২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার পুনর্বিন্যাস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: নবম-দশম শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজন ফিরিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার পুনর্বিন্যাসকৃত সংক্ষিপ্ত সিলেবাস, প্রশ্নের ধরন ও নম্বর বণ্টন প্রকাশ করেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

শনিবার বোর্ডের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগের মোট ৩২টি বিষয়ের সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকার প্রণীত ‘নতুন শিক্ষাক্রমে’ নবম-দশম শ্রেণিতে বিভাগ বিভাজন উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গণআন্দোলনে সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারে সেটি আবার ফিরল।

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার নম্বর বিভাজনে দেখা গেছে, ব্যবহারিক না থাকা বিষয়গুলোতে ৭০ নম্বর রচনামূলক অংশে ও ৩০ নম্বর বহুনির্বাচনি অংশে থাকবে।

আর ব্যবহারিকসহ বিষয়গুলোতে তত্ত্বীয় অংশে ৭৫ ও ব্যবহারিক অংশে ২৫ নম্বর থাকবে। তত্ত্বীয় অংশে ৪০ নম্বর ও বহুনির্বাচনি অংশে ২৫ নম্বর থাকবে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রণীত ‘নতুন শিক্ষাক্রম বা জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২১’ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ ফিরিয়ে নেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় তখন এক পরিপত্রে বলেছিল, বিদ্যমান শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নযোগ্য নয়। তাই ২০২৫ সালে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রম চূড়ান্ত করে ২০২৬ সাল থেকে তা পরিপূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে। তার আগে ২০২৫ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য অনেকটা আগের শিক্ষাক্রমের ধাঁচের পাঠ্যবই বিতরণ করা হবে।

“২০২৫ সালে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা (পরীক্ষা ২০২৬ সালে) নিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা অব্যাহত রেখে পূর্বের জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুযায়ী প্রণীত সংশোধিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যপুস্তকগুলো (২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ব্যবহৃত পুস্তক) শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হবে। জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষাভিত্তিক এই পাঠ্যপুস্তকগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা এক শিক্ষাবর্ষের মধ্যেই পাঠ্যসূচিটি সম্পন্ন করতে পারে। পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতি জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে পরিচালিত হবে।”

বিভাগ-বিভাজন ফিরিয়ে এনে ২০১২ সালের পাঠ্যসূচির বইগুলোই ২০২৫ সালে বিতরণের জন্য পরিমার্জন করে ছাপানোর কাজ চলছে। আগামী বছরের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী যারা ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বসবেন, তারা এসব বই পাবেন।




কলাপাড়ায় প্রথমবারের মতো খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী

“এখানে ছিল এখানে আছে এখানে, আমাদের ঋণ তোমাদেরই কাছে” প্রতিপাদ্য নিয়ে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে ১ম পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পুরনো বন্ধুদের পেয়ে নাচে-গানে মেতে ওঠে। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।

উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। এছাড়াও পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল মান্নান, সদস্য সচিব রেজাউল করিম বাবলাসহ উদযাপন পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের আকর্ষণীয় আয়োজন
প্রথম পুনর্মিলনীতে বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় ১২০০ প্রাক্তন শিক্ষার্থী অংশ নেন। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল:

সাবেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান।

বৃক্ষরোপণ।

স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান।

অ্যালামনাই সংগঠন গঠন।

ফানুস উৎসব।

বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

ঢাকা ও খুলনা থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনা।

র‍্যাফেল ড্র।

অনুষ্ঠানটির আহ্বায়ক আবদুল মান্নান জানান, পুনর্মিলনীর মূল লক্ষ্য বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শনিবার স্কুল বন্ধের বিষয়টি স্পষ্ট করলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ২০২৫ সাল থেকে শনিবার স্কুল খোলা থাকবে’—এমন তথ্য ছড়িয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। যদিও ছড়ানোর তথ্যের কোনো সত্যতা নেই বলে জানিয়েছিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। এবার শনিবার স্কুল বন্ধ রাখার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রকাশিত তালিকায় ৭৬ দিন স্কুল বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জি ও ছুটির তালিকার নিচের অংশে ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সপ্তাহে দুদিন ছুটি থাকবে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার ও শনিবার।




হাসিনা পরিবারের নামে ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারের দিকে তাকিয়ে ইউজিসি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশের ৫৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ১৩টির নামই ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের নামে। এর মধ্যে শেখ হাসিনার নিজের নামে দুটি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ৯টি, আর শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে রয়েছে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন হতে পারে।

স্বাধীনতার পর গত ৫৩ বছরে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে ৫৫টি। যার প্রায় তিন ভাগের এক ভাগের নামকরণ হয় শেখ পরিবারের নামে। যা প্রতিষ্ঠা হয় বিগত সরকারের ১৫ বছর সময়কালে। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ধরন আছে। যেমন- সাধারণ, মেডিকেল, মেরিটাইম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, এভিয়েশন ও অ্যারোস্পেস, কৃষি, ডিজিটাল— মোট ৭ ধরনের বিশ্ববিদ্যালয়। এর মধ্যে ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। তার স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের নামে জামালপুর ও সিলেটে আছে আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয়। আর কন্যা শেখ হাসিনার নামে নেত্রকোণা ও খুলনায় আছে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের নামফলক থেকে মুছে ফেলা হয়েছে শেখ পরিবারের চিহ্ন। গাজীপুর, গোপালগঞ্জ, নওগাঁ ও সিলেটে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামফলক থেকে শব্দ মুছে ফেললেই নাম পরিবর্তন হয় না। সাধারণত ইউজিসিতে আবেদনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে সংসদে বিল আকারে পাশ হতে হয়।




গলাচিপায় মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি-সম্পাদক নির্বাচিত

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে সুহরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রাজা মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. মাসুম বিল্লাহ নির্বাচিত হয়েছেন।

রবিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি গলাচিপা উপজেলা শাখার আয়োজনে দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি পটুয়াখালী জেলা শাখার আহ্বায়ক এম এ মতিন, সদস্য সচিব মনজুরুল আহমেদ, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন খান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মশিউর রহমান (শাহীন)।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুনতাসীর মামুন।

সভাপতি মো. রাজা মিয়া বলেন, “শিক্ষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”

সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমরা শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করব এবং শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটানোর জন্য একযোগে প্রচেষ্টা চালাব।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষা রুটিন প্রকাশ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি এসএসসি পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করেছে। এদিকে এর আগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ করা হয়। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে ওয়েবসাইটে কেন্দ্র ও কেন্দ্রওয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়।




পবিপ্রবিতে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি শুরু, ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এবার, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো ডোপ টেস্ট চালু করা হয়েছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে মাদকাসক্তি সম্পর্কিত তথ্য যাচাই করা হবে, যা নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে ভর্তি কার্যক্রমের দ্বিতীয় দিন শুরু হয়। এ কার্যক্রমে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাদক গ্রহণের বিষয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এই পরীক্ষায় সহায়তা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বেলা ১২টার দিকে ভর্তি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান, ট্রেজারার অধ্যাপক মো. আব্দুল লতিফ এবং অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান জানান, ভর্তি কার্যক্রম মোট সাতটি স্তরে সম্পন্ন হচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের রক্ত পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট, স্বাক্ষর যাচাই, তথ্য যাচাই, রেজিস্ট্রেশন প্রদান, ভর্তি ফি গ্রহণ, চূড়ান্ত রেজিস্ট্রেশন যাচাই, হল সংযুক্তি প্রদান এবং হলের আসন বণ্টনের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “ডোপ টেস্টে চারটি ক্যাটাগরি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে স্লিপিং পিল, মারিজুয়ানা (গাঁজা), ইয়াবা এবং আফিম। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্লিপিং পিল গ্রহণ করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে, তবে অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা হলে তা কাউন্সেলিংয়ের জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নতুন ভর্তি হওয়া কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী সাব্বির বলেন, “ভর্তি কার্যক্রমে কোনো ধরনের ভোগান্তি হয়নি, সবকিছু খুবই ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন: যা বাদ পড়ছে, যা যুক্ত হচ্ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বদলে যাচ্ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সব পাঠ্যবই। মাধ্যমিকের প্রতি শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে লেখা, কবিতা অথবা কার্টুন। প্রতিটি বইয়ের পেছনের কভারে থাকছে গ্রাফিতি। এর বাইরে ইতিহাসনির্ভর অনেক বিষয়েও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সেই সঙ্গে পাঠ্যবই থেকে বাদ যাচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ‘অতিরঞ্জিত’ চিত্র। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার কথা জানানো হয়। এ কারণে চলতি বছরের চেয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক স্তরের বইয়ের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বাতিল করা নতুন শিক্ষাক্রমে মাধ্যমিক স্তরে একেকটি শ্রেণির জন্য ১০টি বিষয় ছিল। পুরোনো শিক্ষাক্রমে বিষয় আরও বেশি। যেমন পুরোনো শিক্ষাক্রমে মাধ্যমিকে বইয়ের সংখ্যা ২৩ (সব কটি সবার জন্য নয়)। ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ায় আবার ছাপা হচ্ছে আরবি, সংস্কৃত, পালি ভাষা শিক্ষা বই।

পাঠ্যপুস্তকে নানা পরিবর্তনের কথা নিশ্চিত করে এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘ইতিহাসে যাঁর যাঁর যে স্থান বা ভূমিকা, সেটাই আমরা নির্মোহ ও বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এ জন্য পরিমার্জনের সঙ্গে জড়িত লেখক, গবেষক ও বুদ্ধিজীবীদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।’

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন ইতিহাসনির্ভর বিষয়েও কিছু কাটছাঁট করা হয়েছে। এনসিটিবি সূত্র বলছে, পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে মেজর জিয়াউর রহমানের নাম যুক্ত করা হয়েছে। আর বাদ যাচ্ছে বইয়ের শেষ কভারে লেখা শেখ হাসিনার ছবিসংবলিত বাণী। একই সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে লেখাও বাদ যাচ্ছে পাঠ্যবই থেকে।




খোলা আকাশের নিচে পরীক্ষা: গলাচিপার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের বিপত্তি

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ২নং গোলখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বলইবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছেন এবং বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছেন। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য পুরানো ভবন অপসারণ করায় শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন। খোলা আকাশের নিচে রোদের তাপ ও প্রতিকূল পরিবেশে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য নানা সমস্যা সৃষ্টি করছে।

মাদ্রাসার সুপার, মোহাম্মদ আব্দুল মালেক, এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করে পাশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচতলা ব্যবহার করার অনুমতি চান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওই আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করে অনুমতি দেন, কিন্তু দক্ষিণ বলইবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল হোসেন অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানান।

এ কারণে, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা গত ২৪ নভেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত খোলা আকাশের নিচে পরীক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং দাবি জানিয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদ ও সুবিধাজনক পরিবেশে পরীক্ষা দিতে পারে।

বলইবুনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় বর্তমানে ৩৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। মাদ্রাসা সুপার মোহাম্মদ আব্দুল মালেক জানান, ইউএনওর অনুমতিপত্র নিয়ে তারা প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল হোসেনের কাছে যান, কিন্তু তিনি তাদেরকে ভবনের নিচতলা ব্যবহার করতে দেননি।

এ বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. বাবুল হোসেন জানিয়েছেন, তিনি অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন না, এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার থেকে অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত তার কিছু করার নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, “আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিচতলা ব্যবহারের জন্য লিখিত অনুমতি দিয়েছি এবং প্রধান শিক্ষককে ফোনে না পেয়ে সহকারী শিক্ষককে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। কেন এটি বাস্তবায়িত হয়নি, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্য কার্যালয়ে তালা, তীব্র আন্দোলনের হুমকি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। শিক্ষার্থীরা উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের নামফলক তুলে দিয়ে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ করে দেন এবং দুইটি কাচের গেট বন্ধ করে দেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি, গতকাল (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি পদত্যাগ করেননি। এই কারণে তারা আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে উপাচার্যের কার্যালয় তালাবদ্ধ করেছেন। তারা ঘোষণা করেছেন, উপাচার্য পদত্যাগ না করলে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সংগঠনের মাধ্যমে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

আগের দিনই, মঙ্গলবার রাতে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন উপাচার্য অধ্যাপক শুচিতা শরমিন। তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেননি।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মো. মোকাব্বেল শেখ বলেন, “বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আল্টিমেটামে উপাচার্যের পদত্যাগের সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি পদত্যাগ না করায় আমরা তার কার্যালয় তালাবদ্ধ করেছি। পরবর্তী সময়ে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সংগঠনের মাধ্যমে আমরা আরও শক্তিশালী আন্দোলন করব।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ বলেন, “আল্টিমেটামে দেওয়া সময়ের মধ্যে উপাচার্য পদত্যাগ না করায় আমরা তার কার্যালয়ে তালা লাগিয়েছি। যদি তিনি দ্রুত পদত্যাগ না করেন, তবে আমরা ভিসির বাংলো ঘেরাও করবো।”

ছাত্রদলের ববি শাখার সাবেক সভাপতি রেজা শরিফ বলেন, “এই উপাচার্য আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন। তিনি বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়েছেন, যা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করেছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি এবং আজকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার কার্যালয়ে তালা দিয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর এটিএম রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, “শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি অবগত আছি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম