লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যাচ্ছে। নানা স্লোগানের মধ্যে একটি হচ্ছে ‘প্রকৃত আমেরিকানরা গাজার পাশে আছে’। আরেকটিতে লেখা ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সেনাবাহিনী সরান’, ‘গাজায় আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব নেই’, ‘স্বাধীন ফিলিস্তিন’।

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ইয়েল, এমারসন এবং ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান সহ যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে আরও বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজার পক্ষে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

 




বাড়ছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  দেশের অধিকাংশ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তাপপ্রবাহ কমার কোনো সংকেত দেয়নি আবহাওয়ার অধিদপ্তর। ফলে চলতি সপ্তাহজুড়ে বন্ধ থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ফের বাড়ছে কী না, এমন প্রশ্নে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি প্রশাসন। তাপপ্রবাহ যদি আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত এমন থাকে তাহলে অনলাইনে ক্লাস চালু রেখে সরাসরি ছুটি বন্ধ রাখা হতে পারে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তাপপ্রবাহের ছুটি আগামী শনিবার (২৭ এপ্রিল) শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ অবস্থায় সিলেবাস শেষ করতে মাধ্যমিকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি না বাড়িয়ে অনলাইন ক্লাস চালুর চিন্তা করছে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। আর প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ছুটি বাড়ছে নাকি ক্লাস কমিয়ে রোববার থেকে খুলছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

যদিও শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ছুটি না বাড়িয়ে অনলাইন ক্লাস চালুর চিন্তা রয়েছে। সেক্ষেত্রে দুয়েকদিনের মধ্যে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্তারা বৈঠকে বসে সিদ্ধান্ত নেবেন।

জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক সৈয়দ জাফর আলী বলেন, তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে ক্লাস বন্ধ না রেখে অনলাইন কিংবা অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে কীভাবে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ভেতর রাখা যায়, সেই চিন্তা চলছে। তবে অনলাইন ক্লাসের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, আগামী রোববার থেকে ক্লাস খুলছে নাকি ছুটি বাড়ছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী শুক্রবার (২৬ এপ্রিল) এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। যদি তাপপ্রবাহ না কমে তবে অনলাইন ক্লাস চালুর ভাবনা রয়েছে।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে আগের মতো ছুটি চান না অভিভাবকদের সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। ফোরামের সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, আগামী ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও দেশের বিভিন্ন জেলায় অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বহমান রয়েছে। এসব এলাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও এক সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। কিন্তু ছুটি বাড়ালে সিলেবাস শেষ করতে সমস্যায় পড়তে হবে। এ অবস্থায় একেবারে ছুটি না দিয়ে অনলাইনে ক্লাস বা বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছর সাপ্তাহিক ছুটিসহ অন্যান্য ছুটি বাদে ১৮০ দিনের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা থাকার কথা। এর মধ্যে তাপপ্রবাহের কারণে অনির্ধারিতভাবে পাঁচ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এই ছুটি দীর্ঘায়িত হলে সিলেবাস শেষ করা অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে। এসব চিন্তা করেই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে।

সারা দেশের আবহাওয়া আগামী পাঁচদিনে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে বুধবার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এতে বলা হয়, বিরাজমান তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে অস্বস্তি বাড়বে।




নতুন কারিকুলাম : এসএসসিতে থাকছে ৫০ শতাংশ লিখিত পরীক্ষা, সময় ৫ ঘণ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নতুন কারিকুলামে প্রথমবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২০২৫ সালে। এ পরীক্ষার নাম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি কেমন হবে, তা ঠিক করতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটির সদস্যরা এ পরীক্ষার নাম ‘মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি)’ রাখার পক্ষে মতামত দিয়েছেন।

একই সঙ্গে ৫০ শতাংশ লিখিত পরীক্ষা রাখাসহ কয়েকটি সুপারিশের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—লিখিত মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ, আর কার্যক্রমভিত্তিক মূল্যায়ন হবে ৫০ শতাংশ। ১০ বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে। পরীক্ষা হবে পাঁচ ঘণ্টার।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম  বলেন, ‘মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে এনসিটিবিরও একটি কমিটি ছিল। সেই কমিটি একটি সুপারিশ মন্ত্রণালয়ের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির কাছে জমা দিয়েছে। এগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়। আরও পর্যালোচনা করে সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে।’

পরীক্ষার সময় ঠিক কত ঘণ্টা হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ অংশে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, লিখিত ও কার্যক্রমভিত্তিক মূল্যায়ন মিলিয়ে মোট সময় হবে পাঁচ ঘণ্টা। এরমধ্যে লিখিত অংশের সময় কত ও কার্যক্রমভিত্তিক অংশের জন্য সময় কত হবে, তা বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন কারিকুলামে পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন পদ্ধতির কিছু সুপারিশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনটি শিগগির চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে।

 




প্রচণ্ড দাবদাহে ১৫০ কিমি হেঁটে কুয়াকাটায় তারা ৩ জন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: প্রেসিডেন্ট রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জনের লক্ষ্যে প্রচণ্ড দাবদাহে ১৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা গেল রোভার স্কাউটের তিন সদস্য।

সোমবার দিবাগত রাত ১০টায় রোভার স্কাউটের তিন সদস্য- অনিক কুমার সাহা, মো. অমিত হাসান ও মাসরাফি কুয়াকাটার খানাবাদ ডিগ্রি কলেজে গিয়ে পৌঁছায়।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ‘প্লাস্টিক দূষণ সমাধানে, শামিল হই একসঙ্গে’, ‘মাদক পরিহার করি, সুস্থ জীবন গড়ি’, ‘ট্রাফিক আইন মানব, নিরাপদ জীবন গড়ব’- এসব স্লোগানকে সামনে রেখে রোভার স্কাউটের এই তিন সদস্য গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক থেকে তারা যাত্রা শুরু করেন।

আরো পড়ুন : পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের বর্জ্যে নষ্ট হচ্ছে সৈকতের পরিবেশ

ওই তিন রোভার স্কাউট সদস্যদের মধ্যে অনিক কুমার সাহা গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী। এছাড়া অমিত হাসান ও মাসরাফি কোটালীপাড়ার শেখ লুৎফর রহমান আদর্শ সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের লেখাপড়া করছেন।

যাত্রাপথে তারা বিভিন্ন শিক্ষা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে স্থানীয়দের বিদ্যুৎ অপচয় কমাতে সচেতনতা, দুর্নীতি রোধ, প্লাস্টিক বর্জন, জলবায়ু রক্ষা, পলিথিনের বিকল্প ব্যবহার বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণায় অংশ নেন।

রোভার টিমের সদস্য অমিত হাসান জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে দরকার স্মার্ট নাগরিক; কিন্তু বর্তমান যুবসমাজ নেশাসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে গেছে। নিজেদের স্মার্ট নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ও দক্ষ জনবল তৈরিতে স্কাউট তথা রোভারিংয়ের বিকল্প নেই।




তীব্র তাপদাহের কারণে ববি’র ক্লাশ হবে অনলাইনে

বরিশাল অফিস: : তীব্র তাপদাহের কারণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সোমবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইন ক্লাস হবে। তবে সশরীরে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

সোমবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সারাদেশের উপর দিয়ে যে তীব্র তাপদাহ প্রবাহিত হচ্ছে তার প্রভাবে হিট স্ট্রোকসহ নানাবিধ স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস সোমবার থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনলাইনে অনুষ্ঠিত হবে। উক্তসময়ে অনুষ্ঠিতব্য সকল পরীক্ষাসমূহ সশরীরে উপস্থিত হয়ে যথারীতি চলমান থাকবে।

তিনি আরও বলেন, গত ২১ এপ্রিল বিকেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরী সভায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। একইসাথে শিক্ষার্থীদের হল অথবা বাসায় থাকাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ প্রদান করে ২১ এপ্রিল বিকেলে বিজ্ঞাপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল দাপ্তরিক কাজ যথারীতি চলমান থাকবে।