আদালতে কাঁদলেন দীপু মনি, ফাঁসির দাবিতে স্লোগান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আওয়ামী লীগ টানা চার দফায় ক্ষমতায় থাকাকালে তিন বারই ছিলেন মন্ত্রী। দলেরও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সদ্য সাবেক সরকারের সমাজ কল্যাণ মন্ত্রী দীপু মনি এবার গ্রেফতার হয়েছেন একটি হত্যা মামলায়। আদালত তার চার দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করেছে। রিমান্ড আবেদনের শুনানিকালে তিনি আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তার ফাঁসির দাবিতে স্লোগান দেন। এতে আরও ভেঙে পড়েন সাবেক প্রভাবশালী এই মন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বিকেলে ডা. দীপু মনি এবং সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরিফ খান জয়ের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালতে।

ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নিহত মুদি দোকানি আবু সায়েদকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় দীপু মনির চার দিনের এবং আরিফ খান জয়ের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক তোফাজ্জল হোসেন আওয়ামী লীগের এই দুই নেতার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানির জন্য তাদের আদালতে তোলা হয়। বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটের দিকে দীপু মনি ও আরিফ খান জয়কে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। এরপর তাদের আদালতের গারদখানায় রাখা হয়। গারদখানা থেকে সিএমএম আদালতের দুই তলায় ২৮নং কোর্টে আনা হয়। এসময় দীপু মনি কাঁদছিলেন। তবে জয় ছিলেন চুপচাপ। এসময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা তাদের ফাঁসি চেয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

আদালতে শুনানিকালেও দীপু মনির কান্না থামেনি। এসময় জয় কিছু বলতে চান। তবে আদালত কথা বলার অনুমতি দেননি।

রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, ‘ভিকটিমকে হত্যার ঘটনার বিষয়ে এ দুই আসামি জ্ঞাত আছেন মর্মে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। মামলার ভিকটিমকে হত্যায় হুকুমদাতা, উসকানিদাতাদের নামসহ মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাপর আসামির নাম ঠিকানা সংগ্রহ করার জন্য তাদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন। মামলার সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবং মামলার মূল রহস্য উৎঘাটন, এজাহারে বর্ণিত সহিংস ঘটনার বিষয়ে এবং মামলার ভিকটিমকে হত্যাকারী, হত্যার হুকুম দানকারী, উসকানিদানকারী ব্যক্তি ও ব্যক্তিদের নাম ও ওই ঘটনায় সরাসরি জড়িত আসামিদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ এবং গ্রেফতারের নিমিত্তে ডা. দীপু মনি (৫১) এবং আরিফ খান জয়কে (৫৩) দশ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আদেশদানে আদালতের সদয় মর্জি হয়।’

এর আগে গতকাল সোমবার রাতে রাজধানীর বারিধারা থেকে ডা. দীপু মনিকে গ্রেফতার করা হয়। অন্যদিকে ধানমন্ডি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় আরিফ খান জয়কে।




এইচএসসির বাকি পরীক্ষা বাতিল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চলমান এইচএসসি ও সমমানের বাকি বিষয়গুলোর পরীক্ষা বাতিল করে অটোপাসের দাবি মেনে নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আব্দুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অবশ্য এ বিষয়ে এখনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি মন্ত্রণালয়।

এদিন পরীক্ষার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সভাপতিত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের বাকি বিষয়গুলোর পরীক্ষা অর্ধেক প্রশ্নোত্তরে অনুষ্ঠিত হবে। পুনরায় পরীক্ষা শুরুর তারিখ ১১ সেপ্টেম্বর থেকে আরও দুই সপ্তাহ পেছাবে।

তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বাকি বিষয়গুলোর পরীক্ষা বাতিল করে অটোপাসের দাবি মেনে নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর আগে, পরীক্ষা বাতিলের এক দফা দাবিতে বিকেলে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভেতরে ঢুকে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এসময় তারা ‘আমাদের দাবি একটাই-পরীক্ষা বাতিল চাই’, ‘দাবি মোদের একটাই-পরীক্ষা বাতিল চাই’, ‘আপস না সংগ্রাম-সংগ্রাম-সংগ্রাম’, ‘পরীক্ষা না বিকল্প, বিকল্প-বিকল্প’, ‘যুক্তি দিয়ে আন্দোলন-বন্ধ করা যাবে না’, ‘চলছে লড়াই-চলবে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।

সকাল থেকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হন পরীক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে দুপুরের দিকে তারা সচিবালয়ে ঢুকে পড়েন।

পরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান এবং আলোচনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রবেশ করেন। সে সময় বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশ্বাস দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।




এইচএসসির বাকি পরীক্ষা হবে ‘অর্ধেক প্রশ্নপত্রে’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার স্থগিত বিষয়গুলোতে অর্ধেক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা আরও দুই সপ্তাহ বা তার চেয়ে বেশি সময় পিছিয়ে নতুন সময়সূচি (রুটিন) প্রকাশ করা হবে।

মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের সভাপাতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

সভা শেষে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আগের যদি একটি বিষয়ে ৮টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো সেখানে এখানে চারটি প্রশ্নের উত্তর দিলেই হবে। তবে পরীক্ষার সময় পূর্ণ সময়েই থাকছে।



পদত্যাগ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও প্রক্টর

বরিশাল অফিস :: পদত্যাগ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া ও প্রক্টর ড. মো. আব্দুল কাইউম।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বেলা ১২টার সময় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ সচিব বরাবর এ পদত্যাগ পত্র জমা দেন তারা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্টার মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

রেজিস্ট্রার মো মনিরুল ইসলাম বলেন, ভিসি বদরুজামান ভূঁইয়া ও প্রক্টর আবদুল কাইউমসহ প্রক্টোরিয়াল বডির ছয় সদস্য পদত্যাগ করেছেন।

ব্যক্তিগত কারণে দেখিয়ে ১৯ জন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন বলে পত্রে উল্লেখ করেছেন।

পদত্যাগকারী অন্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন চার হলের প্রভোস্ট, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, শারীরিক শিক্ষার পরিচালক, টিএসসির পরিচালক, ছাত্র-পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক ও লাইব্রেরিয়ান।

এদিকে ববি উপাচার্যের পদত্যাগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভক্ত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচ তলায় বেলা ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা দুই পক্ষে বিভক্ত হয়ে বিক্ষোভ করেন।

গত ৪ মার্চ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার থেকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া।




এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে ঢুকে পড়লো হাজারো শিক্ষার্থী

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে ঢুকে পড়েছেন প্রায় হাজার খানেক শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকাল থেকে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে জড়ো হন তারা। দাবি আদায়ে দুপুরের দিকে তারা সচিবালয়ে ঢুকে পড়েন।

এসময় শিক্ষার্থীরা শ্লোগান দিতে থাকেন। পরে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দশ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর একটি স্মারকলিপি এবং আলোচনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যান।

এদিকে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশ্বাস দেন বৈষম্যবিরোধী কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, দেড় মাসের পরীক্ষা আমরা কয়েক মাস ধরে ঝুলে আছি। তারা আমাদেরকে কয়েকদিন আগেও জানিয়েছিল সেপ্টেম্বরের ১১ তারিখে পরীক্ষা হবে। তাহলে আরও এক মাস লাগবে পরীক্ষার জন্য। এরপর একমাসব্যাপী পরীক্ষা হবে। এত সময় নিলে আমাদের ফলাফল প্রকাশ করবে কখন? আর আমরা ভর্তি হব কবে?

তারা আরও বলেন, একটা বোর্ড পরীক্ষা কিভাবে ৬-৭ মাস পর্যন্ত ঝুলে থাকে? সেজন্য আমরা এটা মানি না। আমরা চাই যেসব পরীক্ষা হয়েছে সে অনুযায়ী পরীক্ষার ফলাফল দেওয়া হোক। দাবি না মানলে আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।




বাতিল হতে পারে এইচএসসির রুটিন, আসতে পারে অটো পাসের সিদ্ধান্ত




দীপু মনি গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল।

জানা গেছে, চাঁদপুরের একটি মামলায় দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে।

গত ১৮ জুলাই চাঁদপুর জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও তার বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জুলাই রাত ৮টায় সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও তার বড় ভাই ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপুর প্রত্যক্ষ নির্দেশে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিকের জেএম সেনগুপ্ত রোডের মনিরা ভবন নামে বাড়িতে ১০০০ থেকে ১২০০ লোক দলবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর করে। পরে তারা ওই ভবনে আগুন দিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

ডা. দীপু মনি চাঁদপুর-৩ আসন থেকে টানা চারবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে সেই সরকারের মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন ডা. দীপু মনি। দশম সংসদ নির্বাচনের পর তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর তিনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। সবশেষ দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী ছিলেন তিনি।




ববিতে ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের ফি বাতিল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::শিক্ষার্থীদের ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের ফি বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের উপ-পরিচালক মো. ফয়সল মাহমুদ পাঠানো ই-মেইল বার্তায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই অফিস আদেশে জানানো হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া গত ১৭ আগস্ট থেকে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন।

এরমধ্যে শিক্ষার্থীদের ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের ফি বাতিল করা; তিন কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর সরবরাহ করা; পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসে জনবল সংকট নিরসনে চার জন কর্মকর্তাকে প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা; উন্নতমানের সনদ ছাপানো; ১৭ আগস্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসকে মাদকমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে ঘোষণা করা এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এই দাবিগুলোসহ অন্যান্য দাবি শিগগিরই পূরণের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।




ক্ষমা চেয়েও পার পাচ্ছেন না বিতর্কিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) উপাচার্য হিসেবে যোগদানের ৬ মাসের মাথায় একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভুইয়া। যোগদানের পর চেয়ে চেয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা নেওয়া, প্রথম নিয়োগেই অনিয়ম, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা হত্যাকারী ও ফ্যাসিজমের সমর্থন করাসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্ম দিয়েছেন তিনি।

এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীরা তাকে ২১ দফা দাবি দিয়ে তা না মানলে পদত্যাগের দাবি জানান। পরে তিনি এসব দাবি মেনে নেওয়ার কথা বলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটা ঘটনাগুলোর জন্য ক্ষমা চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন।

সেসময় ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, ‘তোমরা হলে আমার পরিবার। পরিবারের কাছে ক্ষমা চাওয়ায় লজ্জার কিছু নেই, বরং আন্তরিকতা আরও বাড়ে। এটা আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ।’

এদিকে উপাচার্যের ক্ষমা চাওয়ার একটি ভিডিও এরইমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়েও ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় : চন্দ্রদ্বীপ নিউজ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় : চন্দ্রদ্বীপ নিউজ

এদিকে সোমবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্ৰাউন্ড ফ্লোরে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভুইয়ার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ মার্চ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মো. বদরুজ্জামান ভুঁইয়া। সে সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাছ থেকে চেয়ে চেয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা নেন তিনি। পরে সেই রুমভর্তি ফুলের মাঝে বসে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন। যেখানে ক্যাপশনে লেখা ছিলো, ‘মানুষ তার স্বপ্নের চেয়েও বড়’।

এরপর মুহূর্তেই সেই ছবি ভাইরাল হয়ে গেলে শুরু হয় সমালোচনার। বিভিন্ন সমালোচনা ও বিতর্কিত কমেন্টসের পর তিনি পোস্ট সরিয়ে ফেলেন।

বদরুজ্জামান ভুইয়া উপাচার্য হওয়ার পর গত ৫ মে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) প্রথম শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমেই অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে যা চাপের মুখে পড়ে বাতিল করা হয়।

জানা গেছে, আস্থাভাজন একজন শিক্ষককে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দিতে পিএইচডিধারী দুই প্রার্থীকে ইন্টারভিউ কার্ড দেননি উপাচার্য। এ ঘটনায় তাকে সংক্ষুব্ধ প্রার্থী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. আবু সালেহ উকিল নোটিশ দেন। পরবর্তীতে সে ঘটনায় অনিয়ম হওয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল করা হয়।

সবশেষ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে অবস্থান নিতে দেখা যায় তাকে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ২১ দফা দাবিতে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন। পরে এক সভায় উপাচার্যকে প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা গ্রাহ্য না করে সোমবার তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।

এসব বিষয়ে জানতে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভুইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের করলে তিনি এসব বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি।




দক্ষ ও যোগ্য উপাচার্য খুঁজছে শিক্ষা প্রশাসন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্যদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছিল রাজনৈতিকভাবে। দক্ষতা ও যোগ্যতার চেয়ে উপাচার্যদের রাজনৈতিক অবস্থানকেই প্রাধান্য দেওয়া হতো এতদিন। অনেক সম্মানের পদ হওয়ার পরও এই উপাচার্যরা সরকারের মদদে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে বছরজুড়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও আন্দোলন করেছেন, ক্যাম্পাসগুলোতে ব্যাহত হয়েছে পড়ালেখা। গণ-অভ্যুত্থানের পর বিশ^বিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যদের পদত্যাগের কারণে অনেকগুলো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনের শীর্ষ এই পদটি শূন্য হয়ে গেছে। এক সঙ্গে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়াটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আগের ধারা ভেঙে এ পদে অরাজনৈতিক একাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে দক্ষ ও যোগ্য জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকদের খুঁজছে শিক্ষা প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের পদ শূন্য প্রসঙ্গে গতকাল রবিবার নিজ দপ্তরে অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ৪০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় অভিভাবকশূন্য। আমরা চাইব সত্যিকারের শিক্ষানুরাগী, যোগ্য ব্যক্তি যেন আসেন। শিক্ষক-ছাত্র সম্পর্ক- এটাও দলীয়করণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্রদের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এখন অনেক বড় বড় পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু তার মধ্যেও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে শৃঙ্খলার সঙ্গে আমরা যেন আবার ওই পরিবেশটা নিয়মমাফিক ফিরিয়ে আনতে পারি, সেই চেষ্টা করব।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য মো. সাহাবুদ্দিন। একই সঙ্গে পদত্যাগ করা উপচার্যদের মূল পদে (বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক) যোগদানের অনুমতিও দিয়েছেন। উপাচার্যবিহীন বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা প্রসঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দৈনিক আমাদের সময়কে বলেন, নতুন উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা একাডেমিক দক্ষতার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতার দিকে নজর দেব।

জানা গেছে, দেশের পুরনো ও বড় চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। সেখানে সিনেটে উপাচার্য নিয়োগের প্যানেল নির্বাচনের বিধান আছে। এ বিধান অনুসারে সিনেট সদস্যদের ভোটে উপাচার্য পদের জন্য তিনজনের প্যানেল নির্বাচিত হয়। নির্বাচিতদের মধ্য থেকে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য যে কোনো একজনকে নিয়োগ দেন। এ চারটি বাদে বাকি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সরকারের সরাসরি পছন্দে উপাচার্য নিয়োগ করা হচ্ছে।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, একাডেমিক স্কলার ও প্রশাসনিক দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং সততার অতীত ট্র্যাক রেকর্ড না দেখে উপাচার্য নিয়োগ করায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায়ই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নীল, সাদা, গোলাপি রঙের নানা ধারায় বিভক্ত। উপাচার্য নিয়োগের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও বিধান থাকা প্রয়োজন। সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমেও উপাচার্য নিয়োগ করা যেতে পারে।

রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি বাদ দিয়ে একাডেমিক দক্ষ ও প্রশাসক হিসেবেও যে দায়িত্ব নিতে পারবে- এমন ব্যক্তিদের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন শিক্ষাবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, উপাচার্য নিয়োগ প্রক্রিয়া খুব স্বচ্ছ হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ প্যানেল করা যেতে পারে। তারা দেখে উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ করবে।