পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্য কার্যালয়ে তালা, তীব্র আন্দোলনের হুমকি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের নামফলক তুলে দিয়ে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করে দেন এবং দুইটি কাচের গেট বন্ধ করে দেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, গতকাল (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি পদত্যাগ করেননি। এই কারণে তারা আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে উপাচার্যের কার্যালয় তালাবদ্ধ করেছেন। তারা ঘোষণা করেছেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সংগঠনের মাধ্যমে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আগের দিনই, মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন উপাচার্য অধ্যাপক শুচিতা শরমিন। তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেননি।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মো. মোকাব্বেল শেখ বলেন, “বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আল্টিমেটামে উপাচার্যের পদত্যাগের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি পদত্যাগ না করায় আমরা তার কার্যালয় তালাবদ্ধ করেছি। পরবর্তী সময়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সংগঠনের মাধ্যমে আমরা আরও শক্তিশালী আন্দোলন করব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ বলেন, “আল্টিমেটামে দেওয়া সময়ের মধ্যে উপাচার্য পদত্যাগ না করায় আমরা তার কার্যালয়ে তালা লাগিয়েছি। যদি তিনি দ্রুত পদত্যাগ না করেন, তবে আমরা ভিসির বাংলো ঘেরাও করবো।”
ছাত্রদলের ববি শাখার সাবেক সভাপতি রেজা শরিফ বলেন, “এই উপাচার্য আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। তিনি বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন, যা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করেছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি এবং আজকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এটিএম রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, “শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি অবগত আছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








