কর্মবিরতিতে অচল ঢাবি, অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পেনশন স্কিম নিয়ে বড়-ছোট দ্বন্দ্বে সংঘর্ষে,তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশাল অফিস :: সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির ‘প্রত্যয়’ স্কিম প্রত্যাহারের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) চলমান আন্দোলন কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে বড়-ছোট দ্বন্দ্বে দুই গ্রুপ কর্মকর্তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা, মারামারির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ জুলাই) দুপুরে প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন এলাকায় এ সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে বরিশালের সুশীল সমাজ ও অবিভাবকদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তারা বলেছেন, কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীন আচরণ ও অযোগ্যতার প্রমাণ এগুলো।  এই অনাকাঙ্খিত ঘটনার বিচারের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিকালে রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শফিউল আলমকে আহ্বায়ক ও রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. খোরশেদ আলম ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজ আলম। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রার বরাবর প্রেরণের জন্য বলা হয়।

ববিতে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের একপক্ষ সরাসরি কর্মকর্তা এবং অন্যপক্ষ ধীরে ধীরে প্রমোশন পেয়ে কর্মকর্তা হয়েছেন। যে কারণে প্রথম পক্ষের কর্মকর্তারা ডিরেক্ট অফিসার্স এসোসিয়েশন তৈরি করে দ্বিতীয় পক্ষের থেকে নিজেদের পৃথক ও বড় দেখাতে চান বলে অভিযোগ দ্বিতীয় পক্ষ অফিসার্স এসোসিয়েশন কর্মকর্তাদের। তারা উভয়েই সার্বজনীন পেনশন স্কিম প্রত্যয় প্রত্যাহারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছিলেন। ২ জুলাই মঙ্গল দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের কর্মকর্তারা প্রথমে বাকবিতন্ডা এবং পরে মারামারিতে জড়িয়ে পরেন বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে। এ সময় উভয় গ্রুপের ১০ জন কমবেশী আহত হয়েছেন । তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে ।

হাসপাতালে ভর্তিকৃতরা হলেন : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডা. তানজিম হাসান, সহকারী রেজিস্ট্রার তৌফিকুল ইসলাম রাহাত, সেকশন অফিসার মাহমুদুল হাসান, মিজানুর রহমান ও আবু সায়েম। অন্যদিকে ডিরেক্ট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও পরিকল্পনা দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর আবু হাসান, প্রকৌশল দপ্তরের উপপ্রধান প্রকৌশলী মুরশীদ আবেদীন, অর্থদপ্তরের ডেপুটি একাউন্টস অফিসার ইকবাল মিয়া এবং সহকারী রেজিস্টার আনোয়ার সাদাত  হাসপাতালে ভর্তি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের নীচতলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশন ব্যানার টানিয়ে কর্মবিরতি পালন করছিল। কিছু সময়ের পর ওই স্থানে ডিরেক্ট অফিসার্স এসোসিয়েশন লেখা ব্যানার নিয়ে তা ঝোলাতে আরেকটি গ্রুপ সেখানে অবস্থান নিতে চায়। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বাগবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে দুই গ্রুপ মারামারিতে জড়িয়ে পরেন। পরবর্তীতে শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং পুলিশ এসে তাদের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

এ বিষয়ে ডিরেক্ট অফিসার্স এসোসিয়েশনের ব্যানারের সভাপতি ও ববির অর্থ ও হিসাব বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক সুব্রত কুমার বাহাদুর জানান, গতকাল সোমবারও আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কর্মবিরতি পালন করেছি। আজও তাই একইভাবে কর্মবিরতি পালন করতে প্রশাসনিক ভবন (১ম) এর নীচতলায় ব্যানার নিয়ে যাই। এ সময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের নেতারা ওই ব্যানার ছিড়ে ফেলে বাগবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে আরো একটি ব্যানার আনা হয়। সেই ব্যানারও তারা কেড়ে নিয়ে যায়। এরপর চেয়ার নিয়ে তারা আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলায় আমাদের ছয় কর্মকর্তা আহত হয়েছে বলে জানান ডিরেক্ট অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের সংগঠনের রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে একটি সংগঠন যে কোন কারনে গড়ে উঠতে পারে। বৈধ অবৈধ বলতে কোন সংগঠন নেই। যারা সরাসরি কর্মকর্তা পদে রয়েছেন তাদের নিয়েই মুলত এ সংগঠন গড়ে উঠেছে। আর যারা ছোট পদ থেকে কর্মকর্তা হয়েছেন তারা রয়েছেন অপর গ্রুপে। এখানে তাদের মধ্যে আমাদের ব্যবধানটা অনেক বড়। এ কারনেই পৃথক সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেছেন সুব্রত কুমার বাহাদুর।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি এবং ববির ডেপুটি রেজিস্ট্রার বাহাউদ্দিন গোলাপ  জানান, তাদের সংগঠনটি বৈধ সংগঠন। সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন রয়েছে এবং তিনি অফিসার্সদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সভাপতি হয়েছেন। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকেই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা ৪টি সংগঠন বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখছে। হঠাৎ করে রাতারাতি একটি ব্যানার নিয়ে আরেকটি সংগঠন গড়ে উঠেছে। এ সংগঠনটি গড়ে ওঠার মূল কারণ তারা পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আড় চোখে দেখছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট একজন কর্মচারীও অনার্স-মাস্টার্স পাশ। সেখানে সে ছোট পদে চাকরি নিয়ে তার কর্মক্ষেত্রে ধাপে ধাপে কর্মকর্তা হচ্ছেন। সেখানে তাদের নিয়ে কটাক্ষ এবং নতুন সংগঠন গড়ে তোলা সমোচিত হয়নি বলে জানান বাহাউদ্দীন গোলাপ।

হামলার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা গতকালও আমাদের সাথেই কর্মবিরতিতে অংশ নিয়েছেন। আজও কর্মবিরতি পালন করছিলেন। আকস্মিক তারা সংগঠনের নামে ব্যানার নিয়ে এসে প্রশাসনিক ভবনের নীচতলায় অবস্থান নেয়। এ সময় তাদেরকে অন্যত্র সরে যেতে বললে তারা তাদের অবস্থানে অনঢ় থাকেন। এ নিয়ে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে ওই সংগঠনের কর্মকর্তারা চেয়ার নিয়ে আমাদের কর্মকর্তাদের উপর হামলা চালায়। হামলা প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। এতে আমাদের পক্ষের ৪ জন আহত হয়েছে। এ ঘটনার বিচার দাবি করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাপ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন সয়ং বন্দর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.আর. মুকুল জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। কর্মকর্তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। তাৎক্ষনিক প্রক্টর, শিক্ষক এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। বিষয়টি তাদের অভ্যন্তরীণ, এ কারনে এ ব্যাপারে পুলিশ কোন হস্তক্ষেপ করবে না। তবে প্রক্টর জানিয়েছে যাতে এ ধরনের ঘটনার আর পুনরাবৃত্তি না হয় সে জন্য পদক্ষেপ নেবেন।

বিষটি নিয়ে বিব্রত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কোনো বক্তব্য দিতে রাজী হননি তবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল কাইউম জানিয়েছেন, হাতাহাতির আকস্মিকতায় আমিও হতভম্ব হয়েছি। তাৎক্ষনিক পরিস্থিতি শান্ত করা হয়েছে। এতে কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। তবে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে তার জন্য উভয় গ্রুপকে নিয়ে বৈঠক করা হবে।

এ দিকে এ বিষয়টি বরিশালে এখন মুখরোচক গল্পে পরিণত হয়েছে। শিক্ষক কর্মকর্তাদের এমন আচরণ হলে এদের কাছে কি শিখবেন শিক্ষার্থীরা? শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে এমন প্রশ্ন রেখেছেন বরিশালের সুশীল সমাজ ও অবিভাবকদের অনেকেই।

বরিশালের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও নগর চিন্তাবিদদের একজন কাজী মিজানুর রহমান বলেন, একটা দাবী আদায়ের জন্য আন্দোলন করছেন সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের কর্মকর্তারা। তারা সেখানে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। কিন্তু কে ছোট কে বড় দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তারা নিজেদের অযোগ্যতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন। আমিতো মনে করি এদের কারোই নেতৃত্ব দেয়ার কোনো যোগ্যতাই নেই বলে জানান কাজী মিজান।

অন্যদিকে নগরীর ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের বাসিন্দা ববির বিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষার্থী আহনাফ এর বাবা আলতাফ পারভেজ বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে শোনার পর থেকেই আমাদের লজ্জা লাগছে। কারণ, এখানে আমাদের সন্তানরা পড়ছে। ওরা তাহলে কি শিখবে। তিনি আরো বলেন, আমিতো মনে করি রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত বলেই এগুলো ঘটছে।

পুরো বিষয়টি বরিশালের শিক্ষার পরিবেশে প্রভাব ফেলবে বলে জানান এই অবিভাবক। এদিকে এ বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও ফেসবুক জুড়ে তুমুল নিন্দা ও বাকবিতন্ডা অব্যাহত রয়েছে।




আজও বৃষ্টির শঙ্কা, বিশেষ সুবিধা পাবেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা




ববি’তে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

বরিশাল অফিস :: সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে সোমবার সকাল থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে ববি’র শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দরা।

বৈষম্যমূলক ও মর্যাদাহানিকর প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভূক্তি প্রত্যাহার, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তন, প্রতিশ্রুতি সুপারগ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভূক্তির দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি পালন করা হবে বলেও নেতৃবৃন্দরা উল্লেখ করেছেন। ববি’র শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ড. তারেক মাহমুদ আবীর এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, অর্থমন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবীতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সোমবার থেকে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এই সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের সকল ক্লাস ও সকল পরীক্ষা (অনলাইন কিংবা অফলাইন) বন্ধ থাকবে। বিভাগীয় চেয়ারম্যান অফিসিয়াল কার্যক্রম, সভা, সেমিনার, ল্যাব বন্ধ রাখবেন। অ্যাকাডেমিক কমিটির সভা, প্রশ্নপত্র সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে না। অনুষদের ডিন অফিস, ভর্তি পরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। নবীন বরণ অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না। কোনো সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে না। বিভিন্ন গবেষণাধর্মী সেন্টারে কোন সেমিনার, কনফারেন্স ও ওয়ার্কশপের কর্মসূচি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা হবে। বিভিন্ন হলের অফিসিয়াল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে ও প্রধান প্রন্থাগারিক কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বন্ধ রাখবেন।

উল্লেখ্য, একই দাবিতে ইতঃপূর্বে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গত পাঁচদিন ধরে অর্ধদিবস ও পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করে আসছিলেন শিক্ষকরা। আন্দোলনকারীরা সুপার গ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনে দাবি করেন।




সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা




আজ থেকে ববিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

বরিশাল অফিস :: সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে আজ থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

বৈষম্যমূলক ও মর্যাদাহানিকর প্রত্যয় স্কিম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভূক্তি প্রত্যাহার, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র বেতনস্কেল প্রবর্তন, প্রতিশ্রুত সুপারগ্রেডে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অন্তর্ভূক্তির দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালিত হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

রোববার (৩০ জুন) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক ড. তারেক মাহমুদ আবীর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবীতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি সোমবার (১ জুলাই) থেকে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এই সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের সকল ক্লাস ও সকল পরীক্ষা (অনলাইন + অফলাইন) বন্ধ থাকবে।
বিভাগীয় চেয়ারম্যান অফিসিয়াল কার্যক্রম, সভা, সেমিনার, ল্যাব বন্ধ রাখবেন
অ্যাকাডেমিক কমিটির সভা, প্রশ্নপত্র সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে না
অনুষদের ডিন অফিস, ভর্তি পরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ থাকবে
নবীন বরণ অনুষ্ঠানের কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না
কোনো সিলেকশন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হবে না
বিভিন্ন গবেষণাধর্মী সেন্টারে কোন সেমিনার, কনফারেন্স ও ওয়ার্কশপের কর্মসূচি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবেন
বিভিন্ন হলের অফিসিয়াল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে
প্রধান গ্রন্থাগারিক কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি বন্ধ রাখবেন।

গত ২০ মে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক প্রজ্ঞাপন’ প্রত্যাহার এবং পূর্বের পেনশন স্কিম চালু রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন।

তারই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে গত ২৬ জুন বেলা সাড়ে ১১টায় একযোগে মানববন্ধন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এরপর ২৮ মে দুই ঘণ্টা এবং ২৫-২৭ জুন তিনদিন সারা দেশে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়।

এছাড়া ৩০ জুন পূর্ণ কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে।




পটুয়াখালীতে এইচএসসি পরীক্ষায় ১৭২ জন অনুপস্থিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারীতে ২৪টি কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপুর্ন পরিবেশে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১ম দিনে বাংলা বিষয়ে এইচএসসি পরীক্ষার ১৭২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

রবিবার (৩০ জুন) এইচএসসি পরীক্ষায় পটুয়াখালী জেলায় ২৪টি কেন্দ্রে ১০হাজার ছয়শত ৮৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১১ হাজার আটজন অংশগ্রহণ করেন। এতে ১৭২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে বলে জেলার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ নিশ্চিত করেছে এবং পটুয়াখালী সরকারী কলেজ কেন্দ্রে একজন ছাত্রী বহিষ্কার হয়েছে।

আরো পড়ুন : দশমিনায় স্বামীর টাকা আত্মসাতের মামলায় জামিন পাওয়া স্ত্রীকে আদালত চত্বরে মারধর

উক্ত সূত্রে জানা গেছে, জেলার আটটি উপজেলায় ২৪টি কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় ১০ হাজার ছয়শত আটজন ছাত্র- ছাত্রী অংশগ্রহণ করার কথা থাকলেও অংশ নিয়েছেন ১০ হাজার ৪৩৬ জন। ১৭২ জন অনুপস্থিত রয়েছে। যা গতবছরের চেয়ে ৯১ জন বেশী অনুপস্থিত রয়েছে। পটুয়াখালী সদর উপজেলায় পাঁচটি কেন্দ্রে ২৭৫৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত ৪২ জন, বাউফল উপজেলায় ছয়টি কেন্দ্রে ২৬০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিত রয়েছে ৪৩ জন, গলাচিপা উপজেলায় তিনটি কেন্দ্রে ১৪৪২ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ২২ জন , কলাপাড়া উপজেলায় পাঁচটি কেন্দ্রে ১১৫২ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ২৪ জন, মির্জাগঞ্জ উপজোয় একটি কেন্দ্রে ৮০৫ জনের মধ্য অনুপস্থিত ৯ জন, দশমিনা উপজেলায় একটি কেন্দ্রে ৫৯৫ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ১৩ জন, দুমকি উপজেলায় দুইটি কেন্দ্রে ৭৬৭ জনের মধ্যে অনুপস্থিত ৭ জন ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় একটি কেন্দ্রে ৪৯৩ জনের মধ্যে ১৩ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত রয়েছে।

আরো পড়ুন :পটুয়াখালী সদরসহ ১৩ টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচিতদের শপথ গ্রহন

এইচএসসি পরীক্ষা নকল মুক্ত সুষ্ঠ ও শান্তিপুর্নভাবে সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলম এর নেতৃত্বে একটিসহ পাঁচটি ভিজিলেন্স টিম গঠনসহ প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে বলে উক্ত সূত্রে জানাগেছে ।




অনির্দিষ্টকালের জন্য ঢাবির সব পরীক্ষা স্থগিত




রাঙ্গাবালিতে সাইক্লোন শেল্টারের দেড় বছরের কাজ শেষ হয়নি ৪ বছরেও

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বিচ্ছিন্ন উপজেলা রাঙ্গাবালীতে দুর্যোগ মোকাবেলায় সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের কাজ চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রকল্প নির্মাণ শুরুর ১৮ মাসে কাজ হস্তান্তরের কথা থাকলেও ঠিকাদারের গাফিলতি আর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবহেলায় চার বছর পার হলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি।

এ ছাড়া সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মাণে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ। উপজেলার কাজীরহাওলা মোহসেনিয়া দাখিল মাদরাসা কাম সাইক্লোন শেল্টারের চিত্র এমন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৩ কোটি ৯৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা প্রকল্প ব্যয়ে ১৮ মাসের মেয়াদে সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স। কাগজে কলমে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুচ অ্যান্ড ব্রাদার্স হলেও তাদের কাছ থেকে নিয়ে চুক্তিতে কাজ করছেন মাঈদুল ইসলাম শাওন নামের আরেক ঠিকাদার। এ নিয়ে স্থানীয়রা শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল। কাজিরহাওলার বাসিন্দারা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আর কাজের মানের আপত্তি জানাতে কয়েকবার পটুয়াখালী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে যান। কিন্তু তদারকি প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

কাজীরহাওলা মোহসেনিয়া দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেন্ড আব্দুল বারেক বলেন, ঠিকাদার কাজ দেরিতে শুরু করেছে। এজন্য কাজ শেষ করতেও দেরি হচ্ছে। আমরা এখনো জরাজীর্ণ টিনশেডেই ক্লাস করাচ্ছি।

আরো পড়ুন : কুয়াকাটায় প্রকাশ্যে মাছ শিকার ও বিক্রি নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য

মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমির হোসেন মল্লিক বলেন, মাদ্রাসার নির্মাণ কাজ এখনো চলছে। আমরা ভবন বুঝে পেলে শিক্ষার্থীদের সুবিধা হবে। পাশাপাশি যেহেতু এটি একটি সাইক্লোন শেল্টার। ঝড়-বন্যায় নিরাপদ একটি আশ্রয় হবে আমাদের।

নির্মাণ কাজে বিলম্ব হওয়ার প্রশ্নে মাঈদুল ইসলাম শাওন বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রকল্প হওয়ায় প্রকল্পটিতে পুরাতন রেট ধরা হয়েছে। বর্তমানে রড, সিমেন্টের দাম বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়েছে পরিবহন খরচ। শ্রমিক মজুরিও বেড়েছে। যে কারণে নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়নে বেগ পেতে হয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি কাজ শেষ করে হস্তান্তর করার।

পটুয়াখালী শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোশফিকুর রহমান বলেন, নির্মাণ স্থান রিমোট এলাকায় হওয়ায় একটু সমস্যা হতে পারে। তবুও চেষ্টা করছি প্রকল্পটি হস্তান্তরের জন্য। ভবনের ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ। আশা করছি দুই মাস পরেই হস্তান্তর করবে।

ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, কিছুদিনের মধ্যে আমরা ভবন পরিদর্শনে যাব। যদি কোনো অনিয়ম ধরা পরে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




বরিশালে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক

বরিশাল অফিস :: সারাদেশে শুরু হয়েছে এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি/ভোকেশনাল) পরীক্ষা। রবিবার ( ৩০ জুন) সকাল ১০টা বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শওকত আলী ও বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম জেলার মহানগরীর বেশ কয়েকটি এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

শুরুতে বরিশাল সিটি কলেজ, সরকারি বরিশাল কলেজ এবং সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন স্ব স্ব কলেজ অধ্যক্ষ বৃন্দ, দায়িত্বরত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণ ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের কক্ষ পরিদর্শন করেন।

এ বার বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ৬ জেলার ৩‘শ ৪১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬৬ হাজার ৫৬২ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। এবারে এই বোর্ডের ১৩৭টি কেন্দ্রে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ৫৬ হাজার ৭৭০ জন, জিপিএ উন্নয়ন পরীক্ষার্থী ২৭৯, প্রাইভেট পরীক্ষার্থী ১ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ৯ হাজার ৫১২ জন।

এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ১৪ হাজার ৫৩৬ জন, মানবিক বিভাগে ৪৪ হাজার ৫ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মোট পরীক্ষার্থী ৮ হাজার ২১ জন। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৩২ হাজার ১০৭ জন এবং ছাত্রী ৩৪ হাজার ৪৫৫ জন।

সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর ১টায় শেষ হয়। ৩০ জুন শুরু হয়ে এবারের ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ব্যবহারিক পরীক্ষা ১২ আগস্ট শুরু হয়ে ২১ আগস্ট শেষ হবে।