চট্টগ্রামে এস আলমের গাড়ি সরানোর ঘটনায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিলো বিএনপি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চট্টগ্রামে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের তদারকিতে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ১৪টি বিলাসবহুল গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিই বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে।

রোববার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘দলের গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। পরবর্তী কমিটি ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির নামে কোন সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানো যাবে না।

এর আগে, গত শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে এস আলমের একটি কারখানা থেকে বিলাসবহুল অন্তত ১৪টি গাড়ি বিএনপি নেতাদের তত্ত্বাবধানে সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি সরানোর সময় চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্মসম্পাদক এনামুল হক এনাম, কর্ণফুলী থানা বিএনপির আহ্বায়ক এসএম মামুন মিয়া ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের গাড়িচালকসহ বিএনপির বেশকিছু নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার এস আলমের গাড়ি সরানোর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির শীর্ষ তিন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় দলটি। এর একদিন পর পুরো কমিটিই বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিলো দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব




নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নযোগ্য নয়, পরীক্ষাসহ ফিরছে যত নিয়ম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সমালোচনা ও বিতর্কের মুখেও নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আপত্তিকে পাত্তাই দেওয়া হয়নি। শিক্ষাক্রমের বিরোধিতা করায় অনেক অভিভাবক, শিক্ষককে ‘কালো আইন’ হিসেবে পরিচিত সাইবার সিকিউরিটি আইনে মামলা দেওয়া হয়। গ্রেফতারও হন বেশ কয়েকজন। ফলে বাধ্য হয়ে অনেকে সন্তানদের ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করান।

আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে ‘বাইবেল’ বলে গণ্য হওয়া সেই শিক্ষাক্রম ‘বাস্তবায়নযোগ্য নয়’ বলে আখ্যা দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব মোসাম্মৎ রহিমা আক্তার পরিপত্রে সই করেন।

এতে বলা হয়েছে, ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২২ এর (নতুন শিক্ষাক্রম) বিষয়ে মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তথা অংশীজনদের অভিমত, গবেষণা ও জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে এ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির ঘাটতি, পাঠ্য বিষয়বস্তু ও মূল্যায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে অস্পষ্টতা ও নেতিবাচক ধারণা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রকট অভাব ইত্যাদি নানাবিধ বাস্তব সমস্যা বিদ্যমান থাকায় ওই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নযোগ্য নয় মর্মে প্রতীয়মান।’

এরপর মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পরিপত্রে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে প্রাক-প্রাথমিক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে ধারাবাহিকতা রেখে এরই মধ্যে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইগুলোর পাণ্ডুলিপি প্রয়োজনীয় সংশোধন ও পরিমার্জন করে মুদ্রণ করা হবে। এক্ষেত্রে পাঠদান পদ্ধতি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে। যতদূর সম্ভব মূল্যায়ন পদ্ধতি পূর্বের জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর মতো হবে।

বই সংশোধন আগামী বছর
পরিপত্রে জানানো হয়, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে চলমান পাঠ্যবইগুলো ২০২৪ সালের পুরোটা সময় বহাল থাকবে। ২০২৫ সালে যথাসম্ভব সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ করা হবে।

২০২৬ সালের এসএসসি সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে
২০২৫ সালে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা (২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য) নেওয়ার লক্ষ্যে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা অব্যাহত রেখে পূর্বের জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর আলোকে প্রণীত সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তকগুলো (অর্থাৎ ২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত পুস্তক) শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে প্রণীত বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষাভিত্তিক এ পাঠ্যপুস্তকগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করা হবে। যেন শিক্ষার্থীরা এক শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই পাঠ্যসূচি সম্পন্ন করতে পারে। পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে পরিচালিত হবে।

এতে আরও বলা হয়, যেসব শিক্ষার্থী ২০২৫ সালে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে, তাদের জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ এর আলোকে প্রণীত শাখা ও গুচ্ছভিত্তিক সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তকগুলো (২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত) প্রদান করা হবে। এসব শিক্ষার্থী নবম ও দশম শ্রেণি মিলিয়ে দুই শিক্ষাবর্ষে সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচি শেষে ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে।

ষষ্ঠ থেকে নবমে এ বছরই বার্ষিক পরীক্ষা
নতুন শিক্ষাক্রমে পরীক্ষা নেই। বাৎসরিক সামষ্টিক মূল্যায়ন করা হয়। ফলে নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হবে না বলে যে তথ্য ছড়িয়েছিল, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বরং চলতি বছরের ডিসেম্বরে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয় বলছে, সংশোধিত ও পরিমার্জিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে নতুন শিক্ষাক্রমের বইয়ের ওপরই মাধ্যমিক পর্যায়ের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষার আয়োজন ও মূল্যায়ন করা হবে। সংশোধিত ও মূল্যায়ন পদ্ধতির রূপরেখা শিগগির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হবে।

পরিপত্রে এ বিষয়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের অবশিষ্ট সময়ে ও বার্ষিক পরীক্ষায় ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংশোধিত এবং পরিমার্জিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করা হবে।

এতে আরও বলা হয়, শ্রেণি কার্যক্রমগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির প্রতিটির ছয়টি করে বিষয়ভিত্তিক যে মূল্যায়ন কার্যক্রম অসম্পন্ন রয়েছে, সেগুলো আর হবে না। সংশোধিত ও পরিমার্জনকৃত মূল্যায়ন রূপরেখার ভিত্তিতে চলতি বছরের ডিসেম্বরে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সংশোধিত ও পরিমার্জিত মূল্যায়ন পদ্ধতির রূপরেখা শিগগির স্কুলে স্কুলে পাঠানো হবে।

পরিমার্জিত চূড়ান্ত শিক্ষাক্রম ২০২৬ সালে
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষাবিদ, শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ, মূল্যায়ন বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও অভিভাবক প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ২০২৫ সালে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করা হবে। যা ২০২৬ সাল থেকে পরিপূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে।




পটুয়াখালীতে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু তালেবের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষক, কর্মচারী এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, আবু তালেব ২০১২ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে এ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই আওয়ামী লীগের দাপট দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ, শিক্ষার্থী বেতন, উপবৃত্তি ও টিউশন ফিসহ নানা তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ, ল্যাপটপ, হোয়াইট বোর্ডসহ নানা উপকরণ আত্মাসৎ করেছেন।

তিনি গত ১২ বছরে বিভিন্ন তহবিলের ৩২ লাখ ২৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে অর্ধ-বার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার ফি বাবাদ ৯ লাখ টাকা, মার্কশিট, প্রশংসাপত্র ও প্রবেশপত্র, সার্টিফিকেট বাবদ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত ৮ লাখ টাকা, উপবৃত্তি বাবাদ ২ লাখ, উপবৃত্তির পিন কোড দিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা, ২০১৪ সালে ভুয়া ভাউচার দেখিয়ে ২১ হাজার টাকা, ২০২৪ সালের ৮ম-৯ম শ্রেণী পর্যন্ত রেজিষ্ট্রেশন বাবদ ৮৭ হাজার ৫০০ শত টাকা, শিক্ষার্থী ভর্তি ফি বাবদ ৬-১০ শ্রেণী (২ বছরের) ২ লাখ টাকা, টিউশন ফি বাবদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

তিনি শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং সৃষ্টি করে তার পক্ষের শিক্ষকদের সপ্তাহে ৯-১০ টি পিরিয়ড আর প্রতিপক্ষের শিক্ষককে ৩০-৩২ টি ক্লাস দিয়ে হয়রানি করেন।

তিনি বিদ্যালয়ের সকল ধরনের আয়ের টাকা নিজে গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেন, শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেল দেয়ার জন্য মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করেন, শিক্ষার্থী ভতি বাবদ ৭৫০ থেকে ১ হাজার টাকা নেন, এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরনে দেড় হাজার টাকা করে অতিরিক্ত গ্রহন করেন আবার প্রবেশপত্র বিতরণকালে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬০০ টাকা নেন।

গরিব, মেধাবী ও ক্লাসে উপস্থিতির উপর ভিত্তি করে সরকার শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দিয়ে থাকে কিন্তু এসব বিষয় বিবেচনায় না রেখে আর্থিক লেন-দেনের মাধ্যমে নিজের ইচ্ছামত উপবৃত্তি দিয়ে থাকেন। এছাড়াও, তিনি শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে অসৌজন্যমূলক (তুই-তুকারি) করেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের বি.এড ও উচ্চতর স্কেল দেয়ার জন্য মোটা অংকের ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয় সহকারি শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনের কাছ থেকে উচ্চতর স্কেল করার জন্য ৫০ হাজার, বিলকিস নাহারের কাছ থেকে ৩৭ হাজার, আফরোজা বেগমের কাছ থেকে বি.এড স্কেল করাতে ৩০ হাজার, ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানার ইব্রাহিমের কাছ থেকে ১২ হাজার টাকা নেন।

টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাকে নানাভাবে হয়রানী করা হয়। টাকা না দেয়ায় ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে সহকারি শিক্ষক অনিমেশ চন্দ্র সরকারের ১৫ দিনের বেতন কর্তন করা হয়।

তিনি ১০ বছরেও ম্যানেজিং কমিটির কোন সভা করেননি। রেজুলেশন খাতায় আলোচ্য বিষয় না লিখে শিক্ষক প্রতিনিধিদের অনেকগুলো স্বাক্ষর একসাথে দিতে বাধ্য করেন। শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন সীটে প্রতিমাসে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষকের রক্তচক্ষুর রোষানলে ১২ মাসের স্বাক্ষর একসাথেই দিতে হয়। প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না, শ্রেণী কক্ষে পাঠদানে অংশগহন করেন না, শিক্ষক হাজিরা খাতায় একসাথে অনেকগুলো স্বাক্ষর ও অযৌতিক কারণ দর্শান।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আবু তালেব বলেন, কেউ অভিযোগ দিতেই পারে। যাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছে তারা তদন্ত করে দেখেন। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সদর উপজেলা নিবার্হী অফিসার ইফফাত আরা উর্মি বলেন, শিক্ষকদের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




বন্যাদুর্গত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আশ্রয় নিয়েছেন মসজিদে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত একটি গ্রাম চান্দেরবাগ। এটি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাকাতিয়া নদী তীরবর্তী একটি গ্রাম। ওই গ্রামে ২৩০-২৫০ লোকের বসবাস, যার মধ্যে শুধু দু’টি পরিবার মুসলিম। গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পুরো গ্রামটি ডুবে যায়। আশেপাশে আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় এখানকার হিন্দুরা পার্শ্ববর্তী পিপড্ডা গ্রামের মসজিদে আশ্রয় নিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা থেকে আলাদা হওয়ায় গ্রামের লোকজন একটু অবহেলিত। তাদের পেশা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা। টানা বৃষ্টি ও ডাকাতিয়া নদীর  পানি বৃদ্ধি পেয়ে গ্রামটি ডুবে যায়। গ্রামের লোকজন আশেপাশে কোনো আশ্রয় কেন্দ্র না পেয়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মসজিদে অবস্থান করছে। আর কিছু লোক বিভিন্ন বাড়ির ছাদে রয়েছেন। সরকারি কোনো সহায়তা এখনো পাননি তারা।

ওই গ্রামের বাসিন্দা গিতা রানী বলেন, সংসার জীবনে ডাকাতিয়া নদীতে পানি বাড়ে আবার চলে যায়। ওই গ্রামে রাস্তা সমান পানি হয়। কিন্তু কখনো ঘরে পানি ঢুকেনি। এবার পুরো গ্রাম ডুবে গেছে। কোনোরকম জীবন নিয়ে এই মসজিদে অবস্থান করছি। আশেপাশের কয়েকজন মানুষ শুকনো কিছু খাবার দিয়েছে। সরকারিভাবে কোনো সহায়তা পাইনি।

তিনি বলেন, আগ থেকে আমাদের গ্রামটি অবহেলিত। কিছুই বের করতে পারিনি। সব  পানিতে ডুবে গেছে। বাকিরা অন্যান্য স্থানে ছাদে অবস্থান করছেন।

স্থানীয় সাংবাদিক পিপড্ডা গ্রামের বাসিন্দা শরীফ আহমেদ মজুমদার বলেন, বন্যা হলেই সবার আগে আমাদের এই গ্রাম ও চান্দেরবাগ পানিতে ডুবে যায়। এবারের বন্যা আমার বয়সে দেখিনি। পুরো তালাঘর সমান সমান পানি হয়ে গেছে। আমি ঘর নির্মাণ করার জন্য ইট, সিমেন্ট, বালু এনে রেখেছি। সব তলিয়ে গেছে। কিছুই রইল না। আশেপাশে আশ্রয় কেন্দ্র না থাকায় এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে চান্দেরবাগ গ্রামের কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে মসজিদে থাকার জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছি।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভারতের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: মধ্যরাতে ভারতের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। ভারতের বাঁধ খুলে দিয়ে বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিল করেন তারা।

বুধবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো থেকে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রশিক্ষণ করেন।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী রশিদ সরদার বলেন, আমরা ভারতকে হুঁশিয়ার করে বলতে চাই, এই কৃত্রিম বন্যায় আমাদের জানমালের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার হিসাব ভারতকে দিতে হবে। আপনাদের সৃষ্টি বন্যায় আমাদের বাড়িঘর ভাসিয়ে দিয়ে আপনারা শান্তিতে থাকতে পারবেন না। যদি শান্তিতে থাকতে চান, তাহলে আন্তর্জাতিক নদী আইন মেনে আমাদের পানির অধিকার আমাদেরকে দেন।




সুবিদখালী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী সরকারি ডিগ্রী কলেজে রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ইউএনও‍‍`র কাছে অভিযোগ জানিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২১ আগস্ট) বেলা ১টায় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামের সাথে দেখা করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রবিবার থেকে কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুজ্জামান। বিক্ষোভ মিছিলে ২শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন।

২০১৮ সালে কলেজটি জাতীয় করণের পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান গত ৬ বছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তুলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক নেতা ফেইসবুকে পোস্ট করেন এবং কলেজের দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ পেয়ে ১৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা সমন্বয়ক মো. সাইফুল ইসলাম সিয়ামসহ সাধারন শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চান এবং ১৮ তারিখ রবিবার কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, ছাত্র-সুধীজনকে উপস্থিত থাকার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম সিয়াম। পূর্ব ঘোষনানুযায়ী রবিবার (১৮ জুলাই) বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কলেজে উপস্থিত হলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ঐদিন কলেজে উপস্থিত না হয়ে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে একটি ছুটির আবেদন পাঠিয়ে দেন। পরে কলেজের শিক্ষকমণ্ডলী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় কলেজ মিলনায়তনে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্ররা অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন উপস্থিত শিক্ষকমন্ডলীর কাছে। এতে এক বছরে সম্ভাব্য হিসেব অনুযায়ী ১ কোটি ৯৭ লক্ষ ৭১ হাজার ৭৫০ টাকার হিসাব তুলে ধরেন এবং ৬ বছরে ১১ কোটি ৮৬ লক্ষ ৩০ হাজার ৫০০ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্ররা। পরে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যক্ষ অনুপস্থিত থাকায় কলেজের সিনিয়র শিক্ষক বাবু রসিকলাল কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা সমন্বয়ক মো. সাইফুল ইসলাম সিয়াম বলেন, আমরা আজ বুধবার (২১ আগস্ট) কলেজে গিয়েছিলাম অধ্যক্ষ স্যার আসছেন কিনা জানতে। কিন্তু তিনি আসেননি। আমরা শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে ইউএনও ’র কার্যালয় গিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি, তিনি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন এবং আশু সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে আধিপত্য বিস্তার করে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। ২০১৮ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারপ্রাপ্তের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেয়ার পরে কলেজের কোন হিসাবনিকাশ কারো কাছে নেই। সাবেক অধ্যক্ষ স্যার অবসরে যাওয়ার পরে কলেজ ফান্ডে টাকা রেখে যান তা ভুয়া ভাউচার করে উত্তোলন করেন অধ্যক্ষ।

এ বিষয়ে সুবিদখালী সরকারি ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, আমি কোনও অন্যায় করিনি। আমার বিরুদ্ধে যে-সব অভিযোগ তোলা হয়েছে এসব ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ছাত্ররা প্রত্যেকে কলেজ একাউন্টে টাকা জমা দেয়। এখানে অনিয়ম করার কোনও সুযোগ নেই। অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেয়ার কারণে তারা এটা করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা এসেছিল, তাদের দাবি শুনেছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি,আশা করি দ্রুত সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হবে।




নবম-দশম শ্রেণিতে আবারও আলাদা বিভাগ হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : নবম শ্রেণি থেকে আবারও বিষয়ভিত্তিক অর্থাৎ মানবিক, বিজ্ঞান এবং বাণিজ্য বিভাগ আলাদা থাকবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

১৯৫৯ সালে নবম শ্রেণি থেকে বিভাগ বিভাজন চালু হয়েছিল। ৬৫ বছর ধরে এ নিয়মে চলেছে শিক্ষা পদ্ধতি। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর দফায় দফায় শিক্ষাক্রম পরিবর্তন হলেও এ প্রথা কখনো ভাঙা হয়নি। অবশেষে চলতি বছর তা পরিবর্তন করা হয়। ৬৫ বছর পর চলতি শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সবাই একই বিষয় পড়ছে। নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য শাখার বিভাজন নেই। সবার এক বইয়ে লেখাপড়া করছে।

নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পর পক্ষে বিপক্ষে মত দেন অনেকে। অনেকে বিভাগ বিভাজনের বিপক্ষে মত দিলেও আবার কেউ কেউ একমুখী পদ্ধতিকে ভালো বলছেন।

বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, নবম শ্রেণি থেকে আবারও বিষয়ভিত্তিক বিভাগ আলাদা থাকবে।

এবার বই ছাপাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি হবে না জানিয়ে শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ‘ইতোমধ্যে যেসব বই ছাপার দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, তা বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার বই ছাপার মান ও কাগজের মান ভালো হবে। কারণ, এবার দুর্নীতি হবে না।’

ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তকের মলাটসহ ভেতরের বিষয়বস্তু পরিবর্তন করা হবে। শিক্ষাক্রম সংস্কারের প্রাথমিক পদক্ষেপ নিতে হবে। যতটুকু সময় পাওয়া যায় আমরা এই শিক্ষাক্রম সংস্কারে পদক্ষেপ নেব।




এইচএসসির ফল তৈরি কীভাবে, জানালেন বোর্ড কর্মকর্তারা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে এইচএসসি ও সমমানের স্থগিত পরীক্ষাগুলো বাতিল করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। এ পরীক্ষাগুলো আর না হওয়ায় কীভাবে ফলাফল তৈরি ও প্রকাশ করা হবে, তা নিয়ে জানতে উদগ্রীব পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

জানা গেছে, শিক্ষা বোর্ডগুলোর কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে বুধবার (২১ আগস্ট) বৈঠক করেছেন। সেখানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সিস্টেম অ্যানালিস্টরা বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তার মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য আলোচনা ছিল, অনুষ্ঠিত পরীক্ষাগুলোর নম্বর এবং যেগুলো হয়নি সেগুলোর সাবজেক্ট ম্যাপিং করে ফল প্রস্তুত।

সভায় অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, কীভাবে সাবজেক্ট ম্যাপিং হবে, সেই বিষয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন মত দিয়েছেন। কেউ এসএসসির ফলাফল দেখে ম্যাপিং করতে বলেছেন। আবার কেউ জেএসসি ও পিইসি পরীক্ষার ফলও পর্যালোচনার বিষয়টি তুলেছেন। বিষয়টি নিয়ে আরও বৈঠক করে একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব প্রস্তুত করে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার।

তিনি বলেন, যে পরীক্ষাগুলো হয়েছে, সেগুলোর নম্বর এবং যে পরীক্ষাগুলো হয়নি, সেগুলোর সাবজেক্ট ম্যাপিং বা কোন উপায়ে ফল প্রকাশ করা যায়; সে বিষয়ে খসড়া প্রস্তাবনা পাঠাতে বোর্ডগুলোর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সিস্টেম অ্যানালিস্টদের বলা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে খসড়া প্রস্তাবনা পেলে, আমরা তা যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর ফল প্রকাশ করা হবে।

অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, যে পরীক্ষাগুলো হয়েছে, সেগুলোর নম্বর তো আমাদের হাতে আছে। যেগুলো হয়নি, সেগুলোর জন্য সাবজেক্ট ম্যাপিং করা যেতে পারে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সিস্টেম অ্যানালিস্টদের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পরে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব হবে।

ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর কীভাবে যুক্ত হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে বিষয়ের পরীক্ষাগুলো হয়েছে কিন্তু ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়নি; ওই বিষয়গুলোর ব্যবহারিকের নম্বর সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে হতে পারে। আসলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সিস্টেম অ্যানালিস্টদের প্রস্তাবনা বা তাতে অনুমোদন পাওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।

সভায় অংশ নেওয়া একাধিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক জানান, ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালেও তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা নিয়ে অন্য বিষয়গুলোর ফল সাবজেক্ট ম্যাপিং করে দেওয়া হয়েছিল। আমাদের সামনে দুটি উদাহরণ রয়েছে। সে অভিজ্ঞতার আলোকে একটি প্রস্তাবনা তৈরি করতে সব পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের বলা হয়েছে। আমরা তা প্রস্তুত করে জমা দেবো।

গত ৩০ জুন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়। এতে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৭৯০ জন। প্রথম দফায় প্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী ৮ দিন পরীক্ষা হওয়ার পর কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাইয়ের সব পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। এরপর আরও তিন দফায় পরীক্ষা স্থগিত করে সরকার।

সূচি অনুযায়ী এখনো ১৩ দিনের মোট ৬১টি বিষয়ের পরীক্ষা গ্রহণ বাকি ছিল। বিভিন্ন বিভাগের (বিজ্ঞান, মানবিক ও বাণিজ্য) বিভিন্ন বিষয় থাকায় এতগুলো পরীক্ষা স্থগিত এবং পরে বাতিল করা হয়।

যদিও প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ১৩টি বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এরমধ্যে রয়েছে আবশ্যক বাংলা ও ইংরেজির চারটি বিষয় (প্রথম ও দ্বিতীয়পত্র) ও আইসিটি। বাকি ৮টি বিষয় ঐচ্ছিক (বিভাগভিত্তিক)। সিলেট বোর্ড ছাড়া বাকি বোর্ডগুলোর আবশ্যক ৬টি এবং কেউ কেউ বিভাগভিত্তিক একটি পরীক্ষাসহ ৭টি পরীক্ষা দিয়েছেন। ফলে কারও ছয়টি, কারও সাতটি পরীক্ষা বাতিল হয়েছে, যেগুলো সবই বিভাগভিত্তিক।




ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান : ইসলামী আন্দোলনের ১৮ নেতাকর্মী নিহত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলনের ১৮ নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম।

তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর ও নৃশংস আওয়ামী দুঃশাসন উৎখাতের সংগ্রামের সূচনা করেছে আমাদের ছাত্রসমাজ। তাদের অসীম সাহস, ত্যাগ ও বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্ব আমাদের গর্বিত করেছে। শুরু থেকেই এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ফয়জুল করীম।

তিনি বলেন, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৮ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন হাজারের বেশি। গুরুতর আহত ১৫০ জনেরও বেশি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, আমিনুল ইসলাম, কেএম আতিকুর রহমান প্রমুখ।




সব বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা কমিটি ভেঙে দেয়া হলো

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : দেশের সব বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং মাদরাসা কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসকদের বেসরকারি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম সই করা ওই প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা ২০২৪ এর ৬৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হলো যে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক অথবা তার মনোনীত প্রতিনিধি, মহানগর এলাকায় বিভাগীয় কমিশনার বা তার মনোনীত প্রতিনিধি ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করা হলো।

পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা দায়িত্ব পালন করবেন বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।