প্রধান শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে কলাপাড়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ার হাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজালাল মুন্সীর দুর্নীতির প্রতিবাদে তার অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে হাজীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর আয়োজনে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন-বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রধান শিক্ষক শাহজালাল মুন্সীর দুর্নীতি ও সেচ্ছাচারিতায় ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আজ ধ্বংসের মুখে। তাই অবিলম্বে তাকে অপসারণ করে গত ১৬ বছরের তার সকল অনিয়মের তদন্ত দাবি করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন শিক্ষক নুরুল ইসলাম মুকুল, রেজাউল করিম সিকদার ও মোস্তফা জামান সুজন।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল ও পদযাত্রা সহকারে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

প্রধান শিক্ষক শাহজালাল মুন্সী বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট না করে যদি তার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অভিযোগ থাকে তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। তার বিরুদ্ধে আনীত সব অভিযোগ মিথ্যা।




সব শ্রেণির পাঠ্যবই পরিমার্জিত হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ—সবার মতামত উপেক্ষা করেই নতুন কারিকুলাম চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পাঠ্যবইয়ে ইচ্ছেমতো বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা ও নৈতিকতা বাদ দিয়ে ‘রাজনৈতিক’ বিবেচনায় তৈরি করা হয়েছিল পাঠ্যবই।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বইয়ের নানা অসংগতি বাদ দিয়ে বইয়ের পরিমার্জনের কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুতগতিতেই চলছে এই কাজ। শিক্ষাবিদরা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস বিকৃত করে ছাপিয়েছে। সেগুলো সংশোধন ছাড়া কোনোভাবেই প্রকাশযোগ্য নয়। তাই বই পরিমার্জন ­করা জরুরি। বিকৃত ও ভুল তথ্য সংযোজিত বই আগে দেওয়ার চেয়ে পরিমার্জিত বই দেরিতে দেওয়াও ভালো।

২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একাদশের ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে এখনো ছাপা হয়নি উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যবই। মেলেনি সিলেবাসও। এ স্তরের পাঠ্যবইয়ে পরিমার্জনের কাজ চলমান থাকায় বই পেতে আরও বেশ কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে বইয়ের পরিমার্জনের কাজ শেষ করে পাণ্ডুলিপি প্রেসে পাঠানো যাবে বলে জানিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের বিষয়গুলো বাদে বাংলা, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি—এ তিনটি বিষয়ের চারটি পাঠ্যবই জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক প্রণীত হয়ে থাকে। সর্বশেষ ২০১৪ সাল থেকে বাংলা সাহিত্য পাঠ ও সহজপাঠ, ২০১৫ সাল থেকে ইংলিশ ফর টুডে এবং ২০২১-এ প্রণীত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বই এখনো শিক্ষার্থীদের পাঠ্য। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর উদ্যোগ নেয় পরিমার্জনের। বাংলা বইয়ের কাজ শেষ হলেও বাকি এখনো ইংরেজি ও আইসিটি।




ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র পরিচালক ও বেসরকারি নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর বনানী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার পর আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহকে রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিএমপি ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগেও মামলা রয়েছে। এর আগে ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি।




বাবা দিনমজুরি করে নিহত রাসেলকে পড়াশুনার খরচ দিত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘জন্ম নেয়া ভাগ্যের ব্যাপার মৃত্যু হওয়া সময়ের ব্যাপার কিন্তু মৃত্যুর পরে মানুষের মনে বেঁচে থাকা কর্মের ব্যাপার’ এমন কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফেইজবুকে লিখে গেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত হওয়া শিক্ষার্থী রাসেল মাহমুদ।

শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) অনার্সের ছাত্র রাসেল মাহমুদের (২১) মৃত্যুর এক মাস পূর্ণ হলো।

তার গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চরশিবা গ্রামে।

‘মরলে শহিদ বাঁচলে গাজি, মা তোমার তিন ছেলের মধ্যে আমি যদি দেশের জন্য চলে যাই তুমি দুই ছেলেকে নিয়ে থাকবা, অনুমতি দাও মা। দাবি রাখবা না কথাগুলো বলল ৪ আগস্ট রাতে।’ এটাই তার শেষ কথা বলে জানান তার মা রাশেদা বেগম।

পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ৫ আগস্ট সরকারের পতনের দিন রাসেল মাহমুদ আন্দোলনে নামলে পুলিশের এলোপাথারি গুলি তার মাথায় লাগে। যাত্রাবাড়ীতে এ ঘটনাটি ঘটে। বিকেলের কোনো এক সময় মায়ের কাছে ফোন আসছে, রাসেল আপনার কি হয়? সাথে সাথে ফোনটি মা রাসেলের বড় ভাইর কাছে দেয়, মা বলে রাসেলের কোনো এক বন্ধু ফোন দিয়েছিল। রাসেলের বুকে ইউনিভার্সিটির আইডি কার্ড ও মাথায় বাংলাদেশী পতাকা ছিল। রাসেলের বড় ভাই খবর পেয়ে সাথে সাথে খালাত ভাই আজিজুল ও মামা আলমগীর হোসেনকে খবর দেয়। রাসেলকে বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে, বিভিন্ন হাসপাতাল তথা কোথায়ও পাওয়া যাচ্ছিল না। তার পরের দিন ৬ আগস্ট ঢাকা মেডিক্যাল মর্গে তার লাশ পড়ে আছে। রাসেলের মাথায় পেছন থেকে গুলি লেগে কপাল দিয়ে ভেদ করে বের হয়ে যায়। ততৎক্ষণে মার বুঝতে বাকি রইল না যে তার ছেলে আর বেঁচে নেই।

জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলা থেকে সম্পূর্ণ একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরকাজলের চর শিবা আব্দুস ছালাম আকন আইডিয়াল স্কুল থেকে ২০২০ সালে মেধাবী রাসেল এসএসসি পাস করে। পরবর্তীতে ঢাকার শ্যামপুর বহুমূখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০২২ সালে এইচএসসি পাস করে।

পাশের পরেই সে সোনার গাঁ ইউনির্ভাসিটিতে বাংলা বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হয়। রাসেল মাহমুদ ঢাকার যাত্রবাড়ীর শনির আখড়ায় থাকত। রাসেল মাহমুদের তিন ভাই ছিল। বড় ভাই মিরাজ হাং ছোট ভাই মো: শাওন। বাবা ও বড় ভাই মানুষের বাড়িতে কাজ করে রাসেল মাহমুদকে পড়াত। এমনকি মা-ও কাজে সহযোগিতা করে ছেলেকে টাকা পাঠানোর চেষ্টা করত। নিজেদের সামান্যটুকু জমি থাকলেও অন্যের জায়গায় ঘর উঠিয়ে রাসেলের বাবা, মা ও ভাইসহ বসবাস করে।

মা বলেন, আমার ছেলেকে লেখা পড়ার জন্য ঢাকা পাঠিয়ে ছিলাম মানুষের মতো মানুষ হওয়ার হবার জন্য। শয়তানরা মানুষ হতে দিল না, বাড়িতে ফিরে এলো লাশ হয়ে। বাবাকে কত কষ্ট করে টাকা পাঠাইতাম মানুষ করার জন্য, মানুষ হয়ে অভাবী সংসারে হাল ধরবে, মৃত্যুর পর রাসেলকে বার বার দেখতে ইচ্ছে করে বাবারে কৈ পামু, কত মানুষ দেখতে পাই কিন্তু আমার বাবার মতো কাউকেও তো দেখতে পাই না। আমার রাসেলের সাথে শেষ কথা হয় ৪ আগাস্ট । আন্দোলনে নামার জন্য বাবা আমার কাছে দোয়া চেয়েছেন। আমার ছেলে তো কোনো দোষ করেনি, ওকে কেন মারা হলো, যারা আমার ছেলেকে মারছে তাদের যেন বিচার হয়। আমি যেন বিচার দেখে যেতে পারি। এমনকি আমার বাবা তো বিজয়ের হাসি দেখত পেলো না বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা রাশেদা বেগম।

বাবা আবুল হোসেন জানান, আমার ছেলে অত্যন্ত ভদ্র ছিল। আমরা ওর কথামত চলতাম। টাকা পাঠাতে না পারলে রাসেল একটি প্রাইভেট পড়াত, নিজে ফল বিক্রি করত, এমনকি কাঁচা বাজারের সবজিও বিক্রি করত। মাঝে মাঝে টাকা দিলে নিত, না পারলে বলতো আর লাগবে না। আমরা অন্যের বাড়িতে কাজ করি। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করছে তার যেন বিচার হয়।

ভাই মিরাজ হাং জানান, ৬ আগস্ট রাতে গ্রামের বাড়ি চরশিবায় রাসেলের লাশ নিয়ে আসা হয়। এলাকায় লাশ আনা হলে শোকের ছায়া নেমে আসে। ৭ আগস্ট তাকে সকাল ১০টার সময় নামাজের জানাজা শেষে সোমবাড়িয়া বাজার ঈদ গা মাঠে সমাহিত করা হয়। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমানসহ কয়েক হাজার লোকের সমাগম ঘটে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় কার্য্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন শোক জানিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিহত রাসেলের বাবার হাতে এক লাখ টাকা অনুদান দিয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিন আল হেলাল জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গলাচিপায় ছয়জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সরকারি সহযোগিতা পেলেই নিহতদের দেয়া হবে।




মির্জাগঞ্জের দৃষ্টিনন্দন প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো অকৃষ্ট করছে শিক্ষার্থীদের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা থেকে প্রত্যন্ত এলাকার ১১৮ নম্বর মধ্য দক্ষিণ কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। রানিপুর-দেউলী-কলাগাছিয়া-কাউনিয়া সড়কের মধ্যে ভাগে অবস্থান এ বিদ্যালটি।

বিদ্যালয়টিতে নানা রঙে সেজেছে। দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে দেশ-প্রকৃতিসহ নানা চিত্র। শুধু এ বিদ্যালয়টি নয় উপজেলার বেশিরভাগ বিদ্যালয়ই নতুন সাজে সেজেছে। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন ছোটবেলা থেকেই শিল্পমনা মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে ও জানবে দেশ-প্রকৃতি সম্পর্কে, তেমনি শিশুমনে শ্রেণিপাঠ সহজবোধ্য হচ্ছে। এমনটাই মনে করছেন শিক্ষানুরাগীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়গুলোর প্রবেশ মুখ থেকে দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে বাংলা-ইংরেজি বর্ণ ও বিভিন্ন দিবসের তারিখ। শ্রেণিকক্ষ ও ভবনের চারপাশে ফলমূল, দেশ-প্রকৃতি, কার্টুনসহ নানা মনীষীদের ছবি ও বাণী। লেখা আছে শিক্ষামূলক নানা নীতিবাক্য। দৃষ্টিনন্দন শ্রেণিকক্ষগুলো কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শিশু শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে সরকারি অর্থায়নে স্কুল সুসজ্জিত করা ও শিশুবান্ধব শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে। ১৪২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এরই মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ও সব শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ শেষ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এ উপজেলার সব বিদ্যালয় ভবন ও শ্রেণিকক্ষ সুসজ্জিত করা হবে।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ কলাগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নাসির উদ্দিন মল্লিক বলেন, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে রঙিন চিত্রে। বিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে শিশুদের ওজন ও উচ্চতা মাপার যন্ত্র। বয়সের সঙ্গে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও ওজন ঠিক আছে কী না তা পরীক্ষা করে দেখেন শিক্ষকরা। এতে শিক্ষার হার বৃদ্ধি পায় এবং ঝরে পড়ার হার কমে যায়। দৃষ্টিনন্দন করে নিজেই সাজিয়ে অন্যদের উৎসাহী করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা উৎসাহিত হচ্ছে ও প্রতিনিয়ত তারা স্কুলে আসছে। এ প্রেক্ষিতে উপজেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই সুসজ্জিত হচ্ছে। শিশুরা আনন্দের সঙ্গে স্কুলে আসে। তারা বিদ্যালয়ে এসে আনন্দের সঙ্গে পাঠ নিতে পারছে। অতীতের চেয়ে এখন শিক্ষার মান অনেক ভালো।

মির্জাগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজুর হক বলেন, উপজেলার প্রাক-প্রাথমিকের ২০-২৫টি স্কুল সুসজ্জিত করায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ শিশুবান্ধব হয়েছে। রঙিন ছবি, মুক্তিযুদ্ধ কর্নার স্থাপন করায় শিশুদের জানার পরিধি বাড়ছে। সরকারিভাবে প্রাপ্ত বরাদ্দ দ্বারা বিদ্যালয়গুলোকে স্মার্ট ও দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়ে পরিণত করার চেষ্টা চলছে। বিদ্যালয়গুলোকে দৃষ্টিনন্দন করতে দেওয়ালে নানা রঙের ছবি ও কার্টুন আঁকা হয়েছে। যাতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়মুখী হয়। স্কুলগুলো হয়ে উঠেছে শিশুদের জন্য আনন্দমুখর।




শিক্ষার্থীদের ক্লাস-ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিপ্লবের সুফল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুশিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্ম গড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের ক্লাস-ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের এক মাস পূর্তি উপলক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বার্তায় এই আহ্বান জানান তিনি।

এই বার্তায় উল্লেখ করেন, পড়াশোনা ছেড়ে নিষ্ঠুর শাসনকে প্রতিহত করার জন্য শিক্ষার্থীরা জীবন বাজি রেখেছে। প্রয়োজনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রের দায়িত্বও পালন করেছে। আমাদের এই বিপ্লবের সুফল ঘরে তুলতে আমাদের একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ প্রজন্মের দরকার। তাই ইতোমধ্যে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হয়েছে। আমি তোমাদের ক্লাস ও ক্যাম্পাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, দেশ সংস্কারের ক্ষেত্রে জুলাই ও আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা আমাদের প্রথম কাজ। ইতোমধ্যে গণহত্যার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতর কাজ শুরু করেছে। এই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইব্যুনাল তৈরির জন্য শীর্ষ আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের সাথেও যোগাযোগ করা হয়েছে।

এছাড়া, খুনিদের প্রত্যর্পন ও স্বৈরাচারের সময় দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি, রাজনীতিবিদ ও আমলারা যে পরিমান অর্থ আত্মসাৎ করেছে তা দেশে ফিরিয়ে আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তিনি।

গত ১৫ বছরে বলপূর্বক গুমের প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করার জন্য একটি কমিশন গঠন করার পাশাপাশি ‘গুম সংস্কৃতি’ সমাপ্তি করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পদেক্ষপ নিয়েছেন বলে জানান প্রধান উপদেষ্টা।

এছাড়া আন্দোলনে আহতদের ব্যয়বহুল চিকিৎসা, নিহত পরিবারের দেখাশোনা ও দৃষ্টিহারানোদের চোখে আলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য শীঘ্রই একটি ফাউন্ডেশন তৈরি করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সাথে যারা আন্দোলনে মারা গেছে তাদের প্রত্যেকের পরিবারকে ঢাকায় এনে তাদের সাথে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।




৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অবসান শেষে অবসরে গেলেন বরিশাল জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক পাপিয়া জেসমিন

বরিশাল অফিস :: ১৯৯১ সনে বরিশাল সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেন। এরপরে ২০১১-২০১৬ বরিশাল জিলা স্কুলে সহকারি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সনে শুরু হওয়া নতুন স্কুল রুপাতলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় (যাহা পরবর্তীতে শহীদ আঃ রব সেরনিয়াবাত সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামকরণ হয়) এর প্রধান শিক্ষক হন।

২০১৬-২০২৩ রব সেরনিয়াবাত স্কুলে সফলতার সাথে দাযিত্ব পালন শেষে ২০২৩ এর ১ অক্টোবর বরিশাল জিলা স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান, সেখানে ১১ মাস ৪ দিন চাকুরী শেষে অবসরজনিত ছুটিতে গেলেন।

কর্মক্ষেত্রের প্রতিটি স্থানেই পাপিয়া জেসমিন তার কর্ম নিষ্ঠা আর সততার স্বাক্ষর রেখেছেন , যে কারনে নগরীতে একজন আদর্শ ও ন্যায়নিষ্ঠ শিক্ষক হিসেবে তিনি পরিচিত। তিনি একজন সাংস্কৃতিক সংগঠক ও মহিলা পরিষদ নেত্রী।




গলাচিপায় শিক্ষাবৃত্তি পেলো ৫ মেধাবী শিক্ষার্থী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) গলাচিপা ক্লাস্টারের উদ্যােগে ৫ জন দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী পেলো শিক্ষাবৃত্তি।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালীর গলাচিপায় মৎস্য অধিদপ্তরাধীন সাসটেইনেবল কোস্টাল এন্ড মেরিন ফিশারিজ প্রকল্প কম্পোনেন্ট (৩) এর আওতায় এই শিক্ষাবৃত্তির চেক প্রদান করা হয়।

উপজেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মহিউদ্দিন আল হেলাল শিক্ষার্থীদের হাতে চেক তুলে দেন।

আরো পড়ুন : গলাচিপার ডাকুয়ায় জেলেদের মাঝে শান্তিপূর্ণভাবে চাল বিতরণ.

জানা যায়, পাঁচজনকে ২৫ হাজার টাকা করে দুই ধাপে মোট ৫০ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হবে।

শিক্ষাবৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, মানসুরা আক্তার, মো. ইসমাইল, আবু রায়হান, মো. তানভীর ও মো.ইমরান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) এর আঞ্চলিক সমন্বায়ক রওণক ফেরদৌস, ক্লাস্টার অফিসার এম এ সায়েম, মেরিন ফিশারিজ কর্মকর্তা মো. মাহামুদুল হাসান সহ শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও সংবাদকর্মীরা। শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের সহযোগিতায় ছিল মৎস্য দপ্তর।




শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট কাটাতে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তির প্রস্তাব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট দূর করতে বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ে। প্রধান উপদেষ্টার সম্মতি পেলে দ্রুত বিশেষ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কয়েকজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে ১৭তম নিবন্ধনের ৩৫ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সীরা, প্রথম থেকে ১২তম নিবন্ধনধারী এবং ১৩-১৪তম নিবন্ধনধারীরা একাধিকবার এনটিআরসিএ কার্যালয়ে এসেছেন। প্রথম থেকে ১২তম ও ১৩ থেকে ১৪তম নিবন্ধনধারীরা আমাদের অবরুদ্ধ করেছেন। তাদের দাবিগুলো আমরা শুনেছি। সেগুলো সারমর্ম আকারে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।




বরিশালে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, বিএম কলেজ শিক্ষার্থীদের সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল অফিস : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ-ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর বুধবার (০৪ আগস্ট) সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় আহতরা বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

আহতদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান। আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ নজরুল হোসেন।

এদিকে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে বলেন, একজন গরিব বাসচালকের কাছে একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে ৬০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং তাকে জিম্মি করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে আরও ২০ হাজার টাকা আদায়কালে দুজন চাঁদাবাজ বটতলা এলাকায় এলাকাবাসীর হাতে আটক হন। এলাকাবাসীর অনুরোধে সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হয়ে চাঁদাবাজদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পরে ঘটনাক্রমে জানা যায়, চাঁদাবাজ দুজন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিষয়টি বিবেচনা না করে এবং দুজন চাঁদাবাজের পক্ষ নিয়ে রাত ১২টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসযোগে একদল শিক্ষার্থী এসে বটতলায় সাধারণ শিক্ষার্থী এবং পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালায়।

তখন বরিশালের সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানমাল রক্ষার্থে জনসাধারণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কেস স্টাডি না করেই নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চাঁদাবাজ শিক্ষার্থী দুজনের পক্ষে দেশীয় অস্ত্র এবং ট্রাকভর্তি ইট-পাথর নিয়ে বিএম কলেজে হামলা চালায়।

এই হামলায় বিএম কলেজের শিক্ষার্থী এবং সহযোগিতায় এগিয়ে আসা অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা গুরুতর আহত হন। এসময় সন্ত্রাসীরা বিএম কলেজের পরিবহণ পুলের সব বাস, ড্রাইভারদের রুম, মুসলিম হল, হিন্দু হল এবং মহাত্মা অশ্বীনি কুমার ছাত্রাবাসসহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টে ভাঙচুর করে।

বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা বলেন, রাত ১টায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কীভাবে বাস নিয়ে অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রওনা হওয়ার অনুমতি দেয়, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা এর জবাব চাই। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরিশাল তথা দক্ষিণবঙ্গের জ্ঞানের বাতিঘর শতবর্ষী বিএম কলেজের বনমালী গাঙ্গুলি ছাত্রী হোস্টেলে হামলা করেছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার নয় ৷ এসময় আশপাশে বিএম কলেজের শিক্ষকদের বাসায়, সাধারণ মানুষদের বাসাবাড়ি এবং দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়। এতে করে আতঙ্ক বিরাজ করে কলেজ এলাকায় থাকা সর্বসাধারণের মাঝেও। সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থীরা শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজে স্বাস্থ্যসেবা নিতে গেলে সেখানেও তারা সড়কে বাধা দেন। সংঘর্ষের সময় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯ হামলাকারীকে আটক করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের সবাইকে আমরা নিজেরা স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রশাসনিকভাবে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী হাতে হস্তান্তর করি।

এসব অভিযোগ এনে বিএন কলেজের শিক্ষার্থীরা ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হল- বাস নিয়ে আসা হামলাকারী, বটতলায় চাঁদাবাজকারী, এর পেছনে মদতদাতা এবং উসকানি প্রদান করা সবার সুষ্ঠু বিচার করা; মধ্যরাতে বিএম কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলার ফলে যেসব শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন তাদের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয়ভার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে গ্রহণ করা; বিএম কলেজসহ সকল সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীকে কোনোরূপ হয়রানি না করা; বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বরিশাল শহরে কোনো ধরনের অরাজকতা যাতে সৃষ্টি করতে না পারে সেই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা; কলেজ, সব হোস্টেল এবং সাধারণ মানুষের বাসাবাড়ি, দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনার সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দেয়া; হামলায় জড়িত সব সন্ত্রাসীকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে আর কোনো সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর হামলা হলে এর দায়ভার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিতে হবে।

ঘটনাটির বিষয়ে বিএম কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ডিন ড. মো. শফিউল আলম।

প্রসঙ্গত, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও সরকারি ব্রজমোহন কলেজের (বিএম) শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের শতাধিক আহত হয়েছেন। দুই পরিবারের বাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধে এ সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গলবার রাত সা‌ড়ে ১২টা থেকে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যা দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলে।