সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই হবে বইমেলা : সংস্কৃতি উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, বইমেলা আয়োজনে কোনো সমস্যা হবে না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বইমেলার আয়োজন করা হবে।

সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আইনের মধ্য থেকেই সব স্বপ্ন কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায় সেটা দেখা হবে।




এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ বা ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফল আগামীকাল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা চ্যালেঞ্জ বা ফল পুনর্নিরীক্ষণের ফল আগামী ১৪ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুরে প্রকাশিত হবে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তপন কুমার সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ঢাকা বোর্ডে ১ লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করেছেন। এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় যে বিষয়গুলোর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে ওই বিষয়গুলোর ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ শিক্ষার্থীরা পেয়েছেন। তবে, সাবজেক্ট ম্যাপিং হওয়া বিষয়গুলোর ফল পুনর্নিরীক্ষণের সুযোগ ছিল না। গত ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন নেওয়া হয়।

যেভাবে ফল জানা যাবে
শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই পদ্ধতিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল জানা যাবে। একটি হলো এসএমএসের মাধ্যমে। এছাড়া নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ঢুকে পরীক্ষার্থীরা ফল দেখতে পারবেন।

প্রথম ফল প্রকাশের সময় যেভাবে এসএমএস পাঠিয়ে ফিরতি এসএমএসে ফল জানা যায়, পুনর্নিরীক্ষণের ক্ষেত্রে তা নয়। এক্ষেত্রে প্রার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সময় যে মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন, সেই নম্বরে বোর্ড থেকে এসএমএস পাঠিয়ে ফল জানিয়ে দেবে। তাই ফলাফলের জন্য এসএমএস পাঠানোর প্রয়োজন নেই।

এছাড়াও শিক্ষার্থীরা অনলাইনে নিজ শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফল জানতে পারবেন।




পাঠ্যপুস্তকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমানের নাম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন শ্রেণির একাধিক বই পরিমার্জন হচ্ছে। সেখানে ইতিহাস-সংক্রান্ত বই বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ে’ স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করা l

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বলছে, বিগত সরকারের সময়ে ইতিহাসকে এককেন্দ্রিক করে ফেলা হয়। সে কারণেই এবার পরিমার্জন হচ্ছে।

এ ছাড়া যার যতটুক অবদান সেই অনুযায়ী মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দীসহ অন্যরাও স্থান পাবেন। আর বাংলা সাহিত্যে ‘বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থান’ আবু সাঈদ ও মুদ্ধের গল্প এবং আন্দোলনের গ্রাফিতিও অন্তর্ভুক্ত হবে। অন্যদিকে একাদশ শ্রেণির বাংলা সাহিত্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক জাফর ইকবালসহ চারজন লেখকের লেখা বাদ দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা যখন সরকারে ছিল, তখন পাঠ্যপুস্তকের পরিমার্জন করেছে। নিজেদের মতাদর্শ সূক্ষ্মভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়েছে। নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে করা হয়নি। ফলে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও সরকারের যাত্রা আর বিদায়ের মতো পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস-সংক্রান্ত তথ্য হয় অন্তর্ভুক্তি না হয় বাতিল হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঠিক ইতিহাসটা পাঠের সুযোগ দিতে হবে। একই বিষয়ের ইতিহাস বারবার পরিবর্তন হলে তারা বিভ্রান্ত হয়। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’

যা যা পরিবর্তন হচ্ছে
চতুর্থ শ্রেণি থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্য হিসেবে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়’ বইয়ে পরিবর্তন করা হচ্ছে। এই বইয়ের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অধ্যায়ে ‘২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা’ অংশ পরিবর্তন করে ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা হিসেবে উল্লেখ করা হতে পারে। আর টেক্সট হতে পারে ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ২০০ আর ২৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে আবার স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা বইয়ের বিভিন্ন গল্প ও উপন্যাসও পরিমার্জন করা হচ্ছে। যে এতে শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনীর প্রবন্ধ ‘বায়ান্নর দিনগুলো’ বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও মহাদেব সাহার লেখাও বাদ পড়ছে।

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা সাহিত্যে ‘বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থান’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ যোগ করা হয়েছে। থাকবে একটি কবিতাও। এ ছাড়া যুক্ত করা হবে আন্দোলন চলাকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অঙ্কিত গ্রাফিতি। বইয়ের শেষ পৃষ্ঠায় বিভিন্ন ধর্মীয় বাণী, চিরন্তন সত্য প্রবাদ থাকবে।

অন্যদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘আমার পথ’ প্রবন্ধ বাদ দিয়ে ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধ ও বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের লেখা ‘গৃহ’ গল্প বাদ দিয়ে ‘অর্ধাঙ্গী’ গল্প সংযোজন করা হবে বলে জানা গেছে।




সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির আবেদন আজ থেকে শুরু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সরকারি-বেসরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির আবেদন শুরু হচ্ছে আজ (মঙ্গলবার) থেকে। বেলা ১১টা থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এই প্রক্রিয়া চলবে ৩০ নভেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আবেদন শেষে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই ও ভর্তি করানো হবে।

এবারের ভর্তির আবেদন ফি ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান টেলিটকের মাধ্যমে এ ফি পরিশোধ করতে হবে।

ডিজিটাল লটারি শেষে আগামী ১৭ ডিসেম্বর শুরু হবে ভর্তি কার্যক্রম। যা চলবে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর প্রথম অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তি শুরু হবে ২২ ডিসেম্বর থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকার ভর্তি চলবে ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত।




বরিশাল মডেল স্কুলের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবীতে বিক্ষোভ

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। রোববার সকাল ১১টায় নগরীর বাধরোড শিশু পার্কের সামনে সড়ক অবরোধ করে তারা এ প্রতিবাদ জানায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. এহতেসাম উল হক ২০২১ সালের জুন মাস থেকে এই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন। তার আমলে, বিশেষত সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে নানা সময়ে ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে দুর্ব্যবহার এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, তিনি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করেন এবং সাধারণ মানুষের সাথে কোনো সহযোগিতা বা সহানুভূতি দেখান না বলে অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘‘অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. এহতেসাম উল হক আমাদের সাথে ঠিকমতো ব্যবহার করেন না। তিনি আমাদের নানা প্রশ্নের জবাব না দিয়ে শুধু দুর্ব্যবহার করেন।’’ শিক্ষার্থীরা আরও জানান, তিনি অভিভাবকদেরও কোনো গুরুত্ব দেন না, তাদের সাথেও তার আচরণ অসংবেদনশীল।

এ ঘটনার পর, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে গিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। এ সময় তারা ১০ দফা দাবি তুলে ধরে অধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে শিগগিরই পদক্ষেপ না নেয়া হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারি দেন।

পরে শিক্ষকদের একটি প্রতিনিধিদল এসে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনা করেন। তারা শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন। এরপর শিক্ষার্থীরা ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে তাদের মানববন্ধন শেষ করে ক্লাসে ফিরে যান।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী উৎসব উদযাপন

“এখানে ছিল- এখানে আছে, আমাদের ঋণ তোমারই কাছে” স্লোগানকে ধারণ করে সাগরপারের জনপদ কলাপাড়ার ঐতিহ্যবাহী খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের প্রথম পুনর্মিলনী উৎসব উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে শহরে বর্ণাঢ্য র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয় এই র‍্যালির মাধ্যমে।

রবিবার সকাল দশটায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে কলাপাড়া পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফের বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। র‍্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম বিশ্বাস, উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নাসির তালুকদার, সদস্য সচিব রেজাউল করিম বাবলা, প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম। র‍্যালিতে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছাড়াও শত শত অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এদিকে, আগামী ২৮ ডিসেম্বর বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান উদযাপনের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে এতে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং নিবন্ধনের শেষ তারিখ আগামী ১৫ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানকে ঘিরে কলাপাড়ায় ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



প্রজ্ঞাপন জারি, যারা পারবেন না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ট্রাস্ট ও অন্যান্য সংস্থা পরিচালিত স্কুল-কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মনোনয়ন আগের মতোই সংস্থা প্রধান দেবেন। পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের আওতার বাইরে থাকবে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গভর্নিংবডি-ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রবিধানমালা-২০২৪-এর প্রবিধি ৬৩-তে উল্লিখিত ট্রাস্ট, মিশনারি, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, কালেক্টরেট, পুলিশ লাইন, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, রেলওয়ে, বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড বা অন্য কোনো সংস্থা বা ফাউন্ডেশন পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ২০ আগস্টের ১৮৩ নম্বর প্রজ্ঞাপনের আওতা বহির্ভূত থাকবে।
অর্থাৎ বিভাগীয় কমিশনার-জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং তার মনোনীত প্রার্থী এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতি হতে পারবেন না।

এদিকে ২০ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে বিভাগীয় কমিশনার-জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা তাদের মনোনীত প্রার্থীকে দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে বেসরকারি ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০২৪’-এর ৬৮ অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হলো।




বিশ্বের ৩ শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পার্সটুডে- ইহুদিবাদী ইসরাইলের বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির প্রধান ড্যানিয়েল চামুভিট্‌স বলেছেন, আল-আকসা তুফান অভিযানের পর থেকে এ পর্যন্ত ‌আমেরিকাসহ পাশ্চাত্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ ইসরাইলের শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে তিনশ’র বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ইসরাইলি দৈনিক ‘ইয়েদিউত আহারোনোত’ এ তথ্য জানিয়েছে।
বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির প্রধান আরও জানিয়েছেন, ইসরাইলের শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞায় বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশ, আমেরিকা এবং কানাডা শামিল হয়েছে।

বার্তা সংস্থা ‘মেহের নিউজ’ এসব নিষেধাজ্ঞার ধরণ সম্পর্কে লিখেছে, এসব নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইসরাইলের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া, যৌথ নিবন্ধের প্রকাশনা বাতিল করা, ইসরাইলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা কেন্দ্রের শিক্ষক ও গবেষকদের সম্পর্ক ও সহযোগিতা বাতিল করা, এমনকি দখলদার ইসরাইলের সাথে সহযোগিতা রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠাগুলোকে সহায়তা প্রদান বন্ধের পাশাপাশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা।

বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, গাজা ও লেবাননে ইসরাইলি হামলা তাদের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর মারাত্মকভাবে প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রায় এক-চতুর্থাংশকে সেনাবাহিনীতে ডাকা হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটও কমবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বেন-গুরিয়ন ইউনিভার্সিটির প্রধান ড্যানিয়েল চামুভিট্‌স গত এক বছরের যুদ্ধের প্রভাবকে অকল্পনীয় হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষার্থীকে সেনাবাহিনীতে ডাকা হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর পর থেকে ইহুদিবাদী ইসরাইল গাজা উপত্যকায় নির্বিচারে বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসরাইলি এই হামলায় হাসপাতাল, স্কুল, শরণার্থী শিবির, মসজিদ, গির্জাসহ হাজার হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। লেবাননেও এখন একই কায়দায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দখলদার সেনারা।




মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনি কোটা রেখেই ঢাবির ভর্তি কার্যক্রম

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। যে আন্দোলনের শুরুটা ছিল কোটা সংস্কার ঘিরে। শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান-নাতি-নাতনিদের জন্য বরাদ্দ করা ৩০ শতাংশ কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা।

অথচ অভ্যুত্থানের তিন মাস না পেরোতেই মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনি কোটা বহাল রেখে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই ভর্তি প্রক্রিয়া জুলাই বিপ্লবের চেতনাবিরোধী বলে মনে করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।




পাঠচক্র থেকে গণ-অভ্যুত্থানে

ভাবিনি কখনো সামনের সারিতে এসে রাজনীতি করব। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকে রাজনীতিতে আগ্রহ ছিল। যুক্ত ছিলাম প্রথম কোটা আন্দোলনে। সামাজিক একটা পরিবর্তন চাইতাম। যখন প্রথম বর্ষে পড়ি, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনে আমার এক সহপাঠীকে আটক করা হয়। ঘটনাটি আমাকে দারুণভাবে প্রভাবিত করে।

২০১৯ সালে নুরুল হকের প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিই। কিন্তু প্রথাগত ধারার রাজনীতি কখনো সেভাবে আমাকে আকর্ষণ করেনি। তাই নুরুল হকের সংগঠনে পরে আর যুক্ত হইনি। তবে ক্যাম্পাসের যেকোনো ন্যায্য আন্দোলনে সব সময় সোচ্চার ছিলাম। ২০১৯ সালে আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে যে আন্দোলন হয়, সেখানে ছিলাম। সন্ত্রাসবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আমার ভূমিকা ছিল। ২০২০ সালে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে রাজু ভাস্কর্যের সামনে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী ৫৫ দিন কর্মসূচি পালন করেন। সেখানে আমরা অড্ডা দিয়েছি, মাহফুজ ভাইয়ের (মাহফুজ আলম) সম্পাদনায় কাঁটাতার নামে পত্রিকা বের করেছি। ওই সময় আমার ভেতরে একটা পরিবর্তন আসে। বুঝতে পারি, নতুনভাবে শুরু করতে হবে। তবে কী করব, তা জানতাম না। এ সময় পৃথিবীতে করোনা শুরু হলো।

করোনার পর ক্যাম্পাসে ফিরে দেখলাম, আবরার হত্যাসহ আরও কিছু নিপীড়নমূলক ঘটনায় ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি যেভাবে নাজুক হয়েছিল, তারা সেটা কাটিয়ে উঠেছে—ছাত্রবান্ধব কর্মসূচি দিচ্ছে, লাইব্রেরি করছে ইত্যাদি। অনুভব করলাম, ছাত্র আন্দোলন হারিয়ে যাচ্ছে। তাই একটু পড়াশোনার মধ্যে ঢুকলাম। এই পর্যায়ে মাহফুজ ভাইয়ের নেতৃত্বে অনেকটা গোপনেই শুরু হলো গুরুবার আড্ডা। রাজনৈতিক সংস্কৃতি, ছাত্র আন্দোলন, ধর্ম প্রভৃতি বিষয় নিয়ে পড়াশোনা আর তর্ক—এভাবেই আড্ডাটা চলছিল।

২০২২ সালে আবরারের স্মরণসভায় হামলা হয়। এ ঘটনায় সে সময় ছাত্রদের পাশে কেউ দাঁড়ায়নি। একপর্যায়ে ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি নামে নতুন সংগঠন করলাম। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৬ জানুয়ারি কোনো বাধা ছাড়াই ভোটারবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এল। সবার মধ্যেই হতাশা।

আমি তখন টিউশনি করতাম, কোচিংয়ে ক্লাস নিতাম। তবে মূল লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ছাত্রশক্তির সাংগঠনিক বিস্তার ঘটানো। আমরা হাল ছাড়িনি। নানা ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছি। সংগঠনের ব্যানারে না করে সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, ইফতার মাহফিল, ফিলিস্তিনের সঙ্গে সংহতি, নারী নিপীড়নের বিরুদ্ধে কর্মসূচি—এসব করেছি। আমাদের চিন্তা যত না ছিল সংগঠন করা, তার চেয়ে বেশি ছিল সংগঠনের হাত ধরে একটা রাজনৈতিক পরিসর রচনা এবং ছাত্রদের সেখানে যুক্ত করা। এ জন্য আমরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপর জোর দিই। মাহফুজ ভাই, আসাদ ভাই (ভূঁইয়া মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান) মিলে পূর্বপক্ষ ও রণপা নামে পত্রিকা বের করেন। পাশাপাশি চলে গুরুবার আড্ডা, রসিক আড্ডা নামের পাঠচক্র এবং ছয়চক্র নামের একটি একাডেমিক আড্ডা। আরও ছিল রাষ্ট্রকল্প লাইব্রেরি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভেতর দিয়ে এগুলো আদতে ছিল লড়াই।

এই বাস্তবতায় আমরা ওই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হই। সবাই মিলে গ্রন্থাগারের ভেতরে গিয়ে বিসিএসপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের ডাকলাম। স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই-ই এল। আমরা একটা দলের মতো হলাম। গ্রন্থাগারের সামনে মিছিল করে কোটা পুনর্বহালের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিলাম। তখন কিন্তু আমাদের কোনো ব্যানার ছিল না। ব্যানারবিহীনভাবে মাত্র তিনটি কর্মসূচির পর কোরবানি ঈদের বন্ধ শুরু হলো। আন্দোলনে ঈদের আগে অল্প কয়েকজন মেয়ে ছিল, পরে অনেকে যোগ দেয়। আমরা আলটিমেটাম দিলাম।

ঈদের মধ্যে সাংগঠনিকভাবে গোছালাম। সারা দেশে তৈরি করলাম প্রতিনিধি নেটওয়ার্ক। সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে অভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া হলো। জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুরের বেগম রোকেয়া—বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় স্বতঃস্ফূর্তভাবে শুরু হলো আন্দোলন। ঈদের ছুটিতে আমরা বিভিন্ন সার্কেলে গিয়েছি, বুদ্ধিজীবীদের কাছে গিয়েছি। তেমন সাড়া পাইনি।

ঈদের পর ১ জুলাই আন্দোলন শুরু হলেও ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারে যাত্রা শুরু হয় ৫ তারিখ। ‘কোটা পুনর্বহাল চাই না’ ফেসবুক গ্রুপে নাম আহ্বান করলে এই নামের পক্ষে বেশি ভোট পড়ে। আর এমন নাম দেওয়ার কারণ হলো, কোটা নিয়ে ২০১৮ সালের আন্দোলনটা ছিল ব্যক্তিগত স্বার্থের জায়গা থেকে। ফলে এমন একটা নাম আমরা দিতে চেয়েছি, যাতে নামের মধ্যেই একটা নীতি প্রতিফলিত হয়। শুধু চাকরি নয়, এ আন্দোলনের মাধ্যমে দুর্নীতির বিতাড়ন, ভালো আমলাতন্ত্র—এসবও যুক্ত করতে চেয়েছিলাম। করা যায়নি। মাঠে শুধু বৈষম্যবিরোধীটাই টিকে গেছে।

আন্দোলনের কৌশল

আন্দোলনে সব সময় ভিন্ন ধরনের নামে কর্মসূচি দেওয়ার চেষ্টা করেছি আমরা। হরতাল-অবরোধ—এসব খুব প্রচলিত। মানুষ জানে এখানে কী হয়—একটা বাধা আসে, পুলিশ বা ছাত্রলীগ হামলা করে। তাই আমরা ‘বাংলা ব্লকেড’ নাম দিলাম এই চিন্তা করে যে শহুরে মধ্যবিত্ত এখানে যুক্ত হোক। আবার জেন-জি প্রজন্মও যেন যুক্ত হয়, তা-ও আমাদের লক্ষ্য ছিল। এই ভিন্নধর্মী কর্মসূচির প্রভাব কিন্তু আন্দোলনে বেশ ভালোভাবেই পড়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার মধ্য দিয়ে আন্দোলন যখন দমনের চেষ্টা হলো, তখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নেমেছেন। আবার দোয়া-মোনাজাত, গায়েবানা জানাজা—এ ধরনের কর্মসূচিও ছিল আমাদের। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এতে সংযুক্ত হয়েছেন। আদতে আমরা ডান-বাম, শহর-গ্রামসহ নানান মতাদর্শের মানুষ যেন একটা জায়গায় দাঁড়াতে পারে—এমন এক পরিসর তৈরি করতে চেয়েছি।

আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান ছিল মধ্যপন্থী। বামপন্থী-ইসলামি-বিএনপিপন্থী—সবার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এ অবস্থানের কারণে সবার সঙ্গেই আমরা মিশতে পারতাম, এখনো পারি।

আন্দোলনের আরেকটি কৌশলগত দিক ছিল একক নেতৃত্ব না রাখা এবং পরিচিত কাউকে সামনে না আনা। আমি যেহেতু পরিচিত ছিলাম না, তাই সামনে ছিলাম। এমনকি প্রথম দিকে জুনিয়ররা সামনে ছিল। প্রতিদিনই গান-কবিতা হচ্ছে। অপরিচিতদের দেখে সবাই যুক্ত হচ্ছে। কেউ বুঝতেই পারেনি, এখানে নেতৃত্বটা দিচ্ছে কে।

শেখ হাসিনা তখন দেশে ছিলেন না, চীনে গিয়েছিলেন। আমরা ভেবেছি, দেশে ফিরে তিনি ইতিবাচক কিছু একটা বলবেন। কিন্তু ১৪ জুলাই তিনি আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে কটূক্তি করলেন। কথাটি সবার আত্মমর্যাদায় আঘাত করল। ওই রাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হল থেকে বেরিয়ে এলেন ক্যাম্পাসের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা।

১৫ জুলাই মেয়েদের ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা হামলা করল। ক্যাম্পাস থেকে আমরা বিতাড়িত হলাম। ১৫ তারিখ রাত থেকে একটু একটু পালিয়ে থাকতে শুরু করি। মুঠোফোন বন্ধ রাখি। ১৬ জুলাই রংপুরে আবু সাঈদসহ ছয়জন শহীদ হন। এদিন বিকেলে শহীদ মিনারে আমাদের কর্মসূচি ছিল। সবাই লাঠি নিয়ে শহীদ মিনারে এলেন। আমি ঘোষণা করলাম, আবু সাঈদ শহীদ হয়েছেন। মারা যাওয়ার আগের দিনও বাকেরের (আবু বাকের মজুমদার) সঙ্গে তাঁর কথা হয়।

আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর থেকেই মূলত আন্দোলন সর্বব্যাপকতা লাভ করে। গণজোয়ার শুরু হয়। জাহাঙ্গীরনগর, ঢাকা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করে তাদের বিতাড়িত করেন শিক্ষার্থীরা। মেয়েদের হলে শুরু হয় প্রতিরোধ। এ আন্দোলনে মেয়েদের ভূমিকা ছিল ব্যাপক। আন্দোলনের বড় শক্তিও তাঁরা।

যেভাবে গোয়েন্দাদের ধোঁকা দিয়েছিলাম

আমাদের আন্দোলনের সফলতার আরেকটি বড় কারণ হলো, গোয়েন্দাদের ধোঁকা দিতে পারা। ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো বন্ধের ঘোষণা দেয় ইউজিসি। ১৭ জুলাই ছিল কফিনমিছিল। ওই দিন আবার মহররম। আমরা এত প্রচারণা করতে পারিনি। সেদিনও পুলিশ, র্যাব, বিজিবি সম্মিলিতভাবে আমাদের আক্রমণ করে। এর মধ্যে ডিজিএফআইয়ের লোকজন কথা বলতে চায় আমাদের সঙ্গে। তারা চেয়েছিল আমরা যেন সবাইকে নিয়ে ওদের সঙ্গে বসি, যাতে ওদের পক্ষে সবাইকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কিন্তু সবাইকে নিয়ে ওদের সঙ্গে আমরা বসিনি, আমাদের কেউ কেউ বসেছে আর পরিকল্পনা করেই কাউকে কাউকে বাইরে রাখা হয়েছে। ক্যাম্পাসের মধ্যে ওদের সঙ্গে যখন বসেছি, তারা আমাদের বলেছে, ‘তোমরা সংলাপ করো। তোমরা যার সঙ্গে বসতে চাও, তার সঙ্গেই বসতে পারো।’ বিপরীতে আমরা বলেছি, ‘ঠিক আছে আমাদের কথা মানলাম।’ আমি হয়তো গোয়েন্দাদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসেছি, আর আসিফকে (আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া) রাখা হয়েছে বাইরে। আমাদের মিটিং শেষ হওয়ার আগেই সে পরের দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে দিয়েছে। গোয়েন্দারা বারবার এভাবে বিভ্রান্ত হয়েছে। ওরা বুঝতে পারত না, কাকে বললে কী হবে? কে মূল নেতৃত্বে?

একপর্যায়ে ভাবতে থাকি, যেকোনো মুহূর্তে আমাদের গ্রেপ্তার করবেন গোয়েন্দারা। তাই তাঁদের সঙ্গে বৈঠকের সময় নিজেদের মুঠোফোন নিয়ে যাইনি। এ সময় তাঁরা আবারও আমাদের বলেন, ‘তোমাদের সবাইকে লাগবে, তোমরা সংলাপে বসো।’ আমরা বলেছি, ‘আমাদের হল থেকে বের করে দিচ্ছেন, মন্ত্রীরা নেতিবাচক বক্তব্য দিচ্ছেন, ক্যাম্পাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এভাবে তো সংলাপ হয় না। এগুলো ঠিক করেন, বসব।’ তাঁদের এভাবে বুঝ দিয়ে বের হতাম। কথা দিলেও তা বাস্তবায়ন করতাম না, অন্য কিছু একটা করতাম।

১৮ জুলাই কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দিলাম। এ সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মাঠে নামলেন, শহীদ হলেন অনেকে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যখন মারা হচ্ছিল, সে সময় শুরু হয়েছে আমাদের পলাতক জীবন—মাঠে ছিলাম না—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিলাম। ভিডিও–বক্তৃতা দিচ্ছি, ঘন ঘন জায়গা পাল্টাচ্ছি। কাছে কখনো মুঠোফোন ছিল, কখনো ছিল না। সবই করেছি গোয়েন্দাদের ধোঁকা দেওয়ার জন্য। জানতাম আমাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এক রাতে ধানমন্ডির একটা বাসায় ছিলাম। হঠাৎ মনে হলো, আমি এখানে নিরাপদ না। কাউকে না বলে খালি পায়ে বের হয়ে গেলাম। ওই রাতে ধানমন্ডির একটা মসজিদে ছিলাম। পরদিনই সেই বাসার মালিককে তুলে নিয়ে গেছে। সে রাতে ওখানে থাকলে গ্রেপ্তার হতাম নিশ্চিত।

তুলে নিয়ে গেল

১৯ জুলাই ১০-১২ দিন পর বাসায় গেলাম। তত দিনে ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেছে। আসিফ ও বাকেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে পারলাম না। সরকার সে সময় একদিকে নির্বিচার মানুষ মারছে, অন্যদিকে ধরছে আন্দোলনকারীদের। আওয়ামী বয়ান ছিল, মৃত্যুর জন্য ছাত্ররা দায়ী, আন্দোলনকারীরা দায়ী। সরকারবিরোধীরা সুযোগ পেয়েছে, তাই এত মানুষ মারা গেছে।

এদিকে এভাবে পালিয়ে বেড়াতে আমার আর ভালো লাগছিল না। ভাবলাম, যা হওয়ার হবে, এবার প্রকাশ্য হব। ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় নন্দীপাড়ায় এক বন্ধুর বাসায় গেলাম। রাত ১১টায় কারফিউর সংবাদ দেখলাম। তবে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে আন্দোলনের কোনো সংবাদ নেই। তখন আমি বিবিসি, এএফপি ও নেত্র নিউজের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। বার্তা পাঠালাম, শাটডাউন অব্যাহত থাকবে।

রাত বোধ হয় তখন আড়াইটা-তিনটা বাজে। ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ ডেকে তোলা হলো আমাকে। শুনলাম, ডিবি পুলিশ এসেছে। ছাদে চলে গেলাম। আমাকে অনুসরণ করে পুলিশও উঠে এল ছাদে। তাদের বললাম, ‘আমিই নাহিদ ইসলাম।’ চোখ বেঁধে আমাকে নিয়ে চলে গেল তারা। পরে আমাকে একটা রুমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করল, কার কার সঙ্গে যোগাযোগ আছে, কে টাকা দেয় ইত্যাদি।

২০ জুলাই বিকেল থেকে আমাকে ওরা দাঁড় করিয়ে হাতে হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে মারতে থাকে। কেউ এসে মারে, কেউ বোঝায়। কেউ আবার ইমোশনাল কথাবার্তা বলে। বলে, ‘আন্দোলন স্থগিত করো।’

আমাকে ওরা খাবারের সঙ্গে কিছু মিশিয়ে দিয়েছিল কি না জানি না, ডিবিতে সব সময়ই হ্যালুসিনেশনের মতো হতো আমার। একসময় তারা বলল, ‘তোমাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কাল কোর্টে রায় হবে। তুমি গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে, আন্দোলন স্থগিত করবে। কোটা সংস্কার হয়ে যাবে। তোমরা চাইলে আন্দোলন থেকে এভাবে এক্সিট নিতে পারবে।’ আমি হ্যাঁ-না কিছুই বলিনি।

২১ জুলাই ভোর চারটার দিকে আমাকে তারা পূর্বাচলে ফেলে যায়। বলেছিল, ‘তোমাকে যে তুলে এনেছি, এটা কেউ জানে না। কাউকে জানাবে না। জানালে আবার তুলে নিয়ে যাব।’ তারা আমার পকেটে এক হাজার টাকাও দিয়ে যায়, যাতে বাড়ি ফিরতে পারি। গোটা দিন গোয়েন্দারা আমাকে নির্যাতন করেছিল। আন্দোলনের পরিস্থিতি কিছুই জানতাম না। ২১ তারিখ ভোরে প্রথম আলোনিউ এজসহ ৮-১০টি পত্রিকা কিনে বাসায় এলাম। পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেলাম।

তারপর চিকিৎসার জন্য গেলাম গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে। সেখানেও গোয়েন্দা সংস্থা পিছু ছাড়ল না। আদতে ২২ জুলাই থেকেই গণস্বাস্থ্যে আমরা ওদের কাছে জিম্মি ছিলাম। দরজার সামনে সব সময় সাত-আটজন গোয়েন্দা থাকত। ইন্টারনেট সংযোগ কেটে দিয়েছিল। দর্শনার্থীদের আসতে দিত না। এমনকি আমার মুঠোফোনও নিয়ে গিয়েছিল। তখন সহযোদ্ধা অনেকের খোঁজ পাচ্ছি না। এদিকে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ক্রমাগত আমাদের চাপ, প্রলোভন, সবশেষে হুমকি দিচ্ছে। ওদের এসবের উদ্দেশ্য ছিল আন্দোলন দমন করা। আমাদের বলল, ‘সংবাদ সম্মেলন করো।’ কী কী বলতে হবে, তা তারা শিখিয়ে দিল।

তবে ২৩ জুলাই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে যে সংবাদ সম্মেলন হলো, সেখানে আমরা ওদের শেখানো কথা বললাম না। ওরা কোনোভাবেই আমাকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। কারণ, ওদের আমি এক কথা বলি, আবার গণমাধ্যমে বলি সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা।

এর মধ্যে আসিফ, বাকেরও গণস্বাস্থ্য হাসপাতালবাসী হয়। একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে আসিফ, বাকেরসহ আমাকে ওরা আবার তুলে নেয়। এবার ডিবি অফিসে। পরে আরও কয়েকজন সমন্বয়ককে তুলে আনা হয়। চলতে থাকে মানসিক-শারীরিক নির্যাতন। ওরা বলে, মেয়েদের ধরে নিয়ে আসবে। যেসব সমন্বয়ক এখন বাইরে আছে, তাদেরও গুম করা হবে। নানা রকম চাপ দিয়ে আমাদের কাছ থেকে বিবৃতি আদায় করে তারা।

বলা দরকার, ডিবি অফিসেই পুলিশের নিম্নপদস্থ দু-একজন আমাদের সাহায্য করত। রাতে পত্রিকা দিতে চেষ্টা করত।

৩০ তারিখ ছাড়া পেলাম আমরা। নির্যাতনের ধকলে আমি তখন খুব অসুস্থ। কী হচ্ছে বুঝতে পারছি না। ডিবিতে বাধ্য হয়ে বিবৃতি দিয়েছি, মানুষ ভুল বোঝে কি না—এসব নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পরে বুঝলাম, না, সবাই বুঝতে পেরেছে কোন পরিস্থিতিতে আমরা সেদিন বিবৃতিটি দিয়েছিলাম।

অতঃপর এক দফা

ব্যক্তিগতভাবে ১-২ আগস্টেই আমি বুঝেছি, এবার এক দফার ঘোষণা দিতে হবে। ৩ জুলাই বলেছিলাম, আমাদের চোখ গণভবনের দিকে। এরপর তো ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ভীত হয়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেন। বেলা দেড়টার দিকে শুনলাম, হাসিনা পালিয়েছেন। প্রথমে বিশ্বাস করিনি। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে বুঝলাম, ঘটনা সত্যি।

মানুষ মুক্তি খুঁজছিল। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে সেই মুক্তি ঘটেছে। সব সময় আমি পেছনেই থাকতে চেয়েছি। কিন্তু নিয়তি আমাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

নাহিদ ইসলাম: তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক ও টেলিযোগ উপদেষ্টা; বৈষম্যবিবোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা