শিক্ষকদের বাড়িভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠাল শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি অবশেষে নড়াচড়া শুরু করেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। শিক্ষকদের বাড়িভাড়া ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (১৫ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক অফিসিয়াল বার্তায় বলা হয়, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় ৫, ১০, ১৫ ও ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে দীর্ঘদিন ধরে ভাতা বৈষম্যে ভোগা শিক্ষক-কর্মচারীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি, পাশাপাশি উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। বুধবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন তারা, যার ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

শিক্ষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরকারের প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবায়ন হচ্ছে না তাদের দাবি। তাই এবার তারা ‘প্রজ্ঞাপন ছাড়া ঘরে ফিরবেন না’ বলে ঘোষণা দেন। দুপুর ১২টার মধ্যে প্রজ্ঞাপন না জারি হলে শাহবাগ অবরোধের ঘোষণা দেন তারা, যা পরে বাস্তবায়ন করা হয়।

পুলিশ প্রথমে শাহবাগ থানার সামনে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করে। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীরা ব্যারিকেড ভেঙে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন। এই সময় পুরো এলাকা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে—“প্রজ্ঞাপন চাই, প্রতিশ্রুতি নয়।”

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
🔹 ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধি,
🔹 দেড় হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা নির্ধারণ,
🔹 কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীতকরণ।

প্রায় চার দিন ধরে লাগাতার এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। দেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ থেকে শিক্ষকরা কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ—সরকার কথা দিলেও বারবার তা বাস্তবায়ন করছে না, ফলে তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছেন।

তারা আরও বলেন, শিক্ষা খাতে যারা কাজ করছেন, তাদের সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা অন্যান্য সরকারি কর্মচারীর তুলনায় অনেক কম। সরকার চাইলে এই সমস্যা সমাধান করতে পারে, কিন্তু তা না করে বারবার সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে।

আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, সরকার যদি দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে তাদের দাবি পূরণ করে, তবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে এবং শিক্ষক সমাজ পুনরায় আস্থার জায়গায় ফিরে আসবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিক্ষকদের ঢল শহীদ মিনারে, ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি আজ

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য প্রাপ্য বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও রাস্তায় নেমেছেন। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল থেকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হন হাজারো শিক্ষক। ‘২০ শতাংশ বাড়িভাড়া বৃদ্ধিসহ মেডিকেল ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে’ তারা সচিবালয় অভিমুখে ‘মার্চ টু সচিবালয়’ কর্মসূচি শুরু করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে শিক্ষকরা শহীদ মিনারের দিকে আসতে থাকেন। কারও হাতে ব্যানার, কারও হাতে প্ল্যাকার্ড। সবার একটাই দাবি—বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে অবিলম্বে।

জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের যুগ্ম সদস্য সচিব শিক্ষক আবুল বাশার বলেন, “আমাদের দাবি দীর্ঘদিনের। শিক্ষকরা আজ রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে সচিবালয়ের দিকে যাত্রা শুরু করব, তবে আমাদের উপর আবার হামলা হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।”

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির হার একেবারেই ‘অবাস্তব ও অপর্যাপ্ত’। তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া, ১৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে অনড় রয়েছেন।

শিক্ষকরা বলেন, “আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে কোনো শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করবেন না, পাঠদানও হবে না। এই আন্দোলন চলবে প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত।”

এর আগে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের বাধা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় শিক্ষকরা শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। সেদিন থেকে রাতভর খোলা আকাশের নিচে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ প্লাস্টিকের চট বিছিয়ে, কেউ ব্যানার মাথার নিচে রেখে রাত কাটাচ্ছেন।

রাজধানী ছাড়াও দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকলেও তারা শ্রেণিকক্ষে যাচ্ছেন না, বরং স্কুল আঙিনায়, অফিস কক্ষ বা শিক্ষক লাউঞ্জে বসেই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে আন্দোলনের ঢেউ। ফেসবুকে শিক্ষকরা ঢাকায় অবস্থানরত সহকর্মীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে অসংখ্য পোস্ট দিচ্ছেন। অনেকেই লিখছেন—“শিক্ষকের ন্যায্য দাবিতে আজ রাজপথ উত্তাল, প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

শিক্ষক নেতারা বলেন, সরকারের উচিত দ্রুত এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা। কারণ শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর, তাদের প্রতি অবহেলা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অবিচার।

দেশজুড়ে যখন স্কুল–কলেজের পাঠদান বন্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তখন আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলছেন, এই আন্দোলন শিক্ষকদের জীবিকার টিকে থাকার লড়াই, যা শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের সঙ্গেও সম্পর্কিত। তারা আশা করছেন, সরকার দ্রুত ইতিবাচক সাড়া দেবে এবং আন্দোলন স্থগিত করতে পারবেন সম্মানের সঙ্গে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আবাসিক সংকটে জর্জরিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে ২০১২ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে দেশের ৩৪তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি)। বয়স ১৫ বছর পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠতে পারেনি বরিশাল বিভাগের একমাত্র সাধারণ এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী প্রায় ১০ হাজার ৫০০ জন। কিন্তু আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ২ হাজার ৩১ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে আবাসন সংকটে ভুগতে হচ্ছে। বর্তমানে চারটি হল রয়েছে—দুটি ছাত্র ও দুটি ছাত্রী হল। তবে প্রতিটি হলে ধারণক্ষমতার অন্তত দ্বিগুণ শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন।

প্রতিটি হল মূলত ২৮০ জন শিক্ষার্থীর জন্য নির্মিত হলেও বাস্তবে একেক রুমে চারজনের বদলে আটজন পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। ফলে পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, পর্যাপ্ত টেবিল-চেয়ার ও আলমারির অভাবে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

হলগুলোর অবস্থা:

  • বিজয় ২৪ হল: ৫৪৪ আসন, তবে দ্বিগুণ শিক্ষার্থী থাকেন।
  • শেরে বাংলা হল: মোট ৫৩৬ আসন।
  • তাপসী রাবেয়া বসরী হল: ৪৫০ আসন।
  • কবি সুফিয়া কামাল হল: ৫৩০ আসন।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, সিট বরাদ্দে বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। অনেক স্বচ্ছল পরিবারের শিক্ষার্থী কিংবা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পরিচয়ে সিট পাওয়া সহজ হলেও প্রকৃত দরিদ্র শিক্ষার্থীরা সিট পান না।

একজন শিক্ষার্থী নোমান হোসেন বলেন— “আমি অনার্স চতুর্থ বর্ষে পড়ছি। কয়েকবার আবেদন করেও সিট পাইনি। অথচ অনেকে জুনিয়র হয়েও রাজনৈতিক প্রভাব বা শিক্ষকদের রেফারেন্সে সিট পাচ্ছে। এমনকি মাস্টার্স শেষ করেও সিট বরাদ্দ পাচ্ছেন কেউ কেউ।”

শিক্ষার্থীরা আবাসিক ফি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আগে দ্বৈত সিটের জন্য দিতে হতো ১৪২৭ টাকা ও একক সিটের জন্য ২৪০০ টাকা। শিক্ষার্থীরা প্রস্তাব করেছিলেন বছরে সর্বোচ্চ ১২০০ টাকা নির্ধারণ করার। তবে সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে দ্বৈত সিটের জন্য ২৩৭৫ টাকা নির্ধারণ করে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ইয়ামিন বলেন— “নতুন ফি কাঠামো শিক্ষার্থীদের আর্থিক সামর্থ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা ফি জমা দেব না।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তৌফিক আলম স্বীকার করেছেন যে আবাসিক সংকট প্রকট। তিনি জানান, নতুন কয়েকটি হল নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ফি কাঠামো কমানোর বিষয়টি অর্থ কমিটি ও সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, নতুন আবাসিক হল দ্রুত নির্মাণ হলে সংকট কিছুটা হলেও কমবে এবং আবাসিক জীবনে বৈষম্য ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আবাসন সংকট নিরসনসহ ১২ দাবিতে বিএম কলেজে ছাত্র সমাবেশ

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন কলেজে (বিএম) আবাসন সংকট নিরসনসহ ১২ দফা দাবিতে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কলেজ ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

ক্যাম্পাস ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নয়ন সরকার জয়ের সভাপতিত্বে ও সহ-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক সুজয় সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক অর্নব রায়, কার্যকরী সদস্য কাজী মারজান, আসিফ মাহমুদসহ অন্যরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, সেশন ফি-এর পূর্ণাঙ্গ রশিদে টাকার অংক অস্পষ্ট। প্রতিবছর পরিবহন খাতে টাকা উত্তোলন করা হলেও নতুন বাস কেনা হচ্ছে না। বর্তমানে মাত্র তিনটি রুটে সীমিত সংখ্যক বাসে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে যাতায়াত করছেন। দীর্ঘদিন ধরে কলেজ অডিটোরিয়াম বন্ধ রয়েছে এবং চিকিৎসকের সাইনবোর্ড থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত চিকিৎসক বসেন না। লাইব্রেরির হাজারো বই অযত্নে নষ্ট হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

বক্তারা আরও বলেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের অবহেলায় শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, অথচ নতুন প্রশাসনও সংকট সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখেনি। তারা সতর্ক করে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




শুক্রবার ২৫৬ কেন্দ্রে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) ঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা (এমসিকিউ টাইপ)।

এ পরীক্ষা ঢাকাসহ রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আট বিভাগীয় শহরের মোট ২৫৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে।

বিপিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই সকাল ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যে হলে প্রবেশ করতে হবে। এরপর গেট বন্ধ হয়ে যাবে এবং কোনোভাবেই দেরিতে প্রবেশ করা যাবে না। আসন বিন্যাস, সময়সূচি ও কেন্দ্রসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে কমিশনের ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) ও টেলিটকের ওয়েবসাইটে (bpsc.teletalk.com.bd)। পাশাপাশি এসএমএসের মাধ্যমেও পরীক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

প্রশ্নপত্রে থাকবে মোট ২০০টি এমসিকিউ। প্রতিটি সঠিক উত্তরে ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরে ০.৫ নম্বর কাটা যাবে। পরীক্ষার সময়সীমা দুই ঘণ্টা। চারটি সেটে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে—১, ২, ৩ ও ৪। পরীক্ষার্থী যে সেট নম্বরের উত্তরপত্র পাবেন, সেই সেট নম্বরের প্রশ্নপত্র দেওয়া হবে।

পরীক্ষার হলে বই-পুস্তক, ঘড়ি, মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, ব্যাগ, গহনা ও যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রবেশের সময় মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি করা হবে। এসব সামগ্রী নিয়ে হলে প্রবেশ করলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য শ্রুতিলেখক দেওয়া হবে এবং তারা প্রতি ঘণ্টায় ১০ মিনিট করে অতিরিক্ত সময় পাবেন। অন্যান্য প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সময় থাকবে প্রতি ঘণ্টায় ৫ মিনিট। প্রবেশপত্র ছাড়া কোনো পরীক্ষার্থী হলে প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে নতুন করে ডাউনলোড করতে হবে।

যেসব পরীক্ষার্থী ইংরেজি ভার্সনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন, তাদের জন্য আলাদা আসন বিন্যাস ও প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভার্সন পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।

বিপিএসসি আরও জানিয়েছে, পরীক্ষায় অনিয়ম, গরমিল বা অসদাচরণ প্রমাণিত হলে প্রার্থিতা বাতিল করা হবে এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইন, ২০২৩ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জলাবদ্ধতায় ক্লাস, ভবনবঞ্চিত প্রাথমিক বিদ্যালয়

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের ১৩০ নং দক্ষিণ ভূতেদিয়া নব আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর পানির মধ্যেই পাঠ গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে। ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টির এখনও একটি পাকা ভবন হয়নি। ফলে ৩৫ বছর পরও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে শিক্ষা গ্রহণ করছে।

বিদ্যালয়টি চরণভূমিতে (নিচু জমি) হওয়ায় প্রায় ছয় মাসই জলাবদ্ধতা থাকে। এর ফলে শ্রেণিকক্ষ ও মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই এ কষ্টকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিশুদের পড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে।

বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক এবং ৫৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রায় ৪৭ শতাংশ জমির ওপর গড়ে উঠলেও এখনও মাটির ঘরেই চলছে সব শিক্ষা কার্যক্রম।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সেলিম খান জানান, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বহুবার আবেদন করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের বসানোই কষ্টকর হয়ে পড়ে।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা অনিতা রানী দত্ত বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে রয়েছে। কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিদ্যালয়ের জন্য একটি পাকা ভবনের সুপারিশ করা হবে।

উল্লেখ্য, বাবুগঞ্জ উপজেলায় মোট ১৩৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও এ বিদ্যালয়টিই একমাত্র যেখানে এখনও পাকা ভবনের কোনো ব্যবস্থা হয়নি। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, অবিলম্বে একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে শিশুদের দুর্ভোগ লাঘব করা হোক।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষাকারী তিস্তা প্রকল্প যাচাইয়ে বাংলাদেশে আসছে চীনের বিশেষজ্ঞ দল

চন্দ্রদ্বীপনিউজ: উত্তরের জনপদের বহুল প্রত্যাশীত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ চীনের সহায়তা নিতে আগ্রহী। এ জন্য ঢাকা চীনের কাছ থেকে ঋণ চেয়েছে, এবং বেইজিংও প্রকল্পটিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে চীনের একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিনে তিস্তা প্রকল্প যাচাই করতে বাংলাদেশে আসবে।

ঢাকায় সোমবার পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে আলোচনায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এ তথ্য জানিয়েছেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চীনের কাছ থেকে প্রায় ৫৫ কোটি ডলারের ঋণ চেয়েছে। চীনের পক্ষ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, এ প্রকল্পের বিষয়ে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফর এবং চীনের অর্থায়নে বাংলাদেশে হাসপাতাল নির্মাণসহ অন্যান্য প্রকল্পের হালনাগাদ পরিস্থিতিও আলোচনা হয়েছে।

গত মার্চে প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরের পর অন্তর্বর্তী সরকার তিস্তা প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করে। মে মাসে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় পরিকল্পনা কমিশনে চিঠি প্রেরণ করে এবং জুলাইয়ে ইআরডির মাধ্যমে চীনা দূতাবাসকে ঋণের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হয়।

তিস্তা প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি ডলার, যার মধ্যে ৫৫ কোটি ডলার চীনের ঋণ থেকে আসবে। প্রকল্পটি ২০২৬ সালে শুরু হয়ে ২০২৯ সালে শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, অতীতে তিস্তা প্রকল্পে ভারতেরও আগ্রহ ছিল। ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্রসচিব বাংলাদেশ সফরে এসে বিনিয়োগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন।

 




শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি: বরিশালে প্রধানশিক্ষক সভা

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকদের নিয়ে শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবকদের ভূমিকার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। সভায় উঠে এসেছে, অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম খান সভায় বলেন, একজন প্রধানশিক্ষককে নেতৃত্ব, সু-ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক কেন্দ্রিক শিক্ষাদান পদ্ধতি, কার্যকর মূল্যায়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষক-অভিভাবক-শিক্ষার্থীর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, মাসিক সমাবেশ বা অন্যান্য বৈঠকের মাধ্যমে এই সমন্বয় বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

সভায় জানানো হয়, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাসে একবার অভিভাবক সমাবেশ আয়োজন করলেও উপস্থিতি অত্যন্ত কম। পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে শিক্ষকরা বাধ্য হন অভিভাবক ও রাজনৈতিক নেতাদের চাপের কারণে। এতে শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম খান প্রধানশিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান, কোনো অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর ফরমপূরণে অনিয়ম করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকেই শিক্ষার্থীদের মেধা ও শিক্ষার মান বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক প্রধানশিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান তালুকদার, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম, প্রধানশিক্ষকরা মো. অলি উল্লাহ, মো. গোলাম আজম, মো. মানিক হোসেন, কাজী মো. আসাদুজ্জামান, শিক্ষাবোর্ডের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার জাহিদুল ইসলাম পান্না, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক খোকন আহম্মেদ হীরা ও অন্যান্যরা। বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক-শিক্ষকের সমন্বয় অপরিহার্য

শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের পাশাপাশি অভিভাবকদের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, সন্তানদের পড়াশোনায় অভিভাবকদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া এবং শিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় না থাকায় শিক্ষার্থীদের ফলাফল ক্রমেই বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে।

শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বরিশালের গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডস্থ একটি রেস্তোরাঁয় উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভার মূল প্রতিপাদ্য ছিলো “মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানোন্নয়নে করণীয়”

বক্তারা বলেন, অধিকাংশ বিদ্যালয়ে মাসিক অভিভাবক সমাবেশ হলেও তাতে অভিভাবকদের উপস্থিতি হতাশাজনক। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে অভিভাবকরা উদাসীন থেকে যাচ্ছেন। এর ফলেই পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে এবং শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে রাজনৈতিক চাপের মুখে এসব শিক্ষার্থীকে ফরমপূরণের সুযোগ দিচ্ছেন। এতে বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক অধ্যাপক মো. রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, “প্রধানশিক্ষককে হতে হবে একজন দক্ষ নেতা। সুশাসন, পাঠদান পদ্ধতির আধুনিকায়ন, কার্যকর মূল্যায়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি সুস্থ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় উপজেলা মাধ্যমিক প্রধানশিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান তালুকদারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আবুল কাসেম, অবসরপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক আনোয়ার হোসেন খান, প্রধানশিক্ষক মো. অলি উল্লাহ, শিক্ষাবোর্ডের লিগ্যাল অ্যাডভাইজার জাহিদুল ইসলাম পান্না, প্রধানশিক্ষক মো. গোলাম আজম, মো. মানিক হোসেন, কাজী মো. আসাদুজ্জামান, বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খোকন আহম্মেদ হীরাসহ অনেকে।

বক্তারা অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সমন্বয় জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরমপূরণের ক্ষেত্রে শিক্ষক-অভিভাবক উভয় পক্ষকেই আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বিনা মূল্যের পাঠ্যবই চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে খোলাবাজারে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: শিক্ষা  একটি দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রা্খে আর শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। আর এ শিক্ষিত জনগোষ্ঠী

তৈরি করতে শতভাগ শিশুকে স্কুলমুখী করা প্রয়োজন আর এ লক্ষে বছরের শুরুতেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুদের হাতে বিনা মূল্যে পাঠ্যবই তুলে দেয় সরকার। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে সব শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে এপ্রিল মাস লেগে যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ২৩ ছাপাখানার বিনা মূল্যের পাঠ্যবই চড়া মূল্যে বিক্রি হয়েছে খোলাবাজারে। একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গোয়েন্দা রিপোর্টটি জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) পেয়েছে। যার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি ২৩ ছাপাখানার মালিককে সতর্ক করে দিয়েছে এনসিটিবি। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসা ২৩ ছাপাখানা হলো রাব্বিল প্রেস, হাওলাদার প্রেস, মেরাজ প্রেস, ফরাজি প্রেস, ফাইজা প্রেস, শাপলা প্রেস, দিগন্ত প্রিন্টার্স, সোহাগ প্রিন্টার্স, টাইম মিডিয়া প্রেস, লেটার অ্যান্ড কালার প্রেস, মেঘদ্যুত প্রেস, টাঙ্গাইল প্রেস, আলিফ প্রেস, মৌসুমী প্রেস, জনতা প্রেস, এস আর প্রিন্টিং প্রেস, আনন্দ প্রিন্টার্স, রেদওয়ানিয়া প্রেস, অক্সফোর্ড প্রেস, মোল্লা প্রিন্টিং প্রেস, অটো প্রিন্টিং প্রেস, সৃষ্টি প্রিন্টার্স ও গ্লোবাল প্রিন্টিং প্রেস। এসব ছাপাখানার বই খোলাবাজারে বিক্রি সিন্ডিকেটের সঙ্গে ১৬ পরিবহন কনট্রাক্টর জড়িত থাকার তথ্যও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তারা হলেন আবুল বাতেন, মো. শুকুর আলী, রহমত আলী, চান মিয়া, রাসেল (এমআর ট্রান্সপোর্ট), মেহেদী, আলমাস, মো. রফিক, মহিদ হোসেন, বাবুল, আক্কাস আলী, রাজিব, খলিল, জীবন, আব্দুল কাদের ও মনসুর। এই গোয়েন্দা রিপোর্টটি গত তিন ধরে এনসিটিবিতে হ্যান্ডবিল আকারে বিলিও করা হয়েছে। ১৬ পরিবহন কনট্রাক্টরকে আগামী শিক্ষাবর্ষে কাজ না দিতে ২৩ ছাপাখানার মালিককে মৌখিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে এনসিটিবি।

এ ব্যাপারে জনতা প্রেসের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘কে বা কারা এই হ্যান্ডবিল আকারে বিলি করেছে তা জানি না। তবে যারা পাঠ্যবই চুরি ও বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত, তারাই নিজেদের দোষ ধামাচাপা দিতে এই কাজটি করেছে বলে আমার মনে হয়েছে।’ বিনা মূল্যের পাঠ্যবই চড়া মূল্যে খোলাবাজারে বিক্রি সিন্ডিকেটের সঙ্গে তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) উৎপাদন নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আবু নাসের টুকু বলেন, ২৩ ছাপাখানা ও ১৬ পরিবহন কনট্রাক্টরের নামসহ গোয়েন্দা রিপোর্ট তারা পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি স্কুলে বই বিতরণের দিন থেকেই রাজধানীর বাংলাবাজার, নীলক্ষেত, মোহাম্মদপুর, উত্তরাসহ অভিজাত এলাকার বইয়ের দোকানে বিনা মূল্যের বই বিক্রি হয়। রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি স্কুলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বললে তারা অভিযোগ করেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী তারা বই পান না। যতসংখ্যক বইয়ের চাহিদা দেওয়া হয়, তার থেকে সব সময়ই কিছু বই কম দেয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা শতভাগ পূরণ না করার কারণে তাদেরকে বাজার থেকে বই কিনে নিতে হয়।’ এদিকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর কঠোর নজরদারিতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ের চাহিদা ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের চেয়ে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি কমেছে; যা ছাপাতে খরচ হতো প্রায় ২০০ কোটি টাকা।