অরাজনৈতিকীকরণের পথে শিক্ষা ব্যবস্থা: অন্তর্বর্তী সরকারের নজরকাড়া সিদ্ধান্ত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত ১০ মাসে দেশের মোট ২২৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারের আমলে এত স্বল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম বদলের ঘটনা ঘটল। এসব পরিবর্তনে বাদ পড়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, তাঁদের পরিবার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাদের নাম।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সর্বশেষ গত ৪ জুন ২৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

নামকরণে পরিবর্তনের দৃষ্টিভঙ্গি

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণে এখন থেকে ব্যক্তিনির্ভরতার পরিবর্তে স্থানীয়তা ও গণগ্রাহ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী সরকার যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম রাজনৈতিক বা পারিবারিক ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছিল, সেগুলোর নাম সংশ্লিষ্ট জেলা, উপজেলা বা এলাকা অনুযায়ী পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে।

নাম পরিবর্তনের কিছু উদাহরণ

২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয়টি সরকারি মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ’ এবং ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ’।

২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদল করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নতুন নাম সংশ্লিষ্ট জেলার নামে নির্ধারিত হয়। যেমন, নেত্রকোনার ‘শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন ‘নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং কিশোরগঞ্জের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়’ এখন পরিচিত ‘কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে।

১৫ এপ্রিল অধ্যাদেশ জারি করে আরও তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করা হয়। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’। খুলনার শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম হয় ‘খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’ এবং সিলেটের বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়’।

২৯ মে প্রকাশিত আরেক প্রজ্ঞাপনে ৩৭ জেলার ৬৮টি সরকারি কলেজের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ ডিগ্রি কলেজের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, ওই কলেজের নাম পরিবর্তন করা হবে না।

কারিগরি ও প্রাথমিক শিক্ষাতেও পরিবর্তন

১৩ এপ্রিল কারিগরি শিক্ষাক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। এদিন ১৫টি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে শেখ হাসিনা ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের নাম বাদ দেওয়া হয়। ২৪ এপ্রিল আরও ২১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করা হয়, যার মধ্যে ছিল ১৬টি স্কুল, ৩টি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ২টি কলেজ।

প্রাথমিক স্তরেও ব্যাপক নাম পরিবর্তন হয়েছে। গত ১০ মাসে পাঁচ দফায় মোট ৭৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম বদলানো হয়েছে। সর্বশেষ ১৮ মে ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সরকারের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষকদের মত

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “জাতীয় প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণ কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নামে হওয়া উচিত নয়। এটি হওয়া উচিত দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ভৌগোলিক পরিচয়ের ভিত্তিতে। আমরা সেই নীতিতেই কাজ করছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এটি একটি ‘অরাজনৈতিকীকরণ প্রক্রিয়া’, যার মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, কেউ কেউ এটিকে কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেও দেখছেন। তাঁদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নিজেদের নিরপেক্ষতা এবং অরাজনৈতিক রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার তুলে ধরতে চাইছে।

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার তাদের শাসনামলে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের নামকরণে রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রতীক ব্যবহার করেছিল। শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের নামে অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু, রাস্তাঘাট, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা কেন্দ্র, এমনকি প্রকল্প ও ভবনের নামকরণ করা হয়। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার সেই ধারা থেকে সরে এসে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।




 বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ, শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি

বরিশাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা নয় দফা দাবিতে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতীকী প্রতিবাদ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

শনিবার (২৪ মে) সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। পাশাপাশি দাবিগুলোর পক্ষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করেন তারা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, সম্প্রতি ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থী ধ্রুবজিৎ কর্মকারকে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। এতে মানসিক চাপে পড়ে সে আত্মহত্যা করে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, বিদ্যমান কম্বাইন্ড পরীক্ষাপদ্ধতির চাপে ধ্রুবজিৎ এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

তারা বলেন, ২০১৬ সালের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রযুক্তি ইউনিটের আওতাভুক্ত সকল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটে চালু হওয়া কম্বাইন্ড সিস্টেম সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এতে মানসম্মত শিক্ষা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত হয় না। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে একাডেমিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের নয় দফা দাবির অন্যতম হচ্ছে—স্বতন্ত্র পরীক্ষাপদ্ধতি, মানসম্মত শিক্ষা, একাডেমিক স্বকীয়তা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা।

প্রতীকী প্রতিবাদে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী সীমান্ত, শাওন মাহমুদ, শাওলী ঘোষ, শুভ ও ফাহিম ভূঁইয়া প্রমুখ। তারা বলেন, “আমরা চাই একটি স্বতন্ত্র পরীক্ষা পদ্ধতি এবং গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষা। আমাদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত সিদ্ধান্ত না পেলে আরও কঠোর কর্মসূচি নিতে আমরা বাধ্য হব।”

এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পবিপ্রবিতে পরিকল্পনা উপদেষ্টার চমকপ্রদ সফর, উচ্চশিক্ষা ও উন্নয়নে নতুন বার্তা

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি)-তে আজ ঘটে গেল এক অনন্য মুহূর্ত। হঠাৎ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আগমন ঘটে দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদের। পায়রা বন্দর ও কুয়াকাটা এলাকা ঘুরে ফেরার পথে তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে লেবুখালী হয়ে পবিপ্রবিতে পৌঁছান।

বিকেল ২টা ১৫ মিনিটে আগমনকালে তাঁকে স্বাগত জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক এই সফর মুহূর্তেই রূপ নেয় বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের জন্য এক গর্বিত স্মৃতিতে।

উপদেষ্টা ড. মাহমুদ ঘুরে দেখেন একাডেমিক ভবন, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, ছাত্রীনিবাস নির্মাণ কার্যক্রম, ছাত্রাবাস, লাল-কমল ও নীল-কমল লেকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। তিনি অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং পরিচ্ছন্নতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ‘মেরিন ফিশারিজ অ্যান্ড ওসানোগ্রাফি’ বিভাগের পরিকল্পনাকে তিনি সময়োপযোগী ও সম্ভাবনাময় বলে উল্লেখ করেন।

সাক্ষাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়েও আলোচনা হয়। উপাচার্য গাইড ওয়াল সংকটসহ লেক রক্ষা এবং চলাচলের ঝুঁকি প্রসঙ্গে জরুরি অর্থ বরাদ্দের অনুরোধ করেন। এ সময় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, রেজিস্ট্রার, আইকিউএসি পরিচালকসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, “এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শৃঙ্খলিত পরিবেশ দেখে অভিভূত হয়েছি। প্রান্তিক বলেই কেউ পিছিয়ে থাকবে না—এই বিশ্বাস নিয়েই আমাদের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে হবে।”

সফরের আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও তাঁর উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-প্রশাসনের মধ্যে জাগিয়ে তোলে নতুন উদ্দীপনা। শিক্ষার্থীরা জানান, এমন একজন জাতীয় নীতিনির্ধারকের উপস্থিতি তাঁদের ভবিষ্যতের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।

বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে তিনি বরিশালের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। রেখে যান আশার আলো, উন্নয়নের বার্তা এবং একটি প্রান্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আন্তরিক আস্থা ও ভালোবাসা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জবি শিক্ষার্থীদের জয়: সরকার মেনে নিল সব দাবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে নতি স্বীকার করেছে সরকার। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় বাজেট বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে অস্থায়ী হল নির্মাণসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ মে) সন্ধ্যায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে এসে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত অস্থায়ী হল নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

এছাড়া, জবির দ্বিতীয় ক্যাম্পাস বাস্তবায়নও এখন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দ্রুত শুরু করা হবে বলে জানান ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি আরও বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে সমন্বয় করে এই সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




উপদেষ্টা মাহফুজকে বোতল নিক্ষেপ, হতাশ উপদেষ্টা আসিফ




উপাচার্য অপসারণের দাবিতে ববি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও বিস্তৃত রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেল ৫টায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে উভয় পাশে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

এর আগে সোমবার (১২ মে) রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আমরণ অনশনে বসেছেন ১১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাঁচজন শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনের কারণ ও বক্তব্য:
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপাচার্যের স্বৈরাচারী ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণের কারণে তারা বাধ্য হয়ে কঠোর কর্মসূচিতে নেমেছেন। আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রবিউল ইসলাম, আইন বিভাগের ওয়াহিদুর রহমান ও শওকত ওসমান স্বাক্ষর, এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রায়হান ও ইমন হাওলাদার।

শিক্ষার্থী সুজয় শুভ বলেন,

“উপাচার্যকে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তিনি আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে হঠাৎ ফেসবুক লাইভে এসে মন্তব্য করেছেন। তাই আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

অনশনরত শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ বলেন,”আমরা যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্যই অনশনে বসেছি। দাবি পূরণ না হলে আমরা ফিরে যাব না।”

মহাসড়ক অবরোধের ফলে বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা অসহ্য গরমে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হন।

কলাপাড়াগামী যাত্রী ইয়াসিন মিয়া বলেন,”গরমে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছি। বাস চলছে না, তীব্র কষ্টে আছি।”

এ অবস্থায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




তিন অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির পদত্যাগ দাবি শিক্ষার্থীদের

ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসন, শিক্ষার্থীদের প্রতি বিমাতা সুলভ আচরণ এবং শিক্ষকদের অপমান—এই তিন অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী। সংবাদ সম্মেলন শেষে তারা বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা সুজয় শুভ। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই আমরা নানান দাবিদাওয়া উপস্থাপন করেছি। ভিসি সেগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও আজকের সংবাদ সম্মেলনে তার অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। উল্টো তিনি শিক্ষার্থীদের মামলা ও সাধারণ ডায়েরি থেকে নাম বাদ দিতে মুচলেকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “নতুন স্বপ্ন ও অগ্রগতির নামে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসনের চেষ্টামাত্র। ভিসি দায়িত্ব নেওয়ার পর একমাত্র অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দিনকে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিল থেকে অপসারণের ভাষা ছিল অশোভন। এ নিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করতেও রাজি হননি।”

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন:
দফা এক দাবি এক, ববি ভিসির পদত্যাগ”,
এক দফা এক দাবি, ভিসি তুই কবে যাবি”,
এক দুই তিন চার, ভিসি তুই গদি ছাড়”।

এছাড়াও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীরা ভিসির নীতিনির্ধারণী ভূমিকা ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী ২২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জিডি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আন্দোলনের সাথে জড়িত ২২ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সোমবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঠানো সাধারণ ডায়েরি থানায় গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার কেএম সানোয়ার পারভেজ লিটন বাদী হয়ে এই জিডি দায়ের করেছেন। ডায়েরিতে ১০ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ইংরেজি বিভাগের রাকিন খান, মিজানুর রহমান, এনামুল হক, তরিকুল ইসলাম; সাংবাদিকতা বিভাগের নাজমুল ঢালী; লোক প্রশাসন বিভাগের মোকাম্মেল শেখ; আইন বিভাগের তরিক হোসেন; রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এমডি শিহাব; কোস্টাল স্টাডিজ বিভাগের অপূর্ব রকি এবং রসায়ন বিভাগের রফিকসহ মোট ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

সাধারণ ডায়েরিতে অভিযোগ করা হয়েছে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বাধা প্রদান করেছে। গত ২৭ এপ্রিল তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিভিন্ন দাবি সম্বলিত ব্যানার-পোস্টার নিয়ে স্লোগান দেয় এবং পরে রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে ঢুকে কর্মকর্তাদের ভয় দেখিয়ে বের করে দেয়। পরে রেজিস্ট্রারের কক্ষে তালা লাগানো হয় এবং ভবনের কলাপসিবল গেটেও তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, ফলে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়।

সহকারী রেজিস্ট্রার কেএম সানোয়ার পারভেজ লিটন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষের নির্দেশে জিডি করা হয়েছে। আমি একজন ছোট কর্মকর্তা, সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। উপাচার্যের নির্দেশে আইনজীবীর মাধ্যমে জিডি প্রস্তুত করা হয়েছে, আমি শুধু দায়িত্ব পালন করেছি।”

উল্লেখ্য, অধ্যাপক মুহাম্মদ মুহসিনকে পুনরায় দায়িত্বে ফেরানো, রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামকে অপসারণ, আওয়ামী লীগ সমর্থিত কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও উপাচার্যের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ডাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা

ডাকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। রোডম্যাপ অনুযায়ী মে মাসের মাঝামাঝি পর্যায়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। তবে নির্বাচন কমিশন কতদিনের মধ্যে তফসিল ঘোষণা করবে তা রোডম্যাপে উল্লেখ নেই। বাসস

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই রোডম্যাপ এর কথা জানানো হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন মনে করে, ডাকসু প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষার্থীদেরও ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে যথেষ্ট আগ্রহ আছে। সে কারণেই বর্তমান প্রশাসন ডাকসু নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ডাকসু নির্বাচন সম্পাদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু, সুন্দর ও সুচারুভাবে আয়োজনের জন্য গৃহীত পদক্ষেপ এবং অগ্রগতি সংবলিত রোডম্যাপ প্রকাশ করা হলো।

গণমাধ্যমে পাঠানো রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়, ডাকসু নিয়ে অংশীজনদের আলোচনা শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বরে।

একই মাসে ডাকসু সংশোধিত গঠনতন্ত্র চূড়ান্ত করে তা ছাত্রসংগঠনগুলোর কাছে পাঠানো হয়। এর আগে এ বিষয়ে ছয়টি সভা করা হয়। এই গঠনতন্ত্র এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অনুমোদন হওয়ার অপেক্ষায় আছে।

রোডম্যাপে উল্লেখ করা হয়, গত জানুয়ারি মাসে ‘ডাকসু ইলেকশন কোড অব কনডাক্ট রিভিউ কমিটি’ করা হয়। তারা সাতটি সভা করে। এটিও চূড়ান্ত হওয়ার পর এখন তা সিন্ডিকেটে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, মে মাসের প্রথমার্ধে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে। একই সঙ্গে প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ অন্যান্য রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ করা হবে। একই মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোটার তালিকা প্রস্তুত করবে নির্বাচন কমিশন। এরপর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে।




বরিশালে এসএসসি পরীক্ষা: কেন্দ্র পরিদর্শনে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসি

 


সারাদেশের মতো বরিশালেও বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষার প্রথম দিনেই কেন্দ্র পরিদর্শনে যান বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রায়হান কাওছার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।

পরিদর্শন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা প্রথমে বরিশাল জিলা স্কুল ও সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকগণ এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা।

পরিদর্শনের সময় তারা পরীক্ষার কক্ষ ঘুরে দেখেন, সার্বিক পরিবেশ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং পরীক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। জেলা প্রশাসক পরবর্তীতে সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও জগদীশ সারস্বত গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ বছর মোট ৯৫টি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৭টি এসএসসি, ১৭টি দাখিল এবং ১১টি ভোকেশনাল কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৩৫,৫৪৫ জন, যার মধ্যে ১৯,১১০ জন ছাত্র ও ১৬,৪৩৫ জন ছাত্রী।

বরিশাল বোর্ডের ছয় জেলার ১,৪৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার অংশ নিচ্ছেন ৮৪,৩০৩ জন পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছাত্র ৩৯,৩৩৫ জন এবং ছাত্রী ৪৪,৯৬৮ জন। পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিচালনা ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে বোর্ড গঠন করেছে ১৬টি ভিজিলেন্স টিম ও একটি কন্ট্রোল রুম।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম